প্রত্যেক মানুষের ৩ ধরণের শত্রু রয়েছে, সে যেকোন ধর্মের
মানুষই হোক না কেন। এখন
সে যদি তার শত্রু সম্পর্কে অবগত না হয় তাহলে সে যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এতে কোন সন্দেহ
নাই। আর
মানুষের এই সবচেয়ে বড় শত্রুদের অন্যতম তার নিজের নফছ, অতঃপর তার হামজাদ ক্বরিন, অতঃপর
ইবলিছ (অর্থাৎ আযাজিল, যে সকল শয়তানের প্রভু।)
আমরা প্রথমে ক্বরিন সম্পর্কে জানবো, কেননা নফছ ও ইবলিছ
সম্পর্কে সবাই কম বেশী অবগত হলেও, ক্বরিন সম্পর্কে অধিকাংশ য়া’লীম-উলামার পর্যন্ত
ধারণা নাই। আর
কোন বিষয়ে যদি ধারনাই না থাকে, তাহলে সেটার সুফল কিংবা কুফল কীভাবে কেউ জানবে? অথচ
এই ক্বরিন হচ্ছে একজন মানুষকে খুব সহজে নফছের পূজারী বানানোর মানবসন্তানের সাথে
থাকা ইবলিছী এজেন্ট। একজন মানুষের য়া’মল আখলাক, ঈবাদাত, ইমান নষ্টের মূল কারিগর,
নফছকে উস্কে দিয়ে মানুষকে বরবাদ করার অন্যতম কারিগর হলো এই ক্বরিন। ইবলিছ শয়তান তো আমাদের সাথে থাকেনা। সে দূরে থেকে তার সকল ফেত্নাময়
কর্মকান্ড আমাদের জীবনে পরিচালনা করে আমাদের সাথে ২৪ ঘন্টা জোকের মতো লেগে থাকা
তার অন্যতম জাসুস, গোয়েন্দা ক্বরিনকে দিয়ে। যদি কেউ ক্বরিন সম্পর্কে না জানে,
তাহলে সে কোনদিন ও পরিপূর্ন নামাজী, রোজাদার, জাকাতি, হাজী হতে পারবেনা, কোন দিন ও
না। না
সে কোনদিন তাজকিয়া লাভ করে পাক পবিত্র নফছ ও ক্বলবের অধিকারী হতে পারবে, তাই
ক্বরিন সম্পর্কে জানা বাধ্যতামূলক প্রত্যেক মানুষের জন্যে, হ্যাঁ মানুষের জন্যে, কেবল
মুছলিমের নয়, সকল মানুষের জন্যে।
ক্বরিন (قَرِين) একটা আরবি শব্দ। ক্বরিন দ্বারা সঙ্গী, সাথী ও সহচর বুঝায়। এইযে ক্বরিন মানুষকে পথভ্রষ্ট করে,
অন্যায়-অশ্লীল কাজের দিকে প্ররোচিত করে। কুকর্ম ছাড়া ভালোকাজে উৎসাহ দেয়
না। এই
ক্বরিনকে ক্বুরআন হাদিছের ভাষায় সহচর শতয়ান বলা হয়। ক্বরিন সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য
পাওয়া যায় রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার বাণীতে, যেখানে
তিনি বলেনঃ (مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا
وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ. قَالُوا:
وَإِيَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَإِيَّايَ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ
فَأَسْلَمَ فَلَا يَأْمُرُنِي إِلَّا بِخَيْرٍ) তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি (অবশিষ্ট)
নেই; যার সঙ্গে তার সহচর ক্বরিন যিন শয়তান) ও একজন মালাক (ফেরেশতা) নিযুক্ত করে
দেওয়া হয়নি। ছ্বহাবায়ে
কেরাম রদ্বিআল্লাহু আনহুমগন জিজ্ঞাসা করলেনঃ ‘ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! আপনার সঙ্গেও কি? তিনি বললেন; হ্যা আমার সঙ্গেও
নিযুক্ত ছিলো তবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছেন, ফলে সে
আমার নিকট ইছলাম গ্রহণ করে মুছলিম হয়ে গেছে। ফলে এখন সে আর আমাকে ভাল কাজ
ব্যতীত খারাপ কাজের কোন ওয়াছ ওয়াছা দেয় না। (মিশকাতুল মাছাবিহ ৬৭, মুছলিম শরীফ
২৮১৪) শুধু তাই না, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার সাথেই আছে, এবং কীভাবে কাজ করে এর
নমুনাও পাওয়া যায় খোদ উম্মাহাতুল মুওমিনিন য়ালাইহিন্নাছ ছালামদের জীবনে। হাদিছ শরীফে এসেছেন, হজরত আঈশা
ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালাম থেকে বর্ণিত। (وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ
وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا لَيْلًا قَالَتْ:
فَغِرْتُ عَلَيْهِ فَجَاءَ فَرَأَى مَا أَصْنَعُ فَقَالَ: «مَا لَكِ يَا عَائِشَةُ
أَغِرْتِ؟» فَقُلْتُ: وَمَا لِي؟ لَا يَغَارُ مِثْلِي عَلَى مِثْلِكَ؟ فَقَالَ رَسُولُ
اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ : «لَقَدْ جَاءَكِ شَيْطَانُكِ»
قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ أَمْعِي شَيْطَانٌ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قُلْتُ: وَمَعَكَ
يَا رَسُولَ الله صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالَ: «نعم وَلَكِن أَعَانَنِي علَيهِ حَتَّى
أَسْلَم) তিনি বলেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লাম এক রাতে উনার (আঈশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালামের) কাছ থেকে বের হয়ে গেলেন। তিনি (আঈশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ
ছালাম) বলেনঃ আমি উনার প্রতি ঈর্ষান্বিত/অভিমানী হয়ে পড়লাম। তারপর তিনি ফিরে এলেন এবং আমি কী
করছি তা দেখে বললেন, “তোমার কী হলো, হে আঈশা? তুমি কি ঈর্ষা করেছ?” আমি বললাম, “আমার
কী হবে? আমার মতো একজন কি আপনার মতো একজনের ব্যাপারে ঈর্ষা করবে না?” তখন রছুলে
পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “নিশ্চয়ই তোমার কাছে
তোমার শয়তান্নী (ক্বরিনা) চলে এসেছে।” তিনি (আঈশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালাম) বললেন, “ইয়া
রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম, আমার সাথেও কি শয়তান্নী
রয়েছে? তিনি বললেন হ্যাঁ, আমি বললাম আপনার সাথেও কি (লাগানো) আছে? তিনি বললেন, আমার
জন্যেও ছিলো তবে মহান আল্লাহ পাক তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন সে ইছলাম
কবুলের আগ পর্যন্ত। (মিশকাতুল
মাছাবিহ ৩৩২৩, মুছলিম শরীফ ২৮১৫) অন্য হাদিছে এসেছেনঃ (عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُوْلُ
اللهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ لَا تَلِجُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ
يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ قُلْنَا وَمِنْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ؛
وَمِنِّي وَلَكِنَّ اللهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَم) জাবের বিন আবদুল্লাহ রদ্বিআল্লাহু আনহু
বলেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, তোমরা
এমন মহিলাদের নিকট গমন করো না, যাদের স্বামী বাড়িতে থাকেনা। কারণ শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের
শিরায়-উপশিরায় রক্তের সাথেই প্রবাহিত হয়। আমরা বললাম, “ইয়া রছুলাল্লাহ
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! আর আপনার?’ তিনি বললেন, আমার জন্যেও
ছিলো তবে মহান আল্লাহ পাক তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন ফলে সে আমার নিকট
ইছলাম গ্রহণ করে মুছলিম হয়ে গেছে। (মুছনাদে আহমাদ ১৪৩২৪, ইবনে মাজাহ শরীফ ১৭৭৯, তিরমিযী
শরীফ ৯৩৫, ১১৭২, দারিমী ২৮২৪)
অতএব এটা স্পষ্ট যে আমাদের সাথে শায়াত্বীনদের মধ্যে
স্পেশাল একটি স্পেশিছ ক্বরিন জন্ম থেকেই লাগানো আছে, যার কাজ হলো আমাদের খারাপ
কাজের ওয়াছ ওয়াছা দিয়ে জাহান্নামী বানানো, নাফরমানে ইলাহী বানানো। মানুষকে কুমন্ত্রণা দেওয়া কিংবা
প্ররোচনা প্রদানকারী এই যিন শয়তানের মানুষের সঙ্গে থাকার বিষয়টি ক্বুরআনুল কারিমেও
সুস্পষ্ট ভাবে এসেছে। কেয়ামতের দিন মানুষের সঙ্গী এ শয়তান খোদ মহান আল্লাহ তা’য়ালা
উনার সাথেই বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হবে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (قَالَ قَرِیۡنُهٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطۡغَیۡتُهٗ وَ لٰکِنۡ کَانَ
فِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ - قَالَ لَا تَخۡتَصِمُوۡا
لَدَیَّ وَ قَدۡ قَدَّمۡتُ اِلَیۡکُمۡ بِالۡوَعِیۡدِ) তার সহচর শয়তান ক্বরিন বলবে, ‘হে আমাদের
রব! আমি তাকে (অর্থাৎ আপনার এই বান্দাকে) অবাধ্য হতে প্ররোচিত করিনি। বস্তুতঃ সে নিজেই ছিল ঘোর
বিভ্রান্ত। মহান
আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন, তোমরা আমার কাছে বাক-বিতণ্ডা করো না। আমিতো আগেই তোমাদের (এই বিষয়ে)
সতর্ক করেছিলাম। (ছুরা
কাফ, ৫০/২৭-২৮) উক্ত আয়াত শরীফের তাফসীরে রইসুল মুফাছছিরিন হজরত ইবনে আব্বাছ
রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেনঃ এটাই হলো আমাদের সাথে নিয়োগকৃত শয়তান ক্বরিন। হাদিছ শরীফে এসেছেঃ হজরত
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বীআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ (إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلاَ يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ
فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّ مَعَهُ الْقَرِينَ) তোমাদের কেউ যখন নামাজ পড়ে, তখন সে যেনো
তার সামনে দিয়ে কাউকে যেতে না দেয়। যদি সে অস্বীকার করে (বাধা মানতে না চায়) তবে সে
যেনো তার সঙ্গে ঝগড়া করে। কেননা তার সঙ্গে তার সঙ্গী শয়তান (ক্বরিন) রয়েছে।’ (মুছলিম শরীফ ৫০৬) কেননা
শয়তানকে সেজদা দেওয়া শিরক এর অন্তর্ভুক্ত।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা ক্বরিন সহ সকল শায়াত্বীন থেকে বেঁচে
থাকার জন্যে উনার নিকট আর্জি পেশ করতে বলেছেন প্রতিনিয়ত। যেমনঃ মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ
(رَّبِّ اَعُوۡذُ بِکَ مِنۡ ہَمَزٰتِ الشَّیٰطِیۡنِ وَ اَعُوۡذُ
بِکَ رَبِّ اَنۡ یَّحۡضُرُوۡنِ) হে আমার প্রতিপালক, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই শয়তান (ক্বরিন) এর
প্ররোচনা-কুমন্ত্রণা থেকে; হে আমার প্রতিপালক, এমনকি আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই
যেনো এই শয়তানেরা আমার ধারে-কাছেও উপস্থিত হতে না পারে তার জন্য। (২৩/৯৭-৯৮)
তবে কেবল দোয়ায় কাজ হবেনা, মূলে ক্বরিন থেকে বাঁচতে হলে
আমাদের যেটা করতে হবে সেটা হলো মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার জিকির, কেননা হাদিছ শরীফে
এসেছেন, শয়তান যে মানুষের রগে রগে চলার ক্ষমতা রাখে, এবং ক্বলবের দখল নেয়, আর সেটা
থেকে কেবল জিকরুল্লাহ হেফাজত করতে পারেন, তা খোদ ছ্বহাবীদেরকেও নবী করীম
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ব্যাপারেও ওয়াছ ওয়াছা দিতে
সক্ষম এর প্রমান ও মিলে। ছ্বফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই য়ালাইহাছ ছালাম থেকে মরফূ হাদিছ
হিসেবে বর্ণিত রয়েছে যে তিনি বলেনঃ (عَنْ صَفِيَّةَ عَلَيْهَ السَلَمَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى ٱللّٰهُ
عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ مُعْتَكِفًا، فَأَتَيْتُهُ أَزُورُهُ لَيْلًا، فَحَدَّثْتُهُ
وَقُمْتُ، فَانْقَلَبْتُ، فَقَامَ مَعِي لِيَقْلِبَنِي، وَكَانَ مَسْكَنُهَا فِي دَارِ
أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، فَمَرَّ رَجُلَانِ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَلَمَّا رَأَيَا النَّبِيَّ
صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ أَسْرَعَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى
ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ: عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ
حُيَيٍّ عَلَيْهَ السَلَمَ قَالَا: سُبْحَانَ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ
عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الْإِنْسَانِ
مَجْرَى الدَّمِ، فَخَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَيْئًا أَوْ قَالَ: شَرًّا) রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। আমি রাতে উনার সঙ্গে দেখা করতে
আসলাম। অতঃপর
উনার সঙ্গে কিছু কথা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে আসার জন্য দাঁড়ালাম। তখন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামও আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। আর উনার বাসস্থান (তখন) ছিল উসামাহ
ইবন যায়েদ রদ্বিআল্লাহু আনহুর বাড়িতে। এ সময় দু’জন আনসারী ছ্বহাবী সে স্থান দিয়ে অতিক্রম
করলেন। তারা
যখন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে (আমার সাথে) দেখলেন
তখন তারা দ্রুতপদে চলে যেতে লাগলেন। তখন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লাম (তাদেরকে লক্ষ্য করে) বললেন, তোমরা একটু থাম, ইনি হচ্ছেন ছ্বফিয়্যাহ বিনতে
হুয়াই য়ালাইহাছ ছালাম। উনারা বললেন, ছুবহানাল্লাহ! ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! (অর্থাৎ আমরা কি আপনার ব্যাপারেও কু ধারণা পোষণ
করতে পারি?) তিনি জবাবে বললেন, শয়তান (অর্থাৎ তোমাদের হামজাদ ক্বরিন) মানুষের
শিরায়-উপশিরায় চলাচল করে থাকে। আমি আশংকা করলাম যে, সে (হয়তো) তোমাদের মনে কোন
খারাপ ধারণা অথবা বললেন অন্য কিছু শার ইলকা করে দেবে। (আবু দাঊদ শরীফ ৪৯৯৪)
এই শয়তান তথা আমাদের সাথে যে ক্বরিন আছে তার থেকে বেঁচে
থাকার একমাত্র পথ কি তাও হাদিছ শরীফে আমদেরকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাছ
রদ্বিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ (وَعَنِ ابْنِ
عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الشَّيْطَانُ
جَاثِمٌ عَلَى قَلْبِ ابْنِ آدَمَ فَإِذَا ذَكَرَ اللَّهَ خَنَسَ وَإِذْا غَفَلَ وَسْوَسَ) শয়তান আদম সন্তানের
ক্বলবের উপর জেঁকে বসে থাকে, কিন্তু যখন সে (তার ক্বলবে) মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার
জিকির শুরু করে তখন সে কেটে পড়ে, তবে (মানুষ) যখন (জিকির অফ করে) গাফিল বা
অমনোযোগী হয় তখন সে শয়তান (আবারো) তার ক্বলবে ওয়াছওয়াছা দিতে শুরু করে। (মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ ৩৪৭৭৪,
মিশকাতুল মাছাবিহ ২২৮১)
একারণেই মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার জিকিরের বিকল্প কিছুই নাই, শুধু কি তাই?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (وَ مَنۡ یَّعۡشُ عَنۡ ذِكۡرِ الرَّحۡمٰنِ نُقَیِّضۡ لَهٗ شَیۡطٰنًا فَهُوَ لَهٗ
قَرِیۡنٌ وَ اِنَّهُمۡ لَیَصُدُّوۡنَهُمۡ عَنِ السَّبِیۡلِ وَ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّهُمۡ
مُّهۡتَدُوۡنَ) যে ব্যক্তি দয়াময় মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার জিকির থেকে মুখ
ফিরিয়ে নেয়, আমি তার উপর ক্বরিন শয়তানকে মুছাল্লাত করে দেই, অতপর সে-ই (সর্বক্ষণ)
তার সাথী হয় থাকে। অবশ্যই
এরা তাদেরকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে (যদিও) তারা নিজেরা
মনে করে তারা বুঝি সঠিক পথের উপরই রয়েছে। (ছুরাহ আয-যুখরুফ ৪৩/৩৬–৩৭)
রগে রগে দৌড়ে গিয়ে ক্বলবে হাটুগেড়ে বসে আর জিকির শুরু হলে
পালিয়ে যায়, আর জিকির পুরোপুরি ছেড়ে দিলে ঐ গ্বফিলের সাথে একটি ক্বরিন লাগিয়ে দেন,
আর লাগিয়ে দিলে কি হয় তাও মহান আল্লাহ পাক স্পষ্ট করে বলতেছেনঃ (اِسۡتَحۡوَذَ عَلَیۡهِمُ الشَّیۡطٰنُ فَاَنۡسٰهُمۡ ذِکۡرَ
اللّٰهِ ؕ اُولٰٓئِکَ حِزۡبُ الشَّیۡطٰنِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ حِزۡبَ الشَّیۡطٰنِ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ) (আসলে) শয়তান তাদের ওপর
পুরোপুরিভাবেই প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে; ফলে তাদেরকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার
জিকির থেকে গাফেল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। (অতএব জেনে রাখো) এরাই শয়তানের দল। (আর) সাবধান! (এদের থেকে, কেননা)
অবশ্যই শয়তানের দল মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্ৰস্ত। (ছুরাহ আল-মুজাদালাহ ৫৮/১৯)
ক্বরিন/ক্বরিনা নামক যে হামজাদ শয়তান আমাদের সাথে লাগানো
রয়েছে, এই শয়তানেরা শারীরিক ক্ষমতার দিক দিয়ে অত্যন্ত কমজুর, তাদের শারীরিক কোন
ক্ষমতা নাই আমাদের ক্ষতি করার জন্যে, তবে হ্যাঁ তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ওয়াছ
ওয়াছার ব্যাপারে যা প্রবল রয়েছে তাদের মধ্যে, মারাত্বক লেবেলের ওয়াছ ওয়াছা দ্বারা
যারা গ্বফিল তাদের তারা বশ করতে সক্ষম। তারা শারীরিক সকল বিষয় থেকে মুক্ত, এদের কোন বংশ
হয়না, যার সাথে যে ক্বরিন বা ক্বরিনা থাকে
তার আগে পিছে কিছুই থাকেনা। আমাদের সাথে থাকা ক্বরিনদের মধ্যে অনেকের ক্বরিন
আবার তাদের সাথেই কলিমা পড়ে মুছলিম হয়ে যায়, অনেকেরটা আবার কাফের থাকে, যাদের
ক্বরিন বা ক্বরিনা মুছলিম হয়ে যায় তারা এর ওয়াছ ওয়াছা থেকে নিরাপদ থাকে, এবং পাক
পবিত্র জীবন কাটায় এবং মৃত্যু হয় ইছলামের উপর। যাদের ক্বরিন মুছলিম হয় তাদের
অনেকে তাদের নাম পর্যন্ত পাল্টে দেয়। কারো ক্বরিন যখন ইছলাম কবুল করে মুছলিম হয়ে যায় তখন
আমরা আমাদের ঈবাদতে ডবোল লুৎফ পাই। যখন কারো
ক্বরিন/ক্বরিনা কাফের থাকে তখন সে সব সময় বাম পাশে অবস্থান করে, কিন্তু যখন
সে ইমান এনে মুছলিম হয় তখন বাম পাশ থেকে ডান পাশে চলে আসে। শুধু মানুষই না, যিন্নাতের সাথেও
ক্বরিন/ক্বরিনা থাকে, যারা যিন্নাতের মধ্যে থেকে ক্বরিন হয়, তারা এমন এক খাস কিসিমের হয়ে থাকে যাদের খোদ যিন্নাতরাও দেখতে পারেনা, যেমন আমরা আমাদের ক্বরিনকে
দেখিনা। এরা
খুবই ধুর্ত হয় আর এদেরকে আল যিন্নুল আহমার বলা হয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে যারা ছিফলি য়া’মল
করে থাকে তাদের অনেকেই ক্বরিনকে সামনে প্রকাশ করার জন্যে অনেক কুফরী য়া’মল করে
থাকে, তেমনি যিন্নাতদের মধ্যেও কিছু জীন এইসব নাফরমানী কাজ করে থাকে তাদের
ক্বরিনকে দেখার ও সম্মুখে নিয়ে আসার জন্যে। মূলত মানুষ ও যিন উভয়ের মধ্যে
ছাহির/ছাহিরা বিদ্যমান রয়েছে যারা কুফরি ছিফলি য়া’মলে লিপ্ত থাকে, য়া’মল করে অনেক
নাপাক জিনিষ পর্যন্ত খায় যাতে তাদের হামজাদকে দেখতে পায়। অপ্রাসঙ্গিক হলেও যেহেতু জীন
বিষয়ক, সেহেতু একটা য়া’মল বলে রাখি, যখনই কোন যিনের কবলে কেউ পড়ে যাবে, তখনই সে
যেনো আয়াতুল কুরছি শরীফ ও ছুরাহ ছ্বফফাত শরীফের প্রথম ১০ আয়াত তিলাওয়াত করে।
যাইহোক, এইযে আমাদের হামজাদ, সে আসলে দেখতে কেমন তা কেবল
মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন। আমরা আগেই জেনে গেছি যে আমাদের সকলের সাথেই ১ পিছ
হামজাদ বিদ্যমান রয়েছে, যাকে আমাদের দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছে। সাধারণত সে কখনো আমাদের সম্মুখে
জাহির হয়না, হোক সেটা শরীর নিয়ে কিংবা ভয়েসের মাধ্যমেও। কিন্তু একজন কালো জাদুর অধিকারী
কিংবা খাছ আউলিয়ায়ে কেরাম উনারা চাইলে তাদের সম্মুখে নিয়ে আসতে পারেন, শুনতে পারেন,
আলাপ করতে পারেন। মহান
আল্লাজী উনার নাফরমানী করে কোন ছাহীর আমাদের ক্বরিনকে বশ করতেও পারে, কাছে ডাকতেও পারে। আর আমাদের হামজাদ যখন কোন যায়গায়
জাহির হতে বাধ্য হবে কিংবা নিজ ইচ্ছায় জাহির হবে তখন তার ছুরত, কন্ঠ, পোশাক, আচার
আচরণ আমাদের মতই হবে। আমাদের সব কিছুই তার মধ্যে পাওয়া যাবে একেবারে নিখুঁতভাবে। কারণ জন্ম থেকেই সে আমাদের মধ্যে
বসবাস করে আসছে। মজার
বিষয় কি জানো? তোমরা যারা উইজি বোর্ড সম্পর্কে জানো যে এর মাধ্যমে তারা মৃতদের রূহ
কে নিয়ে আসে, এই জিনিষের হাক্বিকত আসলে এটাই যে যাদের ছিফলি ঈলম আছে তারা মূলত মৃত
ব্যক্তির ক্বরিন/ক্বরিনাকেই হাজীর করে
থাকে। তারা
নিজেরাও হয়তো জানেনা এটা যে ক্বরিন, তারা ভাবে রূহ, কিন্তু ব্যপারটা এমন না। যখন দুর্বল ঈমানের অধিকারী মানুষ
এইসব টাউট উইচক্র্যাফট বা রূহ হাজীরের দাবীদার ছাহিরদের নিকট যায় তখন তারা মূলত
সেই স্পেসিফিক আত্বীয়র হামজাদ ক্বরিনকেই উপস্থিত করে থাকে কিন্তু বলে যে মা/বাপ
কিংবা স্বামী/স্ত্রীর রূহ কে হাজীর করেছে, যারা বরযখ থেকে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে
এইখানে হাজীর হয়েছে, যা আসলে ১০০% মিথ্যা, আর এভাবেই তারা মিথ্যা বলে দুর্বল
মানুষের নিকট বিশাল ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে, টাকাও কামায়। স্বরনীয় যে, রূহ এতো শক্তিশালী
জিনিষ যে, কোন ছাহির এর পক্ষে একে হাজীর করা অসম্ভব, হ্যাঁ যদি কোন আল্লাহ ওয়ালাকে
স্পেশালি এর ক্ষমতা আতা করে থাকেন মহান আল্লাহ তা’য়ালা কোন যামানায়, তাহলে সেই অলি
আল্লাহ সেই রূহকে দাওয়াত দিতে পারেন আসার জন্য, কিন্তু জোর করে হাজীর করানোর মতো
কোন আপশন আমার জানা মতে নাই, কারণ রূহ হলো কমান্ড অফ আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু, উহার
উপর হুকুম নয় আর্জি চলে, একারণেই রূহ নফছের আণ্ডারে চলে গেলে আমরা সবচেয়ে বড়
মুশরিক হয়ে যাই, আত্মহত্যা করলে চিরস্থায়ী যাহান্নামী হই কারণ এটা মহান আল্লাহ পাক
উনার আমরে কুনের অন্তর্ভুক্ত যেটার উপর ক্ষমতা খাটানো কুফরি।
এখন কথা হলো, মানুষ তার কুফরি কালাম দিয়ে তো যিন-কে বশ
করতে পারে, কিন্তু আমাদের উপর কি যিন্নাত
ও শায়াত্বীনদের আছর করা সম্ভব? উত্তর হলো হ্যাঁ, সম্ভব।
সবার উপর?
না সবার উপর নয়। তাহলে কাদের উপর?
প্রথম ক্যাটাগরির মানুষ হলো ঐসকল মানুষ যারা দুশচরিত্রের
অধিকারী।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরির মানুষ হলো ঐসকল মানুষ যারা ইচ্ছায়
অনিচ্ছায় যিনদের কষ্ট তাক্লিফ দিয়ে থাকে, উদাহরণস্বরুপঃ বিছমিল্লাহ ব্যতীত খোলা
ময়দানে হোক বা নিজের ঘরেই, কোন শক্তিশালী ওজনদার জিনিষ রেখে দেওয়া, কিংবা
বিছমিল্লাহ ব্যতীত কোন যায়গায় গরম পানি ফেলে দেওয়া। আর হাদিছ শরীফে তো সরাসরি কোন
গর্তে প্রস্রাব না করার নির্দেশ এসেছে কারণ অনেক জীনের ঘর হয়ে থাকে এইসব গর্ত, তাছাড়া
শুকনা গোবর দিয়ে ঢিলা না করার হুকুম ও এসেছে হাদিছ শরীফে কারণ এইসব তাদের খাবার
হয়ে থাকে।
তৃতীয় ক্যাটাগরির মানুষ হলো বেপর্দা নারী, প্রত্যেক
বেপর্দা নারীর সাথে শয়তান সব সময় মওজুদ থাকে, সে বেপর্দা বের হলে শায়াতিনের দল তার
সাথে বেরিয়ে পড়ে।
চতুর্থ ক্যাটাগরির মানুষ হলো সেইসব মেয়েরা যারা নাপাকি
থেকে নিজেদের পাক রাখেনা। নাপাক অবস্থায় বাহীরে চলাফেরা করে থাকে। এমনিতে নামাজ রোজা করলেও মাজুর
হলে বেখেয়াল থাকে, যিকির ফিকির ছেড়ে দেয়। এইসব মেয়েদের উপর তাদের আক্রমণ
খুব সহজেই হয়ে থাকে।
পঞ্চম ক্যাটাগরির মানুষ হলো তারা যারা নিজেদের রাগ
কন্ট্রোল করতে পারেনা।
ষষ্ট ক্যাটাগরির মানুষ হলো তারা যারা তাদের লোভ লালসার উপর
কন্ট্রোল করতে পারেনা।
সপ্তম ক্যাটাগরির মানুষ হলো তারা যারা নিজেরা নিজেদের
ব্যাপারে কেয়ারলেস, উদাস, ও সর্বপরী গাফেল। এদের উপর জিন্নাত/শায়াত্বীনদের
একটা হুব্ব বিদ্যমান থাকে। এদের মধ্যে ঢোকার একটা প্রবণতা থাকে তাদের মধ্যে।
অষ্টম ক্যাটাগরির মানুষ হলো তারা (اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ الۡفَرِحِیۡنَ) নিশ্চয় মহান আল্লাহ তা’য়ালা
দাম্ভিকদের ভালবাসেন না (ছুরাহ আল-ক্বছ্বাছ্ব ২৮/৭৬)। অর্থাৎ যারা গুরুর ওয়ালা তাদের
মধ্যে শায়াত্বীন খুব সহজেই হাবি হয়ে যায়।
এছাড়াও আরো অনেক ক্যাটাগরির মানুষ রয়েছে, যাদের উপর
শায়াত্বীন খুব সহজেই হাবি হয় থাকে। এতো গেলো শায়াত্বীন নিজে যাদের উপর হাবি হয়ে থাকে। অথচ মানুষের মধ্যে এমন কিছু মানুষ
ও রয়েছে যারা নিজে চেষ্টা করে থাকে শায়াত্বীন যেন তাদের উপর হাবি হয়, আর এরা হচ্ছে,
কালো জাদুকর, ছিফলি য়া’মলকারি, জাদুটোনাকারি ছাহির ইত্যাদি টাইপ লোকেরা। ছাহেরিন আর শায়াত্বীনদের মধ্যে
সম্পর্ক খুব ডিপ লেবেলের হয়ে থাকে। দুই পার্টিই উভয়ের দ্বারা ফায়দা লাভের চেষ্টায় থাকে
দিন রাত। মহান
আল্লাহ পাক স্পষ্ট করেই তা বলে দিয়েছেনঃ (وَ یَوۡمَ یَحۡشُرُهُمۡ جَمِیۡعًا ۚ یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ قَدِ اسۡتَكۡثَرۡتُمۡ
مِّنَ الۡاِنۡسِ ۚ وَ قَالَ اَوۡلِیٰٓؤُهُمۡ مِّنَ الۡاِنۡسِ رَبَّنَا اسۡتَمۡتَعَ
بَعۡضُنَا بِبَعۡضٍ وَّ بَلَغۡنَاۤ اَجَلَنَا الَّذِیۡۤ اَجَّلۡتَ لَنَا ؕ قَالَ النَّارُ
مَثۡوٰىكُمۡ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَاۤ اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ ؕ اِنَّ رَبَّكَ حَكِیۡمٌ
عَلِیۡمٌ) যেদিন তিনি তাদের সবাইকে (ক্বিয়ামতের ময়দানে) একত্রিত করবেন, (তখন
তিনি শয়তানরূপী যিনদের বলবেন) হে যিন সম্প্রদায়, তোমরা তো অনেক মানুষকেই গোমরাহ
করেছিলে? (এ সময়) মানুষের ভেতর থেকে (যারা) তাদের বন্ধু (তারা) বলবে, হে আমাদের
রব, আমরা একজন আরেকজনকে (ব্যবহার করে) দুনিয়ার জীবনে প্রচুর ফায়দা লাভ করেছিলাম, আর
এভাবেই আমরা (আজ) চূড়ান্ত সময়ে এসে হাযির হয়েছি, যা আপনি আমাদের জন্যে
নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন, তখন (কিয়ামাত দিবসে) মহান আল্লাহ তা’য়ালা (যিন ও মানুষ
শয়তানদেরকে) বলবেন, (হাঁ, সে জন্যেই আজ) তোমাদের ঠিকানা (হবে জাহান্নামের) আগুন, সেখানে
তোমরা চিরকাল থাকবে, অবশ্য মহান আল্লাহ তায়ালা ভিন্ন কিছু চাইলে (সেটার কথা
আলাদা); তোমাদের রব তা’য়ালা অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ। (ছুরাহ আল আন’য়াম ৬/১২৮)
দেখুন মহান আল্লাহ পাক আমাদের দিকে মুখাতিব হয়ে বলেনঃ (اَلَمۡ
اَعۡهَدۡ اِلَیۡكُمۡ یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوا الشَّیۡطٰنَ ۚ اِنَّهٗ
لَكُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ وَّ اَنِ اعۡبُدُوۡنِیۡ ؕؔ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ
وَ لَقَدۡ اَضَلَّ مِنۡكُمۡ جِبِلًّا كَثِیۡرًا ؕ اَفَلَمۡ تَكُوۡنُوۡا
تَعۡقِلُوۡنَ) হে আওলাদে আদম য়ালাইহিছ ছালাম, আমি কি তোমাদের (এই মর্মে) নির্দেশ
দেইনি যে, তোমরা শয়তানের গোলামী করো না, সে অবশ্যই তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। তোমরা শুধু আমারই ইবাদত করো, এটিই
হচ্ছেন ছিরাতুল মুছতাক্বীম। (আর শয়তান)-সে তো আগেও অনেক লোককে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে;
তা দেখেও কি তোমরা বুঝতে পারছো না? (ছুরাহ আল-ইয়াছিন ৩৬/৬০-৬২)
মহান আল্লাহ তা’য়ালা কালামুল্লাহ শরীফে আমাদের এই
শায়াত্বীন-হামজাদ-ক্বরিনদের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন এভাবে যে, (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا ادۡخُلُوۡا فِی السِّلۡمِ
کَآفَّۃً ۪ وَ لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ) হে মুমিনগণ, তোমরা
(সম্মানিত দ্বীন) ইছলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের (সবচেয়ে বড়)
প্রকাশ্য শত্রু। (ছুরাহ
আল-বাক্বরাহ ২/২০৮) একিই হুকুম তিনি কালামুল্লাহ শরীফের অন্য যায়গায়ও দিয়েছেন (وَ لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَکُمۡ
عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ) তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না, নিশ্চয়ই সে তোমাদের
প্রকাশ্য শত্রু। (ছুরাহ
আল-আন’য়াম ৬/১৪২)
এই শয়তান কেবল আমাদের জন্যেই লাগাই দিয়েছেন আর আমরা নফছের
জিহাদ করে ক্লান্ত হচ্ছি আর নবী রছুল য়ালাইহিমুছ ছালাম উনারা কোর্মা পোলাও
বিরিয়ানি খেয়ে বৌ বাচ্চা নিয়ে হাওয়া খেয়ে বেড়িয়ে জান্নাতের মালিক হয়েছেন এরূপ
ভাবার কোন সুযোগ নাই, বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলতেছেনঃ (وَ کَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا شَیٰطِیۡنَ
الۡاِنۡسِ وَ الۡجِنِّ یُوۡحِیۡ بَعۡضُهُمۡ اِلٰی بَعۡضٍ زُخۡرُفَ الۡقَوۡلِ غُرُوۡرًا
ؕ وَ لَوۡ شَآءَ رَبُّکَ مَا فَعَلُوۡهُ فَذَرۡهُمۡ وَ مَا یَفۡتَرُوۡنَ) আর এভাবেই আমি
শয়তানদেরকে প্রত্যেক নবী য়ালাইহিমুছ ছালামদের জন্যে শক্র (রূপে সৃষ্টি) করেছি, তাদের
কতক মানুষ শয়তানের মধ্য থেকে এবং কতক যিন শয়তানের মধ্য থেকে হয়ে থাকে, প্রতারণার
উদ্দেশ্যে তারা একে অপরকে মনোমুগ্ধকর চমকপ্রদ বাক্যের কুমন্ত্রণা দেয়। যদি আপনার রব ইচ্ছে করতেন তবে
তারা এসব (কাজ) করতে (পারতো) না; সুতরাং আপনি তাদেরকে ও তাদের মিথ্যা রটনাকে
উপেক্ষা করে চলুন। (আল
আন’য়াম ৬:১১২)
অতএব কোন য়া’লিম-উলামা ইবলিছের পথে হাটলে, গুমরাহ হলে
আসমান থেকে পড়ার কিছুই নাই, বরং এই ব্যাপারে স্পষ্ট করেই বলেছেন রছুলে পাক
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম, কয়েকটি হাদিছের সম্মিলিত খোলাছাও
পেশ করছি, বুঝুন কাদের পূজারী হচ্ছেন। হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মানুষ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লামের কাছে এসে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন, আর আমি অকল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন
করতাম এই ভয়ে, যেনো তা আমাকে গ্রাস না করে বসে, আমি আর্জি পেশ করলাম ইয়া
রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম, নিঃসন্দেহে, আমাদের একটি
খারাপ সময় ছিল (অর্থাৎ আইয়্যামে জাহেলিয়াতের দিনগুলি) এবং মহান আল্লাহ তায়ালা
আমাদের জন্য একটি ভাল সময় (অর্থাৎ ইছলামী যুগ) নিয়ে এসেছেন যার মধ্য (বর্তমানে)
আমরা অবস্থান করছি। তবে
কি এর পরেও আবার খারাপ সময় আসবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লাম বললেনঃ “হ্যাঁ।” আমি আর্জি পেশ করলাম এই খারাপ সময়ের পর আবার কি
কল্যাণের সময় আসবে? তিনি বললেন হ্যাঁ তবে তা হবে ভালো–মন্দের মিশ্রণ, আমি আর্জি
পেশ করলাম, “এর মানে কী? তিনি বললেন আমার পরে এমন সব ইমাম ও লোক আসবে যারা আমার
আনিত হেদায়াতের পথ অনুসরণ করবে না এবং আমার ছুন্নাহ ও মানবে না। তবুও তুমি তাদের কিছু কাজ গ্রহণ
করবে এবং কিছু কাজ প্রত্যাক্ষ্যান করবে। আমি আবার আরজ করলামঃ “এরপর কি
আবার খারাপ সময় আসবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ
আমার পরে এমন সব আয়িম্ম্যা তথা ইমামদের উদ্ভব হবে, যারা আমার নির্দেশিত
হেদায়েতের পথে পরিচালিত হবে না এবং আমার ছুন্নত ও তারা অনুসরণ করবে না। (বরং) তাদের মধ্যে এমন সব লোকের
উদ্ভব হবে, যাদের ক্বলব হবে মানব দেহে শয়তানের ক্বলব। তারা যাহান্নামের দরজার সামনে
দাঁড়িয়ে মানুষকে আহ্বান করবে, যে তাদের আহবানে সাড়া দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে
নিক্ষেপ করবে।”
আমি আরজ করলামঃ “ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম!
তাদের পরিচয় আমাদের জন্য বর্ণনা করুন।” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লাম বললেনঃ “তারা আমাদেরই বংশজাত হবে এবং আমাদের মতোই আরবি ভাষায় কথা বলবে।” আরেকবার আমি আরজ করলামঃ “ইয়া
রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! যদি আমি এমন পরিস্থিতির
সম্মুখীন হই, তখন আমি কী করব?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম
বললেনঃ “তুমি মুছলিমদের জামাআতের সাথে থাকবে এবং তাদের ইমামের আনুগত্য করবে; আমীরের
কথা শুনবে ও মানবে যদিও তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় এবং তোমার সম্পদও কেড়ে
নেওয়া হয়, তবুও আমীরের কথা শুনবে ও মানবে।” আমি আরজ করলামঃ “যদি মুছলিমদের
কোনো জামাআত ও ইমাম না থাকে, তখন কী হবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি
ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “তাহলে তুমি সকল ফেরকা থেকে দূরে থাকবে, এমনকি যদি তোমাকে একটি
গাছের শিকড় কামড়ে ধরে সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হয়, তবুও সেই অবস্থায় থাকবে। (বুখারী শরীফ ৭০৮৪, মুছলিম শরীফ
১৮৪৭ সহ অনেক কিতাবে বর্নিত হয়েছে।)
শায়াত্বীন কিন্তু জীনদের মধ্যে থেকেও হয়, আবার মানুষদের
মধ্যে থেকেও হয়, উক্ত আয়াত শরীফ থেকে ইহা স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক ক্বুরআনের শেষ ছুরাহ এর মধ্যেই মানুষকে সতর্ক করে বলে দিয়েছেন যেঃ
ছুরাহ আন-নাছ শরীফ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
- শুরু করছি মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনারই নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতিব দয়ালু মেহেরবান।
- (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের যিনি রব তা’য়ালা উনার নিকট।
- (আমি আশ্রয় চাই) মানুষের আসল মালিক যিনি, উনার নিকট।
- (আমি আরো আশ্রয় চাই) মানুষের একমাত্র মাবূদ যিনি, উনার নিকট।
- (আমি আশ্রয় চাই) কুমন্ত্রণাদানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে (প্ররোচনা দিয়েই) গা ঢাকা দেয়।
- যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
- জ্বিনদের মধ্য থেকে (হোক কিংবা) মানুষদের মধ্য থেকে হোক (তাদের অনিষ্টের হাত থেকে আমি মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নিকট আশ্রয় চাই)।
তাছাড়া উম্মতের কাজি মু’আয ইবন জাবাল রদ্বিআল্লাহু আনহু
স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, কখনো কখনো য়া’লিমদের মুখ দিয়ে গোমরাহীমূলক কথা বের করে দেয়
এই ক্বরিন শয়তান। রছুলাল্লাহ
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ (وَأُحَذِّرُكُمْ زَيْغَةَ الْحَكِيمِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ
قَدْ يَقُولُ كَلِمَةَ الضَّلاَلَةِ عَلَى لِسَانِ الْحَكِيمِ وَقَدْ يَقُولُ الْمُنَافِقُ
كَلِمَةَ الْحَقِّ) আর আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি একজন জ্ঞানী/য়া’লিম ব্যক্তির সঠিক
পথ থেকে বিচ্যুতি (স্খলন) সম্পর্কে। কারণ শয়তান কখনও কখনও একজন জ্ঞানী ব্যক্তির জবান
দিয়ে গোমরাহীমূলক কথা বলিয়ে দেয়; আবার কখনও (কখনও) মুনাফিকও সত্য কথাও বলে ফেলতে
পারে। (আবু
দাঊদ শরীফ ৪৬১১)
শয়তান মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও দিক নির্দেশনা দিয়ে
পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে। যা মহান আল্লাহ তা’য়ালা স্পষ্ট করেই বলেছেন এইভাবেঃ
(لَّعَنَهُ اللّٰهُ ۘ وَ قَالَ لَاَتَّخِذَنَّ مِنۡ عِبَادِكَ
نَصِیۡبًا مَّفۡرُوۡضًا وَّ لَاُضِلَّنَّهُمۡ وَ لَاُمَنِّیَنَّهُمۡ وَ لَاٰمُرَنَّهُمۡ
فَلَیُبَتِّكُنَّ اٰذَانَ الۡاَنۡعَامِ وَ لَاٰمُرَنَّهُمۡ فَلَیُغَیِّرُنَّ خَلۡقَ
اللّٰهِ ؕ وَ مَنۡ یَّتَّخِذِ الشَّیۡطٰنَ وَلِیًّا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ فَقَدۡ خَسِرَ
خُسۡرَانًا مُّبِیۡنًا یَعِدُهُمۡ وَ یُمَنِّیۡهِمۡ ؕ وَ مَا یَعِدُهُمُ الشَّیۡطٰنُ
اِلَّا غُرُوۡرًا اُولٰٓئِكَ مَاۡوٰىهُمۡ جَهَنَّمُ ۫ وَ لَا یَجِدُوۡنَ عَنۡهَا مَحِیۡصًا) মহান আল্লাহ তা’য়ালা
ইবলিছকে অভিসম্পাত করেছেন। আর সে বলেছিল যে, অবশ্যই আমি আপনার বান্দাদের মধ্য
থেকে একটা নির্দিষ্ট অংশকে আমার দলে টেনে নেব। আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে
মিথ্যা আশ্বাস দেব, তাদেরকে আদেশ দেব যেন তারা পশুর কর্ণ ছেদন করে এবং তাদেরকে
আদেশ করব যেন তারা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার সৃষ্টি পরিবর্তন করে। বস্ত্ততঃ যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ
তা’য়ালা উনাকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি ও মিথ্যা
আশ্বাস দেয়। আর
শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা প্রতারণা বৈ কিছু নয়। ওদের ঠিকানা হলো যাহান্নাম। সেখান থেকে তারা অন্য কোন
আশ্রয়স্থল পাবে না’ (ছুরাহ আন নিছা ৪/১১৮-১২১)
অথচ কিছু মানুষ য়ী’লম থাকবেনা কিন্তু এতো মুহব্বতকারী
দিলের মালিক হবে যে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রাহে নিজের নফছকেও সে তালাক দিয়ে
দেবে। যেমন,
মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (وَ مِنَ
النَّاسِ مَنۡ یَّشۡرِیۡ نَفۡسَهُ ابۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ رَءُوۡفٌۢ
بِالۡعِبَادِ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا ادۡخُلُوۡا فِی السِّلۡمِ كَآفَّۃً
۪ وَ لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَكُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ) মানুষদের ভেতর এমন কিছু
লোকও রয়েছে, যারা (একমাত্র) মহান আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্যেশ্যে
নিজের নফছকে (পর্যন্ত) বিক্রি করে দেয়, (একারনেই এ ধরনের) বান্দাদের প্রতি মহান
আল্লাহ তায়ালা বড়োই অনুগ্রহশীল! (অতএব) হে মুমিনগন, তোমরা পুরোপুরিই (সম্মানীত
দ্বীন) ইছলামে দাখিল হয়ে যাও এবং কোনো অবস্থায়ই শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; (কেননা)
অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু! (আল বাক্বারাহ ২/২০৭-২০৮)
শয়তানের চক্রান্ত ও কর্মকান্ড যা পরিত্যাগ করা প্রতিটি
মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আর কোন কর্ম কেবল তখনই সম্পাদন করা সম্ভব হয় যখন
মানুষ উক্ত বিষয়ে ইলম হাছিল করে। মহান রব তা’য়ালা উনার নিকট কিয়ামত দিবস পর্যন্ত
শয়তানি করার ক্ষমতা চাইলে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আযাযিল যখন শয়তানি করার
ক্ষমতা লাভ করে, তখন সে মুমিনকে পথভ্রষ্ট করার জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকবে
বলেও দাবী করেছিলো। হাদীছ
শরীফে এসেছেঃ (عَنْ عَبْدِ اللهِ
ابْنُ مَسْعُودٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: خَطَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ خَطًّا بِيَدِهِ، ثُمَّ قَالَ: هَذَا سَبِيل اللهِ مُسْتَقِيمًا. وَخَطَّ
عَلَى يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: هَذِهِ السُّبُل لَيْسَ مِنْهَا سَبِيْلٌ
إِلَّا عَلَيْهِ شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ. ثُمَّ قَرَأَ: {وَ اَنَّ هٰذَا صِرَاطِیۡ
مُسۡتَقِیۡمًا فَاتَّبِعُوۡهُ ۚ وَ لَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِکُمۡ عَنۡ
سَبِیۡلِهٖ) আব্দুল্লাহ ইবনে মাছঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম নিজ হাতে একটি দাগ দিলেন, অতঃপর
বললেন, এটা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার সরল সঠিক পথ। এরপর ডানে বামে দাগ কাটলেন এবং
বললেন, এই রাস্তাগুলির প্রত্যেকটিতে একজন শয়তান দাঁড়িয়ে আছে। যে মানুষকে তার দিকে আহবান করে
থাকে। অতঃপর
পাঠ করলেন, ‘(এই যে সিরাতুল মুস্তাক্বিম) এটাই আমার সরল সঠিক পথ, (তোমরা) এরই
অনুসরণ কর। অন্যান্য
পথের অনুসরণ করনা, তা না হ’লে (শয়তান) তোমাদেরকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রাস্তা
থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে’। (মুস্তাদাকার আল হাকেম ৩২৪১; মিশকাত শরীফ ১৬৬, নাসাঈ
শরীফ, আছ-ছুনানুল কুবরা ১১১১০, ছুরাহ আল-আন’য়াম ৬/১৫৩)।
উক্ত আয়াত শরিফদ্বয় ও হাদীছ শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী শয়তান
প্রত্যেকটা সরল পথের বাকে বাকে বসে থাকে, যাতে করে সে মানুষকে দ্বীনের পথ থেকে
বিভ্রান্ত করে তাদের দিকে নিতে পারে। অতএব আর কোন সন্দেহ নাই যে আমাদের মূল শত্রুই হলো
আযাযিল, ইবলিছ শয়তান, যে আমাদের সৃষ্টির শুরু থেকেই আমাদের সাথে দুষমনির ঘোষণা
দিয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথেও সে চ্যালেঞ্জ পর্যন্ত করেছে যে সে আমাদের কত
কঠিন আক্রমন করবে আমাদের দুনিয়ার জীবনে, তার এই ওয়াদা, চ্যালেঞ্জেই বোঝা যায়।
তবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার বান্দাদের উপর শয়তানের এমন
কোন ক্ষমতা নেই যে সে জোর করে তাদের কোন খারাপ কাজে বাধ্য করতে পারে। সে কেবল মানুষকে ওয়াসওয়াসা বা
কুমন্ত্রণা দিতে পারে। যারা শয়তানের কুমন্ত্রণার অনুসরণ করে, শয়তানের পথে চলে, তারাই
পথভ্রষ্ট হয়, এটুকু ক্ষমতাই কেবল শয়তানের আছে, যা পবিত্র আল ক্বুরআনে ইহুদী
নাছারাদের উদাহরণ দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেনঃ (کَمَثَلِ الشَّیۡطٰنِ اِذۡ قَالَ لِلۡاِنۡسَانِ اکۡفُرۡ ۚ
فَلَمَّا کَفَرَ قَالَ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّنۡکَ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰہَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ) তাদের তুলনা হচ্ছে (ইবলিছ)
শয়তান(এর মতো), যখন সে মানুষকে বলে, কুফরী কর। অতঃপর যখন সেই (মানুষ তার কথায়)
কুফরী করে তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি কূল কায়েনাতের রব
মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে ভয় করি। (ছুরাহ আল-হাশর ৫৯/১৬) মূলত শয়তানকে যারা তাদের
অবিভাবক বানায় তাদের এই পরিণতিই হয়, কারন শয়তান মানুষের সাথে কেমন আচরণ করে থাকে
ইহাই মহান আল্লাহ পাক আমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন, প্রথমে সে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে, মানুষকে
দিয়ে কুফরি করায়, অতঃপর মানুষ যখন তার অনুসরণ করে কুফরী করে বসে, তখন সে (শয়তান)
তার সাথে সম্পর্ক-ছিন্নতার কথা ঘোষণা করে একা ফেলে চলে যায়, সাথে এও ঘোষণা দিয়ে
যায় যে সে মহান রব তা’য়ালা উনাকে ভয় করে অথচ তুমি এতো জঘন্য যে যার প্ররোচনায় এহেন
কাজে লিপ্ত হলে তার মতো ভয় ডর পর্যন্ত তোমার নাই। নাহলে গুমরাহীর উপর ইস্তিকামত না
থেকে তাওবা করে ফেল্লেই ক্ষমা পেয়ে যেতে। ইবলিছের এইসব কাজের বিপরীতেই মহান
আল্লাহ পাক উনার রহমানীর পরিচয় মিলে হাদিছ শরীফে। যেমন, হাদিছ শরীফে এসেছেঃ আবু ছায়িদ
আল খুদরি রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে” বলতে শুনেছিঃ (إِنَّ إِبْلِيسَ قَالَ لِرَبِّهِ: بِعِزَّتِكَ وَجَلَالِكَ لَا أَبْرَحُ أُغْوِي
بَنِي آدَمَ مَا دَامَتْ الْأَرْوَاحُ فِيهِمْ، فَقَالَ اللَّهُ: فَبِعِزَّتِي وَجَلَالِي
لَا أَبْرَحُ أَغْفِرُ لَهُمْ مَا اسْتَغْفَرُونِي) “ইবলিছ (শয়তান) তার রবকে বলেছেঃ আপনার
ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম, আমি (প্রত্যেক) বনি আদমকে পথভ্রষ্ট করতেই থাকব যতক্ষণ তাদের
মধ্যে রূহ থাকবে। মহান
আল্লাহ তা’য়ালা তিনি (জবাবে) বললেনঃ আমার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম, আমি তাদের ক্ষমা
করতেই থাকব যতক্ষণ তারা আমার নিকট ইস্তেগফার করবে। (হাদিছে কুদছি শরীফ ৩২) এখন কথা
হলো এরূপ সুযোগ থাকার পরেও কেনো মানুষ গুমরাহ হয়ে মারা যায় তাওবা না করে? এর মূল
কারন হলো মানুষের নফছ, এই নফছ যতক্ষন না শয়তানের পূজা থেকে বের হবে ততক্ষন পর্যন্ত
সে কায়েনাতের রব তা’য়ালা উনার সম্মুখে ঝুকবেনা। আর এই নফছের মধ্যেই শয়তানের
গোয়েন্দা ক্বরিন আমাদের সহচর হিসেবে বসবাস করে যাচ্ছে জন্মলগ্ন থেকে।
নফছ কত ডেঞ্জারাস একটি ঘটনা বললেই বুঝতে পারবেন, “একবার
পাপিষ্ঠ ইবলিছ মূছা য়ালাইহিছ ছালামের নিকট উপস্হিত হয়ে বলতে লাগলঃ হে মূছা
য়ালাইহিছ ছালাম আপনাকে মহান আল্লাহ তা'য়ালা রিছালাত ও নাবুয়্যাতের সম্মানে ভূষিত
করেছেন, আপনার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম বললেন, তা অবশ্যই; কিন্তু
তোমার উদ্দেশ্য কি? তুমি আমার কাছে কি চাও? এবং তুমি কে? ইবলিছ বললো, “হে মূছা
য়ালাইহিছ ছালাম” আপনি আপনার মালিকের কাছে আমার আবেদনটা জানিয়ে দিন, আপনার একজন
মাখলুক তওবা করতে চায়। তখন মহান আল্লাহ তা'য়ালা মূছা য়ালাইহিছ ছালামের নিকট ওহী
প্রেরণ করলেনঃ হে মূছা য়ালাইহিছ ছালাম আপনি তাকে বলে দিন যে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা তোমার
দরখাস্ত শ্রবণ করেছেন। অতঃপর তাকে আমার হুকুমটাও বলে দিন, সে যেনো আদম য়ালাইহিছ
ছালামের কবরে গিয়ে কবরকে সম্মুখে রেখে সেজদা করে। যদি সে এইভাবেও সেজদা করে নেয়, তা
হলে আমি তার তাওবা কবূল করে নিবো এবং তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবো।
হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম ইবলীসকে এ কথা জানালে সে ক্রোধে
অগ্নিশর্মা হয়ে গেল এবং দম্ভের সাথে বলতে লাগল, হে মূছা য়ালাইহিছ ছালাম আমি আদম
য়ালাইহিছ ছালামকে বেহেশতে সেজদা করি নাই, এখন উনার মৃত্যুর পর আমি উনাকে উনার কবরে
গিয়ে সেজদা করবো? না এটা আমি করতে পারি না।
ইবলিসের সাথের আরো একটি ঘটনা বর্ণিত আছে যে, “ইবলিছকে যখন
দোযখে নিক্ষেপ করার পর কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে, তখন জিজ্ঞাসা করা হবে, “ইবলিছ মহান
আল্লাহ তা’য়ালা উনার আযাব কেমন হচ্ছে? সে বলবে, “অত্যন্ত কঠিন, এর চেয়ে অধিক কঠিন
কোন শাস্তি হতেই পারেনা”। ঐ সময়ও ইবলিছকে বলা হবে, যাও “হযরত আদম য়ালাইহিছ ছালামতো
বেহেশতে আছেন, তুমি এখনও উনাকে সেজদা করে মাফ চেয়ে নাও, তোমাকে মাফ করে দেওয়া হবে”। এ কথা শোনার পরও সে হযরত আদম
য়ালাইহিছ ছালামকে সেজদা করতে অস্বীকার করবে।
অন্য এক রেওয়াতে বর্ণিত আছে, “মহান আল্লাহ তা'য়ালা ইবলীশকে
এক লক্ষ বৎসর পর পর দোযখ হতে বাহিরে আনয়ন করবেন এবং হযরত আদাম য়ালাইহিছ ছালামকেও ও
বাহিরে আনা হবে, অতঃপর উনাকে সেজদা করার জন্য ইবলিছকে হুকুম করা হবে। তখনও বার বার ইবলিছ তা করতে
অস্বীকার করবে এভাবে পুনঃ পুনঃ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এই শয়তান আমাদের নফছের মধ্যে বসে থাকে, আর ওয়াছ ওয়াছা দিয়ে
প্রত্যেকদিন আমাদের খারাপ কাজ করায়। যখন আমরা তার কথামতো সকল খারাপ কাজ নির্ধিদায় করতে
পারি তখন আমাদের নফছের মাক্বাম থাকে নফছে আম্মারায়। এটা খুবই নিকৃষ্ট নফছ। আমরা নিজে মুছলিম হলেও সে তখন
কাফের থাকে। তাকে
মুছলিম বানাতে পারলেই আমরা হাক্বিকি মুছলিম হই।
তাই যারা আপন নফছের ব্যাপারে উদাসীন হবে সে যত ঈবাদাতই
আপাতদৃষ্টিতে করুক না কেনো, হাক্বিকতে সে হবে কায়েনাতের সবচেয়ে বড় শিরক করনে
ওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত, যেমন মহান আল্লাহ পাক বলতেছেনঃ (أَرَءَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَـٰهَهُۥ
هَوَىٰهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ
يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ ۚ إِنْ هُمْ إِلَّا كَٱلْأَنْعَـٰمِ ۖ بَلْ هُمْ
أَضَلُّ سَبِيلًا) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম)
আপনি কি সেই ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করেন নি? (যে) তার নছসের খায়েশাতকে (তার) নিজের
খোদা বানিয়ে নিয়েছে; তবুও কি আপনি তার কাজের জিম্মাদার হতে চান? (পেয়ারে হাবীব
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি কি সত্যিই মনে করেন, (যে)
তাদের অধিকাংশ লোক (আপনার কথা) শুনে কিংবা (এর মর্ম তারা) বুঝে; (আসলে) ওরা হচ্ছে
পশুর মতো, বরং (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) তারা (তার চাইতেও) অধিক পথভ্রষ্ট। (ছুরাহ আল-ফুরক্বনঃ ২৫/৪৩-88) কি
মনে হচ্ছে যারা আম পাবলিক ইলম নাই, দ্বীন বুঝেনা এরূপ মানুষেরাই নফছের পূজারী হয়
কেবল? না না না মোটেও না, বরং আমাদের সম্মুখে থাকা বিশাল বিশাল টাইটেল ওয়ালা
টেলিভিশন, ফেবু, ইউটুব, স্টেইজ মুল্লা, কথিত পির, বাবারা এদের চেয়েও বড় নফছের
পূজারী, তাদের ব্যাপারে তো এমন কথাও মহান আল্লাহ পাক বলে দিচ্ছেন যে তাদের সারা
পৃথিবীর ঈলম কেউ ঢেলে দিলেও কাজ হবেনা, তাদের হেদায়েত তো মহান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া
আর কেউ দিতে পারবেনা যেখানে আম পাবলিকদের জন্য তারা মুর্শিদ পাবে বলে ঘোষণা
দিয়েছেন মহান আল্লাহ পাক। এইসব কথিত ডিগ্রিধারী, খারেজী ছ্বলাফি, ওহাবী, আহলে
ক্বুরআন আহলে হাদীছের অনুসারী গোস্তাখ ও দেওবন্দি গোমরাহির উপর ইস্তিকামত থাকা
উলামায়ে ছুদের ব্যাপারে বলতেছেনঃ (أَفَرَءَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَـٰهَهُۥ هَوَىٰهُ وَأَضَلَّهُ ٱللَّهُ عَلَىٰ عِلْمٍۢ وَخَتَمَ
عَلَىٰ سَمْعِهِۦ وَقَلْبِهِۦ وَجَعَلَ عَلَىٰ بَصَرِهِۦ غِشَـٰوَةًۭ فَمَن
يَهْدِيهِ مِنۢ بَعْدِ ٱللَّهِ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ) পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহ য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি কি সেই ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করেছেন? যে তার নফছের
খায়েশাতকে (তার) নিজের খোদা বানিয়ে নিয়েছে; এবং (পর্যাপ্ত পরিমাণ দ্বীনি) জ্ঞান
থাকা সত্তেও মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাকে গোমরাহ করে দিয়েছেন, তার কান ও তার অন্তরে
তিনি মোহর মেরে দিয়েছেন, তার চোখে তিনি পর্দা এঁটে দিয়েছেন; এমন ব্যক্তিকে মহান
আল্লাহ তা’য়ালা উনার পর আর কে আছে (যে) তাকে হেদায়েতের পথ দেখাবে? এরপরেও কি
তোমরা কোনো উপদেশ গ্রহণ করবে না? (ছুরাহ আল-জাছিয়া ৪৫/২৩)
এখন এই শত্রু ক্বরিন থেকে বেঁচে থাকার “জিকরুল্লাহ” ব্যতীত কোন সুযোগ নাই কোন য়া’মল দিয়ে একমাত্র জিকির পারেন নূর উৎপন্ন করতে, যা ক্বরিনের অন্যতম শত্রু, সে নূর কখনোই সহ্য করতে পারেনা। তাই আপনাকে প্রথমে “ক্বলবি জিকির করে কিভাবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নূরের তাজাল্লী অর্জন করতে হয় তা শিখতে হবে।” নতুবা আপনি তার হাত থেকে বাচতে পারবেন না কোন দিন। আর মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার দৃষ্টিতে জিকিরের চেয়ে বড় ঈবাদাতও আর কিছুই নাই।