6.20.2017

পবিত্র যাকাত সম্পর্কিত সমস্থ জানা অজানা কুরআন সুন্নাহর আলোকে অবশ্যই পড়ুন

পবিত্র যাকাত ফরজ হওয়ার পরেও যারা আদায় করছেন না তাদের পরিনতি হবে খুব খারাপঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, মাল-সামানা ইত্যাদি বাদ দিয়ে এবং ধার/দেনা/কর্জ ব্যতীত নিজস্ব মালিকানাধীন সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা সমপরিমাণ টাকা এক বছর কারো নিকট মওজুদ থাকলে তার উপর যাকাত ফরযপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা যাকাত দ্বারা আপন মালকে পবিত্র করোছদক্বা দ্বারা রোগীর চিকিৎসা করো, মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে দোয়া-কান্নাকাটি করে মুছিবত দূর করোনূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, সমুদ্রে হোক অথবা স্থলে হোক কোন মাল-সম্পদ যদি বিনষ্ট হয়ে থাকে, তবে তা যাকাত না দেয়ার কারণেই বিনষ্ট হয়েছেযাকাত নামাযের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িতযেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে, যে মুছল্লী বা নামাযী ব্যক্তির উপর যাকাত ফরয, সে যদি যাকাত না দেয় তাহলে তার নামাযও কবুল হবে নানাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যাদের উপর যাকাত ফরয তাদেরকে অবশ্যই যাকাত প্রদান করতে হবেঅন্যথায় যাকাত আদায় না করার কারণে তাদেরকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে

যাকাত সরাসরি ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত তাই ইহা আদায় করতেই হবে করতেই হবে যদি কেউ ১ টাকাও কম যাকাত আদায় করে তাহলে তার যাকাত আদায় হবেনাযাকাত ইসলামের তৃতীয় স্থম্ভ, বলা যায় যাকাত হচ্ছে ঈমানের বিশুদ্বতা এবং মালের পরিশুদ্ধতার একমাত্র পথ

পবিত্র যাকাত দ্বীন ইসলাম উনার তৃতীয় বৃহত্তম বিধানকুরআন শরীফে আল্লাহ তাআলা যখনই পবিত্র নামায আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, পাশাপাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রে যাকাত আদায়েরও নির্দেশ দিয়েছেনবলেছেন, “নামায কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং হাদিস শরীফে অসংখ্যবার পবিত্র যাকাত মুবারকের কথা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন যার কতিপয় নিচে প্রদান করা হলোঃ পবিত্র সূরা হা-মীম সাজদাহ শরীফের ৭নং পবিত্র আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (যারা পবিত্র যাকাত প্রদান করে না, আর তারাই পরকালে অবিশ্বাসী) অর্থাৎ তারা কাফির

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের দ্বিতিও সূরা বাক্বারা শরীফের ৪৩ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (আর পবিত্র নামায কায়েম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান করো এবং পবিত্র নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়) সুবহানাল্লাহ!!!

ঐ একিই সুরার ৮৩ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতিত অন্য কারো ইবাদত করবে না, এবং পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও হত-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ উপদেশ দেবে, পবিত্র নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং পবিত্র যাকাত প্রদান করবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা তো মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী) এমনকি ১১০ নং আয়াত শরীফেও মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাওতোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবেতোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন) ১৭৭ নং আয়াত শরীফে আরো বলেন যেঃ (সম্মনিত পবিত্র সালাত কায়েম করলে, ও সম্মানিত পবিত্র যাকাত প্রদান করলে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ করলে, অর্থ- সংকটে, দুঃখ- ক্লেশে ও সংগ্রাম-সংকটে ধৈর্য ধারণ করলেএরাই তারা যারা সত্যপরায়ণ এবং এরাই পরহেজগার তথা মুত্তাকী) সুবহানাল্লাহ!!!


আর পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের ২৪ নং সূরা পবিত্র নূর শরীফের ৫৬ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (পবিত্র নামায কায়েম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান করো এবং রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও) সুবহানাল্লাহ!!!


এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের ৫৮ নং সূরা পবিত্র মুজাদিলা শরীফের ১৩ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (তোমরা পবিত্র নামায কায়েম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান করো এবং মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল শোল্লাল্লাহূ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমরা যা কর তার সম্পর্ক বেখবর নন) সুবহানাল্লাহ!!!


আর পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের ৭৩ নং সূরা পবিত্র মুয্যম্মিল শরীফের ২০ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (অতএব পবিত্র সালাত কায়েম করো, পবিত্র যাকাত প্রদান করো, এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে দাও উত্তম ঋণ) সুবহানাল্লাহ!!!

এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের ২২ নং সূরা হজ্জ্ব শরীফের ৪১ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ (তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ দান করলে তারা পবিত্র নামায কায়েম করবে, পবিত্র যাকাত প্রদান করবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবেপ্রত্যেক কর্মের পরিণাম মহান আল্লাহ পাক উনার এখতিয়ারভূক্ত) সুবহানাল্লাহ!!!

যাকাত সম্পর্কিত কিছু সহীহ হাদীস পেশ করা হলঃ-

ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত সহীহ বুখারী শরীফের, দ্বিতীয় অধ্যায়ের ঈমান সম্পর্কিত হাদিস শরীফের ৫৫ নং হাদিস শরীফে এসেছে যেঃ

উবায়দুল্লাহ্ ইবন মূসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইবন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন, পবিত্র দ্বীন ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি

আল্লাহ্ ছাড়া কোনো মালিক নেই এবং নিশ্চয় হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা (মৌখিক এবং আন্তরিক)
পবিত্র সলাত কায়েম করা
পবিত্র যাকাত প্রদান করা
পবিত সিয়াম পালন করা এবং
পবিত্র হজ্জ আদায় করা

ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত সহীহ তিরমিজী শরীফের, ৭ নং অধ্যায়ে যাকাত সম্পর্কিত হাদিস শরীফের ৬৪২ নং হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যেঃ আহমাদ ইবনু মানী এবং মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা রাফি ইবনু খাদীজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক উনার পথে যুদ্ধরত ব্যক্তির যে মর্যাদা, সঠিকভাবে যাকাত সংগ্রহকারী ব্যক্তিরও সেই একিই মর্যদা রয়েছে

এসব আয়াত শরীফের আলোকে পবিত্র যাকাত ইসলামের অন্যতম অপরিহার্য ফরয দায়িত্ব বলে প্রমাণিত হনযার অস্বীকারকারী বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্লকারী কাফির বলে গণ্যআর অনাদায়কারী ফাসিক এবং কঠিন শাস্তির যোগ্যঅথচ এই হুকুমটাকে আমরা কতই না অবহেলা করি! পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একেবারে শুরুর দিকে, সূরা বাক্বারা শরীফে, হেদায়াতপ্রাপ্ত মুত্তাকী পরহেজগার উনাদের পরিচয় দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, “আমার দেয়া রিযিক হতে যাকাত প্রদান করেএই পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ভয় অন্তরে লালন করা ও হেদায়াতের পূর্ণতায় পৌঁছুতে পবিত্র যাকাত প্রদানের কোনো বিকল্প নেইযে ব্যক্তি পবিত্র যাকাত ফরয হওয়ার পরও তা আদায় করে না, তার পক্ষে পূর্ণ হেদায়াত লাভ করা কখনো সম্ভব নয়ভাবতে পারেন, হেদায়াত না-ই পেলাম, হেদায়াত আমার কি-ই-বা দরকার; আতর লাগিয়ে শুক্রবার নামাযে যাচ্ছি; সেজেগুজে ঈদের নামাযে হাজির দিচ্ছি; ব্যাস.. মুসলমানের দায়িত্ব তো পালন করেছি; অন্তত যেকোন বেহেশত তো পাবো; হুর-গেলমান তো থাকবেই; ইত্যাদি ইত্যাদিকিন্তু না যেমন টা ভাবছেন বিষয়টা তেমন না

যেভাবে পবিত্র যাকাত প্রদান করলে যেমন পাচ্ছেন হেদায়াত ও মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য, ঠিক তেমনিভাবে, আদায় নাকরলেও প্রস্তুত থাকছে ভয়ানক শাস্তিযেমন এই ব্যপারে কালামুল্লাহ শরীফের ৯ নং পবিত্র সূরা তওবা শরীফের ৩৪-৩৫ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেনঃ আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করেনা মহান আল্লাহ পাক উনার পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিনসে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার

আর কালামুল্লাহ শরীফের ১০৪ নং পবিত্র সূরা হুমাযা শরীফের পুরোটাই পবিত্র যাকাত প্রদান না করার শাস্তির আলোচনায় উৎসর্গিতযেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করেসে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবেকখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। (হে আমার হাবীব সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি? এটা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রজ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবেএতে তাদেরকে বেঁধে দেয়া হবে, লম্বালম্বি খুঁটিতে

বস্তুত, সীমিত পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানাকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম স্বীকার করে নিলেও, এ সুযোগে যেন অশুভ পুঁজিতন্ত্রের জন্ম না দেয়, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রেখেছেন পবিত্র দ্বীন ইসলামপুঁজিতন্ত্রের বিকাশ রোধে তাই পবিত্র যাকাতকে গুরুত্ব দিয়েছেন অনেক বেশিপবিত্র দ্বীন ইসলাম মনে করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাদ দেয়ার পর কারো যদি ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা সমমূল্যের সম্পদ হিজরী এক বৎসর কাল পর্যন্ত সঞ্চিত থাকে, তাহলে সে সম্পদশালীএ ধরনের সম্পদশালী ব্যক্তিদের থেকে রাষ্ট্রের অন্যান্য অভাবী মানুষদের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য ঐ সঞ্চিত সম্পদের শতকরা ২.৫ টাকা যাকাত প্রদানের দাবি জানান পবিত্র দ্বীন ইসলাম

পবিত্র যাকাত আদায়ের বিবিধ উপকারিতা নিম্নরূপঃ

১. গরীবের প্রয়োজন পূর্ণ করা; অভিশপ্ত পুঁজিতন্ত্রের মূলোৎপাটন করা; সম্পদ কুক্ষিগত করার মানসিকতাকে শেষ করে সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি করা

২. সম্মানিত মুসলমানদের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি করা; দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা

৩. চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই সহ সবরকম অভাবজনিত অপরাধের মূলোৎপাটন করাগরীব-ধনীর মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা

৪. সম্পদের বরকত ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি যেমন মুসলিম শরীফের ৬৭৫৭ এবং তিরমিযী শরীফের ২০২৯ নং হাদিস শরীফে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশার মুবারক করেন  পবিত্র যাকাত প্রদানে সম্পদ কমে না অর্থাৎ, হয়ত দৃশ্যতঃ সম্পদের পরিমাণ কমবে, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি এই স্বল্প সম্পদের মাঝেই বেশি সম্পদের কার্যকারী ক্ষমতা দিয়ে দিবেন সুবাহানাল্লাহ!!!

৫. সম্পদের উপকারিতার পরিধি বৃদ্ধি করাকেননা সম্পদ যখন পবিত্র যাকাতের মাধ্যমে অভাবীদের মাঝে বণ্টিত হয়, তখন এর উপকারিতার পরিধি বিস্তৃত হয়আর যখন তা ধনীর পকেটে কুক্ষিগত থাকে, তখন এর উপকারিতার পরিধিও সঙ্কীর্ণ হয়

৬. পবিত্র যাকাত প্রদানকারীর দান ও দয়ার গুণে গুণান্বিত হওয়া; অন্তরে অভাবীর প্রতি মায়া-মমতা সৃষ্টি হওয়া

৭. কৃপণতার ন্যায় অসৎ গুণ থেকে নিজেকে পবিত্র করাকারন মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফের ৯ নং পবিত্র সূরা আত তওবা শরীফের ১০৩ নং আয়াত শরীফে বলেনঃ “(হে আমার হাবীব সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি) তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমেআর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরূপবস্তুতঃ আল্লাহ সবকিছুই শোনেন, জানেন

৮. সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান পালন করার মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে উনার নৈকট্য লাভ করা

পবিত্র যাকাত কখন ফরয হয়ঃ কোনো মুসল্মান ৭.৫ ভরি স্বর্ণ, ৫২.৫ ভরি রূপা বা সমমূল্যের নিত্য প্রয়োজনোতিরিক্ত সম্পদের মালিক হলে, এবং এ অবস্থায় আরবী এক বছর অতিক্রান্ত হলেএ হিসাবটাকে ইসলামী পরিভাষায় নেসাববলেঅতএব, কারো যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পর্যন্ত থাকে, তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবেআজকের (আজ ২৫ মাহে রমাদ্বান শরীফ, ১৪৩৮ হিজরী)-এর হিসাব অনুযায়ীঃ ১ ভরি রূপা= ১০০০ টাকার কিছু কম অনুসারেঃ ৫২.৫ ভরি রূপা= ৫২,১০০ টাকা অতএব কেউ ৫২,১০০ টাকার মালিক হলে এবং এ অবস্থায় এক বছর অতিক্রান্ত হলে, তার উপর পবিত্র যাকাত ফরয হবে। (৫২,১০০ টাকায় শতকরা ২.৫ টাকা হিসেবে মাত্র ১৩০২.৫ টাকা পবিত্র যাকাত আসেঅতএব ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।)  

কোন কোন সম্পদে পবিত্র যাকাত আসেঃ

১. নগদ টাকা-পয়সা, ব্যাংক ব্যালেন্স, বন্ড ও অন্যান্য ফাইন্যানশিয়াল ইন্সট্রুমেন্টস।

২. সোনা-রূপা; অর্নামেন্ট, বার যা-ই হোক; তা নিত্যব্যবহার্য হলেও

৩. ব্যবসার সম্পদ; যা ব্যবসার উদ্দেশে ক্রয়কৃত; কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশে ক্রয়ের পর বিক্রয়কৃতব্যবসার কাঁচামাল, উৎপাদিত বস্তু, বা, উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা বস্তুশেয়ারও এ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত

৪. অন্যান্য প্রয়োজনোতিরিক্ত সম্পদ

পবিত্র যাকাতের সম্পদ সঠিকভাবে বন্টন করার উপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছেএই কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই পবিত্র যাকাত ব্যয় বন্টনের খাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যেমনঃ কালামুল্লাহ শরীফের ৯ নং সূরা তওবা শরীফের ৬০ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেনঃ পবিত্র যাকাত কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্থ ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্থদের জন্য, মহান আল্লাহ পাক উনার পথে সংগ্রামকারী ও মুসাফিরদের জন্যএটাই মহান আল্লাহ পাক উনার বিধানমহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়

এ খাতের বাইরে অন্য কোন খাতে পবিত্র যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে নানিম্নে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত উলেস্নখিত ৮টি খাতের বর্ণনা দেয়া হলো

পবিত্র যাকাত বন্টনের নির্ধারিত ৮টি খাতের বিবরণঃ

প্রথম খাতঃ ফকীর- ফকীর হলো সেই ব্যক্তি যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেইযে ব্যক্তি রিক্তহস্ত, অভাব মেটানোর যোগ্য সম্পদ নেই, ভিক্ষুক হোক বা না হোক, এরাই ফকীরযে সকল  স্বল্প সামর্থ্যের দরিদ্র মুসলমান যথাসাধ্য চেষ্ট করা সত্ত্বেও বা দৈহিক অক্ষমতাহেতু প্রাত্যহিক ন্যায়সঙ্গত প্রয়োজনটুকু মেটাতে পারে না, তারাই ফকীরকারও মতে যার কাছে একবেলা বা একদিনের খাবার আছে সে ফকীর (তবে শর্ত হচ্ছে সে নামাজি হতে হবে, পবিত্র নামায পরিত্যাগকারি হলে তাকে পবিত্র যাকাত দেওয়া যাবেনা কারন পবিত্র নামায পরিত্যগকারিরা কাফের)

দ্বিতীয় খাতঃ মিসকীন- মিসকীন সেই ব্যক্তি যার কিছুই নেই, যার কাছে একবেলা খাবারও নেইযে সব লোকের অবস্থা এমন খারাপ যে, পরের নিকট সওয়াল করতে বাধ্য হয়, নিজের পেটের আহারও যারা যোগাতে পারে না, তারা মিসকীনমিসকীন হলো যার কিছুই নেই, সুতরাং যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদ নেই, তাকে পবিত্র যাকাত দেয়া যাবে এবং সেও নিতে পারবেতবে লক্ষ্য রাখতে হবে, ফকীর বা মিসকীন যাকেই পবিত্র যাকাত দেয়া হবে, সে যেনো মুসলমান হয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয় (তবে শর্ত হচ্ছে সে নামাজি হতে হবে, পবিত্র নামায পরিত্যাগকারি হলে তাকে পবিত্র যাকাত দেওয়া যাবেনা কারন পবিত্র নামায পরিত্যগকারিরা কাফের)

তৃতীয় খাতঃ আমেলীন-  ইসলামী সরকারের পক্ষে লোকদের কাছ থেকে পবিত্র যাকাত, উসর প্রভৃতি আদায় করে বায়তুল মালে জমা প্রদান, সংরক্ষণ ও বন্টনের কার্যে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গএদের পারিশ্রমিক পবিত্র যাকাতের খাত থেকেই আদায় করা যাবেকুরআনে বর্ণিত আটটি খাতের মধ্যে এ একটি খাতই এমন, যেখানে সংগৃহীত যাকাতের অর্থ থেকেই পারিশ্রমিক দেয়া হয়এ খাতের বৈশিষ্ট্য হলো এতে ফকীর বা মিসকীন হওয়া শর্ত নয়পক্ষান্তরে, অবশিষ্ট ৫টি খাতে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ দূরীকরণে যাকাত আদায় শর্ত (তবে শর্ত হচ্ছে সে নামাজি হতে হবে, পবিত্র নামায পরিত্যাগকারি হলে তাকে পবিত্র যাকাত দেওয়া যাবেনা কারন পবিত্র নামায পরিত্যগকারিরা কাফের)

চতুর্থ খাতঃ মুআলস্নাফাতুল কুলুব (চিত্ত জয় করার জন্য)- নতুন মুসলিম যার ঈমান এখনও পরিপক্ক হয়নি অথবা ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক অমুসলিমযাদের চিত্ত (দ্বীন ইসলামের প্রতি আকর্ষণ করে) আকর্ষণ ও উৎসাহিত করণ আবশ্যকীয় মনে করে যাকাত দান করা হয়, যাতে তাদের ঈমান পরিপক্ক হয়এ খাতের আওতায় দুঃস্থ নওমুসলিম ব্যক্তিদের যাকাত প্রদানের ব্যাপারে ফকিহগণ অভিমত প্রদান করেছেন

পঞ্চম খাতঃ ক্রীতদাস/বন্দী মুক্তি- এ খাতে ক্রীতদাস-দাসী/বন্দী মুক্তির জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবেঅন্যায়ভাবে কোন নিঃস্ব ও অসহায় ব্যক্তি বন্দী হলে তাকেও মুক্ত করার জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে (তবে শর্ত হচ্ছে সে নামাজি হতে হবে, পবিত্র নামায পরিত্যাগকারি হলে তাকে পবিত্র যাকাত দেওয়া যাবেনা কারন পবিত্র নামায পরিত্যগকারিরা কাফের)

ষষ্ঠ খাতঃ ঋণগ্রস্থ-  এ ধরণের ব্যক্তিকে তার ঋণ মুক্তির জন্য যাকাত দেয়ার শর্ত হচ্ছে- সেই ঋণগ্রস্থের কাছে ঋণ পরিশোধ পরিমাণ সম্পদ না থাকাআবার কোন ইমাম এ শর্তারোপও করেছেন যে, সে ঋণ যেন কোন অবৈধ কাজের জন্য- যেমন মদ কিংবা না- জায়েয প্রথা  অনুষ্ঠান ইত্যাদির জন্য ব্যয় না করে (তবে শর্ত হচ্ছে সে নামাজি হতে হবে, পবিত্র নামায পরিত্যাগকারি হলে তাকে পবিত্র যাকাত দেওয়া যাবেনা কারন পবিত্র নামায পরিত্যগকারিরা কাফের)

সপ্তম খাতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার পথে- সম্বলহীন মুজাহিদের যুদ্ধাস্ত্র/সরঞ্জাম উপকরণ সংগ্রহ এবং নিঃস্ব ও অসহায় গরীব দ্বীনি শিক্ষারত শিক্ষার্থীকে এ খাত থেকে যাকাত প্রদান করা যাবেএ ছাড়াও ইসলামের মাহাত্ম ও গৌরব প্রচার ও প্রসারের কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে যারা জীবিকা অর্জনের অবসর পান না এবং যে আলিমগণ দ্বীনি শিক্ষাদানের কাজে ব্যাপৃত থাকায় জীবিকা অর্জনের অবসর পান নাতারা অসচ্ছল হলে সর্বসম্মতভাবে তাদেরকেও যাকাত দেয়া যাবে

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারায় বর্ণিত আছে যে, ‘‘যাকাত এই সমস্থ লোকের জন্য  যারা মহান আল্লাহ পাক উনার পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, দেশময় ঘুরাফেরা করতে পারে না, মুখ ফুটে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ না করার কারনে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত বলে মনে করে

অষ্টম খাতঃ অসহায় মুসাফির- যে সমস্ত মুসাফির অর্থ কষ্টে নিপতিত তাদেরকে মৌলিক প্রয়োজন পূর্ণ হওয়ার মত এবং বাড়ী ফিরে যেতে পারে এমন পরিমাণ অর্থ যাকাত থেকে প্রদান করা যায়

বিস্তারিতঃ দেখতে পারেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে [http://bit.ly/1XVWua2]

আর পবিত্র যাকাত ফরজ হওয়ার পরেও তা প্রদান না করার কারনে যে সকল ভয়াবহ শাস্তি আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে তা নিচে বর্ণনা করা হলো

যে সকল সম্পদের উপর পবিত্র যাকাত ফরজ হয় এব তা প্রদান না করার কারনে যে সকল ভয়াবহ শাস্তি আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে তা নিচে বর্ণনা করা হলো

পবিত্র যাকাত সম্মানিত দ্বীন ইসলামের পাঁচটি ফরযের একটিকালিমায়ে শাহাদাত শরিফের ও পবিত্র সালাতের পর পরই যাকাতের স্থানপবিত্র কুরআন শরিফ হাদিস শরিফ দ্বারা এর ফরযিয়্যাত প্রমাণিতপবিত্র যাকাতের ফরযিয়্যাত অস্বীকারকারী কাফের ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত মুরতাদআর যাকাতের ব্যাপারে যে কৃপণতা করলো অথবা কম আদায় করলো সে যালেমদের অন্তর্ভুক্ত ও মহান আল্লাহ পাক উনার শাস্তির উপযুক্ত

পবিত্র যাকাত প্রদান না করার শাস্তিঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দিনযেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর। (সূরা আত-তওবা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৩৪-৩৫)

আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যেঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর সে তার পবিত্র যাকাত প্রদান করলো না, কিয়ামতের দিন তার জন্য বিষধর সাপ সৃষ্টি করা হবে, যার দুটি চোঁয়াল থাকবে, যা দ্বারা সে তাকে কিয়ামতের দিন পেঁছিয়ে ধরবে, অতঃপর তার দুচোয়াল পাকড়ে বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন। (বুখারি শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ৮৪০৩)

যে সকল সম্পদের উপর পবিত্র যাকাত ফরজ হয়ঃ পবিত্র যাকাত নিদিষ্ট সম্পদের উপর ফরজ হয়, যেমন স্বর্ণ ও রূপা, শর্ত হচ্ছে এর নিসাব পূর্ণ হতে হবেস্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, আর রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা তার সমপরিমাণ অর্থের মালিক হলে পবিত্র যাকাত ফরজ হবেস্বর্ণ ও রূপা অলংকার বা যে অবস্থাতেই থাকুক, তাতে পবিত্র যাকাত আদায় করা ওয়াজিব হবেঅতএব নারীর পরিধেয় অলংকারের উপর পবিত্র যাকাত ফরজ যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়, সে নিজে পরিধান করুক বা অন্যকে পরিধান করতে দিক

আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, জনৈক নারী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করে, তার হাতে ছিলো স্বর্ণের দুটি চুড়ি, তিনি(সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি এগুলোর পবিত্র যাকাত দাও?”সে বললোঃ নাতিনি(সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি পছন্দ কর মহান আল্লাহ পাক তিনি এগুলোর পরিবর্তে তোমাকে জাহান্নামের দুটি চুড়ি পরিধান করান?সে তাৎক্ষনিক রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মুখে তা নিক্ষেপ করে বললঃ এগুলো মহান আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য। (আবু দাউদ শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ১৫৬৩, তিরমিযি শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ৬৩৭, নাসায়ি শরীফঃ হাদিস শরীফঃ ২৪৭৯)

আরো যেসব জিনিসের উপর পবিত্র যাকাত ফরজ হয় তন্মধ্যে রয়েছেঃ ব্যবসায়ী সম্পদ, অর্থাৎ ব্যবসার জন্য রক্ষিত সম্পদ যেমন জমিন, গাড়ি, চতুষ্পদ জন্তু ও অন্যান্য সম্পদএগুলোতে এক-দশমাংশের চার ভাগের এক ভাগ পবিত্র যাকাত ওয়াজিব, অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের একভাগবছর শেষে হিসাব কষে তা বের করবে, তখন তার মূল্য কেনার দামের চেয়ে কম হোক অথবা বেশী হোক অথবা সমান সমান

সুবহানাল্লাহপ্রিয় পাঠক, যাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয হয়েছে, এই কথাগুলো জানার পরও কি তারা পবিত্র যাকাত আদায় করবেন না? মহান আল্লাহ পাক তিনি যাদের উপর পবিত্র যাকাত ফরয হয়েছে, তাঁদেরকে ঠিকমত হিসাবনিকাশ করে পরিপূর্ণভাবে পবিত্র যাকাত আদায়ের তৌফিক দান করুনআমীন...

যাকাত, ফিতরা, ওশর প্রদান করবেন বর্তমান পৃথিবীর সবথেকে শ্রেষ্ঠ ইসলাম শিখার স্থান মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসাকবুল তো হবেই, সাথে সাথে ছদকায়ে জারিয়ার ছওয়াব পাওয়া যাবে আজিবন

সেখানের বৈশিষ্টসমুহঃ

১) ঈমানঃ বিশুদ্ধ থেকে বিশুদ্ধতমএমন বিশুদ্ধতার উদাহরণ দুনিয়ার আর কোথাও নেই
২) আমলঃ পরিপূর্ণ শরীয়তসম্মতযেখানে প্রত্যেক এর পায়ের তলা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত, সুন্নত অনুসরণ বাধ্যতামূলক আল্লাহওয়ালাহওয়ার জন্য শরীয়ত ও তাসাউফ উভয় প্রকার ইলম অর্জন হরতাল, লংমার্চ, রাজনীতি, মৌলবাদ ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হালালকে হালাল এবং হারামকে হারামই রাখা হয়েছে, যেমন গান-বাজনা, ছবি তোলা ইত্যাদি হারাম কাফির মুশরিক মুসলমানদের শত্রুকাজেই তাদেরকে কোন প্রকার অনুসরণ করা হয় না
৩) মুত্তাকী-পরহেযগারঃ শরয়ী পর্দা বাধ্যতামূলক, বালিকা শাখা সম্পূর্ণ বালক শাখা থেকে পৃথক,
তাহাজ্জুদ নামায বাধ্যতামূলক আল্লাহওয়ালাহওয়াই মূল উদ্দেশ্য।

৪) কোটি কোটি মসজিদ, মাদরাসা, লাইব্রেরী, গবেষণাগার নির্মাণের চেষ্টা

কেন আপনি মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা (ইয়াতিমখানা, লিল্লাহ বোডিং এ) পবিত্র যাকাত প্রদান করবেন?

* এখানের ছাএগন ১০০% শরীয়ত সম্মত আমল করেন
* ১০০% পর্দা করেন
* যিকির ফিকির করেন
* তাহাজ্জুদ পড়েন
* মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সুন্নতের পাবন্দ
* কোন রাজনীতি করেন না
* হারাম খেলাধুলা মত্ত থাকেন না দ্বীন ইসলামের চর্চা ছেড়ে
* হারাম ছবি তুলেন না
* হারাম সিনেমা, টিভি দেখেন না
* হরতাল, লংমার্চ করেন না
* দায়েমী নেক কাজে মশগুল থাকেন

#হাক্বীক্বী নায়েবে নবী তৈরি করার জন্য এইপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছেসুবহানাল্লাহ
#তাই এখানেই আপনার যাকাত দেয়া উচিত কারণ অন্য যায়গায় দিলে আপনার যাকাত আদায় হবে কিনা সন্দেহ আছে

যারা এখানে যাকাত, ফিতরা, উশর দিবেন তারা প্রত্যেকেই এই সমস্ত ‍নিয়ামত লাভ করবেনসদকায়ে জারিয়ার সওয়াব লাভ করবেনসুবাহানাল্লাহ!

মনে রাখবেন না হক্ব যত নিকটই হোক কোন হক্ব না: না হক্ব যত নিকটজনই হোক না কেন তার কোন হক্ব নাইযার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে কেনানকেনান ছিল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পূত্রতার মধ্যে নবুয়তী খানদানের রক্ত ছিলকিন্তু সে কাফিরদের সাথে মিশে কাফির হয়ে গিয়েছিলহযরত নূহ আলাইহিস সালাম যখন তাকে তওবা করে উনার কিস্তিতে ডাকলেন সে যেতে রাজি হলো নাসে পাহাড়ের উপর উঠলো, গাছের উপর উঠলোকিন্তু মহান আল্লাহ পাক তাকে পানিতে চুবিয়ে মারলেন

কাজেই কোন নিকট আত্মীয় যদি কাফির-মুশরীকদের পথ অনুসরণ করে তাহলে তাদেরকে কোন যাকাত, ফিতরা, উশর দেওয়া যাবে না


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: