7.03.2017

ঢাকা কেন ফাঁকা ? ফাঁকা ঢাকা পেতে আমাদের কি করতে হবে ??

গত কয়েকদিন ঈদের ছুটিতে ঢাকা পুরোপুরি ফাঁকা ছিলো ঈদের ছুটিতে ঢাকা শহর ফাঁকা হলে একটি বিষয় মাথায় আসে, তা হলো- কিভাবে সারা বছর এই ফাঁকা ঢাকাকে ফাঁকা রাখা যায়

বিভিন্ন পত্রপত্রিকার দেয়া হিসেব মোতাবেক, ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছে প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ লোকআর তাতেই ফাঁকা হয়েছে ঢাকাতারমানে এই ৫০-৬০ লক্ষ লোক ঢাকার স্থায়ী অধিবাসী নয় এবং যদি তাদেরকে ডিসেন্ট্রলাইজেশন বা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়া যায়, তবে সারা বছর ঈদের মত ঢাকা শহরকে ফাঁকা পাওয়া সম্ভব

কিন্তু ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে সরকার মহোদয়ের উদ্যোগের শেষ নেইতারা ফ্লাইওভার-মেট্রোরেল-পাতাল রেল দিয়ে ঢাকা ভরিয়ে দিতে চায়, অথচ বাস্তবতা হচ্ছে- এসব কাঠামো দিয়ে ঢাকার যানজট কখনই সারানো যাবে না, বরং জনগণের কষ্ট বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে এবং তুলছে ও

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, এবার বাজেটে রাস্তাঘাট-সেতু-ফ্লাইওভার বানাতে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ হয়েছে, আনুমানিক ৪৬ হাজার কোটি টাকাএ বাজেট দেখে মোটামুটি নিশ্চিত, বাংলাদেশ সরকার কখনই চায় না, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন হোকযদি নিরসন হয়ে যায়, তবে বাজেটে এত এত টাকা কখনই বরাদ্দ করা যাবে নাতাই ঢাকার যানজট সরকারের কাছে অনেকটা আলাউদ্দিনের চেরাগের মতই দামিযতদিন যানজট টিকে থাকবে ততদিন তাদের পকেট ভরবে

আসলে সাধারণ মানুষ অনেক বোকাতারা দেখে তাদের মাথার উপর ফ্লাইওভার হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে, আর তারা ভাবছে- বোধহয় দেশটা উন্নত হয়ে যাচ্ছেঅথচ এর মাধ্যমে যে, আনপ্রোডাকটিভি খাতে বিপুল ব্যয় করে দেশের অর্থনীতিটাকে পঙ্গু বানিয়ে দেয়া হচ্ছে, এটা তারা বুঝছে নাএ সম্পর্কে আরো ভালো বুঝতে, আন্তর্জাতিকভাবে বেস্টসেলিং জন পার্কিন্সের লেখা - ` এক অর্থনৈতিক ঘাতকের স্বীকারোক্তিনামক বইটা পড়তে পারেন, যেখানে স্পষ্ট ব্যাখ্যা করা হয়েছে- কিভাবে সম্রাজ্যবাদীরা সেতু-ফ্লাইওভার-মেট্রোরেলের মত ভৌত কাঠামো বানানোর বুদ্ধি দিয়ে বাংলাদেশের মত তৃতীয়বিশ্বের দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে রাখছেবলাবাহুল্য সরকার-আমলারাও ষড়যন্ত্রকারীদের দেখানো পথে হাটে, কারণ যত ফ্লাইওভার-সেতু বানানো যাবে পকেট তত ভর্তি করা যাবেঅথচ অন্যান্য উতপাদনশীল খাতে বাজেট দিন দিন কমিয়ে দেয়া হচ্ছে

যাই হোক, ঢাকাকে ফাকা করার সহজ উপায় হচ্ছে- শহর বিকেন্দ্রীকরণএজন্য মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা) এর কেন্দ্রগুলোকে শুধু বিকেন্দ্রীকরণ করলেই জনগণ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বেতবে বিষয়টি আরো সহজ করলে- খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান সারা দেশজুড়েই আছে, তবে সমস্যা হলো ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ভালো মানের চিকিতসা সেবা নিয়েতাই দেশের প্রত্যেকটি থানা/উপজেলায় যদি একটি করে উন্নত মানের ইউনিভার্সিটি ও একটি করে উন্নতমানের হাসপাতাল করা যায়, তবে শহর বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি অনেক সহজে হবে বলেই মনে হয়

আমি সিলেটের রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যখন লিখেছিলাম, তখন বলেছিলাম যে ঐ এলাকাটি নাকি আগে জনশূণ্য ছিলো, যেহেতু আমার জন্মস্থান এবং বেড়ে উঠা সিলেটে সেহেতু এই বিষয়ে আমি খুব ভালো করেই জানি যে সেই এলাকায় মানুষ খুব একটা যেতো নাকিন্তু রাগীব আলী ঐ জনশূণ্য এলাকায় মেডিকেল কলেজ বানানোর পর থেকে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চতুর্পাশ্বে প্রায় ১ লক্ষ লোকের জনবসতি গড়ে উঠেছেতারমানে ১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যদি ১ লক্ষ লোকের জনবসতি তৈরী করতে পারে, তবে ১টি ইউভার্সিটিও ১ লক্ষ লোকের জনবসতি গড়তে পারবেতাহলে দেশের ৬০০ থানা/উপজেলায় ১২ কোটি লোকের ডিসেন্ট্রলাইজেশন সহজ হবেযা আগামী ২০-৩০ বছরেও, ভবিষ্যতেও ঢাকাকে জনবহুল করতে পারবেনা১০-১২ বছরের প্ল্যান নিয়ে এগুলো করে ফেললে ঢাকা শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করাটা খুব কঠিন কিছু হবে বলে মনে হয় না


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: