11.06.2018

ঈদে মীলাদুন নবী পালনের তাগিদ দিতে সূরাহ ইউনুস শরীফের ৫৭-৫৮ আয়াতে আল্লাহ পাক কি বলেছেন?


মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ হে মানুষেরা! তোমাদের রব আল্লাহ তালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মুমিনদের জন্য রহমত দানকারী। (৫৭) (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের উচিত খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের আমলটি হবে তাদের সমস্ত নেক আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

পবিত্র ঈদে মিলাদুন নবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালনে ছবিতে বর্নিত আয়াত শরীফ উনার হুকুম যেই ভাষায় প্রয়োগ করা হয়েছে, পবিত্র আল কোরআনের অন্য কোথাও এমনিভাবে জোর তাগিদের সাথে হুকুম আসেনি। ইসলামী ফিকহি জ্ঞান থাকলে আর একটূ ফিকির করলে এই আয়াত পাকে ঈদে মিলাদুন নবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালনে কমপক্ষে ১০ টি তাগিদ রয়েছেঃ-

১ ) قُلْ - قُلْ (কুল) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কোন কথা শুরু করা হলে, ইহাই এক প্রকারের জোর তাগিদ। যার উদ্ধেশ্য এই যে আপাদ-মস্তক নিমগ্ন হয়ে যাও।

২ ) بِفَضْلِ اللّهِ মহান আল্লাহ পাক উনার ফজলের কারনে। প্রশ্ন তৈরি হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার ফজলের কারন কি? তাহলে একমাত্র যে উত্তর পাওয়া যায় তা হলো; এই ফজল হচ্ছেন নবীজী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। কারন নবীজী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ায় না আসলে আমরা আল কোরআন পেতামনা। তাই উনিই এই ফযল ও তাগিদ।

৩ ) وَبِرَحْمَتِهِ - মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের কারনে। প্রশ্ন হল রহমতের কারন কি? রহমত কে? ইহাও ৩য় তাগিদ।

৪ )  بِفَضْلِ اللّهِ وَبِرَحْمَتِهِ - ফযল ও রহমত একত্রীকরন। ফজলের পরে রহমতের উল্লেখ করাও তাগিদ।

৫ ) فَبِذَلِكَ - জালিকা  (ذَلِكَ) এর পরে ফা-কে এজাফত (সম্মান) করা হয়েছে। 'ফা' - আরবী কাওয়ায়েদ অনুযায়ি তাগিদের জন্য ব্যবহৃত হয় বা তাগিদের জন্য আসে।

৬ ) بِذَلِكَ - ফজল ও রহমত এর উল্লেখ করার পরে ইশারা বায়িদ লওয়াও তাগিদের অন্তর্ভুক্ত।

৭ ) فَلْيَفْرَحُو - 'ফালইয়াফরাহু' শব্দের উপর পুর্ন 'ফা' হরফ এজাফত করা হয়েছে, যার ফলে এখানেও তাগিদ করা হয়েছে।

৮ ) فَلْيَفْرَحُو - ইয়াফরাহু এর উপর 'লাম' ও তাগীদেরই জন্য হয়ে থাকে।

৯ ) هُوَ خَيْرٌ - এখানে 'হুয়া' তাগিদের জন্য এসেছে।

১০ ) مِّمَّا يَجْمَعُونَ মিম্মা ইয়াযমাঊনন ইহাও তাগীদের কালাম।

এতএব বর্নিত আয়াতে পাকে মহান আল্লাহ তায়ালা ১০ তাগিদের সাথে যে হুকুম প্রদান করেছেন ইহা এই যে, فَلْيَفْرَحُو - 'ফালইয়াফরাহু' - খুশি পালন কর অর্থাৎ ঈদ পালন কর। কেননা  فَبِذَلِكَ ফাবিজালিকাশব্দ দ্বারা যেই হাবিব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা বলা হয়েছে, তিনি আগমন করেছেন।

উপরোক্ত ১০ তাগীদের পরে বিষয়টি এমন চুড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে যে এই খুশি প্রকাশ করা সমস্ত আমল থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ হবার ঘোষনা স্বয়ং আল্লাহ পাক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!!!

এখন এই খুশি প্রকাশ অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি কেউ পালন না করে, বিরোধীতা করে তাহলে তার জীবনের কোন আমল কাজে আসবে কি? সে কি আল্লার বান্দা, নবীর উম্মত হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে?

অতএব বিরোধীতা করার জন্য বিরোধীতা করে ঈদে মিলাদুন্নবীকে বিদয়াত বলার আগে একবার হলেও চিন্তা করে দেখুন আপনি কার বিরোধীতা করছেন? আপনার ঈমান কি আর বিদ্যমান থাকছে?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: