12.07.2017

এমন কোন কাটমিস্ত্রী এবং এমন কোন শিশু কি এই যামানাতে নাই?


১৯৬৯ সালে এক অস্ট্রেলীয় ইহুদী নাগরিক পবিত্র আল আকসা শরীফ মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন বেশ বড় আকার ধারণ করেছিলো। যার ফলে পবিত্র এই মসজিদের পূর্বপাশটা পুরোপুরি পুড়ে যায়। ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডামায়ার ওইদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন- ওই দিন সারা রাত আমার ঘুম হয় নি। আমার কেবলই মনে হচ্ছিলো আজকে ইসরাইলের শেষ দিন। এখনি আরবরা চতুর্দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়বে। কিন্তু যখন সকাল হল এবং আমার কোন আশংকাই বাস্তব হলো না তখন আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে, এখন থেকে ইসরাইল নিরাপদ। আরবরা এখন ঘুমন্ত জাতি। আমরা তাদের এই ঘুম আর ভাঙতে দেব না

গত ১৪ই জুলাই ঘটনা শুরু হওয়ার পর লাগাতার ৬ দিন পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে পবিত্র আযান, পবিত্র নামায সব বন্ধ ছিল। প্রথম ৩ দিন কোন ফিলিস্তিনিকেই পবিত্র মসজিদুল আকসা শরিফে ঢুকতে দেয়া হয় নি। সেখানে ইসরাইলী সেনা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদলের প্রতিনিয়ত আনাগোনা ছিল। তারা সেখানে তিন দিন ধরে কী করেছে তা কেউ জানে না। আল-আকসার ওয়াকফ সম্পত্তি এবং কুদসের মুসলমানদের সব ডেমোগ্রাফিক ডকুমেন্ট সেখানে রক্ষিত থাকে। সেগুলো এখনও সংরক্ষিত আছে কি না সে ব্যাপারে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

৬৯ সালের ঘটনাটির পর এটিই হচ্ছে পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় হামলা। কাতার, তুরস্ক, জর্ডান, বাংলদেশ ছাড়া মুসলিম নামধারী আর কোন মুনাফিক রাষ্ট্র এই ঘটনার নিন্দা জানায় নি। যারা সন্ত্রাসের দোহায় দিয়ে একটি মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাদের মুখ দিয়ে পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের জন্য একটি বাক্যও বের হয় নি।
.
যারা পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের ব্যাপারে নির্লিপ্ত আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, তারা পবিত্র আল হারামাইনের ব্যাপারেও নির্লিপ্ত থাকবে শিউর।

পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের ঘটনার পরে ফিলিস্তিনের টিভি চ্যানাল আল- আকসার একজন সাংবাদিক ৩০ জন সৌদি আলেমের সাথে যোগাযোগ করে চলমান ঘটনা সম্পর্কে কিছু বলার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করেন। তাদের মধ্যে একজনও সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয় নি। তারা মহান আল্লাহ পাক উনার চেয়ে তাদের শাসকদেরকে বেশী ভয় করে নাউযুবিল্লাহ। তাদের আনুগত্য করাকে বেশী প্রাধান্য দেয় নাউযুবিল্লাহ। এরাই আবার কথায় কথায় শিরক আর কুফুরের ফতোয়া মারে নাউযুবিল্লাহ!!!


গতকাল ইসরাইলী পত্রিকা মাআরিফলিখেছে- ইসরাইল হচ্ছে সৌদি আরবের গোপন প্রেমিকা। এখন আর গোপন অভিসার নয়, প্রকাশ্যেই মৈত্রী করতে চায়। ওইদিন ইউটিউবে একটি ভিডিও শুনছিলাম। ফিলিস্তিনের আল খলীল শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক ইহুদী ফিলিস্তিনিদেরকে চরমভাবে গালি দিচ্ছে আর বলছে- তোদের মাথা থেকে ফিলিস্তিনের ভুত এখনও নামে নি? দেখ, মিসর, জর্ডান। সৌদি আরব সব আমাদের পক্ষে এখন। জাহান্নামে যাক তোদের ফিলিস্তিন।

একটি ঘটনা বলে শেষ করছিঃ- ১০৯৯ সালের পরের কোন এক সময়। তখন কুদস খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের দখলে। বাগদাদ শহরে একজন কাঠমিস্ত্রি থাকতো। লোকটি একদিন খুব সুন্দর একটি মিম্বার বানালেন। চারিদিক থেকে লোকেরা দলে দলে এসে মুগ্ধ হয়ে মিম্বারটি দেখছে। ক্রেতারা বেশ চড়া মুল্য দিয়ে হলেও মিম্বারটি কিনতে চায়। কিন্তু বুড়োর এক কথা- তিনি এটি বিক্রি করবেন না। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো- তা হলে আপনি এতো কষ্ট করে এটি বানালেন কেন? তখন মিস্ত্রি উত্তর দিলেন- এটি বানিয়েছি পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে লাগানোর জন্য। লোকেরা তার কথা শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফ এখনও খ্রিষ্টানদের দখলে আর এই বুড়ো বাগদাদে বসে তার জন্য মিম্বার বানাচ্ছে। কেউ কেউ তাকে পাগলও ঠাওরাল। তখন বৃদ্ধ কাঠমিস্ত্রি বললেন- এটিই তো আমার পেশা। আমি তো আর যোদ্ধা নই। তার উপর আবার বৃদ্ধ। তো আমার যা সাধ্যে আছে তা-ই পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের জন্য ব্যায় করছি। আমার কাজ মিম্বারটি বানানো। সেটি পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে বসানোর লোক মহান আল্লাহ পাক তিনি ঠিক করে দেবেন। ওইদিন একজন শিশুও উনার বাবার হাত ধরে ওই কাঠমিস্ত্রির মিম্বারটি দেখতে গিয়েছিলেন। ঠিক একদিন সেই শিশুটির হাতে পবিত্র আল কুদস শরীফ বিজয় হয়, এবং তিনি মিম্বারটি সংগ্রহ করে নিজ হাতে তা পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে লাগিয়ে দেন। শিশুটির ছিলেন সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহি !!!


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: