2.27.2020

পবিত্র রজব শরীফ মাস এর গুরুত্ব মুসলিম হিসেবে আপনি কতটুকু দিচ্ছেন?


পবিত্র 'রজব' শরীফ হলেন মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বিশেষ অনুগ্রহের মাস। পবিত্র রজবুল হারাম শরীফের মাস বান্দার গুনাহ মাফের মাস। পবিত্র রজব মাসের সঙ্গে ইসলামের অতীত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রজব মাসেই ৭ আসমান পেরিয়ে মিরাজ শরীফে গমন করে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। হজরত নূহ আলাইহিস সালাম মহা মহাপ্লাবনের আশঙ্কায় এই রজব মাসেই কিস্তিতে আরোহণ করেছিলেন। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে রজব মাসেই প্রথম ওহি আসেন। এ ছাড়াও রজব শরীফ হলেন জান্নাতের তলদেশ প্রবাহিত একটি নদীর নাম। এ নদীর পানি দুধের মতো ধবধবে সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। যারা রজব শরীফ মাসে নফল রোজা রাখবেন মহান আল্লাহ তায়ালা আখেরাতে ওইসব রোজাদারকে রজব নদীর পানি দ্বারা আপ্যায়ন করাবেন। সুমিষ্ট রজব নদীর পানি বরফের চেয়েও শীতল। যারা একবার রজব নদীর পানি পান করবেন, তাদের আর কোনোদিন পানির পিপাসা লাগবে না।

আরবি বারো মাসের মধ্যে রজব শরীফ মাস অত্যন্ত সম্মানিত। মহান আল্লাহ পাক তিনি আল কুরআনে ইরশাদ মুবারক করেছেনঃ [إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَات وَالأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلاَ تَظْلِمُواْ فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ وَقَاتِلُواْ الْمُشْرِكِينَ كَآفَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَآفَّةً وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ] আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বিঁধানে মাসের সংখ্যা ১২ টি, (এটা) রয়েছে মহান আল্লাহ তা'য়ালা উনার কিতাবে, এ (বারোটি)-র মধ্যে চারটি হচ্ছেন (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্যে) নিষিদ্ধ মাস; এটা (আল্লাহর প্রণীত) নির্ভুল (জীবন) ব্যবস্থা, এতএব তার ভেতরে (হানাহানি করে) তোমরা নিজেদের ওপর যুলুম করো না, তোমরা এক সাথে মিলিত হয়ে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করবে, যেমনিভাবে তারাও এক সাথে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে; জেনে রেখো, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাদের সাথে রয়েছেন। (সূরাহ তওবা শরীফঃ ৯/৩৬)।

আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে পুরো আরবে বছরের মধ্যে চার মাস যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত। মহিমান্বিত রজব মাসে আরবে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঙ্গী-সাথিদের রজব মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। সুনানে বায়হাকি শরিফের ৩/৩১৯-এর হাদিস শরীফে বান্দার দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে পাঁচটি বিশেষ রাতের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচটি রাতের প্রথমটি হলো পবিত্র জুমুয়া শরীফে রাত, দ্বিতীয়টি ঈদুল ফিতরের রাত, তৃতীয়টি ঈদুল আজহার রাত, চতুর্থটি রজব মাসের চাঁদ উদয়ের প্রথম রাত, পঞ্চমটি মাহে শাবান মাসের ১৪ তারিখ তথা লাইলাতুল বরাতের দিবাগত রাত। তাফসিরে কুরতুবির ৯/৩৩২-এও উল্লেখ করা হয়েছে হজরত কায়েস ইবনে উবাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রজব মাসের দশ তারিখেও মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন। এক কথায় বলা হয়, রজব শরীফ হলেন দোয়া কবুলের মাস। বান্দার ক্ষমা লাভের মাস। রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার মাস। তথা মহান আল্লাহ পাক উনার মাস।

অন্যান্য মাসের মতো রজবুল হারাম শরীফ মাসের জন্য বিশেষ কিছু নফল আমল রয়েছেন; যা আমলের মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ ও জান্নাত লাভের পথ সুগম হয়। হজরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুই হাত তুলে এ দোয়া পাঠ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদেরকেও পড়তে বলতেন, 'আল্লাহুম্মা বারিক-লানা ফি রাজবা ওয়া শাবান ওয়া বালি্লগনা রমাদ্বান।' (মুসনাদে আহমদ)। অর্থঃ হে মহান আল্লাহ পাক, আপনি পবিত্র রজব আর শাবান শরীফের মাসে আমাদের বরকত দান করে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ পর্যন্ত আমাদের জীবিত রাখুন, আমাদেরকে রমাদ্বান শরীফের ফজিলত অর্জন করার তৌফিক দান করুন।

পবিত্র রজব শরীফ মাস এলে সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তাবেইন রহিমাহুল্লাহ আলাইহিম, তবে-তাবেঈন, আইম্মায়ে মুজতাহেদিন রহিমাহুল্লাহ আলাইহিমসহ মুমিন বান্দারা বিশেষ কিছু নফল আমল করতেন। আমলিয়াতের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে,

১) এ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ইবাদত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বৃহস্পতিবার রাতকে লাইলাতুর রাগায়ব বলা হয়।
২) এ মাসের ১৫ তারিখের রাতকে লাইলাতুল ইস্তিফতাহ বলা হয়।
৩) এ মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতকে লাইলাতুল মিরাজ শরীফ বলা হয়।

রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে যে কয়েকটি মোজেজা শরীফ সংঘটিত হয়েছিল, এর মধ্যে মিরাজ শরীফ রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বোচ্চ মোজেজা। মিরাজ শরীফে রাতের ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুয়ত লাভ-পরবর্তী ঘটনাগুলোর মধ্যে মিরাজ শরীফ সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা।

হজরত সালমান ফারসি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে সালমান! এমন কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিনা স্ত্রীলোক কি নেই যে, এ মাসের প্রথম তারিখে মাগরিব ও এশার ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময় ৩০ রাকাত নামাজ পড়বে; তা পড়ার নিয়ম হলো, প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার পর তিনবার সূরা ইখলাছ, তিনবার সূরা কাফেরুন পড়বে, এতে মহান আল্লাহ তায়ালা ওই বান্দার সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে কেয়ামতের দিন শহীদের দলের সঙ্গে উঠাবেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে বড় আবেদ হিসেবে গণ্য করবেন। আর সে যেন এক বছর নহে, একশ' বছর ধরে ইবাদত-বন্দেগি করেছে এবং মহান আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তিকে জান্নাতে হাজারো মর্যাদা দান করবেন। এ মাসের ২৭ তারিখে রোজা রাখলে মহান আল্লাহ পাক জাহান্নামের আগুনকে রোজাদারের জন্য হারাম করে দেবেন এবং তার ওপর জান্নাত ওয়াজিব করে দেবেন; আর ওই ব্যক্তি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে অবশ্যই গৃহীত হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রজব মাসের ফয়েজ বরকত লাভের তৌফিক দান করুন।

বিঃদ্রঃ ফিতনাবাজ গুমরাহ এবং গুনাহ ও হারামে লিপ্ত মোডারেট মুসলিমদের এই আর্টিক্যাল নিয়ে ফিত্না করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তোমরা এইসব গুরুত্বপূর্ণ রাত মুভি, সিনেমা, ডেটিং, চ্যাটিং, জিনা করে কাটিয়ে দাও কেউ তোমাদের বাধা দিবেনা। যারা ইবাদত করতে চায় তাদের বাধা দিয়ে নিজেরা যে ইবলিশের মুরিদ তা প্রমান করবেনা।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: