4.29.2020

মুত্তাকি, পরহেজগার ও মুমিন মুসলমানদের জন্য মুনাফিক ও অমুসলিমদের দেয়া ইফতার খাওয়া নিষিদ্ধ!


মুসলমানদের সাবধান হওয়া উচিৎ, পবিত্র এই রমাদ্বান শরীফে কার থেকে, কার টাকায়, কার উপার্জিত খাদ্য দ্বারা আপনি ইফতার, সাহরী করছেন এটা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরী, নতুবা সারা মাসের সিয়াম তো নষ্ট হবে সাথে ঈমান ও চলে যাবে কুরআন হাদিসের ম্যাসেজের বিপরিত আক্বিদাহ পোষণ করে।

প্রথমতো, মুসলমানদের দ্বীনি সম্পর্ক কেবল মুসলমানদের সাথেই হতে হবে। শত্রুর থেকে ইফতার গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কোন সুযোগ নাই। কারনা মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফে এরশাদ করেনঃ [لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُواْ] (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি মানুষের মধ্যে শত্রু হিসেবে প্রথমেই পাবেন ইহুদীদের অতঃপর মুশরিকদের। যাদের আল্লাহ পাক শত্রু বলে ঘোষনা দিয়েছেন তাদের আপনি দ্বীনি ভাই মনে করলে কুফুরি হবে।

এছাড়াও অনেকে বলতে পারেন যে আমার অনেক ফ্রেন্ড আছে অমুসলিম, তারা দাওয়াত দিলে আমি না করবো কিভাবে? দেখুন আপনার সাথে কোন অমুসলিমের যতো গভির সম্পর্ক ই থাকুক না কেনো, যে মুশরিক হলে আপনার কোরবানির গোশতের দাওয়াত পাবলিকেলি খাবেন, ইহুদী হলে উটের গোশত পাবলিকেলি খাবেনা, উভয়ের জন্য এই দুটি জিনিস হারাম অথচ আপনার জন্য তা হালাল ই নয় বরং সুন্নত।

তাছাড়া, ঈমানদার এর জন্য বন্ধু ও শত্রু নির্ণয়ের পদ্ধতি আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা আমাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। যেমন, হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছেঃ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছেন, যে মানব সন্তান মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য তথা উনাকে পাওয়ার উনাকে খুশি রাজি করার উদ্যেশ্যে কাউকে ভালোবাসে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য কাউকে ঘৃণা করে, এবং যে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বন্ধুত্ব নষ্ট করে অথবা উনার জন্য শত্রুতা ঘোষণা করে, সে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে নিরাপত্তা পাবে৷ এটা ছাড়া কেউ প্রকৃত ঈমানের স্বাদ পাবে না, যদিও তার নামাজ রোজার পরিমাণ অনেক হয়৷ মানুষ দুনিয়াবী বিষয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা তাদেরকে কোন উপকারই করতে পারবে না। (ইবনে রজব আল হাম্বালী, জামি আল উলূমওয়াল হাকিম, পৃঃ৩০)।


এতএব কেউ যদি মনে করে যে অমুসলিম তথা মুশরিক হিন্দু ও ইহুদীদের টাকায় আয়োজিত ইফতার করা যায়েজ তাহলে সে মহান আল্লাহ পাক ও রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবিশ্বাস করলো, কারণঃ

হাদিস শরীফে এসেছেঃ রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের উদ্যেশ্যে এরশাদ করেন, কেউ যদি রমজান মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে ঐ ইফতার করানোটা তার গুনাহ মাফের ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে একটি রোজার সওয়াব পাবে অথচ রোজা পালনকারীর নেকী মোটেই কমানো হবে না। সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমরা বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের এমন আর্থিক সংগতি নেই, যা দিয়ে আমরা কাউকে ইফতার করাতে পারি? তিনি (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মহান আল্লাহ পাক তাকেও এই সওয়াব দেবেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে এক ঢোক দুধ অথবা একটা শুকনো খেজুর কিংবা এক চুমুক পানি দিয়েও ইফতার করাবে আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে পরিতৃপ্তিসহকারে খাওয়াবে মহান আল্লাহ পাক তাকে আমার হাউজে কাওছার থেকে এমনভাবে পানি পান করাবেন যার ফলে সে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। (বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, মেশকাত শরীফ ১৭৪ পৃষ্ঠা)।

হাদীস শরীফে আরো এসেছে, হযরত সালমান ফারসি (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হালাল খাদ্য কিংবা পানি দ্বারা কোনো মুসলমানকে রমাদ্বান শরীফে ইফতার করালো, ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ মাহে রমাদ্বান শরীফের এই-সময়ে তাঁর জন্য ইস্তিগফার করেন। আর হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম শবে ক্বদর শরীফে তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। (তাবরানী আল মুজামুল কবীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস শরীফ নং ৬১৬২)।

হাদীস শরীফ থেকে শিক্ষাঃ মুসলমানদের কেবল মুসলমানেরা ইফতার করাবে, একারণেই ওয়াদা করা হয়েছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও হাউজে কাওছার এর পানি এমনভাবে পান করাবেন যার ফলে সে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। কারণ কোন অমুসলিম না যাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, না হাউজে কাওসারের পানি পাবে, না জান্নাতে যাবে। এছাড়াও ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম তো করবেন-ই সাথে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম শবে ক্বদর শরীফের রাতে তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করবেন। অতএব কেউ এই হাদিস শরীফ বিশ্বাস করলে তার জন্য কোন অমুসলিম এর ইফতার গ্রহণ করা হালাল হবেনা কোন অবস্থায়। কারণ কোন অমুসলিম এর পক্ষে কোন মুসলমানকে ইফতার করিয়ে উপরোক্ত বিষয়গুলির অধিকারী হওয়ার কোন সুযোগ নাই যতক্ষন না সে ঈমান আনবে। অথচ যারা অমুসলিমদের থেকে ইফতার গ্রহণ করছে তারা উপরোক্ত হাদীস শরীফগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বৈ অন্য কিছু নয়।

যেহেতু নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কেউ কাউকে ইফতার করালে সে ঐ সকল জিনিস লাভ করবে সেহেতু তা ১০০% সঠিক। এখন যেহেতু তারা চিরস্থায়ী যাহান্নামি সেহেতু তারা মুসলমানদের ইফতার করালে ইফতার কবুল হলে তারা সেইসব বিষয়ের হক্বদার হবে, কিন্তু তাদের পক্ষে হক্বদার হওয়া কোন কালেই সম্ভব নয়। যেমন, আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে এরশাদ করেনঃ [وَعَدَ الله الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا هِيَ حَسْبُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ] মহান আল্লাহ পাক ওয়াদা করেছেন, মুনাফিক নারী-পুরুষ এবং (অমুসলিম) কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের; তারা তাতে পড়ে থাকবে সারাজীবন। সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর মহান আল্লাহ পাক তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী আজাব।(সুরা আত তাওবা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৬৮)।

কেবল অমুসলিম কাফের থেকেই নয়, বরং মুসলিমদের মধ্যে থাকা মুনাফিক হতেও ইফতার গ্রহণ করা যাবেনা, যা এই আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। কারণ এরা চিরস্থায়ী যাহান্নামী।

তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট, যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে রিজিক হালাল হওয়া। হারাম রিজিক, হারাম খাদ্য খুবই সাংঘাতিক বিষয়। হারাম খাদ্য শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ঢুকে যায়। পুরো শরীরে প্রভাব বিস্তার করে। যার কারণে হারাম কিছু খেলে তার দোয়া মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল হয় না। তার কোনো ইবাদত মহান আল্লাহ পাক কবুল করেন না।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ লম্বা পথ সফর করেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এরপর সে না ঘুমিয়ে রাতে (নফল) নামাজ পড়ে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ডেকে ডেকে দোয়া করেন হে আল্লাহ! আপনি আমার গোনাহ মাফ করে দিন। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়চোপড় হারাম। তার সবকিছুই হারাম। সুতরাং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে, না ঘুমিয়ে সে যত মনোযোগ সহকারেই দোয়া করুক না কেন, মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে তা কবুল হবে না।(মেশকাত শরীফঃ ২৭৬০)।

দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কাপড়চোপড়, খাওয়াদাওয়া, ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু হালাল হতে হবে। তাছাড়া যত দোয়াই করুক না কেন, তা কবুল হবে না। অন্যত্র রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ১০ টাকা দিয়ে কাপড় কেনে, তার একটি টাকা হারাম হলেও যতদিন সে তা ব্যবহার করবে, ততদিন আল্লাহ পাক তার নামাজ কবুল করবেন না।(মেশকাত শরীফঃ ২৭৮৯)।

একটু ভেবে দেখেছেন ১০ টাকার এক টাকা হারাম হলে যদি নামাজ কবুল না হয়, তাহলে সব টাকা হারাম হলে কী হবে! নামাজ কবুল হবে কীভাবে? দোয়া কীভাবে কবুল হবে? রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র আরও মারাত্মক কথা বলেছেন, ‘যে শরীর হারাম খাদ্য দ্বারা লালন পালন করা হয়েছে, সে শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।(মেশকাত শরীফঃ ২৭৮৭)।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘একটি যুগ আসবে যখন মানুষ উপার্জন করতে এ কথা চিন্তা করবে না যে, আমি হালাল পন্থায় উপার্জন করছি, নাকি হারাম পন্থায়।(বোখারি শরীফঃ ১৯৪১)।

উপার্জনের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। হারাম থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাগ্যে যতটুকু আছে, তা আসবেই। রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো প্রাণী তার রিজিক শেষ করার আগ পর্যন্ত মারা যাবে না। সাবধান! সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে সৎপথ অবলম্বন করো। তকদিরে লেখা রিজিক আসতে বিলম্ব হলেও অসৎ পথে উপার্জন করো না। মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করেই কেবল উনার কাছ থেকে পাওয়া সম্ভব।(মেশকাত শরীফঃ ৫৩০০)।

এতএব আপনি কিভাবে বুঝবেন একজন অমুসলিম ও মুনাফিক-এর অর্জিত সম্পদে সে হারাম মাল মিশ্রিত করেনাই? কেনো এই রিস্ক নিতে যাবেন সারাদিন কষ্ট করে রোজা রেখে একজন অমুসলিম অথবা মুনাফিকের ইফতার একবেলা খেয়ে? অথচ এই ব্যপারে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট সতর্ক করে বলেন, ‘কোনটা হারাম আর কোনটা হালাল, তা পরিষ্কার। হালাল ও হারামের মাঝে কিছু সন্দেহযুক্ত জিনিস আছে, যা অনেকেই বুঝতে পারে না। যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার ইজ্জত-সম্মান ও দ্বীন হেফাজত করতে পারবে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত জিনিস উপার্জনে লিপ্ত হলো, সে হারামের মাঝে লিপ্ত হলো।(মুসলিম শরীফঃ ২৯৯৬)।

অতএব জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই কাফি, কেউ মুমিন হলে, মুত্তাকি হলে, পরহেজগার হলে সে ভুলেও কোন অমুসলিম কাফের কিংবা মুনাফিকের দেয়া ইফতার কস্মিনকালেও গ্রহণ করবেনা। কারণ মুমিন কখনো তাঁর ঈমানকে বাজী ধরেনা সন্দেহযুক্ত বিষয়ে বরং নিজ দায়িত্বে এড়িয়ে যায়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: