4.11.2017

পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম হওয়ার পরেও মালানা সাইদি বেপর্দা মেয়েলোকের প্রশ্নের জবাবে হারাম নয় বলেছে ইহার ইসলামিক জবাব

নারী নেতৃত্ব হারাম জেনেও নিজেদের ইসলামী দল বলে দাবি করছেন ভালো কথা মেনে নিলাম কিন্তু হারাম কে হালাল বলে চালিয়ে দিলে তা মানা অসম্ভব কারন আমরা কোন দল গোত্র জাতি বা ব্যক্তির পূজা করিনা

আপনারা দেখেছেন যে ভিডিওতে সাইদি বলেছেন আমরা নারী নেত্রিত্য হারাম তা বলিনা নাউযুবিল্লাহ আর এই ভ্রান্ত কুরআন সুন্নাহ বিরোধী ফতওয়া মেরে তারা আগে হাসিনার আর পরে খালেদার আচলের তলে নিজেদের সমর্পণ করেছেন নাউযুবিল্লাহ!!!
যার পরিপ্রেরক্ষিতে সাইদি সাহেবের নারী নেত্রিত্য নিয়ে মিথ্যাচারের দলিল ভিত্তিক জবাব দেওয়া হলোঃ কুরআন শরীফ, সুন্নাহ মুবারক, হাদিস শরীফ, তাফসীর, ফতওয়া সহ বিভিন্ন মুফতিদের মতামত থেকে

পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব সম্পূর্ণরুপে হারাম প্রমান স্বরূপ আল কুরআন ও হাদিস শরীফের নিম্নোক্ত কিছু আয়াত শরীফ, ইজাম এবং যুক্তি সহ প্রমাণ দেওয়া হলো পুবিত্র দ্বীন ইসলাম

যেসকল দলীলের দ্বারা নারী নেতৃত্বকে হারাম ঘোষণা করেছেন তা নিম্নরুপঃ

#আল_কুরআন_থেকে_দলীলঃ

প্রথমতো নারী পুরুষ উভয়ের জন্য পর্দা করা ফরজ শুধুমাত্র ১৪ জন সরাসরি পর্দা ছাড়া দেখা করতে পারবে বাকি কারো জন্য বেগানা পুরুষ নারিকে বেগানা নারী পুরুষকে দেখা নাজায়েজ এমনকি কাদের সম্মুখে নারীরা যেতে পারবে তাও মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিয়েছেন যেমনঃ [وَقُل لِّلْمُؤْمِنَـٰتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَـٰرِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَآئِهِنَّ أَوْ ءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَآئِهِنَّ أَوْ أَبْنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ إِخْوَٰنِهِنَّ أَوْ بَنِىٓ أَخَوَٰتِهِنَّ أَوْ نِسَآئِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَـٰنُهُنَّ أَوِ ٱلتَّـٰبِعِينَ غَيْرِ أُو۟لِى ٱلْإِرْبَةِ مِنَ ٱلرِّجَالِ أَوِ ٱلطِّفْلِ ٱلَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا۟ عَلَىٰ عَوْرَٰتِ ٱلنِّسَآءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ] ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে নতো রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে মুমিনগণ, তোমরা সবাই মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও

উপরোক্ত আয়াত শরীফেঃ স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো সম্মুখে পর্দা ছাড়া যাওয়া নিষেদ করা হয়েছে এতএব কেই এর বিরোধিতা করলে ইহা কুফুরি হবে এবং ইসলাম থেকে খারিজ হয়েযাবে

শুধু তাই নয় মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [وَقَرْنَ فِى بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ ٱلْجَـٰهِلِيَّةِ ٱلْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتِينَ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِعْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجْسَ أَهْلَ ٱلْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًۭا] তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে জাহেলিয়াতের যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না পবিত্র নামায কায়েম করবে, পবিত্র যাকাত প্রদান করবে এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করবে

দেখাগেলো নারীরা যাবতীয় কাজ কাম করবে পর্দার সহিত এবং তার যায়গা ঘর পার্লামেন্টে নয় অথচ নামধারী কাট মুল্লারা খালেদা হাসিনাকে নিয়ে রাজনিতি করে এই হারাম কাজের স্বীকৃতিই দিয়ে দিয়েছে নাউযুবিল্লাহ
অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ [ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍۢ وَبِمَآ أَنفَقُوا۟ مِنْ أَمْوَٰلِهِمْ ۚ فَٱلصَّـٰلِحَـٰتُ قَـٰنِتَـٰتٌ حَـٰفِظَـٰتٌۭ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُ] পুরুষ নারীর উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তারা তা হেফাযত করে
এ আয়াত শরীফের দ্বারা এটি প্রমাণ করে যে, পুরুষেরা সর্বদা নারীর উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে তাই তারা কোন অবস্থাতে নারী-পুরুষ সকলের উপর নেতৃত্ব দিতে পারবে না এই আয়াত শরীফের পরিপ্রক্ষিতে মুফাসসিরীনগণ ব্যখ্যা দিয়েছেনঃ
১. নারীরা শাসক হতে পারে না
২. নারীরা নবী বা রাসূল হতে পারে না
৩. নারীগণ ইমামতি করতে পারবে না
৪. নারীদের উপর জিহাদ ফরয নয়
৫. নারীদের ব্যাপারে কিসাসের রায় দেওয়া জায়েয নয়
৬. নারীদের জন্য মাহ্রাম ব্যতিত হজ্জ ফরয নয়
৭. বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক নারীরা দিতে না [তাফসীরে ইবনে কাসীর, রুহুল মাআনী, বায়যাবী]

#হাদীস_শরীফ_ভিত্তিক_দলীলঃ

বিভিন্ন হাদীস শরীফে বলা হয়েছে নারী নেতৃত্ব হারাম যেমন বুখারী শরীফের কিতাবুল ফিতানে বলা হয়েছে যেঃ যে জাতির নেতৃত্ব কোন নারী দিবে সে জাতি কখনও কল্যাণ বয়ে আনবে না
অন্যত্র বলা হয়েছে, “যখন নারীরা নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করবে তখন মাটির উপরের চেয়ে নীচের অংশ ভাল হবে অর্থাৎ পুরুষদের মরে যাওয়াই ভালো” [তিরমযী শরীফ, কিতাবুল ফিতান]

তিরমিযী শরীফে আরেকটি হাদীস রয়েছে, “পুরুষেরা তখন ধংস্ব হয়ে যাবে যখন তারা নারী নেতৃত্ব মেনে নিবে” [তিরমিযি শরীফ]

কেউ যদি নিজেকে ঈমানদার দাবি করে আর এসকল হাদীস শরীফের দিকে তাকায় তাহলে সে স্পষ্ট দেখতে পাবে যে নারী নেতৃত্ব পবিত্র দ্বীন ইসলামে হারাম

প্রথম হাদীস শরীফটিতে নারী জাতির জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার যেই অভিশাপ আসবে তা তুলে ধরা হয়েছে আর পরের দুইটি হাদীস শরীফ নারী নেতৃত্বের ফলে পুরুষ জাতির জন্য যেই অবমাননাকর অবস্থার সৃষ্টি হবে তাও তুলে ধরা হয়েছে

এছাড়া হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে নারীদের কম জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাই সেই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ইসলামে নারী নেতৃত্ব সম্পূর্ণরুপে অবৈধ

#ইজমা_ভিত্তিক_দলীলঃ

কুরআন শরীফ-হাদীস শরীফ ছাড়াও ইজমা-তেঃ ইবনে হাযম মারাফিতুল ইজমা (পৃঃ ১২৬) গ্রন্থে বলেছেন, “তারা একথায় একমত হয়েছেন যে নারী নেতৃত্ব পবিত্র দ্বীন ইসলামে বৈধ নয়
সালাফিদের মূল ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, “নারী নেতৃত্ব পবিত্র দ্বীন ইসলামে বৈধ নয়” [নাকালু মারাফিয়া ইজমা]

মাওলানা মাওয়ার্দী যাকে অনেকে ইসলামী রাজনীতির প্রবক্তা বলেন তিনিও বলেন, “নারী নেতৃত্ব পবিত্র দ্বীন ইসলামে বৈধ নয় এ ব্যাপারে আলেমগণ একমত হয়েছেন” [আহকামুস সুলতানিয়া]
আল্লামা আবুল ইয়ালা হাম্বলী উনার এ আহকামুস সুলতানিয়া গ্রন্থে বলছেন, “নারী নেতৃত্ব পবিত্র দ্বীন ইসলামে বৈধ নয়
ইমামুল হারামাঈন জুরাইন বলেছেন, “নারী নেতৃত্ব পবিত্র দ্বীন ইসলামে বৈধ নয়
ইবনুল আরাবী বলছেন, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী খলীফা কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারে না
ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই ইজমা উল্লেখ করেছেন যে, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়
ইমাম গাযযালী রহিমাহুল্লাহ আলাইহিম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলামে খলীফা হওয়ার জন্য পুরুষ শর্ত উল্লেখ করেছেন
ভারতবর্ষের ইসলামের অন্যতম কর্ণধার আল্লামা হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার হুজ্জাতুল বালিগা তে বলেছেন, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব বৈধ নয় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে
আল্লামা ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া ফরয
ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি আহকামুল কুরআনে নারী নেতৃত্বকে নাজায়েয বলেছেন
ইমাম যামাখখাশারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তার কাশশাফ এ লিখেছেন যে, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম
ইমাম বায়যভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তার তাফসীরে বায়যাভীতে বলেছেন যে, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়
ইমাম শাওকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি একই কথা বলেছেন
ইমাম বদরুদ্দিন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন যে, পবিত্র দ্বীন ইসলামে তা বৈধ নয়
মোল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ফাতহুল বারীতে লিখেছেন যে, পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েয নয়
জামায়াতের প্রতিষ্টাতা মওদূদী ইসলামী শাসনতন্ত্রের ৮১ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছে, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে রাজনীতি এবং দেশশাসনে নারীরা কর্মসীমার বহির্ভূত
আশরাফ আলী থানবী বলেছে, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়
সৌদি আরবের মুফতিয়ে আযম, আব্দুল্লাহ বিন বাজ পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব নাজায়েয বলেছে

বিখ্যাত ফিকাহ গ্রন্থ ফাতওয়ায়ে শামীতে বলে হয়েছে, “পবিত্র দ্বীন ইসলামে নারী নেতৃত্ব কোনভাবেই জায়েয নয় কারণ মহান আল্লাহ পাকের নির্দেশ হল নারীরা ঘরে পর্দার সাথে জীবন যাপন করবে তাদের জন্য পর্দা করা ফরয তাই কোনভাবেই তাদের জন্য নারী নেতৃত্ব জায়েয নয়
অর্থাৎ, এখানে কুরআন শরীফ, হাদিস শরীফের সাথে গোটা উম্মাতের ভিতর এই ইজমা সঙ্ঘটিত হয়েছে যে, নারী নেতৃত্ব পবিত্র দ্বীন ইসলামে মোটেও জায়েয নয় হারাম কাট্টা কুফুরি
যুক্তির আলোকে নারী নেতৃত্ব হারামঃ

কিছু যুক্তি উপস্থাপন করে তা হল নিম্নরুপঃ

১. সফর করাঃ পবিত্র হজ্জের সফরের জন্য কোন নারীর উপর যদি পবিত্র হজ্জ ফরয হয় তাহলে সেই নারীর উপর ততক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র হজ্জ ফরয হবে না যতক্ষণ না তার সাথে কোন মাহরাম না থাকে একাকী ভ্রমণ করা তার জন্য নিষিদ্ব যদি সে একাকী সফর না করতে পারে তাহলে কি করে তার উপর নেতৃত্ব জায়েয হয় কারণ তাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনেক সময় দূরে যেতে হবে

২. পবিত্র জিহাদে অংশগ্রহণ তারপর পবিত্র জিহাদ নারীর জন্য ফরয নয় এখন যদি সে বলে পবিত্র জিহাদ তো আমার উপর ফরয নয় তোমরা পবিত্র জিহাদের ময়দানে যাও আর আমি বসে থাকি নেতা হিসেবে এই কথা বললে কিন্তু হবে না

৩. ইমামতি করা জুম্মার নামায নারীর উপর ফরয নয় আদায় করলে তা করতে পারে তাদের জন্য তো ইমামতি করা একেবারে নাজায়েয একটি কাজ আর ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধানের এটি একটি প্রধান দায়িত্ব যে, তারা জুম্মার নামায পড়াবে

৪. ঐতিহাসিক চিন্তা-ধারাঃ তারপর আমরা যদি ইতিহাস পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা দেখতে পাই যে, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওফাতের পর খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তখন কোনো নারী খলীফা হন নাই অথচ উম্মুল মুমিনিন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বিদ্যমান ছিলেন, তারপরো উমাইয়্যাদের দীর্ঘ ৯০ বছর, আব্বসীয়দের ৫৫০ বছরের শাসনের ইতিহাসে কখনও কোনো নারী নেতৃত্ব দেয় নাই, স্পেনে উমায়্যাগণ প্রায় ৭০০ বছর শাসন করেছে সেসময় কোন নারী নেতৃত্ব দেয় নাই, উসমানীয়গণ প্রায় ৭০০ বছর শাসন করেছে তাদের ভিতর থেকে কখনও নারী নেতৃত্ব দেওয়া হয় নাই তাহলে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা শরীফ, কিয়াস শরীফ এবং ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা নির্ধিদ্বায় বলা যায় যে, ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম আর যেই এই হারাম কাজ কে জেনে শোনে বুঝে সমর্থন করবে সে মুরতাদ বলে গন্য হবে

৫. নবূয়াত প্রদানঃ মহান আল্লাহ পাক এ পর্যন্ত কোন নারীকে যেখানে নবী আলাইহিস সালাম করেন নাই সেখানে কি করে একজন নারী নেতৃত্ব দিতে পারে? এই আলোকে ওলামাগণ নারী নেতৃত্বকে হারাম ঘোষণা করেছেন

৬. নবীদের স্ত্রীদের নেতৃত্ব না নেওয়াঃ অনেকে এই যুক্তিও প্রদর্শন করেন যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিসাল শরীফের পর উনার আহলিয়াগন নেতৃত্ব নেন নাই খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের ভিতর কোন নারী ছিলেন না তাহলে কি করে একজন নারী এখন নেতৃত্ব দিতে পারে?

৭. প্রকৃতিগত কারণঃ মেয়েরা প্রায় সময় হায়েয, নিফাস, ঋতুবতী হওয়ার দরুন তারা তাদের তাদের কার্যক্রমসমুহ যথাযথভাবে পালন করতে পারবে না বলে ইসলামে নারী নেতৃত্ব কোন অবস্থাতে জায়েয হতে পারে না

৮. বেপর্দা হওয়াঃ যদি কোন নারী রাজ্যের অধিপতি হয় তাহলে তাকে প্রচার মাধ্যমসমূহতে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে তাকে নানা লোকের সাথে করমর্দন করতে হবে যা ইসলামী পর্দা জীবনের সম্পূর্ণরুপে পরিপন্থি মহান আল্লাহ পাক বলেন, [وَقَرْنَ فِى بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ ٱلْجَـٰهِلِيَّةِ ٱلْأُولَىٰ ۖ وَأَقِمْنَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتِينَ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِعْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجْسَ أَهْلَ ٱلْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًۭا] তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে জাহেলিয়াতের যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না পবিত্র নামায কায়েম করবে, পবিত্র যাকাত প্রদান করবে এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করবে

এতএব কুরআন সুন্নাহর অনুসারী এবং কুরআন সুন্নাহর জ্ঞানের অধিকারীরা সহজেই অনুধাবন করতে পারছেন যে নারী নেত্রিত্য সর্বাবস্থায় হারাম আর এই হারাম কাজ কে সমাজ থেকে নির্মূল করার চেষ্টা না করে উল্টো সেই কুফুরির সাথে হাত মিলিয়ে একসাতে চলে এহেন হারাম কাজের স্বীকৃতী দানকারীরা মুরতাদ ব্যতিত কিছুই নয়

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের হক্ব বাতিলের পার্থক্য বোঝার মানার তৌফিক দান করুন আমিন সুম্মা আমিন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: