4.10.2019

হক্কানী অলি আল্লাহ উনাদের “ছহিবে কুন ফায়া কুন” নয় খোদ “কুন ফায়া কুন” বলাও যায়েজ


সেইসব ফতোয়াবাজদের কি হবে? যারা বিদ্বেষবশত ছহিবে কুন ফায়া কুন এর ব্যপারে তাদের অজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছে?

আমি অনেক ফিকির করে দেখেছি যে এই যামানার অধিকাংশ মানুষ যাহান্নামে যাবে কেবলমাত্র বিদ্বেষের কারনে না জেনে যেকোন বিষয়ে ফতোয়াবাজির ফলে।

তাদের আপত্তি ছিলো ছহিবে কুন ফায়াকুন নিয়ে যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়ঃ কুন ফায়া কুনের মালিক বা অধিকারীর সঙ্গি অথচ কিতাব ঘাঁটিয়ে পেলাম ছহিবে কুন ফায়াকুন নয় বরং মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্যলাভকারী হক্কানী অলি আল্লাহ পর্যন্ত ছহিবে কুন ফায়াকুন এর অধিকারী।

আপনারা মিশরের বিখ্যাত আলেম হযরত ইউসুফ আন নাবহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামের সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত। উনার একখানা বিখ্যাত কিতাবের নাম হচ্ছে জামেউ কারামাতিল আউলিয়া। উক্ত কিতাবে তিনি ওলী আল্লাহ উনাদের মর্যাদা আলোচনা করতে গিয়ে বিখ্যাত আলেম হযরত ইবনে আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একখানা বক্তব্য দলীল হিসাবে এনেছেনঃ [ينتقلون إلى مقام كريم، يقولون فيه للشيء كن فيكون، بإذن الله تعالى] তিনি বলেন, ওলী-আল্লাহগন যখন এমন এক সম্মানিত মর্যাদায় উপনীত হন, তখন উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার অনুমতিক্রমে যেকোনো কিছুকে [كُنْ]  হও বললে তা সাথে সাথে তা [فَيَكُوْنُ] হয়ে যায়।

কিতাব সূত্রঃ [জামিউ কারামাতিল আউলিয়া প্রথম খন্ড ৫৭ পৃষ্ঠা।]

উক্ত কিতাবখানা চিত্রের প্রকাশনা ছাড়াও লেবাননের দারু কুতুব আল ইলমিয়া থেকেও প্রকাশ হয়েছে (http://bit.ly/2X1Ca98)


আরো দেখুনঃ হযরত ইমাম শায়েখ আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫১২- ৫৭৮ হিজরী) তিনি বলেনঃ [صَرَّفَهُمُ اللهُ فِـى الْاَكْوَانِ وَقَلَّبَ لَـهُمُ الْاَعْيَانَ وَجَعَلَهُمْ يَقُوْلُوْنَ بِاِذْنِهٖ لِلشَّىْءِ كُنْ فَيَكُوْنُ]
অর্থঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি ওলী-আল্লাহদের নিকট সমস্ত কায়িনাত পরিচালনার দায়িত্ব অর্পন করেন এবং উনাদেরকে (জমিনে অবস্থানকারী) সকলের মূল হিসেবে পরিণত করেন। আর উনাদেরকে এমন করে দেন যে, মহান আল্লাহ পাকের অনুমতিক্রমে উনারা যখন কোনো কিছুকে [كُنْ] হও বলেন, তখন তা সাথে সাথে [فَيَكُوْنُ] হয়ে যায়।

কিতাব সূত্রঃ আল বুরহানুল মুআইয়্যাদ ১২৫পৃষ্ঠা।
প্রকাশনাঃ দারুল কতুবুন নাফিস, বাইরুত লেবানন।
লেখকঃ জগদ্বিখ্যাত শায়েখ, আহমদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি।


ওলী-আল্লাহ উনাদের কুন ফায়াকুন কি নতুন কিছু?



শুধু কি তাই? সাইয়্যিদুল আউলিয়ায়ে আজম উনার কিতাবে বর্ণীত হয়েছেঃ [يا ابن آدم أنا الله الذي لا إله إلا أنا أقول للشيء كن فيكون، أطعني أجعلك تقول للشيء كن فيكون" وقد فعل ذلك بكثير من أنبيائه وأوليائه وخواصه من بني آدم] মহান আল্লাহ পাক বলেন, হে আদম সন্তান! আমি মহান আল্লাহ পাক, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আমি কোন কিছু বললেই হয়ে যায়। যারা আমার এতায়াত(আনুগত্য) বা অনুসরন করে তাকে আমি কুন ফায়াকুন এর অধিকারী বানিয়ে দেই। অর্থাৎ তারাও হও বললে হয়ে যায়। আদম সন্তানের মধ্যে অনেক আম্বিয়া আলাহিমুস সালাম ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এ বৈশিষ্ট ছিলো।

[কিতাব সূত্রঃ ফতহুল গায়ব, ১৬ তম আলোচনা, পৃষ্ঠা ৪০। লেখকঃ সাইয়্যিদুনা হযরত মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদীর জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।]

অর্থাৎ একজন ওলী আল্লাহ উনার পক্ষে কুন ফায়াকুন এই সিফত বা গুনের অধিকারী হওয়া অবশ্যই সম্ভব যদি মহান আল্লাহ পাক চান।

সালাফি, আহলে হাদিস, নজদি ওহাবীদের মুরুব্বী ইবনে তাইমিয়াও ওলী আল্লাহ উনাদের কুন ফায়াকুনের ক্ষমতা বুঝলো অথচ তথাকথিত সুন্নী নামধারীরা বুঝলো না আফসোস!!!




ইবনে তাইমিয়া তার "মাজমুয়ায়ে ফতাওয়া" কিতাবে বর্ণনা করেছেঃ [وَقَدْ جَاءَ فِي الْأَثَرِ : " { يَا عَبْدِي أَنَا أَقُولُ لِلشَّيْءِ كُنْ فَيَكُونُ أَطِعْنِي أَجْعَلْك تَقُولُ لِلشَّيْءِ كُنْ فَيَكُونُ يَا عَبْدِي أَنَا الْحَيُّ الَّذِي لَا يَمُوتُ أَطِعْنِي أَجْعَلْك حَيًّا لَا تَمُوتُ] এ বিষয়ে একটা আছার বর্ণিত আছে যে, (মহান আল্লাহ পাক বলেন) হে বান্দা আমি কোন কিছু হও বললেই হয়ে যায়আমাকে যারা অনুরন করে তাদের আমি এমন করি যে তারাও হও বললে যেকোন কিছু হয়ে যায়অর্থাৎ কুন বললেই ফায়াকুন হয়ে যায়হে বান্দা আমি চিরঞ্জীব আমার মৃত্যু নেইআমাকে যারা অনুসরন করবে অনুরুপ তারাও জীবিত থাকবে তাদের মৃত্যু হবে না

[কিতাব সূত্রঃ মাজমুয়ায়ে ফাতাওয়া লি ইবনে তাইমিয়া ৪র্থ খন্ড ৩৭৭ পৃষ্ঠা]

প্রমাণ হলো মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী-আল্লাহগন কুন ফায়াকুনের অধিকারী হয়ে থাকেনইবনে তাইমিয়াও এ বিষয়টা মানে প্লাস উল্লেখ করেছে যে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত ক্ষমতায় ওলীগনও এমন শক্তির অধিকারী হয়ে থাকেনযেমনটা নিচের বুখারী শরীফের হাদীছ খানায় একেবারে খুলে খুলে বলা হয়েছেঃ [ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ، ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَﻯ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻴًّﺎ ﻓَﻘَﺪْ ﺁﺫَﻧْﺘُﻪُ ﺑِﺎﻟْﺤَﺮْﺏِ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﻘَﺮَّﺏَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﺃَﺣَﺐَّ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻤَّﺎ ﺍﻓْﺘَﺮَﺿْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺰَﺍﻝُ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻳَﺘَﻘَﺮَّﺏُ ﺇِﻟَﻲَّ ﺑِﺎﻟﻨَّﻮَﺍﻓِﻞِ ﺣَﺘَّﻰ ﺃُﺣِﺒَّﻪُ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﺣْﺒَﺒْﺘُﻪُ ﻛُﻨْﺖُ ﺳَﻤْﻌَﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺴْﻤَﻊُ ﺑِﻪِ ﻭَﺑَﺼَﺮَﻩُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺒْﺼِﺮُ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﺪَﻩُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﺒْﻄِﺶُ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺭِﺟْﻠَﻪُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﻤْﺸِﻲ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺇِﻥْ ﺳَﺄَﻟَﻨِﻲ ﻟَﺄُﻋْﻄِﻴَﻨَّﻪُ ﻭَﻟَﺌِﻦْ ﺍﺳْﺘَﻌَﺎﺫَﻧِﻲ ﻟَﺄُﻋِﻴﺬَﻧَّﻪُ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺮَﺩَّﺩْﺕُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﺃَﻧَﺎ ﻓَﺎﻋِﻠُﻪُ ﺗَﺮَﺩُّﺩِﻱ ﻋَﻦْ ﻧَﻔْﺲِ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻳَﻜْﺮَﻩُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﻛْﺮَﻩُ ﻣَﺴَﺎﺀَﺗَﻪُ] আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি আমার অলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছিআমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করেআমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকেঅবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলিযখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে আর সে আমার কাছে কিছু চাইলে, আমি তাকে তা দেইসে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেইআমি যা করার ইচ্ছা করি, সে ব্যাপারে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি না কেবল মুমিনের আত্মার ব্যাপার ছাড়াসে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি

[কিতাব সূত্রঃ বুখারী শরিফঃ হাদিস শরীফ নং ৬৫০২] মান সহিহ।

এতএব বোঝা গেলো ওলী আল্লাহগন উনাদের শানে কুন ফায়াকুনর দলীলের অভাব নেই। কিন্তু ইবলিস এবং তার অনুসারীদের কাজ হলো তারা দলিল দিলে হয় পালাবে নতুবা তা পড়বেনা।

এবার কি তারা তওবা করবে? তারা যদি প্রকাশ্যে তওবা না করে তাহলে যে বান্দার উপর অপবাদ দেওয়া হয়েছে তার দাবী কিয়ামতের মাঠেও থাকবে যার মাফ স্বয়ং আল্লাহ পাক ও করবেন না যদি না ব্যক্তি ক্ষমা করেন।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের হক্ব জানার, বোঝার, মানার তৌফিক দান করুন কারন এটা ভ্রান্ত ধর্মের অনুসারীর কাছে তার ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হওয়ার চেয়েও কঠিন কাজ।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: