7.25.2017

মুসলমানদের নিরবতায় উন্নয়নের নামে পবিত্র মসজিদ ভাঙার হিড়িক পড়লেও মন্দির গির্জা অক্ষত

আমরা সবাই জানি মসজিদের শহর ঢাকা। ঢাকার প্রতিটা অলি গলিতে অসংখ্য মসজিদ আছে। অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ ইবাদত বন্দেগী করতে এসব মসজিদে গমন করেন। অথচ বর্তমানে একটা মহল মসজিদ ভাঙ্গার বিভৎস্য ষড়যন্ত্রে নেমেছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা, বুড়িগঙ্গা বাচানোর নামে নৌ মন্ত্রনালয় থেকে ২২টি মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ, কামাল স্মরণী রোড বানাতে ৫টি মসজিদ ও ১টি মাদ্রাসা ভাঙ্গা, কামরাঙ্গীরচরে ২টি মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ, মুহম্মদপুরে নাট্যশালা বানাতে মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ, মালিবাগে সরকারি অ্যাপার্টমেন্ট বানাতে মসজিদ ভাঙ্গার নির্দেশ, হাতিরঝিলে ২টি মসজিদ ও ১টি মাদ্রাসা ভাঙ্গা, রংপুরে শাহী মসজিদ ভাঙ্গা, ফেনীর মহিপাল মসজিদ ভাঙ্গাসহ বহু মসজিদ ভাঙ্গার ন্যাকার জনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানের আরেকটা খবর বেরিয়ে এসেছে ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পে মোট ২১টি মসজিদ ভাঙ্গা হবে। এর মধ্যে ফার্মগেট বাজার রোডে অবস্থিত দুটো মসজিদের ছবি (২০১৩ সালে গুগল স্টিট ভিউ থেকে) দিলাম। একটি মসজিদের নাম সরকারী বিজ্ঞান কলেজ জামে মসজিদ এবং অন্যটির নাম নিমতলা মাজার জামে মসজিদ। নাউযুবিল্লাহ!!!

শুধু তাই নয় অলরেডি রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্পে ভাঙ্গা হয়েছে দুটো মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা, কিন্তু মন্দির তো ভাঙ্গা হয়নি উল্টো মন্দিরের জন্য বাকা করা হয়েছে রাস্তা এমনকি সিলেটে গির্জার দেওয়াল না ভাঙার নির্দেশ কোর্টের।

এদেশ কি মুসলমানদের? প্রশ্ন জাগে মনে?

ইরাকে, আফগানিস্থানে, সিরিয়ায় প্রকাশ্যে বোমা মেরে আমেরিকানরা মসজিদ ভেঙ্গেছে আর আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রকল্পের নাম করে কৌশলে মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশে ৯৮% মুসলমান এ বিষয় কেনো চুপ করে সহ্য করছে বুঝে আসছে না।

মসজিদ সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর। মসজিদ শব্দের আভিধানিক অর্থঃ সেজদা করার স্থান। মুসলমানরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে সিজদা করার জন্য যেখানে জমায়েত হন সেটাকে মসজিদ বলে। মসজিদের ফযিলত সর্ম্পকে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, হযরত রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ
« أَحَبُّ البلاد إلى الله مساجدها، وأبغض البلاد إلى الله أسواقها »

মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় স্থান হলো, মসজিদসমূহ, আর মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সর্বাধিক নিকৃষ্ট শহর হলো, বাজারসমূহ। (সহীহ মুসলিম শরীফ, কিতাবুল মাসাজেদ এবং সালাতের স্থানসমূহ। পরিচ্ছেদ: ফজরের সালাতের পর সালাতের স্থানে বসার ফযিলত এবং মসজিদের ফযিলত, হাদিস শরীফ নং ৬৭১)

خْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ جَارِيَةَ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، - هُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " حِينَ يَخْرُجُ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى مَسْجِدِهِ فَرِجْلٌ تُكْتَبُ حَسَنَةً وَرِجْلٌ تَمْحُو سَيِّئَةً "

আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি তার ঘর থেকে মসজিদের দিকে বের হয়, তখন তার এক পদক্ষেপে একটি নেকী লেখা হয়। আর এক পদক্ষেপে একটি গুনাহ মুছে যায়। (নাসাঈ শরীফ, কিতাবুল মাসাজিদ, হাদীস শরীফ নং ৭০৬)

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ بَنَى مَسْجِدًا يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ بَنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ"‏‏

হযরত আমর ইবনু আনবাসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মান করবে, যাতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করা হবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জান্নাতে তার জন্য একখানা ঘর নির্মাণ করবেন। সুবহানাল্লাহ!!! (নাসাঈ শরীফ, হাদীস শরীফ নং ৬৮৯, ইবনু মাজাহ শরীফ, হাদীস শরীফ নং ৭৩৫)

অথচ সেই মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরকে বিরান করা ভেঙ্গে ফেলার এজেন্ডা করে যাচ্ছে প্রশাসনে বসে থাকা বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার ইন্দনদানকারীদের অনুসারীরা। কতবড় ধৃষ্টতা এদের?

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ ﴿وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ أَن يُذۡكَرَ فِيهَا ٱسۡمُهُۥ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَآۚ [البقرة: ١١٤]

আর তার চেয়ে অধিক জালেম কে হতে পারে, যে মহান আল্লাহ পাক উনার মসজিদসমূহে উনারই নাম স্মরণ করা থেকে বাধা প্রদান করে এবং তা বিরান করতে চেষ্টা করে?” (সূরা আল-বাকারাহ শরীফ, আয়াত শরীফঃ ১১৪)

তাফসীরে সমরকন্দী শরীফ, খাযিন শরীফ ও বাগবীর মধ্যে وَمَنْ أَظْلَمُওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে?” এই অংশের ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে, ومن أكفرওই ব্যক্তির চেয়ে বড় কাফির আর কে?
অর্থাৎ ওই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় কাফির, যে ব্যক্তি মহান মহান আল্লাহ পাক উনার মসজিদ সমূহে উনার যিকির করতে, উনার স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে।(তাফসীরে সমরকন্দী শরীফ ১/৮৬, তাফসীরে খাযিন শরীফ ১/৭২, তাফসীরে বাগবী শরীফ ১/১৫৭)

সুতরাং যারা মসজিদ ভাঙবে, মসজিদ ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগীতা করবে এবং সমর্থন করবে, তারা প্রত্যেকেই সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির এবং চির জাহান্নামী। এদের শাস্তি সর্ম্পকে বর্ণিত আছেঃ
لَهُمْ فِي الدُّنْيا خِزْيٌ قتل وسبى وذلة بضرب الجزية وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذابٌ عَظِيمٌ (১১৪) النار المؤبدة بكفرهم وظلمهم.
অর্থ: তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়ার যমীনে লাঞ্ছনা। (অর্থাৎ) কতল (হত্যা, মৃত্যুদন্ড), বন্দিত্ব (জেল-হাজত) এবং জিযিয়া কর প্রদানের লাঞ্ছনা। আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (অর্থাৎ পরকালে) তাদের জন্য রয়েছে তাদের কুফরী ও যুলুমের কারণে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।” (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ১/১১৬)

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ [ ﴿ إِنَّمَا يَعۡمُرُ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ... ١٨ [التوبة: ١٨

একমাত্র তারাই মহান আল্লাহ পাক উনার মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে।(সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ১৮)

তাহলে এর বিপরীতে যারা মসজিদ উজাড় করছে, ভেঙ্গে ফেলছে তারা আল্লাহ পাক ও পরকালের উপর বিশ্বাসী নয়। তারা কাফির, নিকৃষ্ট কাফের।


আর যে সব এলাকায় এসব মসজিদ ভাঙ্গা হয় সেখানকার এলাকাবাসী কেন সেটা মেনে নেয়? তারা কেন ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করে না? বাংলাদেশের সকল মুসলামন সচেতন হোন, কোন এলাকায় উন্নয়নের নামে হোক বা যেভাবেই হোক মসজিদ ভাঙ্গতে এলে তা প্রতিহত করুন। চুপ করে থাকলে আল্লাহ পাকের আযব থেকে আপনি কিন্তু বাঁচতে পারবেন না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: