3.24.2017

আমরা অসাম্প্রদায়িক বাঙালী জাতি, হিন্দু-মুসলিম এক সাথে থাকবো একটি ভ্রান্ত ধারনা

আমরা বাঙালীরা অসাম্প্রদায়িক জাতি, হিন্দু-মুসলিম এক সাথে থাকবোঃ ঐতিহাসিকভাবে এই তত্ত্ব কতটুকু সঠিক?

আমরা বাঙালীরা অসাম্প্রদায়িক জাতি, হিন্দু-মুসলিম এক সাথে থাকবোঃ- এই তত্ত্ব কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল। ইতিহাস বলছে- এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমান কখনই এক সাথে থাকতে পারেনি এবং পারবেও না। এবং ইতিহাস আরো বলছে- এই পৃথকীকরণ মুসলমানদের জন্য ঘটবে না, বরং হিন্দুদের জন্যই ঘটবে।

প্রথম উদারহণ হতে পারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলের হিন্দু মুসলিম পৃথকীকরণ। হিন্দুদের জন্য আলাদা হল, মুসলমানদের জন্য আলাদা। স্বাভাবিকভাবে কথিত সেক্যুলার দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, কেন এই সাম্প্রদায়িকতা!! কিন্তু ইতিহাস বলছে- এই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জন্য কিন্তু মুসলমানরা দায়ী নয়, দায়ী হিন্দুরা। ১৯৪৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাম্প্রদায়িকতার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজির আহমেদ নামক এক ছাত্রনেতাকে ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ছাত্ররা। একারণেই পরবর্তীতে হিন্দু-মুসলিম আলাদা করে দেয়া হয়। (http://goo.gl/QW2g5H)

ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার তত্ত্বটাও কিন্তু এক রকম। মানে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার জন্যও কিন্তু হিন্দুরাই দায়ী। ইতিহাস বলে- এ অঞ্চলের মুসলমানরা ব্রিটিশ প্রিয়ডে শেষের দিকে হিন্দুদের নেতা বানিয়ে সাপোর্ট দিয়েছিলো। কিন্তু নেতা হতেই পোল্টি মারে কংগ্রেসের নেতৃত্বস্থানীয় হিন্দুরা। যেমনঃ ভারতের রূপকার গান্ধী, মুসলমানদের সাপোর্ট পেয়ে নেতা বনে যাওয়ার পর ভোল পাল্টে হঠাৎ চরম উগ্র হিন্দুত্ববাদী হয়ে উঠে। শুরু করে গরু হত্যা বিরোধী আন্দোলন। কংগ্রেসের হিন্দু নেতাদের বারং বারং ভোল পাল্টানো দেখে মুসলমানরা বুঝতে পারলো এদের সাথে থাকলে এরা আমাদের ঠকাবে, মুখে বলবে অসাম্প্রদায়িকতা, কিন্তু আচরণে দেখাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদ। তখন বাধ্য হয়ে মুসলিম নেতারা পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবি তুলে। যেখান থেকে তৈরী হয়েছে আজকের বাংলাদেশ-পাকিস্তান। ঐ সময় যে সকল মুসলমান হিন্দুদের `অসাম্প্রদায়িক‘, `হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাইতত্ত্ব ভুলে ভারতের সাথে যোগ দিলো, তারাই আজকে গরুর গোশত রাখার অপরাধে পিটুনী খেয়ে মরছে। এ দ্বারা প্রমাণ হয়- এ অঞ্চলের মুসলমানরা পৃথক রাষ্ট্র চেয়ে সঠিক করেছিলো। নয়ত আজকে মুসলিম নারীরা মারা যাওয়ার পর তাদের কবরে পাহারা বসাতে হতো। কারণ আদিত্যনাথরা হুমকি দিয়ে মুসলিম নারীদের লাশ কবর থেকে তুলে ধর্ষণ করতো।

শুধু দেশ ভাগ নয়, বাংলা ভাগের পিছনেও কিন্তু মুসলমানরা দায়ী নয়, দায়ি হিন্দুরা। দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী হিন্দুরা যখন দেখলো পূর্বঙ্গের (বাংলাদেশের সাথে) সাথে যোগ দিলে তারা সংখ্যালঘিষ্ঠ হবে, মুসলমানরা সংখ্যারগরিষ্ট হবে, তখন তারা পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে ভারতের সাথে যোগ হলো। তাদের কথা হচ্ছে- আমরা যতটুক না বাঙালী, তার থেকে ঢের হিন্দু। তাই আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের (ভারতের) সাথে যোগ দিবো, বাংলাদেশের সাথে না। ভাষা কোন ফ্যাক্টর না, হিন্দুত্বই আসল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আজকাল কলকাতার হিন্দুরা এমন ভাব করে মনে হয় যেন মুসলমানদের কারণে বাংলা ভাগ হয়েছে (কলকাতার নায়ক দেব এসে বলেছিলো- `দাও, দুই বাংলা এক করে দাও‘)। এ ব্যাপারে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জয়া চ্যাটার্জির লেখা 'বাঙলা ভাগ হলোঃ হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও দেশ বিভাগ' বইটি পড়তে পারেন। সেখানে জয়া চ্যাটার্জি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ করেছে, মুসলমানরা নয়, সাম্প্রদায়িক হিন্দুরাই বাংলাকে ভাগ করেছে।

অর্থ্যাত প্রতিক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, হিন্দু-মুসলিম ভাঙ্গনের জন্য হিন্দুদের সাম্প্রদায়িকতা দায়ী, মুসলমানরা কখনই নয়।

তাই কোন হিন্দু যদি বলে- `আমরা অসাম্প্রদায়িক জাতি, আসুননা একটু পূজা করি।তবে তাকে ধরুন। বলুন- না ! তুমি অসাম্প্রদায়িক হতে পারো না, অন্তত ইতিহাস তা বলে না। তবে একটা শর্তে তোমার কথা বিশ্বাস করবো। যদি তুমি আমার সাথে গরু কোরবানীতে আসো গরুর কল্লা টা ধরো (গরু হিন্দুদের জন্য নিষিদ্ধ, আবার পূজাও কিন্তু মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ)। তুমি যদি গরু কোরবানী করতে আসতে পারো, তখন বুঝবো তুমি অসাম্প্রদায়িক, এর আগে তোমার কথায় আমি ভুলছি না।আশা করা যায়- কোন হিন্দুই অসাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ দিতে গরু কোরবানীতে আসবে না।

বিঃদ্রঃ ইতিহাস বলে হিন্দুদের অতি সাম্প্রদায়িকতার কারণে এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমান কখন এক সাথে দীর্ঘ সময় শান্তিতে থাকতে পারেনি, বাংলাদেশেও তেমনি থাকতে পারবে না। বাংলাদেশও খুব শিঘ্রই হিন্দু-মুসলিম আলাদা হয়ে যাবে এবং সেটাও মুসলমানদের জন্য না, বরং হিন্দুদের অতি সাম্প্রদায়িকতার কারণেই ঘটবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: