8.06.2017

জাপান কি আসলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হওয়ার নৈতিক অধিকার রাখে?

বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ সহ সামরিক ঘাটি স্থাপন ইত্যাদি ইস্যুতে মরিয়া আমেরিকা+ভারততার বিপরীতে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য চীন এখানে ভারত+আমেরিকার ঘাটি হতে দিতে নারাজতার প্রেক্ষাপটে চীনা বিনিয়োগের বিপরীতে আমেরিকা বাংলাদেশ সরকারকে ঘুষ দেওয়ার জন্য জাপানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোজেক্টের নামে বড় অঙ্কের টাকা সুদে ঋণ দিচ্ছেযার জন্য সুদাসলে আপনাকে আমাকেই পকেটের পয়সা দিয়ে ট্যাক্স দিয়ে ঋণ শোধ করতে হবেদেশের মানুষ আমেরিকান+ভারতীয় দাসেত্বর জালে হবে আরো বেশি শৃঙ্খলিত

অথচ যেই অপরাধে আজ আমরা পাকিস্তানীদের বর্জন করি ঠিক সেই একই অপরাধে জাপান নিজেও অপরাধী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানীরা চায়নীজ, কোরিয়ান মেয়েদের খুবলে খুবলে খেয়েছেচট্টগ্রাম পর্যন্ত চালিয়েছে অবর্ণনীয় গণহত্যাকাজেই বাংলাদেশের মানুষ এই ক্ষমা না চাওয়া খুনীদের কিভাবে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে গ্রহন করতে পারে?

নানচিং গণহত্যা, যা ইতিহাসে নানচিং ধর্ষণ নামেও পরিচিতদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৩৭৩৮ সালে রাজকীয় জাপানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত একটি গণহত্যাএই গণহত্যা পরিচালনা করা হয়েছিল তৎকালীন চীনের রাজধানী নানচিং (১৯১২৪৯) এর জনগণের উপর৬ সপ্তাহব্যাপী এই গণহত্যা শুরু হয় ১৯৩৭ সালের ১৩ ডিসেম্বরএই সময়ে জাপানের রাজকীয় সেনাবাহিনী ৪০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ নিরীহ চীনা জনগনকে হত্যা করে এবং ব্যাপক লুটপাট ও ধর্ষণ করে।

মার্কো পোলো সেতু ঘটনার পর চীনজাপান যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং ১৯৩৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর বহু দিন অবরোধের পর প্রায় দেড় লক্ষ জাপানি সৈন্য চীনা শহর নানচিং দখল করে নেয়এরপর প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটিতে এক অবিশ্বাস্য মাত্রার গণহত্যা সংঘটিত হয়জাপানি সৈন্যরা কখনও পরিকল্পিতভাবে, কখনও কেবল আনন্দের উদ্দেশ্যে অনির্দিষ্টভাবে শহরটির চীনা লোকদেরকে হত্যা ও ধর্ষণ করা শুরু করেসম্ভবত ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ) চীনাকে হত্যা করা হয়, আর সেই সাথে ধর্ষিত হন নানচিং-এর হাজার হাজার নারী

গণহত্যার এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরও জাপানি সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ও সম্রাট হিরোহিতোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননিযুদ্ধ শেষ হবার পর এই গণহত্যার সাথে জড়িত বেশির ভাগ সামরিক নেতার কোন বিচার বা শাস্তি হয়নিদূর প্রাচ্য আন্তর্জাতিক সেনা অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে এই যুদ্ধাপরাধের জন্য সাজা দেয়া হলেও মূল পরিকল্পনাকরী জাপানি যুবরাজ আসাকাকে শাস্তি দেয়া যায়নিতাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের পূর্বে এ সম্পর্কিত সকল প্রমাণাদি ধ্বংস করে ফেলা হয়১৯৪৬ সালে টোকিওতে গঠিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভাষ্য মতে এই গণহত্যায় ২,০০,০০০ এর অধিক চীনা জনগণকে হত্যা করা হয়১৯৪৭ সালে চীনে গঠিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভাষ্য মতে ৩,০০,০০০ এর অধিক মানুষকে হত্যা করা হয়

জাপান সরকার ও সে সময়কার যে সকল সেনাসদস্য নানচিং অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের অনেকেই স্বীকার করেছেন যে সেখানে এই ধরনের বর্বর গণহত্যাসহ ধর্ষণ ও লুটপাটের মত যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছিল

তৎকালীন চীনের রাজধানী নানচিং দখলের পর এই হত্যাকাণ্ড মাত্র ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিলযদিও জাপানের সেনাবাহিনীর বর্বরতা এরপরও চলতে থাকেসাংহাই থেকে নানচিং অভিযানের সময়ে জাপানি বাহিনী ইতিহাসের ভয়াবহতম নৃসংশতার নজির স্থাপন করেসেই সময়ের এক জাপানি সাংবাদিকের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, দশম বাহিনীকে এই মর্মে মৌন সম্মতি দেয়া হয় যে, তারা যত দ্রুত নানচিং পৌছতে পারবে তত বেশি লুট ও নারী ধর্ষণের সুযোগ পাবে

জাপানি বাহিনী নানচিং দখল করার পর সেখানকার সব স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়পথে সকল ব্যক্তিকে বেয়োনেট অথবা বিশেষ সামরিক তরবারি দিয়ে হত্যা করে

এসময় দুইজন জাপানি সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে সংগঠিত নরহত্যার প্রতিযোগিতাটি তৎকালীন জাপানি সংবাদপত্রে ফলাও করে প্রচারিত হতপ্রতিযোগিতাটি ছিল, শুধুমাত্র একটি তরবারি দিয়ে নরহত্যার সংখ্যা ১০০ জনে উন্নীত করা

বহু সংখ্যক চীনা বেসামরিক ব্যক্তিককে জীবন্ত কবর দেয় হয়ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশুদের উপরে ছুঁড়ে দিয়ে তরবারি দিয়ে বিদ্ধ করার ঘটনাও ঘটে

=========================
জাপানীদের ধর্ষণের বিভৎস প্রক্রিয়া
=========================
আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভাষ্য অনুযায়ী, জাপানি সৈন্যরা নানচিং-এ ২০,০০০ জন অল্পবয়সী ও বৃদ্ধা নারীকে ধর্ষণ করেএই গণধর্ষণকাণ্ড ঘটানো হয় অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথেসৈনিকরা প্রতিটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নারী ও মেয়ে শিশুদেরকে ধরে এনে ধর্ষণ করেএসকল নারীদের অনেককে ধর্ষণের পরপরই হত্যা করা হতঅনেককে বিভিন্নভাবে তাদের যৌনাঙ্গ বিকৃত করার পর হত্যা করা হতযৌনাঙ্গে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে অথবা পায়ুপথে বাঁশ প্রয়োগ করে হত্যা করা হতমেয়ে শিশুদের যোনিপথ কেটে বড় করে তারপর ধর্ষণ করা হত।

১৩ ডিসেম্বর প্রায় ৩০ জন সৈন্য নানচিং-এর দক্ষিণ-পূর্ব অংশে #৫ হসিং লু কুতে একটি চীনা বাড়িতে আসে এবং ভিতরে প্রবেশ করার সুযোগ দাবি করেহা নামের একজন মোহাম্মেদান দরজা খোলেনতারা তৎক্ষণাৎ একটি রিভলভার দিয়ে তাঁকে হত্যা করেতাঁর মৃত্যুর পর মিসেস হা তাদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসেন এবং আর কাউকে হত্যা না করার জন্য অনুরোধ করেনমিসেস হা তাদের কাছে জানতে চান যে, কেন তারা তাঁর স্বামীকে মেরেছেতারা তাঁকে গুলি করেমিসেস হসিয়াকে গেস্ট হলের একটি টেবিলের নিচ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করা হয় যেখানে তিনি তাঁর ১ বছরের বাচ্চাকে নিয়ে লুকিয়ে ছিলেনতাঁকে নগ্ন করার পর এবং এক বা একাধিক সৈন্য তাঁকে ধর্ষণ করার পরে তাঁর বুকে বেয়োনেট দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তাঁর যোনির মধ্যে একটি বোতল ঢুকিয়ে দেয়া হয়শিশুটিকে বেয়োনেট দিয়ে হত্যা করা হয়এরপর কিছু সৈন্য পরের কক্ষে যায়, যেখানে মিসেস হসিয়ার বয়স্ক পিতা-মাতা এবং ১৬ ও ১৪ বছর বয়সী দুই মেয়ে ছিলেনসৈন্যরা তাদেরকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে তাদের নানি তাদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করেনসৈন্যরা একটি রিভলভার দিয়ে তাঁকে হত্যা করেতাঁর স্বামী স্ত্রী দেহ আঁকড়ে ধরেন এবং তাঁকেও হত্যা করা হয়এরপর মেয়ে দুইটিকে নগ্ন করা হয়; বড়টিকে ২৩ জন এবং ছোটটিকে ৩ জন ধর্ষণ করেবড় মেয়েটিকে এরপর বেয়োনেট দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তার যোনিতে একটি বেত প্রবেশ করানো হয়ছোট মেয়েটিকেও বেয়োনেটবিদ্ধ করা হয় কিন্তু তার মা ও বোনের সঙ্গে যে ভয়ানক আচরণ করা হয়েছে তা থেকে তাকে রেহাই দেয়া হয়এরপর সৈন্যরা ঐ কক্ষে থাকা ৭৮ বছর বয়সী আরেক বোনকে বেয়োনেটবিদ্ধ করেবাড়িটির শেষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় হা-এর যথাক্রমে ৪ ও ২ বছর বয়সী দুই ছেলেবড়টিকে বেয়োনেটবিদ্ধ করা হয় এবং ছোটটির মাথা তরবারি দিয়ে কেটে ফেলা হয়

কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাপানি সৈন্যরা পরিবারের সদস্যদের একজনকে অপর জনের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতে বাধ্য করেতারা ছেলেদেরকে মায়েদের ধর্ষণ করতে বাধ্য করে এবং বাবাদেরকে মেয়েদের ধর্ষণ করতে বাধ্য করে।

১৯৩৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রায় ৩০ জন জাপানি সৈন্য নম্বর ফাইভ জিনলুকোউ-এর একটি বাড়ির ১১ জন চীনা সদস্যের ৯ জনকে হত্যা করেএক নাররী ও তাঁর দুই কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়, এবং জাপানি সৈন্যরা তাঁর যোনিতে একটি বোতল ও একটা বেত ঢুকিয়ে দেয়একটি ৮ বছর বয়সী মেয়েকে ছুরি মারা হয়, কিন্তু সে ও তাঁর ছোট বোন বেঁচে যায়

এই বিভৎস মাদারটোষ্ট জাপানীরা এখন পর্যন্ত তাদের গণহত্যার জন্য কারুর কাছে ক্ষমা চায় নি

দেখতে পারেনঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Nanking_(2007_film)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: