8.19.2018

বাংলাদেশের ৬৫% রেমিটেন্স আয় অবৈধভাবে চলে যাচ্ছে ভারতের পকেটে


প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১৫ লক্ষ অবৈধ ভারতীয় নিয়ে যায় ১০ বিলিয়ন ডলার, সরকারের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের রেমিটেন্স আয়ের পরিমাণ বছরে ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু বিদেশিরা কাজ করে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমান রেমিটেন্স নিয়ে যাচ্ছে সে হিসাব দেয়া হয় না কখনোই।

বাংলাদেশিদের রেমিটেন্স আয় থেকে বিদেশিদের নিয়ে যাওয়া রেমিটেন্স বাদ দিলে আসলে কোনও আয়ই থাকে না। কাজেই রেমিটেন্স আয় নিয়ে বাংলাদেশ যে হিসাব দেয়, তাতে ফাঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছর ৮ জুলাই আইডিইবি ভবনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে তিন লাখ নিবন্ধিত বিদেশি কর্মরত। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সুত্রে প্রকাশ পেয়েছে যে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ বিদেশি রয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই অবৈধ ও ভারতীয়। প্রকৃত তথ্য হলো বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লক্ষ অবৈধ ভারতীয় বাস করছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে তারা। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক। জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ বাংলাদেশি নাগরিক যে পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে পাঠায়, গড়ে একজন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ থেকে সেই পরিমাণ রেমিটেন্স ভারতে পাচার দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কর্মপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের কর্মক্ষম শ্রমিকদের তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছেনা। ফলে বিদেশে প্রধানত শ্রমিক হিসেবেই যাচ্ছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। শ্রমিক হিসেবে রাস্তাঘাট পরিষ্কার, বাগান করা, রেস্টুরেন্টে কাজ করে, নির্মাণশিল্প ও বিভিন্ন কারখানায় অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম আর মানবেতর জীবনযাপন করে এ অর্থ দেশে পাঠান তারা।

সেই তুলনায় বাংলাদেশে বড় বড় পদে বেশি বেতনে কাজ করে বিদেশি নাগরিকরা। ভারতের বিপুলসংখ্যক নাগরিক এ দেশে গার্মেন্ট- টেক্সাটাইলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা বেতনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানায় এখন ২২ হাজার গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারতীয় নাগরিকরা কর্মরত রয়েছে। যাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে আবার পোশাক খাতবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেও চিহ্নিত রয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক গত ৩ জানুয়ারি ২০১৮ বাংলাদেশের অর্থনীতি পর্যালোচনা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভারতের রেমিটেন্স অর্জনে অবদানকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

এদিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, গতবছর ১০ বিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ভারতীয়দের জন্য চতুর্থ বৃহৎ রেমিটেন্স আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালে পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। তাদের অনেকেই বাংলাদেশে এসেছিলেন টুরিস্ট ভিসা নিয়ে। পরে তারা বাংলাদেশে থেকে এখানকার বিভিন্ন এনজিও, গার্মেন্টস কারখানা, টেক্সটাইল ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজে নিযুক্ত হয়।

অভিযোগ রয়েছে তারা হুন্ডির মাধ্যমে নিজ দেশ রেমিটেন্স পাঠায়। ভারত কানাডা, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, ফ্রান্স, ইটালি, দক্ষিণ আফ্রিকা, এমনকি অস্ট্রেলিয়া থেকে যা আয় করে তার চেয়ে বেশি রেমিটেন্স আয় করে বাংলাদেশ থেকে। আর বাংলাদেশ থেকে রেমিটেন্স নেয়ার তালিকায় ভারতের অবস্থান হচ্ছে এক নম্বরে।

জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী ১ কোটি বাংলাদেশি দেশে টাকা পাঠায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের কমবেশি। সেখানে বাংলাদেশে অবস্থানকারী ১০ লাখের মতো ভারতীয় নাগরিক নিয়ে যাচ্ছেন ১০ বিলিয়ন মাকিন ডলারের রেমিটেন্স।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: