1.24.2018

মুসলমানদের প্রতিবাদ যখন নাস্তিক করে দেয়...

আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর দুর্গাপূজার ছুতোয় রাজপথ বন্ধ করে দেয়া নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে, এখন সরস্বতী পূজাতেও তা বাকি নেই। পাবলিক ভার্সিটি তো দূরে, সেদিন দেখলাম রাজপথের পাশের প্রাইভেট ভার্সিটির হিন্দু শিক্ষার্থীরাও রাজপথ বন্ধ করে উচ্চশব্দে অশ্লীল গান ছেড়ে সরস্বতীর প্রচার করছে।

এর প্রতিবাদ মুসলমানদের করা উচিত ছিল, কিন্তু না। প্রতিবাদ করল নাস্তিক্যবাদী বাংলা ট্রিবিউনএর সাংবাদিক আনিস আলমগীর। যেভাবে সে বললোঃ

//তোমার মাটির মা বিদ্যা দিতে পারে এটা আমার তখনও বিশ্বাসে ছিল না এখনও নেই। তাই বলে তোমার মতো আমাকে মা মা করতে হবে কেন! একটা প্রায় ৯০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের দেশে তুমি মাটির পুতুলের কাছে বিদ্যা চাওয়ার জন্য একদিন স্কুল কলেজ বন্ধ রাখবা- মুসলমান ছেলে মেয়েদের দিয়ে প্রতিমা সাজাবা- এই আবদারতো আমরা দিনের পর দিন মেনে আসছি। কারও অনুভুতিতে লাগেনা? পৃথিবীর কয়টি দেশে সংখ্যালঘুর এই আবদার মানা হয়।//

এভাবে তো কোন মুসলমান সেলেব্রেটিকে বলতে শোনা গেল না। যারা নিজেদেরকে ইসলামিস্ট দাবি করে, হাজার হাজার লাইক কামায়, আরিফ আজাদ, সদালাপ, হ্যান ত্যান তাদের কেউই আনিস আলমগীরের কড়া কথার ধারেকাছে দিয়েও যায়নি। ঢাকা শহরে পূজা উপলক্ষে যেসব তোরণ তৈরী করা হয়, তার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়ে দেবীমূর্তির পায়ের তলা দিয়ে যেতে হয়। হিন্দুর পূজায় স্কুল ছুটি দেয়ার প্রতিবাদ তো মুসলমানের করার কথা ছিল, অথচ তা করেছে নাস্তিক্যবাদী পত্রিকার সাংবাদিক।

কারণ মুসলমান হিসেবে যে অধিকার, তা নিয়ে মুসলমানরা মোটেই সচেতন নয়। বিপরীতে নাস্তিকেরা-সেক্যুলাররা নিজেদের অধিকার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। যে কারণে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাসে দেখা যায়, যারা পাকিস্তান চেয়েছিল তারা ধার্মিক মুসলমান ছিল না, বরং অনেকটাই সুশীল শ্রেণীর যুবক ছিল। মুসলমান পরিবারের সন্তান এসব যুবকেরা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল, এই যে তারা পড়াশুনা করে, বিএ-এমএ পাস করে যোগ্যতা অর্জন করল, এই যোগ্যতা নিজেদের একটা ভূখণ্ড না হলে কাজে লাগানো যাবে না। হিন্দুরা সবকিছু দখল করে নিলে তারা চাকরি-ব্যবসা কিছুই করতে পারবে না।

বিপরীতে আবুল কালাম আজাদ, দারুল উলুম দেওবন্দ, যারা কিনা ধার্মিক মুসলমান বলে যারা নিজেদের দাবি করত, তারা ছিল সমস্তপ্রকার মার খেয়ে হলেও হিন্দুদের সাথে একতরফা ভালো সম্পর্ক রাখার পক্ষপাতী। এরাই কিন্তু আসামকে ভারতের সাথে যুক্ত করেছিল, পরবর্তীতে এদের কারণে সিলেটও ভারতের সাথে যুক্ত হওয়ার উপক্রম হয়। তখন যদি আসামের মুসলমান এলাকাগুলো সিলেটের ন্যায় বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হতো, তাহলে আজকে আসামের মুসলমানদের উদ্ধাস্তু হওয়ার হুমকিতে পড়তে হতো না।

পাকিস্তান হওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় প্রতিবাদ, তা নাস্তিকেরা করেছিল বলেই পাকিস্তান হওয়ার পরও তা কিন্তু মুসলমানদের কল্যাণে কাজে আসেনি। পাকিস্তান ছিল আমলা আর বুর্জোয়া শ্রেণীর লোকদের হাতিয়ার, আর পাঞ্জাবী ও বিহারী আমলা-বুর্জোয়াদের কারণেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। প্রতিটি আন্দোলনের ক্ষেত্রেই প্রতিবাদী ও কড়াভাষী লোকদের দরকার হয়, কিন্তু মুসলমানরা অতি দয়াবশত, হিন্দুপ্রেমবশত কখনোই তা হতে পারে না। যে কারণে তাদের আন্দোলনের সম্মুখে সবসময় নাস্তিক ও হিন্দুরা জায়গা করে নেয়, কারণ তারা তো মুসলমানদের মতো অছাম্প্রদায়িকনয়। অছাম্প্রদায়িক ব্যক্তি কখনোই নেতা হতে পারে না, নেতৃত্ব সবসময়ই প্রকৃতির নিয়মে সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির হাতেই ঘুরেফিরে ন্যস্ত হয়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: