7.05.2017

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায়, মসজিদ ভাংচুর বন্ধ ইন্টারনেট

ফেসবুকে মহানবী রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু সালাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে এক উগ্র হিন্দু শিক্ষার্থীর আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুরিয়া। শুক্রবারের পর থেকেই এলাকাটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভাঙ্গা হয়েছে একটি মসজিদ।

আজ বুধবার সকালেও বাদুরিয়ায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে দেখা গেছে।  সকাল থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে সড়ক ও ট্রেন অবরোধ। জেলার অন্যতম সড়কপথ যশোর রোড ও টাকি রোডে বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের বাদুরিয়ার রুদ্রপুরের বাসিন্দা একাদশ শ্রেণির ছাত্র উগ্রপন্থি হিন্দু সৌভিক সরকার, মহানবী রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু সালাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে রোববার নিচের নিকৃষ্ট এই অশ্লীল ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি করে। ফেসবুকে সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বাদুরিয়াসহ গোটা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা। সোমবার সকালে উগ্রপন্থি হিন্দু সৌভিক সরকারের বাড়িঘর ভাংচুর করে উত্তেজিত জনতা। আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় হিন্দুদের সাপোর্ট দেওয়া পুলিশের একাধিক গাড়ি।অবশেষে সেই উগ্রপন্থি হিন্দু সৌভিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে নেয়া উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ। কিন্তু এর পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় উগ্রপন্থী হিন্দুদের কারনে কারন তারা উগ্রপন্থি হিন্দু সৌভিক সরকারকে গ্রেফতার মেনে নিতে পারেনি।


উগ্রপন্থি হিন্দুদের উগ্রতার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বাদুরিয়া থেকে মুসলমানদের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়তে থাকে বসিরহাট, দেগঙ্গা, স্বরূপনগর, হাড়োয়া, আমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জায়গায়। বাদুরিয়ার মলয়পুরে পুলিশ কয়েকজন মুসলিম প্রতিবাদকারীকে আটক করতেই জনতা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা আটককৃতদের পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে উত্তেজিত প্রতিবাদকারীদের তোপের মুখে পড়েন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।


বাদুরিয়ার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাস্তায় নামানো হয় বিএসএফ সদস্যদের। বারাসত থেকে বসিরহাটে যাতায়াতের টাকি রোড এবং বাদুরিয়ার রাস্তায় রাস্তায় টহলে নামে বিএসএফ সদস্যরা। বন্ধ করে দেওয়া হয় বসিরহাট, বনগাঁ এবং বারাসত মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইন্টারনেট ও কেবল পরিষেবা।

স্থানীয় লোকজন জানান, মঙ্গলবার রাতেও বসিরহাটের বিভিন্ন জায়গায় উগ্রপন্থি হিন্দু সৌভিক সরকারের সমর্থনকারিদের বোমাবাজি চলেছে। আতঙ্কে ঘর ছেড়েছেন বহু মুসলমান।

মঙ্গলবার রাত থেকেই বসিরহাটের হবিবপুর, ময়লাখোলা ও মৈত্রপাড়ার বাসিন্দারা ঘর ছাড়তে শুরু করেন। তবে বুধবার সকালেও উত্তেজনা কমেনি।

উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা এবং বনগাঁর পেট্রাপোলে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশের
মধ্যে যাতায়াতের সীমান্ত। যশোর রোড ও টাকি রোড দিয়ে এবং শিয়ালদহ-হাসনাবাদ ও শিয়ালদহ বনগাঁ শাখার ট্রেনে করেই মূলত যাতায়াত করেন যাত্রীরা। বুধবার সকালে ট্রেন ও সড়কপথে দফায় দফায় অবরোধের জেরে এসব সীমান্তে এসে বহু বাংলাদেশি ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যা ও আতঙ্কে পড়েছেন। তবে বাদুরিয়ার ঘটনায় আর নতুন করে হিংসা ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরো দেখতে পারেনঃ ইত্তেফাকে এবং এনটিভি বাংলাতে


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: