Wednesday, August 10, 2022

হে ভাই ও বোনেরাঃ আপনারা কি পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করছেন?

হে ভাই ও বোনেরাঃ আপনারা কি পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করছেন?

ভাই ও বোনেরা মন দিয়ে শোনেন। দ্বীন ইসলামে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলোতে আবেগের কোন স্থান নাই। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ ( یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا قُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَ اَهۡلِیۡکُمۡ نَارًا وَّ قُوۡدُهَا النَّاسُ وَ الۡحِجَارَۃُ عَلَیۡهَا مَلٰٓئِکَۃٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا یَعۡصُوۡنَ اللّٰهَ مَاۤ اَمَرَهُمۡ وَ یَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ) “হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে মোতায়েন আছে পাষাণ হৃদয় কঠোর স্বভাব ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ। মহান আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তারা তা অমান্য করেন না, আর তারা তাই করেন, যা তাদেরকে করার জন্য আদেশ দেয়া হয়। (আল কুরআন ৬৬/৬)।

এই আয়াতের হুকুম হলো, আপনার কোন আমল, আক্বিদাহ এর কারণে যেনো আপনার পরিবারের কোন সদস্য যাহান্নামিদের অন্তর্ভুক্ত না হয়। আপনার স্বামী/স্ত্রী, মা/বাপ, ভাই/বোন, ছেলে/মেয়ে যেনো এমন কোন গুনাহে না জড়ায় যার কারণে সে জাহান্নামের আগুনের ইন্ধন হবে।

মানুষ অসংখ্য গুনাহ করে, তবে এসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জিনা। যার অধিকাংশ সৃষ্টি হয় নারীদের কারণে, কিন্তু গুনাহের দিকে উভয় সমান অপরাধী হয়ে থাকে। (প্রথমে জিনা-ব্যবিচারসম্পর্কেকুরআনসুন্নাহ’র হুকুম আহকাম এবং দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি সম্পর্কে জেনে নিন) বোনেরা খেয়াল করুন, দুনিয়া দুইদিনের, আপনার বলে চিরস্থায়ী কিছুই নেই, যে মানুষটাকে আপনি আপনার করে রাখতে গিয়ে তাঁর সকল পাপের বোঝা বইতে রাজি হচ্ছেন আজ, সেও আপনার ৩ কথার আর এক দমের বিপরীতে অবস্থান করে। এইসব ঘৃণ্য কাজ পরিত্যাগ করা লাগবে, আপনার আহাল এর ব্যপারে সজাগ থাকুন, তাঁর চাওয়া পাওয়ার ব্যপারে খেয়াল রাখুন, সে কি পছন্দ করে, কি অপছন্দ করে, আপনার থেকে না পেয়ে অন্যের দ্বারা কি পূরণ করতে চায় তা আগ বাড়িয়ে বন্ধুর মতো জানুন, সর্বচ্চো দিয়ে তা পুরনের চেষ্টা করুন, ব্যর্থ হলে নিজ উদ্যগ্যে দ্বীনদার শতিন নিয়ে আসুন, ভুলেও আহালকে পরকীয়ার দিকে, জিনার দিকে ঠেলে দিবেন না।

ভাইয়েরা আমার, আমরা যেনো ভুলেও কোন বেগানা নারীর দিকে দৃষ্টিপাত না করি, আমরা যেনো আমাদের সকল মুহব্বতের কেন্দ্রবিন্দু আমাদের আহলিয়াদের বানাই, আমরা যেনো যেদিকে তাকাই আমাদের আহলিয়াই দেখি। আর কঠিন হলেও, আমাদের কেউ যদি কখনো বুঝে নেই যে আমি আমার আহলিয়ার উপযুক্ত নই, আমি তাঁর শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক যেকোন ধরণের বড় হক্ব আদায়ে সক্ষম না, তাহলে আমাদের উচিৎ তাদের সাথে আলোচনা করে ভালো একজন মানুষ খুঁজে তালাক দিয়ে তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া, আমাদের অবহেলা, অনাদরে যেনো তাঁরা পরকীয়ার মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে না পড়েন। মনে রাখতে হবে যে, সংসার কেবল আবেগ দিয়ে চলেনা। এইখানে অনেক চাওয়া পাওয়া জড়িত, বিয়ের মূল উসুল যদি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিদ্যমান না থাকে তাহলে তা যুলুম হিসেবে গন্য হবে।

আর শুধু আহাল/আহলিয়াই না, আপনার মা হারা বৃদ্ধ পিতা বা বাপ হারা মধ্য বয়সি মায়ের বিষয়েও ইনসাফ করুন, একজন সৎ মা/বাবা খুঁজে দিন, যেনো বৃদ্ধ বয়সে কোন অপকর্মে জড়িয়ে না পড়েন, একজন বৃদ্ধ মানুষ একজন যুবক/যুবতির চেয়ে অনেক বিষয়ে অসহায়। সমাজ, সংসার আর মানুষের গীবত পরনিন্দার তোয়াক্কা না করে আল্লাজির ভয় করুন, আল্লাজির হুকুম পালনে সারা দুনিয়ার বিপরীত হতে হলে হোন। কিয়ামতের মাঠে মহান আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত কোন গীবতকারী পরনিন্দাকারী আপনাকে যাহান্নামের ইন্ধন হওয়া থেকে বাঁচাতে পারবেনা এটা মাথায় রাখতে হবে। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের হক্ব বোঝার, গ্রহণের ও মানার তৌফিক দিন আমীন।

জিনা-ব্যবিচার সম্পর্কে কুরআন সুন্নাহ’র হুকুম আহকাম এবং দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি

জিনা-ব্যবিচার সম্পর্কে কুরআন সুন্নাহ’র হুকুম আহকাম এবং দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি

গ্রুপের ভাই ও বোনেরা, আজকের পর থেকে পর্দার ব্যপারে আরো কঠোর অবস্থানে যাবেন আশা করি। মহান আল্লাহ তাআলার শরীয়তে, জিনার মতো কোন গুনাহ’র শাস্তির ব্যপারে এত কঠোর আল্লাহ তা’আলা হয়েছেন বলে আমার জানা নাই। শিরকের মতো কবিরা গুনাহের ব্যপারেও আল্লাহ তা’আলা এতো কঠোরতা প্রকাশ করেন নাই অথচ তা বদিয়ে আউওয়াল।

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ ( اَلزَّانِیَۃُ وَ الزَّانِیۡ فَاجۡلِدُوۡا کُلَّ وَاحِدٍ مِّنۡهُمَا مِائَۃَ جَلۡدَۃٍ ۪ وَّ لَا تَاۡخُذۡکُمۡ بِهِمَا رَاۡفَۃٌ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۚ وَ لۡیَشۡهَدۡ عَذَابَهُمَا طَآئِفَۃٌ مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ) জেনাখুর নারি ও জেনাখুর পুরুষদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত কর। যদি তোমরা মহান আল্লাহ তা’আলা ও কিয়ামতের দিনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাক, (তাহলে) মহান আল্লাহ তা’আলার আইন কার্যকর করার ব্যাপারে তাদের প্রতি তোমাদের মনে যেনো কোন দয়ামায়ার উদ্রেক না হয়। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি (অবশ্যই) প্রত্যক্ষ করে। (আল কুরআন ২৪/২)

চিন্তা করা যায়? একটি অপরাধ কতটুকু নিকৃষ্ট হলে বিশাল মহাবিশ্বের মালিক, উনার একটি কায়েনাতের মধ্যে থাকা ছোট্ট একটি গ্রহের ক্ষুদ্র মানুষের ব্যপারে এরূপ কাহহার রূপে অবতীর্ণ হতে পারেন? কেউ যদি বড় জিনা (হারাম শারীরিক সম্পর্ক) করে তাহলে তাঁর শাস্তির ব্যপারে কোন দয়া মায়ার প্রকাশ করা যাবেনা, সেটা ভাই হোক বা বোন, বাপ হোক বা মামা চাচা কিংবা বন্ধু। যতো আপনই হোক এরূপ কাজের পরিপ্রেক্ষিতে কোন দয়া মায়াও দেখানো যায়েজ না, এর পর আরো হুমকি দিয়েছেন এই বলে যে, যারা দয়া মায়া প্রকাশ করে শাস্তি মওকুফ করে দেবে তাদের আখেরাতে বিশ্বাসী নয় বলা হয়েছে। এছাড়াও এই যে শাস্তি তা আবার লুকিয়ে দিলে হবেনা, এমনকি শাস্তি যারা মুমিন তাদের একদল নিজ চোখে দেখতে হবে। ভাবা যায়? একটি অপরাধ কত জঘন্য হলে মহান আল্লাহ তা’আলা এরূপ রূপে নিজের ভাব প্রকাশ করেন বান্দার নিকট?

তাফসীরে এসেছে, আল্লাজির হুকুমের পাশাপাশি রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ হচ্ছেঃ জেনাখুর যদি অবিবাহিত হয় তাহলে তাকে, একশ’ বেত্রাঘাতের সাথে সাথে এক বছরের জন্য দেশান্তরও করতে হবে। আর বিবাহিত হলে রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করে (মৃত্যু) দেয়া হবে। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আলিহিস সালাম হতে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুনা হযরত উমার ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আলিহিস সালাম উনার এক ভাষণে হামদ ও সানার পর বলেনঃ “হে লোক সকল! মহান আল্লাহ তাআলা রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন এবং উনার উপর নিজের কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ তা’আলার এই কিতাবে রজম করার হুকুমের আয়াতও ছিল (যা পরে রহিত হয়ে গেছে, কিন্তু হুকুম বিদ্যমান)। আমরা তা পাঠ করেছি, মুখস্থ করেছি এবং আমলও করেছি। স্বয়ং রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগেও রজম হয়েছে এবং উনার (অফাৎ মুবারকের) পরে আমরাও রজম করেছি। আমি ভয় করছি যে, কয়েক যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর না জানি লোকেরা হয়তো বলতে শুরু করে দেবে যে, তারা রজম করার হুকুম মহান আল্লাহ তা’আলার কিতাবে পাচ্ছে না। মহান আল্লাহ তাআলা না করুন তারা হয়তো মহান আল্লাহ তা’আলার এই ফরয কাজকে যা মহান আল্লাহ তা’আলা উনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, ছেড়ে দিয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। রজমের সাধারণ হুকুম ঐ ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য হবে যে ব্যভিচার করবে এবং বিবাহিত হবে, সে পুরুষ হোক বা নারীই হোক, যখন তার ব্যভিচারের উপর শরঈ দলীল পাওয়া যাবে অথবা সে গর্ভবতী হবে বা স্বীকারোক্তি করবে। (উক্ত আয়াতের নির্ভরযোগ্য সকল তাফসিরের কিতাব সমূহে দেখতে পারেন)।

এতো গেলো হারাম পন্থায় শারীরিক জিনার ব্যপারে হুকুম। অথচ জিনা-ব্যবিচারে লিপ্ত হওয়া তো অনেক পরের বিষয়, এর আশেপাশে যাওয়াই নিষেধ। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ (وَ لَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ کَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَ سَآءَ سَبِیۡلًا) আর জিনা(ব্যবিচারে)র ধারে-কাছেও যেও না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। (আল কুরআন ১৭/৩২)

অর্থাৎ, যেকোন বিষয় সেটা যতো সিম্পল আর সামান্যই হোক, যার দ্বারা জিনা ব্যবিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, এর ধারে কাছে যাওয়া যাবেনা। ধরুন আপনার বাড়ীর পাশে একটি রাস্তা আছে, যেটার ৫ মাইল এর মাথায় একটি পতিতালয় আছে, মুমিন হলে সেই রাস্তায় ঢোকাই যাবেনা। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া চালালে যদি আপনি জিনায় লিপ্ত হওয়ার ভয় থাকে তাহলে সেটাও আপনার জন্যে নিষিদ্ধ। এই জিনার কারণে সামাজিক অনাসৃষ্টির সৃষ্টি হয়, জিনা-ব্যভিচারের কারণে এটা এত প্রসার লাভ করে যে, এর কোন সীমা-পরিসীমা থাকে না। এর অশুভ পরিণাম অনেক সময় সমগ্ৰ গোত্র ও সম্প্রদায়কে বরবাদ করে দেয়। এ কারণেই সম্মানিত দ্বীন ইসলামে এই অপরাধটিকে সব অপরাধের চাইতে গুরুতর বলে সাব্যস্ত করেছেন। এবং এর শাস্তি ও সব অপরাধের শাস্তির চাইতে কঠোর করেছেন। কেননা, এই একটি অপরাধ অন্যান্য শত শত অপরাধকে নিজের মধ্যে সন্নিবেশিত করেছে। রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জিনাকারী ব্যক্তি জিনা করার সময় মুমিন থাকে না। (মুসলিম শরীফ ৫৭)

চিন্তা করা যায়? আপনি যখন জিনায় লিপ্ত হলেন তখন আর মুমিন রইলেন না, এরূপ অবস্থায় মালাকুল মাওত আপনার শিয়রে হাজীর হয়ে আপনার প্রাণবায়ু বের করে নিয়ে গেলেন? ব্যপারটা কত ভয়ানক হতে পারে চিন্তা করা যায়?

দ্বীন ইসলামে জিনা-ব্যভিচার এত বড় অপরাধ যে, কোন বিবাহিত পুরুষ অথবা মহিলার দ্বারা এ কাজ হয়ে গেলে, ইসলামী সমাজে তার জীবিত থাকার আর কোন অধিকার থাকে না। আবার তাকে তরবারির এক কোপে হত্যা করাও যথেষ্ট হয় না, বরং নির্দেশ হল, পাথর মেরে মেরে নির্মমভাবে তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে। যাতে সে সমাজে (অন্যদের জন্য) শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে যায়। সেহেতু এখানে বলা হয়েছে, ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। অর্থাৎ, তাতে উদ্বুদ্ধকারী উপায়-উপকরণ থেকেও দূরে থাক। যেমন, ‘গায়ের মাহরাম’ (যার সাথে বিবাহ হারাম নয় এমন বেগানা) নারীকে দেখা-সাক্ষাৎ করা, তার সাথে অবাধ মেলামেশার ও কথা বলার পথ সুগম করা। অনুরূপ মহিলাদের সাজ-সজ্জা করে বেপর্দার সাথে বাড়ী থেকে বের হওয়া ইত্যাদি যাবতীয় কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকা জরুরী। যাতে এই ধরনের অশ্লীলতা থেকে বাঁচা যায়। কারণ এতে নিজেই কেবল না অন্যকেও জিনার ফিত্নায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। আর রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “শিরকের পরে ব্যভিচার হতে বড় পাপ আর কিছুই নেই যে, মানুষ তার শুক্র এমন গর্ভাশয়ে নিক্ষেপ করবে যা তার জন্যে বৈধ নয়”।

হাদিস শরীফে এসেছে, রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চোখের জিনা হল (যা হারাম সেদিকে) তাকানো এবং জিহ্বার জিনা হল মুখে (নিষিদ্ধ বিষয়ে কথা) বলা। (তখন) মন কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে (এইসব নিষিদ্ধ বিষয়ে, যার ফলশ্রুতিতে) লজ্জাস্থান তাকে হাক্বিকতে রূপ দেয়, অথবা বিরত রাখে। (বুখারি শরীফ ৬৬১২) সহীহ মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছেঃ দুই চোখের জিনা (যা হারাম তার দিকে) দৃষ্টিপাত করা, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। আর লজ্জাস্থান তাকে হাক্বিকতে রূপ দেয়, অথবা বিরত রাখে। (মুসলিম শরীফ ২৬৫৭)।

উপরোক্ত হাদিস শরীফ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম জিনাহ ব্যভিচার ৭ টি জিনিস দিয়ে হয়ে থাকেঃ

১) মন, “এখান থেকেই জিনা উৎপত্তি হয়। যে ব্যক্তি জিনার ব্যপারে মনের বিরুদ্ধে চলতে পারে সেই পূর্ণ ঈমানদার মুসলমান হয়”।

২) চোখ, “চোখের জিনা সবচেয়ে কঠিন জিনা। কারোর প্রতি অসাবধানতাবশত প্রথমবার চোখ পড়লে গুনাহ হয়না কিন্তু ২য় বার তাকালে বা ১ম বার দৃষ্টির পর সাথে সাথে দৃষ্টি ফিরিয়ে না নিলে চোখের জিনা হয়।

৩) জিহ্বাঃ জিহ্বা দ্বারাও জিনা হয় যখন একজন নর/নারী আরেকজন নর/নারীর সাথে যৌন উদ্দীপক অশ্লীল কথা বলে স্বামী/স্ত্রীর সম্পর্ক ছাড়া।

৪) কান, “এটা দিয়ে জিনা হয় যখন নর/নারীর মুখের অশ্লীল কথা শুনা হয়।

৫) হাত, “এটা দিয়ে জিনা হয় যখন কোন বিবাহিত/অবিবাহিত নর/নারীর শরীরের যেকোন অংশ ইচ্ছাকৃত খারাপ নিয়তে স্পর্শ বা ধরা হয়।

৬) পা, “এটা দিয়ে জিনা হয় যখন পায়ে হেটে কাঙ্খিত কোন নর বা নারীর কাছে যাওয়া হয়”।

৭) গুপ্ত অঙ্গ, “এটা দিয়ে ব্যভিচারের চুড়ান্ত রূপ দান করা হয়, এটার স্থান সবার উপরে। কেননা উপরে ৬ টিকে দমন করতে পারলেই এই অঙ্গ হেফাযত করা যায়”।

এতো গেলো দুনিয়ার হিসাব, আখেরাতে তো জেনাখুরের অবস্থা খুবই ভয়ানক হবেঃ

রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ হে উম্মতে মুহাম্মদী! মহান আল্লাহ তা’আলার কসম, মহান আল্লাহ তা’আলার কোন বান্দা জিনা করলে কিংবা কোন নারী জিনা করলে, মহান আল্লাহ তা’আলার চাইতে বেশী অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মাতে মুহাম্মদী! আল্লাহ তা’আলার কসম, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তা হলে তোমরা অবশ্যই কম হাঁসতে ও বেশি কাঁদতে। (বুখারি শরীফ ১০৪৪)।

রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তা’আলা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক কঠোর শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হচ্ছে জেনাখুর বৃদ্ধ, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী গরীব।” (মুসলিম শরীফ ও নাসাঈ শরীফ)

জেনাখুরেরা উলংগ অবস্থায় এমন এক চুলার মধ্যে থাকবে যার অগ্রভাগ হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ আর নিম্নভাগ হবে প্রশস্ত উহার তলদেশে অগ্নি প্রজ্বলিত থাকবে তাদেরকে তাতে দগ্ধ করা হবে। তারা মাঝে মধ্যে সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় পৌছে যাবে; অত:পর আগুন যখন স্তমিত হয়ে যাবে তখন তাতে তারা আবার ফিরে যাবে। (বুখারী শরীফ ৬৫৭১ ইঃফাঃ) অতএব যদি এইসব আযাবকে বিলিভ করে থাকেন তাহলে আসুন সবাই সম্মিলিত চেষ্টা করি, নিজে জিনা থেকে বাঁচি, সমাজের আগে নিজের পরিবারের যারা বেপর্দা চলে তাদের পেছনে সময় দেই, তাদের বোঝাই, তবে সবার আগে নিজে, এরপর বউ, বাচ্চা, বোন, মা, ও পরিবারের অন্যান্যদের উপর তা এপ্লাই করি। মহান আল্লাহ পাঁক আমাদের তৌফিক দিন, আমাদের জন্য বেপর্দা ও জিনার ফেত্না থেকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিন। মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট দ্বিতীয় কোন চাওয়া আর নেই।

Monday, August 8, 2022

আপনি কি অগণিত নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করছেন, নাকি এখনো গাফেলই আছেন?

আপনি কি অগণিত নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করছেন, নাকি এখনো গাফেলই আছেন?

মহান আল্লাহ তা’আলার নিয়ামত ও অনুগ্রহ ছাড়া মানুষের বা কোনো প্রাণীর পক্ষে এক মুহূর্তও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষ  মহান আল্লাহ তা’আলার অগণিত নিয়ামত ভোগ করা সত্ত্বেও এ নিয়ামতের উপযুক্ত শুকরিয়া আদায় করে না। অথচ মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামত একমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলাই তাদের দিয়ে থাকেন, বিনিময়ে তারা ভাবে আমরা তো দৈনিক নামায রোজা করেই যাচ্ছি আর কিভাবে শুকরিয়া আদায় করবো? অথচ দ্বীন তো কেবল নামায রোজাই না, বরং মহান আল্লাহ তা'আলার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের অর্থ হচ্ছে উনার সকল আদেশাবলি যথাযথভাবে মেনে চলা। অথচ বেশির ভাগ মানুষই মহান আল্লাহ তা'আলার শুকরগুজার না করে প্রতিনিয়ত মহান আল্লাহ তা'আলার অবাধ্যতায় লিপ্ত অথচ এরাও নামায রোজা করে।

উদাহরণস্বরূপ, জামায়াতে নামায রোজা করা মানুষটাও, প্রেম ভালোবাসা নামক জিনায় লিপ্ত, লিপ্ত সুদের মতো নিকৃষ্ট বিষয়ে, লিপ্ত ঘোষ নামক হারামে, লিপ্ত গীবত পরনিন্দা, পরচর্চায়। অথচ এই মানুষগুলি বুঝেনা যে মহান আল্লাহ তা'আলা যে মানুষকে নিয়ামত দান করেছেন তা কিন্তু সীমাহীন। এমন অনেক নিয়ামতও আছে যেগুলোর খবর মানুষ জানেই না। পবিত্র আল কুরআনে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَ اِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَتَ اللّٰهِ لَا تُحۡصُوۡهَا ؕ اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَظَلُوۡمٌ کَفَّارٌ) ‘যদি তোমরা মহান আল্লাহ তা'আলার নিয়ামতগুলো গণনা করতে থাকো, তাহলে সেগুলো পুরোপুরি গণনা করতেও পারবে না। অবশ্যই মানুষ অতি মাত্রায় যালিম (ও) অকৃতজ্ঞ। (আল কুরআন ১৪/৩৪)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা'আলার নিয়ামত এত অধিক যে, সবাই মিলে গণনা করতে চাইলে গুণে শেষ করা যাবে না। মানুষের নিজের অস্তিত্বই স্বয়ং একটি ক্ষুদ্র জগত। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, হস্ত, পদ, দেহের প্রতিটি গ্রন্থি এবং শিরা-উপশিরায় মহান আল্লাহ তা'আলার অন্তহীন নিয়ামত নিহিত রয়েছে। (ফাতহুল ক্বদির) এ থেকে অনুমান করা যায় যে, মহান আল্লাহ তা'আলার সম্পূর্ণ দান ও নিয়ামতের সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিত কোনোভাবেই আমরা গণনা করে শেষ করতে পারব না। এই অসংখ্য নিয়ামতের বিনিময়ে অসংখ্য ইবাদত ও অসংখ্য শোকর জরুরি হওয়াই ছিল ইনসাফের দাবি। মানুষ সে শোকর আদায়ের ব্যাপারে অতিশয় জালেম, কারণ সে এ ব্যাপারে গাফেল (অজ্ঞ) থাকে। (ফাতহুল ক্বদির)

আর এসব নিয়ামতের বিষয়ে মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে সবাইকে জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে মহান মহান আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (ثُمَّ لَتُسۡـَٔلُنَّ یَوۡمَئِذٍ عَنِ النَّعِیۡمِ) এরপর সেদিন (শেষ বিচারে) অবশ্যই তোমাদেরকে (যা কিছু দেয়া হয়েছে এমন সব) নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।’ (আল কুরআন ১০২/৮)

অর্থাৎ তোমরা সবাই কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে যে, সেগুলোর শোকর আদায় করেছ কি না, সেগুলোতে মহান আল্লাহ তা'আলার হক আদায় করেছ কি না; নাকি পাপকাজে ব্যয় করেছ? এতে সব প্রকার নিয়ামত এসে যায়। কুরআন ও হাদিসের অন্যত্র এরকম কিছু নিয়ামতের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। অন্য আয়াতে এভাবে বলা হয়েছেঃ (وَ لَا تَقۡفُ مَا لَیۡسَ لَکَ بِهٖ عِلۡمٌ ؕ اِنَّ السَّمۡعَ وَ الۡبَصَرَ وَ الۡفُؤَادَ کُلُّ اُولٰٓئِکَ کَانَ عَنۡهُ مَسۡـُٔوۡلًا) আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয় এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে। (আল কুরআন ১৭/৩৬) এতে মানুষের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয় সম্পর্কিত লাখো নেয়ামত অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেগুলো মানুষ প্রতিটা মুহূর্তে ব্যবহার করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন হাদিসেও নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে এসেছে। যেমন রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দুটি নেয়ামত এমন আছে যেগুলোর বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষই (ইবলিশ কতৃক) প্রতারিত হয়। তার একটি হলো স্বাস্থ্য, অপরটি হচ্ছে অবসর সময়। (বুখারি শরীফ ৬৪১২)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, একবার রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধায় কাতর হয়ে বের হলেন, পথে আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আলাইহিস সালাম ও উমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আলাইহিস সালামও বের হলেন, রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম উনাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেন বের হয়েছ? উনারা বললেন, ক্ষুধা। রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যার হাতে আমার নফস উনার শপথ, আমিও সে কারণেই বের হয়েছি। তারপর তিনি বললেন, চলো। উনারা সবাই এক আনসারী সাহাবীর বাড়িতে আগমন করলেন। আনসার সাহাবীর স্ত্রী রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ও উনার সাথীদের দেখে বেজায় খুশি হলেন, তিনি শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানানোর মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানালেন। রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার আহাল কোথায়? স্ত্রী জানালেন যে, তিনি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে গেছেন। এ কথা বলতে বলতে আনসার সাহাবী এসে উনাদের সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! আজ কেউ আমার মতো মেহমান পাবে না। তখন উনারা বসলে তিনি তাদের জন্য এক কাঁদি খেজুর নিয়ে এলেন যাতে কাঁচা-পাকা, আধাপাকা, ভালো-মন্দ সব ধরনের খেজুর ছিল। তারপর আনসার সাহাবী ছুরি নিয়ে দৌড় দিলেন ছাগলের পালের দিকে। রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাবধান! দুধ দেয় এমন কোন ছাগল জবাই করো না। আনসারী সাহাবী উনাদের জন্য ছাগল জবাই করলেন, এবং উনাদের আপ্যায়ন করালেন, উনারা ছাগলের গোশত খেলেন, খেজুর গ্রহণ করলেন, পানি পান করলেন। তারপর যখন (খাবার খেয়ে) তৃপ্ত হলেন তখন রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আলাইহিস সালাম ও উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আলাইহিস সালামকে বললেন, তোমরা কিয়ামতের দিন এ সমস্ত নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমাদেরকে ক্ষুধা তোমাদের ঘর থেকে বের করলো, তারপর তোমরা এমন নেয়ামত ভোগ করার পর ফিরে গেলে।’ (মুসলিম শরীফ ২০৩৮)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, এ আয়াত নাজিল হলে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে মহান আল্লাহ তা’আলার রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কোন (কোন) নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবো? এটা তো শুধু (আসওয়াদান বা দুই কালো জিনিস) খেজুর ও পানি। রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অবশ্যই তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (তিরমিজি শরীফ ৫/৪৪৮, ইবনে মাজাহ শরীফ ৪১৫৮, মুসনাদে আহমাদ ৩/২৪) অন্য বর্ণনায় এসেছে, রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন প্রথম যে নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে তা হচ্ছে, ‘আমি কি তোমাকে শারীরিকভাবে সুস্থ করিনি? আমি কি তোমাকে সুপেয় পানি পান করাইনি?’ (তিরমিজি শরীফ ৩৩৫৮) অন্য বর্ণনায় এসেছে, রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, আদম সন্তান! তোমাকে ঘোড়া ও উটে বহন করিয়েছি, তোমাকে স্ত্রীর ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তোমাকে ঘুরাফিরা ও নেতৃত্ব করার সুযোগ দিয়েছি, এগুলোর কৃতজ্ঞতা কোথায়? (মুসলিম শরীফ ২৯৬৮, মুসনাদে আহমাদ ২/৪৯২)

উপরের বর্ণনা থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শুধু কাফেরদের নয় বরং সৎ মুমিনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুতরাং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ তা’আলার আনুগত্যের মাধ্যমে উনার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। যাতে করে মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট হিসাব দেয়া সহজ হয়, কারণ মহান আল্লাহ পাঁক স্পষ্ট বলেই দিয়েছেনঃ (اَحَسِبَ النَّاسُ اَنۡ یُّتۡرَکُوۡۤا اَنۡ یَّقُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا وَ هُمۡ لَا یُفۡتَنُوۡنَ) মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (আল কুরআন ২৯/২)

তাই আসুন আল্লাজির শুকরিয়া আদায় করি দুনিয়া থেকে আখিরাতের দিকে নিজেকে ধাবিত করে, উনার স্বরনে যিকির ফিকিরে নিজেকে নিয়োজিত করে, নতুবা আখেরাত হবে বড়োই ভয়ঙ্কর।

Sunday, August 7, 2022

Imran Khan Is The Problem

Imran Khan Is The Problem


Pakistan was doing fine with a thoroughly corrupt two-party democracy; they were coming into power following democratic norms repeatedly. To bring about a variation in the ruling system army often used to be called in to take over power but with no quantifiable change at the level of corruption. Political Standing Operating Procedure (SOP) was set in motion and moving fine per Enemy of Islam's (EOI) design. One Mr. Imran Khan, a celebrity with a playboy image, suddenly turned politician. He decided to purify Pakistan's dirty corrupt politics and offer an honest environment therein. Imran introduced a novel mission of corruption-free Pakistan. The worst-case scenario is that he was trying to give a 1st world attitude in the mind of his people, but as per EOI design, Pakistan to remain a 3rd world like all other Muslim countries of the world. He has inducted himself into Pakistan politics as a bone inside a Kabab. (Kabab Me Haddi). So he was deliberately quizzed out of power by EOI using domestic Gaddars / Munafiquns.

EOI conducted a well-orchestrated parliamentary coup in collaboration with COAS Bajwa and a few judges of the Supreme Court. Why was it COAS only? Because Pak army also likes the leadership of Imran Khan as they are by default honest and patriot, and they are never interested in dirty place politics. Why few judges of SC? Because all the judges of the Supreme Court were not part of that judicial coup conducted at midnight following a deliberate parliamentary coup.

In any 3rd world Muslim country, politics is a business. The basic rule of this political business is no different from any other formal or no-formal business initiative. Make profit out of your investment, break, borrow or steal; invest once, and upon victory, earn an unlimited amount for the next five years. Earn so much that one can survive the next five years being unemployed yet have some investment potential available at home and abroad for competing in a future election. EOI, those baking up Shahbaz Sharif, knows very well that Imran has popularity above 90% of Pakistani citizens. Still, they successfully removed Imran from power by a political coup de ta. It was a classic parliamentary coup, backed up by Supreme Court and Gen Bajwa from behind. Let there be 100% popular support, yet Imran cannot get back to power; this is a challenge for EOI. This is the clash between the people of Pakistan and EOI backed corrupt regime.

The people of Pakistan know how corrupt the present regime is, but it is not that everyone within it is corrupt or a traitor. Few Agents in Place (AIP) and Agents of Influence (AOI) are evil traitors. They are now playing dirty politics as per the dictation of EOI against the people of Pakistan. The motto of the present regime is to hold out in power as long as possible and keep looking for avenues to prevent Imran Khan from participating in the next election. Foreign funding case lodged by the election commission against PTI and Imran Khan is one of their plan of blame games serial. Even to divert public attention, the present regime may coordinate with Narendra Modi for a limited war, yet Imran Khan cannot be allowed to participate in any future election. Modi will gladly accept such a proposal as he knows that for India, corrupt Shahbaz Sharif is a blessing comparing honest Imran Khan. Pakistan will remain permanently handicapped so long remain under a corrupt regime.

One thing that needs to be clearly understood by all Pakistani is that corrupt Shahbaz Sharif and his cabal are not alone in fighting this political battle with Imran Khan. The corrupt regime has full support from the world's three most efficient intelligence organizations like India, America, and Israel. They are all out in support of Shahbaz Sharif. It is they who brought Shahbaz into power; it is their responsibility to keep him in power. Let every Pakistani love Imran Khan; it does not matter to them; they need a corrupt regime all the time for Pakistan. These organizations even command Pakistan ISI, so when Imran Khan wanted to post a new DG for ISI, Bajwa opposed that. DG ISI was supposed to act as the eyes and ears of PM, but Bajwa showed the audacity to reject PM's choice. Once all the attempts gradually fail to keep Imran out of power, EOI may go for assassination attempts like President Ziaul Haque, Gen Solaimani, or Fakrejade of Iran.

The present corrupt regime will never give an early election date; they will delay the process by all means so that Imran Khan and PTI supporters lose their patience and are compelled to go for violence or civil disobedience. Civil unrest will pave the way to declare an emergency or Marshal Law. Such a plan cannot be of one man or one party policy; it must have been hatched by all traitors holding powerful positions and jointly operating behind the screen. That is why the wise old men used to say, 'Birds of the same flock fly together.' Fifty years from now, if Pakistan continues as a sovereign state, people will remember Imran Khan as a leader who was equally popular as their father of the nation, Qaid E Ajom Mohammad Ali Jinnah. Jinnah fought along with Hindus against Qafir colonial power, but Imran Khan is fighting with homegrown Munafiqun, who are more harmful to Muslims and Islam.

One should be clear about why COAS of Pakistan is envisaged as a traitor. Following are the reasons:

1. Shahbaz Sharif could not have conducted the parliamentary coup without a detailed plan and consent from COAS Bajwa.

2. Bajwa would have been a retired general almost three years back but survived in uniform only due to the mercy of Imran Khan. But he did not hastate to stab Imran from behind as per the dictation of EOI. The point to note here is such an un-parliamentary political coup can never be conducted without the consent of the COAS of Pakistan.

3. He has no legal authority to decide who should be the DG ISI, but he showed his muscle to PM Imran Khan by rejecting his proposal for a new DG ISI.

4. Overtly, Bajwa is playing a neutral card, but behind the screen, he is with corrupt Shahbaz Sharif from the beginning.

5. When Supreme Court judges sat deep at night and hurriedly declared a verdict in favor of Shahbaz Sharif, they would not have done that without any surreptitious pressure from Bajwa.

6. When PTI mobilized the whole country for a long march and reached Islamabad, the situation was on the verge of country-wide civil unrest, and Bajwa remained neutral. He could have asked Shahbaz Sharif to declare an election date to save Pakistan from anarchy. He paraded a pathetic neutral card here as well.

7. When Bajwa is not saving Pakistan from possible anarchy under the veil of neutrality, he is pursuing America for an IMF loan to help the corrupt regime of Shahbaz Sharif, which was not his job. Such action of Bajwa only brought humiliation to the Pak army and Pakistan.

Against all these odds, Imran Khan and his party PTI's strengths are that they are ‘HAQ,’ and the corrupt Shahbaj regime is ‘BATIL. ‘Allah Subhanahu Wa Ta'ala said in His Sacred Quran Sharif: وَقُلْ جَآءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبٰطِلُ ۚ إِنَّ الْبٰطِلَ كَانَ زَهُوقًا "And say, "Truth has come, and falsehood has departed. Indeed is falsehood, [by nature], ever bound to depart." (Surah, Al-Israa 17: Verse 81)

Sunday, July 31, 2022

Punjab Election And Its Aftermath

Punjab Election And Its Aftermath

The Supreme Court verdict after the traumatic Punjab election was the death knell of dishonesty and a wake-up call for honesty in Pakistan. It appears that nature (Allah Pak) has decided to rescue Pakistani Muslims from the grueling misery of corruption and provide a serene honest environment to breathe at ease. Last 30 years, corrupt leaderships were kind of like ‘Water Boarding’ torture for the people of Pakistan by sucking domestic resources and borrowing foreign funds at random. With the success of the Punjab by-election, if the people of Pakistan feel that the job is done, such an idea will surely be a disaster. Punjab election was only the beginning of the battle between Haq and Batil in Pakistan, the way Nabi Karim Sallallahu Alaihe Wassallam started at the battle of Badar. A very long way to go for the people of Pakistan to get back to the level of integrity prescribed in our Deen and the one practiced by His disciples, Sahaba Ekram Radiallahu Taala Anhu. Imran Khan is now 69; the big question is how long he will survive to provide the level of integrity discussed above, at least an honesty level like that of Japan, Norway, or Denmark! Such impossible anticipation is possible by applying artificial intelligence (AI) and highly skilled brainwashing technology. A well-thought-out “Integrated Anti-Corruption Initiative” (IACI) can resolve the problem if the idea can be conceptualized and executed by headhunted specialists. It is easy to be personally honest but challenging to turn corrupt into honest; when the target is a corrupt nation, the difficulty level is multiplied. The first and foremost requirement to start with a successful IACI is to make honest and visionary leadership available. It is not that Pakistan received a leader like Imran Khan by chance; he is probably taking over Pakistan by omnipotent design. The way N. D. Modi of India is getting ready to clear Muslims and Islam from the face of Indo-Pak subcontinent, the appearance of a leader like Imran is a nature’s balancing act. Modi is infamous as the 'butcher of Gujarat,' leading Hindu India now, lynching and killing Muslims and bull-dogging their houses regularly. He is getting ready for India for a massive Muslim genocide like that of Bosnia/Herzegovina. To that end, he recruited all Indian youths for four years of compulsory military training and service. Apparently, to reduce India's unemployment crisis and reduce retirees' pension load. Behind such a scenario, he is preparing young Indians for 'Gazwa-e-Hind.' Israelis are planting Gharqad trees throughout Israel for their terminal hiding positions as per their religious scripture and Islamic eschatology. Turning a nation from corrupt culture to honesty requires cultivating divine scripture. Unfortunately, the higher-class Muslim society feels safe and comfortable maintaining a standoff distance from their own religion Islam. Massive anti-Islamic propaganda onslaught by robust Zionist control ‘Western Main Stream Media (MSM) created Islamophobia among non-Muslim and Muslim society higher echelon. Imran Khan was bold enough to speak against such wicked media offensive and ensured a resolution after that at the UN. Changing the basic perception of any target audience (here it is Islam) and replacing them with a modified perception is an act of 'Battle of Perceptio (BOP).' This BOP between Qafir and the Muslim world is constant and will continue till eternity. They have many post-doctoral after their Ph.D. on the subject, whereas corrupt Muslim leaders have zero knowledge of it. Because of this inefficient, corrupt leadership, we have developed our society's most efficient corrupt system. If there is a world rating on corruption efficiency, we will stand out within the top three countries. Has any leader of our country ever asked why we are so filthily corrupt? Was there any soul search in this line? The answer we all know is negative. Chemo may treat cancer, but cancer cannot treat cancer. Corrupt leadership is cancer for any country; until and unless they are treated in time, the country may eventually lose its sovereignty and find its place in the pages of history. In the ongoing power struggle of Pakistan, Imran Khan, to be candid, is not politically engaged against Shahbaz Sharif or the establishment; he is distantly engaged with Zionist Jews, 'Enemy of Islam' (EOI), who controls America. Corrupt Muslims are the field-level representatives of EOI. They may look Muslim, but they are genuine munafiqun and cancer for any Muslim society or country. The easiest way to identify them is; that a genuine Muslim can never be corrupt. Khilafat Rashedin was not corrupt, nor Erdogan of Turkey is corrupt. The equation is straightforward Qafir will never support a true Muslim leader; they will only support Munafiquns for total control or destruction of Islam. This long-standing reality has to be driven by the hurts and minds of the people of Pakistan. THEY NEED TO KNOW A VOTE FOR SHAHBAZ SHARIF IS, IN FACT, A VOTE FOR EOI. HE BEING A MUSLIM, UNCONSCIOUSLY VOTED EOI FOR THE DESTRUCTION OF ISLAM. HE MAY BE PRAYING FIVE TIMES A DAY AND FASTING FOR A MONTH; NEVER MIND, HE IS DESTINED TO GO TO JAHANNAM BY HELPING DESTRUCTION OF ISLAM.

For a leader in a developed country, the administration is easy as people down the chain are honest. But leading a country that remained under abject corruption for a protracted period is a real challenge. Experience suggests it is relatively easy to be individually honest but pretty much difficult to turn corrupt into honest. When it matters to a society or a nation, the difficulty is multiplied manifold. Generally, people want to live comfortably in a natural environment, but unfortunately, corrupt leadership cannot provide that, and people at large are compelled to join the flow of easily corrupt money. Let's see how people behave differently depending on the conditional level of honesty.


For a visionary leader like Imran Khan, he has to take a methodical approach based on a pulse report on corruption collected from authentic sources from different target audiences. Based on the pulse report he has to decide his objectives, design an action plan, and time bounds for achieving those. The ultimate objective should be to create an environment where honest people live comfortably and corrupt remain under duress. Here Imran Khan needs hand-picked skillful lieutenants and specialists. Before the national election, the use of social media has to be optimum, in English and in vernacular. People have to be given the message of the Sacred Quran Shareef. Surah Maidah(5), Ayah (51). (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَهُوۡدَ وَ النَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُهُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَ مَنۡ یَّتَوَلَّهُمۡ مِّنۡکُمۡ فَاِنَّهٗ مِنۡهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ) O, believers! Take neither Jews nor Christians as guardians—they are guardians of each other.1 Whoever does so will be counted as one of them. Surely Allah does not guide the wrongdoing people.

Sacred Quran Shareef further ordains in Surah Imran (3), Ayah 28 (لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰهِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡهُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُکُمُ اللّٰهُ نَفۡسَهٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ الۡمَصِیۡرُ) LET NOT the believers take those who deny the truth for their allies in preference to the believers - since he who does this cuts himself off from God in everything - unless it be to protect yourselves against them in this way. But God warns you to beware of Him: for with God is all journeys' end. Shahbaz Sharif and his cabal have a very strong connection with America and America is very much under command of Zionist Israel. Therefore a vote for Shahbaz and his party is a direct vote for America meaning a vote for Zionist Israel. A Muslim cannot give a vote to someone who has strong connectivity with EOI.

A true Muslim leader cannot be corrupt, Imran Khan’s level of integrity is out of the question, where the whole world knows, how notoriously corrupt his opposition party leaders are. The people of Pakistan are awake this time, none can stop Pakistan from real economic growth under the honest leadership of Imran Khan. Sacred Quran Shareef further ordain in Surah: Ar-Ra’d (13), Ayaath: 11 (اِنَّ اللّٰہَ لَا یُغَیِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِہِمۡ) Verily, God does not change men's condition unless they change their inner selves;

The way people of Pakistan are trying hard to get rid of their deeply entrenched corrupt leadership, is in fact the best way, prescribed in our Sacred Quran Sharif.

Imran Khan is not a made-up leader but a natural leader or a born leader. The people of Pakistan must take full advantage of his gifted potential. To stop corruption in Pakistan the most important requirement is to create an honest environment, which is the job of social engineers. Expertise in such skills is in serious shortage in the Muslim world. If a small country Cuba being so close to America can remain independent why not Pakistan when America is so far away? The message here is; that it is not the distance but the level of integrity of leadership that provides freedom to the people of any country. The world knows the charismatic leadership of Fidel Castro. So in Pakistan, if someone considers himself an honest and patriotic Pakistani he has no alternative but to vote for Imran Khan in the coming parliamentary election. Let us reiterate, Allah Pak helps them, who help themselves.

Saturday, July 30, 2022

দ্বীন একা একা পালন করে কি হেদায়েত লাভ করা যাবে?

দ্বীন একা একা পালন করে কি হেদায়েত লাভ করা যাবে?

প্রথমেই বলে নেই, এই লিখা পড়ার সময় যদি আপনার মনে হয় এই লিখা আপনাকে আঘাত করছে, যদি মনে হয় লিখাটা যেনো আপনার উদ্যেশ্যেই লিখা হয়েছে, যদি দেখেন যে লিখাটা আপনার মনঃপুত হচ্ছেনা, তখন বুঝবেন আপনি নিম্নোক্ত কুরআন হাদিসের হুকুমের বিপরীতে জীবনযাপন করছেন। তবে এই লিখা পড়ে যদি আপনার আনন্দ হয় তাহলে নিচের কুরআন হাদিসের অনুসরণ হচ্ছে বলেই মনে করবেন।

আজকাল অনেকেই দেখা যাচ্ছে, বিচ্ছিন্ন জীবনযাপনের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। অনেকের ধারণা আমি যদি আমার নামায, রোজা, ঈমান আমল ঠিক রাখি, হালাল খাই তাহলেই হলো। আমি আমার বউ বাচ্চা নিয়ে নিশ্চিন্ত, একা নিরাপদে থেকে ইসলাম পালন করলেই আমার আখেরাত সহজ হয়ে যাবে।

জি না এরূপ স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। বরং একতাবদ্ধ জীবন-যাপন করা ইসলামের মূল শিক্ষার একটি। একাকি জীবন-যাপনে রয়েছে নানাবিধ ঝুঁকি ও বিপদ। তা হতে পারে দুনিয়াবি আম কাজের ঝুঁকি আবার হতে পারে পরকালের জন্য দুনিয়াবি আমলি কাজের ঝুঁকি। একা একা দ্বীন পালন করতে গিয়ে কখন কীভাবে গুমরাহ হবেন টের ও পাবেন না।

জামায়াতবদ্ধ কোনো মানুষ যদি কোনো দোষ-ত্রুটি করে বসে তবে জামায়াতের অন্য লোক তাকে সে ব্যাপারে সতর্ক করে দেবে। জীবন চলার পথের নানাবিধ সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরবে এবং সমাধানও দেয়ার চেষ্টা করবে।

আপনি দৈনিক ১৭ রাকায়াত ফরজে, ১২ রাকআত সুন্নতে ২৯ বার সূরাহ ফাতেহা শরীফে মহান আল্লাহ তাআলার নিকট বলে থাকেনঃ (اهْدِنَا الصِّرٰطَ الْمُسْتَقِيمَ) অর্থাৎ (হে আমার মালিক) আমাদেরকে সরল সঠিক (হেদায়েতের) পথ প্রদর্শন করুন ও তার প্রতি অটুট থাকার তাওফীক দান করুন। (আল কুরআন ১/৫)

খেয়াল করে দেখুন, ইমামের পেছনে বা একা যেই পাঠ করুক, বলতে হচ্ছে আমাদের, শিখানো হয়নি আমার। এর পরেও আপনার হুস হয়না?

এইযে সিরাতুল মুস্তাকিম আপনি প্রতিনিয়ত চাচ্ছেন এর ব্যপারে মহান আল্লাহ পাঁক কি বলেন জানুন, মহান আল্লাহ তা'আলা গ্যারান্টি দিচ্ছেনঃ (وَ مَنۡ یَّعۡتَصِمۡ بِاللّٰهِ فَقَدۡ هُدِیَ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ) আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ তা'আলাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে তাকে অবশ্যই সিরাতুল মুস্তাকিমের দিশা দেয়া হবে। (আল কুরআন ৩/১০১) আয়াতে “মহান আল্লাহ তা’আলাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা”র করার মানে কি? এর মানে হলোঃ মহান আল্লাহ তা’আলার দ্বীনকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং উনার ও উনার রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যে গড়িমসি না করা। এটা কীভাবে সম্ভব? এই বিষয়ে মহান আল্লাহ তা’আলা এর পরের আয়াতেই জানিয়ে দিচ্ছেনঃ মহান আল্লাহ তা’আলা বলতেছেন ( یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ) হে মু’মিনগণ! মহান আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর যেমনভাবে উনাকে ভয় করা উচিত। (আর) তোমরা মুসলিম না হয়ে কক্ষনো মারা যেও না। (আল কুরআন ৩/১০২) মহান আল্লাহ তা’আলাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার জন্য যেটা করতে হবে সেটাই আল্লাহ পাঁক এই আয়াতে বলেছেন, যে তোমরা তাক্বওয়া হাসিল করো, এতেই বুঝা যায় যে, পূর্ণ ইসলামই প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা’আলা ও উনার রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ আনুগত্য করা এবং উনার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার নামই হচ্ছে তাকওয়া অবলম্বন। বিনা চু চেরায় ইসলামের যাবতীয় বিধান মেনে চলা, দ্বীনের ফরজ-ওয়াজিব/সুন্নতে খাস কাজগুলো সম্পূর্ণভাবে পালন করা এবং যত নিষিদ্ধ বস্তু আছে, তার ধারে-কাছেও না যাওয়ার নামই মহান আল্লাহ তাআলার তাক্বওয়া হাসিল। এছাড়াও আয়াতের শেষে মুসলিম না হয়ে যেন কারও মৃত্যু না হয় সেটার উপর জোর দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সারা জীবন ইসলামের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাক, যাতে মৃত্যুও তার উপরেই হয়। ঐ মহান রবের অভ্যাস এই যে, মানুষ স্বীয় জীবন যেভাবে পরিচালিত করে ঐভাবেই তার মৃত্যু দিয়ে থাকেন। যার উপরে তার মৃত্যু সংঘটিত হবে ওর উপরেই কিয়ামতের দিন তাকে উথিত করবেন। (কিছু ইমামের মতে উপরোক্ত আয়াতটি (৬৪:১৬) আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে কিন্তু হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, এ আয়াতটি রহিত হয়ে যায়নি, আমিও এটাই মনে করি।) এখন এই যে ইসলামের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকার বিষয় তা কি একা একা দ্বীন পালন করে সম্ভব? কস্মিনকালেও সম্ভব না, আর একারণেই মহান আল্লাহ পাঁক এর ঠিক পরের আয়াতেই নির্দেশ দিচ্ছেনঃ (وَ اعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰهِ جَمِیۡعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوۡا) আর তোমরা সকলে মিলে (জামায়াতবদ্ধ ভাবে) মহান আল্লাহ তা’আলার রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (আল কুরআন ৩/১০৩) অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, আর এর আদেশ দিয়ে এ কথা পরিষ্কার করে দিলেন যে, মুক্তিও রয়েছে এই দুই মূল নীতির মধ্যে এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এই মূল নীতিরই ভিত্তিতে। এরপর বলছেন ‘‘পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’’ এর মাধ্যমে দলে দলে বিভক্ত হওয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উল্লিখিত দু’টি মূল নীতি থেকে যদি তোমরা বিচ্যুত হয়ে পড়, তাহলে তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং ভিন্ন ভিন্ন দলে তোমরা বিভক্ত হয়ে যাবে। বলাই বাহুল্য যে, বর্তমানে দলে দলে বিভক্ত হওয়ার দৃশ্য আমাদের সামনেই রয়েছে।

কুরআন ও হাদীস বোঝার এবং তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ নিয়ে পারস্পরিক কিছু মতপার্থক্য থাকলেও তা কিন্তু দলে দলে বিভক্ত হওয়ার কারণ নয়। এ ধরনের বিরোধ তো সাহাবী ও তাবেঈনদের যুগেও ছিল, কিন্তু তাঁরা ফির্কাবন্দী সৃষ্টি করেননি এবং দলে দলে বিভক্ত হয়েও যাননি। কারণ, তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সকলের আনুগত্য ও আকীদার মূল কেন্দ্র ছিল একটাই, আর তা হল, কুরআন এবং সুন্নাহ। কিন্তু যখন ব্যক্তিত্বের নামে চিন্তা ও গবেষণা কেন্দ্রের আবির্ভাব ঘটল, তখন আনুগত্য ও আকীদার মূল কেন্দ্র পরিবর্তন হয়ে গেল, আহলে সুন্নত থেকে সরে গিয়ে তখন খারেজী, শীআ, মুরজিয়া, নাসেবি, জাবরিয়া, কাদরিয়া, জাহমিয়া, মুতাযিলা, যার ধারাবাহিকতায় ওহাবি, থেকে ভাগ হয়ে বিদআতি সলাফি, আহলে হাদিস, দেওবন্দীর সৃষ্টি হয়, যার ফলে আপন আপন দলের গুরুজন এবং তাদের উক্তি ও মন্তব্যসমূহ প্রথম স্থান দখল করল এবং মহান আল্লাহ তা’আলা ও উনার রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণীসমূহ দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হল। আর এখান থেকেই মুসলিম উম্মাহর মাঝে পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা শুরু হল; যা দিনে দিনে বাড়তেই লাগল এবং বড় শক্তভাবে বদ্ধমূল হয়ে গেল। অথচ তারা জানেইনা যে কুরআন সুন্নাহে তাদের এরূপ কাজের ফলাফল নির্ধারণ করেছেন মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে, যেমন মহান আল্লাহ পাঁক বলেনঃ (مُنِیۡبِیۡنَ اِلَیۡهِ وَ اتَّقُوۡهُ وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ لَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ مِنَ الَّذِیۡنَ فَرَّقُوۡا دِیۡنَهُمۡ وَ کَانُوۡا شِیَعًا ؕ کُلُّ حِزۡبٍۭ بِمَا لَدَیۡهِمۡ فَرِحُوۡنَ) সবাই বিশুদ্ধ চিত্তে উনারই অভিমুখী হয়ে উনাকেই ভয় কর, নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা, যারা নিজদের দ্বীনের (মধ্যে) মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে (তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না)। আর (এসব) প্রত্যেক দলই (তাদের) নিজের মতবাদ নিয়ে উল্লসিত। (আল কুরআন ৩০/৩১-৩২) অতএব স্পষ্ট বোঝা গেলো, যারাই উনার পথ তথা সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ ছেঁড়ে নিজের পথ বানিয়ে নেবে পূর্বের নির্ধারিত পথ ছেঁড়ে তাঁরা যতো উল্লসিতই হোক না কেনো তাঁরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

এছাড়াও কেবল দলে দলে বিভক্তই নিষিদ্ধ নয়, সাথে এও বলা হয়েছে যারা সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে থাকবে তাঁরা যেন পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়। অর্থাৎ একা একা সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে হাটার চেষ্টা করা যাবেনা। যেখানেই থাকো না কেনো সেখানের সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে থাকা মানুষের সাথে মিলেমিশে জীবনযাপন করো।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতবদ্ধ জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একতাবদ্ধ জীবন-যাপনকারী ব্যক্তি একাকি জীবন-যাপনকারী ব্যক্তির তুলনায় অনেক গুণ বেশি নিরাপদ। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বলেছেন, ‘মেষপালের নেকড়ে বাঘের মতো শয়তান মানুষের জন্য নেকড়ে বাঘস্বরূপ। যে মেষপালের মধ্য থেকে একটি মেষ দল থেকে আলাদা থাকে অথবা খাদ্যের সন্ধানে একাকি দূরে চলে যায় অথবা যে মেষ অলসতাবশত দল ছেড়ে এক প্রান্তে পড়ে থাকে, সেটিকে নেকড়ে বাঘ ওঠিয়ে নিয়ে যায়। সাবধান! তোমরা কখনো জামায়াত ছেড়ে একাকি দুর্গম পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলবে না। সুতরাং সব সময় জামায়াত তথা মুসলিম জনসাধারণের সঙ্গে থাকবে। (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত ১৮৪)

হাদিসের আলোকে মুসলিম উম্মাহ জামায়াতবদ্ধ জীবন যাপন করবে। তা যে কোনো জনপদেই হোক না কেন। এমনকি যদি কোনো সমাজে বা জনপদে মাত্র ৩জন লোকও থাকে; তবে তারা যেন একজনকে নেতা বানিয়ে পরামর্শের আলোকে জীবন পরিচালনা করে।

রাসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘৩জন লোকও যখন জনমানবহীন মরুভূমিতে থাকবে তখন তাদের একজনকে নেতা নিযুক্ত করে তার অনুসরণ না করে বিচ্ছিন্ন থাকা বৈধ নয়।’ (মুসনাদে আহমদ)

অন্য হাদিসে এসেছে সফরের সময়ও একাধিক ব্যক্তির দল হলে একজনকে নেতা বানিয়ে জামায়াতবদ্ধভাবে সফর করা। রাসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তিনজন লোক যখন কোথাও সফরের উদ্দেশ্যে বের হবে তখন অবশ্যই একজনকে নেতা বানিয়ে নেবে”। (হাদিগুলি দেখুন এইখানে)

অতএব আপনি কোন অবস্থায় একা একা দ্বীন পালন করতে পারবেন না, এতে আপনার আক্বিদাহ বিশ্বাস যতো বিশুদ্ধই থাকুক না কেনো, সকালে কাজে যান রাতে বাসায় ফিরেন, পরিবার নিয়ে যদি হালাল খান, ৫ ওয়াক্ত এর যায়গায় তাহাজ্জুদ সহ ৬ ওয়াক্ত জামাআতে পড়েন, সকাল বিকাল দূরুদ, তাসবিহ তাহ্লিল যিকরে মত্ত থাকেন তাহলেও আপনি উপরোক্ত কুরআন হাদিসের অস্বীকারকারী বলেই গন্য হবেন, আরেকটি বিষয় হলো, আপনার পরিবারে যতো মানুষই থাকুক, সেটা জামায়াত বলে গন্য হবেনা। 

আপনি যেখানেই থাকুন, সেটা অ্যামাজনের মধ্যে থাকা জংলীদের মিল্লাত হোক, কিংবা ইউরোপ অ্যামেরিকার এমন কোন রাজ্য যেখানে আর কোন মুসলমান ই নাই, ইন্টারনেট নাই, এরূপ অবস্থায় আপনাকে সেখানে দ্বীনের দাঈ হয়ে মুসলিম মিল্লাত তথা জামায়াতের সৃষ্টি করা লাগবে, করে জামায়াতবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করা লাগবে। ইসলাম একা পালনের কোন দ্বীন নয়। আর ইন্টারনেট থাকলে তো সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে থাকা সারা দুনিয়ার মানুষের সাথে জামায়াতবদ্ধ হওয়ার আছে বিশেষ সুযোগ। আপনাকে জামায়াতবদ্ধ থাকাই লাগবে, সেটা ৩ পরিবারের তিন জন হলেও। এর মানে এটা নয় যে আপনি একটি আলাধা দল তৈরি করবেন সলাফি, আহলে হাদিস, দেওবন্দি কিংবা শিয়াদের মতো। বরং আপনি ৩/৫/১০ জনের হলেও একটি জামায়াত বানিয়ে শলাপরামর্শের মাধ্যমে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মত পথ অনুসরণ করে জীবনযাপন করবেন। আশাকরি এর পর আর কিছুই বলার প্রয়োজন নাই জ্ঞানীদের উদ্যেশ্যে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের ৩ জনের একটি দল নিয়ে হলেও যেনো জামায়াতবদ্ধ হয়ে আহলে সুন্নতের মতে পথে চলার ব্যবস্থা করে দেন। আমিন।

Thursday, July 28, 2022

কেরালার যুবকের পায়ে হেটে হজ্জের বিষয়ে বিদআতি সলাফি যাহিলদের তাওবার আহ্বান

কেরালার যুবকের পায়ে হেটে হজ্জের বিষয়ে বিদআতি সলাফি যাহিলদের তাওবার আহ্বান

আহলে হাদিস দাবীদার, সলাফি (সয়তান লানতুল্লাহি’র ফিরকা) লা মাজহাবিরা চরম জাহিল এবং মূর্খ, কয়েক বছর অনলাইনে ছিলাম না বলে এরা যেনো একেবারে লতিয়ে গজীয়ে উঠেছে। আসলে এদের দোষ দিয়েই বা কি লাভ, কথিত পেট পূজারী সুন্নীরার খারাপ। এরা নিজেরা দ্বীন থেকে দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। এরা খানকাহ ভিত্তিক ইসলাম প্রচার বাদ দিয়ে, বছরে একবার মিলাদুন্নবী (ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পালন করেই দ্বীন ইসলামের কাজ শেষ মনে করে। এরা যদি পূজারী সুন্নী না হয়ে কিতাবি সুন্নি হতো তাহলে এইসব মূর্খ আহলে হদসেরা প্রত্যেকটি কথার আগে ফিকির করে, কুরআন সুন্নাহ তালাশ করেই কথা বলতো।

যাইহোক মূল বিষয়ে চলে আসি। সলাফি এক লুমাজা একজন হাজীর অসাক্ষাৎ-এ মনগড়া হাদিসের ব্যখ্যা দিয়েছে, যা ১০০% কুরআন সুন্নাহর বিরোধী। তার উল্লেখিত হাদিসটি হুবুহু হলো /// আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার দুই ছেলের উপর ভর করে হেঁটে যেতে দেখে বললেনঃ তার কী হয়েছে? তারা বললেন, তিনি পায়ে হেঁটে হজ্জ করার মানত করেছেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ লোকটি নিজেকে কষ্ট দিক আল্লাহ তা‘আলার এর কোন দরকার নেই। অতঃপর তিনি তাকে সওয়ার হয়ে চলার জন্য আদেশ করলেন। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৬৫, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস///

এবার আসুন আমরা দেখি উপরোক্ত হাদিসের শরায় কি পাওয়া যায় খোদ সলাফিদের ব্যখ্যায়ঃ মহান আল্লাহ তা’আলা কোন মানুষকেই তার সামর্থ্যের বাইরে কোন কাজের ভার দেন না এবং যে কোন কাজে নিয়োজিত হওয়ার প্রথম শর্ত হল, সেই বিষয়ে পূর্ণ ওয়াকিফহাল/জ্ঞান রাখা এবং ঐ বিষয়ে সামর্থ্য থাকা। এবং এটি ইসলামী শরীয়তের অন্যতম ভিত্তি। 

এই হাদিসে আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এমন একজন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখেছিলেন যার হাড় দুর্বল হয়ে গিয়েছিল এবং তার শক্তিও প্রায় ক্ষয় হয়ে পড়েছিল। যিনি অন্য কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটতেও পারছিলেন না। তিনি তার দুই পুত্রের মাঝ দিয়ে চলছিলেন, অর্থাৎ: তাদের উপর হেলান দিয়ে দিয়ে হাঁটছিলেন। রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম উনার এই হাল দেখে জিজ্ঞাসা করলেন এই লোকের ব্যপার কি? যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং ক্লান্তি ও অবসাদে প্রায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে? তখন তারা উনাকে (ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিল যে, তিনি পায়ে হেঁটে মহান আল্লাহ তা’আলার পবিত্র গৃহের হজ্জযাত্রা করার মানত করেছিলেন। রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম সেই বৃদ্ধের এই কাজটিকে অপছন্দ করেলেন এবং বল্লেনঃ মহান আল্লাহ তা’আলা কারোর নিজের উপর অত্যাচার করা এবং তা অর্পণ করা থেকে মুক্ত যে ব্যপারে সে সক্ষম নয়। তিনি, সর্বশক্তিমান, বলেনঃ (یُرِیۡدُ اللّٰهُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ) মহান আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য যা সহজ তাই চান, যা কষ্টদায়ক তা চান না। (আল কুরআন ২/১৮৫) আর রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম সেই বৃদ্ধকে বাহনে আরোহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন; কারণ সে তার মানত পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছিলো না, এবং এটি একটি বিবৃতি যে, রবের ইবাদত আদায় করার উদ্দেশ্য এই নয় যে নিজের উপর অত্যাচার এবং নিজেকে অক্ষম করে দেওয়া, বরং আদেশ মেনে চলা এবং আনুগত্য করা, এবং সকলের জেনে রাখা উচিৎ যে, সৃষ্টির মালিকের চেয়ে জীবের প্রতি দয়ালু আর কেউ নেই, প্রশংসা ও মহিমা যতো কেবল উনারই।

অতএব স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম সেই বৃদ্ধকে বাহনে আরোহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন মানে এই না যে পায়ে হেটে হজ্জ করা যাবেনা পায়ে হেটে হজ্জে যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকলে। এখন কথা হলো পায়ে হেটে যাওয়ার মানত সেই লোক কেনো করেছিলেন? এর কোন ভিত্তি কি আছে কুরআন সুন্নাহ'র মাঝে?

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ (وَ اَذِّنۡ فِی النَّاسِ بِالۡحَجِّ یَاۡتُوۡکَ رِجَالًا وَّ عَلٰی کُلِّ ضَامِرٍ یَّاۡتِیۡنَ مِنۡ کُلِّ فَجٍّ عَمِیۡقٍ) (ইব্রাহীম আলাইহিস সালামকে আরো আদেশ দিয়েছিলাম যে) আপনি মানুষের নিকট পবিত্র হজ্জের ঘোষণা (প্রচার করে) দিন। “যাতে করে তারা আপনার নিকট দূর-দূরান্তর থেকে পায়ে হেটে এবং (পথক্লান্ত) কৃশকায় উঠের পিঠে আরোহণ করে ছুটে আসে”(১)। (আল কুরআন ২২/২৭)

(১) (یَّاۡتِیۡنَ مِنۡ کُلِّ فَجٍّ عَمِیۡقٍ) যাতে করে তারা আপনার নিকট দূর-দূরান্তর থেকে। এর দ্বারা কোন কোন ইমাম দলীল গ্রহণ করেছেন যে, যার ক্ষমতা রয়েছে তার জন্যে পায়ে হেটে হজ্জ করা সওয়ারীর উপর চড়ে হজ্জ করা অপেক্ষা উত্তম। কেননা, কুরআনুল কারীমে প্রথমে পদব্রজীদের উল্লেখ রয়েছে। অতঃপর সওয়ারীর কথা আছে। কাজেই পদব্রজের দিকে আকর্ষণ বেশী হলো এবং তাদের সাহসিকতার মর্যাদা দেয়া হলো, আর এর মূল কারণ হলো হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সালামদ্বয়ের সুন্নত ছিলো পায়ে হেটে হজ্জে আসা, একারণেই হযরত ইবনু আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ “আমার এ আকাংখ্যা থেকে গেল যে, যদি আমি পদব্রজে হজ্জ করতাম! কেননা, মহান আল্লাহ তা’আলার ঘোষণায় প্রথমে পদব্ৰজীদের উল্লেখ আছে। আবার অনেক ইমামের মত এই যে, সওয়ারীর উপর হজ্জ করাই উত্তম। কেননা, রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণ ক্ষমতা সত্ত্বেও পদব্ৰজে হজ্জ করেন নাই। সুতরাং পায়ে হেটে হজ্জে গেলে ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সালামদ্বয়ের সুন্নত আদায় হবে আর সওয়ারীর উপর হজ্জ করলে রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত আদায় হবে। (ইবনে কাসির, আত্ব-তাবারী)

অতএব স্পষ্ট হয়ে গেলো যে কারো যদি সামর্থ্য থাকে সে পায়ে হেটে গেলে সেটা আল্লাজীর নির্দেশ, ও দুই নবীর সুন্নত আদায় হবে, আর বাহনে উঠে চড়ে গেলে রসূলে পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত আদায় হবে, আর যারা বিমানে যাবে এরা সলাফিদের সুন্নত আদায় করবে যারা সব কিছুতে দুই লাইন বেশি বুঝে গুমরাহ হয়েছে। এদের উচিৎ দ্রুত তাওবা করে ঈমান ঋনু করা।