4.04.2020

বর্তমানে ১০০% শরীয়ত মেনে সম্মানিত পবিত্র হজ্জ পালন করা কি সম্ভব?

বর্তমানে ১০০% শরীয়ত মেনে সম্মানিত পবিত্র হজ্জ পালন করা কি সম্ভব?


বাতিল ফিরকার অনুসারী ও মূর্খ ভন্ড পিরদের মুরিদদের মূর্খতার জবাব। মূলত এরা কুরআন শরীফ হাদিস শরীফ অধ্যায়ন করেনা এবং তাকওয়া-ও নাই এদের মধ্যে, এরা আদতে জানেইনা মহান আল্লাহ পাক কি বলেছেন পবিত্র হজ্জ এর ব্যপারে।

যারা পবিত্র হজ্জ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম কি তা না জেনে হজ্জ ফরজ হজ্জ ফরজ বলে লাফালাফি করছো তাঁরা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকেই অস্বীকার করছো।

মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ [الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُواْ مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللّهُ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُوْلِي الأَلْبَابِ]
অর্থাৎ: পবিত্র হজ্জ্বের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি মাস আছে।[১] এসব মাসে যে লোক পবিত্র হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার জন্য স্ত্রী সহবাস জায়েজ নয়।[২] জায়েজ নয় কোনো ফাসেকি কাজ করা[৩] এবং ঝাগড়া-বিবাদ করাও পবিত্র হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়।[৪] আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, মহান আল্লাহ পাক তিনি তো তা জানেন।[৫] আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও।[৬] নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার ভয় (তাকওয়া)। আর আমার ভয়(তাকওয়া অবলম্বন) করতে থাকো, হে জ্ঞানী লোকেরা! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।[৭]

আয়াত শরীফের ব্যখা নিচে বর্ণনা করা হলোঃ

[১] যারা পবিত্র হজ্ব অথবা উমরা করার নিয়্যতে এহ্‌রাম বাঁধেন, তাদের উপর এর সকল অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সম্পন্ন করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। এ দু'টির মধ্যে উমরার জন্য কোন সময় নির্ধারিত নেই। বছরের যে কোন সময় তা আদায় করা যায়। কিন্তু পবিত্র হজ্বের মাস এবং এর অনুষ্ঠানাদি আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। কাজেই এ আয়াত শরীফের শুরুতেই বলে দেয়া হয়েছে যে, পবিত্র হজ্বের ব্যাপারটি উমরার মত নয়। এর জন্য কয়েকটি মাস রয়েছে, সেগুলো প্রসিদ্ধ ও সুবিদিত। আর তা হচ্ছে শাওয়াল, যিল্‌ক্বদ ও জিলহজ্ব। পবিত্র হজ্বের মাস শাওয়াল হতে আরম্ভ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এর পূর্বে পবিত্র হজ্বের এহ্‌রাম বাঁধা জায়েয নয়।

[২] (رفث) , ‘রাফাসএকটি ব্যাপক শব্দ, যাতে স্ত্রী সহবাস ও তার আনুষাঙ্গিক কর্ম, স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা, এমনকি খোলাখুলিভাবে সহবাস সংক্রান্ত আলাপ আলোচনাও এর অন্তর্ভুক্ত। এহ্‌রাম অবস্থায় এ সবই হারাম। হাদীছ শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ এমনভাবে পবিত্র হজ্জ সম্পাদন করবে যে, তাতে রাফাস’, ‘ফুসূকজিদালতথা অশ্লীলতা, পাপ ও ঝগড়া ছিল না, সে তার হজ্জ থেকে সে দিনের ন্যায় ফিরে আসল যেদিন তাকে তার মা জন্ম দিয়েছিলেন। " [বুখারী শরীফঃ ১৫২১, মুসলিম শরীফ ১৩৫০]

[৩] (فسوق) ফুসুকএর শাব্দিক অর্থ বের হওয়া। আল কুরআনের পরীভাষায় নির্দেশ লংঘন বা নাফরমানী করাকে ফুসুকবলা হয়। সাধারণ অর্থে যাবতীয় পাপকেই ফুসুক বলে। তাই অনেকে এস্থলে সাধারণ অর্থই নিয়েছেন। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ফুসুকশব্দের অর্থ করেছেন - সে সকল কাজ-কর্ম যা এহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ। স্থান অনুসারে এ ব্যাখ্যাই যুক্তিযুক্ত। কারণ সাধারণ পাপ এহ্‌রামের অবস্থাতেই শুধু নয়; বরং সবসময়ই নিষিদ্ধ। যে সমস্ত বিষয় প্রকৃতপক্ষে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এহরামের জন্য নিষেধ ও নাজায়েয, তা হচ্ছে ছয়টিঃ
(১) স্ত্রী সহবাস ও এর আনুষাঙ্গিক যাবতীয় আচরণ; এমনকি খোলাখুলিভাবে সহবাস সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা।
(২) স্থলভাগের জীব-জন্তু শিকার করা বা শিকারীকে বলে দেয়া।
(৩) নখ বা চুল কাটা।
(৪) সুগন্ধি দ্রব্যের ব্যবহার। এ চারটি বিষয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যই এহ্‌রাম অবস্থায় হারাম বা নিষিদ্ধ। অবশিষ্ট দুটি বিষয় পুরুষের সাথে সম্পৃক্ত।
(৫) সেলাই করা কাপড় পোষাকের মত করে পরিধান করা।
(৬) মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করা। আলোচ্য ছয়টি বিষয়ের মধ্যে স্ত্রী সহবাস যদিও ফুসুকশব্দের অন্তর্ভুক্ত, তথাপি একে 'রাফাস' শব্দের দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে এজন্যে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, এহ্‌রাম অবস্থায় এ কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এর কোন ক্ষতিপূরণ বা বদলা দেয়ার ব্যবস্থা নেই। কোন কোন অবস্থায় এটা এত মারাত্মক যে, এতে পবিত্র হজ্জই বাতিল হয়ে যায়। অবশ্য অন্যান্য কাজগুলোর কাফ্‌ফারা বা ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আরাফাতে অবস্থান শেষ হওয়ার পূর্বে স্ত্রী সহবাস করলে পবিত্র হজ্ব ফাসেদ হয়ে যাবে। গাভী বা উট দ্বারা এর কাফ্‌ফারা দিয়েও পরের বছর পুনরায় হজ্ব করতেই হবে। এজন্যেই (فَلَا رَفَثَ) শব্দ ব্যবহার করে একে স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

[৪] (جدال) শব্দের অর্থ একে অপরকে পরাস্ত করার চেষ্টা করা। এ জন্যেই বড় রকমের বিবাদকে (جدال) বলা হয়। এ শব্দটিও অতি ব্যাপক। কেউ কেউ এস্থলে ফুসুকজিদালশব্দদ্বয়কে সাধারণ অর্থে ব্যবহার করে এ অর্থ নিয়েছেন যে, ‘ফুসুকজিদালসর্বক্ষেত্রেই পাপ ও নিষিদ্ধ, কিন্তু এহরামের অবস্থায় এর পাপ গুরুতর। পবিত্র দিনসমূহে এবং পবিত্র স্থানে, যেখানে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদাতের জন্য আগমন করা হয়েছে এবং লাব্বাইকা লাব্বাইকা' বলা হচ্ছে, এহরামের পোষাক তাদেরকে সবসময় এ কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, তোমরা এখন ইবাদাতে ব্যস্ত, এমতাবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদি অত্যন্ত অন্যায় ও চরমতম নাফরমানীর কাজ। [মারিফুল কুরআন]

[৫] ইহরামকালে নিষিদ্ধ বিষয়াদি বর্ণনা করার পর উল্লেখিত বাক্যে হিদায়াত করা হচ্ছে যে, পবিত্র হজ্জের পবিত্র সময় ও স্থানগুলোতে শুধু নিষিদ্ধ কাজ থেকেই বিরত থাকা যথেষ্ট নয়, বরং সুবর্ণ সুযোগ মনে করে আল্লাহ্‌র যিক্‌র ও ইবাদাত এবং সৎকাজে সদা আত্মনিয়োগ কর। তুমি যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ্ তা'আলা তা জানেন। আর এতে তোমাদেরকে অতি উত্তম প্রতিদানও দেয়া হবে।

[৬] এ আয়াতে ঐ সমস্ত ব্যক্তির সংশোধনী পেশ করা হয়েছে যারা পবিত্র হজ্জ ও উমরাহ করার জন্য নিঃস্ব অবস্থায় বেরিয়ে পড়ে। অথচ দাবী করে যে, আমরা আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করছি। পক্ষান্তরে পথে ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত হয়। নিজেও কষ্ট করে এবং অন্যকেও পেরেশান করে। তাদেরই উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, পবিত্র হজ্জের উদ্দেশ্যে সফর করার আগে প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নেয়া বাঞ্ছনীয়, এটা তাওয়াক্কুলের অন্তরায় নয়। বরং মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করার প্রকৃত অর্থই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত আসবাব পত্র নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সংগ্রহ ও জমা করে নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করা। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাওয়াক্কুলের এই ব্যাখ্যাই বর্ণিত হয়েছে।

[৭] অর্থাৎ আমার শাস্তি, আমার পাকড়াও, আমার লাঞ্ছনা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখ। কেননা, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে চলে না, আমার নিষেধ থেকে দূরে থাকে না তাদের উপর আমার আযাব অবধারিত।

পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: আয়াত শরীফ ১৯৭।

এখন দেখা গেলো হজ্জে গিয়ে অশ্লীল অশালীন কাজ ও ফাসেকী কাজ করা যাবেনা বরং সম্পূর্ণ হারাম এখন কি মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মানবে নাকি গোমরাহ দেরকে অনুসরন করবেন? যারা অশ্লীল অশালীন কাজ ও ফাসেকী কাজ করতে বাধ্য করবে?

মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই হজ্ব ফরয করেছেন। এবং বেপর্দা হওয়া হারাম করেছেন। পর্দাকে ফরয করেছেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছবি তোলাকে হারাম করেছেন। অথচ পার সেকেন্ড কাবা শরীফের ভেতর প্রায় ২০০০০ হাজারের মত ছবি তোলা হয় নারিপুরুষ উভয়ের।

ছবি তোলা হারাম ও কতো বড় গুনাহ তার দলিলঃ

১) মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০১।
২) বুখারী শরীফ, কিতাবুললিবাছ, বাবুত তাছাবীর, ২য় জিঃ ৮৮০ পৃষ্ঠা।
৩) মিশকাত শরীফ পৃঃ ৩৮৫।
৪) মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০২।
৫) বুখারী শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ৮৮১।
৬) মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০০।
৭) তিরমিযি শরীফ ১ম জিঃ পৃঃ ২০৭।
৮) আবু দাউদ শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২১৯।
৯) মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২য় জিঃ পৃঃ৪৬।
১০) মুসনদে আহমদ ২য় জিঃ পৃঃ২১৭।
১১) মুছান্নেফ ইবনে আবী শায়বা ৮ম জিঃ পৃঃ২৯৬।
১২) তাহাবী ২য় জিঃ পৃঃ ৩৬৩।

জাহিল ও মুনাফিকরা ছবি ও বেপর্দা হয়ে হারাম পন্থায় ফাসেকি কাজ দিয়ে হজ্জ ব্যবস্থা প্রতিকূল করে তুলেছে। পুরুষ মহিলা একসাথে তাওয়াফ করছে। অথচ উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেনঃ كان الركبان يمرون بنا و نحن محرمات مع الرسول فإذا حاذونا سدلت إحدانا جلبابها على وجهها من رأسها فإذا جاوزنا كشفناه.

বাংলা অর্থঃ আমরা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এহরাম অবস্থায় ছিলাম, উষ্ট্রারোহী পুরুষরা আমাদের পার্শ্বদিয়ে অতিক্রম কালে আমাদের মুখামুখি হলে আমরা মাথার উপর থেকে চাদর টেনে চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিতাম। তারা আমাদেরকে অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখমন্ডল খুলে দিতাম। (আহমাদ শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)

এখন আমরা কি এক ফরয পালন করতে গিয়ে বেপর্দা হবো নারী পুরুষদের ভেদাভেদ ভুলে যাবো একসাথে ধাক্কাধাক্কি ঘষাঘষি করে তাওয়াফ করবো? যেখানে পুরুষ আর মহিলাদের জন্যে ১৪ জন ব্যতীত দেখা সম্পূর্ণ হারাম এবং আরো হাজারো আদেশ মুবারক অমান্য করবো?

দলিল পবিত্র আল কুরআন থেকেঃ

- পবিত্র সুরা নূর শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ৩০, ৩১।
- সূরা আহযাব শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ৩২, ৩৩, ৫৩, ৫৯।

দলিল পবিত্র হাদিস শরীফ, তাফসীর, ফতওয়া থেকেঃ

- সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ ৩২৪, ৪৭৫৭, ১৮৩৮, ৪৮৫০।
- আবু দাউদ শরীফ ২/৪৫৭।
- মুসতাদরাকে হাকীম ২/১০৪।
- তিরমিযী শরীফ।
- আহমাদ শরীফ।
- ইবনে মাজাহ শরীফ।
- তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮০৪।
- আহকামুল কুরআন।
- জাসসাস ৩/৩৬৯।
- ফাতহুল বারী ২/৫০৫, ৮/৩৪৭।
- উমদাতুল কারী ৪/৩০৫
- মাআরিফুস সুনান ৬/৯৮
- তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/২৬৮
- মাজমুআতুল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২২/১০৯, ১১৪।
- আহসানুল ফতোয়া খণ্ড ৫ পৃষ্টা ১৯৯।
- এয়ালাউস সুনান খণ্ড ১৭ পৃষ্টাঃ ৮২১।
- আহকামুল কোরআন খণ্ড ৩ পৃষ্টাঃ ৪২২।
- আহসানুল ফতোয়া ৮/৪০।
- এমদাদুল ফতোয়া ৪/২০০।
- তাফসীরে কুরতবী ১৪/২৪৩।
- তাফসীরে তবারী ১০/৩৩১।
- তাফসীরে তবারী ১০/৩৩২।
- আহকামুল কোরআন ৩/৪১০।
- তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮২৪।
- আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৭২।
- তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৫৬।
- জামেউল বয়ান।
- তাফসীরে রূহুল মাআনী ২২/৮৮।

তাহলে আমরা কিছু অংশ মানবো আর কিছু অংশ মানবো না? মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সম্মানিত পবিত্র হজ্জে গিয়ে হারাম, ফাহেশা ও ফাসেকী কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তাহলে আমরা কি মহান আল্লাহ পাক উনার অনেকগুলি আদেশ অমান্য করে পবিত্র হজ্জ আদায় করে মনে করবো যে আমরা ফরজ হজ্জ আদায় করে ফেলেছি?
উটের মূত্র নিয়ে মূর্খ নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশরিক ব্যতীত কোন জ্ঞানীকে অপপ্রচার চালাতে আমি দেখিনি।

উটের মূত্র নিয়ে মূর্খ নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশরিক ব্যতীত কোন জ্ঞানীকে অপপ্রচার চালাতে আমি দেখিনি।



ইহুদীদের চেয়ে বড় শত্রু (৫/৮২) ও জ্ঞানি শত্রু ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুজে পাওয়া যাবেনা। সেই শত্রুরা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর কতো নমুনার ফাউল অপবাদ দিলো কিন্তু কোন যামানার কোন জ্ঞানি ইহুদীর এই জিনিসটা মাথায় আসলোনা যে ইসলামের নবী হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উটের মুত্র খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ধরি। আসলে তারা দুষমন হলেও নাস্তিক ও মুশ্রিকদের মতো মূর্খ নয় বলেই এই কাজ করেনি কোনোদিন কারণ তারা ইসলাম না মানলেও মুসলিম থেকে বেশী জানে।

বাংলাভাষী কিছু মূর্খ নাস্তিক ও ভারতীয় গোমূত্র পানকারী মুশরিক অনেকদিন ধরেই দাবি করে আসছে এই বলে যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলামের সর্বশেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এইটা একটা চরম পর্যায়ের মিথ্যা অপপ্রচার। রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজেরা যেমন কখনো উটের মূত্র পান করেননি, তেমনি রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য আদেশ, উপদেশ কিংবা নির্দেশ বা পরামর্শও দেননি।

তাহলে ঘটনা কী? ঘটনা হচ্ছে দু-একটি হাদিস শরীফ অনুযায়ী অমুসলিম এক গোত্রের একদল লোক মুসলিম সেজে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর কাছে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দয়া-পরবশ হয়ে তাদেরকে আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে বিরূপ আবহাওয়াজনিত বা অন্য কোনো কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে কিছু উট ও একজন রাখাল-সহ তাদেরকে অন্য কোনো স্থানে চলে যেতে বলেন যেখানে আবহাওয়া তাদের জন্য উপযুক্ত এবং তাদের অসুস্থতা থেকে সুস্থতা পেতে উটের দুধ ও মূত্র পান করার জন্য পরামর্শ দেন। এরপর তারা চলে যায় এবং পথিমধ্যে উটের দুধ ও মূত্র পান করার কারনে সুস্থ হয়ে উঠে এবং রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাঠানো রাখাল বালককে নির্মমভাবে হত্যা করে উনার দেওয়া উট নিয়ে পালিয়ে যায়। সংক্ষেপে হাদিসটা এরকম। যাদের প্রয়োজন তারা মিলিয়ে দেখতে পারেন এই লিঙ্কে গিয়ে [https://www.hadithbd.com/print.php?hid=51329]।

পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ

ঘটনা (ক)

১) হযরত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদেরকে অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে সুস্থ হওয়ার ঔষদ হিসেবে একত্রে উটের দুধ ও মূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা কিন্তু মুসলিম ভানকারী মুনাফেক ছিল, যা পরে প্রমাণ হয়েছে।
২) উটের দুধ ও মূত্র পান করার পর তারা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর তারা রাখাল বালককে নির্মমভাবে হত্যা করে উট নিয়ে পালিয়ে যায়।
৩) একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু লোককে (যারা আসলে মুনাফেক ছিল) রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের দুধ ও মূত্র পান করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও বলেননি যে মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করতে হবে। এরকম কোনো কথা হাদিস শরীফে লিখা থাকলে আহলে সুন্নত তথা আমার মতো সুন্নী মুসলিম লোক লজ্জার তোয়াক্কা না করে উটের মূত্র পান করতামই। কিন্তু মুসলিমরা কোথাও কখনোই উটের মূত্র পান করে না। এই সাধারণ বোধটুকুও মূর্খ পুটুকামি নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশ্রিকদের নেই!

উপসংহারঃ হাদিস শরীফ অনুযায়ী আসলে ভণ্ড-মুনাফেকদের উচিত উটের মূত্র পান করা! কেননা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদেরকে উটের মূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা আসলে ভণ্ড বা মুনাফেক ছিল।

ঘটনা (খ)

২) রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি মুসলমানদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র পান করতে বলেছেন! নাউযুবিল্লাহ! এই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র! মুসলমানরা কতটা পশ্চাৎপদ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেখেছেন!

জবাবঃ প্রথমত, হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র পান করতে বলেননি! এমনকি বলা যায় যে, মুসলিমরা উটের মূত্রকে পবিত্র কিছু হিসেবেও বিশ্বাস করে না। বরঞ্চ মুসলিমদের কাছে মল-মূত্র হচ্ছে অপবিত্র জিনিস।

দ্বিতীয়ত, এ বিষয়ে পাশাপাশি দুটি হাদিস শরীফ আছে যার মধ্যে প্রথম হাদিসকে এড়িয়ে গিয়ে বারবার দ্বিতীয় হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়া হয় (এখানে শুধু প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্ধৃত করা হচ্ছে):

Volume 7, Book 71, Number 589 (Narrated Hazrat Anas Rwadiallahu Ta’la Anhu): Some people were sick and they said, “O Allah’s Rwasool Swallallahu Alaihi wa Sallam! Give us shelter and food. So when they became healthy they said, “The weather of Medina is not suitable for us.” So he sent them to Al-Harra with some she-camels of his and said, “Drink of their milk” But when they became healthy.

Volume 7, Book 71, Number 590 (Narrated Hazrat Anas Rwadiallahu Ta’la Anhu): The climate of Medina Shareef did not suit for some people, so the Allah’s Rwasool Swallallahu Alaihi wa Sallam! Ordered them to follow his shepherd, i.e. his camels, and drink their milk and urine (as a medicine). So they followed the shepherd that is the camels and drank their milk and urine till their bodies became healthy.

লক্ষণীয় যে দুটি হাদিসের বর্ণনাকারী একই ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রথম হাদিসে শুধু উটের দুধের কথা লিখা আছে, অথচ ঠিক তার পরের হাদিসেই আবার উটের দুধের সাথে মূত্র যোগ করা হয়েছে। আরো লক্ষণীয় যে দ্বিতীয় হাদিসের ব্র্যাকেটে অনুবাদের সময় “As a Medicine” যোগ করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, দুটি হাদিস অনুযায়ীই তারা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। ফলে এই হাদিসের প্রথম অংশে বিশ্বাস করলে দ্বিতীয় অংশেও বিশ্বাস করতে হবে। উটের দুধ ও মূত্র পান করে কেউ যদি সুস্থ হয় তাহলে এটি নিয়ে হাসি-তামাসা করাটাই তো বোকামী! চতুর্থত, হাদিস দুটিতে বিশেষ একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেটি সেই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি সার্বজনীন কোন উপদেশ বাণী নয়। সম্মানিত আল কোরআনে যেমন মধুর ব্যাপারে সার্বজনীন একটি বাণী আছে, “In honey there is a healing,” হাদিসে “In camel’s urine there is a healing” বলে কোন বাণী নেই বা মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য এই ঘটনা ব্যতীত অন্য কোন সময়ে দেওয়া হয়েছে এরূপ উপদেশও এমন নজীর নাই। অতএব যারা গো-মূত্র পান করে মাতাল হয়ে উপহাস-বিদ্রুপ করছে তারা নিজেদেরকেই বোকা বানাচ্ছে!

বিদ্রঃ যে হাদিস শরীফ এর থেকে কেটেকুটে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা হয় সেই হাদিস শরীফখানা হলোঃ হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্নিত যে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদেরকে বলেছেন, “উকল এবং উরাইনাহ গোত্রের কতিপয় লোক (যারা মুসলিম ছিলোনা) মাদীনা শরীফে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ (এর নাটক) করল।

এর পর তারা রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, হে মহান আল্লাহ পাক-এর নবী! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা দুগ্ধ পান করে বেঁচে থাকি, আমরা কৃষক নই। তারা মাদিনা শরীফের আবহাওয়া নিজেদের জন্য অনুকূল বলে মনে করল না (কারণ তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো)। তাই রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে একজন রাখাল সহ কতগুলো উট নিয়ে মাদিনা শরীফের বাইরে চলে যেতে এবং (সুস্থতার জন্য) ওইগুলোর দুধ ও প্রস্রাব (একত্রে) পান করার নির্দেশ দিলেন।

তারা যাত্রা করে হাররা এর নিকট পৌঁছলে (সুস্থ হয়ে যাওয়ার ফলে) ইসলাম ত্যাগ করে আবার কাফির হয়ে গেল এবং রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিজের আয়ত্বে নিয়ে চলে গেলো।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি তাদের খোঁজে তাদের পিছে লোক পাঠালেন। তাদেরকে আনা হলে, তিনি তাদের প্রতি কঠিন দণ্ডাদেশ প্রদান করলেন।

সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ লৌহ শলাকা দিয়ে তাদের চোখ তুলে দিলেন এবং তাদের হাত কেটে দিলেন। এরপর হাররার এক প্রান্তে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। শেষ পর্যন্ত তাদের এ অবস্থায়ই মৃত্যু হল।

ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমাদের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, এ ঘটনার পর নাবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই লোকজনকে সদাকাহ প্রদান করার জন্য উৎসাহ দিতেন এবং মুসলা থেকে বিরত রাখতেন।

মূল হাদিস, সহিহুল বুখারীঃ আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৭২, ইসলামিক ফাঊন্ডেশন ৩৮৭৫, তাওহীদ পাবলিকেশন ৪১৯২।

মোরালঃ এই ঘটনা থেকে আমরা যা পেলাম তা হলো, উটের মূত্র পানের নির্দেশ রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের উপর নয়। এবং ওই সকল লোকের অসুস্থতার কারনে চিকিৎসা হিসেবে তাদের উপযোগী তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা হিসেবেই নির্দেশ দিয়েছেন যার আমল কোন সম্মানিত একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনাদের হায়াতে জিন্দেগীতে আজিবন খুজলে পাওয়া যাবেনা। তবে নাস্তিক ও মুশরিকদের চটি বইগুলোতে থাকতে পারে কারণ সেগুলি বানোয়াট কাহিনীর জন্য অস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

লিখার সূত্রঃ ফেসবুকের একটি পোষ্টে এক ছুপা নাস্তিকদের সাথে কিছু মুসলমানের তর্ক হয় এই বিষয়ে।

3.29.2020

দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরকের অন্তর্ভূক্ত, যারা করোনা গজবকে ছোঁয়াচে বলছে তারা কুফরী করছে

দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরকের অন্তর্ভূক্ত, যারা করোনা গজবকে ছোঁয়াচে বলছে তারা কুফরী করছে


বর্তমান সময়ে করোনা নামক গজবকে কেন্দ্র করে মুসলমান নামধারী কিছু মানুষ ছোঁয়াচে রোগের কথা সমাজে খুব প্রচার করছেএরা ছোঁয়াচে রোগের কথা বলে পবিত্র মসজিদে নামায বন্ধের মত কাজও করে যাচ্ছেনাউযুবিল্লাহতাদের এই ঈমান ধ্বংসী ফতোয়াতে বিভ্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঈমান নষ্ট করছেনাউযুবিল্লাহতাই মুসলমানদের এ বিষয়ে কি আক্বীদা থাকা দরকার সে বিষয়ে পবিত্র শরীয়ত কি বলে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হলোঃ

ছোঁয়াচে রোগ বিষয়ে মুসলমানদের মৌলিক যে আক্বীদা রাখতে হবেঃ [وَقَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ عَدْوى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ] হযরত আবু হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিতহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, ছফর মাসে কোন অশুভ নেই

কিতাব সূত্রঃ (বুখারী শরীফ ৫৭০৭, বুখারী শরীফ ৫৭১৭, মুসলিম শরীফ ৫৯২০, ইবনে মাজাহ ৮৬, মুসনাদে আহমদ ১৫৫৪, সহীহ ইবনে হিব্বান ৫৮২৬, মুসনাদে বাযযার ৭১৪৭, মুসনাদে তয়লাসী ২০৭৩, সুনানে কুবরা নাসাঈ ৯২৩২, মুসনাদে আবু ইয়ালা ৭৯৮, সুনানে কুবরা বায়হাকী ১৪৬১৯)

হযরত সাদ ইবনু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ [أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " لاَ هَامَةَ وَلاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ] হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, পেঁচা অশুভ নয়, ছোঁয়াচে রোগ নেই এবং কোন জিনিস অশুভ হওয়া ভিত্তিহীন

কিতাব সূত্রঃ (আবু দাউদ শরীফ ৩৯২১, ৩৯১৬, ৩৯১২)।

উপরোক্ত ছহীহ হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, দ্বীন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের কোন অস্তিত্ব নেইকারন স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছোঁয়াচে রোগ বলে কোন রোগ না থাকার বিষয়কে স্পষ্ট করে দিয়েছেনসংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা মানে এটা বিশ্বাস করা রোগের নিজস্ব ক্ষমতা আছে, নিজ ক্ষমতায় রোগ কারো উপর সংক্রমন করতে পারেযা স্পষ্ট শিরকরোগ দেয়ার মালিক মহান আল্লাহ পাকএরপরও কেউ যদি ছোঁয়াচে রোগের কথা বিশ্বাস করে সে তাহলে এ বিষয়ে মৌলিক আক্বীদা থেকে বিচ্যুৎ হয়ে পথভ্রষ্ট হিসাবে চিহ্নিত হবেকারন পবিত্র দ্বীন ইসলাম এ কোন একটা বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা করা হলে কেউ সেটা অস্বীকার করলে কুফরী হবে

ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা জাহেলী যুগের বৈশিষ্টঃ

এ বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে [عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَنْ يَدَعَهُنَّ النَّاسُ النِّيَاحَةُ وَالطَّعْنُ فِي الأَحْسَابِ وَالْعَدْوَى أَجْرَبَ بَعِيرٌ فَأَجْرَبَ مِائَةَ بَعِيرٍ مَنْ أَجْرَبَ الْبَعِيرَ الأَوَّلَ وَالأَنْوَاءُ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ] হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি বিষয় আছেতারা কখনও এগুলো (পুরোপুরি) ছাড়তে পারে নাঃ মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ সহকারে ক্রন্দন করা, বংশ তুলে গালি দেওয়া, ছোঁয়াচে রোগ সংক্রমিত হওয়ার ধারণা করা, যেমন একটি উট সংক্রমিত হলে একশটি উটে তা সংক্রমিত হওয়াকিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রথমটি কিভাবে সংক্রমিত হল? আর নক্ষত্রের প্রভাব মান্য করা অর্থাৎ অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি হলোনাউযুবিল্লাহ

কিতাব সূত্রঃ (তিরমিযী শরীফ ১০০১)

জাহিলী যুগের বৈশিষ্ট সমূহের একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখাসূতরাং পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হলো, ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা মুমিনদের আক্বীদা না বরং জাহেলী যুগের আক্বীদাতাই যারা আজ ছোঁয়াচে রোগের কথা বিশ্বাস করে এবং এ আক্বীদা প্রচার করে তারা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যৎবানী অনুযায়ী জাহেলী যুগের বৈশিষ্ট বহন করছে

জাহিলী যুগের ছোঁয়াচে রোগের বদ আক্বীদা রোধ করার জন্য ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইএই হাদীছ শরীফের অবতারনাঃ

হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, لاَ عَدْوى বা ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইঅর্থাৎ কোন রোগের নিজস্ব এ ক্ষমতা নেই যে, কাউকে সংক্রমণ করবেমহান আল্লাহ পাকের তরফ থেকে রোগ আসে এর শিফাও মহান আল্লাহ পাক দিয়ে থাকেনরোগের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই যে সে কোন প্রানীকে সংক্রমিত করবে

ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইএ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা জাহিলী যুগের সেই বিশ্বাসকে বন্ধ করা হয়েছে যে, জাহিলী যুগে লোকেরা বিশ্বাস করতো রোগীর সংস্পর্শে থাকলে রোগ তার নিজস্ব ক্ষমতায় অন্যের দেহে চলে আসেঅথচ রোগের সংক্রমণ করার ক্ষমতাকে বিশ্বাস করা শিরক ও কুফরী বিশ্বাসসেই কুফরী বিশ্বাসকে এ পবিত্র হাদীছ শরীফের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছেবিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুনানে কুবরা বায়হাকীতে ছোঁয়াচে রোগের আলোচনা করতে গিয়ে একটা অধ্যায়ের শিরোনামে বিষয়টা স্পষ্ট করেছেনঃ [باب‏: لاَ عَدْوَى عَلَى الْوَجْهِ الَّذِى كَانُوا فِى الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَقِدُونَهُ مِنْ إِضَافَةِ الْفِعْلِ إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى] অধ্যায়: ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই এই নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে জাহিলী যুগের মানুষের আক্বীদার কারনেতারা এটা গাইরুল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতো[অর্থাৎ তাদের ধারনা ছিলো রোগ ব্যাধির নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে যেকারনে কোন সুস্থ মানুষ কোন রোগীর সংস্পর্শে গেলে সেও সংক্রমিত হবেতাদের এ শিরকি আক্বীদা রদ করতে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই]

কিতাব সূত্রঃ (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৭ম খন্ড ৩৫১ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরূত লেবানন)

যেকারনে আমরা দেখতে পাই, পরবর্তীতে এ প্রসঙ্গে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা প্রশ্ন করেছেন যাতে আমরা এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা অর্জন করতে পারি ও বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষন করতে পারিপবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছেঃ [أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ عَدْوى وَلاَ صَفَرَ وَلاَ هَامَةَ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَمَا بَالُ إِبِلِي تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّهَا الظِّبَاءُ فَيَأْتِي الْبَعِيرُ الأَجْرَبُ فَيَدْخُلُ بَيْنَهَا فَيُجْرِبُهَا فَقَالَ فَمَنْ أَعْدَى الأَوَّلَ] হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই, ছফর মাসের কোন অশুভ আলামত নেই, পেঁচার মধ্যেও কোন আশুভ আলামত নেইতখন এক বেদুঈন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে আমার এ উটের এ অবস্থা কেন হয়? সেগুলো যখন চারণ ভূমিতে থাকে তখন সেগুলো যেন মুক্ত হরিণের পালএমন অবস্থায় চর্মরোগাগ্রস্থ উট এসে সেগুলোর পালে ঢুকে পড়ে এবং এগুলোকেও চর্ম রোগে আক্রান্ত করে ফেলেহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তাহলে প্রথমটিকে চর্ম রোগাক্রান্ত কে করেছে?

কিতাব সূত্রঃ (বুখারী শরীফ ৫৭১৭, মুসলিম শরীফ ২২২০)।

এ পবিত্র হাদীছ শরীফের মাধ্যমে আক্বীদা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছেকেউ যাতে কোনভাবেই ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস না করে সেটা পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছেকারন পবিত্র হাদীছ শরীফে প্রথমেই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফয়সালা মুবারক করেছেন ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইএরপর যখন উনাকে চর্মরোগে আক্রান্ত উটের সাথে অন্য উট রাখার কারনে তাদের মধ্যেও কিছু উটের চর্মরোগ হওয়ার বিষয়টা বলা হলো তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইএটা আরো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রথম উটটি যেভাবে আক্রান্ত হয়ে এগুলোও সেভাবে হয়েছেঅর্থাৎ প্রথম উট কারো সংস্পর্শ ছাড়া যেভাবে আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছে অন্য উটও সেভাবে রোগাক্রান্ত হয়েছে, কোন ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়নিকেননা ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিন্দুমাত্রও যদি কোন কারন থাকতো (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) তাহলে সেটা উল্লেখ করা হতো চর্মরোগে আক্রান্ত উট বিষয়ক প্রশ্নে উত্তরকিন্তু এ ধরনের জাহিলী আক্বীদার দরজা বন্ধ করার জন্য স্পষ্ট করে অন্য উটগুলো কিভাবে অক্রান্ত হলো তার কারনও হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলে দিলেনআর এটাই আক্বীদা ও ঈমানএর ব্যতিক্রম আক্বীদা রাখলে সে স্পষ্ট শিরক করবেনাউযুবিল্লাহ

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি পবিত্র দ্বীন ইসলামের আক্বীদা হচ্ছে ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইসেই সাথে ছোঁয়াচে রোগের বিশ্বাস রাখা হচ্ছে জাহিলী যুগের বৈশিষ্টকিন্তু বিভ্রান্ত বদ আক্বীদাধারী কিছুলোক স্পষ্ট দলীল থাকার পরও ছোঁয়াচে রোগ প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন দলীলের অবতারনা করেউল্লেখ্য, যেহেতু পবিত্র বিশুদ্ধ রেওয়ায়েত দ্বারা স্পষ্ট শব্দে প্রমাণিত হচ্ছে হয়েছে, لاَ عَدْوى বা ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইকিতাব সূত্রঃ (বুখারী শরীফ ৫৭১৭) সেক্ষেত্রে অন্য কোন রেওয়ায়েত যদি পাওয়া যায় যা আপাতদৃষ্টিতে ব্যতিক্রম মনে হয় তাহলে ব্যতিক্রম রেওয়ায়েতের ব্যাখ্যা খুঁজতে ও বুঝতে হবেসরাসরি এসকল রেওয়ায়েত দেখে ছোঁয়াচে রোগ আছে এমন কথা বলা, আক্বীদা রাখা, প্রচার করা কুফরী হবেকারন এসকল রেওয়ায়েতের হাক্বীকত সম্পূর্ণ ভিন্ন বরং এসকল রেওয়ায়েত দ্বারাই ছোঁয়াচে রোগ আছে বিশ্বাস করার মাধ্যমে ঈমান হারানো থেকে বাঁচার পথ দেখানো হয়েছে

যেমন, একটা হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ [عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏: لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ‏.] হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, রোগাগ্রস্থ উট যেন সুস্থ উটের সাথে না রাখা হয়

কিতাব সূত্রঃ (মুসলিম শরীফ ৫৯০৫)

বাহ্যিকভাবে এ বর্ণনা দেখে হয়তো মনে হবে ছোঁয়াচে রোগ না থাকলে সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের কাছ থেকে আলাদা রাখতে বলার কারন কি?

কারনও পরিষ্কারআমরা ইতিপূর্বে দেখেছি ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা শিরক ও কুফরীএ শিরক ও কুফর থেকে বাঁচানোর জন্যই মূলত সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের কাছ থেকে আলাদা রাখতে বলা হয়েছেঅর্থাৎ কেউ তার সুস্থ পশুকে কোন রোগাক্রান্ত পশুর সাথে রাখলো এবং স্বভাবিক প্রক্রিয়ায় সেখানকার কোন সুস্থ পশুও যখন অসুস্থ হয়ে গেলো এমতাবস্থায় তার মনে যদি কোনভাবে এ ধারণার উদ্রেক হয় যে, তার সুস্থ পশুকে সেই অসুস্থ পশুর সাথে রাখার কারণেই সেই রোগ সংক্রামিত হয়েছেতাহলে এ ধারনার কারনে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবেসূতরাং ঈমানী দুর্বতলার কারনে কেউ যাতে শিরক কুফর করে না বসে তাই সতর্কতামূলক পন্থা অবলম্বন করে সুস্থ উটকে অসুস্থ উটের থেকে আলাদা রাখতে বলা হয়েছে, ছোঁয়াচের কারনে নয়

বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করে বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুনানুল কুবরা বায়হাকী শরীফে এ বিষয়ে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার জন্য একটা অধ্যায় কয়েম করেছেন এবং তার শিরোনাম দিয়েছেনঃ [باب‏: لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ فَقَدْ يَجْعَلُ اللَّهُ تَعَالَى بِمَشِيئَتِهِ مُخَالَطَتَهُ إِيَّاهُ سَبَبًا لِمَرَضِهِ] অধ্যায়: অসুস্থ উট সুস্থ উটের সাথে রাখবে নাযেহেতু কখনো মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় অসুস্থের সাথে সুস্থেকে রাখার পর (সুস্থ পশু) সেই রোগে আক্রান্ত হতে পারে

কিতাব সূত্রঃ (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৭ম খন্ড ৩৫২ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরুত লেবানন)।

এধরনের আক্রান্ত হওয়া ঈমানী পরীক্ষার অন্তর্ভূক্ততাই দূর্বল ঈমানের অধিকারীরা যাতে সুস্থ পশুকে অসুস্থ পশুর সাথে রাখার কারনে ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়েছে এ আক্বীদা পোষন না করতে পারে তাই সর্তকতামূলক অসুস্থ উট সুস্থ উটের সাথে রাখবে না এ হাদীছ শরীফ এসেছে

সূতরাং এ ক্ষেত্রে মুসলমান ঈমানদারমাত্রই এ আক্বীদা রাখতে হবে, অসুস্থ ব্যক্তি বা পশুর সংস্পর্শে আসার কারনে তার সেই রোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমণ হয়নিবরং উক্ত রোগ মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমেই হয়েছে বলে বিশ্বাস রাখতে হবে

আমরা দেখেছি বাহ্যিক কিছু রেওয়ায়েত আছে যা দেখে কিছু মানুষ ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস করে বসেঅথচ ঐসকল বর্ণনা দ্বারাই বরং প্রমাণ হয় ছোঁয়াচে রোগের আক্বীদা রাখা যাবে নাকেউ তেমন বিশ্বাস করে বসলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবেএ ধরনের আরো একটি বর্ণনা হাদীছ শরীফের কিতাবে বর্ণিত আছেঃ [عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَارْجِعْ] হযরত আমর ইবনে শারীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, বনী সাক্বীফের প্রতিনিধি দলে একজন ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী ছিলেনতখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম সে ব্যক্তির নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বললেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বাইয়াত করে নিয়েছি সুতরাং আপনি ফিরে যান

কিতাব সূত্রঃ (মুসলিম শরীফ ২২৩১)

এই হাদীছ শরীফ দেখিয়ে বাতিল ফির্কার লোকেরা বলে থাকে কুষ্ঠরোগ ছোঁয়াচে বলেই সেই কুষ্ঠরোগীকে আসতে না করা হয়েছেউল্লেখ্য উক্ত ব্যক্তিকে ছোঁয়াচে রোগের কারনে আসতে না করা হয়নিবরং যেহেতু কুষ্ঠের মত কষ্টসাধ্য রোগে তিনি আক্রান্ত ছিলেন তাই উনাকে কষ্ট করে আসতে না করা হয়েছেযিনি রহমাতুল্লীল আলামীন ছল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন দয়া করে ইহসান করে উক্ত ব্যক্তির উপর রহম করে বলেছেন আপনার বাইয়াত নেয়া হয়েছে, কষ্ট করে আপনাকে আসতে হবে না, আপনি ফিরে যানছোঁয়াচে রোগের কারনে উনাকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে এমন আক্বীদা রাখা স্পষ্ট কুফরীকারন আমরা আগেই জেনেছি ছোঁয়াচে রোগ বলতে ইসলাম উনার মধ্যে কিছু নেই

এই বক্ত্যেবে স্বপক্ষে সহীহ হাদীছ শরীফ মওজুদ রয়েছেইমাম হযরত তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে উল্লেখ করেনঃ [عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ مَجْذُومٍ فَأَدْخَلَهُ مَعَهُ فِي الْقَصْعَةِ ثُمَّ قَالَ كُلْ بِسْمِ اللَّهِ ثِقَةً بِاللَّهِ وَتَوَكُّلًا عَلَيْهِ] হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে যে, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একজন কুষ্ঠরোগীর হাত ধরলেন, অতঃপর তার হাতকে উনার সাথে (খাবার খাওয়ানোর জন্য) স্বীয় খাবারে পাত্রে প্রবিষ্ট করলেনএরপর বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নামে খান, মহান আল্লাহ পাকের উপর ভরসা রাখুন

কিতাব সূত্রঃ (তিরমিযী শরীফ ১৮১৭)

এখান প্রশ্ন আসে যদি কুষ্ঠরোগ ছোঁয়াচে হওয়ার কারনে বনী সাক্বীফ গোত্রের সেই ব্যক্তিকে ফিরে যেতে বলা হয় তাহলে এই হাদীছ শরীফে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত একজনের হাত ধরলেন, একই পাত্রে খাবার খেলেন এর ব্যাখ্যা বাতিল ফির্কার লোকেরা কি দিবে? ব্যাখ্যা হচ্ছে সেটাই, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত কুষ্ঠরোগীর হাত ধরে, একই পাত্রে খাবার খাইয়ে এটাই দেখিয়ে দিয়েছেন যে ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইআর বনী সাক্বীফের সে ব্যক্তিকে ফিরে যেতে বলার কারন সে ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার কারনে এত রাস্তা অতিক্রম করে আসতে যেন কষ্টে পতিত হতে না হয়

এ কারনে আমরা পবিত্র হাদীছ শরীফের মাধ্যমে জানতে পারি, কুষ্ঠরোগীর সাথে নির্দ্বিধায় সুস্থ মানুষের থাকা খাওয়া ইত্যাদির বর্ণনাও রয়েছেঃ [عَنْ عَائِشَة قَالَتْ لَنَا مَوْلًى مَجْذُوم فَكَانَ يَأْكُل فِي صِحَافِي وَيَشْرَب فِي أَقْدَاحِي وَيَنَام عَلَى فِرَاشِي] উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের একজন আযাদকৃত গোলাম ছিলো যে কুষ্ঠরোগী ছিলোসে আমার থালায় খাবার খেতো, আমার পেয়ালায় পানি পান করতো এবং আমাদের (বাড়ির) বিছানায় ঘুমাতো

কিতাব সূত্রঃ (তাহযিবুল আছার লি তাবারী ৪/৬, ফতহুল বারী ১০/১৫৯, শরহে সহীহুল বুখারী লি ইবনে বাত্তাল ৯/৪১০, শরহে নববী আলা মুসলিম ৭/৩৯৩, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/২০, আওনুল মাবুদ ৯/৮৭৬)

কুষ্ঠরোগের মত রোগ যদি ছোঁয়াচেই হতো তাহলে কি করে একজন কুষ্ঠরোগীকে একই পাত্রে খাবার, পানি, সেইসাথে বিছানা দেয়া হলো?

সূতরাং প্রমাণ হলো কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করা স্পষ্ট হাদীছ শরীফের বিরোধিতা ও কুফরী

বাতিল ফির্কার লোকেরা ছোঁয়াচে রোগ প্রমাণ করার জন্য বুখারী শরীফ থেকে আরেকটি দলীল দেয়ার চেষ্টা করেঃ [وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنْ الأَسَدِ] কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে দূরে থাকো যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাকো

কিতাব সূত্রঃ (বুখারী শরীফ ৫৭০৭)

অর্থাৎ তাদের বক্তব্য হচ্ছে কুষ্ঠরোগ যেহেতু ছোঁয়াচে তাই এ রোগ থেকে বাঁচার জন্য বাঘের হাত থেকে বাঁচার মত সতর্ক হতে বলা হয়েছেমজার বিষয় হচ্ছে যারা হাদীছ শরীফখানার এ অংশ তুলে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তারা এই হাদীছ শরীফের পূর্ণাংশ উল্লেখ করে নাএই হাদীছ শরীফের প্রথমেই বলা হয়েছেঃ [سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ عَدْوى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ وَفِرَّ مِنَ الْمَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنْ الأَسَدِ] হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোন অশুভ নেই হাদীছ শরীফের শুরুতেই বলে নেয়া হয়েছে ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেইঅর্থাৎ আক্বীদার বিষয়টা পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছেতাহলে পরের অংশ কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে দূরে থাকো যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাকোএ কথার তাৎপর্য কি? আর ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি কুষ্ঠরোগীর সাথে একসাথে এক পাত্রে খাবার খাওয়ার কথাও বলা হয়েছেতাহলে এর ফয়সালা কি?

এ মর্মে হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছেঃ [فَإِنَّهُ لَا يُصِيبُكَ مِنْهُ شَيْءٌ إِلَّا بِتَقْدِيرِ اللَّهِ تَعَالَى، وَهَذَا خِطَابٌ لِمَنْ قَوِيَ يَقِينُهُ، أَمَّا مَنْ لَمْ يَصِلْ إِلَى هَذِهِ الدَّرَجَةِ فَمَأْمُورٌ بِعَدَمِ أَكْلِهِ مَعَهُ كَمَا يُفِيدُهُ خَبَرُ: (فِرِّ مِنَ الْمَجْذُومِ)]উক্ত বর্ণনায় কুষ্ঠরোগী বা সে ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিনয় ও ঈমান পোষণ করে খাবার খাওয়ার জন্য বলা হয়েছে এ কারণে যে, সেই রোগীর থেকে কোনকিছু তোমার নিকট মহান আল্লাহ পাকের ফয়সালা ব্যাতিত পৌঁছবে নাআর এ সম্বোধন ঐ ব্যক্তির জন্য যার ঈমান ও ইয়াকীন মজবূতকিন্তু যে ব্যক্তি সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে নি, তার জন্য হুকুম হলো, সে ঐ ধরনের রোগীর সাথে খাবে নাযেমন এ ব্যাপারে অপর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, তুমি কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন করো

কিতাব সূত্রঃ (ফাইদ্বুল ক্বাদীর শরহু জামিউছ ছগীর, ৫/ ৪৩)

অর্থাৎ যাদের ঈমান ও ইয়াকিন দূর্বল যারা ছোঁয়াচে রোগের ধারনা করে বসে নিজের মূল্যবান ঈমান হারিয়ে বসতে পারে তাদের জন্য কুষ্ঠরোগী থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছেকারন কুষ্ঠরোগীর কাছে তারা যদি যায়, আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় তাদের যদি কুষ্ঠরোগ হয়ে যায় তখন তারা যদি আক্বীদা পোষন করে কুষ্ঠরোগীর সংস্পর্শে যাওয়ার কারনে ছোঁয়াচে রোগের হেতু তাদের এ রোগ হয়েছে সেটা শিরিক ও কুফরী হয়ে ঈমান নষ্ট হবেএই ধরনের দুর্বল ঈমানের মানুষের জন্য সর্তকবাণী স্মরূপ কুষ্ঠরোগী থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে

আর যারা সূদৃঢ় আক্বীদার অধিকারী যাদের বিশ্বাসে কোন অবস্থাতেই ফাটল ধরবে না সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমের প্রতি অবিচল আস্থা থাকবে ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস রেখে ঈমান হারাবে না তাদের কুষ্ঠরোগীর সাথে একসাথে খাবারও খাওয়ার ব্যাপারেও উৎসাহিত করা হয়েছেযা আমরা বিগতপর্বে আলোচনা করেছি

এ ধরনের বিশুদ্ধ আক্বীদার মানুষের জন্য বরং হাদীছ শরীফের মধ্যে বলা হয়েছেঃ [عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ كُلْ مَعَ صَاحِبِ الْبَلَاءِ تَوَاضُعًا لِرَبِّك وَإِيمَانًا] হযরত আবু যর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খাও তোমার প্রতিপালকের প্রতি বিনয় এবং উনার প্রতি দৃঢ় ঈমানের সাথে

কিতাব সূত্রঃ (আওনুল মাবুদ শরহে সুনানে আবু দাউদ ৯/৮৭৫, জামিউস ছগীর ২/১৬৬, ফতহুল কবীর ২/৩০০, সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১২/১৭২)

সূতরাং প্রমাণ হয়ে গেলো, কুষ্ঠরোগী থেকে বাঘের মত বেঁচে থাকার কথা শুধুমাত্র দুর্বল ঈমানের লোকদের জন্যই বলা হয়েছে

বালিত ফির্কার লোকেরা ছোঁয়াচে রোগ প্রমাণ করতে যে হাদীছ শরীফখানা মূল দলীল হিসাবে উপস্থাপন করে থাকে তা হচ্ছেঃ [عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إذَا سمِعْتُمْ الطَّاعُونَ بِأَرْضٍ، فَلاَ تَدْخُلُوهَا، وَإذَا وقَعَ بِأَرْضٍ، وَأَنْتُمْ فِيهَا، فَلاَ تَخْرُجُوا مِنْهَا] হযরত উসামা ইবনে যাইদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “যখন তোমরা শুনবে যে, কোন স্থানে প্লেগ রোগ হয়েছে, তাহলে সেখানে প্রবেশ করো নাআর যখন কোন স্থানে সেই রোগের প্রাদুর্ভাব হয় এবং তোমরা সেখানে থাকো, সেখান থেকে বের হয়ে যেয়ো না

কিতাব সূত্রঃ (বুখারী শরীফ ৫৭২৮, মুসলিম শরীফ ৫৯০৫)

এ হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকারক হাফিজুল হাদীছ হযরত ইমাম কাস্তালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি কয়েকটি কারন উল্লেখ করেছেন,

১) যখন কোন এলাকায় মহামারী বিস্তার লাভ করে তখন সে এলাকার নির্দিষ্ট কিছু লোকদের উপর আল্লাহ পাক উনার ফয়সালা কায়েম হয়ে যায়অর্থাৎ সে ঐ এলাকায় থাকলেও তার সে রোগ হবে অথবা সে এলাকা ত্যাগ করলেও তা থেকে সে বাঁচতে পারবে নাতাই সে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়

২) যদি মানুষেরা মহামারী দেখে সে এলাকা থেকে বের হয়ে যায় তখন ঐ এলাকার আক্রান্ত ব্যক্তি চরম বিপদে পতিত হয়কারন আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেখাশোনা করার কেউ থাকে না এমনকি সে মারা গেলেও তাকে দাফনের কেউ থাকে নাআক্রান্ত ব্যক্তিকে এহেন বিপদের মধ্যে ফেলে তাই এলাকা ত্যাগ করতে না করা হয়েছে

৩) কোন মাহামারীর কারনে যদি মানুষ সে এলাকা থেকে বের হয়ে যেতে শুরু করে তখন সবার দেখা দেখি সুস্থ ও শক্তিশালী লোকেরাও বের হয়ে যাবেএর ফলে দুর্বল ব্যক্তিদের মন ভেঙ্গে যাবেউলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয়কে জিহাদের ময়দান থেকে পালয়নের সাথেও তুলনা করেছেনকারন জিহাদের ময়দান থেকে কেউ পালালে তাদের দেখে দুর্বল লোকেদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে এবং শত্রুপক্ষ সম্পর্কে ভীতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে

৪) বাহিরে বের হয়ে যাওয়া লোকেরা মনে করে যদি আমরা আক্রান্ত স্থানে থাকি তাহলে আমরাও আক্রান্ত হয়ে যাব আর ওখানে অবস্থানকারী লোকেরা ধারনা করে আমরা যদি বের হয়ে যাই তবে বেঁচে যাবএটা ঈমানহানীকর বিষয়তাই নিষেধ করা হয়েছে

হযরত আরিফ ইবনে আবি জামরা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, কোন বিপদ নাযিল হওয়ার থাকলে ঐ স্থানে অবস্থানকারীদের নিয়ন্ত্রন করা হয়, জমিনের ঐ অংশ (অর্থাৎ যেখানে মহামারী হচ্ছে) নিয়ন্ত্রিত হয়নাসূতরাং মহান আল্লাহ পাক যার উপর মহামারী নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিবেন তার উপর নাযিল হবেই সে যেখানেই বা যে এলাকাতেই যাক না কেন তার উপর সেটা নাযিল হবেই

আর মহামারী আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করতে নিষেধ করার হেতু হচ্ছে ঐ এলাকায় গেলে আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় যদি সে লোক আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে ছোঁয়াচে রোগের ধারনা করে ঈমান নষ্ট করে বসবেতাই এই ধরনে আক্বীদার লোকদের আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে

কিতাব সূত্রঃ (শরহে বুখারী, মাওয়াহেবু ল্লাদুন্নিয়াহ, শরহে যারকানী)

সর্বোপরি, বুখারী শরীফের এই হাদীছ শরীফ দ্বারা যা প্রমাণ হয়, মহামারী কবলিত স্থানে কেউ থাকলে তাকে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে এ আক্বীদার ভিত্তিতেই যে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ নেইআর এ আক্বীদা যেন তার মনে স্থান না পায় এ এলাকায় থাকলে সে আক্রান্ত হবে আর ছেড়ে চলে গেল সে আক্রান্ত হবে না অপরদিকে উক্ত হাদীছ শরীফের মধ্যে মহামারী কবলিত স্থানে কাউকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এ জন্য যে, যাতে সেখানে গিয়ে আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় সে রোগে আক্রান্ত হয়ে যাতে ধারনা করে না বসে এ এলাকায় প্রবেশ করার কারনে সে আক্রান্ত হয়েছে

হযরত ইবনে আব্দুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বিষয়টা পরিষ্কার করে উনার কিতাবে বলেনঃ [أَمَّا قَوْلُهُ لَا عَدْوَى فَمَعْنَاهُ أَنَّهُ لَا يُعْدِي شَيْءٌ شَيْئًا وَلَا يُعْدِي سَقِيمٌ صَحِيحًا وَاللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ لَا شَيْءَ إِلَّا مَا شَاءَ] অর্থ: ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছুই নেইএ হাদীছ শরীফের অর্থ হচ্ছে, কোন কিছুই কোন কিছুকে সংক্রামিত করতে পারে না এবং কোন রোগী কোন সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রামিত করতে পারেনাবরং মহান আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় সবকিছু হয়উনার ইচ্ছার বাইরে কোন কিছু হয় না

কিতাব সূত্রঃ (আল ইস্তিযকার ৮/৪২২; প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরুত লেবানন)

সূতরাং মুসলমানদের আক্বীদা হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম ছাড়া কারো কোন রোগ হতে পারে নাসেই ভিত্তিতে প্রথম জনের যেভাবে মহান আল্লাহ পাকের হুকুমে রোগ হয়েছে, তেমনি অন্যজনেরও যদি হয় মহান আল্লাহ পাকের হুকুমেই সেই রোগ হবেআর মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম না হলে কিছুতেই তার সেই রোগ হবে নাএমনকি আক্রান্ত রোগীর সাথে একাসথে খেলে, থাকলে, স্পর্শ করলে কোন অবস্থাতেই নাএটাই আক্বীদা, এ আক্বীদাই সকল মুসলমানদের পোষন করতে হবে

উপরোক্ত কুরআন হাদিস দিয়ে মানুষের ঈমান হেফাজত করার দ্বীনের তাবলীগ করা যদি অপরাধ বলে গন্য হয় তাহলে তা সামগ্রিকভাবে ইসলামের উপর সরকার ও প্রশাসনের ইচ্ছেকৃত আঘাত বলেই গন্য হয়।