4.13.2019

নিজের খুনের হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বানানোর গুড় রহস্য কি?


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (বর্তমান ধর্মপ্রতিমন্ত্রী) জড়িত ছিলো।

১৩-০৫-২০১০ এ প্রথম আলো নিউজ প্রকাশ করেঃ শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা, আওয়ামীলীগের নেতারা এর সঙ্গে জড়িতঃ মুফতি হান্নান।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানও জড়িত ছিলেনআদালতের বারান্দায় সাংবাদিকদের দেখে মুফতি হান্নান এসব বক্তব্য দেন

আজ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারাধীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসংক্রান্ত রাষ্ট্রদ্রোহসহ তিনটি মামলায় হাজির করতে নিয়ে আসে পুলিশ ও র্যাব

মুফতি হান্নান বলেন, ‘বোমা পুঁতে রাখার সঙ্গে আমার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল নাবোমা পোঁতার বিষয়ে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মাহাবুব আলী খান সবই জানেএর সঙ্গে কোটালীপাড়ার আরও অনেক নেতা জড়িত ছিল বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানানএই দুই নেতাকে তাঁর মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদেরও দাবি জানান মুফতি হান্নান

মুফতি হান্নানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারা গোপালগঞ্জে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা পুঁতে হত্যা প্রচেষ্টা মামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের তিনটি মামলায় হাজিরা দিতে তাঁকে আজ আদালতে আনা হয়

গোপালগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গোলাম মোর্শেদের আদালতে বর্তমানে এ তিনটি মামলা বিচারাধীনমামলার কার্যক্রম ২০০১ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ নয় বছর পর আজই প্রথম এই মামলাগুলোতে মুফতি হান্নানকে গোপালগঞ্জ আদালতে আনা হয়এত দিন তাঁকে আদালতে হাজির না করায় মামলার কার্যক্রম শুধু তারিখ ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল

পিপি আবদুল হালিম বলেন, প্রধান আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছেএখন মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগোবে বলে মনে হয়আর তাহলে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো এ বছরই শেষ হবে বলে মনে হয়

অন্যদিকে, আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন

শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এবং মামলায় কিছু সুবিধা পেতে সে এ ধরনের অভিযোগ এনেছেএ ছাড়া এ সংক্রান্ত একটি অস্ত্র মামলায় মুফতি হান্নানের যাবজ্জীবন কারদণ্ড হয়েছেওই মামলায় আমি সরকারি কৌঁসুলির সহকারী ছিলাম

মাহবুব আলী খান বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ভারতে একটি ফুলবল টিম নিয়ে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম

২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটালীপাড়ার জনসভাস্থলে ৭৬ কেজি ওজনের শক্তিশালী দুটি দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা পুঁতে রাখে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও অনুসারীরা২০ জুলাই ও ২৩ জুলাই সেই বোমা দুটি উদ্ধার হয়এ ছাড়া গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে আবিষ্কার হয় মুফতি হান্নানের সাবান ফ্যাক্টরির আড়ালে বোমা তৈরির কারখানাবিশালাকৃতির বোমাগুলো এখানেই তৈরি করা হয়

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১৩-০৫-২০১০
আর্কাইভঃ http://archive.is/73vt6


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: