1.12.2020

সংক্ষেপে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাওয়ানেহ উমরি মুবারক


খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন মুসলিম ইতিহাসে এক মহান সেনাপতি। যিনি রণক্ষেত্রে নিজের শক্তি ও মেধার দ্বারা সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামের ঝান্ডাকে বুলন্দ করেছিলেন।

মূল নাম খালিদ, উপনাম আবু সুলায়মান ও আবুল ওয়ালীদ। লক্বব সাইফুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার তরবারী)। মূতার যুদ্ধে অসমান্য অবদানের জন্য তিনি সাইফুল্লাহউপাধিতে ভূষিত হন। খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর জন্ম তারিখ সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এতটুকু জানা যায় যে, নবুয়তের ১৫ অথবা ১৬ বছর পূর্বে উনার জন্ম হয়।

উনার পিতা ওয়ালিদ ইবনে মুগীরা। মাতা লুবাবা আস-সুগরা। যিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত ময়মুনা বিনতুল হারিছ আলাইহাস সালাম-এর বোন (আছহাবে রাসূল ২/৬৩ পৃঃ)। এ দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খালু লাগেন। তিনি মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। উনার বংশ তালিকা হচ্ছে-খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখযুম আল-কুরাশী আল-মাখযুমী (আল-ইছাবাহ ফী তাময়ীযিছ ছাহাবা, ২/৯৮ পৃঃ)।

ইসায়ী ৬৩৮ সালে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর নেতৃত্বে এডেসা, দিয়ারবাকির, মালাতিয়া, আরারাত এবং জাজিরার উত্তরের বাইজেন্টাইন অঞ্চল জয় করার পর মুসলমানদের মধ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হয়ে উঠেন জাতীয় শ্রেষ্ট বীর। এরপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মারাশ অধিকার করেন। এর কিছুদিন পর খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জানতে পারেন খ্যাতনামা কবি আশআস খালিদের প্রশংসা করে কবিতা রচনা করেছেন। আরবে তখন কবি ও কবিতার খুবই কদর, যারা কবিতা পছন্দ করতেন তারা একটি ভালো কবিতার জন্যে সম্পদের দিকে তাকাতেন না। অনুরূপ হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খুশি হয়ে কবিকে ১০০০০ দিরহাম উপহার হিসেবে দিয়ে দেন। এটা খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম অপছন্দ করলেন। তাই তিনি তদন্তের প্রয়োজন অনুভব করেন।

খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর দান করার অর্থের উৎস বের করতে তদন্তের দায়িত্ব দেন আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে। আবু উবাইদার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর জন্য এ কাজটি করা কঠিন ছিলো। কারন আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অত্যন্ত পছন্দ করতেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে। নিজের ছোট ভাইয়ের মতো আদর, স্নেহ আর ভালোবাসা ছিলো খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর প্রতি। তাই তিনি বিলাল ইবনে রাবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে এই দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পেয়ে বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে চেলসিস থেকে এমেসায় ডেকে আনেন এবং জানতে চান এ অর্থ তিনি কোথা থেকে পেলেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন তিনি নিজের অর্থ থেকে এই উপহার দিয়েছেন। এরপর আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালামের নির্দেশ খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে শুনিয়ে দেন, এটি ছিলো যদি খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উপহার দেন তবে তা ক্ষমতার অপব্যবহার। আর যদি তিনি নিজের অর্থ থেকে প্রদান করেন তবে তা অপচয়। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালামের নির্দেশে উনাকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। খলীফার উক্ত অব্যাহতির আদেশ খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অবনত মস্তকে মেনে নেন।

খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ইসলাম গ্রহনের কাহিনী অত্যন্ত চমৎকার। তখনো খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন কাফির সৈনিক। একদিন আক্বায়ে নামদার, সরকারে দো-আলম রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করলেন হে মহান আল্লাহ পাকঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সালামা ইবনু হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং দুর্বল মুসলমানদেরকে কাফিরদের হাত থেকে মুক্তি দান করুন। এ দোয়ার পরে ৭ম হিজরিতে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুল করেন।

মূতার যুদ্ধে তিনজন সেনাপতিকে হারিয়ে মুসলিম বাহিনী যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় তখন তারা খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে সিপাহসালার মনোনীত করেন। অতঃপর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অসীম বীরত্ব ও অপূর্ব দক্ষতা প্রদর্শন করে বিজয় পতাকা উড্ডীন করেন। নূরে মুজাসসাম সাইয়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই তেজস্বীতা ও বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ উনাকে সাইফুল্লাহ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার তরবারী উপাধিতে ভূষিত করেন (যার হক্বিকত অর্থ তিনি কখনো শহীদ হবেন না বরং গাজীয়ে দ্বীন হয়ে থাকবেন ইতিহাসে)।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়া থেকে পর্দা(বিছাল শরীফ) গ্রহণের পরে বড় বড় কিছু গোত্র প্রথম খলিফা সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম উনার, বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কিছু সংখ্যক মুসলমান তাদের পূর্বের ধর্মে ফিরে যায়। কিছু লোক ভণ্ড নব্যুয়তের দাবী করে বসে, অনেকে ইসলামি কোষাগারে যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এরকম  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়। যা খলিফা সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম শক্ত হাতে দমন করেন। ইসলাম ত্যাগী তথা রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের কিছু শক্তিক্ষয় করলেও তাদের ভিতরের যে সকল লোক শুধু মুখে বা ক্ষমতা দখলের জন্য সুযোগ সন্ধান করছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং তারা সমূলে উৎপাটিত হয়। এতে করে মুসলমানদেরই অনেক উপকার হয়। তারপরই শুরু হয় ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধের দামামা।

একদিকে ইসলাম ত্যাগকারী ও যাকাত অস্বীকারকারী, অপর দিকে ভন্ডনবীদের উৎপাত মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এই ফেৎনাবাজদের শিরদাড়া গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইস্পাত কঠিন শপথ নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম তাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের অনুরোধে তিনি তা করেননি বরং মদীনা শরীফেই রয়ে গেলেন। তিনি গোটা সেনাবাহিনীকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১টি ভাগের দায়িত্ব দিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে। মদীনা শরীফ থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বিদায় দেওয়ার সময় উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আপনার সম্পর্কে আমি রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘খালিদ মহান আল্লাহ পাকের একটি উন্মুক্ত তরবারী-যা মহান আল্লাহ পাক কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কোষমুক্ত করেছেন। তারপর তিনি বলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মহান আল্লাহ পাকের কতইনা উত্তম বান্দা(রিজালুন হাওলার রাসূল কিতাবের ২৯৩ পৃঃ)। তিনি উনার বাহিনী নিয়ে মদীনা শরীফ ত্যাগ করেন। সর্বপ্রথম তিনি ভন্ডনবী তুলায়হা লানতুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তুমুল যুদ্ধ চলছে। প্রতিটি সংঘর্ষে তুলায়হা পরাজয় বরণ করছে। এমন সময় তুলায়হা একদিন তার আপনজনদের জিজ্ঞাসা করল আমাদের এত বিপুল সৈন্য থাকতেও আমাদের এমন শোচনীয় পরাজয় কেন? তার সঙ্গীরা তাকে বলল, আমাদের প্রত্যেকেই চায় তাঁর সাথী আগে মারা যাক আর তারা প্রত্যেকেই চায় যে সে তাঁর সঙ্গীর আগে মৃত্যুবরণ করুক (হায়াতুছ ছাহাবা ৩/৬৯৩ পৃঃ)। অতঃপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তুলায়হার সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করেন এবং ৩০ জনকে বন্দী করেন।

তারপর তিনি মুসায়লামাতুল কাযযাব লানতুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। মুসায়লামা কাজ্জাবটা হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর হাতে নিহত হয়ে চির বিদায় নেয় (আসহাবে রাসূলের জীবনকথা ২/৬৭ পৃঃ)। তারীখুল খুলাফাগ্রন্থকার বলেন, ভন্ড নবীদের ফিৎনা নির্মূল করার পর হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যাকাতদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী মুনাফিক ও মুরতাদদের দিকে ধাবিত হন এবং তাদের উপর কঠিনতর আঘাত হানেন। তাদের কিছু মারা যায় এবং কিছু ধৃত হয়। আর অবশিষ্টরা তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে(তারীখুল খুলাফা, ৭২ পৃঃ)।

যাকাতদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী মুনাফিক সর্দার মালিক বিন নুয়ায়রাহর হত্যাকে নিয়ে এই মহৎ সাহাবী হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ব্যপারে এমন কিছু নিন্দা ও অপবাদের কথা সমাজে প্রচারিত আছে যেগুলি কাফের শিয়া'র কয়েকটি দলের বদ হিংসা বিদ্বেষের থেকে সৃষ্টি হয়, যা হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে তাও সেই সময়ে যখন কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং মুসলিম মিল্লাত সুরক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন তিনি দ্বীন ইসলামের উপর প্রতিষ্টিত থাকা খলিফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সময়ের মুসলিম রাষ্ট্রে, অথচ মালিক ইবনে নুওয়ায়রাহ সম্মানিত দ্বীন ইসলামের খুটি ও তৃতীয় স্তম্ভ পবিত্র যাকাত দিতে অস্বীকৃতিই কেবল জানায় নি বরং পবিত্র যাকাতের উটকে আটকে দেয় এবং সে তার গোত্রের লোকদের তা পরিশোধে বাধাও দেয়, যার ফলে আল্লাহ পাকের তরবারি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাকে হত্যা করতে উনার সেনাবাহিনী পরিচালিত করেন।

কেবল সেনাপতি আর সেনাবাহিনী পরিচালনা নয়, তিনি সিরিয়ার রাহা, হিরাত, আমদ এবং লারতার অঞ্চলসমূহের শাসনকর্তা ছিলেন অনেক দিন। (আছহাবে রাসূলের জীবনকথা, ২/৭২ পৃঃ)। তিনি খলীফা প্রদত্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে দ্রুত সিরিয়ায় গমন করেন। এবং দ্রুত গতিতে বলবেক, এডেসা, আলেপ্পো, কিন্নিসিরিন প্রভৃতি স্থান দখন করে সমগ্র সিরিয়া অঞ্চলে মুসলিম শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আর এভাবে তিনি একজন সুদক্ষ সেনানায়ক থেকে একজন সুযোগ্য রাষ্ট্রীয় শাসকে পরিণত হন।

সেখানে কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ইসলাম গ্রহণের পর হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মাত্র ১৪ বছর জীবিত ছিলেন। এ অল্প সময়েই তিনি মোট ১২৫ মতান্তরে ৩০০ টি ছোট-বড় যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তবে খুশীর বিষয় হল তিনি কোন যুদ্ধেই পরাজিত হননি রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেওয়া সাইফুল্লাহ উপাধির বদৌলতে। (ইবনুল আছীর, তারীখে কামিল, ৪১৮ পৃঃ)।

ইসলাম গ্রহণের পর থেকে প্রায় মৃত্যু অবধি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করেছেন। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সান্নিধ্যে থাকার খুবই কম সুযোগ পেয়েছেন। যেমন তিনি বলেন, জিহাদের ব্যস্ততা আমাকে কুরআন শরীফের বিরাট একটি অংশ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছেন (আল-ইছাবা, ৪১৫ পৃঃ)। তারপরেও তিনি এ শিক্ষা থেকে একেবারে বঞ্চিত থেকেছেন তা নয়। বরং তিনি রাসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে যতটুকু সময় কাঁটাতে পেরেছেন তার সদ্ব্যবহার করেছেন। তিনি মোট ১৮ মতান্তরে ১৭টি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে মুত্তাফাক্বুন আলাইহ হাদীছ শরীফ ২টি এবং বুখারী শরীফে এককভাবে একটি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। তিনি ফৎওয়া বিভাগে সাধারণত বসতেন না তাই উনার ফৎওয়ার সংখ্যা দুটির বেশি পাওয়া যায় না।

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৬৩৯ ঈসায়ী মোতাবেক হিজরী ২১ মতান্তরে ২২ সালে কিছুদিন অসুস্থ হন এবং ৬০ বছর বয়সে মদীনা শরীফে বিছাল শরীফ লাভ করেন। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর দুনিয়া ত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম আফসোস করে বলেছিলেন, ‘নারীরা খালিদের মত সন্তান প্রসবে অক্ষম হয়ে গেছে।এমন কি উনার মৃত্যুতে খলীফার মতো কঠিন পর্বত সময় ব্যক্তিত্ব মুবারক পর্যন্ত নিজে কেঁদেছিলেন (রিজালুন হাওলার রাসূল, ৩০৫ পৃঃ)।

পরিশেষেঃ হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বীরের আসনে সমাসীন, উনাকে মুজাহিদে আযম বলা হয়ে থাকে। সামরিক ক্ষেত্রে এবং রণাঙ্গনে উনার যে অবদান তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: