8.26.2018

হালাল বাল্য বিবাহ বনাম হারাম লিভ টুগেদার, যেভাবে নির্ভিগ্নে করা যায়


বর্তমান সমাজে ছেলে/মেয়ে যেই হোক যদি তার অল্প বয়সে শরীরে যৌবন আসে তবে সে কোন ভাবেই হালাল পন্থায়, লিগ্যাল ওয়েতে তা মেটাতে পারবেনা তবে হারাম পন্থায় ঐ একিই কাজটি সে অনায়াসে করতে পারবে। আজ আপনাদের এই বিষয়টি বোঝাতে এই পোষ্টটি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

সুমন ভাইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি তিনি বলেন, অল্প বয়সে অর্থাৎ বাল্য বিবাহ করার কারনে এক কপোত কপোতীকে আসামীর কাটগড়ায় দাঁড় করায় জনৈক পুলিশ আর কথিত নারীবাদী। কিন্তু তাদের ফাঁদে আটকে যায়নী চতুর এই কপোত কপোতী যা নিম্নরূপঃ

১ম উকিলঃ মাননীয় জজ সাহেব, আসামি ওবায়দুলের বয়স ১৮। সরকারী আইন অনুযায়ী সে নাবালক। অথচ সে বিয়ে করেছে যা বেআইনি। আমি এই ব্যাপারে আসামিকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই।
জজ সাহেবঃ অনুমতি দেয়া হল।
১ম উকিলঃ আপনার নাম ওবায়দুল?
আসামীঃ জি।
১ম উকিলঃ আপনি বিয়ে করেছেন?
আসামীঃ জি না।
১ম উকিলঃ মানে? ঐ মেয়েটি তাহলে আপনার কি হয়?
আসামীঃ ও, সে! সেত আমার প্রেমিকা। বউ টউ কিছু না।
১ম উকিলঃ শুনলাম মেয়েটা আপনাদের বাড়িতেই থাকে।
আসামীঃ তা থাকে।
১ম উকিলঃ বউ নয় অথচ আপনাদের বাড়িতে থাকে? মানে কি?
আসামীঃ মানে তেমন কিছু না। আসলে আমরা লিভ টুগেদার করছি। লিভ টুগেদার মানে বুঝেন? এর বাংলা হচ্ছে একত্রে থাকা। বিয়ে টিয়ে কিছু না। বিয়ে করলে তো বিয়ের রেজিস্ট্রেশন থাকত।
১ম উকিলঃ আই সি। মাননীয় জজ সাহেব আমি এবার আসামীর স্ত্রী মিসেস সায়মাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই।
জজ সাহেবঃ করুন।
১ম উকিলঃ মিসেস সায়মা, আসামি বলছেন আপনাদের নাকি বিয়েই হয় নি?
সায়মাঃ আমাকে মিসেস বলবেন না। মিস বলবেন। আর আসামীর কথা সত্য।
১ম উকিলঃ তার মানে আপনারা লিভ টুগেদার করছেন?
সায়মাঃ জি।
১ম উকিলঃ আপনার বিয়ে হয়নি বলছেন? অথচ আমি শুনলাম আপনি সন্তান সম্ভবা। ব্যাপারটা কি?
সায়মাঃ উকিল সাহেব লিভ টুগেদার করলে এসব একটু আধটু হয়ই। আপনি দেখি এখনো ১০০ বছর আগের জামানায় পড়ে আছেন।
১ম উকিলঃ মাননীয় জজ সাহেব এবার আমি ছেলের বাবাকে কিছু জেরা করতে চাই।
জজ সাহেবঃ করুন।
১ম উকিলঃ আপনার ছেলে বিয়ে আই মিন লিভ টুগেদার করছে? আপনি বাধা দেন নাই?
ছেলের বাবাঃ উকিল সাহেব কি সব মধ্যযুগীয় কথা বলছেন। ছেলে মেয়ে উভয়ের সম্মতিতে লিভ টুগেদার করছে। বাধা কেন দিব? বাল্য বিয়ে বাংলাদেশের আইনে মানা, বাল্য প্রেম তো আর মানা নাই।
১ম উকিলঃ জজ সাহেব, আমি এবার মেয়ের বাবাকে কিছু জিজ্ঞেস করব।
১ম উকিলঃ আপনার মেয়ে লিভ টুগেদার করে?
মেয়ের বাবাঃ জি।
১ম উকিলঃ বাধা দেন নাই কেন?
মেয়ের বাবাঃ নাহ। বাধা কেন দেব? বাল্য বিয়ে আইনে মানা, বাল্য প্রেম তো আর মানা নাই।
১ম উকিলঃ আই সি। জজ সাহেব, আমি এবার অত্র এলাকার তিনজন সাক্ষিকে কিছু জেরা করতে চাই।
জজ সাহেবঃ অনুমতি দেয়া হল।
১ম উকিলঃ আপনারা কি জানেন, আসামি বিয়ে করেছে? শুনলাম, আপনারা নাকি তাদের বিয়েও খেয়েছেন?
সাক্ষীঃ বিয়ে খাইনি বরং তারা যে লিভ টুগেদার করছে তা সবাইকে জানিয়ে করছে এজন্য আমাদের দাওয়াত করে খাইয়েছিলো। কিন্তু বিয়ে হতে আমরা দেখি নাই। আপনি বলছেন বিয়ে কিন্তু আমরা ওইটা লিভ টুগেদারের দাওয়াত জেনেই খেয়েছি।
১ম উকিলঃ আই সি। জজ সাহেব, আমি এবার অত্র এলাকার ইমাম সাহেবকে কিছু জেরা করতে চাই।
জজ সাহেবঃ অনুমতি দেয়া হল।
১ম উকিলঃ ইমাম সাহেব, শুনলাম আপনি নাকি কাবিন ছাড়া ইসলামী রিতিতে তাদের বিয়ে পড়িয়েছেন?
ইমাম সাহেবঃ কই না তো আমি বিয়ে পড়াইনি।
১ম উকিলঃ তাহলে ১৩১ তোলা ৩ মাশা রূপা শুনলাম কনেকে মুহর হিসেবে দিয়েছেন?
ইমাম সাহেবঃ কি বলেন উকিল সাহেব তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ, তারা বিয়ে কোথায় করলো, কনের ১৮ আর বরের ২১ বছর না হলে কি বিয়ে করা যায়? তারা আমাকে দাওয়াত করেছিলো যে তারা একসাথে থাকবে তাই তাদের জন্য দোয়া করতে যেনো সুখে শান্তিতে লিভ টুগেদার করতে পারে এজন্য আমি তাদের জন্য দোয়া করতে গিয়েছিলাম এবং উভয়কে শপথ করিয়েছিলাম আল্লাহ পাক উনার নামে যে তারা কি শান্তিপূর্ণ ভাবে একসাথে লিভ টুগেদার করতে রাজি? তারা তিনবার হ্যাঁ সূচক শব্দ বলে রাজী হয়েছিলো, আপনিতো জ্ঞানী লোক আপনারা জানা আছে এই আদালতেও সাক্ষিকে কুরআন ছুয়ে ৩ বার সত্য বলার জন্য অঙ্গিকার করানো হয়। আর ১৩১ তোলা ৩ মাশা রূপা ঐ ছেলে তার বউয়ের জন্য রেখেছিলো কিন্তু বিয়ে যেহেতু করছেনা তাই প্রেমিকা হিসেবে তাকে গিফট করেছে এতে তো দোষের কিছু নাই নাকি প্রেমিকাকে গিফট দেওয়াও অপরাধ?
১ম উকিলঃ (কোনভাবেই আটকাতে না পেরে, রেগে) বুঝেছি! আপনারা সবাই একসাথে মিলেছেন। বিয়ে হয়েছে কিন্তু সরকারী খাতায় কোন প্রমান রাখেন নাই। এটা মেনে নেয়া যায় না। আমি দেখে নিব আপনাদের।

এতক্ষন পর ২য় উকিল উঠে দাঁড়ালেন। এতক্ষন তিনি আয়েশ করে সব শুনছিলেন।

২য় উকিলঃ জজ সাহেব, আমার প্রতিপক্ষ উকিল আমার মক্কেলকে সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন। এটা বেআইনি। আর আমরা সবাই সবকিছুই শুনলাম। এখানে আর নতুন করে কিছু বলার নেই। আমার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি তাদের বেকসুর খালাস দাবি করছি।

জজ সাহেবঃ আজকের জেরা থেকে আমরা এটাই জানতে পারলাম যে, আসামি ওবায়দুল আর সায়মা স্বামী স্ত্রী নয়। তারা নিছক লিভ টুগেদার করছে মাত্র। দেশের আইনে বাল্য বিয়ে অপরাধ কিন্তু বাল্য লিভ টুগেদার তো অপরাধ না। তাই তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। আইন মোতাবেক তারা নির্দোষ। তাই আজকের আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিচ্ছে।

...............গল্পের চরিত্র, ঘটনা সবই কাল্পনিক। কারো সাথে মিলে গেলে অথবা কারো চেতনায় আঘাত লাগলে আমি দায়ী না। বিনোদন হিসেবে পড়েন। সিরিয়াসলি নিতে চাইলে নিজ দায়িত্বে নিন। তবে এই পন্থা অবলম্বন করতে পারেন।

[স্বরনীয় যে বাল্যবিবাহ করা খাস সুন্নত। এর বিরোধিতা করা কুফরী। যার ইচ্ছা সে বাল্য বিবাহ করতে পারে। কেউ বাধা দিতে পারবে না। যার ইচ্ছা করবে যার ইচ্ছা করবে না। ইসলাম অনুযায়ী বিয়ের জন্য বয়স নির্দিষ্ট করা যাবে না।]

(বিঃদ্রঃ যারা বয়সের আগেই বিয়ে করতে চান কিন্তু আইনের কারনে পারছেন না আপনারা ইসলাম অনুযায়ী বিয়ে করে ফেলেন পরে বয়স হলে রেজিস্টারি করে ফেলবেন। কেউ জিজ্ঞাসা/বিরোধীতা করলে উপরের পন্থা অবলম্বন করুন)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: