11.16.2017

ছবিই বলে দিচ্ছে, রংপুরের ঘটনা ঐ একই চক্রের অংশ বিশেষ যা সরকার পতনের কার্যক্রমে জড়িত

মোসাদ এজেন্ট শিপান কুমার বসু বলেছিলো, “নভেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো হবে। এবং পতনের পর শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো হবে। রংপুরের ঘটনা ঐ বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নে হিন্দুরা সাজিয়েছে, এতে আর কোন সন্দেহ থাকার কথা না।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, সরকার ও মিডিয়া হিন্দুত্ববাদীদের স্পষ্ট ষড়যন্ত্র দেখতে না পেয়ে মুসলমানদের কথিত ষড়যন্ত্র (!) দেখতে পেয়েছে। এবং সেই কথিত ষড়যন্ত্রের কারণে মুসলমানদের উপর গুলি চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা এবং ৫০ জনকে আহত করেছে। গ্রেফতার করেছে ৩শমুসলমানকে।

হিন্দুদের ষড়যন্ত্রকে যখন বার বার মুসলমান ষড়যন্ত্র হিসেবে চালানো হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের মুসলমানরা কেন মুখে কুলুপ এটে বসে আছে, তা আমার বুঝে আসছে না।

তবে টিটু রায়ের ইসলাম ধর্মের অবমাননার পরে, টিটু রায়ের মা অনিলা রানী ও তার ভাই বিপুল রায়ের কৌশলী বক্তব্য শুনে, প্রথম থেকেই আমার মনে সন্দেহ তৈরী হয়েছে যে- টিটু রায়ের পরিবার কোন সাধারণ পরিবার নয়। দেখতে হাবাগোবা, দরিদ্র বা গ্রামের অশিক্ষিত মনে হলেও তারা কারো হয়ে কাজ করছে।

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, টিটু রায়ের মা অনিলা রানী এবং ভাই বিপুল রায় Research and Empowerment Organization(REO) নামক একটি এনজিওর ব্যানারে দাড়িয়ে আছে। রিও নামক এনজিওটি বাংলাদেশ ভিত্তিক হলেও এর সাথে যুক্ত আছে কানাডার BMRA এবং নেদারল্যান্ডের GHRD নামক দুইটি এনজিওর সাথে। এদের কাজ হচ্ছে, বাংলাদেশের উগ্রহিন্দুদের একত্রিত করা ও ট্রেনিং দেয়া। এছাড়া এদের সাথে আরো একটি আমেরিকা ভিত্তিক আরেকটি এনজিও যার নাম United Hindu Society USA Inc. – UHS

আমার প্রথম থেকেই মনে হয়েছে- টিটু রায় ও তার পরিবারের আচরণ যথেষ্ট সন্দেহজনক এবং তারা প্রত্যেকটি স্টেপ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কারো পরামর্শ মতে এবং কারো স্বার্থ সিদ্ধির জন্য করেছে। আমি অনেক আগেই আপনাদের বলেছি, যে আমেরিকা চাচ্ছে এ অঞ্চলে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাতে, এতে এ অঞ্চলে ঢুকতে তাদের সুবিধা হবে। আমি এও বলেছিলাম- বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ও উপজাতিরা নিরাপদে নেইএই জিকির তুলে তারা চট্টগ্রাম বিভাগকে হিন্দু ও উপজাতিদের জন্য বাংলাদেশ থেকে পৃথক করার চেষ্টা করবে। সংখ্যালঘুরা নিরাপদে নেই, এই শ্লোগান তৈরী করতে তারাই ধর্ম অবমনানা করবে, মুসলমানদের উস্কানি দেবে এবং তারা নিজেরাই ঘরে আগুন দিয়ে কান্নাকাটি করবে। এবং বিশ্বকে দেখাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদে নেই।

যাই হোক, কথা বলছিলাম- Research and Empowerment Organizaton(REO) নামক এনজিও নিয়ে। এনজিওটি মূলত কাজ করে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে। এনজিওটির বাংলাদেশে কার্যক্রমের নাম- নেটওয়ার্কিং দ্য ইয়োথ। ঐ এনজিওর একটি কিন্দ্রীয় সভার চিত্র দেখুন এ লিঙ্কে (http://bit.ly/2zHFgXe, আর্কাইভ দেখুন যদি মুল পোষ্ট ডিলিট করে দেয়- http://archive.is/OwieC)

এ সভায় তিনটি লোককে খেয়াল করুন-

১) প্রফেসর জন রিচার্ড (কানাডার সিমন ফ্রাসের ইউনিভার্সিটির প্রফেসর)
২) নিতায়ানন্দ স্বামী মহারাজ (ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইসকন প্রচারক)
৩) রমেশ চন্দ্র ঘোষ ( মালিক শ্যামলী গ্রুপ)

সভায় দেখতে পাচ্ছেন প্রফেসর জন রিচার্ডকে বক্তব্য দিতে। এই জন রিচার্ড কিন্তু সাধারণ কোন ব্যক্তি না। উইকিতে দেখতে পারেন- সে মূলত রাজনৈতিক মাস্টারমাইন্ড। তবে বাংলাদেশে তার আসার মূল মাধ্যমে হতে পারে সে National Democratic Institute (NDI) নামক মার্কিন বেইজ সংগঠনের সাথে জড়িত। এ সংগঠনটি মূলত কাজ করে বাংলাদেশ, কলোম্বিয়া ও নেপালে রাজনৈতিক (পটপরিবর্তনে) ইস্যু ।
উল্লেখ্য- National Democratic Institute (NDI) নামক মার্কিন বেইজ সংগঠনটিকে খোদ মার্কিন সরকারই ফান্ড করে থাকে
অর্থাৎ সেই সাম্প্রদায়িক পলিসি আর টাকা কয়েকটি ভায়া হয়ে টিটু রায় ও তার পরিবারের কাছে পৌছাচ্ছে। এবং টাকা ও পলিসি পেয়ে টিটু রায় ও তার পরিবার ষড়যন্ত্রগুলো ফিল্ড পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে।

তাই শুধু টিটু রায় নয়, টিটু রায়ের পরিবারকেও গ্রেফতার করা হোক। কারণ রাষ্ট্রবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রে পুরো পরিবারটি যুক্ত তা স্পষ্ট।


আমি একটি জিনিস লক্ষ্য করেছি যে অনেকে দাবি করছে- হিন্দুরা বাংলাদেশে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করতে চায়। কিন্তু হিন্দুদের যে আচার-আচরণ দেখাযাচ্ছে তাতে স্পষ্ট বোঝা যায়- তারা সম্প্রীতি চায় না বরং পায়ে পাড়া লাগিয়ে ঝগড়া করতে চায়। যেমনঃ
-ফেসবুক আইডিতে ধর্ম অবমাননা করা
-এরপর সেটা নিয়ে এত প্রতিবাদ হওয়ার পরও সেটা রিমুভ না করা,
-এরপর নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে মুসলমানদের ফাঁদে ফেলা,
-এখন আবার আন্দোলনে নামছে ঐ অমাননাকারীকে কেন গ্রেফতার করা হলো তা নিয়ে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন লক্ষণই সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে না, বরং ঝগড়ার আভাস নিয়ে আসে। কেউ কেউ বলতে পারেন- মুসলমানরা দাঙ্গা লাগায়। মারামারি করে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়।
আমি বলবো- ঠিকই করে। এর দোষ সরকারের পলিসি মেকারদের।
একটি জাতি কখন বিদ্রোহী হয়ে উঠে? যখন সে ন্যায় বিচার না পায়, বিচারহীনতা দেখে, পক্ষপাতিত্ব দেখে, তখন সে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে চায়।

হিন্দু মুসলিম দ্বন্দ্বে সরকার যেটা করে, সেটা স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব, এছাড়া কিছু নয়।
একারণেই মুসলিমরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, বিক্ষোভ করে। ভবিষ্যতে যদি বড় কোন দাঙ্গা বাধে, তবে সেটার দায় সরকারের। সরকার যদি সঠিক বিচার করতো, হিন্দু-মুসলিম সমান চোখে দেখতো, তবে মানুষ কখনই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার চিন্তা করতো না।

কারন রংপুর ইস্যুতে আওয়ামী সরকারের পলিসি মেকাররা ভুল করেছে এবং এখনো করছে। এই ভুল পথে চললে খুব শিঘ্রই সরকারের পতন হয়ে যেতে পারে। এর আগেও সরকার সিআইএপন্থীদের দমন করছে। সেটা ব্লগার ইস্যু হোক কিংবা সিআইএর পক্ষ থেকে দাবিকৃত বাংলাদেশে আইএস আছেএই দাবি হোক। সরকার খুব ভালো করেই জানে- আমেরিকা হিন্দুদের উপর ভর করেছে। এবং সেই হিন্দু নামক গলার কাটাটা সরকার খেয়ে ফেলেছে। এখন সরকার যতই মুসলিম দমন করুক কিংবা হিন্দু তোষণ করুক, হিন্দু নামক গলার কাটা সরকারকে ছাড়ছে না। এই ইস্যুতেই সরকারের গদি নিয়ে টানাটানি শুরু হবে খুব শিঘ্রই।
সরকারের উচিত ছিলো-
১) টিটু রায় ধর্মীয় অবমাননা করার সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করা। কিন্তু সেটা না করে প্রথম ভুল করেছে।
২) হিন্দুরা নিজ বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে’--- এটা সরকারের প্রথমেই প্রকাশ করা উচিত ছিলো। সরকার সেটা না করে দ্বিতীয় ভুলটা করেছে এবং গলার কাটা ভালোভাবে আটকিয়েছে।
৩) সরকারের পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথমেই দাবি করেছে- তারা আশঙ্কা করছে টিটু রায়ের আইডিটি ভুয়া। এ কথাটা বলে ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে সরকার স্ট্রাইকার তুলে দিয়েছে।
৪) বাংলাদেশে আইএস নেইএটা যেমন সরকার স্বীকার করেনি। ঠিক তেমনি হিন্দুরা বাংলাদেশে নির্যাতিত হচ্ছেএটাও সরকারের স্বীকার করা ঠিক হয়নি। সরকারের মাথামোটা পলিসি মেকাররা ২০ বছর আগের কৌশল অ্যাপ্ল্যাই করেছে। মানে বিরোধী দল কর্তৃক হিন্দু নির্যাতিত হচ্ছেএটা প্রচার করে বিরোধীদলকে দমন করা। কিন্তু সরকারের বোঝা উচিত ছিলো বিএনপি-জামাত সরকারের এখন বিরোধী দল না, সরকারের এখন বিরোধীদল হচ্ছে আমেরিকা। এবং সেই আমিরকার হাতে রয়েছে হিন্দুদের গলায় বাধা দড়িটা। হিন্দু নির্যাতন হয়েছেএটা বলে সরকার উল্টো আমেরিকার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে।
৫) হিন্দুদের পক্ষ নিয়ে সরকার মুসলমানদের উপর গুলি চালিয়েছে। এ কাজটা করে সরকার চরম ভুল করেছে। কারণ সরকারের বোঝা উচিত ছিলো- আমেরিকা ডুয়েল রোল প্লে করতে খুব পটু। ঐ দিন সরকার মুসলমানদের উপর কি কি নির্যাতন করেছে, তার সব ডকুমেন্ট আমেরিকানপন্থী মিডিয়ার কাছে অবশ্যই জমা আছে। সরকার হিন্দুদের পক্ষ নেয়ায় মার্কিনপন্থী মিডিয়া যদি সেটা ফাঁস করে দেয়, তবে মুসলমানদের এমন ক্ষেপিয়ে দেয়া হবে যে, সরকারের ১ দিনের মধ্যে পতন হওয়া কোন ব্যাপার না।

সরকারের সামনে এখন একটাই পথ খোলা-

টিটু রায়ের পোস্ট এবং হিন্দুদের নিজ বাড়িতে আগুন লাগার বিষয়টি সরকারিভাবে দলিলসহকারে ফাঁস করা এবং আইনি উপায়ে ওদের শাস্তি দেয়া। এছাড়া আমি সরকারের বাঁচার আর কোন উপায় দেখছি না।

আর যেই মালউন কে নিয়ে হিন্দুরা লাফাচ্ছে সেই টিটু রায় সব সময় বিকৃত অঙ্গভঙ্গী করে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতো। জিব, মুখভঙ্গী, শারীরিক অঙ্গভঙ্গীর মধ্যে থাকতো কুৎসিত বিকৃতি।

টিটু রায় তার ফেসবুকে নিয়মিত পর্নো ছবিও আপলোড করতো। সেসব ছবির উপর সে নানান কুৎসিৎ কমেন্ট করতো। সেগুলো আমার কাছে সেভ করা আছে, তবে শালীনতাবশতঃ আমি সেগুলো পোস্ট করলাম না। এছাড়া অনলাইনে ক্যামসেক্স করার জন্য সে নিজের নম্বরও অফার করতো। সেখান থেকেই তার মোবাইল নম্বরঃ 01755441956 টা আমি পাই।

অনলাইনে তার কার্যক্রম দেখে স্পষ্ট বোঝা যেতো- সে একজন যৌনউন্মাদ। এলাকায় তার নামে ধর্ষণ বা নারী নিপীড়নের অভিযোগ থাকা অস্বাভাবিক না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: