8.25.2018

যেভাবে ইসরায়েল আমেরিকায় বসে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে ইহুদীরা!!!


অধিকাংশ মানুষ ই জানেনা পৃথিবীর অন্যতম ধুরন্দর জাতি হচ্ছে ইহুদি। আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না বা করতে চাইবেন না কিন্তু তার পরেও বলতে হচ্ছে যে সংখ্যালগু এই ইহুদীরা বর্তমানে সবথেকে ক্ষমতাবান জাতি, হয়তো যে কেউ শুনলে অবাক হবেন যে মাত্র ১০/১৫ জন ইহুদী সম্পূর্ণ আমেরিকা সহ দুনিয়ার অর্থনীতি ধরে রেখেছে। আর তাদের সহায়তা আমরাই করছি, করে যাচ্ছি এবং আগামিতে করেও যাবো শুধুমাত্র অস্তিত্বসচেতন কুরআন সুন্নাহর পাবন্দি মুসলিম না হওয়ার ফলে। কিভাবে করছি তা আগামীতে ব্যখা করবো ইন শা আল্লাহ। এদিকে অনেকই মনে করেন খ্রিষ্টানরাই বুঝি ইহুদী, কিন্তু  মূলত তা নয় কিছু পার্থক্য আছে। খ্রিষ্টানরা আমাদের নবি হযরত মরীয়ম ইবন ইসা আলাইহিস সালাম উনাকে মানে আর ইহুদীরা হযরত মুসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে। আপনে মানেন বা না মানেন পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ-ই এখন তাদের কলকাঠিতে চলে। তবে তাদের শয়তানি বুদ্ধি আমাদের চোখে তেমন পড়ে না। কারন আমরা হয়েগেছি ডি-মোরালাইজড জাতি, অস্তিত্বসচেতনতাহীন এক অজ্ঞ মূর্খ জাতি।

ইহুদীরা হিসেব করে দেখেছে পৃথিবীর সমস্ত শক্তি মূলত ৩টি জিনিসের ভেতরঃ

১} টাইম-সময়।
২} নলেজ-জ্ঞান।
৩} মানি-টাকা।

উপরোক্ত এই তিন জিনিস দ্বারা নির্ধারিত হয় কে কত ক্ষমতাবানা হবে, যদি উপরক্ত তিন জিনিস কারো কাছে একসাথে চলে আসে তাহলে সে অটোম্যাটিক দুনিয়ার বাদশা হয়ে যায় এবং দুনিয়াকে যেমন খুশি তেমবভাবে চালাতে পারে।

আসেন একটু ব্যখা করিঃ

১) টাইম বা সময়ঃ কারো কাছে যখন টাইম বা সময় থাকে তখন সে অনেক কাজ করতে পারে বা পারবে। এজন্য ইহুদীরা নিজেরা তো সময় দেয়ই, এমনকি অন্যকে চাকুরীর দেয়ার মাধ্যমে তাদের সেই মূল্যবান সময় কিনে নেয়। তারা চায় সবাই তাদের অধীনে চাকুরী করুক, এতে সবার সময় তাদের কাছে চলে আসবে।

২) নলেজ বা জ্ঞানঃ কারো কাছে যখন নলেজ বা জ্ঞান থাকে তখন সেটা দিয়ে সে অপরের উপর কর্তৃত্ব করতে পরে কোন প্রকার কষ্ট ছাড়া। ইহুদীরা মূলত এইসব মূল মূল জ্ঞানগুলো করায়ত্ব করার চেষ্টা করে। তারা ব্রেইন কে ড্রেইন করে সকল দেশ থেকে মেধাবীদের কিনে নিয়ে যায় ইউরোপ আমেরিকায়। এবং মেধাবীদের নিজেদের কাজে লাগায়।

৩) মানি বা অর্থঃ ইহুদীরা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করে। কারন এই অর্থ অন্যতম শক্তি হিসেবে কাজ করে দুনিয় পরিচালনা করতে। আজকে যদি আপনি চেয়ে দেখেন তাহলে দেখবেন সকল অর্থের মূল যে ভ্যালু স্বর্ণ তা তারা নিয়ে গেছে এবং এবং আপনাকে দিয়েছে কাগজের মুদ্রা আর আপনাকে করেছে ডলারের উপর নির্ভরশীল যার কারনে তারা যেকোন দেশে কে ধ্বংস করতে বা আগ্রাসন চালাতে ইনফ্লেশন তৈরি করে আপনার টকার মূল্যস্ফীতি ঘটিয়ে আপনাকে করে দিতে পারে রাস্থার ফকির। বিস্তারিত বুঝার জন্য এই লিখাটি পড়তে পারেন [কাগুজে মুদ্রার ফাঁকিবাজি ও এমেরিকান মূল্যহীন ডলারের ধোঁকাবাজী আর কতদিন???]।

অর্থাৎ এই ৩টি বিষয়ের প্রত্যেকে আবার অপর দুই বিষয়ে কনভার্ট হতে পারে। যেমনঃ-
  • সময় কাজে লাগিয়ে জ্ঞান চর্চা করা/করানো যায়, আবার সেই জ্ঞান বিক্রি করে টাকাও কামানো যায়।
  • জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আবার সময় কে বাচানো/পাওয়াও যায়, টাকাও কামানো যায়।
  • আবার মানি বা অর্থ কাজে লাগিয়ে অপরের সময়কে কেনা যায় (চাকুরি দিয়ে) এবং মেধাবীর মেধা বা জ্ঞানও ক্রয় করা যায়।
অর্থাৎ ইহুদীরা সারা বিশ্বে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এই তিনটি জিনিস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করে। আর অপর জাতিগুলোও যেন এই তিনটি জিনিসের মালিক না হতে পারে সেজন্য সদা সর্বদা সজাগ থাকে। তারা চায়, অপর জাতিগুলোর যেন এই তিনটি জিনিস মানেঃ- টাইম-নলেজ-মানিনষ্ট হয়ে যায়।

সারা দুনিয়া সহ গত বেশ কয়েকবছর যাবত দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ খেলাধুলা, বেহুদা বিনোদন, টিভি সিনেমা, প্রেম পিরিতি নামক অনাচার নিয়ে খুব মেতে উঠেছে।

- এইতো কয়েকদিন আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা করে বিরাট সময় অপচয় করছে। অনেকে আবার পুরো জীবনটাই শেষ করে দিচ্ছে এইসব ফালতু খেলাধূলার পেছনে। নরসিংদীতে পতাকা টাঙ্গাতে গিয়ে ফয়সাল নামক এক ব্যক্তি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেলো। টাঙ্গাইলে পতাকা টাঙ্গাতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়েছে একজন, নারায়নগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কুপিয়েছে ব্রাজিল সমর্থকরা। এরকম শতো শতো ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত যার মূলে জড়িত ইহুদীরা।

- তরুণ প্রজন্ম যত জ্ঞান বুদ্ধি সব নষ্ট করছে খেলাধুলা আর ক্রিকেট ফুটবল করে করে। কে কত ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া/ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার নিয়ে গবেষণা করতে পারে সেটা ফেসবুক খুললেই দেখা যায়। তারা যদি এইসব বেহুদা কাজের পেছনে খরচ করা জ্ঞানের কিঞ্চিৎও দেশ ও জাতির কল্যাণ্যে ব্যয় করতো, তবে দেশের এতটা করুণ অবস্থা হতো না।

- টাকার অপচয় যে কত হচ্ছে তার হিসেব করে পারা যাবে না। সারা দেশজুড়ে ক্রিকেট ফুটবল সহ বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিল আর্জেন্টিনার পতাকা, জার্সি লাগিয়ে অপচয় করা হয় অগণিত টাকা। মাগুরায় এক ব্যক্তি শেষ সম্বল এক টুকরো জমি বিক্রি করে ৫ কিলোমিটার লম্বা পতাকা বানিয়েছে, বাগেরহাটে ৮০০ ফুট লম্বা পাতাকা, কেউ ব্রাজিল আজেন্টিনার পতাকার মত করে পুরো বাড়ি রং করছে। আরো কত কি।

মুসলমানরা যদি ইহুদীবাদীদের এই খপ্পর থেকে বের হয়ে পৃথক শক্তি তৈরী করতে চাই, তবে টাইম-নলেজ-মানিফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে হবে। ওরা যতভাবে তিনটি জিনিসের অপচয় ঘটাতে চায়, সবগুলো রোধ করতে হবে। মুসলমানদের টাইম-নলেজ-মানির মূল্য বুঝতে হবে এবং এ তিনটি জিনিসকে পুরোপুরি মুসলমানদের কাজে লাগতে হবে। তখনই মুসলমানদের উত্থান ঘটবে, এর আগে না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: