11.28.2017

খ্রিষ্টান পোপের সফরের কারনে মুসলমানদের সবথেকে বড় ঈদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী পালনে নিষেধাজ্ঞা


খ্রিষ্টানদের সবথেকে বড় ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে মুসলমানদের সবথেকে বড় ঈদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার প্রশাসন। এ নিষেধাজ্ঞায় রাজধানী ঢাকায় পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে কোন প্রকার মাহফিল, জুলুস বা মিছিলের করা যাবেনা এবং এওর উপরে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

উল্লেখ্য, পোপ ফ্রান্সিস খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ৩০ নভেম্বর থেকে ২রা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরে আছে। এ সফরে সে ১লা ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে বাংলাদেশের ১৬ জন যাজককে অভিষিক্ত করবে। এ সমাবেশে ১০ হাজারেরও বেশি লোকের সমাগম ঘটবে বলে তারা আশা করছে। এই ১৬ জনের মধ্যে ১০ জন বিশপ, একজন পাদ্রী, পাঁচজন হোলি ক্রস মণ্ডলীর সদস্য (সিএসসি)। এছাড়া ঐ একই দিন রমনায় প্রবীন যাজকদের সাথে মিটিং, আর্চবিশপ হাউসের মাঠে অনুষ্ঠান করবে পোপ। উল্লেখ্য ঐ দিন বাদ মাগরীব থেকে মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরু হবে। কিন্তু পোপের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এ সময় সব ধরনের অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন।

একই সাথে ২রা ডিসেম্বর শনিবার পোপের বিভিন্ন ক্যাথলিক ধর্মীয় কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেজগাওয়ে মাদার তেরেছা ভবন পরিদর্শণ, যাজক ও সন্যাসব্রতীদের সাথে সমাবেশ, তেজগাও কবরস্থান ও পুরাতন গীর্জা পরিশর্দন। এছাড়া মতিঝিলের নটরডেম কলেছে প্রায় ১০ হাজার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে এক বিরাট সমাবেশের আয়োজনে প্রধান অতিথি হবে পোপ। উল্লেখ্য ঐ দিন (২রা ডিসেম্বর) মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আনন্দ মিছিল/র্যালি বা পবিত্র জসনে জুলুস উদযাপন করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর কাছে ৬৮টি সুন্নি দরবার/সংস্থা/সংগঠন/সমিতি আবেদন করেছে। কিন্ত পোপের সফরের কারণে কোন সংগঠনকেই কোন ধরনের অনুষ্ঠান পালনে অনুমতি দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। স্মরণীয় যে, সৌদি আরবসহ বিশ্বের ৪৮টি দেশে সরকারীভাবে মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হয়ে আসছে। বাংলাদেশে এ দিবস উপলক্ষে সর্বপ্রথম ছুটি ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু স্বাধীনতার পর ৪৬ বছরে এই প্রথম খ্রিষ্টান ধর্মগুরু পোপের ক্যাথলিক ধর্ম প্রচার নির্ভিগ্নে করতে মুসলমানদের পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন উপলক্ষে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সরকার। এদিকে পোপের সফরকে কেন্দ্র করে মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর মত একটি রাষ্ট্রীয় দিবসে সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করায় ধর্মপ্রাণ মুষলমানদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নবীপ্রেমী সুন্নী মুসলমানরা এ নিষেধাজ্ঞা আরোপে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, “৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করতে তাদের ধর্মীয় সমাবেশের জন্য মুসলমানদের এত বড় একটি পবিত্র ইবাদত উৎসবে বাধা দিয়ে সরকার খুবই নিন্দনীয় কাজ করেছে। এ ধরনের কাজ কখনই মেনে নেয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমার মন্ত্যবঃ আমরা এতদিন থেকে বলে আসছিলাম যে আওয়ামীলীগ সরকার কে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা কারো পক্ষেই সম্ভব না আর কোনদিন, তা মুক্তিযোদ্ধের বিপরীত শক্তি হোক বা মোসাদ দ্বারা গঠিত নব্য উগ্রপন্থী হিন্দুদের দল হোক, কিন্তু আমরা আর এই গ্যরান্টি দিতে পারছিনা যে আওয়ামীলীগ সরকার খ্রিষ্টানদের ধর্ম প্রচারের সুযোগ দিতে গিয়ে মুসলমানদের মহা পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনে বাধা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে। সরকারের জানা উচিৎ মহা পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সম্পৃক্ত যার বিপক্ষে যেই যাবে সেই ধ্বংস হবে সে যেই হোক, আর যে এই মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের সহযোগিতা করবে সে যদি কাফের মুশরেক হয় তাহলে সে সুযোগ পাবে ফায়দা হাসিল করবে যেভাবে যাহান্নামে গিয়েও আবুল লাহাব প্রতি সোমবারে তা হাসিল করছে এবং আজীবন করে যাবে।

এতএব আমি আবারো বলতে চাই আওয়ামী সরকারের নিতি নির্ধারকদের যে মহান আল্লাহ পাক প্রয়োজনে কোন কাফের মুশরিকদের এদেশের ক্ষমতায় আহোরন করাবেন তবুও আওয়ামীলীগ কে রাখবেন না, যদি আওয়ামীলীগ তার ক্ষমতা বলে অন্ধ হয়ে মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের বিপক্ষে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে না আসে।

সরকারের উচিৎ চিন্তা করা যে ৯৫% মুসলমানদের ক্ষেপীয়ে তাদের অভিশাপ নিয়ে ক্ষমতায় থাকা যাবে কি না।

আর জানার বিষয় হচ্ছে তথাকথিত খ্রিস্টান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের সর্বচ্ছো সুযোগ দিতে গিয়ে তারা যে মহাপবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন বন্ধ করে দিচ্ছে এই খ্রিষ্টানরা/হিন্ধুরা কি মক্কা মদিনার ইমামের ইসলাম প্রচারের সফরের কারনে খ্রিস্টমাস, হলোউইন, থ্যাঙ্কসগিভিং, জন্মাষ্টমি, বৌদ্ধপূর্ণিমার উৎসব উদযাপন বন্ধ করে দেবে? দেবেনা বরং মুসলমানদের সফর বাতিল করে দেবে। এতএব আবারো বলছি সরকার পতনের কুদরতি ফায়সালা যেনো সরকার নিজ হাতে না করে। কারন মহান আল্লাহ পাক সব কিছু বরদাশত করলেও উনার হাবীব হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেলায় মিলি সেকেন্ডের সময় নেন না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: