11.15.2017

আপনি কি জানেন পবিত্র ‘মুহম্মদ’ নামটি সৃষ্টির পূর্ব থেকে রাসূলে পাকের জন্য বরাদ্ধ ছিলো

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের ৭ম দিন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি আক্বীক্বা মুবারকের অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম সমস্ত কুরাইশগণকে এই সুমহান আক্বীক্বা মুবারকে আসার দাওয়াত দিলেন। এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক রাখার ফিকির করলেন হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

যখন তিনি মুহম্মদ নাম রাখলেন তখন কুরাইশগণ বললেন, হে আবুল হারিস হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম! আপনি এ নাম মুবারক কিভাবে রাখার ফিকির করেছেন? যে নাম মুবারক আপনার পূর্ব পুরুষ কিংবা আপনার সম্প্রদায়ের কেউ কোন দিন রাখেননি? সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি আমার সম্মানিত পৌত্র উনার এ নাম মুবারক রাখার ফিকির করেছি এবং রেখেছি এজন্য যে, যাতে মহান আল্লাহ পাক উনার সমস্ত সৃষ্টি উনার ছানা-ছিফত ও প্রশংসা করে। সুবহানাল্লাহ! কিতাব সূত্রঃ (ফতহুল বারী, সীরাতুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের পূর্বে একটি মুবারক স্বপ্ন দেখেন; যা উনার এ নাম মুবারক রাখার অন্যতম একটি কারণ ছিল। তিনি দেখেন যে, উনার পিঠ মুবারক থেকে একটি শিকল বের হয়েছে যার একটি মাথা আসমানে, একটি মাথা যমীনে, একটি মাথা পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত এবং আরেকটি মাথা পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই শিকলটি একটি বৃক্ষে পরিণত হলো। যার প্রতিটি পাতা সূর্যের আলোর চেয়ে সত্তরগুণ বেশি আলোকোদ্ভাসিত ছিল। পূর্ব ও পশ্চিম তথা সমস্ত মানুষ ওই বৃক্ষের ডালের সাথে জড়িয়ে ছিল। কুরাইশদের কিছু লোক তারা ডাল আঁকড়িয়ে ধরেছিলেন আর কুরাইশদের কিছু লোকজন ওই বৃক্ষটি কাটার ইচ্ছা করছিল। তারা যখন এ উদ্দেশ্যে বৃক্ষের নিকটবর্তী হলো, তখন খুবই সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী এক যুবক এসে তাদের সরিয়ে দিচ্ছেলেন।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা কারকগণ এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, আপনার বংশ মুবারক-এ এমন একজন সুমহান রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগমন করবেন, পূর্বপান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত তথা সমস্ত জিন-ইনসান উনার অনুসরণ করবে এবং আসমান-যমীন তথা সমস্ত মাখলুক্ব উনার ছানা-ছিফত করবে। এ কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাখেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাব সূত্রঃ (মাদারিজুন নুবুওওয়াত, রউযুল উনূফ, যুরকানী, শরহে মুয়াত্তা ও সীরাতুল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

পাশাপাশি সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক রাখার ব্যাপারে স্বপ্ন মুবারক-এ বলা হয়েছিল যে, আপনি গোটা সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যিনি উত্তম চরিত্র মুবারক-এর অধিকারী, যিনি সৃষ্টির মূল, সকলের সাইয়্যিদ উনাকে রেহেম শরীফ-এ ধারণ করেছেন। কাজেই উনার নাম মুবারক রাখবেন হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

হাদীছ শরীফ-এ এসেছেঃ- অতঃপর বিলাদত শরীফ-এর সপ্তম দিনে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি আক্বীক্বার পশু যবেহ করলেন এবং কুরাইশদেরকে দাওয়াত দিলেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে সকলেই জিজ্ঞাসা করলো, হে হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম! এই সন্তান উনার নাম মুবারক কি রেখেছেন? তিনি বললেন, উনার নাম মুবারক রেখেছি হযরত মুহম্মদছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারা বললো, পরিবারের সাথে মিলিয়ে নাম না রাখার কারণ কি? তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি চাই যে, আসমানে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং যমীনে জিন-ইহসান সকলে উনার ছানা-ছিফত ও প্রশংসা করুক।সুবহানাল্লাহ!

কিতাব সূত্রঃ (খাছায়িছুল কুবরা ১ম জিলদ ৮৫ পৃষ্ঠা, বাইহাক্বী, ইবনে আসাকীর)

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা সৃষ্টির পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল। পবিত্র কুরআন শরীফ-এর অনেক স্থানেই উনার নাম মুবারক উল্লেখ রয়েছে।

যেমন সূরা আলে ইমরান’-এর ১৪৪ নং আয়াত শরীফে বলা হয়েছেঃ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রসূল ব্যতীত কেউ নন।
আর সূরা আহযাব শরীফের ৪০ নং আয়াত শরীফেঃ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের (প্রাপ্ত বয়স্ক) কোন পুরুষের পিতা নন। বরং তিনি হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল এবং শেষ নবী।

এমনকি সূরা মুহম্মদছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ২ নং আয়াত শরীফেঃ ঈমানদাররা তাদের রব তাআলা উনার তরফ থেকে যে সত্য (দ্বীন) হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি নাযিল হয়েছে তা বিশ্বাস করে।

আবার সূরা ফাতহ শরীফের ২৯ নং আয়াত শরীফেও বলা হয়েছেঃ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল।

কাজেই, হযরত মুহম্মদছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাম মুবারক সৃষ্টির পূর্ব থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক হিসেবে মনোনীত ছিল।

স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের পূর্বে এই অনন্য নাম মুবারক-এর সন্ধান কেউ খুঁজে পায়নি। আহলে কিতাবধারীরা যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সম্পর্কে তাদের আসমানী কিতাব থেকে অবগত হলো তখন তাদের মধ্যে কোন কোন গোত্রের কেউ কেউ তাদের সদ্যজাত শিশুর নাম মুহম্মদরাখতে শুরু করলো। তাদের আশা ছিল যে, তাদের মুহম্মদনামের সন্তানটি যেন হয় আখিরী নবী বা শেষ নবী। কিতাব সূত্রঃ (মাদারিজুন নুবুওওয়াত)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: