8.27.2018

আন্তর্জাতিক বানিজ্যে ডলার পরিত্যাগের হিড়িক পড়েছে, এখন থেকে চিন-বাংলাদেশ নিজ মুদ্রায় করবে ব্যবসা

আন্তর্জাতিক বানিজ্যে ডলার পরিত্যাগের হিড়িক পড়েছে, এখন থেকে চিন-বাংলাদেশ নিজ মুদ্রায় করবে ব্যবসা


আমেরিকান আগ্রাসনের বিপরীতে অত্যন্ত খুশির একটি খবর হলো এখন থেকে চীন থেকে যেকোন মালামাল আমদানির জন্য ডলারেআর ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে না। সরাসরি চীনা মুদ্রা ইউয়ান দ্বারা ঋণপত্র খোলা যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছে বলে মনে করছি। কারন এতোদিন চিন থেকে মালামাল আমদানির জন্য প্রথমে ডলার ক্রয় করতে হতো এতে অনেক সময় দেখা যেতো ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশী টাকার মান কমে গেছে, যার দরুন ১ ডলার ৮১/৮২ টাকার যায়গায় ৮৪/৮৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দেখতে পারেনঃ [https://www.youtube.com/watch?v=SrWpJfe27UA]

তবে এই ঝামেলার আর লসের দিন প্রায় শেষের দিকে কারন এখন থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা দেশি টাকা দিয়ে সরাসরি চীনা মুদ্রা কিনবেন এবং তা দিয়েই ঋণপত্র খুলবেন। বিপরীতে চীনা ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশি টাকায় তাদের ঋণপত্র খুলবেন। অর্থাৎ চীন-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি ব্যবসার ক্ষেত্রে ডলারের আর কোন প্রয়োজন নেই। খবরে বলা হয়েছে, এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-খরচ কমবে, সময়ের অপচয়ও রোধ হবে। বলা বাহুল্য, এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত; যার জন্য বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোকে একটা ইউয়ানঅ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যারা বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন; তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যত চীনা মুদ্রা ইউয়ানকেআন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হল। অবশ্য ইউয়ানআন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। স্পেশাল ড্রইয়িং রাইটসহিসেবে যে কয়টি মুদ্রাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়, তার মধ্যে চীনা ইউয়ানও আছে। আর আমাদের ক্ষেত্রে ইউয়ানধীরে ধীরে গুরুত্ব লাভ করেছে। দেখতে পারেন [https://for.tn/2dIXTRt]

প্রতিবেশী দেশ হওয়ার দরুন ঘটনাক্রমে চীন ও ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় আমদানির উৎস। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয় চীন থেকে, তারপরই ভারতের স্থান। চীন থেকে আমদানির পরিমাণ সর্বশেষ হিসাবে এক লাখ কোটি টাকারও বেশ কিছুটা বেশি। ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ হবে মোটামুটি ৬০-৬৫ হাজার কোটি টাকা। তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ২৮-৩০ শতাংশ আমদানিই চীন থেকে। এ সূত্রেই চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। বর্তমান সিদ্ধান্তটি সুদূরপ্রসারী ফলাফল বয়ে আনবে বলে অনেকেই মনে করছেন। আর এ মুহূর্তে বর্তমান সিদ্ধান্তে চীন ও বাংলাদেশ উভয়ই উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেখতে পারেন [https://bit.ly/2PDPrla]

তবে অনেকদিন যাবত চীনা ইউয়ানবড় একটা চাপের মধ্যে আছে। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন যাবত। এর শেষ পরিণতি কী হবে তা এখন পর্যন্ত কেউ ই জানে না। তবে দৃশ্যতই চীনা অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে। চীনের পুরো উন্নয়নই রফতানি নির্ভর এবং দুর্ভাগ্যক্রমে এই রফতানির বড় বাজারই হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর একারণেই যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতএব যুক্তরাষ্ট্র চীনা আমদানির ওপর কর বসিয়েছে। পাল্টা কর বসিয়েছে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর। এর ফলাফল কী হবে, আমরা জানি না। কিন্তু চীনকে তার অর্থনীতি ঢেলে সাজাতে হচ্ছে। এর মধ্যেই চীনা মুদ্রা ইউয়ানেরমূল্য পতন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটের বিপরীতে বেশ কিছুদিন যাবত চীনা ব্যবসায়ী ও সাপ্লাইয়াররা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বলছিলেন ইউয়ানেএলসি খোলার জন্য। অর্থাৎ ডলারকে পরিহার করার জন্য। এটা করলে চীনের ওপর ডলারের চাপ কিছুটা কমবে। এ উদ্দেশ্যে চীন পাকিস্তানের সঙ্গেও আমদানি-রফতানি ক্ষেত্রে ইউয়ানব্যবহারে সম্মত হয়েছে। দেখতে পারেন [https://cnb.cx/2wsxInU]

এদিকে বাংলাদেশেও চলছে ডলার সংকট। সংকটটি বেশ পুরনো। গত বেশ কিছুদিনের মধ্যে প্রবল চাপের মুখে বাংলাদেশের টাকার মূল্য অবমূল্যায়িত হয়েছে। ৭৯-৮০ টাকার জায়গায় এখন প্রায় ৮৪/৮৫ টাকা দিয়ে এক ডলার কিনতে হচ্ছে। এর কারণ খুব সহজ। আমদানি ঋণপত্র ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। অথচ এর বিপরীতে রফতানি আয় বেড়েছে কম হারে। রফতানি আয় একই বছরে বেড়েছে ৬ শতাংশেরও কম। আরেকটা উৎস থেকে ডলার আয় হয়; আর সেটা হচ্ছে রেমিটেন্স। রেমিটেন্স আয় বেড়েছে ১৬-১৭ শতাংশ হারে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, আমদানির পরিমাণ খুবই বেশি। বেসরকারি খাতের আমদানি যেমন বেশি, তেমনি আমদানি বেশি সরকারি খাতেরও। সরকারের হাতে রয়েছে বেশ কিছু অবকাঠামোর কাজ। এর জন্য বিশাল বিশাল আমদানির দরকার হচ্ছে। অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতের আমদানিও বাড়ছে। সর্বোপরি রয়েছে একটা বড় এলসি এবং তা হচ্ছে রূপপুর আণবিক প্রকল্পেরজন্য। আবার কেউ কেউ মনে করেন, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী দেশ থেকে টাকা পাচার করার জন্য বেশি বেশি আমদানি এলসিকরছে। ফলে ডলার সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটটি শুধু ডলারের নয়। ব্যাংকে-ব্যাংকেও দেখা দিয়েছে তারল্য সংকট। অনেক বেসরকারি ব্যাংকের ফান্ড নেই। তারা ঋণ দিয়েছে বেশি অথচ আমানত সংগ্রহের পরিমাণ কম। বছরখানেক ধরে এটা ঘটে যাচ্ছে। সরকারি ব্যাংকে ফান্ডআছে, কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে ঋণের নিষেধাজ্ঞা জারি আছে বলে জানা যায়। এ প্রবল তারল্য সংকট মোকাবেলায় সরকার বেসামাল হয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নানা সুবিধা দিতে শুরু করে। এরই মধ্যে আবার সুদনীতি নিয়ে সরকার কড়াকড়ি আরোপ করে। ঋণের ওপর ৯ শতাংশ সুদ করতে হবে এবং আমানতের ওপর ৬ শতাংশ। এসব কারণে ব্যাংকিং খাত এখন এক অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। টাকার সংকট যেমন আছে, তেমনি চলছে ডলারের সংকট। দেখতে পারেন [https://bit.ly/2wq9Ql4]

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩২-৩৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমিত হয়ে আছে। এর থেকে বেশি নিচে রিজার্ভকে নামানো যাবে না। এদিকে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি সর্বকালীন রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। একইভাবে রেকর্ড ভঙ্গ করেছে ব্যালেন্স অব পেমেন্টপরিস্থিতিও। অবস্থা এমন হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মতো প্রতিষ্ঠানও ডলারের অভাবে এলসিখুলতে পারছে না। বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের এলসিখুলতে অস্বীকৃত হয়েছে। এটা খুবই খারাপ খবর। কারণ তারা তেল আমদানি করে, যা ছাড়া যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রয়োজন মতো ডলার দিতে পারছে না। এদিকে ডলারের টানাটানিতে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির চাপ অনুভূত হচ্ছে। বিদেশে চিকিৎসার খরচ, পর্যটকদের ভ্রমণ খরচ ও বিদেশে পড়াশোনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যারা বিদেশ থেকে স্বল্পকালীন ঋণ এনেছে, তাদের ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুদ এবং আসল উভয়ই। সরকারের ঋণের বোঝাও বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে ইউয়ানে ব্যবসা আমাদের সংকটকে কি কিছুটা লাঘব করবে? দেখতে পারেন [https://reut.rs/2o9m2Tt]

উল্লেখ্য, সারা বিশ্বেই চলছে এক অস্থিতিশীলতা। সর্বসাম্প্রতিক সমস্যা হচ্ছে তুরস্কের লিরার। লিরাতুরস্কের মুদ্রার নাম। তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা চলছে। আমেরিকান এক এজেন্ট ধর্মযাজককে তুরস্ক জেলে পুরে রেখেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার মুক্তি চায় যেকোন মুল্যে। কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তা করবেন না। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষ্যাপে গিয়ে তুরস্কের সঙ্গেও বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে। তুরস্ক থেকে আমদানিকৃত স্টিল এবং এলুমিনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বসিয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে তুরস্ক। এ সংকটে পড়ে তুরস্কের কারেন্সি লিরারমূল্য পতন শুরু হয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় তুরস্কের সমস্যা গিয়ে পড়ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর। মজার বিষয়, এর প্রভাব পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতিতেও, যা আমাদের জন্যও বেশ গুরুত্ব বহন করে। দেখতে পারেন [https://bit.ly/2PEfI31]

দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের আমদানি খরচ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ডলারের দামে। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম অনেকটাই পড়ে গেছে। এক বছর আগে যেখানে এক ডলারের বিপরীতে মাত্র ৬৪-৬৫ ভারতীয় রুপি পাওয়া যেত; সে জায়গায় এখন পাওয়া যাচ্ছে ৭০ রুপিরও ওপরে। বলা বাহুল্য, এর প্রভাব আমাদের ওপর পড়ছে। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান কমলে দৃশ্যত আমাদের লাভ। কারণ আমরা ভারত থেকে এক বছরে ৬০-৬৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য সরকারিভাবে আমদানি করি। ভারতীয় রুপির দাম কমলে আমাদের আমদানিকারকের লাভ। পর্যটক যারা, তাদের লাভ। যারা অধ্যয়নের জন্য ভারতে যায়, অথবা যায় চিকিৎসার জন্য, তাদের লাভ। কারণ ৮৪ টাকা দিয়ে ডলার কিনে পাওয়া যায় ৭০-৭১ ভারতীয় রুপি। বিনিময় হার ৮০ শতাংশের ওপরে। বেশ ভালো বিনিময় হার। দেখতে পারেন [https://bit.ly/2Mz4hM8]

কিন্তু এ সবই অঙ্কের কথা। বাস্তবে ভারতীয় বাজার কেমন- তা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। রিজার্ভ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশ। কিন্তু তা এর মধ্যে পাঁচ শতাংশের বেশি বলে কাগজে দেখলাম। অর্থাৎ বিনিময়পত্রের দাম বাড়ছে। তাহলে আমাদের আমদানিকৃত পণ্যের দামও বাড়বে। ভারত থেকে আমরা প্রচুর ভোগ্যপণ্য আমদানি করি। এর মধ্যে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, মসলা ইত্যাদি রয়েছে। ভারতে এ সবের মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে বাংলাদেশেও তা ঘটবে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতাও আমাদের বর্তমান ডলার সংকটকে উসকে দিচ্ছে। এ অবস্থায় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরিভাবে প্রয়োজন। দেখতে পারেন [https://bit.ly/2PzTxel]

8.26.2018

আমাদের তাহাজ্জুদ পড়নে ওয়ালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাস্তিক আসাদ নূর কে মুক্তি দিয়েছেন

আমাদের তাহাজ্জুদ পড়নে ওয়ালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাস্তিক আসাদ নূর কে মুক্তি দিয়েছেন


লিখালিখি ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি তাই ফেসবুক প্রোফাইল অফ। এর পরেও একজন মুসলিম ভাই হঠাৎ করে একটি লিঙ্ক দিলেন যেখানে গিয়ে দেখি যে কুখ্যাত নাস্তিক আসাদ নূর ৯৫ ভাগ মুসলমানদের ভিড়ে জিবন্ত দাঁড়িয়ে টিএসসিতে চা খাচ্ছে আর মুসলমানদের গালিগালাজ করছে।

নাস্তিক আসাদ নূর জেল থেকে কীভাবে বের হল তা চিন্তা করেও কূল পাচ্ছিনা। বিশ্বাস করেন কিছু সময়ের জন্য সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলাম। এদিকে জেল থেকে বের হয়ে সেই আগের মত ইসলাম ধর্ম নিয়ে আজেবাজে কথা বার্তা বলতেছে সে!!
জানতে ইচ্ছে হয় এসমস্থ ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকেরা কি সবসময় এভাবে ছাড়া পেয়েই যাবে? প্রতিনিয়ত ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মুসলমানদের আঘাত করেই যাবে? এখন যদি কেউ ধৈয্য হারিয়ে এই নাস্তিকে চাপাতির কোপ বসিয়ে দেয় তাহলে এর জন্যে কি মুসলমান দায়ী হবে কিংবা ইসলাম দায়ী থাকবে?

এর দায় অবশ্যই সরকারকেই নিতে হবে! এ সরকার কি কোন ইসলাম বিদ্বেষীদের বিছার কখনও করেছে! উল্টো ইসলাম বিদ্বেষীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে বছরের পর বছর ধরে মুসলমানদের অন্তরে আঘাত করে যাচ্চে!

একটা মানুষ কখন আইন হাতে তুলে নেয়? যখন সে কোন বিছার পায় না কিন্তু মানসিক কিংবা শারিরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে থাকে ফলে সে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে উগ্র হয়ে উঠে আর তখন পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করে আইন হাতে তুলে নিতে!

আমরা ৯৫% মুসলমান ইসলাম অবমাননা কারীদের উপযুক্ত বিছার চাই! কেউ যাতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে না পারে সে জন্যে আইন চাই! কিন্তু আফসোস এই চাওয়া আমাদের কোনোদিন পূরন হবেনা বলেই মনে হয়। কারন সরকার যখন এরকম একটা নাস্তিক কে ছেঁড়ে দেবে তখন আর সরকারের উপর কিভাবে আস্তা রাখা যায়?

কার ভয়ে, কিসের ভয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরকম একজন চরম নাস্তিক ইসলাম বিরোধীকে ছেঁড়ে দিলেন? অথচ আসাদ নূর তো মুজিব তনয়া শেখ হাসিনাকেও চরম অশ্লীল গালিগালাজ করেছিলো তাইলে এই ব্যাপারে তিনি কিছু করলেন না কেন। সাধারন মানুষ কিছু বললে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, লাগানো হয় ৫৭।

যাইহোক এমন এক দিনে এরকম একটি মর্মন্তুদ খবর দেখতে হলো যে, কুখ্যাত নাস্তিক আসাদ নূর কে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্ত করে দিয়েছেন যেনো আরো বেশী করে ইসলাম অবমাননা করতে পারে অথচ এদিকে পার্শ্ববর্তী দুষমন দেশ পাকিস্তানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তানের শিক্ষা সিলেবাসে কুরআন শরীফ অধ্যায়ন বাধ্যতামূলক এই মর্মে আইন পাশ করেছেন।
পশ্চিমারা কুরবানী থেকে শিক্ষা নিয়েই তাদের সেনাবাহিনীকে গড়ে তুলেছে

পশ্চিমারা কুরবানী থেকে শিক্ষা নিয়েই তাদের সেনাবাহিনীকে গড়ে তুলেছে


গৃহপালিত পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আযহায় কুরবানীদাতাকে ওয়াজিব পালন করতে হয়, যা এদেশের মুসলমানরা করে থাকে হাট বাজার থেকে কেনা গৃহপালিত পশুর মাধ্যমে। কুরবানীদাতা নিজে পশু পালন করে সেটিকে কুরবানী করবে, এরকম কোন বাধ্যবাধকতা দ্বীন ইসলামে নাই বরং এরকম বাধ্যবাধকতা থেকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম মুসলমানদের মুক্তি দিয়েছেন। তবে পশ্চিমারা তাদের সৈন্যদেরকে কিন্তু তা থেকে মুক্তি দেয়নি।

জিএসজি-৯হলো জার্মানির এলিট কমান্ডো বাহিনীর নাম। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে একটি করে মুরগী পালন করতে হয় পেট হিসেবে, এরপর সেই পোষা মুরগীটি বড় হলে তাকে জবাই করে খেতে হয়।

আমরা সবাই অবগত যে পশ্চিমা খ্রিস্টানরা তাদের প্রিয় প্রাণী হিসেবে সবথেকে বেশী প্রাধান্য দেয় কুকুরকে। একারনেই গুয়াতেমালার সেনাবাহিনীর নতুন রিক্রুটদেরকে প্রথমে একটি কুকুরছানা পালন করতে দেয়া হয়। এরপর কুকুরটি বড় হলে তাকে হত্যা করে তার গোশত সৈন্যটিকে খেতে হয়।

পশ্চিমারা তাদের সেনাদেরকে এভাবেই গড়ে তোলে, যেন কঠিন পরিস্থিতিতে তারা তাদের সহকর্মী কিংবা বন্ধুদের বিসর্জন দিতে পারে, নিজ সন্তানকেও যুদ্ধে পাঠাতে পারে। এই শিক্ষা তারা নিয়েছে মুসলমানদের পবিত্র ‍কুরবানী থেকে। মুসলমান যেন তার সন্তানকেও দ্বীনের প্রয়োজনে যুদ্ধে প্রেরণ করতে পারে, সেজন্যই তাদেরকে গৃহপালিত পশু কুরবানী করতে বলা হয়। কারণ গৃহপালিত পশুকে মানুষ সন্তানের মতোই লালনপালন করে থাকে।

কিছুদিন পূর্বে হিন্দি ভাষার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে এক হিন্দু মহিলা চিৎকার করে বলছিল, মুসলমানদের লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দিয়ে মূর্তিপূজারী হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। মুসলমানদের রোযা রাখার দ্বারা যুদ্ধক্ষেত্রে না খেয়ে থেকে কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা দেয়া হয়েছে।

সেই ভিডিওতে অছাম্প্রদায়িকমুসলমানরা এভাবে কমেন্ট করেছিল, ঐ মহিলা ঠিক কথা বলছে না, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম যুদ্ধ করতে শেখায় না। অথর্ব মুসলমানরা এই সত্য থেকে লুকিয়ে থাকতে চায় যে, দ্বীন ইসলামের ভিত্তিই রচিত হয়েছে আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ ব্যতীত অন্য যে কোনো মতবাদকে অস্বীকার তথা বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণার উপর।

কথাটা যতোই শক্ত শোনাক না কেন, এটি আসলে খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হতে কোনো দেশে গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দোহাই দিয়ে অতর্কিত মার্কিন কিংবা সোভিয়েত সৈন্যরা হামলা করেছে এবং মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবেই তা মেনে নিয়েছে। গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্রের ভিত্তি রচিত হয়েছে অন্য যে কোন শাসনব্যবস্থাকে অস্বীকার করার উপর। যার ফলে কোনো দেশ গণতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্রকে অস্বীকার করলেই তার উপর হামলা করা হতো।

ঠিক এরকমই ছিল দ্বীন ইসলামের স্বর্ণযুগ, হয় তুমি দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করো, নতুবা জিযিয়া দিয়ে আনুগত্য স্বীকার করো। তাও না চাইলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও। ইসলামকে অস্বীকার করে তখন কেউ রেহাই পেত না, যেমনটি এখন গণতন্ত্রকে অস্বীকার করে কেউ রেহাই পায় না।

বর্তমান মুসলমানরা স্বর্ণযুগের ইসলামের এই এপ্রোচ অনুধাবনই করতে সমর্থ নয়। কারণ বর্তমান মুসলমানরা নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করেও গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে দ্বীন ইসলামের তুলনায় সুপিরিয়র মনে করে। যে কারণে হিন্দু মহিলা যখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহবলতে তাদের মূর্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাকে বোঝায়, তখন মুসলমান তা অস্বীকার করতে চায়। গণতন্ত্রের জন্য হামলা তাদের নিকট স্বাভাবিক মনে হয় আর বায়তুল মোকাররমের পাশ দিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে পূজার মিছিল নিয়ে গেলেও তারা টু শব্দটি করে না।

পরিশেষে দস্তার রাজদরবার আবারো বলছেনঃ পশ্চিমারা ঠিকই তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে পোষা প্রাণী হত্যার এই পন্থা গ্রহণ করেছে, কারণ তারা অসাম্প্রদায়িক নয়। তারা নিজ সম্প্রদায় ও জাতিকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে দেখতে চায়। পক্ষান্তরে মুসলমানরা অছাম্প্রদায়িকবিধায় কুরবানীর এই শিক্ষা থেকে লুকিয়ে থাকতে চায় এবং প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধসর্বস্ব পৃথিবীর বাস্তবতায় সবার পেছনে পড়ে যায়।