11.18.2017

৬ জন মুসল্লীর লাশ দেখার পরেও যারা অসাম্প্রদায়িকতার বিবৃতি দিয়ে ভালো সাজতে চায়......

বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের সবই আছে, জনবল অর্থবল খনিজ সম্পদ থেকে শুরু করে মেধাসম্পদ, কোন কিছুরই অভাব আমি মুসলমানদের মধ্যে দেখি না। তবে একটি জিনিসের চরম অভাব রয়েছে মুসলমানদের মধ্যে, আর তা হলো একজন প্রকৃত নেতা। আর মুসলমানদের প্রকৃত নেতা খুঁজে না পাওয়ার মূল কারণ, মুসলিম জনগোষ্ঠী অসাম্প্রদায়িকতার চশমা পড়েই তাদের নেতা খুঁজে পেতে চায়।

বিশ্বের সবগুলো অমুসলিম দেশে রাজনীতিবিদদের এন্টি-ইসলামিক বক্তব্য দিয়ে ভোট চাইতে হয়, কারণ অমুসলিম জনগোষ্ঠী তা না হলে তাদের ভোটই দিবে না। বিপরীতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক চাহিদা না থাকায় মুসলিম দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতাগুলো হয় এন্টি ইসলামিক, নাস্তিক প্রকৃতির। আর ধর্মীয় নেতাগুলো হয় একেকটা সিলমারা সেক্যুলার। সম্প্রতি এদেশে রংপুরে ৬ জন নিরীহ মুসলমানের মৃত্যুর পর জৈনক হিন্দু ডাকর ফেসবুকে যথেষ্ট এক্টিভিটি প্রদর্শন করেছি। তার বুদ্ধিতে চলা একটি সেক্যুলারইসলামিক সংগঠন সম্প্রতি বিবৃতি দিয়েছে, “যত উস্কানি আসুক না কেন, কোনো অবস্থাতেই কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে অপরাপর গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করা।

আমি বেশিকিছু বলতে চাই না, শুধু বলব ৬ জন মুসলমান প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে শহীদ হয়েছে। এসব থিওরেটিক্যাল গার্বেজে এখন চিড়া ভিজবে না, এখানে সমাধান একমাত্র পাল্টা হিন্দুদের মরামুখ নিশ্চিতকরণ। পাকিস্তান আমলে যখন পাঞ্জাবী শাসকগোষ্ঠীর গুলিতে মানুষ মারা যেত, তখন বাঙালি নেতারা জনগণকে উজ্জীবিত করতে পাল্টা বক্তব্য দিত, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব এদেশ কে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এটি না বলে যদি তারা বলত, “পাকিস্তানীরা যতোই উস্কানী দিক, আপনারা আইন ভঙ্গ করবেন না”, তাহলে বাংলাদেশ জীবনেও স্বাধীন হতে পারত না। এজন্যই তাদেরকে নেতা বলা হয়। বলাহয় বঙ্গবন্ধু বা জাতীর পিতা। কিন্তু কথিত ইসলামী দলগুলোর নেতারা ৬ জন নিরীহ মুসলিমের শহীদ হওয়ার পরও যদি কোন শক্ত বক্তব্য দিতে না পারে, জনগণকে উজ্জীবিত করতে না পারে, তাহলে তারা কিসের নেতা?

অবশ্য এই লোকগুলো নেতা হতে পেরেছে বাঙালি মুসলমানদের অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। এই বেকুব জনগোষ্ঠীর চোখের অসাম্প্রদায়িক চশমার কারণেই ঐ উগ্র হিন্দু ফেসবুকার খুব গর্বের সাথে প্রচার করছে, “দেখ ৬ জন নিরীহ মুসলমান কে হত্যা করার পরও এই দলটি কতোটা মেনি বিড়ালের মতো অসাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার করেছে, দেখাও তো ভারতে এরকম একটি উদাহরণ!অথচ বিষয়টি মোটেই কৃতিত্ব দাবি করার মতো কিছু নয়, বরং চরম লজ্জার। ভারতে এরকম উদাহরণ নেই বলেই হিন্দুরা সেদেশে হিন্দু সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, আর বাংলাদেশে মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হয়ে এন্টি ইসলামিক ভাব নিয়ে মসনদে বসে হিন্দুদের পক্ষ নিয়ে মুসলমানদের বুকে গুলি চালাচ্ছে।

সব কথার শেষ কথা হলো, মুসলমানদের প্রকৃত নেতা তিনি-ই, যিনি ইসলাম ও মুসলমানের স্বার্থকে সর্বাবস্থায় প্রাধান্য দিবেন। সুতরাং তাদের কোন অবস্থাতেই অসাম্প্রদায়িক হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে এদেশের মুসলমানরা হতাশায় ভুগছে যে, মুসলমানদের কোন নেতা নেই। ভারতের পেটে তাদেরকে যেতেই হবে। আমি তাদেরকে অভয় দিয়ে বলতে চাই, মুসলমানদের প্রকৃত নেতা অবশ্যই আছেন, কিন্তু মুসলমানরা উনাকে দেখতে পারছে না অসাম্প্রদায়িকতারচশমার কারণে। মুসলমানরা যেদিন তাদের এই অসাম্প্রদায়িক চশমা ছুঁড়ে ফেলতে পারবে, সেই দিনই তারা তাদের প্রকৃত নেতাকে খুঁজে পেতে সক্ষম হবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: