2.26.2020

রজবুল হারাম শরীফ মাসের পহেলা জুমুয়ার রাত্রটিই হচ্ছেন পবিত্র "লাইলাতুর রগায়ীব" শরীফ


পবিত্র ও সম্মানিত রজবুল হারাম শরীফ মাসের পহেলা জুমুয়াহ শরীফের রাত্রটিই হচ্ছেন মহা সম্মানিত পবিত্র লাইলাতুর রগায়ীব শরীফযে রাতের দোয়া নিশ্চিতভাবে অবশ্ব্যই কবুল হয়ে থাকেন

সম্মানিত পবিত্র রগায়ীব (رغائب) শব্দটি (رغيب) উনার বহুবচনযার অর্থ কাঙ্খিত বিষয়, প্রচুর দান। (মিছবাহুল লুগাত-২৯৮)

পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরনসালীন, খতামান্নাবীঈন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে রাত্রিতে উনার আম্মাজান সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন সেই মহান রাতকে লাইলাতুর রগায়ীববলা হয়

ঐ সম্মানিত পবিত্র রাত মুবারকের মধ্যরাতের পর থেকে ছুবহে ছাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে তিনি তাশরীফ মুবারক নিয়েছেনযা তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত বা সময়আর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “তাহাজ্জুদ নামায সমাপান্তে নিজ আহলিয়ার সাথে নিরিবিলি অবস্থান খাছ সুন্নত বা সর্বোত্তম সময়

হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছেসাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “তোমরা পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ শরীফ মাস উনার প্রথম জুমুয়ার রাতটি গাফলতির সাথে অতিবাহিত করো নাকারণ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ওই রাতটিকে লাইলাতুর রগায়ীবনামে আখ্যায়িত করেছেনসুবহানাল্লাহ!

আর ওই রাতটি যখন এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় তখন আসমান-যমীনে যতো হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আছেন উনারা সবাই পবিত্র কাবা শরীফ এবং উনার আশপাশে উপস্থিত হনমহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সম্বোধন করে বলেন, “হে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম! আপনাদের যা ইচ্ছা তা প্রার্থনা করতে পারেনআমি অবশ্যই কবুল করবোহযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা তখন বলেন, “হে মহান আল্লাহ পাক! আমাদের প্রার্থনা এই যে, যারা রজবুল হারাম শরীফ মাসে রোযা রাখবেন তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিনতখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম(গুনিয়াতুত ত্বলিবীন ৩৩১)

মুহইস সুন্নাহ ওয়াশ শরীয়াহ, মাহিউল বিদয়াত ওয়াদ দলালাহ, কাশিফুল আসরার খফী ওয়াল জলী হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব, “বারাহীনুল ক্বতইয়াহ ফী মাওলিদী খাইরিল বারীয়াহ”-উনার ৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লাইলাতুর রগায়ীব শরীফ উনাকে পবিত্র শবে বরাত ও পবিত্র শবে ক্বদর উনাদের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাসম্পন্ন বলে ফতওয়া দিয়েছেনকারণ পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসের ১লা জুমুয়াহ শরীফের রাতে যেরূপ রহমত, বরকত, বুযূর্গী, সম্মান, দয়া-দান, ইহসান ও সৌভাগ্য সারা কায়িনাত এবং মুমিনগণ পেয়ে থাকেন, এবং তাদের উপর বর্ষিত হতে থাকে তা অতীতে কোনো সময়ে হয়নি এমনকি ক্বিয়ামত পর্যন্ত অন্য কোনো সময় তা হবে নাসুবহানাল্লাহ!

এ কারণে এই রাত (পবিত্র লাইলাতুর রগায়ীব শরীফ)কে পবিত্র শবে ক্বদর, পবিত্র শবে বরাত হতে অত্যধিক ফযীলতপূর্ণ বলে গণ্য করতে হবেএ মতের সমর্থনে হক্কানী-রব্বানী আলিমগণ উনারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ১/২৬ পৃষ্ঠা)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার বা খইরে কাছীর হাদিয়া করেছি

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, মুর্শিদে আযম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক-এর সূরা কাওছার শরীফ’-এর ১ নং আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছিসুবহানাল্লাহ! কাওছার’-এর ব্যাখ্যায় একাধিক অর্থ উল্লেখ করা হয়

প্রথমতঃ কাওছারবলা হয়েছে, হাউজে কাওছারকেযা খাছভাবে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন এবং এর পানি পান করলে জান্নাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পানির পিপাসা লাগবে নাসুবহানাল্লাহ!

দ্বিতীয়তঃ কাওছার-এর আরেকটি অর্থ হলো, খইরে কাছীরঅর্থ- যা অতি উত্তম, অনেক ভালঅর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যা কিছু হাদিয়া দিয়েছেন তা সর্বকালের জন্য, সর্বদিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম

শুধু তাই নয়, এমনকি যা কিছু মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারক-এ এসেছে সেটাও সবচেয়ে মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে গেছেযেমন, সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত হয়েছেন অর্থাৎ ইজমা হয়েছে যে, যে মাটি উনার পা মুবারক-এ বা শরীর মুবারক-এ স্পর্শ করেছে; সে মাটি মুবারক-এর মর্যাদা আরশে আযীমের চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ বেশি হয়ে গেছেসুবহানাল্লাহ!

যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, মুর্শিদে আযম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে মাটির কোন ক্বদর বা মূল্য ছিল নাকিন্তু শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারক-এর কারণে সেই মাটি মুবারক-এর মর্যাদাও আরশে আযীমের চেয়ে মূল্যবান, ফযীলতপ্রাপ্ত ও সম্মানিত হয়েছেঠিক একইভাবে লাইলাতুর রগায়ীব’-এর ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব শবে ক্বদর, শবে বরাত ও অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হলো, ‘লাইলাতুর রগায়ীব’-এর সম্পর্ক সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেসুবহানাল্লাহ!

হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব বারাহিনুল ক্বতইয়াহ ফী মাওলিদি খাইরিল বারিয়াহউনার ৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে যে, এই রাতে মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে ও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জগতে নির্দেশ মুবারক দিয়েছিলেন যে, পবিত্রতম নূর মুবারক দ্বারা সারা কায়িনাত (জগৎ) আলোকিত করে দাওতাই আসমান-যমীনের সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহাখুশিতে বিভোর হয়ে গিয়েছিলেনসর্বোত্তম জান্নাত জান্নাতুল ফিরদাউস উনার মুবারক দরজা খুলে দেয়ার জন্য জান্নাতের দ্বাররক্ষী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলসারা কায়িনাতকে বিভিন্ন প্রকার খুশবু দ্বারা সুগন্ধিযুক্ত করার হুকুম ছিলআকাশের সব স্তরে এবং পৃথিবীর সব ঘরে ঘরে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, “নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ মুবারক রাতে উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেনকারণ তিনি সবকিছুর মূলঅর্থাৎ উনাকে উপলক্ষ করে সারা কায়িনাতের সবকিছুই সৃষ্টি করা হয়েছেআর তিনি সমস্ত নূর মুবারক ও গুপ্ত রহস্যাবলীসহ সমস্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত সাকীনা, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা, হাক্বীক্বত, মারিফাত, মুহব্বতসহ সমস্ত কিছু জাহির বা প্রকাশিত হওয়ার মূল উৎসগোটা সৃষ্টি জগৎ উনার মুবারক অজুদ পাক বা মুবারক অস্তিত্ব হতে সৃষ্টি হয়েছে এবং যিনি সমস্ত কিছুর মূলতিনি অচিরেই দুনিয়াতে মুবারক তাশরীফ নিবেনসারা কায়িনাতকে তিনি সম্মান-মর্যাদা দ্বারা খুশি ও আনন্দিত করবেনসুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ১/১৯, সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/১৪৫)

হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণের দিন যেভাবে শয়তানগুলোকে আকাশে উঠার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, অনুরূপ পবিত্র লাইলাতুর রগায়ীব শরীফ এবং ঊষাকালে সকল মূর্তি উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল
পবিত্র লাইলাতুর রগায়ীবশরীফ উনার মধ্যে অসংখ্য-অগণিত আশ্চর্যজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো।-
(১) দুনিয়ার এমন কোনো বাদশাহের সিংহাসন ছিলো না, যা ওই রাতে উল্টিয়ে পড়েনি
(২) উক্ত রাতে প্রতিটি ঘর আলোকময় হয়েছিল
(৩) সেই রাতে সমস্ত জীব-জন্তু কথা বলতে পেরেছিলো
(৪) এমনকি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের পশু-পাখিরা পর্যন্ত খুশি ও সুসংবাদ বাণী পরস্পর বিনিময় করেছিলো। (আল বারাহীনুল ক্বতইয়াই ফী মাওলিদি খাইরিল বারিয়াহ, ৭৯)

তিনি সেখানে আরো উল্লেখ করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার পূর্বে দুর্ভিক্ষের কারণে অনেকেই অভাবে কষ্ট ভোগ করছিলবৃষ্টির অভাবে গাছের পাতাগুলো শুকিয়ে গিয়েছিলোআর সমস্ত জীব-জন্তু এবং গৃহপালিত পশু-পাখিগুলো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলো

কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার সাথে সাথে আমূল পরিবর্তন হয়ে গেলমহান আল্লাহ পাক তিনি মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করলেনরহমতের বৃষ্টি সকল গাছপালা, তৃণ লতাকে নতুনভাবে সবুজ ও তরুতাজা করে দিলোসুবহানাল্লাহ!

(মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া, ১/১৯, সীরাতে হালাবিয়া ১/৪৮, বারাহীনুল ক্বতইয়াহ ৮১, সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/১৪৫)

হযরত মাওলানা শাহ কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আল বারাহীনুল ক্বতইয়াই ফী মাওলিদি খাইরিল বারিয়াহকিতাবে আরো উল্লেখ করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আম্মা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আমি সে সময় ঘুম ও জাগ্রতের মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলামএমন সময় একজন লোক এসে আমাকে সুসংবাদ জানালেন- সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত তথা রহমাতুল্লিল আলামীন আপনার মাঝে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেনউক্ত ব্যক্তি আরো বললেন, আপনি মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব উনাকেই গ্রহণ ও ধারণ করেছেনসুবহানাল্লাহ!

অপর বর্ণনায় এসেছে, সমস্ত সৃষ্টির সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার পরেই উনার স্থান উনাকেই আপনি গ্রহণ ও ধারণ করেছেনসুবহানাল্লাহ! (আল বারাহিনুল ক্বতইয়াহ, ৮৪)

হযরত আবূ নাঈম ইস্পাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মাতা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক আনয়নের দিনের মুবারক নিদর্শন হচ্ছে এই যে, সেই রাত মুবারকে কুরাইশদের সমস্ত গৃহপালিত পশুগুলি একটি অন্যটির নিকট বলাবলি করেছিল যে, পবিত্র কাবা শরীফ উনার রব উনার কসম! তথা মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! এই রাত মুবারকে এমন একজন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন; যিনি হচ্ছেন- সমস্ত কায়িনাতের ইমাম এবং দুনিয়াবাসী সকলের আলোর দিশারী তথা পথ প্রদর্শকসুবহানাল্লাহ! (আল বারাহীনুল ক্বাতইয়াহ ৮৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংস্পর্শে যা কিছু এসেছেন সেটাও সবচেয়ে সুমহান হয়ে গেছেনযেমন- সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত হয়েছেন অর্থাৎ ইজমা করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক, জিসিম মুবারক বা যেকোনো অংশ মুবারক উনার যা কিছু স্পর্শ মুবারকে এসেছেন; উনার প্রত্যেকটি বিষয়, বস্তু বা প্রতিটি জিনিসের মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ সীমাহীন ঊর্ধ্বেসুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে মাটি বা কোনো কিছুরই কোনো ক্বদর বা মূল্য ছিল নাশুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারক উনার কারণে পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়ে মূল্যবান, ফযীলতপূর্ণ ও সম্মানিত হয়েছেন

এখন অনেকে প্রশ্ন করে পবিত্র লাইলাতুল রগায়িব কি করে শবে বরাত এবং শবে কদরের চাইতেও বেশি মর্যাদাবান হলো?

তাদের এই প্রশ্নের জবাব হচ্ছে- এই বিষয় সমূহের মর্যাদা বুঝতে আমাদের সর্বপ্রথম বুঝতে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সমূহের কিরুপ সেটা বুঝতে হবে

সকল ইমাম,মুস্তাহিদ এক বাক্যে ইজমা করেছেন- [ﺍﻥ ﺍﻟﺘﺮﺑﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﺍﺗﺼﻠﺖ ﺍﻟﻲ ﺍﻋﻈﻢ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺳﻠﻢ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ﻭﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺣﺘﻲ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ]
অর্থঃ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক উনার সাথে যে মাটি স্পর্শ করেছে তা আসমান-জমিন, আরশ-কুরসির চাইতেও শ্রেষ্ঠ।"
দলীল-
ফতোয়ায়ে শামী ৩য় খন্ড- কিতাবু যিয়ারত

আরো উল্লেখ আছে [ﻓﺎﻧﻪ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻄﻠﻖ ﺣﺘﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﻜﻌﺒﺔ ﻭﺍﻋﺮﺵ ﻭﺍﻟﻜﺮﺳﻲ]
অর্থঃ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবকিছুর চাইতে শ্রেষ্ঠ, এমনকি কা'বা শরীফ, আরশে আযীম ও কুরসী হতেও !"
দলীল-
দূররুল মুখতার ১ম খন্ড ১৮৪পৃষ্ঠা

উক্ত ইজমা শরীফ থেকে এখন চিন্তা করেন, ধুলি বালি যদি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কদম মুবারক স্পর্শের কারনে আরশ-কুরসী-লওহো-কলম-কাবা শরীফ থেকে শ্রেষ্ঠ হয় তবে উনার সংশ্লিষ্ট প্রতিটা বিষয় বা জিনিসের কত মর্যাদা!!

উদাহরণ স্বরূপ সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের মর্যাদা দেখুন, কিয়ামত পর্যন্ত শত সহস্র ইবাদত করেও এক সেকেন্ডের দর্শনে যিনি সাহাবী উনার সমকক্ষ হওয়া সম্ভব নয়কোন বান্দা যদি উহুদ পাহাড় পরিমান স্বর্ন আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করে, সে দান একজন সাহাবীর ৭ছটাক বা ১৪ ছটাক গম দানের সমানও হবে না। (বুখারী শরীফ)

এই ফযিলত কোথা থেকে আসলো??

শুধুমাত্র হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারনে এই ফযীলত লাভ হয়েছে

তাহলে এখন ফিকিরের বিষয়, তাহলে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন তাশরীফ আনলেন, উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় যে তারিখে তাশরীফ আনলেন, যে মাসে তাশরীফ আনলেন সেই সমস্ত দিন,তারিখ এবং মাসের মর্যাদা কত??

আর নিয়ামত পূর্ন দিন মর্যাদা পূর্ন দিন সমূহ স্বরন করা বা আলোচনা করার কথা কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে [ﻭﺫﻛﺮﻫﻢ ﺑﺎﻳﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻥ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻻﻳﺎﺕ ﻟﻜﻞ ﺻﺒﺎﺭ ﺷﻜﻮﺭ]
অর্থঃ আল্লাহ পাক উনার বিশেষ দিন সমূহ স্বরন করান ! নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকরগুযার বান্দাদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে!" (সূরা ইব্রাহীম আলাইহিস সালামঃ ৫)

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট দিন মুবারক হতে নিয়মত পূর্ন এবং মর্যাদা পূর্ন আর কোন দিন, তারিখ, মাস কি আছে পৃথিবীতে??

আপনারা সবাই জানেন, লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম কেন উত্তম? কারন এই রাতে কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছিলো এবং ফিরিশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নাযিল হন

এই কারনে যদি শবে কদর হাজার মাস থেকে উত্তম হয়, তাহলে যিনি সৃষ্টি না হলে কিছু সৃষ্টি হতো না, কুরআন শরীফ নাযিল হতো না, ফিরিশতা সৃষ্টি হতো না, যার কদম মুবরকের ধুলা-বালি মুবারক আরশ কুরসির চাইতে শ্রেষ্ঠ সেই নবীজী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের রাত কত বেশি মর্যাদাপূর্ন, ফযীলতপূর্ন সেটা চিন্তার বিষয়আল্লাহ পাক আমাদের বোঝার তৌফিক দান করুনআমীন!!

যদি বাহ্যিক দৃষ্টিতে কোনো কিছু স্পর্শ মুবারকে আসার কারণে স্বয়ং পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়ে বেশি মর্যাদাবান হয়ে যান; তাহলে পবিত্র নূরানী অজুদ পাক উনার সাথে যে বিষয়গুলি মিশে আছেন সেই বিষয়গুলির ফাযায়িল-ফযীলত যে কত বেশি তা সারা কায়িনাতের প্রত্যেক সৃষ্টিকুলের চিন্তা, ফিকিরের সীমাহীন ঊর্ধ্বেতাইতো বলা হয়ে থাকে পবিত্র লাইলাতুর রগায়ীব মুবারক হচ্ছে- পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাতসহ অন্যান্য সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাতের চেয়ে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি ফযীলতপূর্ণসুবহানাল্লাহ!

তাই প্রত্যেক উম্মতের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক ও ফযীলতপূর্ণ রাতে মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ, দোয়া-দুরূদ, তওবা-ইস্তিগফার, নামায-কালাম পাঠে মশগুল থাকাআর বাংলাদেশসহ প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব উপলক্ষে সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণা করা এবং এ রাত উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা

আমি তুরস্কে না আসলে সম্ভবত এই রাতের এতো ব্যপক উদযাপন কোনদিন ও দেখতাম নাএইখানে এমন কোন মসজিদ নাই যেখানে এই সম্মানিত পবিত্র রাতখানা পালন করা হয়নাএকিই সময় একিই সাথে সবাই মিলে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে এই রাত কে উদযাপন করা হয়সুবহানাল্লাহ!!!


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: