11.30.2017

পোক (পোপ) হোক কিংবা পিনাকী, কারো ক্ষেত্রেই যেন মুসলমানরা নিজেদের প্রত্যাশাকে অসম্ভব জায়গায় ঠেলে না দেয়


শেখ হাসিনা ও ভ্যাটিকান পোপের যুগল ছবিতে যখন সারা ঢাকা শহর ছেয়ে ফেলা হয়েছে, তখন ‘জিয়ার হিন্দু সৈনিক’ দাবিদার পিনাকী কেন পোপের জন্য কাছা বেঁধে নেমেছে, তা বোধগম্য নয়। পোপ যদিও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেনি তার সম্প্রতি শেষ হওয়া মিয়ানমার সফরে, তারপরও পিনাকীর ভাষ্যমতে মুসলমানদের জন্য এই পোপ নাকি ‘অনেক কিছু’ করে ফেলেছে। সে উদাহরণ দিয়েছে সিরিয়ার মুসলিম শরণার্থীদের, যাদেরকে পোপ পা ধুইয়ে ইউরোপে ঢুকিয়েছিল। কিন্তু এরপর তাদেরকে জোর করে শুকরের গোশত খাওয়ানো, শরণার্থী শিবির পুড়িয়ে দেয়া, বলপূর্বক খ্রিস্টান বানানোর বিষয়টি তো কারো অজানা নয়। অর্থাৎ পোপ ফ্রান্সিসের ভূমিকা তো অনেকটা বড়শির আগায় টোপ হিসেবে গাঁথা ‘পোক’টির মতো, যার লোভ দেখিয়ে সিরিয়ার মুসলমানদের ইউরোপে নিয়ে জায়গামতো কোপ দেয়া হয়েছে।

তবে পিনাকীও জানে, এইসব খোঁড়া যুক্তি দিয়ে নিজের পাঁড় ভক্ত ছাড়া অন্য কাউকে বোঝানো যাবে না। তাই সে যুক্তি পেশ করেছে, “দেখেন পোক ফ্রান্সিস কিন্তু খেরেসটান, তাই মুসলমান হিসেবে নিজের প্রত্যাশাকে অসম্ভব জায়গায় ঠেলে দেবেন না।” নিজের প্রত্যাশাকে “অসম্ভব জায়গায় ঠেলে দেয়া” প্রসঙ্গে ইসলামের প্রাথমিক যুগের রোমান রাজা হিরাক্লিয়াসের কথা মনে পড়ে গেল। তার কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছালে সে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের ভবিষ্যদ্বাণী ও অন্যান্য লক্ষণ বিবেচনা করে স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শেষ নবী হিসেবে আগমন করেছেন। তাই একপর্যায়ে সে রাজসভায় প্রকাশ্যে ঘোষণা করল, সে মুসলমান হতে চায়।

সাথে সাথে তার রাজসভা উত্তাল হয়ে উঠল। হিরাক্লিয়াস ভয় পেয়ে গেল এই ভেবে যে, মুসলমান হলে তো তার রাজত্ব থাকবে না। ঈমানের বদলে সে দুনিয়াবী রাজত্ব বেছে নিল। তবুও সে ইনিয়ে বিনিয়ে বারবার চিঠি লিখে বোঝানোর চেষ্টা করত, সে মুসলমানদের শুভাকাঙ্খী কিংবা মুসলমানদের বন্ধু। কিন্তু নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসবে কর্ণপাত করেননি। “সে খ্রিস্টান ছিল, খ্রিস্টান আছে” এটাই ছিল সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মনোভাব। কারণ উনারা “নিজেদের প্রত্যাশাকে অসম্ভব জায়গায় ঠেলে দিতেন না”। কুরআন শরীফে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক বলেছেনঃ- [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ] “তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু।” সুতরাং মুসলমান হিসেবে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের নিকট প্রত্যাশা করাটা, মদ কিংবা শুকরের গোশতকে হালাল হিসেবে আশা করার মতোই কুফরী কাজ। বিশেষ করে খ্রিস্টান পোক ফ্রান্সিসের ক্ষেত্রে তো এই কথাটি আরও বেশি করে খাটে। যেই জর্জ সরোস নামক ইহুদীটির নাম বারবার শোনা যাচ্ছে রোহিঙ্গা গণহত্যার ইন্ধনদাতা হিসেবে, সেই ইহুদীটির বন্ধু হিসেবে পোক ফ্রান্সিসের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি রয়েছে! গুগলে কেবল pope francis soros লিখে সার্চ দিন, নিচের ছবির মতো শত শত ছবি পেয়ে যাবেন ২০১৬-১৫ সালে প্রকাশিত। কোনটিতে পুতুলনাচের মতো সরোস এই পোকটাকে নাচাচ্ছে, কোন ছবিতে আবার সরোসের পা ধুয়ে দিচ্ছে এই পোক। উইকিলিকসে প্রকাশিত হয়েছে- “দ্য পোপস বস: পোপ এন্ড সরোস এন আনহোলি এলায়েন্স”। (লিঙ্কঃ http://bit.ly/2AYRzzK)

রোহিঙ্গা হত্যাকারী জর্জ সরোসের পুরাতন শিষ্য এই পোকের প্রতিই মুসলমানদের কৃতজ্ঞতায় ফুটিফাটা হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পিনাকী ভট্টাচার্য। উল্টো বলেছে, দেখেন বেশি ‘আশা’ করবেন না, খ্রিস্টান পোক কলাটা মূলাটা যা দিয়েছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন। হয়তো পিনাকী লক্ষ্য করেছে যে, মুসলমানদের স্বভাবই হচ্ছে খুব অল্পতে সন্তুষ্ট হওয়াটা। এই আওয়ামী লীগ হিন্দু ও নাস্তিকদের যতোই সুবিধা দিক, যতোই তৈল মালিশ করুক, তারা কিন্তু কখনোই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে না। কিন্তু মুসলমানরা, সামান্য দিলেই খুশিতে বত্রিশ দাঁত বের করে ফেলে। এই অতি অল্পতে সন্তুষ্ট হওয়ার কারণেই মুসলমানদেরকে ‘সংখ্যাগুরু’ হয়েও সংখ্যালঘুদের মতো জীবনযাপন করতে হয়। এই পোকটা সারা ঢাকা শহরে ঘুরে ঘুরে খ্রিস্টানদের নিয়ে র‌্যালী করবে, প্রার্থনা সভা করবে, আর এর জন্য ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফের সমস্ত অনুষ্ঠান নাকি বন্ধ রাখতে হবে! সংখ্যালঘুদেরও যারা সংখ্যালঘু, সেই খ্রিস্টানদের জন্যও যদি মুসলমানদের আপোষ করতে হয়, তারপরও মুসলমানদের কি করে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বলা যায়? অবশ্য হাইকোর্টের রুলে ইতিমধ্যেই সরকারের এই অনৈতিক নির্দেশ বাতিল বলে সাব্যস্ত হয়েছে।

পরিশেষে এটুকুই বলতে হয়, শুধু ‘পোক’টা নয়, পিনাকীকে নিয়েও মুসলমানরা যেন নিজেদের প্রত্যাশাকে অসম্ভব জায়গায় ঠেলে না দেয়। ‘জিয়ার হিন্দু সৈনিক’ পিনাকী কেন হাসিনা-পোকের যুগলবন্দীকে সাপোর্ট দিচ্ছে, এর উত্তর খুঁজতে গেলেই বের হবে পিনাকীর প্রকৃত রূপ। হাসিনার অনুকূলে পিনাকী পোককে সমর্থন করছে না, সে পোককে সমর্থন করছে আমেরিকা-ইসরায়েলের এজেন্ট হিসেবে। “হিন্দু মহাজোট” নামক ইসরায়েলপন্থী উগ্র হিন্দু সংগঠনটির নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক, যে ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে শেখ মুজিবকে গালিগালাজ করে, সে কিন্তু পোকের আগমনে খুশি হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে। পিনাকীও খুশি হয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে। এরা উভয়ই একই দানবের আলাদা দুটো হাত, একহাত হিন্দুদেরকে ত্রিশূল ধরতে বলে, আরেকহাত মুসলমানদেরকে পরামর্শ দেয় হিন্দু আর খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে মেনে নিতে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

1 comment: