11.06.2018

ঈদে মীলাদুন নবী পালনের তাগিদ দিতে সূরাহ ইউনুস শরীফের ৫৭-৫৮ আয়াতে আল্লাহ পাক কি বলেছেন?

ঈদে মীলাদুন নবী পালনের তাগিদ দিতে সূরাহ ইউনুস শরীফের ৫৭-৫৮ আয়াতে আল্লাহ পাক কি বলেছেন?


মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ হে মানুষেরা! তোমাদের রব আল্লাহ তালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মুমিনদের জন্য রহমত দানকারী। (৫৭) (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের উচিত খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের আমলটি হবে তাদের সমস্ত নেক আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

পবিত্র ঈদে মিলাদুন নবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালনে ছবিতে বর্নিত আয়াত শরীফ উনার হুকুম যেই ভাষায় প্রয়োগ করা হয়েছে, পবিত্র আল কোরআনের অন্য কোথাও এমনিভাবে জোর তাগিদের সাথে হুকুম আসেনি। ইসলামী ফিকহি জ্ঞান থাকলে আর একটূ ফিকির করলে এই আয়াত পাকে ঈদে মিলাদুন নবী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পালনে কমপক্ষে ১০ টি তাগিদ রয়েছেঃ-

১ ) قُلْ - قُلْ (কুল) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কোন কথা শুরু করা হলে, ইহাই এক প্রকারের জোর তাগিদ। যার উদ্ধেশ্য এই যে আপাদ-মস্তক নিমগ্ন হয়ে যাও।

২ ) بِفَضْلِ اللّهِ মহান আল্লাহ পাক উনার ফজলের কারনে। প্রশ্ন তৈরি হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার ফজলের কারন কি? তাহলে একমাত্র যে উত্তর পাওয়া যায় তা হলো; এই ফজল হচ্ছেন নবীজী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। কারন নবীজী (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ায় না আসলে আমরা আল কোরআন পেতামনা। তাই উনিই এই ফযল ও তাগিদ।

৩ ) وَبِرَحْمَتِهِ - মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের কারনে। প্রশ্ন হল রহমতের কারন কি? রহমত কে? ইহাও ৩য় তাগিদ।

৪ )  بِفَضْلِ اللّهِ وَبِرَحْمَتِهِ - ফযল ও রহমত একত্রীকরন। ফজলের পরে রহমতের উল্লেখ করাও তাগিদ।

৫ ) فَبِذَلِكَ - জালিকা  (ذَلِكَ) এর পরে ফা-কে এজাফত (সম্মান) করা হয়েছে। 'ফা' - আরবী কাওয়ায়েদ অনুযায়ি তাগিদের জন্য ব্যবহৃত হয় বা তাগিদের জন্য আসে।

৬ ) بِذَلِكَ - ফজল ও রহমত এর উল্লেখ করার পরে ইশারা বায়িদ লওয়াও তাগিদের অন্তর্ভুক্ত।

৭ ) فَلْيَفْرَحُو - 'ফালইয়াফরাহু' শব্দের উপর পুর্ন 'ফা' হরফ এজাফত করা হয়েছে, যার ফলে এখানেও তাগিদ করা হয়েছে।

৮ ) فَلْيَفْرَحُو - ইয়াফরাহু এর উপর 'লাম' ও তাগীদেরই জন্য হয়ে থাকে।

৯ ) هُوَ خَيْرٌ - এখানে 'হুয়া' তাগিদের জন্য এসেছে।

১০ ) مِّمَّا يَجْمَعُونَ মিম্মা ইয়াযমাঊনন ইহাও তাগীদের কালাম।

এতএব বর্নিত আয়াতে পাকে মহান আল্লাহ তায়ালা ১০ তাগিদের সাথে যে হুকুম প্রদান করেছেন ইহা এই যে, فَلْيَفْرَحُو - 'ফালইয়াফরাহু' - খুশি পালন কর অর্থাৎ ঈদ পালন কর। কেননা  فَبِذَلِكَ ফাবিজালিকাশব্দ দ্বারা যেই হাবিব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা বলা হয়েছে, তিনি আগমন করেছেন।

উপরোক্ত ১০ তাগীদের পরে বিষয়টি এমন চুড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে যে এই খুশি প্রকাশ করা সমস্ত আমল থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ হবার ঘোষনা স্বয়ং আল্লাহ পাক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!!!

এখন এই খুশি প্রকাশ অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি কেউ পালন না করে, বিরোধীতা করে তাহলে তার জীবনের কোন আমল কাজে আসবে কি? সে কি আল্লার বান্দা, নবীর উম্মত হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে?

অতএব বিরোধীতা করার জন্য বিরোধীতা করে ঈদে মিলাদুন্নবীকে বিদয়াত বলার আগে একবার হলেও চিন্তা করে দেখুন আপনি কার বিরোধীতা করছেন? আপনার ঈমান কি আর বিদ্যমান থাকছে?

11.03.2018

সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী!!!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী!!!


ত্বহিরাহ, ত্বইয়্যিবাহ, সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, ছহিবাতু রসূলিল্লাহ, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মিসরের শাসনকর্তা মুকাউকিস উনার নিকট সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত নিয়ে একখানা পত্র মুবারক লিখেন। তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান পন্ডিত, রোম সম্রাটের প্রশাসক রূপে নিয়োজিত। ইসকান্দিয়া ছিল তার রাজধানী। মুকাউকিস নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পত্র মুবারক যথাযথ সম্মানের সাথে গ্রহণ করে নিন্মোক্ত জাওয়াব দেনঃ

আমি আপনার পত্র মুবারক পাঠ করেছি এবং যা কিছু আপনি বলতে চেয়েছেন তা অনুধাবন করেছি। আমার জানা আছে যে, এখনও একজন সম্মানিত নবী (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার অাবির্ভাব অবশিষ্ট রয়েছে এবং তিনি আসবেন। কিন্তু আমার ধারণা ছিলো যে, তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলে তাশরীফ মুবারক আনবেন। আমি আপনার কাসেদ (দূত) উনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি। মুবারক হাদিয়া স্বরূপ আপনার জন্য দুজন সম্মানিতা মেয়ে উনাদেরকে প্রেরণ করছি। উনারা দুইজন সহোদর এবং সম্ভ্রান্ত পারিবারের। এছাড়া দুল দুল নামক একটি বাহন ও কিছু কাপড় হাদিয়া মুবারক হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। এই দুইজন সম্মানিতা মেয়ে উনাদের মধ্যে ছিলেন, ছাহিবাতু রসূলিল্লাহ, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত বোন হযরত সীরিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। উনারা ছিলেন ঈসায়ী ধর্মালম্বী। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহন করার পর উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিকাহ মুবারক করেন এবং উনার সম্মানিতা বোন হযরত সীরিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বিশিষ্ট নাত শরীফ পাঠক ছাহাবী হযরত হাসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে নিকাহ মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!!!

কোন বর্ণনায় এসেছে, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি মুকাউকিস উনার চাচাতো বোন ছিলেন। হিজরী ৮ সনে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নাম মুবারক রেখেছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। তিনি খুব ছোট অবস্থায় বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ঐতিহাসিক বালাজুরীর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৮ মাস দুনিয়াবী হায়াত মুবারক গ্রহণ করেন। উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এবং উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্র রেহেম শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সকল আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ওয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যা অন্যান্য সকল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের লখতে জিগার মুবারকতথা কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারকছিলেন। সুবহানাল্লাহ!!!

আফদ্বালুন নাস বাদাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও আমীরুল মুমিনীন হযরত ফারূক্বে আযম আলাইহিস সালাম উনাদের নিজ নিজ খিলাফতকালে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার অতিশয় সম্মান ও মর্যাদা মুবারক প্রকাশ করেন। উনারা উনার খিদমত মুবারক করার জন্য ভাতা নির্ধারণ করেন, যা উনার বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্ব পর্যন্ত উনারা খিদমত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত আছে যে, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি মিসরের আনসানা অঞ্চলের হাফন নামক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নির্দেশক্রমে আমীরুল মুমিনীন, কাতিবে ওহী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হাফনবাসী উনাদের খারাজ (ভূমি কর) মাফ করে দিয়ে ছিলেন। ইহা উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানার্থে করা হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ!!!

হিজরী ১৬ সনে পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসে আমীরুল মুমিনীন হযরত ফারূক্বে আযম আলাইহি সালাম উনার খিলাফতকালে মহাপবিত্র মদীনা শরীফে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আমীরুল মুমিনীন হযরত ফারূক্বে আযম আলাইহিস সালাম তিনি উনার পবিত্র জানাযা উনার মহাসম্মানিত নামায মুবারক পড়ানোর সৌভাগ্য লাভ করেন। মহাপবিত্র জান্নাতুল বাক্বী শরীফ উনার মহাপবিত্র রওজা শরীফ অবস্থিত।

সূত্রঃ (উসুদুল গাবা, ইছাবা, সিয়ারুস ছাহাবা, অনান্য সীরত গ্রন্থ)

ছহিবাতু রসূলিল্লাহ হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সুমহান পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻟِﻴُﺬْﻫِﺐَ ﻋَﻨْﻜُﻢُ ﺍﻟﺮِّﺟْﺲَ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖ ﻭَﻳُﻄَﻬِّﺮَﻛُﻢْ ﺗَﻄْﻬِﻴﺮًﺍ . অর্থ: হে হযরত আহলু বাইত শরীফ (উম্মাহাতুল মুমিনীন) আলাইহিন্নাস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পরিপূর্ণরূপে পূতঃপবিত্র করতে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মত পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সূত্রঃ (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩)

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা যে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে তাহলোঃ- উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বাধীনা মহিলা। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের যেসকল ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক, মর্যাদা- মর্তবা মুবারক ও পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে উম্মুল মুমিনীন আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি সকল বৈশিষ্ট মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

অথচ একশ্রেণীর নিকৃষ্ট, নাপাক, পশুর চেয়েও অধম কাফির গোষ্ঠী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মুমিনীন আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শানে ব্লগ, ফেইসবুকে দীর্ঘদিন যাবত জঘণ্যতম মিথ্যা ও কুফরী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে যে, উম্মুল মুমিনীন আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি নাকি উম্মুল মুমিনীন, ছহিবাতু আশিদ্দাউ আলাল কুফফার, আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হাফসা আলাইহাস সালাম উনার বাঁদী ছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!!!

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি বিবাহ ব্যতীত উনাকে গ্রহণ করেছেন। নাউযুলিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!! নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!!! লানাতুল্লাহি আলা শাররিকুম।

মূলতঃ কাফিরদের উপরোক্ত প্রচারণা যে ইতিহাসের জগণ্যতম মিথ্যা তা উম্মুল মুমিনীন আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!!!

এতএব, যারা উপরোক্ত আক্বীদায় বিশ্বাসী তারা কস্মিনকালেও মুমিন-মুসলমান হতে পারেনা। তারা যদি মুমিন-মুসলমান দাবি করে থাকে, তবে তারা কাট্টা মুরতাদের অন্তর্ভূক্ত। আর যদি কোন কাফির একথা প্রচার করে থাকে তবে তারা চরম পর্যারের কাট্টা কাফির হিসেবে সাব্যস্তত হবে। বস্তুতঃ কাট্টা কাফির ব্যতীত কেউ এ বিষয়টি চিন্তাও করতে পারবেনা।

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যিদন্ড। উল্লেখ্য, মুসলমান মাত্রই এ আক্বীদা রাখতে হবে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত নবুওওয়াত মুবারক ঘোষণার পূর্বে ও পরে সর্বদাই মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকলের জন্য সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মুবারক ও চরিত্র মুবারক উনার অধিকারী। সে সময় কাফির গোষ্ঠীও উনার মহাপবিত্র নাম মুবারকে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ালেও উনার পূতঃপবিত্রতম চরিত্র মুবারক নিয়ে মিথ্যা কথা বলার মত দুঃসাহস দেখাতে পারেনি। কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাপবিত্রতা দানকারিণী আম্মাজান হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পূতঃপবিত্রতম চরিত্র মুবারক নিয়ে সামান্যতম সন্দেহও যার মধ্যে থাকবে সে নিকৃষ্টতম কাফিরের অন্তর্ভূক্ত।

10.09.2018

 ৬৫’র যুদ্ধে ব্যর্থতার পর আইয়ূব খানের পুনর্জীবন লাভ, ছয় দফার হাক্বীক্বত ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি (২)

৬৫’র যুদ্ধে ব্যর্থতার পর আইয়ূব খানের পুনর্জীবন লাভ, ছয় দফার হাক্বীক্বত ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি (২)

(পূর্ব প্রকাশিতের পর) ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্রবলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একটি উপাধি রয়েছে। এই উপাধি তিনি অর্জন করেছিলেন আইয়ূবের সেনাশাসনের বিরুদ্ধে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা এনডিএফগঠনের মাধ্যমে। পাকিস্তানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সোহরাওয়ার্দীর সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্যতায় শঙ্কিত হয়ে আইয়ূব সরকার তাকে কারারুদ্ধ করেছিল। কারাগারে থাকাকালীন সোহরাওয়ার্দীর হৃদরোগ দেখা দেয়। ১৯৬৩ সালে সোহরাওয়ার্দী এজন্য হৃদরোগের চিকিৎসা নিতে লন্ডন গমন করেন।

শেখ মুজিব শুরুতে ফ্রন্টের কার্যক্রমে খুব উৎসাহী ছিলেন, কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তিনি ফ্রন্টের আরেকজন শরিক ভাসানীর অনুকরণে ফ্রন্টের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করতে লাগলেন। লন্ডনে সোহরাওয়ার্দীর হৃদরোগের চিকিৎসার সময়েও তিনি সেখানে গিয়েছিলেন ফ্রন্ট ভেঙে আওয়ামী লীগ নিয়ে বের হয়ে আসার প্রস্তাব নিয়ে। আতাউর রহমান খান এ প্রসঙ্গে স্বৈরাচারের দশ বছরগ্রন্থের ২৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেনঃ শেখ মুজিব খুব পীড়াপীড়ি করেছিলেন। কিন্তু নেতা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, যদি পার্টি রিভাইভ করা হয়, তা হলে আমি পাকিস্তানে ফিরে যাব না। আমি কাউকে মুখ দেখাতে পারব না। দেশে ফিরে গিয়ে এনডিএফ এর কাজ কর।

কিন্তু লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পথে বৈরুতে হোটেলকক্ষে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়, আর এই সুযোগেই শেখ মুজিব ফের অস্থির হয়ে উঠলেন পার্টি রিভাইভের জন্য। ওদিকে আবুল মনসুর আহমদ তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পার্টি রিভাইভ করতে এনডিএফের আরেকজন শরিক ভাসানীর ন্যাপও মুখিয়ে আছে, সুতরাং আগেভাগে পার্টি রিভাইভ করে এনডিএফ ভাঙার দায় যেন আওয়ামী লীগ একা না নেয়। কিন্তু শেখ মুজিবের তর সইছিল না, নিষেধ সত্ত্বেও তিনি আগেভাগে আওয়ামী লীগ দলটিকে পুনরুজ্জীবিত করলেন। এ প্রসঙ্গে আতাউর রহমান খান তার বইয়ের ২৯৬-২৯৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেনঃ সরকারী মহল খুশীতে বাগবাগ। কনভেনশন লীগের (আইয়ূব খানের সরকারী দল) প্রেসিডেন্ট জবর খাঁ  জবর খুশী হলেন। তিনি ও তার সেক্রেটারী হাশিম উদ্দিন অভিনন্দন জানালেন। মর্নিং নিউজ’ (সরকারপন্থী পত্রিকা) শেখ মুজিবের ছবি ছাপাল।

আয়ুব খাঁরও খুশী হবার কথা। তিনি প্রাণপণে এটা চেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে সবাই মিলে যে সংগ্রামের হুমকি দিয়েছিল, সেটা বাদ দিয়ে নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া সংগ্রামের যে সূত্রপাত করা হল, এতে নিশ্চয় তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।

এর পর যথারীতি ন্যাপও রিভাইভড হয়ে গেল। কথা ছিল এক সঙ্গে হবার। যাতে কেউ কারও উপর দোষ চাপাতে না পারে। কিন্তু ন্যাপ টেক্কা মারল। চালাকী করে পিছে রইল। দোষটা ষোলআনা চাপল আওয়ামী লীগের ঘাড়ে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবকে সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী হিসেবে তুলে ধরে গর্ববোধ করে থাকে। কিন্তু তৎকালীন ইতিহাসের নিরিখে আমরা দেখতে পাই যে, সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পূর্বে দেয়া নির্দেশও শেখ মুজিব ভঙ্গ করেছিলেন, যার ফলে অবধারিতভাবে লাভবান হয়েছিলেন সেনাশাসক আইয়ূব খান।

আরেকটি ঘটনা আতাউর রহমান খান উল্লেখ করেছেন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময়কার। সে সময়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিলেন শেখ মুজিব। আইয়ূব খানের গদি তখন টলটলায়মান। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামলাতে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসতে চাইলেন তিনি। বন্দী শেখ মুজিবকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে আইয়ূব খানের বৈঠকে নেয়া হবে, এমন অপমানজনক সিদ্ধান্ত হলো। শেখ মুজিব তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করলেন, তাকে উৎসাহ দিলেন ইত্তেফাকের সম্পাদক মানিক মিয়া।

কিন্তু অন্যান্য বন্দীরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন, বললেন মামলা প্রত্যাহার না হলে কিছুতেই আইয়ূবের সাথে এক টেবিলে বসা যাবে না। শেষ পর্যন্ত সঙ্গী বন্দিদের চাপের মুখে শেখ মুজিব প্যারোলে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরিশেষে আইয়ূব খান মামলা প্রত্যাহার করলে শেখ মুজিব তার সাথে মিটিংয়ে যোগদান করেন।

এখানে প্রশ্ন হতেই পারে, শেখ মুজিব কেন প্যারোলে আইয়ূব খানের সাথে মিটিং করার অসম্মানজনক প্রস্তাবে শুরুতে রাজী হয়েছিলেন? উত্তরটি দেয়া কঠিন কিছু নয়।

পরিশেষে বলতে হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। ছয় দফা প্রণয়নের পর আইয়ূববিরোধী সম্মেলন যখন ভেঙে গেল, তারপর আইয়ূব খান একে কেন্দ্র করে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিতে লাগল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য। এ প্রসঙ্গে আতাউর রহমান খান বইয়ের ৩৫৮-৩৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেনঃ যুদ্ধের পর আয়ুব খাঁ লাহোরে কোনো জনসভা করতে সাহস করেন নাই। যুদ্ধের গ্লানি, অপরিসীম ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চয়ই তাকে অভিভূত করার কথা। যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা করতে না পেরে রাজনীতি ক্ষেত্রে নামলেন। শত্রুর সাথে আপোষ নিষ্পত্তি সম্পন্ন করে দেশবাসীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করলেন।

প্রথমঃ ছয় দফা। এর বিরুদ্ধে বক্তৃতা করলেন। ছয় দফা পাকিস্তানের ধ্বংসকামী। এর উদ্দেশ্য পূর্ব পাকিস্তানকে পৃথক ও স্বাধীন করা।

দুই নম্বরঃ পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ বা সিভিল ওয়ারের আশঙ্কা। কার সাথে, কোথায়, কবে তা কিছু বললেন না। তিনিই বা কোথা থেকে এ গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য আবিষ্কার করেছেন তাও জানা গেল না। উত্তরে আমরাও বললাম,যদি গৃহযুদ্ধ বেঁধেই যায় তা হলে তার দায়িত্বও ষোল আনা আপনাকে নিতে হবে। অন্য কেউ এর বিন্দু বিসর্গও জানে না।

সম্বিৎ ফিরে পাবার পর এ বিষয়ে আর বেশী বাড়াবাড়ি করেন নাই। ভাবলেন, কথাটা বড় বেমৌকা হয়ে গেছে। গুলি ফসকে গেছে।

তিন নম্বরঃ জাতীয় সংহতি-ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন। কোথায় অসংহতি? তবুও সংহতি সংহতি বলে চীৎকার উঠেছে কায়েমী স্বার্থবাদী মহলে। আসল সমস্যা সমাধান না করার এ সব বাহানা।

এই সব বিভ্রান্ত-প্রচারণা কিছুদিনের জন্য দেশের প্রভূত ক্ষতি সাধন করে। মানুষের ভেতর অনাস্থা, অবিশ্বাস সৃষ্টি করা হয়। ভবিষ্যৎ মঙ্গল সম্বন্ধে সকলেই সন্দিহান হয়ে পড়ে। বিশ্বাসের গোড়া একবার নড়ে উঠলে, আর তাকে শক্ত করা যায় না।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! আইয়ূব খান যতগুলো বক্তব্য দিয়েছিল, তথা পূর্ব পাকিস্তানের পৃথকীকরণ, গৃহযুদ্ধ এবং জাতীয় অসংহতি, প্রত্যেকটিই একাত্তরে তীব্র সত্য হয়ে দেখা দিল। আতাউর রহমান খান বইটি প্রকাশ করেছিলেন ১৯৭০ সালে, মুক্তিযুদ্ধ তখনও হয়নি। তিনি তাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে কোথায় গৃহযুদ্ধ! কোথায় অসংহতি! মূলত পাকিস্তানী সেনাশাসকেরা যেই ছক সাজিয়েছিল ক্ষমতা ধরে রাখতে, তা তারা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। আইয়ূব খান হয়তো ভেবেছিল, ছয় দফা দিয়ে তার বিরোধীদলের জমায়েত বানচাল করা হবে, আবার এই ছয় দফাকে উছিলা করে গৃহযুদ্ধ ও অসংহতির হুজুগ তুলে পূর্ব পাকিস্তানকে শত্রু দেখিয়ে বিক্ষুব্ধ পশ্চিম পাকিস্তানকে ঠাণ্ডা করাও সম্ভবপর হবে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে শত্রু বানাতে গিয়ে পরিশেষে পাকিস্তানই ভেঙে গেল। ধূর্ত রাজনীতিবিদ ও স্বৈরাচারী শাসকদের পর্দার আড়ালের কূটকৌশলের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ মুসলমান শহীদ হলো।

আসলে এই যে তন্ত্র-মন্ত্রের জাল, তথা গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র ইত্যাদি, এসবের সাজানো ছকেই মুসলমানরা ঘুরপাক খাচ্ছে, ব্যবহৃত হচ্ছে, হত্যা ও সম্ভ্রমহানির শিকার হচ্ছে। আতাউর রহমান খান তার বইতে লিখেছেন, যখন আইয়ূব খান ভারতের সাথে অস্ত্রবিরতি চুক্তি করলেন, তখন লাহোরে পাকিস্তানী সেনাদের বিধবা স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা মিছিল করেছিল এই বলে যে, তাদের স্বামীরা শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে নাই। অকারণে তাদের মূলবান জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। অর্থাৎ স্বামী-সন্তান হারানোর পর তাদের বোধ হয়েছিল যে, তারা বৃথা মরীচিকার পেছনে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছে, পুরোটাই ছিল রাজনীতিবিদদের নিজস্ব স্বার্থের খেলা মাত্র।

এই বোধ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মাঝেই জাগ্রত হতে হবে। বর্তমানে তারা সকলেই ফাঁকা অন্তঃসারশূন্য বস্তুর জন্য লড়ছে, অর্থ ও জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। হোক সে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ছয় দফা কিংবা সাতচল্লিশের পাকিস্তান আন্দোলন, প্রচলিত ইতিহাসের বয়ান কর্তৃক বিরাট মহিমা প্রদানের আড়ালে বাস্তবে সবই অন্তঃসারশূন্য। কারণ এগুলোর জন্ম হয়েছে রাজনীতি তথা তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে, আর তন্ত্রমন্ত্র থেকে উদ্ভূত সংগ্রাম, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক আন্দোলন সবই পর্দার আড়ালের খেল মাত্র। এসব থেকে মুসলমানদের লাভ করার কিছুই নেই। একমাত্র খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওয়াত থেকেই মুসলমান তার অভীষ্ট লক্ষ্য, দুনিয়া ও আখিরাত উভয়েরই, আদায় করে নিতে পারে।