3.12.2017

বাংলাদেশকে নিয়ে রীতিমত যুদ্ধে নেমেছে ‘চীন-ভারত’! নয়াদিল্লি ও বেইজিংএর মধ্যে প্রতিযোগিতা

চীন এবং ভারত প্রতিবেশি(বাংলাদেশ) দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে নয়াদিল্লি ও বেইজিংএর মধ্যে প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে এমনটাই বলা হয়েছে যেঃ ভারতের প্রথম সারির গণমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশের উপকূল একটি বড় বিষয়। তাই দুই দেশই বে অব বেঙ্গলএ আধিপত্য বজায় রাখতে বাংলাদেশের সঙ্গে সর্বচ্চ ঘনিষ্ট সম্পর্ক আর চুক্তি বজায় রাখার আন্তর্জাতিক খেলা খেলছে।

একদিকে ভারত সফর বেশ কয়েক দফা পিছিয়ে দেয়ার পর এপ্রিলে দিল্লি সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরেই চুক্তি করতে চেয়েছিলো ভারত। ২৫ বছর মেয়াদী সে চুক্তি তারা এই ফন্দিতে করাতে চেয়েছিলো যা ভারত থেকে অস্ত্র কেনার শর্তে বাংলাদেশকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবে, যা দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র কিনতে হবে।

কিন্তু বাংলাদেশ ভারতসহ বিশ্বের অন্য যেকোন দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তির বদলে সমঝোতা স্মারককে প্রাধান্য দিয়েছে। ভারত সফরের জন্যেও এটি গৃহীত হবে বলে মনে করেছিলেন অনেকে। এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক প্রতিরক্ষা মূলত চীনের সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত হয়েছে বলে ভারত থেকে অস্ত্র ক্রয় করে বাংলাদেশ চীনকে নাখোশ করতে চাইবে না এমনটাই সবাই মনে করছেন

দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ২৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন এবং ২৭টি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের ওপর চীনের এমন প্রভাব পছন্দ করতে পারেনি ভারত। তাই চীনের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের পরপরই ভারতে মন্ত্রীপরিষদে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ক্রমশ উদ্বিগ্ন ছড়িয়ে পড়ে। যে প্রতিরক্ষা সহায়তা ও উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়ার মধ্য দিয়ে বেইজিংও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন করেছে অথচ আমরা দূরে সরে যাচ্ছি

অপরদিকে ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকেই দুইটি সাবমেরিন ক্রয় করে। যা বাংলাদেশে নৌ-বাহিনীর শক্তিকে আরো দ্বিগুণ কর। চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয়ের পর ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতের উদ্বিগ্নতা আরো তীব্র আকার ধারণ করে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এমন কথাও বলেছে, যে বাংলাদেশের সাবমেরিনের প্রয়োজন পড়লো কেন?

অন্যদিকে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পানি নিয়ে বরাবরই বাংলাদেশ অভিযোগ করে আসছে। ফারাক্কা ব্রিজের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান শামসুল আরেফিন বলেন, কৃষিভিত্তিক দেশ হিসেবে নদীর পানি বাংলাদেশের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

ভারত সফর বাতিল হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক পানি চুক্তি আদায় করতে সচেষ্ট থাকবেন এমনটাই সবাই ধারনা করেছিলো। নয়তো শেখ হাসিনা ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলিয় অঞ্চলের বিদ্রোহীদের দমন এবং সেখানে দেশটির বাণিজ্যিক আদান প্রদানের ট্রানজিটের সুবিধায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করবেন। কিন্তু চীন থেকে অস্ত্র কেনা নিয়ে ভারতের স্পর্শকাতর কথায় প্রধানমন্ত্রীর!দিল্লি সফর স্থগিত হয়ে যায়।

ভারত ও চীন দুই দেশই এশিয়া মহাদেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আঞ্চলিক কৌশলগত ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের ভূ- কৌশলগত গুরুত্ব অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: