11.27.2017

"দিওয়ানে আযীয" কিতাব ও আমীরুল মু'মিনিন আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি


গর্দান কর্তনঃ রেজাখানী সুন্নি দাবীদার অধিকাংশ গ্রুপের লোকদের কথা এবং কাজে কোন মিল নেই। ২৪ ঘন্টা তারা যেই আমীরুল মু'মিনিন, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষন করে, গালি দেয়, ওহাবী বলে আবার সুযোগ সুবিধা মত উনার সিলসিলার ওলী আল্লাহ খলীফাদের প্রসংসায় পঞ্চমূখ হয় যা খুবই আশ্চর্যের বিষয়। চট্টগ্রামের মাত্র কয়েক কিলোমিটার অধ্যুষিত এই দলটির এমন রহস্যময় আচরন খুবই মুনাফিকি সুলভ।

আজকে আমি আপনাদের খেদমতে এনাদের মুখোশ কিছুটা উন্মোচনের চেষ্টা করবো। আপনারা অনেকেই নাম শুনেছেন "দিওয়ানে আযীয" কিতাবের। এই কিতাবের লেখক হচ্ছেন রেজবীদের অন্যতম গুরু আযীযুল হক, যাকে উনারা শেরে বাংলা নামে অভিহিত করে থাকেন। আসুন উক্ত কিতাব থেকে এনাদের ভন্ডামীর মুখোশ উন্মোচন করে দেই।

আযীযুল হক উনার "দিওয়ানে আযীয" কিতাবের ১৮২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন- "হযরত আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সিলসিলা আখেরী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার করুনা ও ফুয়ুজাত থেকে বঞ্চিত।" নাউযুবিল্লাহ!!

অথচ এই এই তথাকথিত শেরে বাংলা উনার দিওয়ানে আযীয কিতাবের বহু স্থানে সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সিলসিলার খলীফা, অনুসারীদের ভূয়সী প্রসংসা করেছেন। শুধু তাই নয়, উনাদের নামের পূর্বে কুতুবুল ইরশাদ, পীরে কামিল, গাউসে আযম, উচ্চ বেলায়েতধারী, শহর কুতুব ইত্যাদি লক্ববও উল্লেখ করেছেন।

আসুন তার কতিপয় প্রমান দেখা যাকঃ- আযীযুক হক উনার "দিওয়ানে আযীয" কিতাবের ১৬০ পৃষ্ঠায় হযরত শাহ সুফী নূর মুহম্মদ নিজামপূরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে, "দিওয়ানে আযীয" ১৬৬ পৃষ্ঠায় রসূলে নোমা পীর হযরত সুফী ফতেহ আলী বর্ধমান রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার, "দিওয়ানে আযীযের" ১৩৫ পৃষ্ঠায় ফুরফুরা শরীফের মুজাদ্দিদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দীক ফুরফুরাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েতের প্রসংসা করেছে।

অথচ উপরোক্ত তিন জন বুযুর্গই চারটি তরীক্বার মধ্য দিয়েই হযরত সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। আর হযরত শাহ সুফী নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তো সরাসরি হযরত আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্যতম খলীফা।

এরপর "দিওয়ানে আযীযের" ৮৫ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা আব্দুল মজীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, "দিওয়ানে আযীযের" ৭৩ পৃষ্ঠায় নরিন্দা মুশুরীখোলার পীর ছাহেব হযরত সূফী আহসানউল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং "দিওয়ানে আযীযের" ৬৫ পৃষ্ঠায় হাফিজ বজলুর রহমান বেতাগী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার উচ্চ প্রসংসা করেছেন।

অথচ মাওলানা আব্দুল মজীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব হযরত সূফী ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর দুই সিঁড়ি পরই আমীরুল মু'মিনিন হযরত সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। আর নরিন্দার মুশুরিখোলার পীর ছাহেব হচ্ছেন, হযরত শাহ গুলজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার পীর ছাহেব হচ্ছেন শহীদে আযম, আমীরুল মু'মিনিন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। আর হাফিজ বজলুর রহমান বেতাগী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব হচ্ছেন নারিন্দার মুশুরীখোলার সূফী হযরত আহসানউল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি।"

কি পাঠক হিসাব নিকাশ বুঝতেছেনতো? পড়তে থাকুন সামনে আরো মজা অপেক্ষা করতেছে...

"দিওয়ানে আযীযের" ৩৯ পৃষ্ঠায় গাউসুল আজম হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, "দিওয়ানে আযীযের" ৬৬ পৃষ্ঠায় আল্লামা হযরত দোস্ত মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েতের প্রসংসা করা হয়েছে।

অথচ গাউছুল আযম মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কাদেরীয়া তরীক্বার নেছবত হযরত মাওলানা সালেহ লাহোরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে এবং নকবন্দীয়া তরীক্বার নিসবত হযরত শাহ সূফী নূর মুহম্মদ নিজামপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট থেকে হাছিল করেন। যিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্যতম খলীফা।

অপরদিকে আল্লামা দোস্ত মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব হচ্ছেন ছারছীনার বিখ্যাত কামিল পীর কুতুবুল আলম হযরত নেছারউদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যিনি চারটি তরীক্বায় চতুর্থ সিঁড়িতে গিয়ে হযরত আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ্ !!!

এখানেই শেষ নয় পাঠক !! বিনোদনের আরো বাকি আছে...

এরপর আযীযুল হক "দিওয়ানে আযীযের" ৫১ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা ইকামুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ৫৩ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা নজীর আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ৫৫ পৃষ্ঠায় আল্লামা আব্দুল হাকিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েতের প্রসংসা করেছেন।

অথচ এই তিন বুযুর্গই হচ্ছেন আজমগড়ী সিলসিলার সবচেয়ে মশহুর ওলী হযরত হাফিয হামিদ হাসান আলভী আজমগড়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফার অন্তর্ভুক্ত। আর হাফিয হামিদ হাসান আলভী আজমগড়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছয় তবকায় শুধু নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরীক্বার দিক দিয়ে আমিরুল মু'মিনিন হযরত সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী উনার সাথে মিলিত হয়েছেন।

এরপর তিনি "দিওয়ানে আযীযের" ৪৭ পৃষ্ঠায় বিশিষ্ট সূফী হযরত আব্দুল হামীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ৬৯ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা আব্দুল লতীফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নাম উল্লেখ করেছেন। অথচ এই দুজন বুজুর্গও মুজাহিদে আযম হযরত সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সিলসিলা ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!!!

এতদ্বভিন্ন আরো সূফীদের মধ্যে সূফী আহসানুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহি, সূফী নূরুল হক্ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি, সূফী সাইয়্যিদ শামসুল হুদা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, গারাঙ্গীয়া সিলসিলার সূফী আব্দুল মজিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মাওলানা মুফতী মোজাফফর আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, কাজী সিরাজুল মুস্তফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, মাওলানা জাফর আহমদ বদরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মাওলানা মুহম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং আরো বহু বুজুর্গানে দ্বীন রয়েছেন যারা ভিন্ন ভিন্ন তরীক্বার মধ্যস্থতায় ফুরফুরা শরীফে পীর ছাহেব হযরত আবু বকর সিদ্দীক ফুরফুরাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও আমীরুল মু'মিনিন সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। এদের কারো কারো মাযার শরীফে গিয়ে সুন্নী নামধারী এই তথাকথিত শেরে বাংলা আযীযুল হক সরাসরি ফাতেহা পর্যন্ত পাঠ করেছেন এবং বহু বুজুর্গ থেকে রূহানী ফয়দা হাসিল করার চেষ্টা করেছে।

আল্লামা হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি চট্টগ্রাম জেলার একজন বিশিষ্ট ও মশহুর ওলী। উনার সিলসিলার বহু ভক্ত ও মুরীদ চট্টগ্রাম রয়েছেন। এই আযীযুল হক "দিওয়ানে আযীযে" হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর বেলায়েতের উচ্চ প্রসংসা করেছেন, উনাকে কুতুবুল ইরশাদ বলে সম্মোধন করেছে, এবং চট্টগ্রাম হালিশহরে উনার মাযার শরীফে একটি অভিনন্দন পত্র বা তাহনিয়ত নামা আয়নায় বাঁধিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। যার মধ্যে তাঁর বহু প্রসংসিত পংক্তি রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি পংক্তি এই যে," আমাদের সে হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রসংসা আমি কি করবো? তাঁর প্রসংসা করার মত ক্ষমতা আমার আদৌ নেই। যেহেতু নিঃসন্দেহে তিনি একজন 'শেখে ফয়াল' এবং নিখুঁত ওলী আল্লাহগনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বর্তমান জামানার কুতুবুল ইরশাদ। নিশ্চয়ই উনার মত কামিল পীর আমি এ পৃথিবীতে দেখি নাই। সাইয়্যিদ হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর প্রতি লক্ষ লক্ষ ধন্যবাদ ও মুবারকবাদ। যেহেতু তিনি মুরিদানদের জন্য নিঃসন্দেহে পূর্নিমার উজ্জ্বল চাঁদের ন্যায় একজন কামিল পীর ছিলেন। তিনি ঈমানদারদের জন্য মহা পরশ পাথর স্বরূপ ছিলেন। আয় আল্লাহ পাক! আপনি উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নামক শীর্ষস্থানীয় বেহেশত প্রদান করুন এবং আমার এ প্রর্থনা আল্লাহ পাক উনার হাবীব হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উসীলায় কবুল করুন।

ভুলে নিমজ্জিত শেরে বাংলা আপনার পাক দরবারে এসেছে, তাই হে সত্যের দিশারী হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আপনি আল্লাহ পাকের ওয়াস্তে আমাকে একটি কৃপা দৃষ্টি দান করুন।"'

উল্লেখ্য, এই হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুজাদ্দেদীয়া তরীক্বায় হযরত সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। আর এই শেরে বাংলা নামধারী আযীযুল হক মুনিরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফে উপস্থিত হয়ে উনার রূহানী ফয়েজ এবং করুনা লাভের জন্য নিজেকে অধম এবং গুনাহগার পর্যন্ত ভেবেছেন।

এই হলো রেজাখানীদের শেরে বাংলার অবস্থা। সারাদিন এনারা যাঁকে গালাগালি করেন, যাঁর সিলসিলাকে অভিশপ্ত বলেন, সেই সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সিলসিলার বুজুর্গদের প্রসংসায় মুখরিত হয়। তাদের করুনা দয়া ভিক্ষা করেন।

অবশ্য এটাইতো স্বাভাবিক, কারন সারা দুনিয়ায়তো বেলায়েতের এবং হিদায়েতের সিলসিলাতো আমীরুল মু'মিনিন সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতেই বিস্তৃত। তাই যেদিকেই চোখ দিক সেখানেই উনাদের বেলায়েতের নিদর্শনই দেখতে পাবেন এটাই বাস্তবতা....!!

কিন্তু কথা হচ্ছে এই বুজুর্গানে দ্বীন যাদের প্রসংসায় মুখরিত হয়ে আযীযুল হক উনার দিওয়ানে আযীযের পৃষ্ঠা ভারি করে ফেলেছেন সেই বুজুর্গদের সিলসিলার প্রধান আমীরুল মু'মিনিন, সুলত্বানুল আরেফীন, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে জামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি বিদ্বেষ করে কোন মুখে কোন সাহসে?

যার সিলসিলার ওলীদের কাছে ভিক্ষা চাইতে যান উনারই বিরোধিতা করা কি চরম মুনাফিকি নয়? এই নির্লজ্জ বেশরম মৌলবীরা যে সুযোগ সন্ধানী এবং ছদ্মবেশী এজেন্ট এটা কিন্তু আকল সম্পন্ন মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবে। এখনো সময় আছে যারা বিরোধিতা করে তারা যেনো হক্ব বুঝে ফিরে আসে নাহলে লানতপ্রাপ্ত ছাড়া কিছুই হবেনা।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: