4.14.2019

৫০০ ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের উপস্থিতিতে শবে বরাত!!!


গুগল আর বাংলা বই পড়ে হওয়া কথিত মুফতেরা কি ৫০০ ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের উপস্থিতিতে শবে বরাতের বর্ননার ব্যপারে অবগত???

হিজরি ২য় শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবিদ ইমাম ওয়াকেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৩০-২০৭ হিজরী) মুসলমানদের বিজয় গাথা ইতিহাস নিয়ে ফুতুহুশ শাম নামের ঐতিহাসিক অদ্বিতীয় একখানা কিতাব লিখেন যা বাংলায় মরনজয়ী ছাহাবা নামে ২ খণ্ডে বের করা হয়েছে।

ইমাম ওয়াকেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বইয়ের সকল তথ্য যারা জিহাদ করেছেন, যারা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের সন্তান ছিলেন, যাদের পিতা জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যারা দেখেছেন তাদের সকলের কাছে গিয়ে এমনকি সরাসরি জিহাদ যে স্থানে হয়েছিল সে ময়দানে গিয়ে স্বচক্ষে দেখে এই পুস্তক রচনা করেছেন।

এই বই মুসলিম মিল্লাতের জন্য অসীম গুরত্বপূর্ণ একটি কিতাব। সারা বিশ্বে এই মহামূল্যবান কিতাবখানা একনামে সমাদৃত। আজ ১২০০-১৩০০ বছর পরেও এই কিতাবের প্রয়োজনীয়তা এতটুকুও কমেনি। ইতিহাসবিদদের নিকট এই বই এক অমূল্য রত্নভান্ডার।

এই কিতাবের বাংলায় অনুবাদকৃত কিতাবের ২৫৪ পৃষ্টায় ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন শবে বরাতের ফযিলত বর্ননা করেছেন বলে পাওয়া যায়ঃ

হুযুরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়া থেকে পর্দা করার ৩ বছরের মাথায় ৬৩৬ খৃষ্টানদের রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ইয়ারমুকের জিহাদ পরিচালিত হয়। এই জিহাদের প্রাক্কালে খৃষ্টানদের আবুল কুদস আশ্রম বিজয় করতে সিপাহসালার হযরত আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার (যিনি ছিলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই হযরত জাফর বিন আবু তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ছেলে) নেতৃত্বে ৫০০ শত জনের একটি দল প্রেরণ করেন যাতে বদরী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনও ছিলেন। ঐ বীর ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনদের মধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম হচ্ছেন হযরত আবু জর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, আমের বিন রবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন উনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উকবা বিন আবদুল্লাহ আল সুলামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ওয়ায়িলা বিন আল আসকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সাহল বিন সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, শৈব বিন ইয়াজিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ।

হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যেদিন উনার বীর সাথীবর্গকে নিয়ে আবুল কুদস আশ্রম বিজয় করতে বের হন, সেদিন ছিল ১৫ই শাবান এর রাত। আকাশে তখন পুর্নিমার চাঁদ।

হযরত অয়ায়িলা বিল আল আসকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন আমাকে আবদুল্লাহ বিন জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেনকি চমৎকার এ রাতের চাঁদ! আমি তখন বললাম ওহে মহান আল্লাহর রাসুল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই এর ছেলে। এটা শাবানের ১৫তম দিবসের রাত। এটা একটা বড় বরকতময় রাত। এ রাতে মানুষের জীবিকা ও মৃত্যুর ফায়সালা হয় এবং গুনাহ ক্ষমা করা হয়। তাই আমি এ রাত মহান আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে চাই(মরনজয়ী ছাহাবা, পৃ ২৫৩-২৫৪, মীর পাবলিকেশন্স, বায়তুল মোকাররম, প্রথম প্রকাশ ২০০৪)।

১৪০০ বছর পুর্বে যে শবে বরাতের কথা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন বর্ননা করেছেন এবং পালন করেছেন আজ সেই শবে বরাতের বিরুদ্ধে কতিপয় জাহেল বিদয়াত এর ফতোয়া দেয়! নাউযুবিল্লাহ। এরাই আবার জমিনে ইসলামী শাসন পেতে চায়। যেমন ইসলামী হুকুমাত ভ্রান্ত আক্বিদা পোষণকারিদের জন্য আল্লাহ পাক মজুত রেখেছেন।

কত বড় নিকৃষ্ট মুনাফিক হলে শবে বরাতকে বিদয়াত বলে তা মুসলমানদের ফিকির করা উচিত। মুসলমানকে ভাবতে হবে যে, সে কি কতিপয় মুনাফিক, জাহেল, বকলম, দাজ্জালে কাযাব তাদের কথা শুনবে নাকি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের অনুসরণ করে শবে বরাত পালন করবে?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: