11.16.2017

পবিত্র জুমুয়াহ শরীফের ফজিলত এবং এই দিন মুমিন মুসলমানদের কি কি করনীয়

আসসালামু আলাইকুম, পবিত্র জুমুয়াহ মোবারক আজ আপনাদের সামনে পবিত্র জুমুয়াহ শরীফের ফজিলত সম্পর্কে কিছু দলিল প্রমান পবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও হাদিস শরিফ উনাদের থেকে তুলে ধরবোঅজানায় হয়ে থাকা ভুল ত্রুটির জন্য অগ্রিম ক্ষমা চাচ্ছি মহান আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন উনার কাছ, তিনি ক্ষমা করুন

পবিত্র দ্বীন ইসলামে পবিত্র এই দিনটি যে কি পরিমান বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে আছেন তা আমাদের অনেকেই জানেনা! পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন

অনেকেরই জানা নেই যে পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র দ্বীন ইসলামে পবিত্র জুমুয়াহ শরীফের দিনটি অনেক বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ

মহান আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফ উনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক করেন (মুমিনগণ, পবিত্র জুমুয়াহ শরীফের দিনে যখন নামাযের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণের পানে ত্বরা করো এবং বেচাকেনা বন্ধ করোএটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝোঅতঃপর পবিত্র নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ তালাশ করো ও মহান আল্লাহ পাক উনাকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও)

দলীলঃ সূরাহ পবিত্র জুমুয়াহ শরিফঃ আয়াত শরিফ ৯-১০)

শুধু কি তাই এই দিনে প্রথম মানুষ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এইদিনেই উনাকে বেহেশতে স্থান দেয়া হয়েছে, এবং এই দিনেই তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং সপ্তাহের সাতটি দিনের মাঝে পবিত্র জুমুয়াহ শরীফের দিন যেদিন সেদিন তিনি বিছাল(অফাৎ) শরীফ লাভ করেনপবিত্র জুমুয়াহ শরীফবার দুআ কবুলেরও দিন, তবে দুয়ায় হারাম কোন কিছু চাওয়া যাবে নাএই দিনেই সংঘটিত হবে সম্মানিত কিয়ামত মহান আল্লাহ পাক পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফকে অন্যান্য দিনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন! রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই দিনটির এরকম আরো কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিতঃ রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেনঃ আমাদের পূর্বে যারা এসেছিলেন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ থেকে দূরে রেখেছিলেনইহুদীদের ছিল শনিবার এবং নাসারাদের ছিল রবিবারঅতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফবারের ব্যাপারে জ্ঞান দিলেনতাই পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ, ইয়াওমুল সাব্‌ত(শনিবার), ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার) যেভাবে ক্রমানুসারে আসে, হাশরের দিনে ও তারা আমাদের অনুসরণ করবেআমরা এই পৃথিবীর সর্বশেষ উম্মত কিন্তু হাশরের দিন আমরা সবার অগ্রে থাকব এবং আমাদের বিচার কার্যও অন্য সবার পূর্বে হবেরাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফএই দিনে আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল; এই দিনেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন, এই দিনেই শিঙ্গায় ফু (সম্মানিত কেয়ামত) দেয়া হবে এবং সকল সৃষ্টিকূল ধ্বংশ হয়ে যাবেকাজেই এই দিনে বেশি বেশি করে দরুদ পড়ো

দলীলঃ কিতাব সূত্রঃ সুনান আবু দাউদ শরীফ ৪/২৭৩।

আবু লুবাবাহ ইবন আল-মুনধির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ সব দিনের সেরা, এই দিন আল্লাহ আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেন, এই দিনেই পৃথিবীতে প্রেরণ করেন, এই দিনেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন, পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের দিনটিতে এমন একটি নিদৃষ্ট সময় আছে যখন আমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে যাই(হারাম কোন কিছু ছাড়া) চাই না কেনো মহান আল্লাহ পাক তা কবুল করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না এমন কিছু চাওয়া হয় যা ইসলামে নিষিদ্ধএই দিনেই হবে কেয়ামতএমন কোন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম নেই, নেই কোন আসমান, নেই কোন যমীন, নেই কোন পর্বত আর নেই কোন সাগর যে কিনা পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ দিনটিকে ভয় করে না

দলীলঃ কিতাব সূত্রঃ ইবন মাজাহ শরীফ ০৮৪।

পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের দিনটিতে করনীয় মোবারক সুন্নাতগুলো নিচে প্রদান করা হলোঃ

(১) ফজরের সালাত জামাতে আদায় করুন।

(২) সালাত আল-জুমুয়াহ শরীফের পূর্বের এবং পরের করণীয়ঃ
পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের দিন গোসল করা (বুখারী শরীফ এবং মুসলিম শরীফ ১৯৫১ ও ৯৭৭)
পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের সালাতে শীঘ্র উপস্থিত হওয়া (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ ৯২৯ এবং ১৯৬৪)
পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন করা (তিরমিজি শরীফ ৪৯৬)
মনোযোগ সহকারে পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের খুৎবা শোনা (বুখারী শরীফ ৯৩৪; মুসলিম শরীফ ৮৫১)

(৩) জুম্মার দিন আপনার দুয়া কবুল হবার সেই মুহূর্তটির অনুসন্ধান করুন (বুখারী শরীফ এবং মুসলিম শরীফ ৯৩৫ এবং ১৯৬৯)

(৪) সূরা কাহাফ শরীফ, তিলাওয়াত করা। (আল-হাকিম শরীফঃ ২/৩৯৯; আল-বায়হাকী শরীফঃ ৩/২৪৯)


(৫) আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর দুরদ শরীফ পাঠ করুনঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ ১০৮৫, আবু দাউদ শরীফঃ ১০৪৭)

পবিত্র জুমুয়াহ শরীফের ফযিলতঃ

বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফে যে হাদিস শরীফ টি বর্ণিত আছে এখানে সেই হাদীস শরীফটি উল্লেখ করা হল, আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ দিনের ফযিলত সম্পর্কে বলেন, “পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফে এমন একটি ক্ষণ আছে যখন একজন মুসলিম, যে নামাজ আদায় করেছে এবং দুয়া করেছে সেই দুয়া কবুল করা হয়ে থাকে”. তিনি (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার হাতের দ্বারা ইশারা করে বোঝান যে, তা খুব অল্প একটি সময়

দলীলঃ (বুখারি শরীফ ও মুসলিম শরীফ)।

শুক্রবারের আরেকটি ফযিলত হল জুমার নামাযএর গুরুত্ব এতই অধিক যেপবিত্র কুরআনে আল-জুমুয়াহ নামে একটি পূর্ণ সুরা রয়েছে যা আমি উপরে উল্লেখ করেছি মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআন শরীফে পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “মুমিনগণ, পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের দিনে যখন নামাজের জন্য আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণের পানে তাড়াতাড়ি করো এবং বেচাকেনা বন্ধ কর অর্থাৎ খুব দ্রুততার সাথে ব্যবসাবাণিজ্য বন্ধ করে মসজিদে গিয়ে খুতবা, নামাজে শরীক হওএটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ

এটি এমন একটি দিন যে দিন মহান আল্লাহ তায়ালা, পরম করুনাময় আমাদের সগীরা(ছোট গুনাহ) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন, শুধুমাত্র ঐ দিনেরই নয় বরং পুরো সপ্তাহের এবং সাথে অতিরিক্ত আরো তিন দিনের

সহীহ মুসলিম শরীফে হাদীস শরীফটি বর্ণিত আছে এভাবেঃ হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যদি কেউ যথাযথভাবে ওযু পবিত্রতা অর্জন করে, এরপর পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের নামাযে আসে, এবং মনোযোগের সাথে খুতবা শরীফ শুনো এবং নীরবতা পালন করে তবে তার পুরো সপ্তাহের এবং সাথে অতিরিক্ত আরো তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন, পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ উনার রাতে বা দিনে যে ব্যক্তি ঈমান নিয়ে মারা যায়; মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দিবেনসুবহানআল্লাহ
দলিল তিরমিযী শরীফ ১০৭৮

যে ব্যক্তি পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ দিনে সুরা কাহফ শরীফ এর প্রথম ১০ আয়াত শরীফ পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে
দলিলঃ মুসলিম শরীফ

রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের দিনে সূরা আল-কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য মহান আল্লাহ পাক পবিত্র দুই ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের মাঝে নূর আলোকিত করবেন
দলিলঃ ইমাম নাসাঈ ও বায়হাকী হাদিসটি বর্ণনা করেন

পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের নামাজ যোহরের তুলনায় একটু দেরীতে পড়া সুন্নতঃ

 সুরাইজ ইবনু নুমান রহমাতুল্লাহি আলাইহি -আনাস ইবনু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফের সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন, যখন সূর্য হেলে যেত
দলীলঃ বুখারী শরীফ, জুমুয়া অধ্যায়, হাদীস ৮৫৮

 রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম জুমার দিনএই দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল; এই দিনেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন, এই দিনেই শিঙ্গায় ফুঁ (সম্মানিত কেয়ামত) দেওয়া হবে এবং সকল সৃষ্টিকূল ধ্বংস হয়ে যাবেকাজেই বেশি বেশি করে আমার নামে দরুদ শরীফ পাঠ করো এই দিনে, কারণ তোমাদের পাঠকৃত দরুদ শরীফ আমার কাছে দেখানো হবেতারা বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যখন আপনি ধূলার সঙ্গে মিশে যাবেন (নাউযুবিল্লাহ) তখন কিভাবে আমাদের দুরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে?

 নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি জবাবে বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাক মাটিকে নিষেধ করেছেন নবী রাসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের দেহ ভক্ষণ না করতে (সুবহানআল্লাহ)

দলীলঃ (আবু দাউদ শরীফঃ ৪/২৭৩)

হে মহান আল্লাহ পাক, পবিত্র ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ দিনের সম্মানার্থে আমাদের সকলকে দয়াকরে ক্ষমা করে দিন আমিন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: