11.18.2017

তাওরাত শরীফে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের সুসংবাদ ও ছানা-ছিফত


হযরত ইমাম দারিমী রহমতুল্লাহ আলাইহি তিনি স্বীয় মুসনাদ শরীফ-এ এবং হযরত ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত কাব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকেতিনি বলেন, তাওরাত শরীফ-এ এসেছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার মনোনীত বা সবচেয়ে প্রিয় বান্দা বা হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতিনি কর্কশভাষী হবেন না এবং কঠোরও হবে নাতিনি বাজারে অযথা ঘুরাফিরা করবেন নামন্দ বা খারাপ আচরণের জবাবে মন্দ আচরণ করবেন না বরং ক্ষমাশীলতাই উনার সুমহান গুণপবিত্র মক্কা শরীফ-এ তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করবেন এবং পবিত্র মদীনা শরীফ-এ তিনি হিজরত করবেনশাম দেশসহ সারা আলম আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বণ্টনের মুখাপেক্ষী হবেসুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের প্রশংসাও করা হয়েছেউম্মতে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সুখ-দুঃখ, কষ্ট-আনন্দে সর্বদাই কৃতজ্ঞচিত্ত তথা শুকরগুজার হবেনউনাদের স্বভাব হবে কোন নি¤œস্থানে অবতরণের সময় উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করবেনআর ঊর্ধ্বে উঠার সময় মহান আল্লাহ পাক উনার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করবেননামায আদায়ের সময় সূর্যের প্রতি লক্ষ্য রাখবেনসূর্যের মাধ্যমে সময় নিরূপণ করে ওয়াক্ত মত নামায আদায় করবেনযদিও উনারা মাটিতে অবস্থান করেনটাখনুর উপরে উনারা লুঙ্গি পরিধান করবেনউনারা নিজেদের অঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে অর্থাৎ মুখম-ল, হাত ও পা ওযু দ্বারা ধৌত করবেনরাত্রিবেলায় উনারা কুরআন শরীফ, ওযীফা শরীফ, যিকিরে-ফিকিরের মাধ্যমে আসমান যমীন মুখরিত করবেন। (খছায়িছুল কুবরা, মাদারিজুন নবুওওয়াত)

অন্য হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত কাবুল আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাস করলেন, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাত তথা ছানা-ছিফত তাওরাত শরীফ’-এ আপনি কি কি বর্ণনা পেয়েছেন?
فقال كعب: ونجده محمد ابن عبد الله صلى الله عليه وسلم يولد بمكة، ويهاجر الى طابة، ويكون ملكه بالشام وليس بفحاش ولا بصخاب فى الأسواق ولا يكافىء بالسيئة السيئة ولكن يعفو ويغفر، امته الحمادون يحمدون الله فى كل سراء، ويكبرون الله على كل نجد، يوضئون أطرافهم، ويأتزرون فى أوساطهم، ويصفون فى صلاتهم كما يصفون فى قتالهم، دويهم فى مساجدهم كدوى النحل يسمع مناديهم فى جو السماء.
হযরত কাবুল আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি তাওরাত শরীফ-এ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে যা পেয়েছি তা হচ্ছে-মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার সবচেয়ে প্রিয় হাবীব মুহম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার বিলাদত শরীফ হবে মক্কা শরীফ-এ তিনি মদীনা শরীফ-এ হিজরত করবেনতিনি শাম দেশসহ সারা আলমের জন্য রসূল হবেনতিনি বাজারে অযথা ঘুরাফিরা করবেন নামন্দ বা খারাপ আচরণের জবাবে মন্দ আচরণ করবেন না; বরং মার্জনা ও ক্ষমাশীলতাই হবে উনার সুমহান গুণউনার উম্মতগণ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসাকারী হবেনউনার উম্মতগণ সুখ-দুঃখ, কষ্ট-আনন্দে সর্বাবস্থায় কৃতজ্ঞচিত্ত হবেনউনারা প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা ও উনার মাহাত্ম্য, ছানা-ছিফত বর্ণনা করবেন

ওযুর সময় উনারা নিজেদের বিভিন্ন প্রান্ত অর্থাৎ মুখম-ল, হাত-পা ইত্যাদি ধৌত করবেন এবং উনারা টাখনুর উপর লুঙ্গি পরিধান করবেননামাযে উনারা যুদ্ধের ন্যায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবেনমসজিদসমূহে উনাদের দোয়া মুনাজাত, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও যিকির-আযকারের ধ্বনিতে মুখরিত হবে মৌমাছির গুঞ্জন শব্দের মতোআর উনাদের দোয়া আকাশে শুনা যাবেসুবহানাল্লাহ! আর উনাদের প্রত্যেকটি দোয়াই কবুল করা হবে” (খছায়িছুল কুবরা, মাদারিজুন নবুওওয়াত)

হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেনআখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর তাওরাত শরীফনাযিল করেছেনহযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সেই তাওরাত শরীফ’-এ দেখতে পেলেন উম্মতে হাবীবীছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আলোচনাতখন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজ করলেন, হে বারে ইলাহী! আমি তাওরাত শরীফ’-এ এমন এক উম্মতের আলোচনা দেখতে পেলাম যাঁরা আখিরী উম্মত বা সর্বশেষ উম্মত অথচ উনারাই হবেন সমস্ত উম্মতগণের অগ্রগামীযাঁরা আপনার নিকট দোয়া করবেন আপনি উনাদের প্রতিটি দোয়াই কবুল করবেনউনাদের সিনার ভিতর পবিত্র কুরআন শরীফসংরক্ষিত থাকবেউনারা সেই কালাম পাককে বিশুদ্ধ তথা যথাযথভাবে তিলাওয়াত করবেনযাদের জন্য গণীমত তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হালালযারা নিজেদের গরীব আত্মীয়-স্বজনদের সদকা দিবেন এজন্য উনাদেরকে পুরস্কৃত করা হবেউম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য হাদিয়া ও গণীমত হালাল, গরীবদের জন্য ছদকা হালাল যা পূর্ববর্তী উম্মতের বিপরীতএই সমস্ত উম্মত খারাপ কাজের ইচ্ছা করলে তা লিপিবদ্ধ করা হবে না, যতক্ষণ না সে খারাপ কাজ বাস্তবায়িত করবেএকটি পাপ করলে একটিই লিপিবদ্ধ করা হবেউনারা যখন কোন নেকীর কাজ করার নিয়ত করবেন তথনই নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তা বাস্তবায়িত করলে দশগুণ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবেউনাদেরকে পূর্ব এবং পরের সমস্ত ইলম দান করা হবেসুবহানাল্লাহ!

আখিরী যামানায় যে দাজ্জাল আবির্ভূত হবে তাকে উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই হত্যা করবেন

কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা উম্মত তথা আখিরী উম্মত উনাদের গুণাবলী তাওরাত শরীফ’-এ সত্তরটিরও বেশি রয়েছেঅর্থাৎ অসংখ্য, অগণিত গুণাবলী বর্ণিত রয়েছেহযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এতসব ছানা-ছিফত, গুণাবলী তাওরাত শরীফ-এ দেখে বললেন, “হে বারে ইলাহী! এই উম্মতকে আমার উম্মত বানিয়ে দিনতখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করলেন, হে আমার নবী হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! যে উম্মতগণের ছানা-ছিফত আপনার তাওরাত শরীফ-এ রয়েছে উনারা স্বয়ং যিনি আমার হাবীব, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মততখন হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, হে বারে ইলাহী! তাহলে আপনি আমাকে আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত বানিয়ে নিনআল্লাহ পাক তিনি হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আরজি কবুল করলেন” (খছায়িছুল কুবরা, মাদারিজুন নুবুওয়াত)

আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করেছেন সমস্ত মাখলুকাতের নবী-রসূল হিসেবেসমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মততবে সরাসরি আখিরী যামানায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত হিসেবে যমীনে পুনরায় তাশরীফ আনবেনসুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ যে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব, আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত, ফাযায়িল-ফযীলত এবং আগমনের সুসংবাদ তাওরাত শরীফ-এ রয়েছেতার পাশাপাশি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরও ছানা-ছিফত পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানী কিতাবসমূহে রয়েছেসুবহানাল্লাহ!

কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সৃষ্টি করেছি সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দ্ইু লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সমস্ত মাখলুকাতের নবী-রসূল হিসেবে সৃষ্টি করেছেনতিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মূল ও কেন্দ্রবিন্দুসুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত সৃষ্টির ঈমানসারা কায়িনাতের মূলএমন কোন সৃষ্টি নেই যাদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে ইলম দেয়া হয়নিঅর্থাৎ কম বেশি সমস্ত মাখলুকই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে জানেনসকলেই উনাকে তাযীম-তাকরীম করেন, উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করেনঅনুরূপভাবে একলক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুলক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনারাও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছেনউনাদের প্রতি প্রেরিত আসমানী কিতাবসমূহে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেশুমার ফযীলত, ছানা-ছিফত বর্ণিত ছিলো

হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হিলইয়াগ্রন্থে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেছেন, একদা মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি ওহী করলেন, যে ব্যক্তি আমার যিনি হাবীব আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অস্বীকার করবে আমি ওই ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবোতখন হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমার রব! আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কে? আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসুবহানাল্লাহ! গোটা সৃষ্টির মধ্যে উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ নেইউনার পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক আমার নাম মুবারক-এর সাথে আসমান-যমীন সৃষ্টির পূর্বে আরশে মুয়াল্লায় লিখে দিয়েছিজান্নাতে কোন ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেনা যতক্ষণ না আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার উম্মতগণ প্রবেশ না করবেনঅর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনার কিছু উম্মতগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পর অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং উনাদের উম্মতগণ প্রবেশ করবেন

অতঃপর হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে বারে ইলাহী! আমাকে আপনার হাবীব আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতগণের নবী বানিয়ে নিনতখন আল্লাহ পাক তিনি বললেন, উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নবী উনাদের থেকেই হবেনতখন হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তাহলে আমাকে আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত বানিয়ে নিনআল্লাহ পাক তিনি বললেন, আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরবর্তীকালে আগমন করবেন তবে আপনি উনার সঙ্গেই জান্নাতে অবস্থান করবেন। (খছায়িছুল কুবরা)

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত কাবুল আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমার পিতা তাওরাত শরীফ’-এর একজন বড় আলিম ছিলেনতিনি আমার কাছে কখনো কোন বিষয় গোপন করেননিযখন আমার পিতার ইন্তিকালের সময় উপস্থিত হলো তখন তিনি আমাকে ডেকে বললেন, হে আমার প্রিয় সন্তান! আমি আপনার কাছ থেকে আমার ইলমের কোন কিছুই গোপন রাখিনিতবে তাওরাত শরীফ’-এর দুটি পৃষ্ঠা আমি লুকিয়ে রেখেছি যার মধ্যে যিনি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছেতবে আপনি জেনে রাখবেন উনার আগমনের সময় খুবই নিকটবর্তীআমি এজন্য ওই দুটি পৃষ্ঠার কথা আপনাকে বলিনি, যাতে আপনি কোন মিথ্যা নবীর খপ্পরে পড়ে না যানআমি পৃষ্ঠা দুটি এই তাকে রেখে উপরিভাগ লেপে দিয়েছিআপনি পৃষ্ঠা দুটি এখনই বের করবেন নামহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আপনার খাইর বা কল্যাণ চান এবং আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন ঘটে তবে আপনি উনার প্রতি ঈমান আনবেন উনার অনুসরণ ও অনুকরণ করবেনঅতঃপর আমার পিতা তিনি ইন্তিকাল করলেনআমরা উনাকে দাফন করলামযখন আমার অন্তরে খুবই ইচ্ছা জাগলো উক্ত পৃষ্ঠা দুটি দেখারতখন আমি পৃষ্ঠা দুটি বের করলামএতে লিখা ছিলো-
محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم خاتم النبين لا نبى بعده مولده بمكة ومهاجره بطيبة
অর্থ: হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তিনি আখিরী বা সর্বশেষ নবীউনার পরে কোন নবী আলাইহিমুস সালাম উনারা আগমন করবেন নাউনার বিলাদত শরীফ পবিত্র মক্কা শরীফ-এ এবং তিনি মদীনা শরীফ-এ হিজরত করবেন

যিনি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কর্কশভাষী হবেন না এবং তিনি কঠোরও হবেন নাবাজারে তিনি অযথা ঘুরাফিরা করবেন নামন্দ বা খারাপ আচরণের জবাবে মন্দা আচরণ করবেন না বরং ক্ষমাশীলতাই উনার সুমহান গুণউনার উম্মত তথা উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সর্বদাই মহান আল্লাহ পাক উনার হামদ ও ছানা-ছিফত বর্ণনা করবেনমহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সদাসর্বদা খোদায়ী মদদ বা সাহায্য করবেনউনারা পবিত্রতা হাসিলের জন্য অযু ও গোসল করবেনউনারা টাখনুর উপরে লুঙ্গি পরিধান করবেনপবিত্র কুরআন শরীফ উনাদের বক্ষে সংরক্ষিত থাকবেউনারা পরস্পর পরস্পর এতো দয়াশীল বা সহানুভূতিশীল হবেন যেনো একই মায়ের সন্তানএই উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সমস্ত উম্মতের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবেনসুবহানাল্লাহ!

হযরত কাবুল আহবার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো দেখার কিছুদিন পরই আমি সংবাদ পেলাম যে, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রকাশ ঘটেছেকিছুদিনের মধ্যে তিনি মক্কা শরীফ থেকে মদীনা শরীফ-এ হিজরত করলেনআমি ইসলাম গ্রহণে বিলম্ব করলাম উত্তমরূপে প্রমাণ লাভের জন্য। ইতিমধ্যে আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ হয়ে গেলো

পরবর্তীতে খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আফদ্বালুন নাস বাদাল আম্বিয়া হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খলীফা নিযুক্ত হলেনএরপর দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ইবুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খলীফা হলেনএকদা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এক প্রতিনিধি আমাদের এলাকায় পৌঁছলোযখন আমি উনাদের ওয়াদা বা অঙ্গীকার পূরণের অবস্থা দেখলাম এবং শত্রুর মোকাবেলায় খোদায়ী সাহায্য প্রত্যক্ষ করলাম তখন বুঝে নিলাম যে, আমি উনাদেরই অপেক্ষায় ছিলামআল্লাহ পাক উনার কসম! এক রাতে আমি আমার গৃহের ছাদে এই আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করতে শুনলাম

ياايها الذين اوتوا الكتاب امنوا بما نزلنا مصدقا لما معكم من قبل ان نطمس وجوها.
অর্থ: হে আসমানী কিতাবের অধিকারীরা! আমি যা নাযিল করেছি (কুরআন শরীফ) তার প্রতি তোমরা ঈমান আনোতোমাদের নিকট যে কিতাব রয়েছে উহার সত্যায়নকারী। (ঈমান আনো) এমন হওয়ার পূর্বেই যে, আমি চেহারাসমূহকে বিকৃত করে পশ্চাদ্দিকে ঘুরিয়ে দিবো” (সূরা নিসা : আয়াত শরীফ-৪৭)

এ আয়াত শরীফ শুনে আমি খুবই ভীত হয়ে পড়লামমনে হলো যেনো সকাল হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ পাক তিনি আমার মুখ ম-ল পশ্চাদদিকে ঘুরিয়ে দিবেনআমি ভোর হওয়ার সাথে সাথে মুসলমানদের অবস্থানের দিকে ধাবিত হলাম এবং আমি মুসলমান হয়ে গেলাম। (খছায়িছুল কুবরা)

হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, হযরত কালতান ইবনে আসিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, “একদা আমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবতে ছিলামএমতাবস্থায় এক ব্যক্তি আগমন করলোনূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি তাওরাত শরীফ পড়েছো? সে বললো, জিঅতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি ইঞ্জিল শরীফ পড়েছো? লোকটি জবাব দিলো, জিঅতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম দিয়ে জিজ্ঞাস করলেন, তুমি তাওরাত ও ইঞ্জিল শরীফ-এ আমার আলোচনা, ছানা-ছিফত, মর্যাদা-মর্তবা ও সুসংবাদের কথা পাওনি? সে বললো, জিহুবহু আপনার আলোচনা, বেমেছাল চরিত্র মুবারক আপনার পবিত্র আপাদমস্তক, মর্যাদা-মর্তবা ও খুছুছিয়ত তাওরাত ও ইঞ্জিল শরীফ-এ পেয়েছিওই লোকটি বললো, আমরা আশা করেছিলাম আখিরী নবী যিনি হবেন তিনি আমাদের মধ্যে আগমন করবেনআপনি আগমন করার পর আমরা নিশ্চিত হলাম যে, আপনিই সেই নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসুবহানাল্লাহ! (তিবরানী শরীফ, ইবনে হাব্বান শরীফ, খছায়িছুল কুবরা)

অন্য হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে,
عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثنى الله هدى ورحمة للعالمين وبعثنى لامحو المزامير والمعازف.
অর্থাৎ হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেছেন, “মহান আল্লাহ পাক আমাকে সারা আলমের জন্য হিদায়েতকারী ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেনতিনি আল্লাহ পাক আমাকে প্রেরণ করেছেন সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র, গান-বাজনা ধ্বংস করার জন্যএই হাদীছ শরীফ শুনে আউস ইবনে সামআন তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যিনি আপনাকে রসূল ও হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরণ করেছেননিশ্চয়ই আমি এই বিষয়গুলো তাওরাত শরীফ-এ পেয়েছিসুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা)

হযরত আবূ নায়ীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হিলইয়াগ্রন্থে উল্লেখ করেন, একটি মশহুর ওয়াক্বিয়াযে ওয়াক্বিয়া দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত উনার পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক-এর বরকত উনার সঙ্গে সামান্য থেকে সামান্যতম নিছবত বা সম্পর্ক রাখলে মহান আল্লাহ পাক ওই ব্যক্তির সমস্ত গুনাহখতা ক্ষমা করে দেন এবং তাকে জান্নাতবাসী বানান এবং সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক তিনি অশেষ মর্যাদা ও মর্তবা দান করেন

খাছায়িছুল কুবরা ১ম খ- ২৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, “বনী ইসরাইলের এক ব্যক্তি যে দুইশ বছর হায়াত পেয়েছিলোওই ব্যক্তি তার এই দীর্ঘ হায়াতে কোন নেককাজই করেনিআল্লাহ পাক উনার নাফরমানীতে পুরো জিন্দেগীটা কাটিয়েছেযখন তার মৃত্যু হলো তখন তার প্রতিবেশী ও এলাকার লোকেরা ওই ব্যক্তিকে একটি আবর্জনাময় স্তূপে নিক্ষেপ করলোতার গোসল কাফন-দাফনের ব্যবস্থা এলাকাবাসী না করে তাকে ফেলে রাখলোএদিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই যামানার জলীলুল ক্বদর রসূল হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট ওহী করলেন, ‘হে আমার নবী হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম! অমুক এলাকায় অমুক গ্রামে একজন লোক মারা গেছে, এলাকাবাসী তাকে ফেলে দিয়েছে তার গোসল কাফন-দাফনের ব্যবস্থা কেউ করছে নাআপনি সেখানে যান গিয়ে ওই ব্যক্তির গোসল-কাফন দাফনের ব্যবস্থা করুন

হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সে এলাকায় গেলেনএলাকাবাসীদেরকে বললেন, এখানে নাকি একজন লোক মারা গেছে? এলাকাবাসী বললো, হ্যাঁ একজন লোক মারা গেছে, যে লোকটা দুইশ বছর হায়াত পেয়েছিলোকিন্তু সে কোন নেককাজ করেনি, আল্লাহ পাক উনার নাফরমানীতে মৃত্যু অবধি ইস্তিকামাত ছিলোএই কথা শুনে হযরত মুসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার পরিচয় দিলেন যে, আমি হলাম হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালামআল্লাহ পাক তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই ব্যক্তির গোছল, কাফন-দাফনের জন্য

হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম যখন তিনি উনার পরিচয় দিলেন এবং সব কথা বললেন তখন এলাকাবাসী সমস্ত লোক তারা আতকে উঠলোতারা বললো, হে হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম আপনি এসেছেন এই ব্যক্তির গোসল, কাফন-দাফনের জন্য অথচ আমরা তাকে পছন্দ করিনাকারণ সে একটা বড় বদকার, বড় নাফরমানবান্দাহযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একথা শুনে আল্লাহ পাক উনাকে বললেন, হে বারে ইলাহী! এই লোকটা আপনার নাফরমান বান্দা, বড় গোনাহগারএলাকার লোকেরা তাকে পছন্দ করেনা কারণ, সে দুইশ বছর হায়াত পেয়েছিলো কিন্তু সে কোন নেক কাজ করেনিপুরা যিন্দিগীটাই নাফরমানীতে কাটিয়ে দিয়েছে

তখন আল্লাহ পাক তিনি বললেন হ্যাঁতারপরও তাকে একটা আমলের কারণে তার জিন্দেগীর সমস্ত গুনাহ মাফ করে জাহান্নাম হারাম করে জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছিএবং আপনার মত একজন জলীল ক্বদর রসূল আলাইহিস সালাম পাঠিয়েছি তার গোছল কাফন-দাফন করার জন্যতখন হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আল্লাহ পাক! আমাকে জানিয়ে দিন যে, এই লোকটা কি আমল করেছে যার কারণে তার দুশত বছরের গোনাহখাতা মাফ করে একজন জলিলুল ক্বদর রসূল উনাকে পাঠিয়েছেন তার গোসল, কাফন-দাফনের জন্যহে বারে ইলাহী! আপনি আমাকে সেই আমলটি জানিয়ে দিনসেই আমল আমি নিজে করবো এবং আমার উম্মতকে শিক্ষা দিবোমহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, হে আমার রসূল হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম আপনাকে আমি সেই আমলটির কথা জানাবো তা হচ্ছে, আপনার প্রতি নাযিলকৃত যে কিতাব তাওরাত শরীফএই তাওরাত শরীফ-এই লোকটা একদিন খুলেছিলো, খুলেই দেখতে পেলো আমার যিনি হাবীব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক, দেখার সাথে সাথে সেই বান্দাটা ওই ইসম বা নাম মুবারক চুম্বন করলো, চোখে লাগালো এবং সাথে সাথে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত সালাম তথা দরূদ শরীফ পাঠ করলোআমি তার এই আমলকে কবুল করে নিলামকারণ, আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা মুহব্বত করে উনার প্রতি দরূদ শরীফ, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ করে, পাঠ করে, উনাকে তাযীম-তাকরীম করে আমি তাদের গোনাহখতা ক্ষমা করে দেই এবং তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেইসুবহানাল্লাহ! কাজেই আমি তার এই ইবাদত কবুল করে দুইশ বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে একজন আপনার মত জলিলুল ক্বদর রসুল পাঠিয়েছি তার গোসল, কাফন-দাফনের জন্যসুবহানাল্লাহআর আমি সত্তরজন জান্নাতের হুরদের সাথে তার বিবাহ দান করি

আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে ইহুদীদের পূর্ব থেকেই জানা ছিলযেহেতু তাওরাত শরীফ’-এ উনার আগমনের সুসংবাদ, ছানা-ছিফত বর্ণিত ছিলোতারপরও ইহুদীরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনেনি, মুসলমান হয়নি

এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, আউস গোত্রের এক ব্যক্তি ছিলো তার নাম আবূ আমিরআউস ও খাজরাজ গোত্রে তার চেয়ে বেশি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত, ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনাকারী আর কেউ ছিলো নাএরা মদীনা শরীফ-এর ইহুদীদেরকে মুহব্বত করতো এবং তাদের সাথে উঠা-বসা, চলা-ফেরা করতোতাদের কাছে আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত ও দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতোতারা আখিরী নবী হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত আবূ আমিরের কাছে ব্যক্ত করে বলতো যে, মদীনা শরীফ হবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হিজরতের স্থানএরপর আবূ আমির ইহুদীদের কাছ থেকে তাইমানামক স্থানে চলে গেলো এবং সেখানকার লোকদের কাছ থেকেও আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের সুসংবাদ ও ছানা-ছিফত শুনতে পেলোএরপর সে শামদেশ গিয়ে সেখানকার নাছারাদের নিকট আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলোসেখানকার নাছারা (খ্রিস্টানরা)ও আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত অনুরূপ বর্ণনা করলোএরপর আবূ আমির সে নির্জনতা অবলম্বন করলো এবং পাদ্রী হয়ে গেলোপাদ্রীদের মতো লেবাস পরিধান করা শুরু করে দিলো এবং সে সবসময় বলতো, আমি মিল্লাতে হানিফিয়া দ্বীনে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার অনুসারীআর আমি আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের অপেক্ষায় রয়েছি

আবূ আমির থেকে জ্বিন জাতি পর্যন্ত আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, ছানা-ছিফত এবং আলামতসমূহের বর্ণনা শুনতোকিন্তু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ করলেন তখন সে স্বীয় অবস্থার উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে মুনাফিকীর বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে লাগলোসে আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলো, আপনি কি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আমি হচ্ছি আখিরী নবী, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যে সম্পর্কে তোমার জানা রয়েছেআল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আবূ আমিরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে আবূ আমির! ওই সমস্ত সুসংবাদের কি হলো, আমার ছানা-ছিফত সম্পর্কে ইহুদীরা যা তোমার কাছে ব্যক্ত করেছিলো? তখন এ বেঈমান বললো, আপনি আখিরী নবী নন, ইহুদীরা যে সমস্ত ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছিলো তা আপনার মধ্যে নেইনাঊযুবিল্লাহ!

আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে আবূ আমির! তুমি মিথ্যা কথা বলছোকারণ, তাওরাত শরীফ-এ আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে যে ছানা-ছিফত বর্ণিত রয়েছেআমিই হলাম সেই হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএরপরও আবূ আমির মিথ্যা বলতে লাগলোসে অস্বীকার করলোআল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে আবূ আমির! মিথ্যাবাদীকে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থায় ধ্বংস করবেনএরপর আবূ আমির মক্কা শরীফ-এ ফিরে গেলো এবং কাফিরদের অনুসরণ করতে লাগলো

পরবর্তীতে এই আবূ আমির শামদেশ যাওয়ার পথে একান্ত নিঃস্ব, অসহায় ও লাঞ্ছিত হয়ে মৃত্যুবরণ করলোআল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নাফরমানীর ফলে সে আযাব-গযবে পড়ে লাঞ্ছিত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেলো। (মাদারিজুন নুবুওওয়াত)

কাজেই, আবূ আমির সে নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে জানতো যেমন ইহুদী, নাছারাও জানতো কিন্তু তারা হিংসাবশত ঈমান আনেনি, মুসলমান হয়নি

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন-
مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاء عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاء بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
অর্থ: আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীলআল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি উনাদেরকে রুকু ও সিজদারত দেখবেনউনাদের মুখম-লে রয়েছে সিজদার চিহ্নতাওরাত শরীফ’-এ উনাদের অবস্থা এরূপ এবং ইনযীল শরীফ-এও উনারদের অবস্থা যেমন একটি চারাগাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশালয়, অতঃপর উহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কা-ের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীর জন্য আনন্দদায়কঅর্থাৎ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সংখ্যা চারাগাছের অনুরূপ বৃদ্ধি পেতে থাকবেযেমন উনারা শুরুতে অল্প সংখ্যক হবেন, এরপর উনাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং শক্তি অর্জিত হবে, যাতে উনাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা বা হিংসার সৃষ্টি হয়যারা ঈমান আনায়ন করে এবং নেক আমল করে আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেনঅর্থাৎ সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে ক্ষমা ও মহা পুরস্কারের ওয়াদা দেয়া হয়েছে” (সূরা ফাতহ : আয়াত শরীফ ২৯)

অত্র আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামআমার পরেই উনার স্থানতিনি অন্য কোনো মাখলূকাতের মতো ননসৃষ্টিতে তিনি একক যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টিকর্তা হিসেবে এককসুবহানাল্লাহ! এরপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ছানা-ছিফত করা হয়েছে যে, উনারা পরস্পরে নিজেদের মধ্যে সহানুভূতিশীল, একে অপরের প্রতি বিনীত, বিন¤্রআর কাফির, মুশরিকদের প্রতি কঠোর

তাওরাত শরীফ ও ইনযীল শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ছানা-ছিফত বর্ণনা ছিলো

হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, ইনযীল শরীফ-এ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ছানা-ছিফত আলোচনা মুবারক এভাবে বর্ণিত ছিলো- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা শুরুতে অল্প সংখ্যক হবেনঅতঃপর ক্রমান্বয়ে উনাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবেসুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী)

হযরত কাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের সুসংবাদ, ছানা-ছিফত ও উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলতও ইনযীল শরীফ-এ বিস্তর ছিলোউনাদের বাড়ন্ত বা বৃদ্ধি হবে জমির ফসলের চারার মতোউনারা সৎ কাজের আদেশ দিবেন এবং খারাপ বা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবেন” (তাফসীরে মাযহারী)

অত্র আয়াত শরীফ-এ নূরী খোদায়ী চারার সাথে তুলনা করা হয়েছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং সেই চারা মুবারক-এর ফুলকলি হচ্ছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং সমস্ত মুমিন মুসলমানগণ

হযরত ইবনে সাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইবনে আসাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা হযরত মূসা ইবনে ইয়াকুব যাময়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি গোছায়মার এক গোলাম থেকে বর্ণনা করেন, মারীসের খ্রিস্টান সাহল তিনি ইয়াতিম অবস্থায় চাচার কাছে লালিত-পালিত হনতিনি বলেন, আমি একবার ইনযীল শরীফপাঠ করতে শুরু করলামতাতে দুটি পাতা পরস্পর সংলগ্ন ও জড়ানো ছিলোআমি পাতাগুলো আলাদা করলে সেখানে দেখতে পেলাম তাতে আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত বর্ণিত ছিলোআল্লাহ পাক উনার হাবীব আখিরী নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি হবেন তিনি দীর্ঘদেহ বিশিষ্টও নন এবং খাটোও ননউনার উভয় কাঁধ মুবারক-এর মাঝে মহরে নুবুওওয়াতথাকবেতিনি সর্বোত্তমভাবে বসবেনতিনি ছদকা গ্রহণ করবেন না, হাদিয়া গ্রহণ করবেনগাধা ও খচ্চরে তিনি আরোহণ করবেনছাগলের দুধ পান করবেনতিনি তালিযুক্ত ক্বামীছ মুবারকও পরিধান করবেনউনার মধ্যে বিন্দু থেকে বিন্দুমাত্র অহঙ্কার থাকবে নাতিনি যাবিহুল্লাহ হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনার বংশধর হবেন এবং উনার নাম মুবারক হবে আহমদছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসাহল বলেন, আমি এ পর্যন্ত পড়ার পর আমার চাচা তিনি এসে গেলেন এবং আমার হাতে পাতা দুটি দেখে আমাকে শাসিয়ে বললেন, তুমি এই পাতাগুলো খুললে কেনো? আমি বললাম, হে আমার চাচা! এতে আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা উল্লেখ আছেতিনি বললেন, সেই আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখন আগমন করেননিকিছুদিনের মধ্যে তিনি দুনিয়ায় তাশরীফ আনবেনসূত্রঃ (খছায়িছুল কুবরা শরীফ)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: