বাংলাদেশের জনগণের একটা অংশ মনে করে ভারত চাইলে ১ ঘন্টার মধ্যে
আমাদের দেশটি দখল করে নিতে পারে। অথচ ওরা নিজ চোখে দেখছে যে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর
দেশ আমেরিকা এবং ন্যাটো সামরিক জোট সর্বাত্মক চেষ্টা করেও লম্বায় ৪১ কি.মি. আর প্রস্থে
৬ থেকে ১২ কি.মি. গাজাকে তারা গত ২ বছরেও দখল করতে পারছে না। কারণটা কী? কারণটা হচ্ছে,
যে দেশ বা জাতি স্বাধীন থাকতে চায় তারা কোনোদিনও পরাধীন হয় না।
যারা পরাধীন হয় তারা প্রথমেই নিজ অন্তরে পরাধীনতাকে মেনে নেয়
এবং তারপরই প্রকৃত পরাজয় বরণ করে।
পাকিস্তানের কারাবন্দী নেতা ইমরান খান প্রায়শই একটা কথা বলতেন,
“You only lose when you give up” তুমি তখনই পরাজিত হও, যখন তুমি নিজের অধিকার কিংবা
সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার সামর্থ্য রাখ না বলে ধারণা করো।
আমাদের সার্বভৌমত্ব আমরা জান, মাল ও জীবন দিয়ে রক্ষা করব এ
ধরনের উপলব্ধির স্থানে কেউ যদি ধারণা করে ভারত চাইলেই আমাদেরকে দখল করে নিতে পারে,
সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে তবে ১৯৭১ এ স্বাধীনতা চাইলাম কেন? ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের
বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করলাম কেন? ঐ স্বাধীনতার অর্থ ছিল কি পরবর্তীতে ভারতের পদতলে
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সমর্পণ? দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে সাধারণ জনগণ এহেন
নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিল ১৫-২০ বৎসর পূর্ব থেকেই!
বর্তমানে পরিস্থিতি হচ্ছে, এ দেশের সেনাবাহিনীর কিছু অংশও আজকাল
এ ধরনের ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছে! কারণটা হচ্ছে শত্রুর মনস্তত্ত্ব বিশারদরা যুবসমাজ
ও আপামর জনগণকে বাধাহীনভাবে মগজ ধোলাই করতে পারে এবং করে যাচ্ছে, কারণ শত্রুর আক্রমণের
ধারা, পরিধি এবং এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব যাচাই করার কোন প্রতিষ্ঠান আমরা পেশাগত জ্ঞান
ও দক্ষতার অভাবে গড়ে তুলতে পারিনি! যেখানে শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণের ধারাই আমরা
চিহ্নিত করতে অক্ষম সেখানে তার বিরুদ্ধেপ্রতিরোধ
ও প্রতি আক্রমণ (counter attack) করার তো প্রশ্নই উঠে না।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশীদের চেতনা সব থেকে
বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে দুজন, তাদের একজন হচ্ছে বনি আমিন
অপরজন হচ্ছে আর জে কিবরিয়া। বনি আমিন পৃথিবীর
এমন কোনো দর্শনীয় স্থান নেই যেখানে তার স্ত্রী ভেরোনিকাকে নিয়ে ভ্রমণ করে নাই। পৃথিবীর
এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে ফিরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশীদের জন্য
কনটেন্ট তৈরি করে। টিআরপির মাধ্যমে সে যা আয় করে তা তার খরচের ১০০ ভাগের এক ভাগও হবে
না। তো এত টাকা সে পায় কোথা থেকে?আজ পর্যন্ত
সে তার কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা চাকুরী সংক্রান্ত বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল
মিডিয়ায় আপলোড করেনি। কারণ তার সোর্স অব ফান্ড হচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW
এর SS মানি। RAW এর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশীদের perceptionপরিবর্তনে কোটি টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করে না। কারণ
একটি দেশকে দখল নিতে যে চারটি স্তর পার করতে হয় তার প্রথম স্তরটি হচ্ছে Demoralization,
যা এই দুইজন ইউটিউবার নিরবিচ্ছিন্নভাবে করে যাচ্ছে।
এদিকে আর, জে, কিবরিয়া শুরুতে কিছু ধর্মীয় ও সমাজ সচেতন মূলক
পডকাস্ট প্রচার করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে ভাইরাল হয়। আর এখন সে রেগুলার যে কাজটি
করছে তা হলো, রগরগে যৌন অভিজ্ঞতার অবতারণা, মেয়েগুলোর শরীর দেখিয়ে মুখ ঢেকে/না ঢেকে
যৌবনের যৌনতার কল্পকাহিনী খোলামেলাভাবে ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে দিচ্ছে। আমাদের দেশের
যুবসমাজকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে প্রচারিত এ ধরনের যৌন উত্তেজক ঘটনাগুলোর অবতারণা কোনভাবেই
মেনে নেয়া যায় না। আমাদের সমাজের উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এসব দেখে কী শিখছে? সমাজে
যৌনতা ছড়ানো ছাড়াও ব্যাপক হারে ধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই দেশে কি কোন কর্তৃপক্ষ নেই যারা সোশ্যাল মিডিয়া মনিটর করবে
আর সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার্থে যৌন উত্তেজক কন্টেন্টগুলো রিমুভ করবে?
জাতীয় চরিত্র ধ্বংসের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে এই যৌনতার চালু
হয়েছিল স্বৈরাচারের আমলে। এখন কেন তা চালু থাকবে?
শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যোদ্ধারা যারা এদেশে অবস্থান করছে তাদেরকে
এরেস্ট করা উচিত এবং এদের পোস্ট মিডিয়াতে পার্মানেন্টলি এবং প্রতিনিয়ত ব্লক করা উচিত।
ত্বরীকাহ শব্দ শুনলে আজকাল দেখি অনেক মানুষ
নাক সিটকায়, বিশেষ করে বাতিল ফেরকার ব্রেইন ওয়াশ করা যুবক-যুবতিরা। আসলে আফসোস
লাগে এদের হাল দেখে, মহান আল্লাহ পাক এদের চোখ, কান, ব্রেইন, ক্বলব সবই দিয়েছেন,
কিন্তু এগুলো তারা দিয়ে দিয়েছে তাদের শুয়ুখরুপী শয়তানের ক্বলবের অধিকারীদের নিকট।
তাদের ঐ কথিত শুয়ুখরা যা বলে তাই তারা সঠিক মনে করে যদিও তা কুরআন ছুন্নাহর ১৮০*
বিপরীত হয়। তারা যদি মানুষ হতো, মুছলিম হতো, তাহলে অবশ্যই তাফাক্কুর, তাদ্বাব্বুর
করতো। কুরআন-ছুন্নাহ আহলে জিকর থেকে জানতো, এবং মানতোও। কিন্তু শুয়ুখরুপী শয়তানের
ক্বলবের অধিকারীদের নিকট থেকে হাক্বিকি দ্বীন জানা ও শিখা তো আর বাস্তবে সম্ভব না।
তাই ত্বরীকত ব্যতীত শরীয়ত দিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়ার চেষ্টা করা
জাহেলিয়াত।আশ্চর্য
লাগে যখন বিশাল বিশাল ডিগ্রিধারী জাহিল মুল্লারাও মানুষকে ত্বরীকত তথা ইলমে তাসাউফের পথ থেকে দূরে
সরিয়ে রাখতে, মনগড়া ব্যখা দিয়ে, ব্রেইন ওয়াশ করে কেবল শরিয়তপন্থী বানিয়ে দেয়। আর তাদের মূর্খ মুকাল্লিদরাও তা
চোখ বন্ধ করে গিলতে থাকে।অথচ
ত্বরীকত ব্যতীত
শরীয়ত দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যাওয়ার, পৌঁছানর কোন সুযোগই নাই। ত্বরীকত শব্দ শুনলেই কথিত লা-মাজহাবি, অধিকাংশ
দেওবন্দি, ছলাফি লাফ দিয়ে উঠে, ভাবখানা এমন যেনো এইটা অমুছলিমদের কোন কিতাব থেকে
এসেছে, অথচ ত্বরীকাহ শব্দ খোদ কুরআন শরীফ থেকেই এসেছেন। আর ত্বরীকাহ এসেছেন ত্বরীক থেকে। আর ত্বরীক-এর মানে হলো রাস্তা, পথ,
ডাইরেকশন।
সম্মানিত কুরআন ছুন্নায় বিশ্বাসী মুও’মিনগণ আসুন দেখি আমরা
ত্বরীকাহ কি? ত্বরীকাহ নিয়ে নাক সিটকানোর কিছু কি আছে?
নাকি নাক সিটকিয়ে বেঈমান মরদুদ শয়তান হতে হচ্ছে।
“ত্বরীকাহ” শব্দের
অর্থঃআরবি শব্দ “طَرِيقَةٌ” (ত্বরীকাহ)এসেছে “طَرَقَ” ধাতু
থেকে, যার
অর্থ “পথ”, “পথে হাঁটা”, “চলা”, “পদ্ধতি”, বা “ধারা” অথবা “কোনো কিছুকে ধাক্কা দিয়ে
খোলা”। শব্দটি
অর্থগত দিক দিয়ে বোঝায়ঃ- “নির্দিষ্ট পদ্ধতি, অভ্যাস, বা জীবনধারা”। কুরআন
শরীফে এই শব্দটি একাধিকবার এসেছে, যেমনঃ ছুরা ত্ব-হা এর ২০/৬৩ নং আয়াত শরীফে, ২০/১০৪ নং আয়াত শরীফে,
ছুরা জ্বীনের ৭২/১৬ নং আয়াতে। প্রত্যেক জায়গায় “ত্বরীকাহ” শব্দটি এমন এক পথ বা
পদ্ধতির ব্যপারে ব্যবহৃত করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ‘আদর্শিক বা
শ্রেষ্ঠ’ পথ হিসেবেই বিবেচিত ছিলো। যদিও উক্ত আয়াতসমূহে তা এসেছে কাফিরদের বক্তব্য ও
প্রসঙ্গের ভেতরে, তথাপি আল্লাহ তা’য়ালা সেই শব্দ ব্যবহারে কোনো নাকচ করেননি, বরং
তাদের নিজেদের ভাষায় তুলে ধরেছেন।এ থেকে বোঝা যায় “ত্বরীকাহ” শব্দটি কুরআন দ্বারা
স্বীকৃত, এবং তা জীবনধারা, চিন্তাধারা, বা ধারাবাহিক রূহানী পন্থা বোঝাতে
ব্যবহারযোগ্য।
মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে বলেনঃ (وَّ اَنَّا مِنَّا الۡمُسۡلِمُوۡنَ وَ مِنَّا
الۡقٰسِطُوۡنَ ؕ فَمَنۡ اَسۡلَمَ فَاُولٰٓئِكَ تَحَرَّوۡا رَشَدًا وَ اَمَّا
الۡقٰسِطُوۡنَ فَكَانُوۡا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا وَّ اَنۡ لَّوِ اسۡتَقَامُوۡا عَلَی
الطَّرِیۡقَۃِ لَاَسۡقَیۡنٰهُمۡ مَّآءً غَدَقًا لِّنَفۡتِنَهُمۡ فِیۡهِ ؕ وَ مَنۡ
یُّعۡرِضۡ عَنۡ ذِكۡرِ رَبِّهٖ یَسۡلُكۡهُ عَذَابًا صَعَدًا) (জ্বীনেরা
বললো) আর আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসলিম, আবার কেউ কেউ অবিচারকারী; অতএব যারা
আত্মসমর্পণ করেছে, তারাই হেদায়েতের তালাশ করেছে। কিন্তু যারা অবিচারকারী, তারা তো
জাহান্নামের ইন্ধন (হয়েছে)। (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি
ওয়া ছাল্লাম আপনি বলুন)আর
(আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে এই মর্মে) যে যদি তারা ত্বরীকাহ-এর উপর অবিচল থাকতো, তাহলে
আমি তাদেরকে অফুরন্ত বরকতময় পানি দ্বারা সমৃদ্ধ করতাম, যাতে আমি তাদেরকে এটা দিয়ে
পরীক্ষা নিতে পারি। আর
যদি কেউ তার রবের জিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে কঠোর আযাবে প্রবেশ করাবেন। (ছুরাহ আল জ্বীন ৭২/১৪-১৭)
অতএব আমরা উক্ত ৪ আয়াত থেকে যা পেলাম তা হলো (رَشَدًا) রশাদ হচ্ছে
মুওমিনদের এমন এক অবস্থা যেখানে তারা তাদের জীবন সঠিক/হেদায়েতের পথে পরিচালনা করেন।
অর্থাৎ মুর্শিদের দেখানো পথে, কেননা মুর্শিদ শব্দের মূল ধাতুই হচ্ছেন রশাদ, আর
যিনি রশাদ বা সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেন তিনিই মুর্শিদ। এরপর পেলাম (الطَّرِیۡقَۃِ) ত্বরীকাহ যার
অর্থ “পথ”,
“পথে হাঁটা”, “চলা”, “চলার পদ্ধতি”। এরপর পেলাম (ذِكۡرِ رَبِّهٖ) রবের
জিকির।
অতএব, আমরা এই আয়াতগুলো থেকে বুঝি, রশাদ (হেদায়েত) হচ্ছেন
মুমিনদের এমন এক অবস্থা যেখানে তারা সঠিক পথে চলেন, অর্থাৎ আল্লাহ ওয়ালা মুর্শিদের
দেখানো পথে। আর
ত্বরীকাহ হচ্ছেন নির্ভেজাল, সঠিক হক্ক পথ, জীবনযাপন পদ্ধতি যা মুর্শিদের ছ্বহবত
থেকে রবের যিকির দ্বারা অর্জিত হয়।
আর আহলুছ ছুন্নাহ এর আক্বিদাহ-বিশ্বাসে ১০০% বিশ্বাসী “প্রত্যেক
ত্বরীকাহ-ই হক্ব পথ,
তবে যা শরিয়তের ভিত্তিতে পরিচালিত নয়, তা হলো বিভ্রান্তি।” অর্থাৎ, ত্বরীকাহকখনোই
শরীয়তের বাইরের কোন
বিষয় নয়,
বরং এটিশরীয়তের ভিতরেই আত্মশুদ্ধির গভীর পথ। শরীয়তকে শরীর বললে, ত্বরীকাহ তার
রূহ।যেকোন
ত্বরীকাহ যা আহলুছ ছুন্নাহ-এর আক্বীদাহ বিশ্বাসের বিপরীতে বিশ্বাস রাখে, আমল করে
তা বাতিল।
ত্বরীকার প্রয়োজন কেন?
মূলত তালিমে ত্বরীকাহ হচ্ছেন ঐ তালীম বা শিক্ষা, যা
অর্জন করে সম্মুখে থাকা হাজারো ভ্রান্ত রাস্থার মধ্যে সঠিক রাস্তা চিনে সেই পথ ধরে
মাক্বসুদে মঞ্জিলে অনায়াসে পৌঁছে যাওয়া। অতএব শরীয়ত মূলত কানুন বা লো। আর ত্বরীকত হলেন রাস্থা যেখানে আইন এপ্লাই
করা হয়।
একজন মুসলিম যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাছিল করতে চায়, তাকে
শরীয়তের মাধ্যমে নফছের তাঁহারাত হাসিল করতে হয়। আর যখন শরীয়তের পাবন্দ হয়ে নফছের
তাঁহারাত হাসিল করে ফেলে, তখন ক্বলবি জিকির দ্বারা সে ত্বরীকতে প্রবেশ করে।
শরীয়তে তাছলিম হওয়ার মাধ্যমে নফছ পাক হয়ে যায়। আর যখনই নফছ পাক হয়ে যায়, তখনই সে
মুর্শিদের অনুমতি সাপেক্ষে ক্বলবের জিকির শুরু করে দেবে, ফলশ্রুতিতে সে ত্বরীকতে
দাখিল হয়ে যাবে, অর্থাৎ তখন তার যাত্রা শুরু হয়ে যাবে।আর ত্বরীকত মূলত ক্বলব বেদার বা
জাগ্রত হওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয়ে থাকে। আর সেটার ফাইনাল ডেসটিনেশন হয় বাকাবিল্লাহতে। মানুষ রূহের জগত থেকে কিয়ামত দিবস
পর্যন্ত যে যাত্রা করছে, এর পুরোটাই মূলত ত্বরীকতের উপর হয়ে থাকে। এমনকি যা মানুষকে জাতে ইলাহিতে
পৌঁছে দেয় তাই ত্বরীকত।
শরীয়ত হচ্ছেন আইন অর্থাৎ একটি গাড়ি
নিদৃষ্ট রাস্তায় চলার কানুন →
আরত্বরীকতহচ্ছেন সেই রাস্তা যার উপর ছ্বফর
করে মুছাফির তার মঞ্জিলে পৌঁছায়। একজন ব্যক্তি যত ভালো ড্রাইভার হোক, আর যতই সে
আইন-কানুন জানুক বা মানুক, যদি সে সঠিক রাস্থা না চিনে তাহলে তার পক্ষে গন্তব্যে
পৌঁছানো অসম্ভব, অর্থাৎ শরীয়ত জেনেও সে গুমরাহ হয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াবে। একারণেই
ফরজ ইবাদতের আগে মহান আল্লাহ তায়ালা তাজকিয়ার তাকীদ করেছেন, যা ত্বরীকার অনুসারী
হওয়া ছাড়া কারো পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব নয়। যেমন মহান আল্লাহ
তা’য়ালা
বলেনঃ (قَدْ أَفْلَحَ مَن تَزَكَّىٰ وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ
فَصَلَّىٰ) “কামিয়াব হলো সেই
ব্যক্তি, যে তার নফছের তাজকিয়া
করলো, আর তার
রব তায়ালা উনারজিকির করলোএরপর গিয়েনামাজ আদায় করল।” (ছুরা আল-য়া‘লা, ৮৭:১৪-১৫)
অতএব প্রথমে
নফছের তাজকিয়া করে তারপর ইছমে জাত আল্লাহ/লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ দ্বারা হুজুরি ক্বলব
বানিয়ে তারপর নামাজ পড়লে সেটা হাক্বিকি ইবাদত বলে গন্য হবে।
এখন কথা
হচ্ছে, নতুন ত্বরীকাহ সৃষ্টির বৈধতা কি আছে?
এটা বুঝতে হলে মূল নীতি বুঝতে হবেঃ নতুন
“দীন” সৃষ্টি করা
যাবে না,
তবেনতুন
ত্বরীকাহ(আত্মশুদ্ধির
বৈধ, শরিয়তসম্মত
পদ্ধতি) তৈরি করা যাবেযদি তা কুরআন-ছুন্নাহ ও আহলে ছুন্নাত ওয়াল
জামাআতের মূলনীতি বিরোধী না হয়।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (كُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ
تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ تَنۡهَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡكَرِ وَ تُؤۡمِنُوۡنَ
بِاللّٰهِ) তোমরাই সর্বোত্তম উম্মাত, মানবজাতির (সর্বাত্মক
কল্যাণের) জন্য তোমাদের আবির্ভুত করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ
হতে নিষেধ কর এবং মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রতি ঈমান রক্ষা করে চল। (ছুরা আলে ইমরান ৩/১১০)
→প্রতিটি
যুগে “উত্তম
কাজের আদেশ” পৌঁছানোর
পদ্ধতি আলাদা হতে পারে
ভিন্ন ভিন্ন ত্বরীকায়।
এছাড়াও মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মৌন সম্মতিও পাওয়া যায়
উনার নৈকট্য লাভের জন্যে যেকোন পথ, পদ্ধতি, ত্বরীকাহ উদ্ভাবনে, যেমন তিনি বলেনঃ (وَ جَعَلۡنَا فِیۡ قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡهُ
رَاۡفَۃً وَّ رَحۡمَۃً ؕ وَ رَهۡبَانِیَّۃَۨ ابۡتَدَعُوۡهَا مَا كَتَبۡنٰهَا
عَلَیۡهِمۡ اِلَّا ابۡتِغَآءَ رِضۡوَانِ اللّٰهِ فَمَا رَعَوۡهَا حَقَّ
رِعَایَتِهَا ۚ) ঈসা য়ালাইহিছ ছালামের অনুসারীদের
অন্তরে দিয়েছিলাম করুণা ও দয়া; কিন্তু দরবেশী জীবনতো তারা নিজেরাই মহান আল্লাহ তা’য়ালার
সন্তুষ্টি লাভের জন্য উদ্ভাবন করেছিল; আমি তাদের উপর ফরজ করিনি; অথচ এটাও তারা
যথাযথভাবে পালন করেনি। (ছুরা হাদিদ ৫৭/২৭)
→পূর্ববর্তী উম্মত, ঈসা য়ালাইহিছ ছালামের ছ্বহাবিরা
নিজেরা নতুন ইবাদতের পন্থা তৈরি করেছিলেন মহান আল্লাহ তা’য়ালার নৈকট্য হাছিলের উদ্যেশ্যে
(যদিও তা মহান আল্লাহ
তায়ালাতাদের ওপরফরয করেননি), তবে আফসোস করেছেন এই বলে যে, সেইসব সূফীদের মধ্যে কতিপয় সেই ত্বরীকার
উপর ইস্তিকামত থাকেনি, তবে যারা থেকেছে তাঁদেরকে তিনি তাদের নিয়ত
অনুযায়ী পুরষ্কারদিয়েছেন।
ইমাম রাযী রহমতুল্লাহ বলেনঃ ত্বরীকার
মধ্যে নতুন কোন নিয়ম
যদি তৈরি করা হয়, যদি তা শরীয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা বিদআত নয়, বরং ইজতিহাদ।(তাফসীরে
ফখরুদ্দীন রাযী)
উদাহরণঃ পূর্ববর্তী
ত্বরীকাহগুলো কীভাবে গঠিত হয়েছিল?
চিশতিয়াঃ খাজা আবু ইসহাক চিশতী রহমতুল্লাহ (৩২১ হিজরি)
→এই সব ত্বরীকাহনবীজী
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম-এর ছুন্নাহর মূলনীতির ভিতরেথেকে তৈরি
করা হয়েছে এবং তাদের সবাই শরিয়ত মান্য করে তাজকিয়া, যিকির, নূর ও ফানা-বাক্বা অর্জনের পথ তৈরি
করেছেন।
উপসংহারঃ মূলত ত্বরীকাহ হলো কেবল ইবাদতের বাহ্যিক কাঠামোর পেছনে
থাকারূহানী
প্রাণ। শরীয়ত হলো ছিদ্রহীন শরীর, আর ত্বরীকাহ
হলো তার মধ্যে প্রবাহিত আত্মা।
✅নতুন ত্বরীকাহ গঠন বৈধ, যদি তাঃ
শরীয়তের বাইরে না যায়
আহলে ছুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আক্বীদা অনুসরণ করে
ছুন্নত কে পরিত্যাগ করে বিদআতি কোন
আমল চালু না করে।
আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ও নূর অর্জনের প্রকৃত মাধ্যম হয়।
আমাদের
“ত্বরীকাহ আল-রাজ” কি?
ত্বরীকাহ আল-রাজ হলো এক অনন্য
রূহানী পথ বা পন্থা,
যার লক্ষ্য শুধুমাত্র বাহ্যিক ইবাদাতে সীমাবদ্ধ নয় বরং আত্মার গভীরে প্রবেশ
করে নূরের উৎসে সংযুক্ত হওয়া। এই
ত্বরীকাহর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ রাজিব খাজা,১৪৪৪ হিজরীর, রজব মাসের ৪ তারিখ, ২৭ জানুয়ারি
২০২৩ ঈসায়ী তথা রগ্বায়ীব
শরীফে এই ত্বরীকার যাত্রা শুরু করেন। এটি
পূর্ববর্তী কোনো শাজরা/ছিলছিলার অনুসারী কোন ত্বরীকাহ নয়; বরং স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক
পথ/পদ্ধতি যা
সরাসরি মহান
আল্লাহ তা’য়ালার
নূরের দিকে আহ্বান করে
থাকেন, শাকির ও জাকির হতে।
এই ত্বরীকাহর নাম “আল-রাজ” এসেছে ত্বরীকার
ইমাম মুহাম্মদ রাজিব খাজা উনার নাম থেকে, যেখানে “রাজ” শব্দটি
উর্দু-ফারসি ঘরানায়
গোপন রহস্য ও রাজত্বের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সম্মানিত পবিত্র এই ত্বরীকাহ
আল-রাজ মূলতচারটি বিষয়কে
কেন্দ্র করে গঠিতঃ
·প্রথমত, আত্মশুদ্ধিঃ নফসকে
পরিশুদ্ধ করে তাকে নফসে মুতমাইন্না বা নফসে রহমানিয়ায় উন্নীত করা।
·দ্বিতীয়ত, নূর অর্জনঃ ক্বলব ও
রূহকে নূরানী, রৌশন,
মুনাওয়্যার করে, নার তথা জাহান্নামের অন্ধকার আগুন থেকে নফছকে রক্ষা করা।
·তৃতীয়ত, মারিফাতুল্লাহঃ মহান আল্লাহ
তা’য়ালার
সত্তা, সিফাত
ও রেযামন্দি
অর্জনের অন্তর্দৃষ্টি লাভ করা।
·চতুর্থত, শাকের
বান্দা হওয়াঃ
ইবলিসের যে চ্যালেঞ্জ ছিলো “আপনি তাদের অধিকাংশকে শাকের হিসেবে পাবেন না”, তার জবাবে এ ত্বরীকাহ একজন মুরীদকে
শাকের বান্দায় রূপান্তরিত করাকেই সর্বোচ্চ সফলতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
ত্বরীকাহ আল-রাজের রূহানী
ম্যাকানিজম সম্পূর্ণ ক্বলব-নির্ভর। এই পথে ইছমে
জাত “আল্লাহ” বা “লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহ” দ্বারা
দায়ীমী ক্বলবী যিকিরই হচ্ছেন আত্মশুদ্ধি ও নূর লাভের মূল মাধ্যম। এই
দায়ীমী জিকিরের
ফলে কেবল মুখস্থ নয়,
বরং মুমিনের ক্বলব সর্বক্ষণ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার স্মরণে জেগে থাকে, যার মাধ্যমে ক্বলবে নূর সঞ্চার হয়, নফস
পরিশুদ্ধ হয় এবং কারিন ও ইবলিস শয়তান দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই ত্বরীকাহ অন্যান্য সুফি
তরীকাহ থেকে ভিন্নতা ধারণ করে। যেমনঃ জান্নাত নয়, বরং মুকাররবীনদের
অন্তর্ভুক্ত হওয়া এখানে
মূল লক্ষ্য। কেবলবাহ্যিক
রুকু-সিজদাই নয়, বরং অন্তরের
সংযুক্তি ও জিকরে
ইলাহীতে সদা সর্বদা মশগুল থাকা এখানে মূল বিষয়। দুনিয়া/নাছুৎ এই ত্বরীকার
দৃষ্টিতে ঐচ্ছিক, আর
আখিরাত অপরিহার্য।
ত্বরীকাহ আল-রাজ সাতটি লতিফার
উপর ভিত্তি করে আত্মার উন্নতি সাধন করে, যথাঃ
১. লতিফা-এ-আনা (তৃতীয় নয়ন – রূহানী দর্শনের দরজা)
২. লতিফা-এ-ক্বলব
৩. লতিফা-এ-নফস
৪. লতিফা-এ-রূহ
৫. লতিফা-এ-সির
৬. লতিফা-এ-খফি
৭. লতিফা-এ-আখফা
এই লতিফাসমূহ ধাপে ধাপে
রূহানী খোলাসা ও আত্মিক তাজাল্লিয়াতের দরজা খুলে দেয়। ক্বলব
লতিফা থেকেই মূলত নূর প্রবাহ শুরু হয়, যা নফসকে আলোকিত করে নফসে আম্মারা
থেকে উত্তীর্ণ করে নফসে লাওয়ামা, নফসে মুলহিমা হয়ে নফসে মুতমাইন্না ও নফসে
রহমানিয়ায় পৌঁছে দেয়।
এই ত্বরীকার দৈনন্দিন আমলসমূহ
অত্যন্ত সুবিন্যস্ত ও বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে
রয়েছে: ফজর ও মাগরিবের পরেত্বরীকার ছ্ববক আদায়। মহান আল্লাহ তায়ালা, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়া ছাল্লাম ও মুর্শিদের মোরাকাবা, শরাহ ছ্বদরের য়া’মল, প্রতিটি নামাযের পরে ছুন্নাহ সম্মত তাছবিহ,
যিকির ও দোয়া, প্রতিদিন
কুরআন শরীফের
(তরজমাসহ) নিদৃষ্ট
কিছু আয়াত পাঠ করা, আসমাউল হুসনা পাঠ করা, ক্বারিন শয়তান থেকে বেঁচে থাকার দোয়া এবং
মিনিমাম এক মিনিট হলেও
দৈনিক ক্বলবী যিকির করা। এছাড়াও কিছু
গোপন আমল রয়েছে, যা
শুধুমাত্র যোগ্য মুরীদদের শিক্ষা দেওয়া হয়।
ত্বরীকাহ আল-রাজ এ বিশ্বাস
করে, নূরই
হেদায়াতের উৎস। ইবলিশ ও ক্বারিন নার দ্বারা পুষ্ট হয়, আর নূর
তাদের ক্ষয় করে। তাইক্বলবী
যিকির, ইস্তিগফার
ও তাজকিয়ার মাধ্যমে ক্বলব
ও নফছ যখন নূরে পূর্ণ হয়, তখন সে ইবলিশ ও ক্বারিন ১০০% হেফাজতে থাকে।এই ত্বরীকাহ
একজন মুরীদকে শুধু নামাজি বা রোযাদার বানায় না; বরং এমন একজন বান্দায় পরিণত করে, যার ক্বলব
সর্বদা মহান আল্লাহ
তা’য়ালার
যিকিরে প্রাণবন্ত
থাকে এবং সত্যিকারের “শাকের” বান্দায় পরিণত হয়। এভাবেই
ত্বরীকাহ আল-রাজ ইবলিসের একমাত্র চ্যালেঞ্জঃ “আপনি তাদের অধিকাংশকে শাকের হিসেবে পাবেন না” তার ঐ চ্যালেঞ্জের
জবাব দেয়।
আর এটাই “ত্বরীকাহ আল-রাজ” এক নূরের সফর, আলমে নাছুৎ থেকে আলমে আহদিয়াত
পর্যন্ত।
চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়ার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে
জুমার নামাজের খুতবার সময় খতিব মাওলানা আ.ন.ম. নূর রহমান মাদানীকে কুপিয়ে গুরুতর
আহত করেছে এক উগ্র মাজারপূজারী। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার, নামাজের খুতবার সময়। হামলাকারী বিল্লাল হোসেনকে
তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে স্থানীয় মুসল্লিরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বর্তমানে আহত খতিবকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খতিব মাওলানা নূর রহমান মাদানী চাঁদপুর সদর
উপজেলার দক্ষিণ গুনরাজদির বাসিন্দা ও উক্ত মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম। অন্যদিকে, আটক হওয়া হামলাকারী
মো. বিল্লাল হোসেন শহরের বকুলতলা এলাকার বাসিন্দা এবং উগ্র মাজারপূজার মতাদর্শে
বিশ্বাসী বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এম ডি লোকমান, নামের আরেক উগ্রপন্থী ছ্বলাফি ছেলে টেলিগ্রামের একটি
চ্যানেলে কমেন্ট করেছেঃ যে কুপাইছে এটা এক শিন্নিখুর মাজার পুজারি সন্ত্রাসী, ইমাম
সাহেব মদিনা ভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েট করা, একজন খতিবকে এই মাজার পূজারি সিন্নিখুর
হত্যার উদ্দেশ্য হামলা করেছে।
আসলে দোষটা উঠতি বয়সের মুছলিম দাবিদার জাহিল পোলাপান এর নয়,
দোষ হলো ভাড়াটিয়া মুল্লা, সোশ্যাল মুল্লা, টেলিভিশন মোল্লাদের।এরা হুব্বে রছুলে পাক
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তো দূরের বিষয়, আদব টাও শিখায়নি।
ওহাবি, ছ্বলাফি দেওবন্দী ঘরানার অধিকাংশই গোস্তাখ, বে আদব
জাহিল, দেওবন্দী কম, তবে ওহাবী ছ্বলাফিরা বেশি। এরা
কেবল আবিদ বানানোর ব্যবসায়ী হয়েছে, অথচ তারাও জানে সবচেয়ে বড় আবিদ ছিলো আযাযিল, যে
বুগজে আদম য়ালাইহিছ ছালামে লানতুল্লাহ হয়ে গেছে তার বে আদবির ফলে। তার ইবাদত তাকে রক্ষাই করতে
পারেনি।অথচ
ফুজায়েল বিন আয়াজ রহমতুল্লাহ নামক একসময়ের খুনি, ডাকাত সর্দার সাইয়্যিদুল আশিক হয়ে গেছেন উনার হুব্বে
রছুলে।
দেওবন্দি মুফতি মারুফ কাসেমি, প্রধান মুফতিঃ মারকাযুল কুরআন
আস ছুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসা মিরপুর।দাওরায়ে হাদীস ও তাখসিস ফিত তাফসীর, আল জামিয়াতুল আহলিয়া
দারুল উলম মইনুল ইসলাম হাটহাজারি মাদ্রাসা। তিনি উনার ফেইসবুক পোষ্টে
লিখেছেনঃ “উনি একজন লা-মাযহাবী শায়খ নামের ফেতনাবাজ, হামলা যে করেছে, সে অপরাধ
করেছে, তবে, একটা বিষয় জেনে অবাক হলাম, হানাফি মসজিদ কে লা-মাযহাবী মসজিদে
রুপান্তরিত করেছে, এই লা-মাযহাবী শায়খ, বিস্তারিত ভিডিও আকারে প্রকাশ করবো
ইনশাআল্লাহ”।
কথা হলো দেওবন্দীরা কি ছুন্নী? মাজারপন্থী? মিলাদ পন্থী?
না, মুফতির বক্তব্য কি? যে শাতিম ইমামকে মারা হয়েছে সে ফেত্নাবাজ। আর আল্লাহ পাক আল কুরআন বলেছেনঃ (وَٱلْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلْقَتْلِ) আর ‘ফিতনা’ তো হত্যার চেয়েও
জঘন্য। (২/১৯১) (وَٱلْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ ٱلْقَتْلِ) ফিতনা তো হত্যার চাইতেও
বড়।
(২/২১৭)
এবার আসি শাতিমের সহযোগীদের থেকে একজন ছুপা শাতিমের বিষয়ে,
যে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার ফেইসবুকে একটা পোষ্ট দেয়।
ডঃ মেহেদি হাসান নামের এক লোক যে (ICU In-Charge at
Popular Medical College & Hospital) সে তার তার ফেইসবুকে একটা পোষ্টে বলেছে, “এই
লোক কাল এক ইমামকে কুপিয়েছে নবীজির নামে কটুক্তি করার অভিযোগে। ইমাম সাহেবের দোষ, তিনি মিলাদকে
বিদয়াত বলেন। বলেছেন,
নবীজির কাছে চাওয়া যাবে না, সরাসরি আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। নবীরা হলেন আল্লাহর বার্তাবাহক বা
পিওন। শব্দচয়নে
সতর্ক হওয়া দরকার ছিলো - কিন্তু এখানে হেয় করা উদ্দেশ্য ছিলো না। এটুকু বলার কারণে এই হামলা করলো।এই লোকটা তথাকথিত সুন্নি - যখন
শাতিমরা নবীজির নামে জঘন্য কটুক্তি করে তখন এদের কোন খোঁজ থাকে না। থাবা বাবা, রাখাল রাহা, গালিবরা
যখন কটুক্তি করে তখন এরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। এদের তলোয়ার কেবল ওহাবিদের গর্দান
পাইলেই গর্জে ওঠে।
এই হলো ডঃ মেহেদি হাসান এর বক্তব্য।
এখন একিই কথা যদি কোন কাফের বলতো তাহলে দেখা যেত সারা দেশ
উথলে উঠছে শাতিমের ফতোয়া দিয়ে।অথচ একজন কাফের এর পক্ষে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার শান মান জানার প্রশ্নই আসেনা, যার
ইলম নাই তাকে করা হয় তাকফির, আর যার আছে তার ব্যাপারে হিকমাহ।মুছলমান জানেওনা কখন কোথায় কার
পক্ষে কার বিপক্ষে দাড়াতে হয়।ঐ ইমামের পক্ষে না দাড়ালেও কারো ঈমান যাবেনা, কিন্তু
আল্লাজীর নিকট যদি এই কাম গোস্তাখি হয়, তাহলে যারা দাড়ালো তাদের তখন কি হবে? ব্যাপার তো নাস্তিকদের মতই হয়ে গেলো, অথচ মুমিন থাকবে রিক্স ফ্রি।
ডঃ মেহেদি হাসান বলেছে, ইমাম সাহেবের দোষ, তিনি মিলাদকে বিদয়াত
বলেন, নবিকে পিয়ন বলেন। একারণে কি শাতিম হয়ে যাবেন? চিন্তা করা যায়, ডঃ মেহেদি
হাসান নামের কবিরাজ যখন ডাক্তারি ছেড়ে আহলে জিকির সাজে তখন দ্বীনের কয়টা বাজে?
তাদের জানা না জানায় আমাদের কিছুই আসে যায়না, তবে যে ইমাম
রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লামকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার
বিপরীতে পিয়ন বলে সে নিস্বন্দেহে শাতিম। মহান আল্লাহ পাক যখন রছুলে পাক
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে ডাকতেন, তখন (يَا سَاعِي) হে পিয়ন বলে সম্বোধন
করতেন?
আচ্ছা পিয়ন বাদ দিলাম, আল-কুরআনে
মহান আল্লাহ তা’য়ালা
কি সরাসরি ‘মুহাম্মাদ’ নাম ধরে রছুলুল্লাহ
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম-কে কখনো ডেকেছেন?
উত্তরঃহচ্ছে না, যদিও কুরআন
শরীফে চারটি স্থানে মহান আল্লাহ তা’য়ালা “مُحَمَّدٌ” (মুহাম্মাদ) নাম উল্লেখ
করেছেন, তবে
কোথাও সরাসরি সম্বোধনের (নিদা/ডাক দেওয়ার) অর্থে “ইয়া মুহাম্মাদ” বলেননি। বরং
লক্বব বা মর্যাদাপূর্ণ পদবী দিয়ে সম্বোধন করেছেন।
সেই চারটি আয়াত যেখানে ‘মুহাম্মাদ’ নাম মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যবহার
করেছেন সেগুলো হলোঃ
২. (وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ اٰمَنُوۡا بِمَا نُزِّلَ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّ هُوَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّهِمۡ ۙ كَفَّرَ عَنۡهُمۡ سَیِّاٰتِهِمۡ وَ اَصۡلَحَ بَالَهُمۡ) মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাদের সব গুনাহ খাতা
মাফ করে দেবেন এবং তাদেরকে সংশোধন করে দেবেন যারা মুমিন ও ছ্বলেহ বান্দা হয়েছে, আর
মুহাম্মাদ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার উপর যা কিছু নাজিল করা
হয়েছে তাহার উপরও ঈমান এনেছে কেননা এটা একান্তভাবেই তাদের মালিকের পক্ষ থেকে আসা
সত্য।(ছুরা কিতাল৪৭:২)
৩. (مُحَمَّدٌ رَّسُوۡلُ اللّٰهِ ؕ وَ الَّذِیۡنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَی الۡكُفَّارِ) মুহাম্মাদ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রছুল; আর যাঁরা উনার সঙ্গে রয়েছেন, উনারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর।সুরা
আল-ফাতহ (৪৮:২৯)
৪. (مَا كَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِكُمۡ وَ لٰكِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰهِ وَ خَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا) মুহাম্মাদ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তোমাদের
পুরুষদের কারোরই পিতা ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রছুল এবং
খতামুন নাবিয়্যিন। আর
মহান আল্লাহ তা’য়ালা সকল বিষয়ে অবগত। (ছুরা আল-আহযাব ৩৩:৪০)
শুধুমাত্র এইসব আয়াত দিয়ে ধরলেও ঐ মুল্লার কাজ শেষ হয়ে
যায়, মুল্লা নবিজী ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে পিয়ন বলে,
চিন্তা করা যায়? ধরেন আবুল খায়ের গ্রুপ বাংলাদেশের দ্বিতীয় শীর্ষ কোম্পানি ধরা
যায়, যার মালিক বর্তমানে আবুল কাসেম আর এমডি আবুল হাশেম। মুহাম্মাদ তৌহিদ হোসেন গ্রুপের একজন
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন তিনি যদি ওয়ার্কারদের বলেন তোমাদের দাবী দাওয়া
যা আছে মালিক আবুল কাসেমের নিকট বলবে, এমডি আবুল হাশেম তো একজন পিয়ন। এখন মালিক আবুল কাসেম আর এমডি আবুল
হাশেম এটা শুনলে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে কি প্রমোশন দিবেন? উনাকে কি একারণেই উপদেষ্টা
বানানো হয়েছে? যে এমডিকে পিয়ন বলে পরিচয় দিবেন?
যাইহোক, মহান আল্লাহ পাক মুহাম্মাদ নাম ধরে
কোথাও "يَا مُحَمَّدُ" বলেওডাকেননি। বরং, যখন ডাকার প্রয়োজন হলো তিনি
ডাকলেনঃ
১. یٰۤاَیُّهَا الرَّسُوۡلُ– হে রছুল!
মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (یٰۤاَیُّهَا الرَّسُوۡلُ بَلِّغۡ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡكَ مِنۡ رَّبِّكَ) হে রছুল ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট যা নাযিল
করা হয়েছে, তা পুরোপুরি পৌঁছে দিন। (ছুরা আল-মায়েদাহ – ৫:৬৭)
মহান আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ (یٰۤاَیُّهَا الۡمُدَّثِّرُ قُمۡ فَاَنۡذِرۡ وَ رَبَّكَ فَكَبِّرۡ) হে বস্ত্রাবৃত মাহবুব! আপনি (মানুষকে) সতর্ক করার জন্যে উঠে পড়ুন। আর আপনার প্রতিপালককে সর্বশ্রেষ্ঠ
বলে ঘোষণা করুন।
(ছুরা আল-মুদ্দাস্সির – ৭৪:১–২)
চিন্তা করুন, মহান আল্লাহ তা’য়ালা এইভাবেই সম্মানসূচক লক্বব
দিয়ে সম্বোধন করেছেন উনার হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে।মহান আল্লাহ তা’য়ালা কুরআন শরীফে
চারবার ‘মুহাম্মাদ’ নাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু একবারও ‘يَا مُحَمَّدُ’ বলে সম্বোধন করেননি।বরং সবসময় সম্মানসূচক লক্বব
ব্যবহার করে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে সম্বোধন
করেছেন, যা উনার সর্বোচ্চ মর্যাদা ও আখলাকের প্রতি ইঙ্গিত করে।
এর পিছনে হাক্বিকতঃ ইমাম ইবনু কাসীর রহমতুল্লাহ সহ অন্যান্য
তাফসিরকারগণ বলেন, “মহান আল্লাহ তা’য়ালা নবীজিকে কখনো নাম ধরে সম্বোধন করেননি, কারণ
‘নাম ধরে ডাকাতে আদব ও সম্মান কমে যেতে পারে, বরং মহান আল্লাহ তা’য়ালা সম্মান প্রদর্শনের
জন্য লক্বব দিয়ে সম্বোধন করেছেন।” (তাফসীর ইবনু কাসীর, সূরা তাওবা ৯:১২৮, সূরা আহযাব)
আর এই শয়তান ইমাম নাকি মদিনা ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রী
নিয়ে ইমাম হয়ে এসেছে, অথচ সে কীভাবে রহমাতাল্লিল য়া’লামিন উনাকে সম্বোধন করতে হয়
শিখেনাই। মহান
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (لَا تَجۡعَلُوا۟ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيۡنَكُمۡ كَدُعَآءِ بَعۡضِكُم بَعۡضٗا) তোমরা রছূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে
ডাকার পদ্ধতিকে একে-অন্যকে ডাকার মতো সাধারণ করে তুলো না। (আল কুরআন ২৪/৬৩)
ভিডিওর বক্তব্যে আমরা শোনতে পাচ্ছি যে, আক্রমণকারী উম্মতের
দাবী হচ্ছে সে মিলাদ শরীফ বিদআত ও নবীজিকে পিয়ন বলা হয়েছে কি না, হলে কিজন্য তার
ব্যাখ্যা জানতে চাইছিলো, কিন্তু মসজিদ কমিটি তাকে সেটার সুযোগ দেয়নি। তাহলে এই
ঘটনার জন্যে মূল দায়ী হলো ঐ কাল্প্রিট ইমাম ও মসজিদ কমিটি, ওয়াজ করবে মানুষের
উদ্যেশ্যে আর মানুষ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চাইলে দিবেনা? এটা তো হবেনা।
অতএব হামলাকারী ও ইমামের অনুসারীদের দাবী অনুসারে এমনকি তার
নিজের বক্তব্য অনুসারে এটা প্রমাণিত সে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি
ওয়া ছাল্লামকে পিয়ন আর আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে মালিক হিসেবে তুলনা করেছে, এরূপ তুলনাই
গোস্তাখি যখন কেউ জেনে শোনে করে, এবং তার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে সে নিজের মুখেই
বলছে আমি এটা বলেছি, ফলে সে শাতিম বলে গন্য হয়েছে, আর শাতিম এর একমাত্র শাস্তি
শরিয়ত অনুসারে কতল করা খিলাফতের খলিফার অধিনে। এখন তো খিলাফত নাই মানুষ কি করবে?
কিতাবঃ আশ-শিফা – ক্বাযী ইয়া’য রহমতুল্লাহ বলেন, “যদি কেউ
এমন কিছু বলে যা নবুয়তের সম্মান ও মর্যাদাকে হ্রাস করে, তবে তা স্পষ্ট গোস্তাখি ও
কুফরি কথা।
কিতাবঃ আস-ছারিমুল মাসলূল – ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, “নবীকে
এমনভাবে তুলনা করা যা উনার মহান মর্যাদার বিরুদ্ধে যায় – তাতে তাওবা করলেও তাকে
হত্যা করা বৈধ”।
এখন একজন উম্মত, আশিকে রছুলের সম্মুখে যদি কেউ গোস্তাখী
করে তাহলে সে কি করবে?
আমার মতে আম পাবলিক/অমুছলিম হলে তাকে প্রথমে সুন্দর করে
শানে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বুঝাবে। যদি বুঝানোর
পরেও গোস্তাখী করে, শাতিম হয়, তাহলে তাকে শাস্তি দিতে চাইলে দেশি আইনে যে বিচার
হবে ঐ শাস্তির বিপরীতে সেটা মেনে নেওয়ার মতো কলিজা নিয়েই শাস্তি দিতে হবে। আম
পাবলিকের বেলায় বুঝানোর সাবজেক্ট থাকলেও কোন ছ্বলাফি, দেওবন্দি য়া’লীমের বেলায়
বুঝানোর কিছুই নাই, হয় শাস্তি দিবে, ক্ষমতা না থাকলে ছ্ববর।
আচ্ছাহ, চিন্তা করা যায়? মহান আল্লাহ পাক বললেন হাবিব আমি
যেখানে রব্বুল য়া’লামিন (اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ) (আল কুরআন ১/১) আপনি সেখানে রহমাতাল্লিল য়া’লামিন (وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰكَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ) (আল কুরআন ২১/১০৭)।ছ্বহাবিদের বললেনঃ (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقُوۡلُوۡا رَاعِنَا وَ قُوۡلُوا انۡظُرۡنَا وَ اسۡمَعُوۡا ؕ وَ لِلۡكٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ) হে মু’মিনগণ! তোমরা (নবীজিকে
উদ্দেশ্য করে) “রঈনা” (আমাদের দিকে তাকাও) বলো না, বরং বলো, “উনজ্বুরনা” (আমাদের দিকে
নজরে করম ফরমান)আর
মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন।আর
কাফেরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (আল কুরআন ২/১০৪)
এক ছ্বহাবি একদিন মসজিদে নববিতে নামাজ পড়ানোর সময় কিবলার
দিকে থুতু ফেলে, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম দেখে তার
পিছনে নামাজ নিষিদ্ধ করে দিলেন। (আবু দাউদ শরীফ, হাদিছ নং ৪৮১ আন্তর্জাতিক)
মিশকাতুল মাছাবিহ-এর ৭৮৭ নং হাদিছে বলা হয়েছে ঐ ইমাম রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে কষ্ট দিয়েছে।
মাকামে মুহাম্মদ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লাম, যে কিবলার চেয়েও বড় এটা আজকের মদিনা ইউনিভার্সিটির ডিগ্রীপ্রাপ্ত
গোস্তাখেরা কি বুঝবে? যে বলদেরা ছাফাই গাইছে তারা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার যামানায় থাকলে বলতো ঐ ইমাম তো থুতু ফেলানো গোস্তাখী, কষ্টের কারন তা জানতোনা, তার ইমামতি বাতিল করা ঠিক হয়নি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের, নাউযুবিল্লাহ।
আসলে আমাদের মসজিদ মাদ্রাসায় মুফতি মাসুদ, ইমরান বিন
বশিরের মতো দেওবন্দি, ছ্বলাফি গোস্তাখেরা সারাজীবন ইমামতি করে একসময় কেন নাস্তিক
হয়ে যায় আমরা কি তা বুঝি? কেননা তারা শানে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়া ছাল্লাম বুঝেনা।
ঐ মসজিদ কমিটি আর জনতাগুলির ঈমান যে চলে গেছে এরা নিজেও
জানেনা। আবূ
হুরাইরাহ রদ্বিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রছূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ সেই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কছম, যাঁর হাতে আমার
প্রাণ, তোমাদের কেউ (ততক্ষণ পর্যন্ত) প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত
আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই। (বুখারি শরীফ ১৪, ১৫, ১৬)
পরিশেষেঃ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا) নিশ্চয়ই রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম
উনার মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ সেই ব্যক্তির জন্য, যে মহান আল্লাহ
তা’য়ালার সাক্ষাৎ ও আখিরাত দিবসে সফলতা লাভের আশা রাখে এবং অধিক পরিমাণে মহান
আল্লাহ তা’য়ালার জিকির করে। (সূরাহ আল-আহযাব ৩৩:২১)
জানার বিষয় হলো, আল্লাহ পাক কি পিয়নের মধ্যে, পিয়নের জীবন
সমস্ত মানুষের জন্যে আদর্শ বলেছেন? পিয়নের জীবন আদর্শ হয়? পিয়ন আদর্শের মাপকাঠি? মহান আল্লাহ
পাক রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার শান মান বোঝাতে
চাচ্ছেন খুলে খুলে, আর জানোয়ারগুলি নাস্তিকদের সহযোগিতা করছে ইহানত করাতে।