6.14.2017

এবার হিন্দু প্রধান শিক্ষক কত্রিক মুসলিম স্কুলশিক্ষিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা মৌলভীবাজারে

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিন্দু প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক মুসলিম শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছেএ বিষয়ে শিক্ষিকা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালত এবং জেলা প্রাথমিক  শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন

জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি করে আসছেনবিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষিকাকে অকারণে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে অশ্লীল কথা বলাসহ বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতেন এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক সেই শিক্ষিকা নিয়মিত স্কুলে আসেন না বলে অভিযোগ করে উনাকে অন্যত্র বদলির হুমকি-ধমকিও দিতেনপ্রধান শিক্ষকের এমন যৌন হয়রানির বিষয়টি সে মজলুম শিক্ষিকা স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুসন মিয়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজু মিয়া সহ আরো কয়েকজনকে অবহিত করেন শিক্ষিকা বলেন গত ১৬ই মে বিদ্যালয় কক্ষে উনাকে আটকিয়ে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক হিন্দু রণধীর দাসবিষয়টি শিক্ষিকার স্বামী দুলাল মিয়া জানতে পারলে ক্ষুব্ধ হয়ে সেই হিন্দু প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসকে ওই দিন সন্ধ্যায় এর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শাসানসহকারী মুসলিম শিক্ষিকার অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে সেই হিন্দু প্রধান শিক্ষক রণধীর দাস তার সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেনতিনি ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদানের ২-৩ বছর পর থেকে তার প্রতি কু-দৃষ্টি পড়ে ওই হিন্দু প্রধান শিক্ষকের

নানা সময় তার সঙ্গে অনৈতিকভাবে মেলামেশার জন্য কথার ফাঁকে হাসির ছলে কু-প্রস্তাব দিতেনপ্রায় সময় কাজের কথা বলে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে অযথা তার গায়ে হাত দিয়ে কথা বলতেনতার এমন আচরণে সহকারী শিক্ষিকা আপত্তি জানালে প্রধান শিক্ষক তাকে হুমকি দিতেনবলতেন আমাকে সন্তুষ্ট রাখেন নয়তো অন্যত্র বদলি হবেন যেখানে বাড়ী থেকে গিয়ে চাকরি করা অসম্ভব হয়ে যাবেশান্তিতে চাকরি করতে পারবেন নাপ্রতিনিয়তই এই হিন্দু প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের এমন আচরণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন নিরিহ ঐ মুসলিম শিক্ষিকাসহকারী মুসলিম শিক্ষিকা তার লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, সহকর্মী প্রধান শিক্ষক তার স্ত্রী ও সন্তানদের অন্যত্র রেখে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেনওই ভাড়া বাসায় তাকে একা যাওয়ার জন্য প্রায়ই কু-প্রস্তাব দিতেনওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক তার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেনএমনকি হুমকি দেন তার সঙ্গে জোরপূর্বক কু-কাজ করারস্কুল শিক্ষিকার বাড়ি ও তার স্বামীর বাড়ি স্কুলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় মান সম্মান হারানোর ভয়ে তিনি কাউকে প্রথমত কিছু বলেননি কিন্তু এই হিন্দু প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির মাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকলে মুসলিম শিক্ষিকা বাধ্য হয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি, সহকর্মী অপর সহকারী শিক্ষক ও এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানানবিষয়টি সমাধানের জন্য গত ১৩ই মে সেই হিন্দু প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তারা আলোচনায় গেলে কোনো সদুত্তর পাননিস্কুল শিক্ষিকা জানান, ১৬ই মে ২০১৭ তারিখ সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশের পর দেখেন সেই হিন্দু প্রধান শিক্ষক তার অফিস কক্ষে বসাতখন স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কমএ সময় প্রধান শিক্ষক তাকে অফিস কক্ষে ডাকেনঅফিস কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সেই হিন্দু প্রধান শিক্ষক কক্ষের দরজা আটকিয়ে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন হিন্দু প্রধান শিক্ষকের শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টায় একপর্যায়ে অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে যানপরে তাকে স্কুলের পাশের একটি বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠান ওই বাড়ির লোকজনস্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি স্বামী জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসকে ১৬ই মে সন্ধ্যায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বলে শাসানঘটনার পরপর সেই হিন্দু প্রধান শিক্ষক মৌলভীবাজার মডেল থানায় স্কুল শিক্ষিকার স্বামী দুলাল মিয়াকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন কিন্তু গত ২২শে মে সেই মুসলিম সহকারী শিক্ষিকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (৪) খ ধারায় সেই হিন্দু প্রধান শিক্ষক রণধীর দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন

এবিষয়ে অভিযোগকারী ওই মুসলিম নির্যাতিতা শিক্ষিকা ও তার স্বামীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তারা ক্ষোভের সঙ্গে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন- একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে তিনি যে এমন লম্পটের মতো আচরণ করেছেন তার সুষ্ঠু বিচার চাইমান-সম্মান আর জীবন-জীবিকার জন্য যে মহান পেশায় গেলাম সেখানেও যদি এরকম অপমানকর ঘটনার শিকার হতে হয় তাহলে কি আর করাওই ঘটনা জানাজানির পর  লোকলজ্জা আর আত্মসম্মানের চিন্তায় চাকরি করতে আর মন চায় না

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রণধীর দাশের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে ওই শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেনতিনি বলেন, গত ১৬ই মে (মঙ্গলবার) বিকালে বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকার স্বামী দুলাল মিয়া সহ আরো কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আহত করেনআহত অবস্থায় তিনি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হনপরে শিক্ষক নেতারা তার পক্ষে ১৮ই মে মানববন্ধন পালন শেষে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেনএ ঘটনায় তিনি মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার (প্রাথমিক) মো. আব্দুল আলিম বলেন- স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা পৃথক ভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেনবিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে


সুত্রঃ ডেইলি বিডি মেইল (http://bit.ly/2tkXRSO) ও মানবজমিন (http://bit.ly/2sn1DxCমৌমাছি কন্ঠ (http://bit.ly/2rq0Pso)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: