7.15.2017

ভিবিন্ন কুফুরি দিবস সম্পর্কে জানলেও মুসলমান কি জানে আজ আন্তর্জাতিক বাল্যবিবাহ দিবস???

আজ (শনিবার) বাদ মাগরীব থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হিজরী ২১শে শাওয়াল শরীফ তারিখ আজ থেকে প্রায় ১৪৪০ বছর আগে (হিজরতের ২ বছর আগে) ২১শে শাওয়াল শরীফের দিন আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজি রাসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনাদের মধ্যে বিবাহ সংগঠিত হয়েছিলোঐ সময় সমস্থ উম্মতের মাতা হযরত আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলো ৬ বছরযদিও তিনি সংসার জীবন শুরু করেন ৯ বছর বয়সে

সুত্রঃ সহিহ বুখারী শরীফ, আধুনিক প্রকাশনীঃ হাদীস শরীফ নং ৪৭৫৪, ৪৭৫৫, ৪৭৭৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ- হাদীস শরীফ নং ৪৭৫৭, ৪৭৫৮, ৪৭৮১; সহিহ মুসলিম শরীফ ইঃফাঃ ৩৩৪৪, ৩৩৪৫, ৩৩৪৭ ইঃসেঃ ৩৩৪৩, ৩৩৪৪, ৩৩৪৬)

এটা আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ১৩ জন আহলিয়া (স্ত্রী) ছিলেনএর মধ্যে ১ জনের বয়স মুবারক ছিলো অল্প, বাকিদের বয়স ছিলো অধিকযেহেতু আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানুষের জন্য অনুসরনীয় যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ- আপনি (নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলুন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক পেতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ করো, তাহলেই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন, তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের প্রতি দয়ালু হবেন” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩১)

নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেটা করেছেন, অবশ্যই সেটার মধ্যে খায়ের বরকত আছে, যার দলিল আমরা এই আয়াত শরীফে পাই যেখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেনঃ (হে আমার হাবিব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে মুবারক কাওসার দান করেছি” (পবিত্র সূরা আল কাওসার শরীফঃ আয়াত শরীফ ১)- এ আয়াত শরীফের একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খাইরে কাসির বা সমস্ত ভালো দান করেছেনঅর্থাৎ তিনি উনার হায়াত মুবারকে যা কিছু করেছেন সবটাই ভালো বা উত্তমকাফেররা যতই বিরোধীতা করুক, সুন্নত অবশ্যই ভালো এবং মানুষের জন্য উপকারি

আজকাল কাফেররা বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করেএ বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন প্রথম পাশ হয় ১৯২৯ সালেব্রিটিশরা মুসলমানদের সুন্নতি বাল্যবিবাহের বিরোধীতা(মূলত রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইহানত করা) করে এ আইন পাশ করেএবং যারা সুন্নতি বাল্যাবিবাহ করবে, তাদের দন্ড দেয়এক্ষেত্রে তারা নানা যুক্তি দেয়, কিন্তু কোন যুক্তিই কাজ করবে না

মহান আল্লাহ তায়ালা বাল্যবিবাহকে হালাল করেছেন যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ এবং যারা ঋতুবতী হয়নি” (পবিত্র সূরা সূরা আত-ত্বলাকঃ শরীফঃ আয়াত শরীফ ৪) এই আয়াত শরীফকে দলীল হিসাবে ধরে নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করেন পূর্ববর্তী ইমাম মুস্তাহিদ ও ফুকাহগন

নবীজি যে বিষয়টি পালন করছেন, সেটা কখনই খারাপ হতে পারে নাঅবশ্যই তার মধ্যে ভালোই আছে আর এইটা সবাই মানতে পারবেনা যদি সে শতভাগ রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসারী না হয়

আসুন, এ সুমহান পবিত্র ২১শে শাওয়াল শরীফ তারিখকে আন্তর্জাতিক বাল্যাবিবাহ দিবস হিসেবে প্রচার করিপালন করিবাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কাফিরদের যত অপপ্রচার আছে, সেগুলো বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি


বিঃদ্রঃ আপনি যদি মুসলিম হোন, নিজেকে মুসলমান মনে করেন এরপরেও ফালতু যুক্তি দিয়ে বাল্যবিবাহের বিরোধিতা করতে চান তাহলে আপনার অতিত আর বর্তমান খোঁজে দেখুন তো আপনি কখনো হারাম বাল্যপ্রেমের(মূলত সেক্স পার্টনার) বিরোধিতা করেছেন কি না


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: