Monday, December 5, 2022

 দ্বীন ইসলামে বাইয়াতের গুরত্ব এবং কার হাতে বাইয়াত হওয়া ফরজ?

দ্বীন ইসলামে বাইয়াতের গুরত্ব এবং কার হাতে বাইয়াত হওয়া ফরজ?


সোজা ভাষায় খিলাফত বিদ্যমান থাকলে আমিরের নিকট বাইয়াত করা ফরজ। পিরের বাইয়াত যদিও ফরজ নয় তবে তা যায়েজ, মুস্তাহাব। কিন্তু অনেক ধর্মব্যবসায়ী পির নিজেদের ব্যবসাকে আজকাল টিকিয়ে রাখতে দ্বীনের মূল বাইয়াতের কনসেপ্টই পরিবর্তন করে দিয়েছে মুরিদ-দের নিকট, আর ব্রেইন ওয়াশ মুরিদেরাও তা চোঁখ বোঝে গিলতেছে স্বজ্ঞানে অজ্ঞানে। অথচ কেউ চাইলেই আমিরের আনুগত্য থেকে বের হতে পারবেনা যতক্ষণ না আমির কোন কুফরী কাজের নির্দেশ দিবেন। যদি কেউ বের হয়, বিদ্রোহ করে, তাহলে সে জাহেলিয়াতের উপর মারা যাবে। কিন্তু কেউ চাইলেই পির পরিবর্তন, পরিত্যাগ করতে পারবে, পিরের থেকে কুফরি হুকুম পাওয়া বাধ্যতামূলক না। যেমনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ (مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ حُجَّةَ لَهُ وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً) যে (মুসলিম) আমীরের বায়'য়াত থেকে (নিজের) হাত গুটিয়ে নিবে, সে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তা'আলার সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, তার (মুসলিম হওয়ার আদতে) কোন দলীলই থাকবে না (তার নিকট)। আর যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল অথচ তার ঘাড়ে বায়'আত এর কোন বন্ধন নেই, তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়্যাতের উপর। নাউযুবিল্লাহ (মুসলিম শরিফ ১৮৫১এ, মিশকাত শরিফ ৩৬৭৪, রিয়াদ্বুছ স্বলেহীন ৬৬৪)

অতএব ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী পিরদের মূর্খ মুরিদগুলি ব্রেইন খাটায় না, বুঝতে চায়না যে, একটি এলাকায় যখন ইসলামিক খিলাফত কায়েম হবে, সেখানে যখন একজন আমির নির্ধারিত হবেন তখন ঐ এলাকার সকল পিরের উপর সেই আমিরের বাইয়াত ফরজ হয়ে পড়ে মুরিদ সহ। এখন কলিজায় আঘাত লাগা ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী পিরদের মূর্খ মুরিদগুলির মধ্যে থাকা কিছুটা জ্ঞানিদের নিকট প্রশ্নের উদয় হতে পারে যে এর দলিল কি? প্রমান কি? তাদের জন্য দলিল হলোঃ আবদুল্লাহ ইবনু আমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করিম ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি (মুসলিম মিল্লাতের) একজন ইমামের হাতে হাত রেখে অন্তর থেকে তার বাইয়াত গ্রহণ করে, তখন তার যথাসাধ্য আনুগত্য করা ওয়াজিব। (আর) যদি অন্য কোন ব্যক্তি এসে ঐ ইমামের সাথে ঝগড়া করে তবে তোমরা তার ঘাড়ে আঘাত করো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, একথা কি আপনি রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন? তিনি বললেন, আমার দু’টি কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে। আমি বললাম, এই যে তিনি আপনার চাচাতো ভাই মুআবিয়াহ, তিনি আমাদেরকে এই এই কাজ করার আদেশ করেন। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যে তোমরা উনার আনুগত্য করো আর মহান আল্লাহ তা'আলার নাফরমানীতে উনার আনুগত্য করো না। (আবু দাউদ শরীফ ৪২৪৮) পাঠক এইখানে মনযোগ দিন, কিছু ব্যক্তি আমিরে মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাইয়াত গ্রহণ করেন, যাদের কোন কাজের আদেশ তিনি দিয়েছিলেন যা ঐসব সাহাবিদের পছন্দ হয়নি, তখন উনারা আবদুল্লাহ ইবনু আমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে এই ব্যপারে অভিযোগ করলে উনি তাদের মহান আল্লাহ পাকের দিকে রুজু করে দেন, কারনঃ রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল মুসলমানের জন্য তাদের আমিরের কথা শোনা ও আনুগত্য করা ওয়াজিব, তা হোক তার পছন্দের বা অপছন্দের, তাকে যতক্ষন পর্যন্ত কোন হারাম কাজের নির্দেশ না দেয়া হবে। যদি তাকে কোন হারাম কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়, তাহলে তা শুনা এবং মানা তার উপর ওয়াজিব নয়। (বুখারি শরীফ ২৯৫৫, ৭১৪৪, তিরমিযি শরীফ ১৭০৭)

উপরোক্ত হাদিস শরীফ থেকে পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেলো যে মুসলিম মিল্লাতের আমীর মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ইল্মে তাসাউফ অর্জনের জন্য পির হিসেবে কেউ বাইয়াত নেন নাই, বরং আমীর হিসেবেই বাইয়াত নিয়েছিলেন সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগন। আর এটাই ফরজ বাইয়াত যেখানে মুসলিম মিল্লাতের আমিরের হাতে ঐ এলাকায় থাকা কোটি কোটি মুরিদের যদি হাজার হাজার পিরও বিদ্যমান থাকেন। বিষয়টা আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে এই হাদিসের দ্বারা। "ইরবাদ বিন সারিয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ একদিন রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় আমাদের নসীহত করেন, যাতে আমাদের অন্তরসমুহ ভীত হলো এবং চোখগুলো অশ্রু বর্ষণ করলো। উনাকে বলা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম! মনে হচ্ছে বিদায়কালীন উপদেশ দিচ্ছেন? অতএব আমাদের নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করুন (একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দিন)। তিনি বলেনঃ তোমরা আল্লাহ্ভীতি (অর্থাৎ তাক্বওয়া পহেজগারিতা) অবলম্বন করো, শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো (আমিরের-আদেশ), যদিও সে আবিসিনিয়ান (কাফরী) গোলাম হয়। (সূনান ইবনে মাজাহ ৪২, তিরমিঝি শরীফ ১৭০৬, ২৬৭৬, রিয়াদুস স্বলেহীন ১৫৭, ৭০১) আহ কি একটা অবস্থা ভাবা যায়? শ্রবণ করো ও আনুগত্য করো (আমিরের-আদেশ), যদিও সে আবিসিনিয়ান (কাফরী) গোলাম হয়। কোন পিরের নয়।

কি হে ধর্মব্যবসায়ী ভন্ড পিরদের মূর্খ মুরিদেরা ব্যথা লাগে? কষ্ট হয়? কিছুই করার নাই, দ্বীন এমনই, হক্ব যখন বাতিলের সম্মুখে উপস্থাপিত হয় তখন তাদের প্যাট খারাপ, প্যান্ট খারাপ হয়।

এদিকে আবার পেট্রো-ডলারে লাক্সারিয়াস জীবনযাপনকারি ওহাবি, সলাফি, লা মাজহাবী হয়তো খুশিতে বাক-বাকুম হয়ে যাচ্ছে ধর্মব্যবসায়ী ভন্ড পিরদের ব্যবসায় দলীল ভিত্তিক পানি ফেলায়। তোদের খুশী হওয়ার কিছুই নাই হে লুসিফারের দালালেরা। তোরা উভয় দলই ইহুদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তোরা যে ইসলামিক খিলাফত ও ফরয বাইয়াতের ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত অবস্থান করছিস তা এখন সকল ইসলামিক জ্ঞানে গুণান্বিত ব্যক্তিরা জানে। ইহুদীরা ইসলামিক খিলাফতের বাইয়াতকে বিলীন করতে ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী পিরদের দিয়ে পিরের বাইয়াত ফরয নামক প্রোপাগান্ডা চালায়, আর তোদের দিয়ে খোদ খিলাফত, বাইয়াত জ্বিহাদের সরাসরি বিরোধিতা করায় যেনো মুসলিম সমাজ আর কোনোদিন ইসলামিক খিলাফতের স্বাধ ভোগ করতে না পারে, আর ইহুদীরা ইসরায়েল আমেরিকায় বসে কুফুরিতন্ত্র দিয়ে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রন করে, তাদের গোলামি করায়। কিন্তু তোদের জানা থাকা প্রয়োজন যে একদল মানুষ সব সময় সঠিক দ্বীন ইসলামের উপর ইস্তিকামত থাকবে। "তারা সর্বদা দ্বীনের জন্য জ্বিহাদ করতে থাকবে। (নাসাঈ শরীফ ৩৫৬১) মূলত এদের কারনেই (মুসলিমদের মূল গুরুত্বপূর্ণ দুটি জিনিস আজ ইহুদি নাসারা ও মুশরিকদের দখলে।) আর এই তোরা যে কত বড় মুনাফিকে আযম তা বলে বোঝানো যাবেনা, তোরা সব সময় আহলে সুন্নতের দাবীদার সুন্নীদের বিভিন্ন কাজকে বিদআত বলে গলাবাজি করিস, তোরা দলিল হিসেবে উপস্থাপন করিসঃ (كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ) সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়ই (হচ্ছে) বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। (নাসাঈ শরীফঃ ১৫৭৮) অথচ একীই বিদআত সম্পরকে বর্ণিত হাদিসের কেবল একাংশের উপর আমল করিস, ব্যপারটা কি? ইহুদীদের খুশি করা? যারা টুকরো টুকরো করে দিয়েছে দ্বীন ইসলামকে, যার ধ্বংস্তুপে আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি!!!

এবার দেখি বিস্তারিত হাদিসে পাকে কি বলা হয়েছেঃ (حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي الْمُطَاعِ، قَالَ سَمِعْتُ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّم ذَاتَ يَوْمٍ فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً وَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ وَذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ فَقِيلَ يَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّم وَعَظْتَنَا مَوْعِظَةَ مُوَدِّعٍ فَاعْهَدْ إِلَيْنَا بِعَهْدٍ فَقَالَ ‏ "‏ عَلَيْكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا وَسَتَرَوْنَ مِنْ بَعْدِي اخْتِلاَفًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَالأُمُورَ الْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ) আবূ নাজীহ্ আল-'ইরবাদ ইবনু সারিয়াহ্ রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় নসীহত করেন, যাতে আমাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে এবং আমাদের চোখে পানি এসে যায়। আমরা নিবেদন করিঃ রসুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম! (এটা) মনে হচ্ছে বিদায়কালীন উপদেশ; আপনি আমাদেরকে অসীয়ত করুন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহ তা'আলাকে ভয় (তাক্বওয়া অর্জন) করতে অসীয়ত করছি, আর আনুগত্য দেখাতে অসীয়ত করছি; যদি কোন (হাবশি) গোলামও তোমাদের আমীর হয় তবুও। (আর) তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা (আমার দুনিয়া থেকে বিদায়ের পর, দ্বীনে) অনেক মতবিরোধ (ইখতেলাফ) দেখবে; সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নত তরীকা মেনে চলবে, (আর) তা দাঁত দিয়ে (অর্থাৎ খুব শক্তভাবে) আঁকড়ে ধরে থাকবে; আর (দ্বীনে) নব উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান থাকবে, কারণ প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়ই হচ্ছে বিদ'আত, (আর) প্রত্যেক বিদ'আতই হচ্ছে গোমরাহী”। (সূনান ইবনে মাজাহ শরীফ ৪২)

মুনাফিকেরা তোরা বল এই হাদিসে বিদআতের সাথে আমিরের বাইআত, আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি?

হে দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, একজন মানুষ আত্মশুদ্ধির জন্য একজন হাক্বানি পিরের বাইয়াত হতেই পারে, এতে কোন দোষ নাই, কিন্তু এর মানে এই না যে, সেই পিরের বাইয়াত দিয়ে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে সেই বাইয়াত থেকে, যে বাইয়াত দিয়ে আমীর নির্ধারিত হয়ে থাকে জমিনে দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্টা ও পরিচালনার জন্য। উদাহরণস্বরূপ এইযে (হিন্দু ইউএনও রুলী বিশ্বাসকে সালাম না দেওয়ায়, খতিবকে ‍‍‍ছাগল-বেয়াদব বলে অপমান! করা হলো) কোন পির তার মুরিদ নিয়ে দরবার ছেঁড়ে প্রতীবাদে উপজেলা, থানা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অভিমূখে প্রতিবাদী যাত্রা করেনাই। আজ ইসলামিক খিলাফত থাকলে মুসলিম মিল্লাতের সর্বচ্চো সম্মানিত ব্যক্তি ইমাম/খতিবের এই অপমানে নগদে ব্যবস্থা নিত অরিজিনাল বাইয়াত ও ইসলামিক ইমারত প্রতিষ্টিত থাকলে, আর ঐচ্ছিক পির মুরিদির বাইয়াত কখনো এইসবের ব্যবস্থা নিবেনা, নিতে পারবেওনা, কারন আজকে যে মুসলমান সারা দুনিয়ায় নির্যাতিত হচ্ছে এর মূল কারন জমিনে ইসলামিক খিলাফত বিদ্যমান নাই, মুসলমানদের কোন আমীর নাই, অথচ লাখ লাখ ধর্মব্যবসায়ী ভন্ড পির বিদ্যামান যারা নিজের মুরিদ কাষ্টমার ব্যতীত অন্য কোন ধর্মব্যবসায়ী ভন্ড পিরের কাষ্টমার মুরিদের দিকে ফিরেও তাকায় না দুঃখ, কষ্ট, আর অনাহারে দিন কাটালেও। অথচ মুসলিম মিল্লাতের বাইয়াত গ্রহণকারী দ্বিতীয় খলীফা উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন (قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه لَوْ مَاتَتْ شَاةٌ عَلَى شَطِّ الْفُرَاتِ ضَائِعَةً لَظَنَنْتُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَائِلِي عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ) আমার শাসনামলে ফুরাতের তিরে যদি একটি ছাগল ও অনাহারে মারা যায় তাহলে কিয়ামতের ময়দানে আমাকে মহান আল্লাহ তাআলার নিকট এর জবাবদিহিতা করা লাগবে বলে মনে করি। (হিলিয়াতুল আউলিয়া ১৩৭) এই হলো ধর্মব্যবসায়ী ভন্ড পির আর ইসলামিক খিলাফতের আমিরের নিকট বাইয়াতের তফাৎ।

এবার আসুন কুর'আন সুন্নাহ'র আলোকে জেনে নেই বাইয়াতের ব্যাখ্যা, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।

পৃথিবীর কোথাও যদি কোন মুসলিম জামা'আত (যারা রিয়েল আহলুস সুন্নাহ) কোন কুরাইশী মুমিনকে খলীফা হিসেবে নির্বাচন করে, উনার হাতে বায়‘আত করা তখন সকল পিরের জন্য মুরিদ সহ ওয়াজিব, মুসলিম মিল্লাতের জন্যেও ওয়াজিব। কিন্তু কুরাইশী পাওয়া না গেলে বাইরের কাউকেও যদি মুসলিম জামা'আত (যারা রিয়েল আহলুস সুন্নাহ) আমীর হিসেবে মনোনিত করেন, তখন উনার হাতেও বায়‘আত করতে হবে। কারন রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا) আর আনুগত্য দেখাতে অসীয়ত করছি; যদি কোন (হাবশি) গোলাম ও তোমাদের আমীর হয় তবুও। (সূনান ইবনে মাজাহ শরীফ ৪২) উক্ত হাদিস দ্বারা ইহা প্রমাণিত।

খিলাফতের পতনের পর জাহেলী রাজনীতির কবলে অধিকাংশ মুসলিম দেশ আক্রান্ত হয়ে আছে। মুসলিমদের বিরাট একটি অংশ জাহেলী রাজনীতিকে গ্রহণ করে নিয়েছে দুনিয়া পরিচালনার জন্য। অন্যদিকে ক্ষুদ্র একটি অংশ বিদ'আতী রাজনৈতিক দল গঠন করে আন্দোলন করে আসছে দ্বীন কায়েমের আশায়। ফলে কাঙ্খিত ইসলামিক খিলাফত, এমনকি কোন রাষ্ট্রে শরীআহ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তারা আজ পর্যন্ত পায়নি। ইবলিসের ধোঁকায় পড়ে সিয়াসাহ শারঈয়্যাহ বা শারঈ রাজনীতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকাও তাদের ব্যর্থতার বড় একটি কারণ। শারঈ রাজনীতির তিনটি ধারাবাহিক পর্যায় জানা অতীব জরুরী।

প্রথমতঃ মহান আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত দান। কোন দল, গোষ্ঠী, জাতির দিকে নয়। কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর দাওয়াত মানুষের সামনে উপস্থাপন করা।

দ্বিতীয়তঃ বায়'আতের মাধ্যমে কাঙ্খিত খিলাফত গঠন করে খলীফাতুল মুসলিমীন/ইমামুল মুসলিমীন/আমীরুল মুমিনীন-এর আনুগত্য করা। আর তা সম্ভব না হলে কোন রাষ্ট্রেও যদি শরীআহ প্রতিষ্ঠা করা যায় সে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক তবে তা কোন কুফরি পন্থায় নয়।

তৃতীয়তঃ রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী শরী'আতের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা।

কারন মহান আল্লাহ পাক আল কুরআনে এটাই বলেছেনঃ (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَ اُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ تَنَازَعۡتُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ فَرُدُّوۡهُ اِلَی اللّٰهِ وَ الرَّسُوۡلِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ ذٰلِکَ خَیۡرٌ وَّ اَحۡسَنُ تَاۡوِیۡلًا) হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা মহান আল্লাহ তা'আলার আনুগত্য করো, আনুগত্য করো রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের এবং সেসব লোকদের, যারা উলিল আমর, অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে যদি ইখতেলাফের সৃষ্টি হয়, তাহলে সে বিষয়টি (ফায়সালার জন্যে) মহান আল্লাহ তা'আলা ও রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা মহান আল্লাহ তা'আলার ওপর এবং কিয়ামতের দিনের ওপর ঈমান এনে থাকো! (আর) এ (পদ্ধতিই) হচ্ছে (বিরোধ মীমাংসার) সর্বোৎকৃষ্ট উপায় এবং পরিণামের দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা। (সূরাহ নিসা ৪/৫৯) আয়াতে উল্লেখিত ‘উলুল আমর’ আভিধানিক অর্থে সে সমস্ত লোককে বলা হয়, যাদের হাতে ইসলামিক সালতানাত পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত থাকে, যেমন খিলাফতের দায়িত্বে থাকা আমীর। এছাড়াও ‘উলুল আমর’ দ্বীনের হাক্বিকি জ্ঞান অর্জনকারী মুত্তাকী পরহেজগার উলামা ও ফুক্বাহাগণকেও বলা হয়ে থাকে।

মহান আল্লাহ তা'আলা ও রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের দিকে প্রত্যাবর্তন করার অর্থ হলো, উনার কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। আর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের বিছল শরীফের (অফাৎ) পর উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করার অর্থ হলো উনার সুন্নাতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

মহান আল্লাহ তা'আলা আল কুরআনে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও উনার পথকে আঁকড়ে ধরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি আমাদেরকে জামা'আত বদ্ধ থাকতে ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের আদেশ করেছেন। দলাদলি ও মতবিরোধ করা থেকে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ) তোমরা সম্মিলিতভাবে মহান আল্লাহ তা'আলার রজ্জুকে (অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা'আলার দীন ও কিতাবুল্লাকে) আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (সূরা আলে ইমরান আলাইহিস সালাম ৩:১০৩)। তিনি আরো বলেনঃ (إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِى شَىْءٍ ۚ إِنَّمَآ أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ) নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করেছে। আর দলে দলে ভাগ হয়ে গেছে তাদের কোন কাজের সাথে আপনার কোন সম্পর্কই নেই। তাদের বিষয় মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট, (সময় হলেই) তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে। (সূরা আল আন'আম ৬:১৫৯)। এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক স্পষ্ট বলে দিয়েছেন মুসলিমদেরকে যে, দলে দলে বিভক্ত হওয়া এবং উল্লসিত হওয়া মূলত মুশরিকদের তরিকা (দেখুন সুরাহ রূম ৩০/৩১-৩২) তবে যেসব পির, যেসব বাবা, যেসব নামধারী স্কলার, যেসব দল ও সংগঠন মুসলিম মিল্লাতকে বিভক্ত করেছে, জমিনে মিল্লাতে ইসলামিয়ার ঐক্য ও শক্তি বিনষ্ট করেছে, তাদের বায়‘আত গ্রহণতো অনেক দূরের বিষয়, বরং তাদের এই দলাদলির বিরোধিতা করতে হবে, তাদের কুরআন হাদিস দিয়ে প্রথমে বুঝাতে হবে বিশুদ্ধ দ্বীনের পথে ফিরে আসতে না শুনলে বিদ্রোহী হিসেবে তাদের ধরতে হবে। কারণ আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ (أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏"‏ نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ ‏"‏‏.‏ وَبِهَذَا الإِسْنَادِ ‏"‏ مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ يُطِعِ الأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ يَعْصِ الأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي، وَإِنَّمَا الإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ وَيُتَّقَى بِهِ، فَإِنْ أَمَرَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَعَدَلَ، فَإِنَّ لَهُ بِذَلِكَ أَجْرًا، وَإِنْ قَالَ بِغَيْرِهِ، فَإِنَّ عَلَيْهِ مِنْهُ) (পৃথিবীতে) আগমনকারী হিসেবে আমরা সর্বশেষ হলেও সর্বাগ্রে (জান্নাতে) প্রবেশকারী (হবো)। আর যে আমার আনুগত্য করল, সে মহান আল্লাহ তা'আলারই আনুগত্য করল, যে আমার নাফরমানী করল, সে মহান আল্লাহ তা'আলারই নাফরমানী করল। আর যে আমীরের আনুগত্যে খিলাফাত ও বায়'আত গ্রহণ করল, সে আমারই আনুগত্য করলো। আর যে আমীরের নাফরমানী করল, সে আমারই নাফরমানী করল। ইমাম তো ঢাল স্বরূপ। উনার নেতৃত্বে জিহাদ্ব এবং উনারই মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জন করা হয়। অতঃপর যদি তিনি (খলিফা/আমির/ইমাম) মহান আল্লাহ তাআলার তাকওয়ার (বিষয়ে) নির্দেশ দেয় এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেন, তবে উনার জন্য (আখিরাতে) রয়েছে পুরষ্কার, আর যদি তিনি এর বিপরীত করেন তবে এর মন্দ পরিণাম তার উপরই বর্তাবে। (বুখারি শরীফ ২৯৫৬, ২৯৫৭) আর এই আমির ও ইসলামিক ফরজ বাইয়াতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা কেবল তখনই সম্ভব যখন মানুষ সম্মিলিতভাবে দ্বীন পালনের নিমিত্তে জামাআতবদ্ধ হয়ে নিদ্দ্রিষ্ট একটি স্থানে একত্রে বসবাস করবে, কারণ জামাআত বিহীন একা একা দ্বীন পালন করে হেদায়েত লাভ করা যাবে না। চলবে............।
   মহান আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যারা হারাম খেলাধুলা "ক্রিকেট ফুটবলে" মগ্ন তাঁদের পরিণতি কি?

মহান আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যারা হারাম খেলাধুলা "ক্রিকেট ফুটবলে" মগ্ন তাঁদের পরিণতি কি?

প্রবাসে অফলাইনে থেকেও খেলা নামক ডেঞ্জারাস দ্বীন বিরোধী কাজের থেকে রেহাই পাচ্ছিনা এমন উন্মাদনা একজন মুসলিম কিভাবে করে থাকে, তা আমার বুঝেই আসেনা আর বাঁজার ধরে রাখা ওয়াজি নামক কথিত মুল্লা উলামায়ে ছু'রা এইসবের ভয়ানক দিকটা কখনোই মুসলিম উম্মার যুব সমাজকে তুলে না ধরে, এদের ঈমান কে নষ্ট হওয়া থেকে হেফাজত না করে, উল্টো অনেক মুল্লাই এইসব খেলাধুলা দেখে, কাফের মুশরিকদের সাপোর্ট করে বে-ঈমান হচ্ছে, নিজের আমল আখলাক, আখিরাত বরবাদ করছে, নাউযুবিল্লাহ!!!

মুসলিম উম্মাহকে খেলাধূলায় মত্ত রেখে কাফের মুশরিকরা যে ইসলামের কত ক্ষতি করে যাচ্ছে তা আজকের খেলাধূলায় মত্ত ফাসেক যুব সমাজ বুঝতেই পারছেনা আজ মুসলিম উম্মাহ' সবচেয়ে দামি তিন জিনিস (সময়, জ্ঞান, মাল) ইহুদী নাসারাদের হাতে আফসোস লাগে যে কুরআন হাদিসে নসিহত মওজুদ থাকা স্বতেও মুসলিম সমাজে এই উন্মাদনা কিভাবে বিদ্যমান থাকে বুঝতেই পারছিনা

আসূন খেলাধূলার ব্যপারে কুরআন সুন্নাহ' মধ্যে আমাদের জন্য কি কি দিক নির্দেশনা আছে, যারা খেলাধূলায় মত্ত থাকে তাদের ব্যপারে শরীয়তের হুকুম কি তা দেখি?

রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ (مَا يَلْهُو بِهِ الرَّجُلُ الْمُسْلِمُ بَاطِلٌ إِلاَّ رَمْيَهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبَهُ فَرَسَهُ وَمُلاَعَبَتَهُ أَهْلَهُ فَإِنَّهُنَّ مِنَ الْحَقِّ) মুসলমানদের জন্য সকল নমুনার ক্রীড়া-কৌতুক (খেলাধুলাই)- বাতিল তিনটি বিষয় ছাড়াঃ

) ধনুক দিয়ে তীর নিক্ষেপ (প্রশিক্ষণ) করা

) (জ্বিহাদের জন্য) ঘোড়ার প্রশিক্ষণ এবং

) নিজ স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করা (কারণ) এই তিনটি জিনিসই তার জন্যে সঠিক (বাকি সবকিছুই বাতিল)

(তিরমিযি শরীফ ১৬৩৭ মানঃ সহিহ, ইবনে মাজাহ শরীফ ২৮১১ মানঃ হসান)

উক্ত হাদিস শরীফের আলোকে ক্রিকেট, ফুটবল সহ সকল নমুনার খেলাধূলা হারাম বাতিল সেটা জুয়া হিসেবে হোক, কিংবা নিছক সময় কাটানোর জন্য ম্যাচ হিসেবে হোক কেউ মানুক বা না মানুক এতে মহান আল্লাহ পাঁক, রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম, সম্মানিত দ্বীন ইসলামের কিছুই আসে যায়না সারা পৃথিবীর কথিত আলিম উলামা, পির, বাবা, শায়েখ মিলেও যদি বলে তাহলেও তা যায়েজ হবেনা, কারণ মহান আল্লাহ পাঁক বলেনঃ (اقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَهُمْ فِى غَفْلَةٍ مُّعْرِضُونَ مَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّن رَّبِّهِم مُّحْدَثٍ إِلَّا اسْتَمَعُوهُ وَهُمْ يَلْعَبُونَ) মানুষের হিসাব গ্রহণের কাল ক্রমশঃ ঘনিয়ে আসছে কিন্তু তারা গাফলতিতে (নিমজ্জিত হয়ে সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে রেখেছে, (আর) যখন তাদের কাছে তাদের মালিকের কোনো নতুন উপদেশ (বাণী) আসে তখন (মনে হয়) তারা তা শুনছে, (কিন্তু না) তারা (তখনও) নানা-রকম খেলাধুলায় নিমগ্ন থাকে (আল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ২১/-) অর্থাৎ মানুষের কাছ থেকে তাদের কৃতকর্মের হিসাব নেয়ার দিন অর্থাৎ কেয়ামতের দিন ঘনিয়ে এসেছে, অথচ মানুষ এর ব্যপারে উদাসীন, গাফেল হয়ে আছে খেলাধুলা আর ক্রীড়া-কৌতুকের কারণে। কোন সতর্কসংকেত সতর্কবাণীর প্রতিই তারা দৃষ্টি দেয় না দুনিয়া নিয়ে তারা এতই মগ্ন যে, আখেরাতের কথা ভুলেই গেছে আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে যে মহান আল্লাহ তা'আলার উপর পরিপূর্ণরূপে ঈমান আনা, উনার ফরায়েযগুলো সময়মতো আদায় করা, নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে দূরে থাকা সেটার জন্য তারা প্ৰস্তুতি নিচ্ছে না (ফাতহুল কাদীর) আর যে নবী ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সর্তক করার চেষ্টা করেছেন উনার বাণীও তারা শোনে না রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে মহান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে যে ওহী এসেছে তারা সেটার প্রতিও দৃষ্টি দেয় না (ইবন কাসীর) আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হতে অমনোযোগী, পৃথিবীর চাকচিক্যে নিমজ্জিত (যা সেদিনকার জন্য ক্ষতিকর) এবং ঈমানের চাহিদা হতে উদাসীন (যা সেদিনকার জন্য কল্যাণকর) স্পষ্ট বলা হয়েছে যে আখিরাত নিকটবর্তী যা মানুষের জন্যে খুবই ভয়ানক একটি দিন, আর এই ভয়ানক দিনের পাথেয় অর্জনে খেলাধুলা আর ক্রীড়া-কৌতুক হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাঁধা। অথচ রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের হাতের দুটি আঙ্গুল পাশাপাশি রেখে বলেনঃ আমার আগমন এমন সময়ে ঘটেছে যখন আমি কেয়ামত দুটি আঙ্গুলের মতো অবস্থান করছি(বুখারী শরীফ ৪৯৯৫) জানার বিষয় হলো রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি খেলাধুলা আর ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত থাকার জন্যে কিয়ামতের ভয় দেখিয়েছিলে?

তাছাড়া মহান আল্লাহ পাঁক কালামুল্লাহ শরীফের যায়গায় যায়গায় আমাদের বার বার স্বরন করিয়ে দিয়েছেন আমাদের কেনো সৃষ্টি করেছেন, আমরা কেনো এসেছি, আমাদের কি কাজ, আর খেলাধূলা, ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত থাকা লোকদের ব্যপারে তো একেবারে গযব নাজিলের ধমকি দিয়েছেন মহান আল্লাহ পাঁক বলেনঃ (اَفَاَمِنَ اَهۡلُ الۡقُرٰۤی اَنۡ یَّاۡتِیَهُمۡ بَاۡسُنَا بَیَاتًا وَّ هُمۡ نَآئِمُوۡنَ اَوَ اَمِنَ اَهۡلُ الۡقُرٰۤی اَنۡ یَّاۡتِیَهُمۡ بَاۡسُنَا ضُحًی وَّ هُمۡ یَلۡعَبُوۡنَ) জনপদের মানুষগুলো কি এতোটাই নির্ভয় হয়ে গেছে? (তারা কি মনে করে নিয়েছে, নিঝুম) রাতে তাদের ওপর আমার আযাব আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর) থাকবে! অথবা জনপদের মানুষগুলো কি নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আযাব তাদের ওপর মধ্য দিনে এসে পড়বে না যখন তারা খেলাধূলায় মত্ত থাকবে? (আল 'রাফ /৯৭-৯৮) আউযুবিল্লাহ কি ভয়ানক বিষয়, আজকে যারা ফালতু খেলাধুলায় মত্ত রয়েছে তাঁদের কতটুকু চিন্তা ফিকিরের প্রয়োজন? আজকে তারা যখন খেলাধুলায় মত্ত থাকে, বেপর্দা নারীদের সাথে স্টেডিয়ামে বসে কেবল চোখের মনের জিনাই করেনা বরং গযব নাযিল হওয়ার অন্যতম নিকৃষ্ট বিষয় খেলাধুলার মতো জাহেলি কাজ উপভোগ করে তখন যদি মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয় আর তাওবা করার আগেই হালতে তাঁদের মৃত্যু হয় তাহলে তাঁদের কি হবে? মহান আল্লাহ পাঁক তিনি তো বলেই দিয়েছেনঃ (إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوٰقِعٌ مَّا لَهُۥ مِن دَافِعٍ يَوْمَ تَمُورُ السَّمَآءُ مَوْرًا وَتَسِيرُ الْجِبَالُ سَيْرًا فَوَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ الَّذِينَ هُمْ فِى خَوْضٍ يَلْعَبُونَ يَوْمَ يُدَعُّونَ إِلٰى نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا هٰذِهِ النَّارُ الَّتِى كُنتُم بِهَا تُكَذِّبُونَ) আপনার মালিকের আযাব অবশ্যই সংঘটিত হবে, তাকে প্রতিরোধ করার (মতো) কেউই থাকবে না, (আর) যেদিন আসমান ভীষণভাবে আন্দোলিত হবে, পাহাড়সমূহ দ্রুত গতিতে চলতে থাকবে; (সেদিন) দুর্ভোগ হবে (একে) মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের, যারা (দুনিয়ায়) তামাসাচ্ছলে নানা অর্থহীন খেলাধুলায় মেতে রয়েছে সেদিন তাদের ধাক্কা মারতে মারতে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে; (তাদের বলা হবে.) হচ্ছে সেই (ভয়াবহ) আগুন, (দুনিয়ার জীবনে) যাকে তোমরা অস্বীকার করতে! (আত্ব তুর ৫২/-১৪) নাউযুবিল্লাহ এর পরেও মুসলিম দাবিদার কেউ কিভাবে খেলাধুলা নামক জাহেলি কর্মকাণ্ডে নিজেকে মত্ত রাখতে পারে?

এইসব মানুষদের উপদেশ তো আল কুরআনের পরতে পরতে রয়েছে কিন্তু ইবলিশ এদের কুরআন সুন্নাহ' অধ্যায়ন থেকে বিরত রাখতে এদের মত্ত রেখেছে হারাম ক্রীড়া-কৌতুকে মানুষ ভুলেই গেছে তাকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে, সে যে আল্লাজীর খলীফা, তাকে দিয়ে যে জমিনে দ্বীন কায়েম হবে, যুগ যুগ ধরে যে বিলিয়ন বিলিয়ন মুমিন মুসলমান অকাতরে তাঁদের প্রান বিলিয়ে দিয়েছেন এই দ্বীনের জন্যে এটাই তারা ভুলে গেছে তারা মনে করে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে ক্রীড়া কৌতুক আর হাসি তামাশায় জীবন কাটানোর জন্য, তাদের এইসব ফালতু কাজ অবলোকনের জন্যে এই কায়েনাতে তাঁদের আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সম্মান দিয়েছেন। অথচ মহান আল্লাহ পাঁক বলেনঃ (وَ مَا خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَهُمَا لٰعِبِیۡنَ) আর আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি (আদ-দুখান ৪৪:৩৮) এছাড়াও মহান আল্লাহ পাঁক আরো স্পষ্ট করে বলেনঃ (وَ مَا خَلَقۡنَا السَّمَآءَ وَ الۡاَرۡضَ وَ مَا بَیۡنَهُمَا لٰعِبِیۡنَ لَوۡ اَرَدۡنَاۤ اَنۡ نَّتَّخِذَ لَهۡوًا لَّاتَّخَذۡنٰهُ مِنۡ لَّدُنَّاۤ ٭ۖ اِنۡ کُنَّا فٰعِلِیۡنَ) আসমান-যমীন এতদুভয়ের মধ্যিখানে যা কিছু আছে তার কোন কিছুই আমি খেল-তামাশার জন্য পয়দা করিনি আমি যদি খেলাধূলার বস্তু বানাতে চাইতাম তাহলে আমার কাছে যা আছে তা নিয়েই তা করতাম, যদি আমাকে করতে হত (আল আম্বিয় ২১/১৬-১৭) মহান আল্লাহ পাঁক যদি খেল-তামাশার জন্য পয়দা না করে থাকেন তাহলে আমরা কিভাবে মুমিন মুসলমান হয়ে খেল-তামাশার, হাসি ঠাট্টার, ক্রীড়া-কৌতুকের খেলাধূলার বস্তু বানিয়ে সেইসবে মত্ত হয়ে নিজেদের এখনো মুসলিম মনে করতে পারি?

যারা এখনো এইসব ফালতু হারাম কাজে মজে আছেন, তাদের প্রতি কালামুল্লাহ শরীফে উপদেশ খোদ মহান আল্লাহ পাঁক এইভাবেই দিচ্ছেনঃ (وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا لَعِبٌ وَّ لَهۡوٌ ؕ وَ لَلدَّارُ الۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ یَتَّقُوۡنَ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ) আর দুনিয়ার () জীবন তো নিছক খেলাধুলা তামাশা ছাড়া কিছু নয় (কিন্তু) যারা তাকওয়া অবলম্বন করে (অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে) তাদের জন্য আখিরাতের আবাসই উত্তম অতএব তোমরা কি বুঝবে না? (আল আন'আম /৩২) আসলেই কি আমরা বুঝবনা? আখিরাতের জীবনের জন্যে উত্তম কোনটা? মহান আল্লাহ পাঁক আমাদের এইসব হারাম খেলাধুলা থেকে বিরত থাকতে নবী করীম ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম পাঠিয়েছেন, হাদিয়া করেছেন আল কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত যেনো আমরা ইবলিসের ধোঁকায় পড়ে গেলে ফিরে আসতে পারি। আর একারণেই আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণীত হাদিস শরীফে, রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে স্পষ্ট বর্ণীত আছে, তিনি বলেছেনঃ (سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ‏:‏ قَالَ رَّسُوْلُ اللهِ- صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ‏:‏ لَسْتُ مِنْ دَدٍ، وَلاَ الدَّدُ مِنِّي بِشَيْءٍ، يَعْنِي‏:‏ لَيْسَ الْبَاطِلُ مِنِّي بِشَيْءٍ) আমি খেলাধুলা বা ক্রীড়া-কৌতুক (মোটেও) পছন্দ করি না এবং খেলাধুলা বা ক্রীড়া-কৌতুকের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই অর্থাৎ আমার সাথে বাতিলের কোন সম্পর্ক নাই (সূত্রঃ আল-আদাবুল মুফরাদ। অধ্যায়ঃ গান-বাজনা ও খেলাধুলা, হাদিস শরীফ নং ৭৮৫ মানঃ সহিহ) উক্ত হাদিস শরীফ দ্বারা এটাই সাব্যস্থ হয় যে রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে খেলাধুলা বা ক্রীড়া-কৌতুকের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই, নাউযুবিল্লাহ!!! একজন মুসলিমের জন্যে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কি হতে পারে যে দুনিয়াত সাধারন ফালতু খেলাধুলার কারণে তার সাথে তার নবী ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার চিরস্থায়ী সম্পর্ক বিচ্ছিন হয়ে যাচ্ছে। (উক্ত হাদিস শরীফ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এইখানে যেতে পারেন, ইমাম বায়হাকি, তাবরানি, বুখারি রহমতুল্লাহী আলাইহিমদের মতামত জানতে লিঙ্ক)

এই খেলাধুলা যে কতো ভয়ানক বিষয় একজন মুমিনের জন্য তা এই হাদিস শরীফ খানার দিকে তাকালেই বোঝা যায়, যেখানে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে কেউ খেলাধুলা করে থাকলে রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সেটা কাউকে বলতে নিষেধ করেছেনঃ (إِذَا لَعِبَ الشَّيْطَانُ بِأَحَدِكُمْ فِي مَنَامِهِ فَلاَ يُحَدِّثْ بِهِ النَّاسَ) সয়তান যখন তোমাদের কারো সঙ্গে তার ঘুমের মধ্যে খেলাধূলা করে, তখন সে যেন কোন ব্যক্তির নিকট তা প্রকাশ না করে (মুসলিম শরীফ ২২৬৮) এর পরেও যারা খেলাধুলা বা ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত থাকবে তাদের ব্যপারে কিছুই বলার নাই, তবে মহান আল্লাহ পাঁক বলেনঃ (وَ ذَرِ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا دِیۡنَهُمۡ لَعِبًا وَّ لَهۡوًا وَّ غَرَّتۡهُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا وَ ذَکِّرۡ بِهٖۤ اَنۡ تُبۡسَلَ نَفۡسٌۢ بِمَا کَسَبَتۡ ٭ۖ لَیۡسَ لَهَا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَلِیٌّ وَّ لَا شَفِیۡعٌ ۚ وَ اِنۡ تَعۡدِلۡ کُلَّ عَدۡلٍ لَّا یُؤۡخَذۡ مِنۡهَا ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اُبۡسِلُوۡا بِمَا کَسَبُوۡا ۚ لَهُمۡ شَرَابٌ مِّنۡ حَمِیۡمٍ وَّ عَذَابٌ اَلِیۡمٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সেসব লোকদের আপনি (মহান আল্লাহ তা'আলা উনার হাতে) ছেড়ে দিন, যারা তাদের দ্বীনকে নিছক ক্রীড়া-কৌতুকে পরিণত করে রেখেছে এবং দুনিয়ার জীবন যাদের প্রতারণার জালে আটকে রেখেছে, আপনি (কুরআন) দিয়ে (তাদের) স্বরন করাতে থাকুন, যাতে করে কেউ নিজের অর্জিত কর্মকাণ্ডের ফলে ধ্বংস হয়ে যেতে না পারে, (হাশরের দিন) তার জন্যে মহান আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন বন্ধু সুপারিশকারি থাকবে না, কোন ব্যক্তি যদি নিজের সব কিছু দিয়েও দেয়, তবু তার কাছ থেকে (সেদিন তা) গ্রহন করা হবেনা; এরাই হচ্ছে সে মানুষ, যাদের নিজদের (গুনাহ) অর্জনের কারণে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে, মহান আল্লাহ তা'আলাকে অস্বীকার করার কারণে তাদের জন্যে (থাকবে) ফুটন্ত পানি মর্মন্তুদ শাস্তি (আল আন'আম /৭০) এর পরেও কি মহান আল্লাহ পাঁক উনার দেওয়া এই জীবনকে নিছক ক্রীড়া-কৌতুকের জন্য আখিরাতে ফুটন্ত পানি মর্মন্তুদ শাস্তির মুখে ঠেলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে? আমাদের শাস্তি নগদে দেওয়া হচ্ছেনা বলে কি আমরা ছাড় পেয়ে যাব মনে করি? মহান আল্লাহ পাঁক তো বলেই দিছেনঃ (فَذَرۡهُمۡ یَخُوۡضُوۡا وَ یَلۡعَبُوۡا حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَهُمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ) অতএব (হে আমার পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আপনি তাদেরকে (সেদিন পর্যন্ত) ছেড়ে দিন, তারা মগ্ন থাকুক অর্থহীন কথাবার্তায় আর (মত্ত) থাকতে দিন খেলাধুলায়, যতক্ষণ না তারা সেদিনের সাথে সাক্ষাৎ করে, যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেয়া হয়েছে (আয-যুখরুফ ৪৩/৮৩) অর্থাৎ, আপনার মাধ্যমে যদি ওরা হিদায়াতের পথ অবলম্বন না করে, তবে আপনি তাদেরকে নিজ অবস্থাতেই ছেড়ে দিন এবং দুনিয়ার খেলা-ধূলায় মেতে থাকতে দিন মহান আল্লাহ পাঁক হুঁশিয়ারি করতে এই ধমক দিয়েছেন কিন্তু যারা একে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবে তারা তাদের চোখ সেই দিনই খুলবে, যেদিন তাদের এই আচরণের পরিণাম তাদের সম্মুখে এসে উপস্থিত হয়ে যাবে মূলত খেলাধুলা আর ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত থাকা মানুষেরা ইবলিসের ধোঁকায় যে রয়েছে তারা তা বুঝতেই পারছেনা, এইসব কোন মনগড়া কথা নয়, নয় কোন বাবা, পির, বা কথিত কোন টিভি মুল্লার বয়ান, বরং কায়েনাতের মালিক মহান আল্লাহ পাঁক বলতেছেনঃ (الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا دِیۡنَهُمۡ لَهۡوًا وَّ لَعِبًا وَّ غَرَّتۡهُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ۚ فَالۡیَوۡمَ نَنۡسٰهُمۡ کَمَا نَسُوۡا لِقَآءَ یَوۡمِهِمۡ هٰذَا ۙ وَ مَا کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَجۡحَدُوۡنَ) যারা তাদের (নিজেদের) দ্বীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বস্তুতে পরিণত করেছিল এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোকায় ফেলে রেখেছিল সুতরাং আজ আমি তাদেরকে (ঠিক) সেইভাবেই ভুলে যাবো, যেভাবে তারা (আমার) সামনা সামনি হওয়ার দিনটিকে (দুনিয়ায়) ভুলে গিয়েছিলো আর তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করতো (আল 'রাফ /৫১) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ সাহাবায়ে কেরাম রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে মহান আল্লাহ তা'আলার রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কি আমাদের রবকে কেয়ামতের দিন দেখতে পাব? তখন রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ তা'আলার দীদার সংক্রান্ত কথা উল্লেখ করে বললেনঃ (লম্বা হাদিস বিস্তারিত এইখানে দেখুন) তারপর মহান আল্লাহ তা'আলা উনার কোন এক বান্দার সাথে সাক্ষাত করে বলবেন, হে অমুক! তোমাকে কি আমি সম্মানিত করিনি? নেতৃত্ব দেইনি? বিয়ে করাইনি? তোমার জন্য ঘোড়া উট (যানবাহন) আয়ত্বাধীন করে দেইনি? তোমাকে কি (জাতীর) প্রধান এবং শুল্ক আদায়কারী বানাইনি? (তোমাকে এমন আরামে রেখেছিলাম যে, তোমার কোন কষ্টই অনুভূত হয়নি) সে বলবেঃ হ্যাঁ তখন মহান আল্লাহ পাঁক বলবেনঃ তুমি কি আমার সাক্ষাতে বিশ্বাসী ছিলে? সে বলবেঃ না তখন মহান আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ আজ আমি তোমাকে ছেড়ে দেব যেমন তুমি আমাকে ছেড়েছিলে (মুসলিম শরীফঃ ২৯৬৮) আর কিয়ামতের মাঠে যদি মহান আল্লাহ পাঁক কাউকে ভুলে যান আর এইটা যদি কেউ দুনিয়ায় থেকে নিজের জন্যে সাব্যস্ত করে নিয়ে যায়, তাহলে আর আফসোসের সিমা থাকেনা।

আজ মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী উন্মাদনা দেখা যায় ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে, অথচ প্রত্যেক ক্রিকেট ফুটবল খেলোয়াড়ই রিস্কে থাকে, যেকোন সময় খেলার মধ্যে এক্সিডেন্ট হয়ে মারা যেতে পারে। এছাড়াও আছে খেলাধুলার জন্যে নামাজ, যিকির, তাসবিহ তাহলিল আর দ্বীনি কাজ থেকে দূরে থাকার মতো জঘন্য সয়তানি কাজ। আর এই খেলাধুলার বদৌলতে মুসলিম যুব সম্প্রদায় আজ তাঁদের আদর্শ অনুসরণীয় যিনি উনাকে পরিবর্তন করে অনুসরণীয়, অনুকরণীয়, মুহব্বতের মানুষ বানিয়ে দিয়েছে কাফের মুশরিক বেদ্বীন বদ্বীন খেলোয়াড়দের নাউযুবিল্লাহ, অথচ তাদের মহান আল্লাহ পাঁক নির্দেশ দিয়েছিলেন এই বলে যেঃ (لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْءَاخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا) (হে মুসলমানেরা) তোমাদের মধ্যে যারা মহান আল্লাহ তা'আলা আখিরাত (দিবসের) প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং মহান আল্লাহ তা'আলা উনার অধিক (পরিমানে) যিকির করে তাদের জন্য রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ (আল আহযাব ৩৩/২১) এখন যারা রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ বাদ দিয়ে খেলোয়াড়দের অনুসরণে চুল কাটে, পোশাক পরে, ট্যাটু আকে, তাঁদের মুহব্বত করে, খেলাধুলায় মত্ত থেকে নামাজ ভুলে যায়, মহান আল্লাহ তাআলার যিকর থেকে গাফেল হয়ে যায়, মহান আল্লাহ তা'আলাকে স্বরনই করেনা, ঘন্টার পর ঘন্টা টেলিভিশনের সম্মুখে বসে থাকে, হাজার হাজার টাকা অপচয় করে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখে বেপর্দা অর্ধনগ্ন নারীদের মধ্যে বসে তারা কি মহান আল্লাহ তা'আলা আখিরাত (দিবসের) প্রতি বিশ্বাস রাখে? তারা যাদের মুহব্বতে ফিদা হয়ে মহান আল্লাহ তা'আলার যিকির থেকে গাফেল হয়, রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা কি তাদের কোন কাজে আসবে? না কস্মিনকালেও না, বরং মহান আল্লাহ পাঁক হুসিয়ারি দিচ্ছেন আল কুরআনের মধ্যে এই বলে যেঃ (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا دِیۡنَکُمۡ هُزُوًا وَّ لَعِبًا مِّنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ وَ الۡکُفَّارَ اَوۡلِیَآءَ ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ وَ اِذَا نَادَیۡتُمۡ اِلَی الصَّلٰوۃِ اتَّخَذُوۡهَا هُزُوًا وَّ لَعِبًا ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّهُمۡ قَوۡمٌ لَّا یَعۡقِلُوۡنَ) হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের আগে যাদের (মহান আল্লাহ তা'আলার) কিতাব দেওয়া হয়েছিলো, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি-তামাসা খেলাধুলার বস্তুতে পরিণত করে রেখেছে, তাদের এবং কাফেরদের কখনো তোমরা নিজেদের বন্ধু বানিও না, যদি তোমরা সত্যিকার অর্থে মোমেন হয়ে থাকো তাহলে একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলাকেই (বন্ধু বানাও এবং উনাকেই) ভয় করো আর যখন তোমরা (মানুষদের) নামাযের জন্যে ডাকো, তখন (ডাক)কে এরা হাসি-তামাসা খেলাধুলার বস্তুরূপে গ্রহণ করে; এটা জন্যে যে, এরা হচ্ছে এমন এক সম্প্রদায়, যারা (সত্য মিথ্যার) কিছুই বুঝেনা (মায়েদা শরীফ /৫৭-৫৮)

মহান আল্লাহ তা'আলার স্পষ্ট নিষেধ হচ্ছে ইহুদী, নাসারা এবং অবিশ্বাসী বা কাফের মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব না করার জন্য, কারণ তারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম যাতে জমিনে কায়েম না হয় একারণে ইসলাম ধর্মকে হাসি-তামাসা ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করেছে, ক্রীড়ার উপকরণ দিয়ে মানুষকে দ্বীন থেকে দূরে রাখার চেষ্টায় রত আর তারা যেহেতু মহান আল্লাহ তা'আলা রসুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার শত্রু, সেহেতু তাদের সাথে মুমিনদের বন্ধুত্ব হতেই পারে না তাই ইহুদী, নাসারা, কাফের-মুশরিকদের ফাঁদে পা দেওয়া যাবেনা, কারণ দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষার হল মাত্র, মানুষের আসল জীবন হচ্ছে যা চিরকাল স্থায়ী থাকবে, আর তা হচ্ছে আখেরাতের জীবন মহান আল্লাহ পাঁক স্পষ্টতই বলে দিয়েছেন একথা। মহান আল্লাহ পাঁক বলেনঃ (وَ مَا هٰذِهِ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا لَهۡوٌ وَّ لَعِبٌ ؕ وَ اِنَّ الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ لَهِیَ الۡحَیَوَانُ ۘ لَوۡ کَانُوۡا) আর দুনিয়ার অর্থহীন জীবন কতিপয় খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়; নিস্বন্দেহে আখিরাতের জীবনই হলো প্রকৃত জীবন, কত ভালোইনা হতো যদি তারা ( বিষয়টা) জানত (আল-আনকাবূত ২৯/৬৪) অর্থাৎ যে পার্থিব জীবন তাদেরকে পরকালের জীবন সম্বন্ধে অন্ধ এবং তার জন্য সম্বল সঞ্চয় করার ব্যাপারে উদাসীন করে রেখেছে, তা আসলে দুনিয়ার ফালতু খেলাধূলা অপেক্ষা বেশি মর্যাদা রাখে না কাফেররা পার্থিব জীবন নিয়ে ব্যাপৃত থাকে, তাতে সুখ অর্জনের জন্য দিবারাত্রি মেহনত করে, কিন্তু যখন মারা যায়, তখন শূন্য হাত হয়ে পরকালের পথে পাড়ি দেয় যেমন শিশুরা সারা দিন ধুলো-বালির ঘর বানিয়ে খেলা করে এবং পরে বাড়ী ফিরে যাওয়ার সময় খালি হাতে ফিরে যায়, ক্লান্তি ছাড়া তাদের আর কিছুই অর্জন হয় না সুতরাং এমন নেক আমল করা প্রয়োজন, যাতে আখেরাতের জীবন সুন্দর হতে পারে কারণ, যদি তারা কথা জানত, তাহলে আখেরাতের জীবন সম্বন্ধে অমনোযোগী হয়ে দুনিয়ার জীবনে মহান আল্লাহ তা'আলা উনাকে ভূলে ফালতু খেলাধুলায় মগ্ন হত না বলা বাহুল্য, এর ঔষধ হচ্ছে জানা শেখা, শরীয়তের জ্ঞান শিক্ষা করা কিন্তু যে ব্যক্তি ক্রীড়া কৌতুকে, খেল-তামাশায়, ফালতু খেলাধুলায় মত্ত থাকে দিবারাত্রি সে কিভাবে এইসব অর্জন করবে? মহান আল্লাহ পাঁক তো বলেই দিয়েছেনঃ (اِنَّمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا لَعِبٌ وَّ لَهۡوٌ ؕ وَ اِنۡ تُؤۡمِنُوۡا وَ تَتَّقُوۡا یُؤۡتِکُمۡ اُجُوۡرَکُمۡ وَ لَا یَسۡـَٔلۡکُمۡ اَمۡوَالَکُمۡ) অবশ্যই দুনিয়ার জীবন তো কেবল খেলধুলা হাসি-তামাশা অর্থহীন কথাবার্তার বিষয় মাত্র (তাই এতে মত্ত হয়োনা) আর যদি তোমরা (মহান আল্লাহ তা'আলার ওপর) ঈমান আনো এবং (সর্বাবস্থায়ই মহান আল্লাহ তা'আলা উনাকে) ভয় করো, তাহলে অবশ্যই তিনি তোমাদের কাজের (যথার্থ) বিনিময় প্রদান করবেন, এবং (এর বদলে) তিনি তোমাদের কাছ থেকে (কোন) ধন-সম্পদ চাইবেন না (আল কুরআন ৪৭/৩৬) অর্থাৎ, খেলধুলা হাসি-তামাশা মূলত একটি ধোঁকা প্রতারণা বিষয় মাত্র এরূপ বিষয়ের না আছে কোন ভিত্তি, না আছে তার স্থায়িত্ব, এবং না আছে তার কোন মূল্য কারণ মহান আল্লাহ পাঁক নিজেই বলেনঃ (اعْلَمُوٓا أَنَّمَا الْحَيٰوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌۢ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِى الْأَمْوٰلِ وَالْأَوْلٰدِ) তোমরা জেনে রাখো, (তোমাদের ) পার্থিব জীবনটা খেলাধুলা, (হাসি) তামাশা, জাঁকজমক (প্রদর্শন), পরস্পর অহংকার প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, ধন সম্পদ সন্তান সন্ততি বাড়ানোর চেষ্টা সাধনা ছাড়া আর কিছুই নয় (আল হাদীদ ৫৭/২০) অর্থাৎ, কাফের অবাধ্য কুরআন সুন্নাহ' হুকুম অস্বীকারকারীদেরজন্য; যারা দুনিয়ার ক্রীড়া-কৌতুকেই মগ্ন থাকে এবং এটাকেই তাঁদের জীবনের আসল লক্ষ্য মনে করে একারণেই তারা ১৪০০ বছর আগেই খোদ রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেয়েও এর মূল্যায়ন করেনি। বরং "এরা যখন কোনো ব্যবসায়িক কাজকর্ম কিংবা ক্রীড়াকৌতুক দেখতে পেত, তখন সেদিকেই দ্রুত গতিতে দৌড়ে যেত রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নামাযে একা দাড়ানো অবস্থায়ই; মহান আল্লাহ পাঁক রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তখন বলে দেন, যে আপনি বলুন, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে যা কিছু রয়েছে তা অবশ্যই খেলাধুলা বেচাকেনার চাইতে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট-উত্তম, (মূলত) মহান আল্লাহ তা'য়ালাই হচ্ছেন সর্বোত্তম রিযিকদাতা (আল জুম'আহ ৬২/১১ থেকে নেওয়া) তাছাড়া আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত খেলাধূলা সম্পর্কিত বিখ্যাত হাদিসে বর্ণীত হয়েছে, নবী করীম ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আগমন করার পর তাদের (এমন) দুটি দিন ছিল যে দিন দুটিতে তারা খেলাধূলা  আমোদ-প্রমোদ করত ( দেখে) তিনি (ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, দুটি দিন কি? তারা বলল ইসলামের পূর্বে জাহিলিয়্যাতের সময় দিন দুটিতে আমরা খেলাধূলা করতাম ( কথা শ্রবণ করে) রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই দুদিনের পরিবর্তে মহান আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য আরো উত্তম দুটি দিন হাদিয়া করেছেন এর একটি হলো ঈদুল আযহার দিন অপরটি ঈদুল ফিতরের দিন (আবূ দাঊদ শরীফ ১১৩৪, আহমাদ ১৩৬২২, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১০৯১) উক্ত হাদিস শরীফেও স্পষ্ট পাওয়া যায় মুসলমানদের খেলাধুলা নয় দেওয়া হয়েছে দ্বীন ইসলাম, আর যখন এদের বারংবার উপদেশ দিয়েও কাজ হয়না তখন তদেরকে শেষ বারের মতো মহান আল্লাহ পাঁক বলেনঃ (فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتّٰى يُلٰقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِى يُوعَدُونَ يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلٰى نُصُبٍ يُوفِضُونَ خٰشِعَةً أَبْصٰرُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ۚ ذٰلِكَ الْيَوْمُ الَّذِى كَانُوا يُوعَدُونَ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আপনি (বরং) এদের ছেড়ে দিন, এরা কিছুদিন ক্রীড়া-কৌতুকে নিমগ্ন থাক, সেদিনটির সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যেদিনের (ব্যাপারে) তাদের ওয়াদা দেয়া হচ্ছে সেদিন এরা এমন দ্রুতগতিতে (নিজ নিজ) কবর থেকে বের হয়ে আসবে, (যা দেখে মনে হবে) তারা (সবাই বুঝি) কোনো শিকারের (লক্ষ্যবস্তুর) দিকে ছুটে চলেছে, তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত, অপমান লাঞ্ছনায় তাদের সবকিছু থাকবে আচ্ছন্ন; (তাদের বলা হবে) হচ্ছে সেই দিবস, তোমাদের কাছে যেদিনের ওয়াদা করা হয়েছিলো (আল মা'আরিজ ৭০/৪২-৪৪)

উপরোক্ত আয়াত খানার হাক্বিকত হচ্ছেঃ রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন দ্বীনের বিশুদ্ধ পথে দাওয়াত দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলেন অথচ ক্রীড়া-কৌতুক, খেল-তামাশা খেলাধুলায় মত্ত লোকেরা মোটেও পাত্তা দিচ্ছিলোনা, তখন  উনাকে মহান আল্লাহ পাঁক এই বলে সান্তনা দেন যে, আপনি তাদেরকে তাদের বাজে, অনর্থক আলোচনা ক্রীড়া-কৌতুক আর নিজেদের দুনিয়া নিয়ে মত্ত থাকতে দিন আপনি বরং আপনার প্রচার-প্রসারের কাজ অব্যাহত রাখুন তাদের আচরণ যেন আপনাকে আপনার দ্বীনের দায়িত্ব পালনে উদাসীন অথবা মনঃক্ষুণ্ণ না করে আর উম্মত হিসেবে আমরা সেই নবি ওয়ালা কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এখনো সবর আর ধৈর্য সহকারে ক্রীড়া-কৌতুক, খেল-তামাশা খেলাধুলায় মত্ত থাকা পথভ্রষ্ট যুব সম্প্রদায়কে ফিরে আসার আহ্বান করে যাচ্ছি, এতে কেউ সাড়া দিলে দিক, না দিলে না দিক আমাদের কাজ আমরা চালিয়ে যাবো ইনশা আল্লাহ।