8.20.2018

সামর্থ্যবানদের জন্য প্রতি বছর ৬৩ টা পশু কুরবানী করাও সুন্নত, কেউ কি এই সুন্নত পালন করেন?


পবিত্র সুরা আলে ইমরান (আলাইহিস সালাম) এর ৩১ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি তাদের বলে দিনঃ যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভালোবাসো, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো, যাতে মহান আল্লাহ পাক তিনিও তোমাদিগকে ভালোবাসেন এবং তোমাদেরকে তোমাদের কৃত পাপ থেকে ক্ষমা প্রদান করেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।

আর একজন মানুষ ততক্ষন পর্যন্ত মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষন না সে হাবীবে খোঁদা, রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তার সমস্ত সম্পদ, মা, বাপ, ভাই, বোন, স্ত্রী সন্তানাদি তথা সমস্থ সবকিছু এমনকি তার নিজের জীবনের চেয়েও বেশী মুহব্বত না করবে। (সহিহ বুখারি শরীফ)

এখন আজকাল রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ তো অনেক দূরে নিজেকে উম্মত বলে দাবী করলেও অনুসরণ তো করেনা বটেই উল্টো অনেকে অধিক সংখ্যক কুরবানীর পশু জবাই নিয়ে আপত্তি করে থাকে। তারা সম্ভবত মুসলিম শরীফের এই হাদীস শরীফ খানা পড়েই নাই। সকলের বিষয়টি জানার জন্য দলীলটা উল্লেখ করা হলো,

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় হজ্জের সময় ৬৩টি উট নিজ হাত মুবারক- জবাই করেছেন, এবং বাকি ৩৭ টা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি জবাই করেন। প্রসঙ্গে হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেনঃ [ثُـمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمَنْحَرِ فَنَحَرَ ثَلاَثًا وَسِتِّينَ بِيَدِهِ ثُـمَّ أَعْطَى عَلِيًّا فَنَحَرَ مَا غَبَرَ وَأَشْرَكَهُ فِى هَدْيِهِ ثُـمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ فَجُعِلَتْ فِى قِدْرٍ فَطُبِخَتْ فَأَكَلاَ مِنْ لَـحْمِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا]
তরজমাঃ অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরবানীর স্থানে এসে নিজ হাতে ৬৩টি উট জবাই করেন আর হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে বাকী ৩৭ টি উটের নহর করার দায়িত্ব দেন এবং উনাকে কুরবানীর মধ্যে শরীক করে নেন। অতঃপর প্রত্যেকটি উট থেকে এক টুকরা করে গোশত পাতিলে একত্রিত করে রান্না করতে বলেন। অতঃপর উভয়েই উক্ত গোশত থেকে আহার করেন এবং সুরুয়া পান করেন।(মুসলিম শরীফ ২৮৪০, তিরমিযী শরীফ ৮১৫, আবু দাউদ শরীফ ১৯০৫, ইবনে মাজাহ ৩০৭৪, মিশকাত ২৫৫৫, আবী শায়বা ১৪৯২৫, সুনানে দারেমী ১৮৫০, সিরাতুন নাবব্যিয়া ইবনে কাছির /২৯৪, সুবহুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১১/৯৫)

বিষয়ে আরো বলা হয়েছেঃ [نَّ عَلِيًّا ـ رضى الله عنه ـ حَدَّثَهُ قَالَ أَهْدَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِائَةَ بَدَنَةٍ، فَأَمَرَنِي بِلُحُومِهَا فَقَسَمْتُهَا، ثُمَّ أَمَرَنِي بِجِلاَلِهَا فَقَسَمْتُهَا، ثُمَّ بِجُلُودِهَا فَقَسَمْتُهَا]
তরজমাঃ হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানীর একশউট পাঠান এবং আমাকে গোশত সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন। আমি তা বন্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম। তারপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম। (বুখারী শরীফ, কিতাবুল হজ্জ ১৬১০)

সূতরাং অধিক সংখ্যক কুরবানী করা, মানুষকে খাওয়ানো, নিজে খাওয়া সবই খাস সুন্নত। আর সুন্নতের বিরোধীতা করা ঈমানহানীর কারন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: