3.28.2018

মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত বিষয়ক রিট নিয়ে ৭১ টিভিতে টকশো বনাম কিছু সাম্প্রদায়িক কথা


সবাই বলছে, মাদ্রাসা ছাত্ররা পিছিয়ে আছে। এবং বলতেছে মাদ্রাসা ছাত্রদের এগিয়ে নিতেই নাকি জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া।

কিন্তু, এটর্নী জেনারেল নিজেই বলছে, শুনানির সময় হাইকোর্টে অসংখ্য মাদ্রাসার ছাত্র উপস্থিত ছিলো। এবং টকশো আলোচকরা বলছে, সংবিধান আর আইনের মাঝে গ্যাপ আছে। সেই গ্যাপ দিয়ে তারা রিট করার সুযোগ নিয়েছে। এ কথা শুনে এর্টনী জেনারেল বলেছে, সে বিষয়টি আগে জানতো না, এখন জানায় সে সরকারের গোচরে আনবে।

পাঠক ! ভালভাবে খেয়াল করুন। তারাই বলছে, মাদ্রাসা ছাত্ররা পিছিয়ে আছে, আবার নিজেই বলছে, শুনানির সময় অসংখ্য মাদ্রাসা ছাত্র কোর্টে উপস্থিত ছিলো। এখানে আমার কথা হলো- যে মাদ্রাসা ছাত্ররা তাদের অধিকার নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দারস্থ হতে পারে তাদের কি আপনি পিছিয়ে পড়া বলবেন? অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থায়ও তো অনেক অসঙ্গতি আছে। কোথায়, সে সব ছাত্ররা তো কোর্টের দারস্থ হয় না। কিন্তু মাদ্রাসা ছাত্ররা সংবিধান ও আইন নিয়ে হাইকোর্টের দারস্থ হওয়ার পরও আপনি বলতে পারেন না, তারা জ্ঞান-গরিমায় পিছিয়ে আছে। এমনকি সরকারিভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনজীবি (এটর্নী জেনারেল) যে আইন ধরতে পারেনি, সেটা মাদ্রাসা ছাত্ররা ধরে দিয়েছে এবং সেই সর্বোচ্চ আইনজীবি মাদ্রাসা ছাত্রদের থেকে আইন শিখে এখন সরকারের উপরের মহলকে জানাবে বলে জানাচ্ছে।

এরপর তো আপনি বলতে পারেন না, মাদ্রাসা ছাত্ররা পিছিয়ে আছে ? বরং বলতে পারেন, মাদ্রাসা ছাত্ররা (ধর্মীয় চেতনায়) যতটুকু এগিয়ে আছে এবং তাদের থেকে জ্ঞান-গরিমায় এগিয়ে না যেতে পারে, সেটার লাগাম টেনে ধরতেই ঢুকানো হচ্ছে শিরিকে পূর্ণ, নাস্তিকতা ও হিন্দুত্ববাদ সমৃদ্ধ কথিত জাতীয় সঙ্গীত, যেন তারা ধর্মীয় চেতনাহীন প্রতিক্রিয়াশূণ্য হয়ে পড়ে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করতে পারে

তাদের ভাষায় মাদ্রাসার ছাত্ররা এখনো পাক্কা মুসলমান, তারা এখনো কাফের হয় নাই বিধায় পিছিয়ে আছে, রবি ঠগ এর দেবী বন্দনা জাতীয় সংগীত গাইলেই মাদ্রাসার ছাত্ররা এগিয়ে যাবে, ছি শালার গণ্ডমূর্খ এইগুলারে আল্লাপাক হেদায়েত দিবেন না ধ্বংস করে দেবেন তা এখন দেখার বিশয় যদিও এরা মুনাফিকের জাত।

আর যেহেতু বর্তমান সরকার এর অধিকাংশ আমলা হিন্দু ঘেষা। তাই তারা চাচ্ছে মাদরাসাগুলোতে রবি ঠগের সংগীত চর্চা করতে দিয়ে শুক্ষভাবে মুসলমানদের ইমান আমল নষ্ট করা যদি যায়। তবে তারা জেনে রাখুক তাদের দিন শেষ হয়ে আসছে, তারা অচিরেই ধংশ হয়ে যাবে, বিলিন হয়ে যাবে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে কথিত পতিতালয়ের মালিকের নাপাক সন্তানের দেবী বন্ধনা ও বাংলাদেশ বিরোধী কবিতাখানি এদেশে তো আজ নতুন করে জাতীয় সংগীত হয় নাই, হয়েছে তো দেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথেই। তাহলে এতো বছর পর হঠাৎ কেন জোর করে ৯৮% মুসলমানদের দ্বীনি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় পাঠ করানো হবে? এখানে কারা কারা ইন্ধন যোগাচ্ছে তাদেরকে আগে চিহ্নিত করা দরকার। তারাই আসল চক্রান্তকারী। এদের সময় সুযোগ হলে তাদের বানানো আইন দিয়ে শুলে চড়াতে হবে।

সবশেষে বুঝলাম, নাস্তিকরা যখন পথে-ঘাটে সন্ত্রাসীপনায় আর মিডিয়ায় গালাগালিতে ব্যস্ত, তখন মাদ্রাসা ছাত্ররা আইন মেনে হাইকোর্টে আইনী লড়াইয়ে নেমেছে, এটা ধর্মবিদ্বেষীরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। আমি তো বলবো- মাদ্রাসা ছাত্রদের কাছে নাস্তিক্যবাদীদের কৌশলগত পরাজয় ঘটেছে, তাই তাদের এত জ্বালা।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: