6.15.2017

এই সেই কাতার যাদের উদারতার সম্মুখে মধ্যপ্রাচ্যের বাকি দেশগুলো অস্তিত্বহীন

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উদার এবং শান্তিপূর্ণ দেশ কাতারের আরেকটি মানবিক আচরণের উদাহরণ দিচ্ছি যে আরব আমিরাত সৌদি-বাহরাইন-মিশরকে নিয়ে কাতারকে বয়কটের ডাক দিয়েছে- যে আরব আমিরাতে কাতারের পক্ষে কোনো সহানুভূতি দেখালে ১৫ বছরের জেল সাজা দেওয়ার বিধান চালু করা হয়েছে, যে আমিরাতের এমিরেটস, ইত্তিহাদ, এয়ার আরাবিয়া, ফ্লাই দুবাই কাতারের সঙ্গে আকাশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, কাতার ঠিক এই মুহূর্ত পর্যন্ত সেই আরব আমিরাতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে

কাতারের কোম্পানি ডলফিনআরব আমিরাতের আবুধাবিতে যে গ্যাস সরবরাহ করছে, সেই গ্যাস ব্যবহার করে আবুধাবিতে উৎপাদিত হচ্ছে বিদ্যুৎএই বিদ্যুতের আলোয় গত রাতেও ঝলমল করেছে আবুধাবি, আজও জ্বুলে উঠবে শহরটিকাতার থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের বদৌলতে উৎপাদিত বিদ্যুতে এই প্রচন্ড গরমে এসির শীতাতপ পরিবেশে আয়েশে বাস করছেন আবুধাবির লাখো নাগরিক

ব্লুমবার্গ ম্যাগাজিন গতকাল জানিয়েছে, আবুধাবির অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় কাতার থেকে পাঠানো গ্যাসের শক্তিতেকাতার যদি আরব আমিরাতের আচরণের পরিবর্তে প্রতিশোধ নয়, বরং সমান আচরণের নীতিও গ্রহণ করতো, তবে অন্ধকার হয়ে যেত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আবুধাবিকিন্তু কাতার তা করেনিএটি করার কোনো পরিকল্পনাও নেই বলে গতকাল জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসৌদিআরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত থেকে কাতারের নাগরিকদের বের হতে ১৪দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে এসব দেশ


কিন্তু তিনদিন পার হওয়ার আগেই একরকম ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া হচ্ছে কাতারিদেরকাতার একবারও এ দেশে বসবাসরত সৌদি, বাহরাইনি ও আমিরাতি নাগরিকদের বলেনি, তোমরা বের হয়ে যাওএমনকি কাতারের পথেঘাটে একজন কামলা মিশরীয়ও বলতে পারবে না, কাতারের কোনো মুদি দোকানে কেউ তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়েছেএটাই হচ্ছে কাতারকাতারবাসীর ভদ্রতা এবং মানবিকতাকাজেই জোর গলায় বলছি, এই চারিত্রিক ও নৈতিক লড়াইয়ে ছোট আয়তনের দেশ কাতার হারিয়ে দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য সবগুলো দেশকে, যাদের আয়তন কাতারের চেয়ে অনেক অনেক গুণ বড়


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

1 comment:

  1. কাতার সত্যই মানবিকতার অপূর্ব নির্দেশনা ৷

    ReplyDelete