8.08.2017

যে কারনে সূর্য-চন্দ্র যখন গ্রহনের সময় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে যেতো

অধিকাংশ সময়েই আমাদের দেশের মানুষেরা অত্যন্ত আনন্দ আর কৌতুহল নিয়ে সূর্যগ্রহন এবং চন্দ্রগ্রহন প্রত্যক্ষ করে থাকে। সূর্য চন্দ্র যখন গ্রহনের সময় হয় তখন আমাদের প্রিয় নবী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে যেতো। তখন তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন। কান্নাকাটি করতেন। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

আরবীতে সূর্যগ্রহণকে 'কুসূফ' বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে 'নামাজে কুসূফ' বলা হয়। দশম হিজরীতে যখন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে সূর্যগ্রহণ হয়, রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘোষণা দিয়ে লোকদেরকে নামাজের জন্য সমবেত করেছিলেন। তারপর সম্ভবত উনার জীবনের সর্বাদিক দীর্ঘ নামাজের জামাতের ইমামতি করেছিলেন। সেই নামাজের কিয়াম, রুকু, সিজদাহ মোটকথা, প্রত্যেকটি রুকন সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিল।

অবিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা প্রথমে যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল মুবারক সম্পর্কে জানতে পারল, তখন তারা এটা নিয়ে ব্যঙ্গ করল (নাউযুবিল্লাহ)। তারা বলল, সময় এটা করার কি যৌক্তিকতা আছে? সূর্যগ্রহণের সময় চন্দ্রটি পৃথিবী সূর্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্যগ্রহণ হয়। ব্যাস এতটুকুই! এখানে কান্না কাটি করার কি আছে? মজার বিষয় হল, বিংশ শতাব্দীর গোড়ার যখন বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করল, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই আমলের তাৎপর্য বেরিয়ে আসল।

আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল বৃহস্পতি গ্রহ দু'টির কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টিরয়েড (Asteroid), মিটিওরিট (Meteorite) উল্কাপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলোকে এককথায় গ্রহানুপুঞ্জ বলা হয়। গ্রহানুপুঞ্জের এই বেল্ট (Belt) আবিষ্কৃত হয় ১৮০১ সালে। এক একটা ঝুলন্ত পাথরের ব্যাস ১২০ মাইল থেকে ৪৫০ মাইল।

বিজ্ঞানীরা আজ পাথরের এই ঝুলন্ত বেল্ট নিয়ে শঙ্কিত। কখন জানি বেল্ট থেকে কোন পাথর নিক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, যা পৃথিবীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয় কিনা?

গ্রহানুপুঞ্জের পাথর খন্ডগুলোর মাঝে সংঘর্ষের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরখন্ড প্রতিনিয়তই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসে জ্বলে ভস্ম হয়ে যায়।

কিন্তু বৃহদাকার পাথখন্ডগুলো যদি পৃথিবীতে আঘাত করে তাহলে কি হবে? প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এমনই একটি পাথর আঘাত হেনেছিল। এতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর তাবৎ উদ্ভিদ লতা গুল্ম সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। উত্তর আরিজন (Arizon) যে উল্কাপিন্ড এসে ড়েছিল তার কারণে পৃথিবীতে যে গর্ত হয়েছিল তার গভীরতা ৬০০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৮০০ ফুট। বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় ঝুলন্ত পাথরগুলো পৃথিবীতে ছুটে এসে আঘাত হানার আশংকা বেশী থাকে। কারণ হচ্ছে, এসময় সূর্য, চন্দ্র পৃথিবী একই সমান্তরালে, একই অক্ষ বরাবর থাকে।

ফলে তিনটির মধ্যাকর্ষণ শক্তি একত্রিত হয়ে ত্রিশক্তিতে রুপান্ত্রিত হয়। এমনি মুহূর্তে যদি কোন পাথর বেল্ট থেকে নিক্ষিপ্ত হয় তখন এই ত্রিশক্তির আকর্ষণের ফলে সেই পাথর প্রচন্ড শক্তিতে, প্রবল বেগে পৃথিবীর দিকে আসবে, প্রচন্ড শক্তি নিয়ে আসা পাথরটিকে প্রতিহত করা তখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাড়াবে। ফলে পৃথিবীর একমাত্র পরিণতি হবে ধ্বংস।

একজন বিবেকবান মানুষ যদি মহাশূন্যের তত্ব জানে, তাহলে তার শঙ্কিত হবারই কথা। এই দৃষূকোণ থেকে সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণের সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেজদাবত হওয়া এবং সৃষ্টিকূলের জন্য পানাহ চাওয়ার মধ্যে আমরা একটি নিখুঁত বাস্তবতার সম্পর্ক খুঁজে পাই। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমলটি ছিল যুক্তিসঙ্গত একান্ত বিজ্ঞানসম্মত।

এবার গ্রহন এর সময় পবিত্র দ্বীন ইসলাম কি করতে বলছেন আসুন জেনে নেই?

শিহাব ইবন আব্বাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবূ মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেনঃ কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় নাতবে তা মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শনতাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহন বা চন্দ্রগ্রহন হতে দেখবে, তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাত আদায় করবে

দলিল সুত্রঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত সহীহ বুখারী শরীফ, অধ্যায় ১৬ সূর্যগ্রহন, হাদীস শরীফ নং ৯৮৪

অন্য এক বর্ণনায় নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেনঃ চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগেনা বরং এদুটো মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নিদর্শন, যা দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার বান্দাদেরকে সতর্ক করেনঅতএব তোমরা যখন গ্রহণ লাগতে দেখো, তখন মহান আল্লাহ পাক উনার জিকিরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত না হয়ে যায়

দলিল সুত্রঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদীস শরীফ নং ১৯৭২

এতএব যখনই #চন্দ্রগ্রহন বা সূর্যগ্রহন হবে তখনই দুই রাকাত সলাত পড়বেন যা সুন্নতে রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতবে কোন প্রকার অশুভ বা কু-লক্ষন মনে করা বা অন্য কিছু করা কুফুরীতাই সাবধানসম্মানিত পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ মুবারক অনুযায়ী চন্দ্র গ্রহনের কোন প্রভাব গর্ভবতী মা, বা তাদের গর্ভস্থ সন্তানের উপর পড়ে নাগর্ভবতী মা কোন কিছু কাটলে, ছিঁড়লে বাচ্চা ঠোঁট কাটা জন্মাবে, কোন কিছু ভাঙলে, বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে এধরনের যত কথা প্রচলিত আছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা, যার সাথে সম্মনিত পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ মুবারক উনাদের কোন সম্পর্ক নেইচন্দ্র, সূর্য বা অন্য কোন সৃষ্ট বস্তু অদৃশ্য ভাবে কারও উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে এধরনের বিশ্বাস রাখা বড় শিরকআর আমাদের উচিত যা কিছু সম্মনিত পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ মুবারকে রয়েছে সে সম্পর্কে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করামহান আল্লাহ পাক তিনি যেনো আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শনকারি মুর্শিদের সহবত এখতিয়ারের তৌফিক দেন যাতেকরে আমরা রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেওয়া শিক্ষাকে সঠিকভাবে রপ্ত করতে পারিআমীন সুম্মা আমিন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: