4.04.2020

উটের মূত্র নিয়ে মূর্খ নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশরিক ব্যতীত কোন জ্ঞানীকে অপপ্রচার চালাতে আমি দেখিনি।



ইহুদীদের চেয়ে বড় শত্রু (৫/৮২) ও জ্ঞানি শত্রু ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুজে পাওয়া যাবেনা। সেই শত্রুরা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর কতো নমুনার ফাউল অপবাদ দিলো কিন্তু কোন যামানার কোন জ্ঞানি ইহুদীর এই জিনিসটা মাথায় আসলোনা যে ইসলামের নবী হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উটের মুত্র খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ধরি। আসলে তারা দুষমন হলেও নাস্তিক ও মুশ্রিকদের মতো মূর্খ নয় বলেই এই কাজ করেনি কোনোদিন কারণ তারা ইসলাম না মানলেও মুসলিম থেকে বেশী জানে।

বাংলাভাষী কিছু মূর্খ নাস্তিক ও ভারতীয় গোমূত্র পানকারী মুশরিক অনেকদিন ধরেই দাবি করে আসছে এই বলে যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলামের সর্বশেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এইটা একটা চরম পর্যায়ের মিথ্যা অপপ্রচার। রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজেরা যেমন কখনো উটের মূত্র পান করেননি, তেমনি রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য আদেশ, উপদেশ কিংবা নির্দেশ বা পরামর্শও দেননি।

তাহলে ঘটনা কী? ঘটনা হচ্ছে দু-একটি হাদিস শরীফ অনুযায়ী অমুসলিম এক গোত্রের একদল লোক মুসলিম সেজে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর কাছে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দয়া-পরবশ হয়ে তাদেরকে আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে বিরূপ আবহাওয়াজনিত বা অন্য কোনো কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে কিছু উট ও একজন রাখাল-সহ তাদেরকে অন্য কোনো স্থানে চলে যেতে বলেন যেখানে আবহাওয়া তাদের জন্য উপযুক্ত এবং তাদের অসুস্থতা থেকে সুস্থতা পেতে উটের দুধ ও মূত্র পান করার জন্য পরামর্শ দেন। এরপর তারা চলে যায় এবং পথিমধ্যে উটের দুধ ও মূত্র পান করার কারনে সুস্থ হয়ে উঠে এবং রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাঠানো রাখাল বালককে নির্মমভাবে হত্যা করে উনার দেওয়া উট নিয়ে পালিয়ে যায়। সংক্ষেপে হাদিসটা এরকম। যাদের প্রয়োজন তারা মিলিয়ে দেখতে পারেন এই লিঙ্কে গিয়ে [https://www.hadithbd.com/print.php?hid=51329]।

পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ

ঘটনা (ক)

১) হযরত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদেরকে অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে সুস্থ হওয়ার ঔষদ হিসেবে একত্রে উটের দুধ ও মূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা কিন্তু মুসলিম ভানকারী মুনাফেক ছিল, যা পরে প্রমাণ হয়েছে।
২) উটের দুধ ও মূত্র পান করার পর তারা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর তারা রাখাল বালককে নির্মমভাবে হত্যা করে উট নিয়ে পালিয়ে যায়।
৩) একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু লোককে (যারা আসলে মুনাফেক ছিল) রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের দুধ ও মূত্র পান করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও বলেননি যে মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করতে হবে। এরকম কোনো কথা হাদিস শরীফে লিখা থাকলে আহলে সুন্নত তথা আমার মতো সুন্নী মুসলিম লোক লজ্জার তোয়াক্কা না করে উটের মূত্র পান করতামই। কিন্তু মুসলিমরা কোথাও কখনোই উটের মূত্র পান করে না। এই সাধারণ বোধটুকুও মূর্খ পুটুকামি নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশ্রিকদের নেই!

উপসংহারঃ হাদিস শরীফ অনুযায়ী আসলে ভণ্ড-মুনাফেকদের উচিত উটের মূত্র পান করা! কেননা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদেরকে উটের মূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা আসলে ভণ্ড বা মুনাফেক ছিল।

ঘটনা (খ)

২) রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি মুসলমানদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র পান করতে বলেছেন! নাউযুবিল্লাহ! এই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র! মুসলমানরা কতটা পশ্চাৎপদ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেখেছেন!

জবাবঃ প্রথমত, হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র পান করতে বলেননি! এমনকি বলা যায় যে, মুসলিমরা উটের মূত্রকে পবিত্র কিছু হিসেবেও বিশ্বাস করে না। বরঞ্চ মুসলিমদের কাছে মল-মূত্র হচ্ছে অপবিত্র জিনিস।

দ্বিতীয়ত, এ বিষয়ে পাশাপাশি দুটি হাদিস শরীফ আছে যার মধ্যে প্রথম হাদিসকে এড়িয়ে গিয়ে বারবার দ্বিতীয় হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়া হয় (এখানে শুধু প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্ধৃত করা হচ্ছে):

Volume 7, Book 71, Number 589 (Narrated Hazrat Anas Rwadiallahu Ta’la Anhu): Some people were sick and they said, “O Allah’s Rwasool Swallallahu Alaihi wa Sallam! Give us shelter and food. So when they became healthy they said, “The weather of Medina is not suitable for us.” So he sent them to Al-Harra with some she-camels of his and said, “Drink of their milk” But when they became healthy.

Volume 7, Book 71, Number 590 (Narrated Hazrat Anas Rwadiallahu Ta’la Anhu): The climate of Medina Shareef did not suit for some people, so the Allah’s Rwasool Swallallahu Alaihi wa Sallam! Ordered them to follow his shepherd, i.e. his camels, and drink their milk and urine (as a medicine). So they followed the shepherd that is the camels and drank their milk and urine till their bodies became healthy.

লক্ষণীয় যে দুটি হাদিসের বর্ণনাকারী একই ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রথম হাদিসে শুধু উটের দুধের কথা লিখা আছে, অথচ ঠিক তার পরের হাদিসেই আবার উটের দুধের সাথে মূত্র যোগ করা হয়েছে। আরো লক্ষণীয় যে দ্বিতীয় হাদিসের ব্র্যাকেটে অনুবাদের সময় “As a Medicine” যোগ করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, দুটি হাদিস অনুযায়ীই তারা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। ফলে এই হাদিসের প্রথম অংশে বিশ্বাস করলে দ্বিতীয় অংশেও বিশ্বাস করতে হবে। উটের দুধ ও মূত্র পান করে কেউ যদি সুস্থ হয় তাহলে এটি নিয়ে হাসি-তামাসা করাটাই তো বোকামী! চতুর্থত, হাদিস দুটিতে বিশেষ একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেটি সেই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি সার্বজনীন কোন উপদেশ বাণী নয়। সম্মানিত আল কোরআনে যেমন মধুর ব্যাপারে সার্বজনীন একটি বাণী আছে, “In honey there is a healing,” হাদিসে “In camel’s urine there is a healing” বলে কোন বাণী নেই বা মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য এই ঘটনা ব্যতীত অন্য কোন সময়ে দেওয়া হয়েছে এরূপ উপদেশও এমন নজীর নাই। অতএব যারা গো-মূত্র পান করে মাতাল হয়ে উপহাস-বিদ্রুপ করছে তারা নিজেদেরকেই বোকা বানাচ্ছে!

বিদ্রঃ যে হাদিস শরীফ এর থেকে কেটেকুটে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা হয় সেই হাদিস শরীফখানা হলোঃ হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্নিত যে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদেরকে বলেছেন, “উকল এবং উরাইনাহ গোত্রের কতিপয় লোক (যারা মুসলিম ছিলোনা) মাদীনা শরীফে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ (এর নাটক) করল।

এর পর তারা রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, হে মহান আল্লাহ পাক-এর নবী! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা দুগ্ধ পান করে বেঁচে থাকি, আমরা কৃষক নই। তারা মাদিনা শরীফের আবহাওয়া নিজেদের জন্য অনুকূল বলে মনে করল না (কারণ তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো)। তাই রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে একজন রাখাল সহ কতগুলো উট নিয়ে মাদিনা শরীফের বাইরে চলে যেতে এবং (সুস্থতার জন্য) ওইগুলোর দুধ ও প্রস্রাব (একত্রে) পান করার নির্দেশ দিলেন।

তারা যাত্রা করে হাররা এর নিকট পৌঁছলে (সুস্থ হয়ে যাওয়ার ফলে) ইসলাম ত্যাগ করে আবার কাফির হয়ে গেল এবং রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিজের আয়ত্বে নিয়ে চলে গেলো।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি তাদের খোঁজে তাদের পিছে লোক পাঠালেন। তাদেরকে আনা হলে, তিনি তাদের প্রতি কঠিন দণ্ডাদেশ প্রদান করলেন।

সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ লৌহ শলাকা দিয়ে তাদের চোখ তুলে দিলেন এবং তাদের হাত কেটে দিলেন। এরপর হাররার এক প্রান্তে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। শেষ পর্যন্ত তাদের এ অবস্থায়ই মৃত্যু হল।

ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমাদের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, এ ঘটনার পর নাবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই লোকজনকে সদাকাহ প্রদান করার জন্য উৎসাহ দিতেন এবং মুসলা থেকে বিরত রাখতেন।

মূল হাদিস, সহিহুল বুখারীঃ আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৭২, ইসলামিক ফাঊন্ডেশন ৩৮৭৫, তাওহীদ পাবলিকেশন ৪১৯২।

মোরালঃ এই ঘটনা থেকে আমরা যা পেলাম তা হলো, উটের মূত্র পানের নির্দেশ রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের উপর নয়। এবং ওই সকল লোকের অসুস্থতার কারনে চিকিৎসা হিসেবে তাদের উপযোগী তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা হিসেবেই নির্দেশ দিয়েছেন যার আমল কোন সম্মানিত একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনাদের হায়াতে জিন্দেগীতে আজিবন খুজলে পাওয়া যাবেনা। তবে নাস্তিক ও মুশরিকদের চটি বইগুলোতে থাকতে পারে কারণ সেগুলি বানোয়াট কাহিনীর জন্য অস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

লিখার সূত্রঃ ফেসবুকের একটি পোষ্টে এক ছুপা নাস্তিকদের সাথে কিছু মুসলমানের তর্ক হয় এই বিষয়ে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: