11.14.2017

আজ মহিমান্বিত ‘আখেরি চাহার শোম্বাহ শরীফ’ সফর মাসের এই শেষ বুধবারের ফজিলত কি জানেন?

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। আর অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি।

ইসলামী বছরের দ্বিতীয় মাস সফর। দুনিয়াবি হায়াত মুবারক-এর শেষ বছরে, ১১ হিজরী সালে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুহররম মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অসুস্থতাকে গ্রহণ করেন। অতঃপর আবার সুস্থতাকে গ্রহণ করেন। এরপর আবার সফর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অসুস্থতাকে গ্রহণ করেন। অতঃপর সফর মাসের শেষ বুধবার সকালে তিনি সুস্থতা গ্রহণ করেন। এ খবর হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। উনারা মুহব্বতের ফল্গুধারায় উৎফুল্ল হয়ে উঠেন এবং মুক্ত হস্তে হাদিয়া করে শুকরিয়া আদায় করেন। ইতিহাসে এ ঘটনাই আখিরী চাহার শোম্বাহহিসেবে অভিহিত। আজ সেই মহিমান্বিত আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ

আখিরশব্দটি ভাষাগত দিক থেকে আরবী। যদিও তা ফার্সী ও উর্দুতে ব্যবহার হয়। এর অর্থ- শেষ। আর চাহার শোম্বাহহচ্ছে ফার্সী শব্দ। এর অর্থ- বুধবার। আরবী ও ফার্সী শব্দের সংমিশ্রণে আখিরী চাহার শোম্বাহবলতে সফর মাসের শেষ বুধবারকে বুঝানো হয়ে থাকে। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ খুশির দিন।

মূলত: আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ নানাদিক থেকে ফযীলতযুক্ত ও তাৎপর্যমন্ডীত। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে যেমন একেক সময় এক হাল প্রকাশ করেন। তদ্রপ উনার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও একেক সময় একেক মুবারক হাল প্রকাশ করেছেন এবং করছেন।

প্রসঙ্গতঃ অনেকে বলে থাকেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ তায়াল্লুকের অধিকারী তথা উনার সাথে নিছবত এবং বিশেষত: উনার কাছ থেকে প্রাপ্ত ইলমে লাদুন্নীর ইমাম, মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ করেন, “কোন অসুখের ক্ষমতা নেই যে তা, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আক্রান্ত করে। (নাঊযুবিল্লাহ) বরং এটি মহান আল্লাহ পাক উনার ওহী যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইখতিয়ার যে তিনি অসুখকে গ্রহণ করেছেন, আবার বিদায় দিয়েছেন, আবার গ্রহণ করেছেন।” (সুবহানাল্লাহ!)

প্রসঙ্গতঃ হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে- হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের রসূল হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাযির হয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যতদিন ইচ্ছা পৃথিবীতে থাকুন।” (সুবহানাল্লাহ!)

উল্লেখ্য আখিরী চাহার শোম্বাহ উপলক্ষে বিশেষ যে বিষয়টি প্রতিভাত হয়, তা হল, উম্মু আবিহা, হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কত মুহব্বত করতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে কত মুহব্বত করতেন।

আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ-এর বর্ণনায় জানা যায়, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল জান্নাহ মা হযরত ফাতিমা তুজ যাহরা আলাইহাস সালামকে খবর দিন, তিনি যেন উনার আওলাদগণকে সঙ্গে নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার নিকট চলে আসেন।

সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল জান্নাহ মা হযরত ফাতিমা তুজ যাহরা আলাইহাস উনার আওলাদগণকে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে হাজির হলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত মা ফাতিমা আলাইহাস সালামকে নিজের গলা মুবারক-এর সাথে জড়িয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিলেন, নাতিগণ উনাদের কপাল মুবারক-এ চুমো খেলেন এবং উনাদেরকে সাথে নিয়ে আহারে বসলেন। কয়েক লোকমা খাবার গ্রহণ করার পর অন্যান্য উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারাও খিদমতে এসে হাজির হলেন। অতঃপর পর্যায়ক্রমে বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারাও বাইরে এসে হাজির হন। কিছুক্ষণ পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাইরে এসে উনাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ! আমার বিদায়ের পর আপনাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এ কথা শুনে হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা ব্যাকুলচিত্তে কান্না শুরু করলেন। উনাদের এ অবস্থা দেখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্ত¡না দান করলেন। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ-এ ওয়াক্তিয়া নামাযের ইমামতি করলেন।

প্রসঙ্গত আরো উল্লেখ্য যে আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ-এর ঘটনায় আরো প্রতিভাত হয়ে যে হযরত ছাহাবা-ই-ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কত মুহব্বত করতেন। উনাার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিটি বিষয়কে প্রাণের অধিক মূল্যায়ন করতেন। উনার খিদমতে অকাতরে হাদিয়া করতেন।

আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর সুস্থ দেহ মুবারক-এ মসজিদে নববী শরীফ-এ আগমন করেন এবং নামাযের ইমামতি করেন। এই অপার আনন্দে হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে অনেক কিছু হাদিয়া করেন। কোনো কোনো বর্ণনায় জানা যায় যে, খুশিতে খুশী হয়ে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি সাত হাজার দীনার, হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি পাঁচ হাজার দীনার, হযরত উসমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দশ হাজার দীনার, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি তিন হাজার দীনার, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হাদিয়া করতঃ মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত ও সন্তুষ্টি লাভ করেন। (সুবহানাল্লাহ!)

মহান আল্লাহ পাক উনার মারিফত-মুহব্বতে দগ্ধিভূত ব্যক্তি তথা মুসলমানগণ উনারা সে দিনটিকে মারিফত-মুহব্বত লাভের উসীলা সাব্যস্ত করে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের অনুসরণে যুগ যুগ ধরে আখিরী চাহার শোম্বাহহিসেবে পালন করে আসছেন। কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যারা হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা তওবা শরীফঃ আয়াত শরীফ-১০০) আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “তোমাদের জন্য আমার সুন্নত এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তথা হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের সুন্নত অবশ্য পালনীয়।

উল্লেখ্য, আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ-এর হক্ব আদায়ে আমাদের উচিত বর্তমান যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম উনার প্রতিটি বিষয়কে সেরূপ মূল্যায়ন করা এবং উনার খিদমতে অকাতরে হাদিয়া করা। পাশাপাশি ৯৭ ভাগ মুসলমানের এদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশের সরকারেরও উচিত যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা করে দিবসটি পালন করা।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: