Showing posts with label আমেরিকান আগ্রাসন. Show all posts
Showing posts with label আমেরিকান আগ্রাসন. Show all posts

Thursday, April 9, 2026

প্রোজেক্ট ব্লু বিম, পেটেন্ট প্রযুক্তি, আর ২০০০ বছর ধরে প্রস্তুত করা এক বিশ্বজনীন প্রতীক্ষা

প্রোজেক্ট ব্লু বিম, পেটেন্ট প্রযুক্তি, আর ২০০০ বছর ধরে প্রস্তুত করা এক বিশ্বজনীন প্রতীক্ষা

২০০২ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় আমেরিকান বাহিনীর হাতে এমন এক অস্ত্র ছিল, যার নাম কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যম তেমনভাবে উচ্চারণই করেনি। সেটি কোনো বোমা ছিল না, কোনো মিসাইলও ছিল না। সেটি ছিল একটি আওয়াজ। ইরাকি সৈন্যরা, যারা বাঙ্কারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল, যারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল, তারা হঠাৎ নিজেদের মাথার ভেতরে একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। সেখানে কোনো স্পিকার ছিল না, কোনো রেডিও ও ছিল না। কিন্তু ভেতর থেকে যেন একটি আওয়াজ এলো “আল্লাহ পাক তোমাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিচ্ছেন।” আর তারা আত্মসমর্পণ করলো।

এখানে আমি কোনো গল্প বলছি না, কোনো কল্পকাহিনীও বলছি না। যে কথা বলা হচ্ছে, তা এই দাবি নিয়ে বলা হচ্ছে যে এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিবন্ধিত পেটেন্ট রেকর্ডের আওতায় বহু আগেই এসেছে। এখন প্রশ্ন হলো, যদি ২০০২ সালেই এমন প্রযুক্তি কারো মাথার ভেতরে "আল্লাহ পাক" উনার কণ্ঠস্বরের মতো কিছু পৌঁছে দিতে পারে, তাহলে ২০২৬ সালে আকাশে আলোক-প্রক্ষেপণ, হলোগ্রাম বা দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি দেখিয়ে মানুষকে এই বিশ্বাসে আনা কি অসম্ভব যে হযরত ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম উনার নুযূল হয়ে গেছে?

এই প্রশ্নকে হালকাভাবে নেওয়া বোকামি হবে। কারণ দুনিয়ায় এই মুহূর্তে শত শত কোটি মানুষ এমন আছে, যারা কোনো না কোনো আসমানি ঘটনার অপেক্ষায় আছে। মুছলিমরা অপেক্ষা করছে। খ্রিষ্টানরাও অপেক্ষা করছে। তারা এমন এক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছে, এমন এক মছীহার অপেক্ষায় আছে, যিনি এসে দুনিয়াকে সোজা করবেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, পথভ্রষ্টতাকে ভেঙে দেবেন। কিন্তু সমস্যা হলো শুধু এই অপেক্ষাই নেই; এই অপেক্ষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মতো প্রযুক্তিও এখন পৃথিবীতে উপস্থিত। আর যাদের হাতে সেই প্রযুক্তি আছে, তারা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, ভয়, আশা, মছীহা-প্রত্যাশা, এবং অলৌকিক ঘটনার প্রতি মানসিক দুর্বলতা সবই জানে। তারা জানে মানুষ কী দেখতে চায়, কী শুনতে চায়, কী বিশ্বাস করতে চায়। আর সেই কারণেই প্রোজেক্ট ব্লু বিম নামের আলোচিত ধারণাটিকে একেবারে তুচ্ছ করে দেওয়ার সুযোগ নেই।

আজ আমি শুধু প্রোজেক্ট ব্লু বিমের নাম বলছি না। আমি বলছি সেই প্রযুক্তিগত ভিত্তির কথা, সেই মানসিক প্রস্তুতির কথা, সেই ঐতিহাসিক বিন্যাসের কথা, যেগুলো মিলে এমন এক বিশ্বব্যাপী প্রতারণাকে সম্ভব করে তুলতে পারে। আর আমার বক্তব্য হলো, এই প্রস্তুতি আজকের নয়; এর শিকড় প্রায় দুই হাজার বছর আগেই পুঁতে দেওয়া হয়েছে।

প্রথমে তিনটি বিষয় বুঝে নেওয়া দরকার। দাবি করা হয়, এগুলো সবই নিবন্ধিত, লিপিবদ্ধ, এবং সরকারি রেকর্ডের অন্তর্ভুক্ত পেটেন্ট। এরপরই বোঝা যাবে কেন এগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম যে পেটেন্টের কথা বলা হয়, সেটি হলো US Patent 3951134। বলা হয়, এটি ১৯৭৪ সালে দাখিল করা হয় এবং ১৯৭৬ সালে মঞ্জুর করা হয়। এর বিষয়বস্তু হিসেবে যে কথা সামনে আনা হয় তা হলো মানুষের মস্তিষ্কীয় তরঙ্গ দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রভাবিত করা। অর্থাৎ প্রযুক্তির এমন এক ধাপ, যেখানে মানুষের মানসিক সংকেত দূর থেকেই নজরদারি ও পরিবর্তনের চিন্তা করা হয়েছে।

এরপর আসে দ্বিতীয় পেটেন্ট US Patent 5159703। এটি ১৯৮৯ সালে দাখিল হয় এবং ১৯৯২ সালে মঞ্জুর হয়। এটিকে বলা হয় এমন এক নিঃশব্দ অবচেতন প্রভাব ব্যবস্থা, যেখানে বাইরে কোনো শব্দ শোনা যাবে না, কিন্তু লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তি নিজের ভেতরে প্রভাব অনুভব করবে। বাইরে কেউ কিছু শুনবে না; কিন্তু যাকে লক্ষ্য করা হয়েছে, সে-ই শুনবে, সে-ই প্রভাবিত হবে।

তারপর আসে তৃতীয় পেটেন্ট US Patent 6470214। এটি ১৯৯৬ সালে দাখিল হয় এবং ২০০২ সালে মঞ্জুর হয়। একে বলা হয় রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি শ্রবণ-প্রভাব বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও যন্ত্র। সহজ ভাষায়, এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে মাঝখানে প্রচলিত কোনো যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াই মানুষের মাথার ভেতরে সরাসরি শব্দের মতো প্রভাব তৈরি করা যায়। আরও বলা হয়, এ ধরনের প্রযুক্তি ইরাক যুদ্ধে মানসিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

এখন এখানে বড় প্রশ্নটি হলো: যদি ১৯৭৬ থেকে ২০০২ সালের মধ্যেই এসব প্রযুক্তি প্রকাশ্য রেকর্ডে থেকে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে গোপন অবস্থায় কী আছে? কারণ সাধারণ নিয়ম হলো যা প্রকাশিত হয়, তা-ই কোনো রাষ্ট্র বা আধিপত্যবাদী শক্তির সর্বোচ্চ সক্ষমতা নয়; বরং অনেক সময় তা কেবল তাদের অর্জনের সামান্য অংশমাত্র।

এবার আসি প্রোজেক্ট ব্লু বিমের দিকে।

যারা আগে থেকেই এই নাম শুনেছেন, তাদের জন্য এটি পুনরালোচনা। আর যারা শোনেননি, তাদের জন্য পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। ১৯৯৪ সালে কানাডীয় সাংবাদিক সার্জ মনাস্ট একটি বহুল আলোচিত দাবি সামনে আনেন। তিনি বলেন, নাসা এবং দুনিয়ার প্রভাবশালী গোপন শক্তিগুলোর একটি পরিকল্পনা আছে, এবং তারা সেটি চারটি ধাপে বাস্তবায়ন করতে চায়।

প্রথম ধাপ হলো ভুয়া প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর সব ধর্মকে ধীরে ধীরে অবিশ্বাস্য করে তোলা। মানুষকে এমন সব তথাকথিত আবিষ্কার দেখানো হবে, যেন সে মনে করে আসমানি ধর্মগুলোর ইতিহাস ভেঙে পড়েছে। তাকে এমন সব ইতিহাস শিখানো হবে, যেন নাবী য়ালাইহিমুছ ছালামগণের ইতিহাস, মানবতার সূচনা, আসমানি কিতাবের বয়ান সবই কেবল প্রাচীন কল্পকাহিনী।

এখানে একটি বিষয় খেয়ালযোগ্য। একদিকে মানুষকে লক্ষ লক্ষ বছর, কোটি কোটি বছর, এমনসব সময়সীমার গল্প শোনানো হয়; অন্যদিকে এমনও গবেষক আছেন, যারা পৃথিবীকে তুলনামূলকভাবে নবীন বলে দেখার চেষ্টা করেছেন। ইহুদি বর্ষপঞ্জিও একটি সীমিত সময়সীমা ধরে চলে এবং তার শুরু হযরত আদম য়ালাইহিছ ছালাম থেকে ধরে। অর্থাৎ বিরোধটা কেবল বিজ্ঞান ও ধর্মের নয়; বরং ইতিহাসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, মানুষের সূচনাকাহিনী কে লিখবে, সেই লড়াইও বটে। প্রথম ধাপের মূল লক্ষ্য তাই মানুষের ধর্মীয় নিশ্চিততা ভেঙে দেওয়া।

দ্বিতীয় ধাপ হলো আকাশে মছীহার প্রতিচ্ছবি দেখানো। দাবি করা হয়, আকাশে প্রতিটি ধর্মের প্রতীক্ষিত মুক্তিদাতার মতো দৃশ্য তুলে ধরা হবে। তারপর ধীরে ধীরে সবকিছুকে একত্র করে একটি বিশ্বজনীন আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের ছবি দাঁড় করানো হবে। আপনি যদি আজকের পৃথিবী লক্ষ্য করেন, দেখবেন আকাশে ড্রোনের সাহায্যে আলোর নকশা, বিশাল আলোক-প্রদর্শনী, মাঝআকাশে দৃশ্য নির্মাণ এসব এখন আর কল্পকথা নয়। মানুষ আকাশে আলো দেখলে বিস্মিত হয়, আবেগপ্রবণ হয়, সহজেই প্রভাবিত হয়। এখন এই একই পদ্ধতি যদি ধর্মীয় প্রত্যাশার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার মানসিক প্রভাব কতটা তীব্র হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়।

তৃতীয় ধাপ হলো মানুষের ভেতরে “ঐশী কণ্ঠস্বর” সৃষ্টি করা। এখানে আগের পেটেন্টগুলোকে প্রমাণ হিসেবে হাজির করা হয়। বক্তব্য হলো, যদি আকাশে কোনো আলোকময় প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়, আর সেই একই সময়ে নির্দিষ্ট মানুষদের মাথার ভেতরে কোনো নির্দেশের মতো কিছু পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে তারা সেটিকে আসমানি নির্দেশ বলেই ধরে নিতে পারে।

চতুর্থ ধাপ হলো ভুয়া ভিনগ্রহী আক্রমণ। অর্থাৎ এমন একটি সাজানো বৈশ্বিক সংকট তৈরি করা, যার মাধ্যমে নতুন বিশ্বব্যবস্থা, নতুন আনুগত্য, নতুন আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব, এমনকি নতুন ধরনের বিশ্ব-উপাস্য পর্যন্ত দাঁড় করানো যেতে পারে এমনটাই এই তত্ত্বের দাবি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিনগ্রহী প্রাণী, অজানা উড়ন্ত বস্তু, গোপন নথি, সামরিক স্বীকারোক্তি, বড় বড় আলোচনামঞ্চে এসব প্রসঙ্গের পুনরাবৃত্তি বেড়েছে। যেন মানুষকে ধীরে ধীরে এমন একটি কাহিনীর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সার্জ মনাস্টকে পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তিনি মারা যান, তার মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত হয়নি, এবং তার নথিপত্র জব্দ করা হয়েছিল এমন দাবিও এই আলোচনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। আমি এখানে সেই ঘটনার বিচার করছি না; আমি দেখাচ্ছি, কী ধরনের বক্তব্য নির্মাণ করা হয়েছে এবং কেন অনেক মানুষ সেটিকে গুরুত্ব দেয়।

কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আসে। প্রযুক্তি থাকলেই তো হবে না। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কেন একটি ভুয়া মছীহার পেছনে হাঁটতে যাবে? কেন তারা সেটিকে সত্যি বলে মেনে নেবে?

আমার বক্তব্য হলো কারণ তাদের প্রস্তুতি আজ থেকে শুরু হয়নি। তাদের মানসিক, ধর্মতাত্ত্বিক, চিত্রভিত্তিক, এবং মছীহা-প্রত্যাশী প্রস্তুতি বহু শতাব্দী ধরে গড়ে তোলা হয়েছে।

এখানে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক সামনে আসে ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দের নাইসিয়ার কাউন্সিল। রোমান সম্রাট কনস্টান্টিন একটি সভা ডাকলেন। সেখানে ৩১৮ জন বিশপ অংশ নিলেন। এখন প্রশ্ন হলো, কেন একজন সম্রাট খ্রিষ্টধর্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে বসবেন? কেন তিনি ঠিক করবেন, ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম কে ছিলেন?

সেই সভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম উনার পরিচয়। আর এখানেই এমন এক ধর্মতাত্ত্বিক কাঠামো জোরদার করা হয়, যা পরে ত্রিত্ববাদের প্রতিষ্ঠিত রূপে পৌঁছে যায়। যারা এই ধারার সঙ্গে একমত হয়নি, তাদের নির্বাসিত করা হয়েছিল এমন কথাও ইতিহাস আলোচনায় বারবার উঠে আসে।

এখানে আরেকটি বহুল উচ্চারিত দাবি হলো অনেকগুলো ইনজিল শরীফ বা গসপেল পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয় মাত্র অল্প কয়েকটিকে; বাকিগুলো বাতিল করা হয়, ধ্বংস করা হয়। এই দাবির সব খুঁটিনাটি নিয়ে আলাদা ঐতিহাসিক আলোচনা হতে পারে, কিন্তু আমার বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু অন্য জায়গায়। সেটি হলো: যখন ধর্মীয় বয়ানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঢুকে পড়ে, তখন প্রজন্মের পর প্রজন্ম একটি সম্পাদিত ধর্মীয় কল্পচিত্র উত্তরাধিকারসূত্রে পায়। তখন তারা যে মছীহার অপেক্ষা করে, সেটিও অনেক সময় ওহীর নির্মল ধারাবাহিকতার মছীহা নয়; বরং রাজনৈতিকভাবে গড়া এক চিত্র।

এই জায়গাটিই সবচেয়ে ভয়ংকর। কারণ যদি বহু শতাব্দী আগে থেকেই মানুষের কল্পনায় এমন এক প্রত্যাবর্তনের ছবি গড়া হয়ে থাকে, যার সঙ্গে আলো, আসমান, অলৌকিকতা, উজ্জ্বল অবয়ব, স্বর্গীয় আবহ, সবকিছু জড়িয়ে আছে, তাহলে আজকের প্রযুক্তি সেই ছবি অনুকরণ করার জন্য একেবারে প্রস্তুত মঞ্চ পেয়ে যায়।

এরপর আসে ডেড সি স্ক্রোলস-এর প্রসঙ্গ। ১৯৪৭ সালে কুমরানের মরুভূমিতে এক রাখাল গুহার ভেতরে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করে। পরে এগুলো ডেড সি স্ক্রোলস নামে পরিচিত হয়। কিন্তু বলা হয়, বহু বছর সাধারণ মানুষের জন্য এগুলোর পূর্ণ প্রবেশাধিকার খোলা হয়নি। প্রশ্ন হলো, কেন?

এই আলোচনায় দাবি করা হয়, কারণ ঐসব পাণ্ডুলিপিতে এমন উপাদান ছিল, যা ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম-কে খোদা নয়, বরং নাবী হিসেবে বুঝতে সহায়তা করে। এখানে কিছু গবেষকের নামও আনা হয়, যাতে বোঝানো যায় যে বহু আগেই কিছু নথি এমন ইঙ্গিত বহন করছিল, যা ইছলামের বক্তব্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইছলামের বক্তব্য তো সুস্পষ্ট হযরত ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার বান্দা এবং নাবী। যদি ইতিহাসের চাপা পড়ে থাকা কিছু নথিও সেই দিকেই ইঙ্গিত করে, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় বিশ্বের একটি বড় অংশ যে মছীহার প্রতীক্ষায় আছে, তার ধারণাটিই হয়তো বহু আগে সম্পাদিত ও বিকৃত করা হয়েছে।

এখন সবকিছু একত্রে চিন্তা করুন।

যদি আকাশে এক আলোকময় অবয়ব দেখানো হয়, যদি তাকে আসমান থেকে অবতরণরত বলে উপস্থাপন করা হয়, যদি তার চারপাশে অলৌকিক পরিবেশ তৈরি করা হয়, যদি সামাজিক মাধ্যমে হাজারো ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যদি মানুষের মাথার ভেতরে কোনো কণ্ঠস্বর বা নির্দেশের অনুভূতি তৈরি করা যায়, তাহলে কোটি কোটি মানুষ সেটিকে সত্য বলে ধরে নিতে পারে। কারণ প্রতারণা তখন কেবল প্রযুক্তি দিয়ে হবে না; তা হবে মানুষের বহু শতাব্দী ধরে প্রস্তুত করা ধর্মীয় প্রতীক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে।

আজ মাঝআকাশে আলোক-প্রক্ষেপণ সম্ভব। কৃত্রিম ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। মানুষের কণ্ঠস্বর প্রায় হুবহু নকল করা সম্ভব। সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তে লক্ষ-কোটি মানুষের মনে একই বয়ান ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব। যদি এসবকিছুকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটি আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় সম্মিলিত প্রতারণা-ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু এখানেই এমন একটি উপাদান আছে, যা এই পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে না। আর সেটি হলো ক্বুরআন মাজীদ।

যারা ইনজিল শরীফের ওপর কর্তৃত্ব করেছে এমন দাবি আছে। যারা ধর্মীয় পাঠ বাছাই করেছে এমন দাবি আছে। যারা বহু নথি চাপা দিয়েছে এমন অভিযোগ আছে। কিন্তু ক্বুরআন মাজীদ তারা পরিবর্তন করতে পারেনি। পাঠ-সংরক্ষণে, মুখস্থধারায়, তিলাওয়াতের ধারাবাহিকতায়, এবং উম্মাহের ঐকমত্যে ক্বুরআন মাজীদ এমনভাবে সংরক্ষিত যে সেটিকে মানুষের ইচ্ছামতো পাল্টে ফেলা যায়নি।

অনেকে এখানে সংখ্যাতাত্ত্বিক গঠন, উনিশ-ভিত্তিক বিন্যাস, এবং আল-ক্বুরআনের অভ্যন্তরীণ রচনাশৈলীর কথাও তোলেন। সে আলোচনা স্বতন্ত্রভাবে দীর্ঘ। কিন্তু মূল বক্তব্য একটাই আল-ক্বুরআন এমন এক কিতাব, যাকে মানুষের সম্পাদনায় অন্য রূপে বদলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই কারণেই ইছলামে মছীহা-ধারণাকে ইচ্ছামতো পাল্টে দেওয়া যায়নি।

ইছলাম হযরত ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম উনার প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে অস্পষ্ট কথা বলে না। ইছলাম আবছা ইশারা দিয়ে থেমে যায় না। ইছলাম নির্দিষ্ট আলামত দেয়, নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট দেয়, নির্দিষ্ট বর্ণনা দেয়। ফলে কেউ আকাশে আলো দেখাল, বিশাল আকৃতি দেখাল, মানুষের মনে কণ্ঠস্বর ঢুকিয়ে দিল, আর সামাজিক মাধ্যমে হৈচৈ তুলল এতেই একজন সচেতন মুছলিম বলে দেবে না যে এটাই হযরত ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম।

কারণ ইছলামে দলীল আছে। নছ্ব আছে। আলামত আছে। ছ্বহীহ বর্ণনা আছে। দামিশ্কের দিক, সময়, দাজ্জালের ফিতনার প্রেক্ষাপট এসব এত স্পষ্টভাবে এসেছে যে আলোর প্রদর্শনী দিয়ে, যন্ত্রের কৌশল দিয়ে, কৃত্রিম শব্দ দিয়ে, সামাজিক উন্মাদনা দিয়ে তা নকল করা গেলেও প্রকৃত আসমানি ঘটনা বানানো যাবে না। সাজানো দৃশ্য আর মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নিদর্শন এক জিনিস নয়।

তাই আমি এই লেখার শেষে এসে মানুষকে শুধু ভয় দিয়ে ছেড়ে দিতে চাই না। হ্যাঁ, ভয় পাওয়ার জায়গা আছে। কারণ প্রতারণা বাস্তব। প্রযুক্তি বাস্তব। মানসিক যুদ্ধ বাস্তব। ইতিহাসভিত্তিক প্রস্তুতি বাস্তব। মানুষের প্রতীক্ষাকে অস্ত্র বানানোর সম্ভাবনাও বাস্তব। কিন্তু একইসঙ্গে এটাও বাস্তব একজন সচেতন মুছলিমকে ধোঁকা দেওয়া সবচেয়ে কঠিন।

শয়তানি প্রকল্প সবসময় জাহেল জনতাকে চায়। প্রমাণহীন আবেগপ্রবণ জনতাকে চায়। ইতিহাস না-জানা জনতাকে চায়। আল-ক্বুরআন না-পড়া জনতাকে চায়। হাদীছ শরীফ না-জানা জনতাকে চায়। আলামত না-বোঝা জনতাকে চায়। কারণ তারা আলো দেখলে মুগ্ধ হবে, আওয়াজ শুনলে মেনে নেবে, ভিড় দেখলে স্রোতে ভাসবে।

কিন্তু যে মুছলিম আল-ক্বুরআন জানে, যে মুছলিম দাজ্জালের ফিতনার প্রকৃতি বোঝে, যে মুছলিম ওহী ও প্রতারণার পার্থক্য চিনে, যে মুছলিম জানে আসমানি দাবি আবেগ দিয়ে নয়, দলীল দিয়ে যাচাই করতে হয় তাকে সহজে বোকা বানানো যায় না।

এই কারণেই আজকের জরুরি কাজ আতঙ্ক ছড়ানো নয়; বরং প্রস্তুত হওয়া। ঈলমে প্রস্তুত হওয়া। ক্বুরআন শরীফে প্রস্তুত হওয়া। ছুন্নাহ মোবারক-এর আলোকে প্রস্তুত হওয়া। আলামত বোঝায় প্রস্তুত হওয়া। বিশেষভাবে ছুরাহ কাহাফ-এর প্রথম ১০ আয়াতকে জীবনের অংশ বানানো। কারণ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য এ বিষয়ে উম্মতকে আগেই সতর্ক করে গিয়েছেন।

আজকের যুবকদের বড় অংশ এসব কিছু জানে না। তাদের বিদ্যালয় শেখায় না। মহাবিদ্যালয় শেখায় না। বিশ্ববিদ্যালয় শেখায় না। পরিবারে এই আলোচনা হয় না। বন্ধুমহলেও হয় না। ফলে এই কথাগুলোকে স্বাভাবিক আলোচনার অংশ করতে হবে। এগুলোকে ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ প্রতারণার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা হলো আগেই সত্যটি জেনে রাখা।

মানুষকে জানতে হবে, কীভাবে তাকে ধোঁকা দেওয়া হতে পারে। মানুষকে জানতে হবে, কেন কোনো বিশ্বজনীন আধ্যাত্মিক প্রদর্শনী দেখে সঙ্গে সঙ্গে মাথা নত করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মানুষকে জানতে হবে, আসমানি দাবির বিচার আলো দিয়ে নয়, দলীল দিয়ে হয়; হৈচৈ দিয়ে নয়, ওহীর মিজান দিয়ে হয়; ভাইরাল দৃশ্য দিয়ে নয়, ছ্বহীহ নছ্বের ভিত্তিতে হয়।

আমার বক্তব্যের সারকথা একটাই: প্রোজেক্ট ব্লু বিম সত্যিই বাস্তবায়িত হবে কি হবে না, সেটি দ্বিতীয় প্রশ্ন। প্রথম প্রশ্ন হলো এমন কিছু বাস্তবায়ন করার মতো প্রযুক্তি, মানসিক প্রস্তুতি, সংবাদ-নিয়ন্ত্রণ, দৃশ্য-নির্মাণ, এবং বিশ্বজনীন প্রতীক্ষা কি ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে? আমার উত্তর অনেকাংশে হ্যাঁ। আর এই কারণেই মুছলিমদের এখনই সতর্ক হওয়া দরকার।

যদি প্রতারণা আসে, তবে তা কেবল যন্ত্রের ভাষায় আসবে না; তা আসবে ধর্মের ভাষায়, আশার ভাষায়, মুক্তির ভাষায়, নূরের ভাষায়, অলৌকিকতার ভাষায়। আর সেই কারণেই এর মোকাবিলাও হবে কেবল প্রযুক্তি-আলোচনায় নয়; বরং আল-ক্বুরআন, ছুন্নাহ্‌ মুবারক, ইতিহাস, এবং বাছীরতের মাধ্যমে।

যে কওম মরুভূমি থেকে উঠে রোমান সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে, সেই কওম আবারও জেগে উঠতে পারে যদি সে জানে তার বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যে যুবক আজ আলামত জানে না, কাল সে-ই হয়তো সাজানো অলৌকিক দৃশ্যের সামনে মাথা নত করবে। আর যে যুবক আজ আল-ক্বুরআনের আলোয় চোখ খুলে নেয়, কাল সে-ই প্রথম বুঝে ফেলবে এটি নূর নয়, এটি ফিতনা; এটি নুযূল নয়, এটি সাজানো প্রতারণা; এটি হেদায়াত নয়, এটি নিয়ন্ত্রিত ধোঁকা।

এ সময় ভয় পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় নয়। এ সময় চোখ খোলার সময়। এ সময় আল-ক্বুরআনের দিকে ফেরার সময়। এ সময় দাজ্জালের ফিতনাকে গল্প ভেবে অবহেলা করার গ্বাফলতি থেকে বেরিয়ে আসার সময়। কারণ যার হাতে দৃশ্য, শব্দ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আলোক-প্রক্ষেপণ, কণ্ঠ নকল, সংবাদ-সমন্বয়, মানসিক যুদ্ধ সে যদি মানুষের ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষাকেও অস্ত্র বানাতে শেখে, তাহলে সামনে যা আসবে তা শুধু রাজনৈতিক প্রতারণা হবে না; তা হবে আত্মিক পরিসরের প্রতারণা।

তবুও আশার জায়গা আছে। কারণ শয়তানি পরিকল্পনা যত জটিলই হোক, হাক্বের মিজান তার চেয়ে স্পষ্ট। যারা জানে, তারা টিকে। যারা চিনে, তারা বাঁচে। যারা আল-ক্বুরআন আঁকড়ে ধরে, তারা প্রতারণার কুয়াশায় হারিয়ে যায় না।

তাই আজ দরকার ক্বুরআন শরীফকে হাতে নেওয়া, ছূরাহ কাহাফকে জীবনে নেওয়া, দাজ্জালের ফিতনার আলামত বুঝা, দৃশ্য-ভিত্তিক প্রতারণার ওপর অন্ধ ইমান না আনা, এবং এই আলোচনা উম্মাহর ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়া। কারণ সচেতন মুওমিন-ই আজকের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

Sunday, March 1, 2026

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে উত্তরসূরি প্রশ্নঃ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র, এবং সম্ভাব্য নাম

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে উত্তরসূরি প্রশ্নঃ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র, এবং সম্ভাব্য নাম

প্রেক্ষাপট ও নিশ্চিত হওয়া তথ্যঃ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) ইরান-এ তেহরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে, বিশেষ করে “Reuters, Associated Press, The Guardian, The Washington Post এবং Axios” এ, যেখানে “ইরানি রাষ্ট্রীয়/সরকারি মিডিয়া নিশ্চিত করেছে” এই বক্তব্যটি একাধিক জায়গায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

এই একই রিপোর্টিং ধারায় বলা হয়েছে যে হামলাটি “কার্যত নেতৃত্ব-ধ্বংস (Decapitation)” ধরনের ছিল এবং একইসাথে কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা/সামরিক কর্মকর্তাও নিহত/লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, “এর মধ্যে অন্তত আলি শামখানি, মোহাম্মদ পাকপৌর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ-এর নাম বিভিন্ন সূত্রে এসেছে”। তবে “কারা নিশ্চিতভাবে নিহত” এই তালিকা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং উৎসভেদে ভিন্ন; ফলে এখানে “রিপোর্টেড/সূত্রমতে” ভাষাই বজায় রাখা জরুরি মনে করছি।

আরেকটি আলোচিত কিন্তু সতর্কতার সাথে ধরার বিষয়ঃ কিছু প্রতিবেদনে খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুর কথাও বলা হয়েছে; এগুলো রাষ্ট্র/আধাসরকারি মিডিয়া-উদ্ধৃত রিপোর্ট হিসেবে এসেছে, এবং আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তাই সত্য।

তথ্য-ঝুঁকি মানচিত্রঃ কোন তথ্য “প্রমাণিত”, কোনটা “চলমান” এই মুহূর্তে (আজ ১ মার্চ ২০২৬) উত্তরসূরি প্রশ্নে তথ্যকে তিন স্তরে দেখা সবচেয়ে নিরাপদঃ

প্রথম স্তরঃ মৃত্যু ও সামগ্রিক ঘটনা, খামেনির মৃত্যু এবং যৌথ হামলা, এটি একাধিক বড় সংবাদমাধ্যমে “ইরানি রাষ্ট্র-মিডিয়া নিশ্চিত করেছে” ফ্রেমে এসেছে।

দ্বিতীয় স্তরঃ অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা (Interim arrangement): Islamic Republic News Agency/রাষ্ট্র-মিডিয়া উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাটি সক্রিয় হয়েছে এবং এতে মাসুদ পেজেশকিয়ান ও গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই আছেন, এটি একাধিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমেও ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট হয়েছে।

তৃতীয় স্তরঃ কারা “উপযুক্ত উত্তরসূরি” এখানেই সবচেয়ে বেশি গুজব/ম্যাক্সিমাম অনিশ্চয়তা। কারণ

ক) নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বভাবতই গোপনীয় বলা হয়,

খ) যুদ্ধাবস্থা/নিরাপত্তাজনিত কারণে সভা-সমাবেশ বাস্তবে বিলম্বিত বা সীমাবদ্ধ হতে পারে,

গ) শীর্ষ স্তরের নেতাদের হতাহত/অদৃশ্য হওয়া, কাকে “জীবিত/কার্যক্ষম” বলা যাবে সেটাও প্রতিদিন বদলাতে পারে।

এই কারণে “উপযুক্ত কে” বলতে দুটো ভিন্ন প্রশ্নকে আলাদা করা দরকারঃ

১) সাংবিধানিকভাবে যোগ্যতা কারা পূরণ করেন (যুক্তিঃ সংবিধানের মানদণ্ড)।

২) বাস্তবে ক্ষমতার ভারসাম্যে কারা টিকে থাকতে পারেন/সমর্থন পেতে পারেন (যুক্তিঃ Islamic Revolutionary Guard Corps, ক্লেরিক্যাল নেটওয়ার্ক, এবং ‘গেটকিপার’ সংস্থার ভূমিকা)।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী উত্তরসূরি প্রক্রিয়া কীভাবে চলে?

ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেওয়ার মূল কাঠামোটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় ফুটে ওঠে, এবং এগুলোই “কে উপযুক্ত” প্রশ্নের আইনি ফিল্টারঃ

প্রথমত, সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করে Assembly of Experts। সংবিধানের আর্টিকেল ১০৭ বলছে, জনগণের নির্বাচিত “Experts” (অর্থাৎ Assembly) যোগ্য ফক্বিহদের মধ্যে কাউকে বেছে নেবে।

দ্বিতীয়ত, যোগ্যতার মানদণ্ড (আর্টিকেল ১০৯): সংবিধান নেতা হওয়ার জন্যঃ

ক) ফিক্বহে ফতোয়া দেওয়ার মতো জ্ঞান,

খ) ন্যায়পরায়ণতা ও তাক্বওয়া, এবং

গ) রাজনৈতিক-সামাজিক দূরদৃষ্টি, বিচক্ষণতা, সাহস, প্রশাসনিক সক্ষমতা ইত্যাদি, এসব গুণের কথা বলে। এই শর্তগুলো ব্যাখ্যা/প্রয়োগে অনেক “বিবেচনাধর্মী স্পেস” আছে, ফলে “উপযুক্ত” বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও সংজ্ঞায়িত হতে পারে।

তৃতীয়ত, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব (আর্টিকেল ১১১): নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত একটি তিন সদস্যের কাউন্সিল সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বগুলো সাময়িকভাবে নেবেঃ

১) রাষ্ট্রপতি,

২) বিচার বিভাগের প্রধান, এবং

৩) Guardian Council-এর একজন ফক্বিহ/জুরিস্ট—যাকে Expediency Council নির্বাচন করবে। সংবিধান এটাও বলে, এই তিন জনের কেউ অক্ষম হলে Expediency Council বিকল্প বেছে নেবে।

এখনকার রিপোর্টিংয়ে অন্তর্বর্তী ভারপ্রাপ্ত কাঠামোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগীয় প্রধান হিসেবে গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই, এই দুইটি নাম ধারাবাহিকভাবে এসেছে; তবে তৃতীয় সদস্য (Guardian Council-এর মনোনীত ফক্বিহ/জুরিস্ট) এ লেখার সময় পর্যন্ত বহু মূলধারার প্রতিবেদনে নামটি স্পষ্টভাবে স্থির/এক নামে সর্বসম্মতভাবে রিপোর্ট হয়নি।

বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র - কাগজে যা, মাঠে যাঃ “সর্বোচ্চ নেতা” পদটি কেবল ধর্মীয় মর্যাদা নয়; সংবিধান তাকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কসহ রাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ/নীতিতে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব দেয়। এই ক্ষমতার চরিত্রের কারণেই উত্তরসূরী প্রশ্নে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবে ‘কিংমেকার’ হয়ে ওঠে।

Islamic Revolutionary Guard Corps প্রসঙ্গে বহু বিশ্লেষণধর্মী সূত্রে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং রাজনীতি-অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই বড়; ফলে “কারা নেতা হবেন” প্রশ্নে তাদের অবস্থান কার্যত নির্ণায়ক হতে পারে।

একইভাবে Guardian Council শুধু আইন যাচাইই করে না; নির্বাচন তদারক/প্রার্থী বাছাই (vetting) প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবিধান অনুযায়ী কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্যকে (৬ জন ফক্বিহ) নেতা মনোনীত করেন; বাকি ৬ জন জুরিস্টকে বিচার বিভাগীয় প্রধান মনোনয়ন দেন এবং পার্লামেন্ট নির্বাচিত করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো “সেল্ফ-রিপ্রোডিউসিং” কাঠামোর মতো কাজ করতে পারে।

Assembly of Experts সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান নির্বাচক হলেও গবেষণা-ভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিকভাবে খুব কমই সর্বোচ্চ নেতাকে “চ্যালেঞ্জ” করেছে; সভা কম হয়; আর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

এই পটভূমিতে “উপযুক্ত কে” এটা শুধু ধর্মীয়/আইনি যোগ্যতার প্রশ্ন নয়; বরং ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সমঝোতা এবং যুদ্ধকালীন বাস্তবতার প্রশ্নও।

সম্ভাব্য উত্তরসূরী কারা? যা বলা যায়, এবং কেন বলা যায়ঃ

নিচে যে নামগুলো দেওয়া হলো, এগুলোকে “নিশ্চিত তালিকা” নয়; বরং মিডিয়া-রিপোর্টিং + বিশ্লেষক/থিঙ্কট্যাঙ্ক আলোচনা অনুযায়ী “শীর্ষে আলোচিত সম্ভাব্যতা” হিসেবে ধরতে হবে। যেহেতু চলমান হামলা/রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় কার জীবন/অবস্থান প্রতিদিন বদলাতে পারে, তাই প্রতিটি নামের পাশে “কেন সম্ভাব্য” এবং “কেন অনিশ্চিত” দুটি দিকই রাখা হলো।

মুজতবা খামেনিঃ অনেক বিশ্লেষণে মুজতবা খামেনি-কে “ধারাবাহিকতা/continuity” ধাঁচের সম্ভাব্য উত্তরসূরী বলা হয়, তার নিরাপত্তা কাঠামোর সাথে যোগাযোগ/প্রভাব, এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অদৃশ্য ক্ষমতার ধারণার কারণে। তবে বড় বাধা হিসেবে বারবার এসেছেঃ

ক) পিতা-থেকে-পুত্র উত্তরাধিকার ধারণাটি ১৯৭৯ পরবর্তী বিপ্লবী রাষ্ট্রচিন্তায় বিতর্কিত, খ) ধর্মীয় হায়ারার্কিতে তাকে ‘শীর্ষ স্তরের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে দেখার প্রশ্নে মতবিভেদ,

গ) জনমত/বিরোধী প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি।

অতিরিক্ত অনিশ্চয়তাঃ কিছু প্রতিবেদনে ইসরায়েলি পক্ষ তার/পরিবারের অন্য সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বললেও, সে বা অন্যান্য পুত্ররা নিশ্চিতভাবে নিহত এমন সর্বসম্মত নিশ্চিত রিপোর্ট এই মুহূর্তে নেই (কিছু সূত্রে “বেঁচে আছে” মূল্যায়নও এসেছে)।

হাসান খোমেনিঃ হাসান খোমেনি-এর ক্ষেত্রে মূল যুক্তি হলো বিপ্লবী বংশগত ‘লিগেসি’ সে রুহুল্লাহ খোমেনি-র নাতি হওয়ায় প্রতীকী বৈধতা (legitimacy) আনতে পারে।

তবে সন্দেহ/ঝুঁকিঃ তাকে “তুলনামূলক কম হার্ডলাইন/কম্প্রোমাইজ” হিসেবে দেখা হলে নিরাপত্তা কাঠামোর পূর্ণ আস্থা পাবে কি না সে প্রশ্ন থাকে; অতীতে তাকে প্রতিষ্ঠানগত রাজনীতিতে বাধা দেওয়ার উদাহরণও আলোচনায় আসে।

আলিরেজা আরাফিঃ আলিরেজা আরাফি-কে ঘিরে যুক্তি - সে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা/হাওজা নেটওয়ার্কে প্রভাব, এবং শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংযোগের কারণে “ব্যবস্থা-স্বীকৃত” পছন্দ হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু রিপোর্টে তাকে Assembly of Experts-এর নেতৃত্ব কাঠামোর কাছাকাছি অবস্থানে দেখানো হয়েছে।

দুর্বলতাঃ সে “জনপরিচিত রাজনৈতিক ভারকেন্দ্র” নয়, এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নেতা হিসেবে “কমান্ড-ওভার-সিকিউরিটি” বাস্তবে কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে।

হাসেম হোসেইনি বুশেহরিঃ হাসেম হোসেইনি বুশেহরি-কে Assembly of Experts-এর মতো উত্তরসূরী-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের ভেতরের “ইনস্টিটিউশনাল সিনিয়র” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, ফলে সে একটি “কম সংঘাতপূর্ণ” (managed) পছন্দ হতে পারে।

ঝুঁকিঃ তার Islamic Revolutionary Guard Corps-এর সাথে দৃশ্যমান ঘনিষ্ঠতার ঘাটতি যদি সত্য হয়, তাহলে ক্ষমতার “হার্ড সিকিউরিটি” স্তরের সমর্থন কতটা পাবে তার অনিশ্চয়তা থাকে।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরিঃ কিছু তালিকায় মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি-কে হার্ডলাইন ধর্মীয় ধারার প্রতিনিধি হিসেবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলা হয়েছে, বিশেষ করে যদি রাষ্ট্র কাঠামো যুদ্ধ/বিদেশি চাপের মুখে “আরও কট্টর নিরাপত্তা-রাষ্ট্র” দিকে যায়।

ঝুঁকিঃ অতিরিক্ত কট্টর ভাবমূর্তি সমাজে নতুন প্রতিরোধ উসকে দিতে পারে; আর আন্তর্জাতিক চাপ/বিচ্ছিন্নতা তীব্রতর হতে পারে যা যুদ্ধকালীন-পরবর্তী পুনর্গঠনে বাধা।

“কিংমেকার” যারা হয়তো নেতা নন, এই পর্যায়ে কিছু নাম “নেতা” হিসেবে নয়, বরং ট্রানজিশন ম্যানেজার/কিংমেকার হিসেবে বেশি বাস্তবসম্মতঃ

আলি লারিজানি-কে (বেঁচে থাকা এক শীর্ষ বেসামরিক নেতা হিসেবে) উল্লেখ করেছে Axios; এবং একাধিক প্রতিবেদনে তাকে সংকট-ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ নীতি-কেন্দ্রের কাছে দেখা হচ্ছে। তবে সে ধর্মীয় ফক্বিহ ভিত্তিক সাংবিধানিক “লিডার” পদে সরাসরি উপযুক্ত নাও হতে পারে, তবুও ট্রানজিশন আর্কিটেকচারে প্রভাবশালী হতে পারে।

গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই—সংবিধানের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলে তার কেন্দ্রীয় উপস্থিতির কারণে “ক্ষমতার মেরুদণ্ডে” থাকবে; কিন্তু একাধিক বিশ্লেষণেই ইঙ্গিত আছে যে সে “সোলো সর্বোচ্চ নেতা”র চেয়ে “কাউন্সিল/সমঝোতায়” বেশি মানানসই ভূমিকা নিতে পারে।

সম্ভাব্য দৃশ্যপট, সামনে কী কী রাস্তা খোলাঃ

সংক্ষিপ্তভাবে, বর্তমান তথ্যভিত্তিতে চারটি পথকে “সবচেয়ে সম্ভাব্য” হিসেবে দেখা যায়, এগুলো পরস্পরকে বাদ দেয় না; এক পথ থেকে আরেক পথে দ্রুত সরে যাওয়াও সম্ভব।

প্রথম পথঃ ম্যানেজড সাকসেশন (দ্রুত সাংবিধানিক রূপ): Assembly of Experts দ্রুত বসে একটি নাম “রেটিফাই” করে দেয় এবং এটিকে শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই ধরনের ধারণা আগেও রিপোর্ট হয়েছে যে উত্তরসূরী পরিকল্পনা গোপনে চলছিল।

দ্বিতীয় পথঃ সমঝোতাভিত্তিক ‘মাঝারি মুখ’ (Moderate-facing) নেতা, আন্তর্জাতিক চাপ কমানো ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ সামলাতে তুলনামূলক “কম্প্রোমাইজ” টাইপ কাউকে আনা হতে পারে, এখানে হাসান খোমেনি জাতীয় প্রতীকী বিকল্প আলোচনায় এসেছিল।

তৃতীয় পথঃ একটি দুর্বল নেতা + শক্তিশালী নিরাপত্তা-রাষ্ট্র, একজন তুলনামূলক কম পরিচিত/কম স্বাধীন ক্ষমতাসম্পন্ন ধর্মীয় নেতাকে সামনে রেখে বাস্তবে Islamic Revolutionary Guard Corps এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো শাসনকেন্দ্র দখলে রাখতে পারে এ ধরনের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের ভাষ্যে দেখা যায়।

চতুর্থ পথঃ সমষ্টিগত/কাউন্সিল-ধাঁচের কর্তৃত্ব বিস্তার, কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি-নির্ভর কাঠামোর বদলে “ডাইলিউটেড” বা বেশি সমষ্টিগত ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা হতে পারে, বিশেষ করে যদি শীর্ষ স্তরের ধ্বংসযজ্ঞে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে যায়।

Saturday, December 20, 2025

খোলা মাঠে মগজ ধোলাই ২য় পর্ব

খোলা মাঠে মগজ ধোলাই ২য় পর্ব

বাংলাদেশের জনগণের একটা অংশ মনে করে ভারত চাইলে ১ ঘন্টার মধ্যে আমাদের দেশটি দখল করে নিতে পারে। অথচ ওরা নিজ চোখে দেখছে যে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকা এবং ন্যাটো সামরিক জোট সর্বাত্মক চেষ্টা করেও লম্বায় ৪১ কি.মি. আর প্রস্থে ৬ থেকে ১২ কি.মি. গাজাকে তারা গত ২ বছরেও দখল করতে পারছে না। কারণটা কী? কারণটা হচ্ছে, যে দেশ বা জাতি স্বাধীন থাকতে চায় তারা কোনোদিনও পরাধীন হয় না।

যারা পরাধীন হয় তারা প্রথমেই নিজ অন্তরে পরাধীনতাকে মেনে নেয় এবং তারপরই প্রকৃত পরাজয় বরণ করে।

পাকিস্তানের কারাবন্দী নেতা ইমরান খান প্রায়শই একটা কথা বলতেন, “You only lose when you give up” তুমি তখনই পরাজিত হও, যখন তুমি নিজের অধিকার কিংবা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার সামর্থ্য রাখ না বলে ধারণা করো।

আমাদের সার্বভৌমত্ব আমরা জান, মাল ও জীবন দিয়ে রক্ষা করব এ ধরনের উপলব্ধির স্থানে কেউ যদি ধারণা করে ভারত চাইলেই আমাদেরকে দখল করে নিতে পারে, সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে তবে ১৯৭১ এ স্বাধীনতা চাইলাম কেন? ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করলাম কেন? ঐ স্বাধীনতার অর্থ ছিল কি পরবর্তীতে ভারতের পদতলে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সমর্পণ? দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে সাধারণ জনগণ এহেন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিল ১৫-২০ বৎসর পূর্ব থেকেই!

বর্তমানে পরিস্থিতি হচ্ছে, এ দেশের সেনাবাহিনীর কিছু অংশও আজকাল এ ধরনের ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছে! কারণটা হচ্ছে শত্রুর মনস্তত্ত্ব বিশারদরা যুবসমাজ ও আপামর জনগণকে বাধাহীনভাবে মগজ ধোলাই করতে পারে এবং করে যাচ্ছে, কারণ শত্রুর আক্রমণের ধারা, পরিধি এবং এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব যাচাই করার কোন প্রতিষ্ঠান আমরা পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে গড়ে তুলতে পারিনি! যেখানে শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণের ধারাই আমরা চিহ্নিত করতে অক্ষম সেখানে তার বিরুদ্ধে  প্রতিরোধ ও প্রতি আক্রমণ (counter attack) করার তো প্রশ্নই উঠে না।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশীদের চেতনা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে দুজন, তাদের একজন হচ্ছে বনি আমিন অপরজন হচ্ছে আর জে কিবরিয়া। বনি আমিন পৃথিবীর এমন কোনো দর্শনীয় স্থান নেই যেখানে তার স্ত্রী ভেরোনিকাকে নিয়ে ভ্রমণ করে নাই। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে ফিরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশীদের জন্য কনটেন্ট তৈরি করে। টিআরপির মাধ্যমে সে যা আয় করে তা তার খরচের ১০০ ভাগের এক ভাগও হবে না। তো এত টাকা সে পায় কোথা থেকে?  আজ পর্যন্ত সে তার কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা চাকুরী সংক্রান্ত বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেনি। কারণ তার সোর্স অব ফান্ড হচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW এর SS মানি। RAW এর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশীদের perception  পরিবর্তনে কোটি টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করে না। কারণ একটি দেশকে দখল নিতে যে চারটি স্তর পার করতে হয় তার প্রথম স্তরটি হচ্ছে Demoralization, যা এই দুইজন ইউটিউবার নিরবিচ্ছিন্নভাবে করে যাচ্ছে।

এদিকে আর, জে, কিবরিয়া শুরুতে কিছু ধর্মীয় ও সমাজ সচেতন মূলক পডকাস্ট প্রচার করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে ভাইরাল হয়। আর এখন সে রেগুলার যে কাজটি করছে তা হলো, রগরগে যৌন অভিজ্ঞতার অবতারণা, মেয়েগুলোর শরীর দেখিয়ে মুখ ঢেকে/না ঢেকে যৌবনের যৌনতার কল্পকাহিনী খোলামেলাভাবে ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে দিচ্ছে। আমাদের দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে প্রচারিত এ ধরনের যৌন উত্তেজক ঘটনাগুলোর অবতারণা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমাদের সমাজের উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এসব দেখে কী শিখছে? সমাজে যৌনতা ছড়ানো ছাড়াও ব্যাপক হারে ধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই দেশে কি কোন কর্তৃপক্ষ নেই যারা সোশ্যাল মিডিয়া মনিটর করবে আর সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার্থে যৌন উত্তেজক কন্টেন্টগুলো রিমুভ করবে?

জাতীয় চরিত্র ধ্বংসের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে এই যৌনতার চালু হয়েছিল স্বৈরাচারের আমলে। এখন কেন তা চালু থাকবে?

শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যোদ্ধারা যারা এদেশে অবস্থান করছে তাদেরকে এরেস্ট করা উচিত এবং এদের পোস্ট মিডিয়াতে পার্মানেন্টলি এবং প্রতিনিয়ত ব্লক করা উচিত।

এই মগজ ধোলাই কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করা হয় তা বুঝতে হলে এই শিরোনামের প্রথম পর্বটি পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

Friday, January 26, 2024

সমকামীদের হোতা ব্রাক ও সমকামীতার সহযোগী আইনের সমর্থনকারিরা মুর্তাদ

সমকামীদের হোতা ব্রাক ও সমকামীতার সহযোগী আইনের সমর্থনকারিরা মুর্তাদ

বর্তমানে যে বিষয়টা নিয়ে সারাদেশ উত্তাল তা হলো ট্রান্সজেন্ডার (বাস্তবে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়ে থাকে যার ব্যক্তিগত পরিচয় এবং লিঙ্গের অনুভূতি তাদের জন্মের লিঙ্গের বিপরীত হয়ে থাকে।) কিন্তু আমাদের সম্মুখে যেসকল ট্র্যান্সজেন্ডার দাবীদার এরা মূলত (শারীরিকভাবে সুস্থ পুরুষ যে নারী সেজে, অথবা শারীরিকভাবে সুস্থ নারী যে পুরুষ সেজে) পশ্চিমাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করে যাচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত তো অনেক আগেই হয়েছে, তবে কারেন্ট ইস্যু হলোঃ (সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডারবাদ নিয়ে পাঠ্যপুস্তকের একাংশের সমালোচনা ও ট্রান্সজেন্ডারবাদ এর ভয়াবহতা নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি তাদেরই একজন শিক্ষক “আসিফ মাহতাব উৎস”কে চাকুরিচ্যুত করে দিয়েছে।) “আসিফ মাহতাব উৎস” সম্পর্কে অনলাইন ঘেটে যা পেলাম তা হচ্ছেঃ “তিনি বর্তমান সময়ে উত্তরাতে বসবাস করেন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১২ সালে এ-লেভেল পাস করেন এরপর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিষয়ে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে তিনি অনার্স কোর্স শেষ করেন। এরপর তিনি Master of Science in Analytical Philosophy বিষয়ে ২০১৯ সালে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হন। এরপর ২০২০ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং Integration of Theism in Hobbes’s State of Nature গবেষণা করেন। ২০১৮ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারে কাজ করা শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর তিনি ২০১৯ সালে মাস্টার মাইন্ড স্কুলে যোগদান করেন। এরপর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি প্রভাষক হিসেবে বেশ কয়েকদিন কর্মরত থাকেন। তারপর থেকে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শিক্ষকতা করেন। যেখানে তিনি বর্তমান সময় পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

আসিফ মাহতাব উৎস আসলে কি করেছিলেন?

তিনি গত ১৯ জানুয়ারী ২০২৪ ইং ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, কাকরাইল ঢাকা ও জাতীয় শিক্ষক ফোরাম আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে ৭ম শ্রেনীর পাঠ্যবইয়ে উল্লেখিত শরিফ শরিফা নামক একটি টান্সজেন্ডার বিষয়ক গল্পের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাঠ্যবই থেকে সেই গল্পের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে প্রতিবাদ করেন এবং সবাইকে বই ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানানোর আহবান জানিয়ে সমকামী ও ইসলামপন্থীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দেন।

এছাড়াও একটি সূত্র বলতেছে যে, আসিফ মাহতাব উৎসকে সমকামিতার বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে ব্রাক থেকে বহিষ্কার করার পর এবার IUB থেকে ড. সারোয়ার হোসাইন নামক একজন শিক্ষক-কে বহিষ্কার করার বিষয় ও ভাইরাল হয়েছে। (বিস্তারিত)

এই হলো বর্তমান মদিনা ছনদে চলা সোনার বাংলা তথা ৯৫% মুসলিমদের দেশ বাংলাদেশের চিত্র। যারা নিজেদের মুসলিম দাবি করবে আর কাজ করবে ১৮০ ডিগ্রী কুরআন সুন্নাহর বিরোধী, তাদের মুসলিম মনে করার কোন কারনই নাই, সে যেই হোক। যদিও সে সরকারের পক্ষের বা বিপক্ষের কেউ হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে বিকৃত যৌনতার স্বাভাবিকীকরণের কার্যক্রম নতুন কিছু নয়, এর শুরু হয় ১০৯০ এর মাঝামাঝি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নানান ফ্লেভারে পাপিরা তাদের কাজ কর্ম করেই চলছে। পশ্চিমা ফান্ডিং আর কথিক মানুষপ্রেমী আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও দ্বারাই মূলত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক এলজিবিটি নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়ে আসছে, সাথে দেশীয় অনেক এনজিও জড়িত রয়েছে।

এলজিবিটি বা সমকামীতা ঢালাওভাবে বলা সহজ না বাংলাদেশে, যদিও ৯৫% নামধারী মুসলিমের দেশ হয়েও থাকে। এলজিবিটি বা সমকামীতাকে অনেক গুপ্ত নাম ও বিশাল মিনিং এর শর্টকার্ট নামে (উদাহরণস্বরূপঃ MSN, GI, SRHR, SOGI, SOGISEC, CSE, Transgender) উপস্থাপন করা হয়ে থাকলেও মূলে অর্থ এক, অর্থাৎ অবাধ বিকৃত যৌনাচার এবং ইচ্ছেমতো নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে নেয়ার আইনি বৈধতা ও সামাজিকীকরণ নাউযুবিল্লাহ। অনেকের কাছে এইসব প্যাঁচাল, বা কঠিন জিনিস মনে হতেই পারে তবে মনে রাখবেন যখনই কিছু মানুষ যা সরাসরি দ্বীন বিরোধী অথচ তার অধিকার বলে দাবি করছে, হিউম্যান রাইটস বলে বুলি আওড়াচ্ছে তখনই বুঝে নেবেন যে এর পেছনে পশ্চিমা হাত আছে, ফিলিস্থিন, সিরিয়া, ভারত, চিন, বার্মা, ইরাক, লিভিয়া, আফ্রিকা ও আফগানিস্থানে যখন নির্বিচারে শিশু, নারী, বৃদ্ধা, আবাল বনিতার উপর গণহত্যা ও ধর্ষণ দিনের পর দিন চলতেছে আর এইসব চুপ করে কেবল দেখেই যাচ্ছেনা পশ্চিমারা নিজেরাই করে যাচ্ছে তখন তোমার আমার দেশের কতিপয় মানুষের নাপাক, গান্ধা হিউম্যান রাইটস দেখলেই বুঝবে এর মধ্যে পশ্চিমাদের বাম হাত বিদ্যমান।

বাংলাদেশের সমকামিতার প্রচার ও প্রসারে সরাসরি পশ্চিমাদের হাত যে বিদ্যমান এর প্রমান তারাই দিচ্ছে যেমনঃ (Florida Gov. Ron DeSantis repeatedly dinged the federal government for “promoting transgenderism in Bangladesh,” arguing that Funded $850,000 was a waste of taxpayer dollars.) ভাবা যায়? ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশে ফান্ডিং করেছে সমকামিতার প্রসারে। তার মানে শুধু টাকাই নয় খুটিও অ্যামেরিকা।

আর কিছুই বলার নাই, একটা দেশের যেকোন বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে পশ্চিমারা দেখে বিষয়টা কতটা স্পর্ষকাতর, সোস্যাইটিতে এর কেমন প্রভাব পড়বে, আর যদি তা হয় ধর্মিয় বিষয় তাহলে তারা খুব ধৈর্য নিয়ে আগায়, প্রথমেই কিনে ফেলে সরকার, যদি তা না পারে তাহলে কিনে সুশীল বুদ্ধিজিবি, যদি তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেউ নীতি-নৈতিকতা বিশর্জন না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যায় তাহলে তাকে জব্দ করা হয় যেকোন নমুনায়, প্রয়োজনে হত্যার মতো জঘন্য কাজ করতেও তারা পিছ পা হয়না।

অতএব এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে বাংলাদেশের নোংরা মিডিয়া, কথিত সুশীল সমাজ এবং বামপন্থীরাই এলজিবিটি এজেন্ডা বাস্তবায়নে কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে সহযোগীতা করে গেছে। অনেকের মনে হতেই পারে যে ইসলামপন্থী না হলেও নৈতিকভাবে হলেও এলজিবিটি আন্দোলনের মতো একটা নোংরা সমাজবিরোধী প্রোজেক্টের বিরোধিতা এদেশের বামপন্থীদের করা কি উচিৎ ছিল না? অথচ তারা তা না করে উলটো সহযোগীতাই করে গেছে। কারন হিসেবে একটাই খুঁজে পাওয়া যায় আর তা হলোঃ “উপরে আমরা জেনেছি যে, এলজিবিটি এজেন্ডার মূল হোতা পশ্চিমাবিশ্ব, তথা অ্যামেরিকা আর তা পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, আর বাংলাদেশের সুশীল, প্রগতিশীল ও বামপন্থীদের বড় একটা অংশের পেট, ও লাক্সারিয়াছ জীবন চলে এইসব এনজিওর ডলারে, তাই বিরোধিতা করার বা চুপ থাকার কোন প্রশ্নই আসেনা। তাছাড়া প্রগতিশীল চিন্তাধারা কিংবা তাদের ব্রেইনের সেটআপ যেহেতু পশ্চিমা ধাঁচে গড়া তাই তাদের মতবাদকে কোন চু-চেরা ছাড়াই অন্ধভাবে গ্রহণ করে নেয়ায় নৈতিকতা কোন বাধা প্রদান করেনা।”

তবে প্রগতিশীল বা সুশীলেরা এইসব কাজ মাঠ পর্যায়ে করেনা, এগুলো করানো হয়, নাস্তিক, এন্টিমুসলিম, বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত উগ্রপন্থী হিন্দুদের দ্বারা। আর এটার প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালে শাহবাগে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহবাগে ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখে গণজাগরণ মঞ্চ নামে শুরু হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত আসামী আব্দুল কাদের মোল্লার বিচারের রায় নামক মোড়কে এর যাত্রা হয়, কিন্তু ভেতর ভরা ছিলো ইসলাম বিদ্বেষী পশ্চিমা প্রপাগান্ডা।

তবে এইসব প্রোপাগান্ডার শুরুটা হয় ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগ সামহোয়্যার ইন ব্লগ (যা সামু নামে পরিচিত) এর দ্বারা। গুলসান ফেরদৌস জানা এবং তার ইহুদী স্বামী আরিল্ড ক্লোক্কেরহৌগ এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা। (আরিল্ড ক্লোক্কেরহৌগ যে বিশাল ব্যাকআপ নিয়ে চলতো তা তার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা ২০১২ সালের টুইট দেখলেই যারা বোঝার বুঝে ফেলবে) (আর্কাইভ) তখন থেকেই তারা কথিত নারীবাদ, ফ্রি থিংক, ফ্রি স্পিচ, ফ্রিডম অফ স্পিচ, উইম্যান রাইটস নামক মোড়কে, ইসলাম বিদ্বেষী লিখালিখি প্রকাশ্যে শুরু করে, যেহেতু তখন সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ইন্টারনেট এভেইলেবল ছিলোনা, সেহেতু তাদের প্রোপাগান্ডাও একটা সংক্ষিপ্ত পরিসরে চলছিলো। কিন্তু ২০১২-১৩ সালের দিকে ফেইসবুক যখন খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, আর প্রায় সবার হাতে স্মার্টফোন চলে আসে, ইন্টারনেট ও সহজে পাওয়া যায় তখন তাদের ইসলাম বিদ্বেষী কাজগুলি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তবে আমরা ইসলামিক ব্লগাররা যখন মুসলিম পরিবারের নাস্তিক সন্তান থাবা বাবা সহ বাকী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কলম ধরলাম তখন থেকে তাদের প্রোপাগান্ডায় ভাটা পড়ে যায়। 

মূল বোম ফাটানো হয় থাবা বাবার, “লাড়ায়া দে” লিখা প্রকাশ করে। এই নাস্তিকদেরই বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কলম চালিয়ে, হারাতে হয়েছে ২০১৩ সালের অনলাইনের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী পেইজ Rajib Khaja Official এবং Rajib Khaja আইডী  যা টিকে থাকলে হয়তো কোটির উপর ফলোয়ার ছাড়িয়ে যেত। যাইহোক সোশ্যাল মিডিয়া ২০২০ সালে ছেড়ে দেওয়ার ফলে অনেক বিষয়, অনেক মানুষ, অনেক গজিয়ে ওঠা মুল্লা, ভাড়াটে ওয়াজি ও ছেলিব্রিটির সম্পর্কে ইলমের কমতিতে ভুগছি, আর যারা নব্য ফেবুটুবার তাদের মুখের সম্মুখে তো টিকাই যাবেনা মনে হচ্ছে। যাইহোক আমরা যখন ছিলাম তখন যাদের পিটানো হয়েছে তারা আশাকরি চিরকাল মনে রাখবে। কারন রোদেলা প্রকাশনী, বদ্বীপ প্রকাশনীর নাস্তিকদের দমন যদি আমরা না করতাম (যদিও তা কথিত আইনিভাবেই) তাহলে আজ সমাজের চিত্র অনেক ভয়ানক হয়ে যেত, যদি আমরা তখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র (ইহুদী সাংবাদিক ডেভিড ছিলো পশ্চিমাদের অন্যতম এজেন্ট) অনলাইন আর মাঠে ময়দানে, কোর্টকাচারিতে দৌড়ে না রুখতাম তাহলে আজ এই হাল ও কেউ পেতনা যা বাকী রয়েছে। বিঃদ্রঃ আমি রায়ের পর কোর্টের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার সময়ের ডেভিডের চেহারাটা আজো স্পষ্ট দেখি, আমি দেখি সালাহউদ্দিন আইয়্যুবি রহমতুল্লাহীর নগন্য সৈনিকরা আজো ইহুদীদের জন্য মাঠ খালি রাখেনি। যার সুত্র ধরেই মূলত নাস্তিক বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, সৃষ্টি হয় হেফাজতে ইসলাম (এখন যদিও হেফাজত নিরীহ শহিদদের রক্তের সাথে গাদ্দারির সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত)। শুধু এরাই না ইসরাঈল যে তার শকুনের দৃষ্টি বাংলাদেশের উপর নিবদ্ধ রেখেছে তা আমরা ২০১৬ সালে যখন ব্যাপকভাবে শুরু করে তখনই বুঝতে পারি। যখন মেন্দি এন সাফাদির গোপন কার্যক্রম, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী, মাওলানা কাজী আজিজুল হক (মার্কিন ইহুদী রিচার্ড বেনকিনের দেশিও এজেন্ট মাওলানা), বাংলাদেশের মোসাদ এজেন্ট বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টির নেতা মিঠুন চৌধুরী ও হিন্দু স্ট্রাগল কমিটির বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মিঃ শিপন কুমার বসু, কলকাতার মোসাদ এজেন্ট বিবেক দেব। শুধু এরাই নয় এমনকি এদেশের ইসলামিক জীবনকে অস্থির করতে বাদ যায়নি রিটা কার্টজ নামের ইহুদী এজেন্ট যে নিজেকে টেরোরিষ্ট হান্টার বলে দাবি করে থাকা সাধারণত, অথচ তার পিতাকে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফাসিতে ঝুলিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেনের ইরাক সরকার। এই মহিলা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আইএস রয়েছে এমন প্রোপাগান্ডাকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে কয়েক বছর আগে। এছাড়াও আরো অনেকেই আছে যা এইখানে প্রকাশ করলে লিখা অনেক লম্বা হয়ে যাবে।

উপরোক্ত প্রত্যেকটা বিষয়ই একটার সাথে অন্যটা জড়ীত, এইসব বিষয় ডিটেইলস, না জানলে পেছনের কলকাটি নাড়া ব্যক্তিদের না চিনলে যতই ঘবেষনা করা হোক, কোন ফায়দা হবেনা। সঠিক রোগ নির্নয় করে সঠিক ঔষধ প্রয়োগেই রোগ ভালো হয়, ঔষধ খাওয়ালেই রোগ ভালো হয়ে যাবেনা।

এবার আসি সমকামিতার বিরুদ্ধে দলিলভিত্তিক ধর্মীয় ফায়সালায়।

কেউ যদি জেনে বুঝে ইসলাম থেকে খারিজ হতে চায় তাহলে সে মুসলিম দাবীর পাশাপাশি এইসব কু কর্মের সমর্থন যেনো ভুলেও না করে, ব্যক্তিগত জীবনে যদিও সে খুব খারাপ মুসলিম হয়ে থাকে তার পরেও যেনো সে ভুলেও এই ফাদে পাড়া না দেয়।

এইযে এলজিবিটি নামক দ্বীন বিরোধী ক্যান্সার দ্বীনদারদের মধ্যে, দ্বীনদারদের পরিবারের মধ্যে ঢুকানোর কাজটা কেন করা হচ্ছে? কে করতে চায়? তা কিন্তু জাহেরিভাবে উপরে প্রমান সহ পেশ করা হয়েছে, তবে বাতেনিভাবে এর মূল হোতা কে তা না জানলে কিন্তু হবেনা।

মহান আল্লাহ পাক ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রু হিসেবে কাদের কথা বলেছেন এটা না জানলে, না মানলে এই কুকর্ম থেকে বাঁচা সো কলেড মুসলিমদের জন্যে অসম্ভব হয়ে যাবে আগামীর দিনগুলোতে। মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ) (তোমরা) শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (ছুরা বাক্বারা ২/১৬৮) এই শত্রু কি করবে এটাও স্পষ্ট বলে দিয়েছেনঃ (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ وَ مَنۡ یَّتَّبِعۡ خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ فَاِنَّهٗ یَاۡمُرُ بِالۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡکَرِ) হে মুমিনগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করো না। কেননা যে(বা যারাই) শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে (তাদের) অশ্লীলতা-নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেবে। (ছুরা নূরঃ ২৪/২১)

নিস্বন্দেহে সমকামিতা যত অশ্লীল কাজ আছে এর মধ্যে সবার উপরে। কারণ এটা জিনার মধ্যেও নিকৃষ্ট জিনার অন্তর্ভুক্ত, আর জিনার ব্যপারে মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (وَ لَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ کَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَ سَآءَ سَبِیۡلًا) আর জিনা(ব্যভিচারে)র ধারে-কাছেও যেও না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। (আল কুরআন ১৭/৩২) অর্থাৎ, যেকোন বিষয় সেটা যতো সিম্পল আর সামান্যই হোক, যার দ্বারা জিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, এর ধারে কাছে যাওয়া যাবেনা। ধরুন আপনার বাড়ীর পাশে একটি রাস্তা আছে, যেটার ৫ মাইল এর মাথায় একটি পতিতালয় আছে, মুমিন হলে সেই রাস্তায় ঢোকাই যাবেনা। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া চালালে যদি আপনি জিনায় লিপ্ত হওয়ার ভয় থাকে তাহলে সেটাও আপনার জন্যে নিষিদ্ধ। এই জিনার কারণে সামাজিক অনাসৃষ্টির সৃষ্টি হয়, জিনা-ব্যভিচারের কারণে এটা এত প্রসার লাভ করে যে, এর কোন সীমা-পরিসীমা থাকে না। এর অশুভ পরিণাম অনেক সময় সমগ্ৰ গোত্র ও সম্প্রদায়কে বরবাদ করে দেয়। এ কারণেই সম্মানিত দ্বীন ইসলামে এই অপরাধটিকে সব অপরাধের চাইতে গুরুতর বলে সাব্যস্ত করেছেন। এবং এর শাস্তি ও সব অপরাধের শাস্তির চাইতে কঠোর করেছেন। কেননা, এই একটি অপরাধ অন্যান্য শত শত অপরাধকে নিজের মধ্যে সন্নিবেশিত করেছে। রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম বলেনঃ জিনাকারী ব্যক্তি জিনা করার সময় মুমিন থাকে না। (মুসলিম শরীফ ৫৭)

এছাড়াও জিনার ব্যখ্যা দিতে গিয়ে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম বলেছেনঃ চোখের জিনা হল (যা হারাম সেদিকে) তাকানো এবং জিহ্বার জিনা হল মুখে (নিষিদ্ধ বিষয়ে কথা) বলা। (তখন) মন কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে (এইসব নিষিদ্ধ বিষয়ে, যার ফলশ্রুতিতে) লজ্জাস্থান তাকে হাক্বিকতে রূপ দেয়, অথবা বিরত রাখে। (বুখারি শরীফ ৬৬১২) সহীহ মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছেঃ দুই চোখের জিনা (যা হারাম তার দিকে) দৃষ্টিপাত করা, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। আর লজ্জাস্থান তাকে হাক্বিকতে রূপ দেয়, অথবা বিরত রাখে। (মুসলিম শরীফ ২৬৫৭)।

এখন কি চিন্তা করা যায়, সরাসরি সেক্সে দুইজন পুরুষ একে অন্যের সাথে, বা দুইজন নারী একে অন্যের সাথে লিপ্ত হচ্ছে এর ভয়াভহতা কত মারাত্বক?  

তবে আকাশ থেকে পড়ার মতো বিষয় হলোঃ একদল মানুষ এমন দাবিও করে থাকে যে সম্মানিত দ্বীন ইসলামে নাকি সমকামিতা হারাম নয়, নাউযুবিল্লাহ। এদের আবার ইসলামিক লেবাস তথা, দাড়ি, টুপি, হিজাবে মুড়িয়ে এইসব বলায় পশ্চিমারা। কোন মানুষ কতটুকু জাহিল হলে এইসব উদ্ভট দাবি করতে পারে? তাদের দাবি “সোডম শহরে” যেখানে লূত য়ালাইহিছ ছালামের কওম সমকামিতায় লিপ্ত ছিলো, সেগুলো নাকি ভয়ঙ্কর কাজ ছিলো, কি সেই কাজ তাদের মতে? তা হচ্ছে জোর করে ধর্ষন করা, জোর করে বিকৃত যৌনাচারপূরন করা। সমলিঙ্গের মানে পুরুষ পুরুষের সাথে প্রেম/বিয়ে, নারী নারীর সাথে প্রেম/বিয়ের কোন সম্পর্কই নাকি ছিলোনা, আউযুবিল্লাহ। এইসব মূর্খ বলদ জাহিলদের আসলে কি বলা যায়। তবে যারা দ্বীনদার তাদের তো এদের জবাব জেনে রাখা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ পাক হজরত লূত য়ালাইহিছ ছালামের উনার কওমকে বলা কথাগূলো হুবুহু নকল করে আমাদের জানিয়েছেন যেঃ (قَالَ لِقَوۡمِهٖۤ اَتَاۡتُوۡنَ الۡفَاحِشَۃَ مَا سَبَقَکُمۡ بِهَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنَ الۡعٰلَمِیۡنَ اِنَّکُمۡ لَتَاۡتُوۡنَ الرِّجَالَ شَهۡوَۃً مِّنۡ دُوۡنِ النِّسَآءِ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ مُّسۡرِفُوۡنَ) (ছাইয়্যিদুনা হজরত লূত য়ালাইহিছ ছালাম) উনার কওমকে বললেন, ‘তোমরা এমন এক অশ্লীল-নির্লজ্জ কাজের (প্রস্থাব পেশ) করছো, যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টিকুলের কেউই করেনি। তোমরা যৌন তৃপ্তির জন্যে নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন করিতেছো। আসলে তোমরা এক সীমালংঘনকারী জাতী। (ছুরা আ’রফ ৭/৮০-৮১)।

এখন তারা যে উক্ত আয়াত শরীফের মনগড়া ব্যখ্যা করে জাহিলের মতো বল্লো এটা সমকামিতা নয় বরং আপন কামনা চরিথার্ত করার জন্যে তারা পুরুষদের ধর্ষন করতো, এটা একটা খারাপ নিকৃষ্ট কাজ, তাহলে কি মহিলাদের ধর্ষন করলে তা উত্তম বলে মনে হতো তাদের নিকট?

যাইহোক, উক্ত আয়াত শরীফ থেকে আমরা যা পেলাম, ছাইয়্যিদুনা হজরত লূত য়ালাইহিছ ছালাম উনার কওমই ছিলো প্রথম সমকামী, এবং সমকামিতাকে অশ্লীল-নির্লজ্জ কাজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং যারা এইসব করে তারা হচ্ছে মুছরিফুনদের অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত সিমা লঙ্গন করে লানতপ্রাপ্ত হয়ে যায়, এবং নিজ কর্মে আযাবের হক্বদার হয়।

সম্মানিত দ্বীন ইসলামে মহান আল্লাহ পাক সেক্সের বৈধ উপায় ও কাঁদের সাথে সেক্স বা যৌন তৃপ্তি কেউ লাভ করতে পারবে তা একেবারে ক্লিয়ার কাট বলে দিয়েছেন। (وَ الَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ) আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে, তবে আপন স্ত্রী, কিংবা নিজেদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বেলায় (এ বিধান প্রযোজ্য) নয়, (বরং এদের সাথে সহবাসে) তারা কখনো তিরস্কৃত হবে না, কিন্তু এই (বিধিবদ্ধ উপায়) ছাড়া যদি অন্য কোনো (পন্থায় কেউ সহবাস করতে) চায়, তাহলে তারা হবে সীমালংঘনকারী (জালিম)। (আল কুরআন ২৩/৫-৭, ৭০/২৯-৩১)। অতএব স্পষ্ট হয়ে গেলো যে স্ত্রী ও দাসি ব্যতীত অন্য কারো সাথে যৌন তৃপ্তি মেটানো যায়েজই না, সেখানে পুরুষদের সাথে চিন্তা করাও কুরআন সুন্নাহ বিরোধী আক্বিদাহ। আর নারীদের উপর যে পর্দা ফরজ করা হয়েছে, প্রেম ভালোবাসা হারাম করা হয়েছে বিয়ে ছাড়া দেখা সাক্ষাত করা হারাম, এর মূলেই হলো যৌনতা, যা স্পষ্ট ভাষায় মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে বলেই দিয়েছেনঃ (قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَغُضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِهِمۡ وَ یَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَهُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَزۡکٰی لَهُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ) (হে নবী ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম, আপনি) মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন (নারীদের বেলায়) তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্রতার বিষয়। (কেননা) তারা যা করে নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক সেই বিষয়ে সম্যক অবগত। (ছূরা নূর ২৪/৩০)

এই মূর্খ সমাকামি মুসলিম দাবীদাররা কি জানেনা যে নিজের সতরকে অন্যের সামনে উন্মুক্ত করা থেকে দূরে থাকাও যৌনাঙ্গ সংযত করার অন্তর্ভুক্ত। (ফাতহুল কাদীর) আর পুরুষের জন্য সতর তথা লজ্জাস্থানের সীমানা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত (পুরুষদের) সতর।” (দারুকুতনীঃ ৯০২) শরীরের এ অংশ স্ত্রী/দাসি ছাড়া আর কারোর সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে খোলা হারাম। এক সাহাবী বলেন, একবার রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের মজলিসে আমার রান খোলা অবস্থায় ছিল। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “তুমি কি জানো না, রান ঢেকে রাখার জিনিস?” (তিরমিযী শরীফ ২৭৯৬, আবু দাউদ শরীফ ৪০১৪) অন্য এক হাদীছে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ “নিজের স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া বাকি সবার থেকে নিজের সতরের হেফাজত করো।” এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করে, আর যখন আমরা একাকী থাকি? জবাব দেনঃ “এ অবস্থায় মহান আল্লাহ তায়ালা থেকে লজ্জা করা উচিত, তিনিই এর (সর্বচ্চো) হকদার।” (আবু দাউদ শরীফ ৪০১৭, তিরমিযী শরীফ ২৭৬৯, ইবনে মাজাহ শরীফ ১৯২০)। অন্য আরেক হাদীস শরীফে এসেছে, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ “কোন পুরুষ যেনো অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়, অনুরূপভাবে কোন মহিলা যেনো অপর মহিলার লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায় এবং কোন পুরুষ যেনো অপর কোন পুরুষের সাথে একই কাপড়ে (উলঙ্গ হয়ে) অবস্থান না করে, তদ্রুপ কোন মহিলাও যেন অপর মহিলার সাথে একই কাপড়ে (উলঙ্গ হয়ে) অবস্থান না করে। (মুসলিম শরীফ ৩৩৮)

যারা ছুরা আ’রফ ৭/৮০-৮১ নং আয়াত শরীফের কু-ব্যখ্যা করতে চায় তারা হার্টলেছ নাপাক খিঞ্জীর মূলত, নাহলে এদের মগজে এটা অন্তত আসতো যে মহিলাদের দিকে প্রেমময় দৃষ্টি তো দূরের বিষয় সাধারণ দৃষ্টিও যায়েজ থাকতো, যাতে চোখে দেখে কামনার উদ্ভব হলে লজ্জাস্থানের বাসনা মেটানোতে কোন আপত্তি আসতনা, হেফাজতের উপর হুকুম জারি হতোনা।

অতএব স্পষ্ট হয়ে গেলো যে যত নিকৃষ্ট অশ্লীল কাজ রয়েছে কায়েনাতে এর মধ্যে, সমকামিতা হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ। এখন এই অনাচারের ফলে কি শুধু সমাজই ধ্বংস হবে?

না মোটেও না, বরং আসমানি বলা, গজব নামানোর চেষ্টা যে করা হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নাই। কারণ নবী ছাইয়্যিদুনা হজরত লূত য়ালাইহিছ ছালাম উনার ক্বওমের মধ্যে প্রথম এই কুকর্মের উদ্ভব ঘটায় শয়তান। কেন? কারন সে জানে, কোন কোন কাজ দ্বারা একজন মানুষ কিংবা পুরো ক্বওম ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। সে খুব ভালো করেই জানে যে মহান আল্লাহ পাক তিনি শাস্তির বেলায় এটা দেখবেন না যে কু-কর্ম মুসলিম নাকি মুশরিক, নাকি নাস্তিক করতেছে, তিনি অপরাধের বিপরীতে ইনসাফ ভিত্তিক শাস্তি প্রদান করেন সেটা উনাকে স্বীকার করা বান্দারা হয়ে থাকলেও।

স্বরনীয় যে, যখন ছাইয়্যিদুনা হজরত লূত য়ালাইহিছ ছালাম উনার কওমকে নসিহত করেন সমকামিতায় লিপ্ত না হতে, এটা যে অত্যন্ত অশ্লীল কাজ, নাপাকি কাজ তখন তারা উনার নসিহতের বিপরীতে নিজ মুখেই এটা বলেছিলোঃ (اَخۡرِجُوۡهُمۡ مِّنۡ قَرۡیَتِکُمۡ ۚ اِنَّهُمۡ اُنَاسٌ یَّتَطَهَّرُوۡنَ) এদেরকে (ছাইয়্যিদুনা হজরত লূত য়ালাইহিছ ছালাম উনি ও উনার অনুসারীদের) তোমরা তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা নিজেদেরকে বড় পাক-পবিত্র রাখতে চায়। (আল আ’রফ ৭/৮২) অর্থাৎ তারা নিজেরাই বুঝতে পেরেছিলো যে তারা যে পুরুষে পুরুষে যৌনতৃপ্তি মেটাতে চায় ইহা অত্যন্ত নাপাক কাজ।

এখন এই যে তারা সমকামিতায় লিপ্ত হয়েছিলো, যার ফলে তারা মুছরিফুন অর্থাৎ সিমালঙ্গনকারিদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো এর ফলে তাদের কি শাস্তি দেওয়া হলো? এটাও মহান আল্লাহ পাক আল কুরআনের মধ্যে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (وَ اَمۡطَرۡنَا عَلَیۡهِمۡ مَّطَرًا ؕ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ) আমি তাদের ওপর প্রচণ্ড (আযাবের) বৃষ্টি বর্ষন করলাম। অতঃপর আপনি (ভালো করে চেয়ে) দেখুন, পাপি-নিকৃষ্ট লোকদের পরিণাম কি হয়েছিল। (আল আ’রফ ৭/৮৪) রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মতের ব্যপারে যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভয় পাচ্ছি তা হলো, তারা ছাইয়্যিদুনা হজরত লুত য়ালাইহিছ ছালাম উনার জাতির (মতো) কাজ করে বসবে’। (তিরমিযী শরীফ ১৪৫৭) আর যারা এরূপ কাজ করবে মুসলিম হয়ে, উম্মত হয়ে, তাদের ব্যপারে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ছাইয়্যিদুনা হজরত লুত য়ালাইহিছ ছালাম উনার জাতির (মতো) কাজ করে তাকে মহান আল্লাহ পাক লা'নত করেছেন। (কথাটা তিনি ৩ বার বলেছেন।) (মুসনাদে আহমাদ শরীফ ১/৩০৯) শুধু তাই নয় উনার যারা উম্মত দাবীদার তাদের উপর এই হুকুম দিয়েও গেছেন যেঃ “যদি কাউকে তোমরা ছাইয়্যিদুনা হজরত লুত য়ালাইহিছ ছালাম উনার জাতির (মতো) কাজ করতে দেখ তবে যে এ কাজ করছে এবং যার সাথে করা হচ্ছে উভয়কেই হত্যা কর। (আবু দাউদ শরীফঃ ৪৪৬২)। আর সমকামিতা এমন এক যুলুম, কেবল সাহায্য করলেও চিরস্থায়ী যাহান্নাম কনফার্ম, যদিও ঐ ব্যক্তির সাথে কোন নবী, রছুল, অলি আউলিয়ার নিছবত থাকেঃ (ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا لِّلَّذِیۡنَ كَفَرُوا امۡرَاَتَ نُوۡحٍ وَّ امۡرَاَتَ لُوۡطٍ ؕ كَانَتَا تَحۡتَ عَبۡدَیۡنِ مِنۡ عِبَادِنَا صَالِحَیۡنِ فَخَانَتٰهُمَا فَلَمۡ یُغۡنِیَا عَنۡهُمَا مِنَ اللّٰهِ شَیۡئًا وَّ قِیۡلَ ادۡخُلَا النَّارَ مَعَ الدّٰخِلِیۡنَ) যারা কুফরি করেছে, মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য হযরত নূহ ও হযরত লূত য়ালাহিমাছ ছালামদের আহালিয়াদের মিছাল পেশ করেছেন। তারা দু’জনেই ছিল আমার দু’জন ছ্বলেহ বান্দার অধিনস্থ আহালিয়া, কিন্তু তারা উভয়েই (আমার) সেই দুই বান্দার সাথে (ইমানের ব্যাপারে) বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, অতএব মহান আল্লাহ তায়ালা উনার (আযাব) থেকে আহালেরা (নবী হওয়া সত্বেও) কিন্তু তাদের বাঁচতে পারলেন না, বরং (তাদের) বলা হলো, তোমরা আজ প্রবেশ করো জাহান্নাম এর আগুনে যারা এখানে প্রবেশ করেছে তাদের সবার সাথে। (আল কুরআন ৬৬/১০)

এখন ইসলামিক খেলাফত যেহেতু নাই, সেহেতু এই হুকুম তুমি চাইলেও পালন করতে পারবেনা এটা আমি তুমি সবাই জানি, কিন্তু প্রতিবাদ তো করতে পারবে হে? যদি তাও না করো তাহলে তুমি না উম্মত না বান্দা থাকবে, কারন মহান আল্লাহ পাক স্পষ্ট বলেই দিয়েছেনঃ (وَ مَاۤ اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ فَخُذُوۡهُ ٭ وَ مَا نَهٰىکُمۡ عَنۡهُ فَانۡتَهُوۡا ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ۘ) রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তোমাদেরকে যা (আদেশ) দেন, তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক এবং তোমরা মহান আল্লাহ তা’আলার তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় মহান আল্লাহ তা’আলা শাস্তি দানে (অত্যন্ত) কঠোর।” (ছুরা হুজুরাত ৫৯/৭)

অতএব স্পষ্ট হয়ে গেলো যে কেবল মহান আল্লাহ পাক তিনিই নন, সমকামিতার ব্যপারে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যে আদেশ করেছেন তার ব্যপারে যদি কেউ গড়িমসি করে তাহলে তা মান্য করা ফরজ, আর এতে তাক্বওয়া হাছিল হবে। আর যদি কেউ না মানে তাহলে সে মুসলিম হলেও মহান আল্লাহ তায়ালা তার ব্যপারে কাহহার হয়ে যাবেন।

আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তিনি নিজেই বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায়/গর্হিত কাজ হতে দেখবে, সে যেনো তা তার নিজ হাত দ্বারা প্রতিবাদ/প্রতিহত করে। যদি (তাতে) সক্ষম না হয়, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা (উপদেশ দিয়ে হলেও পরিবর্তন করে)। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তত অন্তর দ্বারা (ঘৃণা করে)। আর এ হল সবচেয়ে দুর্বল ঈমান। (বুখারী শরীফ ৯৫৬, মুসলিম শরীফ ৪৯, তিরমিযী শরীফ ২১৭২, নাসায়ী শরীফ ৫০০৮, ৫০০৯, আবূ দাউদ শরীফ ১১৪০, ৪৩৪০, ইবনু মাজাহ শরীফ ১২৭৫, ৪০১৩, আহমাদ শরীফ ১০৬৮৯, ১০৭৬৬, ১১০৬৮, ১১১০০, ১১১২২, ১১১৪৫, ১১৪৬৬, দারেমী শরীফ ২৭৪০১)।

এখন যারা মুসলিম হয়ে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লানতপূর্ন কাজ সমকামিতাকে সাপোর্ট, আইন পাশের পায়তারা করছে, করবে তাদের ফায়সালা কি হবে এটাও কি আর বলে দিতে হবে?

আর মানুষ কি মনে করে নিয়েছে যে মহান আল্লাহ পাক তাদের ছেড়ে দিবেন? না মোটেও না মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (وَ کَمۡ قَصَمۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ کَانَتۡ ظَالِمَۃً وَّ اَنۡشَاۡنَا بَعۡدَهَا قَوۡمًا اٰخَرِیۡنَ) ‘আমি ধ্বংস করেছি কত জনপদ, যার অধিবাসীরা ছিল জালিম (পাপাচারী) এবং তাদের পরে সৃষ্টি করেছি অন্য জাতি। (ছুরা আম্বিয়া য়ালাইহিছ ছালাম ২১/১১) এই জিনিস আযাযিল খুব ভালো করেই জানে, সাথে জানে ইহুদীরাও যে কোন কাজ করলে মুসলিম জাতির উপর গজব নামবে, তারা মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে বঞ্চিত তো হবেই, উল্টো গজবে পতিত হবে, আর তারা নিজেরাও জান প্রান দিয়ে দেয় যখনই কোন যায়গায় কোন ঈমান ওয়ালা মুসলিম মিল্লাত তারা খোজে পায়, কারণ তারা হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শত্রু, যা মহান আল্লাহ পাক স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেনঃ (لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَۃً لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الۡیَهُوۡدَ وَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا) অবশ্যই মুমিনদের ব্যপারে শক্রতায় মানুষের মধ্যে প্রথমে ইহুদী অতঃপর মুশরিকদেরকেই আপনি সবচেয়ে উগ্রপন্থী হিসেবে দেখতে পাবেন। (ছুরা মায়েদা ৫/৮২) তাই তারা তাদের শত্রুতা প্রকাশ করেই যাবে, গাজা ও ফিলিস্থিন আর ভারতের দিকে তাকালে উক্ত আয়াত শরীফ পানির মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে যখন তারা সরাসরি কাউকে দমাতে না পারে তখন মুসলিমদের দিয়ে এমন সব কাজ করাবে যাতে করে তারা নিজেরাই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার গযবে পতিত হয়। তারা জানে যে সমকামিতা, জিনা ব্যভিচার যদি মুসলিম জনপদে লাভ করে, তাহলে অচিরেই কোন যুদ্ধ, বা টাকা পয়সা খরচ করা ছাড়াই তারা মুসলিম জাতিকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার গজব দিয়েই ধ্বংস করে দেবে।

শুধু সোডোম নগরীর (ছাইয়্যিদুনা হজরত লূত য়ালাইহিছ ছালাম উনার) জাতিই সমকামিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে এমন না, বরং ইতালির পম্পেই নগরী ও তার বাসিন্দারাও সমকামিতার, জিনা ব্যভিচারের জন্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো, যা আজ আমাদের সম্মুখে প্রকাশ হয়ে গেছে। পৃথিবীর প্রাচীনতম অভিজাত জনপদগুলোর একটি ছিল এই পম্পেই নগরী। সে সময় প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি ছিল নগরটি। এটি ছিল দুই হাজার বছরের পুরনো একটি অভিজাত শহর। কিন্তু সমকামিতার, জিনা ব্যভিচারের দরূন তারাও ইতিহাসের পাতায় ইতিহাস হয়ে যায়।

৭৪ ঈসায়ী সনের এক ভরদুপুর। আত্মহারা খোদাবিমুখ সমকামী জেনাখোর পম্পেই নগরীর অধিবাসীরা আনন্দ-উল্লাসে নিজেদের মত্ত রেখেছিল। এমনই সময়ে নেমে এলো খোদায়ি গজব। ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, শহরের পাশে অবস্থিত ভেসুভিয়াস পর্বতের আগ্নেয়গিরিতে শুরু হয় বিশাল আকারের অগ্ন্যুৎপাত, যাতে পম্পেই শহরসহ শহরের দুই লাখ অধিবাসী দিনদুপুরে মাত্র অল্প কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে অন্তত ৭৫ ফুট অগ্নির লাভা আর ছাইভস্মের নিচে বিলীন হয়ে যায়। তাত্ক্ষণিক জীবন্ত কবর রচিত হয় শহরের মধ্যে থাকা সমকামী জেনাখোরসহ সকল মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদসম্ভারের। উল্লেখ্য, ১৯৪৪ ঈসায়ী সনে আবারও এই আগ্নেয়গিরিটি বিস্ফোরিত হয়েছিল, যাতে অন্তত ১৯ হাজার মানুষ নিহত হয়। কিন্তু সেটি ৭৪ ঈসায়ী সনের বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ ছিল না, যা টানা ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত অগ্নিবৃষ্টি বর্ষণ করেছিল। আর ভূমধ্যসাগরের সাত মাইল ভেতর পর্যন্ত অগ্নি-লাভা ছড়িয়ে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে তখন এর অগ্নি-লাভার তীব্রতা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণের চেয়েও শক্তিশালী ছিল। ওপরের দিকে অন্তত ৯ মিটার পর্যন্ত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ধাবিত হয়েছিল। এর পর থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত শত শত বছর ধরে আধুনিক মানবসভ্যতার অগোচরেই থেকে যায় এই অভিশপ্ত শহরটি। কিন্তু ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে কিছু অ্যামেচার আর্কিওলজিস্ট সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন ধ্বংস হয়ে যাওয়া পম্পেই নগরী। শুরু হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে ধ্বংসলীলা থেকে মমি হয়ে থাকা মৃতদেহ আর অভাবনীয় সব স্থাপনা উদ্ধারের মহাযজ্ঞ। আর ধীরে ধীরে সেখানে বাড়তে থাকে উত্সাহী জনতার আনাগোনা। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, দুই হাজার বছরের পুরনো এই ধ্বংসলীলা থেকে এখনো অবিকৃত অবস্থায় তাদের দেহগুলো পাওয়া যাচ্ছে। যে যেভাবে ছিল, অবিকল সেভাবেই পড়ে আছে, এমনকি সমকামিতার হালেও পাওয়া যায় মুর্তি। মহান রব আল্লাহ তা’য়ালা আগত প্রজন্মকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য উনার নিদর্শন নৈপুণ্যতায় এসব মৃতদেহকে বছরের পর বছর মাটির নিচে সযত্নে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। কালের বিবর্তনে কয়েক হাজার বছরের পুরনো সেই পর্যটনকেন্দ্র আবার পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু চির উন্নত সেই পম্পেই নগরী ইতিহাসের অভিশপ্ত নগরী হয়ে মানুষের শিক্ষা গ্রহণের পাঠশালা হয়ে আত্মপ্রকাশ করলেও মানুষ তার থেকে শিক্ষা নিতে মোটেও রাজি না।

এখন যারা বোঝার তারা তো বুঝে গেছেন মুসলিম থাকতে হলে প্রতীবাদ করাই লাগবে, পলায়নের সুযোগ নাই। সেহেতু করণীয় কি?

করণীয় হলো টানা তীব্র প্রতীবাদ, রাজধানীর কোন একটা যায়গায় যারা নিজেদের মুমিন দাবি করবে তারা শান্তিপূর্ন মানববন্ধন ও অনশনে বসে যেতে পারে। এই আইন কোন অবস্থায় পাশ হতে দেওয়া যাবেনা। কারণ আইন পাশ হওয়ার পর আপনি চাইলেও কিছু বলতে পারবেন না, করতেও পারবেন না। বরং এর বিরুদ্ধে বলার জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে। আইন পাশ হলে ট্রান্স-ওম্যানঃ “মানে যে নিজেকে নারী দাবি করে কিন্তু শরীর মাশাআল্লাহ পুরুষের” যেহেতু সে নারী হিসাবে বিবেচিত হবে তাই সে ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে আমাদের বোনের রুমে পাশাপাশি থাকবে। আর যে ঢুকবেই কু নিয়তে সে আমাদের বোনের সাথে কি করতে পারে তা বলার কি কোন প্রয়োজন আছে?

সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের বিশেষ কিছু সুযোগ রয়েছে, উক্ত পশুদের জন্যে আইন পাশ হলে ট্রান্স-ওম্যান যেহেতু নারী হিসাবে বিবেচিত হবে, এই ট্রান্স ওম্যান তখন নারীদের সেই সুযোগ-সুবিদায় ভাগ বসাবে। একটা আস্তো জোয়ান ছেলে, সারাজীবন পুরুষ থেকে হঠাৎ করে নিজেকে নারী দাবি করা শুরু করলো, বছর ছ-মাস ফেবুতে সুশীলদের ট্যাগাই অতপর নারী কোটা ব্যবহার করে চাকরি নিয়ে নিল। এতে কি পুরুষদের কোন লস আছে? নাকি নারীদেরই সর্বনাশ হলো?

এই নোংরা আইন একবার পাশ হলে আপনি আপনার ছেলে কিংবা মেয়েকে আর কোন ধরণের শাসন করতে পারবেন না যদি হঠাৎ করেই তারা নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার নামক পশু দাবি করে বসে। তখন শাসন করতে গেলে উল্টো আপনাকেই শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মামলায় ফাসানোর জন্যে মুখিয়ে আছে শত শত এনজিও।

অতএব প্রত্যেক ফেইসবুকার ইউটিউবার যারাই নিজেদের মুসলিম ভাবে, তাদের দিন যেনো শুরু হয় এই বিষয়ে যেকোন ভালো লেখকের লিখা শেয়ার করে হ্যাসট্যাগ দিয়ে হলেও। মনে রাখতে হবে যে ইস্যু টাকে জারি রাখতে হবে। বানের পানির মতো এক দুই দিনের মধ্যে শেষ হওয়ে যাওয়া কোন ইস্যু বানানো যাবেনা। বরং খসড়া আইন যেটার প্রস্তাব দেওয়া হয়ছে, এই বছরের ডিসেম্বরেই পাশ করার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত ইস্যুটা জীবন্ত রাখতে হবে, যদিও কাজটা সহজ নয় তবে একতাবদ্ধ হয়ে করলে সবই সম্ভব। প্রতিদিন ভ্লগাররা লাইভে এর প্রতীবাদ করতে পারে, যাতে করে ইস্যুটাকে জিইয়ে রাখা যায়, নতুবা ইসলাম বিদ্বেষীরা নব্য কোন ইস্যু দিয়ে এই ইস্যুটাকে গায়েব করে দিবে। আর যখন তা মানুষের অন্তর থেকে মুছে যাবে তখন তা তাদের নিল নকশা বাস্তবায়নে আর কোন বাধা থাকবেনা।

যাইহোক আযাব, গজব, নসিহত, ইতিহাস, কুরআন সুন্নাহ থেকে দলিল প্রমান দিয়েও কতটুকু কাজ হবে আমার জানা নাই, কারণ হেদায়েত মূলত মহান আল্লাহ তায়ালা উনার হাতে, তবে বান্দা হিসেবে আমার উপর যে হক্ব মহান মালিকের, এর পরমাণু পরিমাণ আদায়ের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছি।