8.26.2018

আজ ১৪ই যিলহজ্জ, আজকের এই দিনেই রাসূল [ﷺ] এর আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিলো


নবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক হাতের মুবারক আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিলো আজকের এই দিনেই ১৪৪১ চন্দ্রবছর আগে। যখন চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় তখন দ্বিখণ্ডিত হওয়া তো বহু দূর চাঁদ সম্পর্কে কারো কোন ধারণাই ছিলো না ঠিকমতো। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিলো এরূপ যেতখনকার মক্কার কাফেররা হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওয়াতকে অস্বীকার করে। তারা উনার কাছে নবুওয়াতের নিদর্শন চায়। তখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হাতের আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ কে দু’ টুকরো করে তাদের দেখিয়েছিলেন কিন্তু তাও অনেক বড় বড় জাহেল ঈমান আনেনি।

এই মুবারক বিষয়টি পবিত্র কুরআনুল কারীমেও উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছেকেয়ামত আসন্ন এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে (তা থেকে তারা) মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলেএটা তো চিরাচরিত যাদু (বৈ কিছু নয়)। (সুরা কামার শরীফঃ আয়াত শরীফ ১-৩) চাঁদ দিখন্ডিত হওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীসেও রয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি এ সম্পর্কিত হাদীস শরীফকে মুতাওয়াতির বলেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/২৭৬)

নিম্নে কয়েকটি হাদীস শরীফ উদ্ধৃত করা হল।

০১) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেনআমরা মিনায় নবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলাম। তিনি চন্দ্রকে দিখন্ডিত করলেন এবং এক খন্ড পাহাড়ের পশ্চাতে চলে গেল ও এক খন্ড পাহাড়ের উপরে রইল। তখন রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনতোমরা সাক্ষী থেকো। (সহীহ বুখারী শরীফ ১/৫৪৬সহীহ মুসলিম শরীফ ২/৩৭৩)

০২) হযরত আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেনমক্কা শরীফ বাসীরা রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে (নবুওয়্যাতের) কোনো নিদর্শন দেখতে চাইল। তখন রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ তায়ালা উনার হুকুমে চন্দ্রকে দিখন্ডিত করে দেখিয়ে দিলেন। তারা (সাহাবায়ের কিরাম ও কাফেররা) দেখতে পেল যেচাঁদের দুই খন্ড হেরা পাহাড়ের দুই পার্শ্বে চলে গিয়েছে।

সূত্রঃ সহীহ বুখারী শরীফ ১/৫৪৫সহীহ মুসলিম শরীফ ২/৩৭৩জামে তিরমিযী শরীফ ৩২৮৫মুসনাদে আহমদ শরীফ ৩/১৬৫দালাইলুন নুবুওয়াহ ২/২৬২-২৬৮আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৩৫৪৩৬১ফাতহুল বারী ৭/২২১আততাহরীর ওয়াত তানবীর ২৭/১৬৩আদ্দুররুল মানসুর ৬/১৩২-১৩৪তাফসীরে কুরতুবী ১৭/১২৫-১২৮তাফসীরে মাযহারী ৯/১৩৫)

আমরা মুসলিম হিসেবে ইসলামকে বিশ্বাস করব কোরআন ও হাদিস অনুসারে। ইসলামের যে কোন কথা আজকের কথিত বিজ্ঞান সমর্থন করুক বা না করুক এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। বিজ্ঞানের উপরে নির্ভর করে ইসলামে বিশ্বাস করাটা আসলে একটা প্রতারনা ও মূর্খতা ছাড়া কিছু নাএক ধরণের ভন্ডামী। নিজেকে একজন মুসলিম দাবী করেএদিকে ওদিকে বিজ্ঞানে সমর্থিত হলে ইসলামের কথা বিশ্বাস করে এমন ভন্ডকে ইংরেজীতে hypocrite বলে যেটার আরবী সমার্থক শব্দ হল মুনাফেক। ইসলামের তথ্যমতে মুনাফেকের স্থান ৭ম জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে যেখানে কোন কাফের ও প্রবেশ করবেনা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সঠিক ঈমান অর্জন করার ক্ষমতা দিনআমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

এছাড়াও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মালাবার রাজ্যের (বর্তমান কেরালা অঞ্চল) তৎকালীন রাজা চক্রবর্তী ফারমাস (চেরামান পিরুমেল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) আকাশে চাঁদ দুই টুকরো হয়ে যাওয়ার ওই অলৌকিক ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন। যখন তিনি জানতে পারেন যেআরব দেশে শেষ নবীর আবির্ভাব ঘটেছে এবং রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই চাঁদ কে দ্বিখণ্ডিত করেছেনতখন তিনি মক্কায় গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

আজ থেকে ১৪৪১ চন্দ্রবছরেরও আগে ১৪ই জিলহজ্জ নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মোজেযার প্রকাশ হিসেবে উনারই পাক পবিত্র আঙ্গুল মুবারকের ইশারায় পূর্ণ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

আবু জেহেল লানাতুল্লাহি আলাল কাজিবিনের নেতৃত্বে একদল মূর্তিপূজারী ও ইহুদি জানায় যেরাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল তা তারা মেনে নেবেযদি তিনি চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাতে পারেন। তখন রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামমহান আল্লাহ পাক উনার কাছে মোনাজাত করে চাঁদের দিকে উনার মুবারক পবিত্র আঙ্গুলের ইশারা করলে ওই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে।

ওই আরব মুশরিকরা এই মোজেজা অস্বীকার করে একে যাদু বলে অভিহিত করে। কিন্তু উপস্থিত ইহুদিরা চাঁদ দুই ভাগ হওয়ার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। কারণওই ইহুদিরা তাওরাতে পড়েছিল যে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার উত্তরসূরী হযরত ইউশা আলাইহিস সালাম উনার জন্য মহান আল্লাহ পাক চাঁদ ও সূর্যকে স্থির করে রেখেছিলেন।

ভারতের ইতিহাস গ্রন্থ ‘তারিখ-ই-ফেরেশতায় ওই ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে। চেরামান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মসজিদও রয়েছে।

ভারতীয় রাজা যে ওই ঘটনা দেখেছিলেনতার লিখিত বিবরণের একটি প্রাচীন দলিল বর্তমানে লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের লাইব্রেরিতেও সংরক্ষিত রয়েছে। ওই দলিলে ভারতীয় সেই রাজার ভ্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা আছে। ওই রাজা ভারতে ফেরার পথে ইয়েমেনে মারা যান।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: