8.19.2018

ইউএস ডলার উত্থানে মুল শয়তান ছিলো সৌদি ওহাবী সরকার তবে তা আর কতদিন থাকছে?


কোন দেশের মুদ্রার স্থিতিশীলতা যদি শতভাগ সেই ইস্যুকারী দেশের ওপর নির্ভর করে, তাহলে ডলারের অবস্থান চরম খারাপ হিসেবে পাবেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের সবার সাথে লড়াইয়ে খুব বেশি বেতিব্যস্ত আজকাল। তার প্রশাসন পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ চীনসহ অন্যান্য দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপ করা সহ বড় বড় বুলি আওড়িয়ে বাণিজ্যযুদ্ধে ব্যস্ত ইদানীং।

সম্প্রতি, আগামি বিশ্বের পরাশক্তি তুরস্ক এবং রাশিয়ার সাথেও বিবাদে জড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে ওয়াশিংটনকে সুযোগ বুঝে পালটা জবাবও দিচ্ছে তারা। এখন রাশিয়া ও তুরস্ক, উভয়ের পক্ষ থেকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে মার্কিন ডলারের আধিপত্যকে। সাথে সুযোগ বুঝে চিন, কাতার, ইউরোপ ও মৃদু আওয়াজ তুলছে রিজার্ভ কারেন্সি ডলারের পরিবর্তনের জন্য। হয়তো খুব শিগ্রই নিজ নিজ মুদ্রায় ট্রেডিং ও শুরু হয়ে যাবে।

মার্কিন মুদ্রার জয়যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। মিশরের সুয়েজ খালের পাশে গ্রেট বিটার হ্রদে নোঙর করা ইউএসএস কুইন্সি নামের জাহাজে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং ওয়াহাবী সৌদি বাদশাহ ইবনে সৌদ উপস্থিত ছিল।

সৌদি তেলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার এবং ডলারের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করে রুজভেল্ট। এর মধ্যে অনেকবারই সৌদি-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, কিন্তু এই চুক্তির বরখেলাপ করেনি কোনো পক্ষই। পরবর্তী দশকগুলিতে তেলের চাহিদা যতই বেড়েছে, মার্কিন ডলারের চাহিদাও বেড়েছে তরতর করে। বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যম হয়ে ওঠে মার্কিন ডলার।

এখনও মোটামুটি একই অবস্থানেই আছে মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ-এর হিসেবমতে বিশ্বের মোট রিজার্ভের প্রায় ৬২ শতাংশই সংরক্ষিত আছে ডলারে। বাকি অংশের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ আছে ইউরোতে এবং ইয়েন ও ব্রিটিশ পাউন্ডে সংরক্ষিত আছে ৫ শতাংশ রিজার্ভ।

বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মার্কিন ডলার। বিশ্বজুড়ে লেনদেনের ৮৫ শতাংশই হয়ে থাকে ডলারে৷ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভও ডলারের নেতৃত্ব ধরে রাখার নীতিই ধরে রেখেছে এবং পর্যাপ্ত তারল্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, যাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের কর্তৃত্ব ঠিক থাকে।

ডলারের তারল্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে। যেকোনো সময় ডলার দ্রুত বিনিময় করা যায় বলে এটিকে তারা একটি নিরাপদ মুদ্রা বলে মনে করে থাকে। কিন্তু এর বিপরীত দিকও রয়েছে। কোনো বিপদের গন্ধ পেলে সবাই ডলারের দিকেই ছুটে যায়। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির বড় সব ধাক্কার উৎস বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রেই হয়ে থাকে। ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও একই ঘটনা ঘটেছিল।

অর্থনীতিবিদ ব্যারি আইখেনগ্রিন এই অবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নিদারুণ সুবিধা' হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি নিয়ে বড় বড় কথা বলে। বিশেষ করে চীনকে মুদ্রাব্যবস্থায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে সে। কিন্তু ঠিক উলটো কাজটা করেছে নিজের ঘরে এসে। ফেডারেল ব্যাংককে ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছে তার পরামর্শমতো মুদ্রানীতি ঘোষণার জন্য।

সবচেয়ে বড় কথা, ট্রাম্পের অর্থনীতিতে কেউই আর ভরসা রাখতে চায় না। ট্রাম্প মুখে যা বলে, কাজে করে তার ঠিক উল্টো, বড় বড় বাণিজ্য চুক্তির কথা বলে এখন পর্যন্ত আগের বিভিন্ন চুক্তি কেবল বাতিলই করে চলেছে সে। উপরন্তু, চীন, রাশিয়া এবং সবশেষ আগামীর পরাশক্তি তুরস্কের সাথে জড়িয়েছে বিবাদে। ফলে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিবেশে ডলারকে আর আগের মতো নিরাপদ মনে করছে না অনেকেই।

রাশিয়া এবং তুরস্ক এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে, ডলারের বদলে তারা নিজ নিজ জাতীয় মুদ্রাতে বাণিজ্য চালাতে আগ্রহী। যদি এই দুই দেশ অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে রাজি করাতে পারে, তাহলে ডলারের আধিপত্য স্পষ্টতই অনেক কমে আসবে।

সূত্রঃ সরেজমিন তুরস্ক থেকে আমি এবং অনলাইন এর ভিবিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও উইকিপিডিয়া।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: