8.26.2018

পশ্চিমারা কুরবানী থেকে শিক্ষা নিয়েই তাদের সেনাবাহিনীকে গড়ে তুলেছে


গৃহপালিত পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আযহায় কুরবানীদাতাকে ওয়াজিব পালন করতে হয়, যা এদেশের মুসলমানরা করে থাকে হাট বাজার থেকে কেনা গৃহপালিত পশুর মাধ্যমে। কুরবানীদাতা নিজে পশু পালন করে সেটিকে কুরবানী করবে, এরকম কোন বাধ্যবাধকতা দ্বীন ইসলামে নাই বরং এরকম বাধ্যবাধকতা থেকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম মুসলমানদের মুক্তি দিয়েছেন। তবে পশ্চিমারা তাদের সৈন্যদেরকে কিন্তু তা থেকে মুক্তি দেয়নি।

জিএসজি-৯হলো জার্মানির এলিট কমান্ডো বাহিনীর নাম। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে একটি করে মুরগী পালন করতে হয় পেট হিসেবে, এরপর সেই পোষা মুরগীটি বড় হলে তাকে জবাই করে খেতে হয়।

আমরা সবাই অবগত যে পশ্চিমা খ্রিস্টানরা তাদের প্রিয় প্রাণী হিসেবে সবথেকে বেশী প্রাধান্য দেয় কুকুরকে। একারনেই গুয়াতেমালার সেনাবাহিনীর নতুন রিক্রুটদেরকে প্রথমে একটি কুকুরছানা পালন করতে দেয়া হয়। এরপর কুকুরটি বড় হলে তাকে হত্যা করে তার গোশত সৈন্যটিকে খেতে হয়।

পশ্চিমারা তাদের সেনাদেরকে এভাবেই গড়ে তোলে, যেন কঠিন পরিস্থিতিতে তারা তাদের সহকর্মী কিংবা বন্ধুদের বিসর্জন দিতে পারে, নিজ সন্তানকেও যুদ্ধে পাঠাতে পারে। এই শিক্ষা তারা নিয়েছে মুসলমানদের পবিত্র ‍কুরবানী থেকে। মুসলমান যেন তার সন্তানকেও দ্বীনের প্রয়োজনে যুদ্ধে প্রেরণ করতে পারে, সেজন্যই তাদেরকে গৃহপালিত পশু কুরবানী করতে বলা হয়। কারণ গৃহপালিত পশুকে মানুষ সন্তানের মতোই লালনপালন করে থাকে।

কিছুদিন পূর্বে হিন্দি ভাষার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে এক হিন্দু মহিলা চিৎকার করে বলছিল, মুসলমানদের লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দিয়ে মূর্তিপূজারী হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। মুসলমানদের রোযা রাখার দ্বারা যুদ্ধক্ষেত্রে না খেয়ে থেকে কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা দেয়া হয়েছে।

সেই ভিডিওতে অছাম্প্রদায়িকমুসলমানরা এভাবে কমেন্ট করেছিল, ঐ মহিলা ঠিক কথা বলছে না, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম যুদ্ধ করতে শেখায় না। অথর্ব মুসলমানরা এই সত্য থেকে লুকিয়ে থাকতে চায় যে, দ্বীন ইসলামের ভিত্তিই রচিত হয়েছে আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ ব্যতীত অন্য যে কোনো মতবাদকে অস্বীকার তথা বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণার উপর।

কথাটা যতোই শক্ত শোনাক না কেন, এটি আসলে খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হতে কোনো দেশে গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দোহাই দিয়ে অতর্কিত মার্কিন কিংবা সোভিয়েত সৈন্যরা হামলা করেছে এবং মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবেই তা মেনে নিয়েছে। গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয়েছে অন্য যে কোন শাসনব্যবস্থাকে অস্বীকার করার উপর। যার ফলে কোনো দেশ গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্রকে অস্বীকার করলেই তার উপর হামলা করা হতো।

ঠিক এরকমই ছিল দ্বীন ইসলামের স্বর্ণযুগ, হয় তুমি দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করো, নতুবা জিযিয়া দিয়ে আনুগত্য স্বীকার করো। তাও না চাইলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও। ইসলামকে অস্বীকার করে তখন কেউ রেহাই পেত না, যেমনটি এখন গণতন্ত্রকে অস্বীকার করে কেউ রেহাই পায় না।

বর্তমান মুসলমানরা স্বর্ণযুগের ইসলামের এই এপ্রোচ অনুধাবনই করতে সমর্থ নয়। কারণ বর্তমান মুসলমানরা নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করেও গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে দ্বীন ইসলামের তুলনায় সুপিরিয়র মনে করে। যে কারণে হিন্দু মহিলা যখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহবলতে তাদের মূর্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাকে বোঝায়, তখন মুসলমান তা অস্বীকার করতে চায়। গণতন্ত্রের জন্য হামলা তাদের নিকট স্বাভাবিক মনে হয় আর বায়তুল মোকাররমের পাশ দিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে পূজার মিছিল নিয়ে গেলেও তারা টু শব্দটি করে না।

পরিশেষে দস্তার রাজদরবার আবারো বলছেনঃ পশ্চিমারা ঠিকই তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে পোষা প্রাণী হত্যার এই পন্থা গ্রহণ করেছে, কারণ তারা অসাম্প্রদায়িক নয়। তারা নিজ সম্প্রদায় ও জাতিকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে দেখতে চায়। পক্ষান্তরে মুসলমানরা অছাম্প্রদায়িকবিধায় কুরবানীর এই শিক্ষা থেকে লুকিয়ে থাকতে চায় এবং প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধসর্বস্ব পৃথিবীর বাস্তবতায় সবার পেছনে পড়ে যায়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: