1.09.2019

আওয়ামীলীগের যুলুমবাজ হওয়ার পিছে মূলত বিএনপি দায়ীঃ কথিত ফেসবুকার রুম্মান আকবর

আওয়ামীলীগের যুলুমবাজ হওয়ার পিছে মূলত বিএনপি দায়ীঃ কথিত ফেসবুকার রুম্মান আকবর


পাঠক মহলের কাছে প্রথমেই যে কথাটি বলবো তা হলো, আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ এর অবস্থান কি বর্তমানে?

আপনি যদি বলেন ভালো তাহলে এই অপবাদ কি কারনে দেওয়া হলো? আপনি যদি বলেন খারাপ তাহলে এর দায় বিএনপির ঘাড়ে কি কারনে যাবে? বিএনপি কি আওয়ামীলীগ কে যুলুমবাজ বানিয়েছেঃ

ছুপা ইহুদিবাদী রুম্মান আকবর নামক কথিত ফেসবুকার এর স্ট্যাটাস হুবুহু নিচে তুলে ধরা হলোঃ

///দেশের আজকের এই অবস্থার জন্য ১মাত্র দায়ী হচ্ছে বিএনপিবিএনপি'র ভুল সীমাহিন

১ম ভুলঃ যার হাত ধরে বাংলাদেশের সাঁজোয়া বাহিনী গড়ে উঠেছিলো সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেশে থাকতে না দেয়া! বহু বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা! যদিও তাদের কোন দোষই ছিলোআমি এটাই বুঝি না- সার্বভৌমত্বকে ভালোবাসা কি অপরাধ? আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার খাতিরে ২/১টা কেন ১টা পুরো জাতীকেই শেষ করে দেয়াটা দোষের কিছুই নয়

২য় ভুলঃ গণতন্ত্রের বীজ বোনাশেখ সাহেবের শাসনামলে ও জিয়ার শাসনামলের ১ম দিকে বাংলাদেশে ঢালাও গণতন্ত্র ছিলো নাতাতে কি দেশ খারাপ ছিলোস্বাধীনতার পর দেশ খারাপ ছিলো অন্য কারণে- তন্ত্র মন্ত্রের কারণ নয় অথচ জিয়া বহু দলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনলেন!! কেন তার সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কেউই কি(রাজাকার বাদে) টু শব্দ করেছিলো? কেউই করেনি- ভারতের পা চাটা কুত্তা অর্থাৎ রাজাকার বাদে

৩য় ভুলঃ সামরিক বাহিনীকেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া! এতখানী স্বাধীনতা দেয়া যে মঞ্জুর জিয়ার সামনেই টেব্‌ল চাপরে কথা বলতো ও কোন বিষয়ে দ্বিমত থাকলে সাথে সাথে প্রতিবাদ করতোসামরিক রীতি অনুযায়ী এটা ১টা মহা অযোগ্যতাতবুও জিয়া মঞ্জুরের বিরুদ্ধে সাথ সাথে কোন ব্যবস্থা নেননি! খেসারত সরুপ তিনি নিজেই মঞ্জুরের ব্যবস্থার শিকার হয়েছিলেন

৪র্থ ভুলঃ খালেদা জিয়ার অতি গণতান্ত্রিক মনোভাব! খামোখা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করাবিএনপি যে গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে-তা আসলেই তাকে মানায়কারণ গণতন্ত্র চর্চা করতে গিয়েই তারা আজ নিঃচিহ্ন প্রায়

৫ম ভুলঃ মূর্খতা, এটাই বিএনপি'র সবচেয়ে বড় ভুলভাই মেজর সাঈদ ইস্কান্দারের অনুরোধে খালেদা জিয়ার মঈনকে সেনাপ্রধান বানানোসাঈদ ইস্কান্দার নিজের ব্যাচমেট বিধায় মঈনের জন্য বোনের কাছে সুপারিশ করেছিলেনখালেদার মোটেও উচিত হয়নি- ভারতের দালাল মঈনকে সেনাপ্রধান করাবুঝি না মানুষ একই বারবার করে কি করে!!! এর আগেও ভারতের দালাল নাসিম শয়তানটা গাদ্দারী করেছিলোকারণ ১টাই দলের পরীক্ষিত লোককে সেনাপ্রধান না বানিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া এসব কারণেই আজ বিএনপির এই করুণ দশা।///

পোষ্ট লিঙ্কঃ http://bit.ly/2QA8aNZ যদি ডিলিট করে দেয় তবে আর্কাইভ লিঙ্কঃ http://archive.fo/Ch5mG



এবার পাঠক নির্ধারণ করেন দেশ কি খারাপ নাকি ভালো। আর খারাপ হলে এর দায়ভার বিএনপি কিভাবে নেয়?

12.29.2018

বর্তমান নির্বাচনে হিন্দুদের সুপার মাইনোরিটি ক্ষমতায়ন ও মুসলমানদের করণীয়

বর্তমান নির্বাচনে হিন্দুদের সুপার মাইনোরিটি ক্ষমতায়ন ও মুসলমানদের করণীয়


সদ্য বিদায়ী আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপি শাসনামলের যেসব পদক্ষেপকে বাতিল করেছিল, তার মধ্যে একটি হলো সংবিধানে জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংযোজিত মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসএই মূলনীতি তুলে দেয়া। এতোবড় গর্হিত কাজের বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে একটি পয়েন্ট থাকতে পারতো, তারা উল্লেখ করতে পারতো যে তারা ক্ষমতায় আসলে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে। সেক্ষেত্রে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেকখানি বৃদ্ধি পেতো।

কিন্তু না, বিএনপি তার প্রতিষ্ঠাতা কর্তৃক সংযোজিত এই মূলনীতি ফিরিয়ে আনা নিয়ে নিয়ে কিন্তু টু শব্দটি পর্যন্ত করে নাই। তারা এখন ব্যস্ত রয়েছে কিভাবে উগ্রপন্থী হিন্দুদের তুষ্ট করে ক্ষমতায় আসা যায় তা নিয়ে, সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখার প্রশ্নই ওঠে না! মির্জা ফখরুল কিছুদিন আগেও ঘোষণা দিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়নির্মাণ করে ছাড়বেই। (http://bit.ly/2CClsWi)

উল্লেখ্যঃ বিএনপির ইশতেহারে এই সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়যে সংগঠনটির দাবি মেনে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে, তা হলো হিন্দু মহাজোট। সে তার একটি স্ট্যাটাসে লিখেছে, আ.লীগ তাদের ১টি দাবি মেনেছে, বিএনপি মেনেছে ২টি। সুতরাং হিন্দুদের কাকে ভোট দেয়া উচিত? (http://bit.ly/2CCcw3k)

শুধু তাই নয়, বিএনপি তাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেয়ায় তারা সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে বলেছে, “আ.লীগ হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি পূরণে আন্তরিক নয়” (http://bit.ly/2SmD7GY)

হয়তো অনেক বিএনপি সাপোর্টার বাকবাকুম হয়ে হিন্দুদের প্রশংসায় নেমে পড়বে এখন, কিন্তু যদি আপনি বিএনপি আওয়ামীলীগ হওয়ার আগে মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে থামুন। গোবিন্দ প্রামাণিক তার এক স্ট্যাটাসে মুসলমানদের দানবএবং ইসলাম ধর্মকে পিশাচ দানব ধর্মবলে উল্লেখ করেছে এবং হিন্দুদের উস্কানি দিয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। (সূত্রঃ https://goo.gl/PcQuJF, আর্কাইভঃ http://archive.is/PNz3C)

এই গোবিন্দ প্রামাণিক ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকা প্রেস ক্লাবে দাড়িয়ে হিন্দুদেরকে আহবান করেছিলো, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার জন্য। (সূত্রঃ http://bit.ly/2d3jUJM)

উল্লেখ্য, এই গোবিন্দ প্রামাণিক, রানা দাশগুপ্ত বা এজাতীয় হিন্দুরা কিন্তু কোনো দলের সমর্থক নয়। যেমন গোবিন্দ প্রামাণিকের দলে এমন অনেক হিন্দু রয়েছে, যারা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও উচ্চপর্যায়ের সদস্য। রানা দাশগুপ্তের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যজোট আওয়ামীপন্থী হিন্দুদের দল হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এই দলেরই প্রেসিডিয়াম সদস্য সুব্রত চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। শিপন কুমার বসু কলকাতায় বসে নিয়মিত শেখ হাসিনার ছবিতে ফাঁসির দড়ি পরিয়ে স্ট্যাটাস দেয়, অথচ সে হলো আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি হেপি বড়ালের ভাতিজা।

অর্থাৎ হিন্দুরা যেই স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে, তা হলো তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থক না হয়ে বিভিন্ন দলের সাথে যুক্ত হয়েছে এবং তাদের হিন্দু পরিচয়কে মূল ধরে বিভিন্ন দলের সাথে দরকষাকষিতে নিযুক্ত হয়েছে। যে দল হিন্দুদের বেশি সুবিধা দেবে, তারা তাকেই সমর্থন দেবে। একারণে প্রতিটি রাজনৈতিক দল হিন্দুদের স্বার্থরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক অমুসলিম প্রার্থীকে বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে খবরে এসেছে। (http://bit.ly/2BIPvdd)

ঠিক এইভাবেই কিন্তু আমেরিকাকে কব্জায় নিয়েছিলো সংখ্যালঘু ইহুদিরা। আমেরিকায় ইহুদিরা কোনো নির্দিষ্ট দল করে না। বরং তারা ডেমোক্রেট রিপাবলিক উভয় দলের কাছে প্রস্তাব দেয়, যে তাদের স্বার্থ সবচেয়ে বেশি রক্ষা করতে পারবে, তাকেই তারা সমর্থন দেবে। যে কারণে নির্বাচনের আগে সেখানে উভয় দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরাই ফিলিস্তিনি নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়। উভয় দলের প্রার্থীরাই ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। 

বাংলাদেশেও হিন্দুরা সেভাবে ইহুদীদের ন্যায় সুপার মাইনোরিটি হয়ে উঠছে, যে কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মুসলমানদের কোনো ভাত নেই, সবার মুখে কেবল হিন্দু হিন্দু আর হিন্দু। বিএনপির ইশতেহারে নেই তাদের প্রতিষ্ঠাতার প্রণীত মূলনীতি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসফিরিয়ে আনার কথা। এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী কিন্তু আওয়ামী শাসনামলে পারেনি রিট করে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সরাতে, আশঙ্কা হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাকে ব্যবহার করে সুব্রত চৌধুরী সেই অপকর্মটি করতে সফল হয় কিনা।

এমতাবস্থায় মুসলমানদেরকে যা করতে হবে, তা হলো রাজনৈতিক পরিচয়ের সংকীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলা, মুসলমান পরিচয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, মুসলমান পরিচয়কে পুঁজি করে নিজের অবস্থানকে শক্ত করা। বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যে দলেরই প্রার্থী হোক, কোনো মুসলমান যেন হিন্দু প্রার্থীকে ভোট না দেয়।

কারণ বিভিন্ন দল থেকে যতো হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তারা নানা দলের রং ধারণ করে থাকলেও সবার উদ্দেশ্য কিন্তু এক, তা হলো বাংলাদেশের মুসলমানদের ধ্বংস ও হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা। যেভাবে আমেরিকার পার্লামেন্টে ডেমোক্রেট কিংবা রিপাবলিক, উভয় দলের ইহুদীদেরই লক্ষ্য থাকে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা ও মুসলিম বিরোধিতা করা। সুতরাং এদেশের পার্লামেন্টে একটি হিন্দুও যেন এমপি হয়ে যেতে না পারে, তা সে আওয়ামী বিএনপি যে দলেরই হোক না কেন।

12.08.2018

বাংলাদেশপন্থীদের থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া ইশতেহারঃ ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ ২০১৮’

বাংলাদেশপন্থীদের থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া ইশতেহারঃ ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ ২০১৮’


আমি দেখলাম বিএনপি এই ইসতেহার দিয়েছে, আওয়ামীলীগ সেই ইশতেহার দিয়েছে নামক প্রোপাগান্ডা উভয় দলের লোকেরা ঝড়ের গতিতে শেয়ার করছে আর মানুষকে কনভিন্স করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যার যার মতবাদ অনুসারে

এদিকে ভবিষ্যৎকানা বাংলাদেশীরা নির্বাচনের আগে অলি আল্লাহ হওয়া এইসব গুটিবাজ রাজনৈতিকদের এবং তাদের অনুসারীদের এইসব বুলিতে মুগ্ধ হয়ে ভাবছে দেশ নির্বাচনের পরেই এশিয়ার দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে

অহে বোকার দল শোন, যেকোন একটি দল তো যাবেই যদিও আওয়ামীলীগ যাওয়ার সম্ভাবনা ৭০% কারন তারা তালগাছ অনেক বেশী পছন্দ করে

যাইহোক মূল কথায় আসি, নির্বাচনী ইশতেহার বা প্রতিশ্রুতি শুনেই ফিদা হওয়ার কিছুই নাই, কারন এগুলো দিতে কোন টাকা পয়সা খরচ করা লাগেনা, ক্ষমতায় থাকাও লাগেনা বরং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই ইশতেহার বা প্রতিশ্রুতি ডিমোরালাইজড জাতীর জন্য খুবই উপকারী বলে দল ভেদে তাদের অনুসারীরা প্রচার করে যাচ্ছে

আচ্ছা আপনারা বলুন তো ক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগের দুই টার্ম তো আমরা দেখলাম এর আগে দেখেছি বিএনপি জামায়াতকে কিন্তু উভয় দলের মধ্যে কোন এরদোয়ান বা মুহম্মদ মাহতির কি ছিলো যে আবারো ক্ষমতায় আসলে সোনার বাংলা; মালোয়েশিয়া বা তুরস্ক হয়েযাবে, বরং এদের প্রত্যেকেই যে লেন্দুপ দর্জি তা আমাদের ভালো করেই জানা আছে

নিরপেক্ষ জনগনের এখন যা করণীয় তা হলো নির্বাচনের আগে আপনাদের এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা লাগবে, যার কারনে সরকার যেই গঠন করুক সে যেনো ক্ষমতা পেয়ে নিশ্চিত না হয়ে যায় যে আমার আর পতন হবেনা। আমাদের যা করতে হবে তা হলো, সরকার ক্ষমতা পাওয়ার পর যদি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তা অটো বিরোধী দলের হাতে চলে যাবে এই ব্যবস্থা করতে হবে

হ্যাঁ আপনি আমি একা কিছুই করতে পারবেন না তবে যদি দেশের ছাত্র ও যুব সমাজ যারা সত্যিকার অর্থে দেশ প্রেমিক (অবশ্যই তারা যদি কোন দলকানা না) হয় তাহলে এদেশের নিরপেক্ষ মানুষদের সাথে নিয়ে এই দাবী তুলুক নির্বাচনের আগে যে, সরকার যেই আসুক যারা(রাজনৈতিক দল) নিচের দাবীগুলোর সাথে একমত হবে দেশের মানুষ তাদের ক্ষমতায় আনবে নতুবা নির্বাচন বাতিল করে আপাতত সরকার চলুক সেনাবাহিনী দ্বারা

জনগনের পক্ষ থেকে করা এই দাবিগুলোর জন্য সকল নিবন্ধিত দলের সম্মতিতে কোর্টের মাধ্যেমে চুক্তি করা হবে সাক্ষর সহ, যদিঃ যে সরকার ক্ষমতায় যাবে তারা এক বছরের মধ্যে ৪ ভাগের এক ভাগ সম্পাদন না করে তাহলে তারা অটোম্যাটিক বাতিল হয়ে যাবে এবং ক্ষমতার একসেস চলে যাবে বিরোধী দলের নিকটএমন চুক্তি করতে হবে যেনো কোন টালবাহানা করা না হয় এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্ষমতাধর নেতাদের উপস্থিতিতে সেই চুক্তি বাস্তবায়ন হয় তবে (আমেরিকা, ভারত, চিন, রাশিয়া, ইউরোপ ছাড়া) যেমন তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বা কাতারের আমির বা মালোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট এরকম মুসলিম নেতাদের নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে

বাংলাদেশপন্থীদের থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া ইশতেহারঃ জেগে ওঠো বাংলাদেশ ২০১৮

১) সংবিধান, আইন ও বিচার ব্যবস্থাঃ

  • সংবিধানে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে।
  • সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম সম্মানিত দ্বীন ইসলামই চুড়ান্ত এবং তা অবমাননার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কে আইন করতে হবে। রাষ্ট্রধর্মবিরোধী সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক কোন মূলনীতি করা যাবে না, থাকলে তা বাদ দিতে হবে।
  • রাষ্ট্রধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক আইন বাতিল করে, রাষ্ট্রধর্মের সাথে সমন্বয়পূর্ণ আইন চালু করতে হবে।
  • সুপ্রীম কোর্টে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
  • দেশের প্রতি থানায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এবং প্রতিবিভাগে হাইকোর্টের শাখা থাকতে হবে।
  • হাইকোর্টের অতিরিক্ত ছুটি বাতিল করে সরকারী নিয়ম অনুসারে ছুটি দিতে হবে।
  • শুধু আইন দিয়ে নয়, বরং সর্বত্র ধর্ম ও নৈতিকতার মাধ্যমে অপরাধ হ্রাসের উদ্যোগ নিতে হবে।
  • শুধু মুখে নয়, বাস্তবে সকল মাদক নিষিদ্ধ করতে হবে। এমনকি ধূমপানের ব্যাপারেও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। প্রকাশ্যে ধূমপান করলে জরিমানা’, যদি কোন নাগরিক কোন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ধূমপানে ধরিয়ে দেয়, তবে ঐ জরিমানাকৃত অর্থের অর্ধেক তাকে দিতে হবে। মদ, জুয়াসহ যাবতীয় অবরাধ নিয়ে সংবিধানের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে জারি করতে হবে।
২) শিক্ষা ও গবেষণা খাতঃ

  • শিক্ষা ও গবেষণাখাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সববিষয়ে গবেষণা চালু করতে হবে, বিদেশী গবেষণা নির্ভর থাকলে চলবে না।
  • অবাস্তবমুখী ও সময় অপচয়কারী শিক্ষাপদ্ধতি বাতিল করে বাস্তবমুখী শিক্ষা, যা বাস্তব জীবনে কাজে লাগে তা প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষা গ্রহণে সময় কার্যকরীপদ্ধতি দিতে হবে। একজন ছাত্র যেন ২০ বছরের মধ্যে সাধারণ শিক্ষায় সময় পার করে চাকুরী পেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
  • অপরাধ, দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস হ্রাসের জন্য সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা বাদ দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • ধর্মীয় গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দ দিতে হবে, ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে কেউ গবেষনা করতে চাইলে সরকারি বরাদ্দ পাবে এমন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
  • একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। একটি নির্দ্দিষ্ট ক্লাস পর্যস্ত সবাই একসাথে(নারী পুরুষ আলাধা হবে কিন্তু বিষয় থাকবে এক) লেখাপড়া করবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০% ধর্মীয় শিক্ষা থাকবে। বাকিগুলোও ধর্মের আলোকে হবে। এই নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক ক্লাস শেষ করার পর চাহিদা অনুযায়ী কেউ ধর্মীয় উচ্চতর, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং উচ্চতর, কেউ ডাক্তার বা কেউ অর্থনীতি নিয়ে লেখাপড়া করবে। কাউকে তার চাহিদার বিপরীতে শিক্ষা নিতে চাপানো যাবেনা।
  • ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত চলমান পরীক্ষা পদ্ধতিবাতিল করতে হবে।
  • ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্ম পালনের পূর্ণ সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। রুটিন এমনভাবে করতে হবে যেন, ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকে। উদাহরণস্বরূপ রমাদ্বান শরীফ মাসে।
  • মেধাপাচার রোধ করতে হবে। দেশের মেধাবীরা যেন দেশেই থাকে সে জন্য তাদের সুযোগ করে দিতে হবে।
  • দেশজুড়ে সার্টিফিকেটহীন অনেক মেধাবী/প্রতিভাধর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সমাজ থেকে এদের তুলে আনতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রের কাজে লাগাতে হবে।
  • দেশের সবচেয়ে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে চারিত্রিক সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। ভিন্নধর্মী সম্প্রদায়ের শিক্ষক দিয়ে ছাত্রদের মধ্যে গোলযোগ তৈরী করা যাবে না।
  • ইতিহাস নিয়ে লুকোচুরি/কাটছাট বাদ দিতে হবে। শুধু ৭১র চেতনা নয়, ৪৭র চেতনা, অর্থাৎ বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে কিভাবে সৃষ্টি হলো তাও পড়াতে হবে।
  • মুসলমানদের ইতিহাস/সভ্যতার জন্য গবেষণা, তা উৎঘাটন এবং প্রচারে আলাদা বরাদ্দ করতে হবে।
  • মুসলিম কবি সাহিত্যিকদের বইসমূহ পুনঃমুদ্রণ করতে।
  • লাইব্রেরীএকটি স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মর্যাদা পাবে । দেশে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, সেই অনুপাতে লাইব্রেরীও থাকবে, যেখানে সকল বয়সের মানুষ প্রবেশ করে জ্ঞান চর্চা করতে পারবে। এতে একজন ব্যক্তি ছোটবেলা থেকেই গবেষণাভিত্তিক মনন নিয়ে বেড়ে উঠবে।
  • প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক নামাজের স্থান রাখতে হবে।
৩) চাকুরী/ব্যবসাঃ

  • সরকার বেকার জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ (চাকুরী/ব্যবসা) করে দিতে বাধ্য থাকবে।
  • শুধু চাকুরী নয়, তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হতে বা ব্যবসা করতে উৎসাহ দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ট্রেনিং দিতে হবে এবং সরকারকেই বিনিয়োগ করতে হবে। কেউ বৈধ ব্যবসা করতে চাইলে সরকার তাকে সব ধরনের সহায়তা করবে। কারণ তার মাধ্যমে অনেকের চাকুরী হবে তথা বেকারত্ব দূর হবে।
  • ব্যবসা করার জন্য সরকারের থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। তবে এই লাইসেন্স নেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি কোর্স করা বাধ্যতামূলক থাকবে। ঐ কোর্সে ঐ নির্দ্দিষ্ট ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় ধর্মীয় নীতিমালার শিক্ষা দেয়া হবে। যে সেই কোর্সে পাশ করবে, সেই লাইসেন্স পাবে। যে পাশ করবে না সে লাইসেন্স পাবে না। উদহারণস্বরূপ, একজন দোকানদার দোকানব্যবসা শুরুর আগে ঐ কোর্সে গিয়ে শিখবেঃ- দোকানদারের জন্য ধর্মীয় নীতিমালা কি? যেমনঃ মাপে কম দিলে, মানুষকে মিথ্যা বলে পণ্য দিলে ধর্মে কি বলা হয়েছে। এরফলে সকল পেশার মানুষের মধ্যে একটি নৈতিকতা কাজ করবে এবং তার পেশাকে সমাজের জন্য আমানতমনে করবে।
  • বিদেশীদের চাকুরী নয়, দেশের মানুষকে আগে চাকুরী দিতে হবে। দেশের বেকারদের চাহিদা পূরণ হওয়ার পর বিদেশীদের দিকে চোখ দিতে পারবে। দেশীয় কোন কাজের টেন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে একই রকম দেশীয় কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোন কাজ দেশের লোক না পারলে, তাদের বিদেশ থেকে ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে এসে সেই কাজ করানো যায় কি না, সে চেষ্টা করে দেখতে হবে আগে।
  • দেশের সকল মসজিদের ইমাম/খতিবদের চাকুরীকে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দিতে হবে।
  • চাকুরীতে কোন ধরনের কোটা থাকবে না, যোগ্যতা অনুসারে সবাই চাকুরী পাবে। প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকার আলাদা ভাতার ব্যবস্থা করবে।
  • সরকারী চাকুরীতে এখনও কয়েক লক্ষ পদ খালি আছে। সেগুলো দ্রুত পূরণ করতে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। সরকারী চাকুরীর সংখ্যা আরো কয়েকগুন বাড়াতে হবে।
  • সরকারী চাকুরীর বেতন এতটুকু উন্নীত করতে হবে, যেন জীবন নির্বাহের জন্য তাকে অসুদপায় অবলম্বন করতে না হয়।
  • চাকুরীতে যোগদানের বয়স বৃদ্ধি, অবসর গ্রহণের বয়স বৃদ্ধি এবং চাকুরী শেষে সংশ্লিষ্ট স্থানে উপদেষ্টা/পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) অর্থনীতিঃ

  • সুদের গ্রাস থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে, সুদবিহীন অর্থনীতির প্রণয়ন করতে হবে। ব্যাংকগুলো থেকে বৈধ ব্যবসায় ঋণের বদলে বিনিয়োগ করতে হবে।
  • রিজার্ভ ডলারে না রেখে স্বর্ণে নিয়ে আসতে হবে। এতে মূদ্রাস্ফীতি কমে আসবে । আন্তর্জাতিকভাবে অনেক রাষ্ট্র বর্তমানে ডলার ব্যতিত নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করছে। ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণ করলে আগামীতে আমাদের রিজার্ভের উপর কোন হুমকি আসবে না।
  • অযথা বিদেশী ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে দেশের সম্পদ দিয়ে কাজ পূরণ করতে হবে। সরকারী/বেসরকারীভাবে চেষ্টা করতে হবে। প্রকল্প প্রয়োজন অনুসারে অনুমোদন পাবে, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হ্রাস করতে হবে।
  • চলমান ট্যাক্স ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে, জাকাত ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  • বর্তমানে জনগণের থেকে আদায় করা ট্যাক্স/মাসুল হচ্ছে সরকারের আয়ের একমাত্র উৎস। জনগণের থেকেই আয় করা টাকা দিয়েই জনগণের জন্য উন্নয়ন করে সরকার। কিন্তু জনগণের টাকা জনগণের জন্য ব্যয় করলে সেটা উন্নয়ন বলা যায় না, তাই তা উন্নয়ন না বলে বিনিময় বলতে হবে।
  • জনরফতানির থেকে কোম্পানি/প্রতিষ্ঠান রফতানি (বিদেশে গিয়ে প্রতিষ্ঠানিক ব্যবসা) অনেক বেশি লাভজনক। এ কারণে বাংলাদেশ সরকারকে জনরফতানির থেকে বিভিন্ন কোম্পানিকে বিদেশে রফতানি (বিদেশে গিয়ে ব্যবসা) করতে বেশি সুযোগ করে দিতে হবে।
  • বিদেশীরা বাংলাদেশে এসে চাকুরী করলে যত ক্ষতি হয়, তার থেকে বেশি ক্ষতি হয় বিদেশী কোম্পানি এসে কাজ করলে (কাজ আমদানি)। বিদেশী কোম্পানির কাজের লাগাম টেনে ধরতে তাদের উপর শক্ত ট্যাক্স বসাতে হবে।
  • সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দেশে-বিদেশে ব্যবসা করতে বিনিযোগ করবে এবং তাদের ব্যবসায় অংশীদার হয়ে ইনকাম করবে।
  • কাউকে ফ্রি ট্রানজিট দেয়া যাবে না। পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র ট্র্রানজিটের বিনিয়য়ে অর্থ সংগ্রহ করে অনেক ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ যদি বিদেশী কোন রাষ্ট্রকে ট্র্রানজিট দেয়ও, তবে সেখান থেকে আন্তর্জাতিক রেট মেনে অর্থ আদায় করতে হবে। এবং সেই টাকাও সরকারের সোর্স অব ইনকাম হবে। ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রে নৌ ও রেল ট্র্যানজিট দেয়া যেতে পারে, তবে নিরাপত্তার জন্য সড়ক ট্র্যানজিট এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
  • সাধারণভাবে কোরবানির হাট বরাদ্দ দেয়ার সময় যে সর্বোচ্চ টেন্ডারমূল্য দেয়, তাকে হাট ইজারা দেয়া হয়। এই পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। এর বদলে যে ইজারাদার কাস্টমারদের থেকে সবচেয়ে কম হাসিল নিবে এবং সর্বোচ্চ পাবলিক সার্ভিস দেওয়ার নিশ্চয়তা দিবে, তাকেই হাট ইজারা দিতে হবে। কোরবানি ঈদের ছুটি আরো দুইদিন (জিলহ্জ্জ মাসের ৭ ও ৮ তারিখ) বাড়িয়ে ৫ দিন করতে হবে, এতে গ্রামীন অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
  • ইকোনোমিক জোনগুলোতে বিদেশী কোম্পানি আসতে পারে, তবে শর্ত দিতে হবে, শুধু শ্রমিক নয়, বরং মূল প্রসিসেং বা গবেষণা বিভাগে বাংলাদেশীদের চাকুরী দিতে হবে।
  • ব্লুইকোনমি বা সমুদ্র সম্পদ নিয়ে তাড়াহুড়া করে বিদেশীদের কাছে বর্গা নয়। দেশীয় সক্ষমতা অর্জন করে দেশের সম্পদ দেশে কিভাবে সর্বোচ্চ রাখা যায়, সে চেষ্টা করতে হবে।
৫) কৃষিঃ

  • কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং মান উন্নয়নের জন্য গবেষণা বাড়াতে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে । কৃষকদের বিনাশর্তে ঋণ দিতে হবে। কৃষকের ফসল যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য দেশজুড়ে পর্যাপ্ত হিমাগার তৈরী করতে হবে।
  • জিএমও এখনো চূড়ান্ত গবেষায় পৌছায়নি, তাই এখনই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কৃষিযন্ত্র নিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে।
  • বিদেশী বিজের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে, দেশী বীজের বৈশিষ্ট্য ঠিক রাখতে সরকারি উদ্যোগে আলাদা বীজগার তৈরী করতে হবে।
  • রাসায়নিক সার ও কিটনাশকের ব্যবহার বাদ দিয়ে অর্গানিক ফুডের উপর জোর দিতে হবে।
  • দেশে যে সকল ফসল পর্যাপ্তহারে উৎপাদিত হয়, সেসব ফসল আমদানির উপর উচ্চহারে ট্যাক্স বসাতে হবে।
  • কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
  • কৃষি ক্ষেত্রে কৃষকের সহায়তার জন্য ২৪ ঘন্টা কল সেন্টারের সার্ভিস রাখতে হবে। যেখানে কৃষিবিগণ কৃষকের যে কোন সমস্যার সমাধান দিবেন। কৃষক সমস্যায় পড়লে ১২ ঘন্টার মধ্যে কোন কৃষিবিদকে মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিতে হবে, এতে পরামর্শের নাম দিয়ে আন্তর্জাতিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কৃষকদের প্রতারণা করে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে না।
  • সরকারের একটি জরিপ বিভাগ থাকবে, যার মাধ্যমে জানা যাবে, কোন ফসল কতটুকু চাষের প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন অনুসারে কৃষকরা চাষ করবে এবং অনলাইনে চাষের তথ্য আপডেট করবে। একটি পূরণ হয়ে গেলে অন্যটির চাষের উপর জোর দিবে। এই তথ্য ও জরিপের কারণে কোন ফসল অতিরিক্ত হারে উৎপাদনের কারণে নষ্ট হওয়ার সুযোগ হ্রাস পাবে।
  • জনগণের জন্য রেশন সিস্টেম চালু করতে হবে।
  • সরকারী উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে। পানি বিশুদ্ধকরণ জটিল কোন প্রযুক্তি নয়, তাই পানি পরিশোধনের কথা বলে বিদেশী কর্পোরেট কোম্পানির হাতে দেশের পানি ব্যবস্থাকে তুলে দেয়া যাবে না, দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করাতে হবে।
  • খাদ্যে ভেজালের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড/যাবজ্জীবন বিধান রেখে আইন পাশ করা।
৬) খনিজ সম্পদ ও শিল্প-কারখানাঃ

  • গ্যাস আমদানি না করে, গ্যাস উত্তোলন করতে হবে। সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশীয় কোম্পানি দিয়ে গ্যাস উত্তোলনে জোর দিতে হবে।
  • রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌর শক্তির উপর জোর দিতে হবে, গবেষণা বাড়াতে হবে।
  • কারাখানাগুলোতে প্রয়োজন মাফিক গ্যাস-বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
  • অব্যবস্থাপনার কারণে গার্মেন্টস, রিয়েল স্টেট বা চামড়ার মত বড় শিল্পগুলো যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সরকারী অব্যবস্থাপনার কারণে চামড়াজাত পন্য গার্মেন্টস পণ্যের মত বড় রফতানির উৎস হয়ে উঠতে পারেনি। এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
  • শিল্পাঞ্চলগুলো নদীর কাছাকাছি হতে হবে। নদীপথকে পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করতে হবে। শিল্প বর্জ্যের কারণে নদীগুলো যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনতে হবে।
  • সঠিক আদমশুমারি করে সে অনুপাতে প্রত্যেক এলাকার মানুষের কি কি চাহিদা লাগবে, তার তালিকা তৈরী করতে হবে। যেগুলোর সরবারহ ইতিমধ্যে আছে, সেগুলো বাদে বাকিগুলো দেশীয় উদ্যোগে কলকারখানা নির্মাণ করে তা তৈরী করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে দেশে প্রচুর কলকারখানা বৃদ্ধি পাবে, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান।
  • জনগণ একটি বিরাট সম্পদ। দেশে শিল্পাঞ্চল তৈরী করে, সেখানে বিদেশীদের কলকারখানা নির্মাণ করলে, দেশের জনসম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এজন্য দেশের শিল্পাঞ্চলে দেশীয় শিল্পকারখানা নির্মাণে বেশি জোর দিতে হবে।
  • বিদেশী সংস্থা ও বিদেশি পুঁজির জাতীয় স্বার্থবিরোধী অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। এমন কোন বিদেশী পুঁজি প্রবেশ করানো যাবে না, যার কারণে দেশী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • দেশের রফতানি খাতকে এক শিল্প নির্ভর না করা। রফতানি সেক্টরকে বহুমুখী করা, যেন ভবিষ্যতে কোন রাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরী করে দেশের অর্থনীতিতে খুব বেশি প্রভাব বিস্তার না করতে পারে।
  • দেশে প্রয়োজন মাফিক পণ্য তৈরীতে উদ্যোগ নেয়া এবং জনগণকে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উব্ধুদ্ধ করা। বিদেশী পণ্য ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
  • কোন রফতানিকারকের প্রাপ্য অর্থ বিদেশী কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান আটকে দিলে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ সহযোগীতা প্রদান করতে হবে।
৭) সরকার ও প্রশাসনঃ

  • উপজেলা চেয়্যারম্যান ও কমিশনার পদে দাড়াতে নূন্যতম এইচএচসি, এমপি/মেয়র হওয়ার জন্য নূন্যতম স্নাতক পাশ হতে হবে।
  • এমপিদের থেকে ৯০% মন্ত্রী হবে, সংবিধানের এই ধারা পরিবর্তন করতে হবে। কোন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হতে ঐ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা বিশেষ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • শুধু ভোটের আগে জনগণের পাশে, এই সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। নির্বাচিত হওয়ার ২ বছর পর একটি নিরপেক্ষ জরিপ করা, “এমপিরা কত পার্সেন্ট জনগণের পাশে থাকলো। সেই জরিপে ফলাফল কম আসলে এমপি পদ বাতিল হওয়ার নিয়ম করতে হবে।
  • সংসদে অপ্রয়োজনীয় আলাপ, রাজনৈতিক চাটুকারিতা নিষিদ্ধ করতে হবে। যারা প্রয়োজন ছাড়া সংসদে অপ্রয়োজনীয় কথা বলবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে সংসদ সদস্য পদবাতিল।
  • আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে সরকার একা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। অবশ্যই চূক্তির প্রতিটি ধারা জনগনের সামনে উন্মুক্ত করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মোবাইল ফোনে টেক্সট দিয়ে হ্যাঁ/না মতামত নিয়ে তারপর তা করতে হবে।
৮. সমাজ ও সংস্কৃতিঃ

  • ধর্মকে ব্যক্তির মধ্যে আটকে রাখার কূট-পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। সমাজের প্রতিটি সেক্টরে ধর্মীয় নিয়ম-প্রথার চর্চা করতে দিতে হবে।
  • বিজাতীয় সংস্কৃতি প্রমোট করে এমন মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। মিডিয়ায় অশ্লীলতা বন্ধে কঠোর কার্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে।
  • ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এই শ্লোগান বাদ দিতে হবে। ধর্ম যার যার উৎসবও তার তার, এই শ্লোগান চালু করতে হবে। এক ধর্মের অনুষ্ঠানকে সেক্যুলার অনুষ্ঠান নাম দিয়ে সকল ধর্মের উপর চাপিয়ে দেয়া যাবে না।
  • বিজাতীয় দিবস পালন নিষিদ্ধ করে, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন উৎসব পালন করতে সর্বোচ্চ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।
  • বিয়ের জন্য কোন বয়স নির্ধারণ করা যাবে না। কেউ উপযুক্ত হলে বিয়ে করতে পারবে। সরকারীভাবে বিয়েতে সাহায্য করতে হবে। তবে প্রেম/ব্যাভিচারে ধরা পড়লে আইনত দণ্ড দেয়া হবে।
  • মিশনারীর নামে কেউ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম করলে ফাঁসির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • উপনেবেশিক আমলে ব্রিটিশ দালালদের নামে যে সমস্ত জেলা/উপজেলা/গ্রাম/শহর/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ যে সব নামকরণ হয়েছে, তার সবগুলো পরিবর্তন করতে হবে। এদেশীয় চেতনায় নামকরণ করতে হবে।
  • অন্যদেশের জাতীয় কবি নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় কবির সংগীতকে জাতীয় সংগীত করতে হবে।
  • ছোট নয় বড় ও যৌথ পরিবার সুখ ও নিরাপত্তার কারণ, এই ধারণার তৈরী করতে হবে।
  • সমাজে বিশৃঙ্খলতা তৈরী হতে পারে বা অন্যকে অন্যায়ে উব্ধুদ্ধ করতে পারে এমন কোন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা যাবে না। সমাজে সুশৃঙ্খলতা বজায় থাকে, এমন পোশাক-পরিচ্ছেদ নারী-পুরষকে পরিধান করতে বলতে হবে।
৯) জনসংখ্যা, শহরায়ন, নগরায়ন ও আবাসনঃ

  • যানজট সমস্যা নিরসনে ঢাকা শহরের মধ্যে জনসংখ্যা জড়ো না করে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। অন্য বিভাগ ও জেলাশহরগুলো উন্নত করতে হবে। গার্মেন্টস কারখানাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।
  • গণহারে ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও আকাশ যোগাযোগের বদলে নৌ ও রেলপথকে যাতায়তের মূল মাধ্যমে হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
  • নতুন করে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্টেশন চালু করতে হবে।
  • দুরার্যোগ্য গৃহহীনদের জন্য সরকারী উদ্যোগে স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ করে দিতে হবে। রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে নয়, প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাস জমি বিতরণ করতে হবে।
  • বিভাগগুলোকে প্রদেশে রূপান্তর করতে হবে। এবং প্রদেশ ভিত্তিক নিয়ম অনুসারে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে।
  • শহরের যাবতীয় স্থাপনা কমপক্ষে ১০০ বছরের প্ল্যান নিয়ে করতে হবে। রাস্তায় সুয়ারেজ লাইন, পানির লাইন, গ্যাসের লাইন, টেলিফোন লাইন যাবতীয় কাজ একসাথে করতে হবে, যেন বছর বছর রাস্তা খুড়তে না হয়।
  • পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থা, বিশেষ করে নারীদের জন্য আলাদা পাবলিক টয়লেট তৈরী করতে হবে।
  • শহর সাজাতে এমন ভাস্কর্য তৈরী করা যাবে না, যা জনগণের মধ্যে অস্থিরতা তৈরী করে। শাপলা চত্বরের শাপলা, বিজয় স্মরণীর প্লেন বা হোটেল সোনারগাও মোড়ের ঝরনার মত ভাস্কর্য বা স্থাপত্য তৈরী করে শহর সাজাতে হবে। দেশের বিভিন্ন ভার্সিটির চারুকলা বিভাগে abstract art বা বিমূর্ত শিল্প এর উপর জোর দিতে হবে। চীনের মত রাষ্ট্রগুলো abstract art আর্টের কাজ করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কামাচ্ছে। বাংলাদেশের চারুকলাকে আর্থিক উৎপাদনশীল খাতের দিকে নিয়ে যেতে হবে।
১০) নদী ও পরিবেশঃ

  • নদীগুলো দ্রুত খনন করতে হবে। ভারতের সাথে দরকষাকষিতে যেতে হবে, যেন তারা নদীর পানি ছাড়ে। এব্যাপারে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। নদীমাতৃক দেশে নদীমাতৃকতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
  • নদী ভাঙ্গন রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘুমিয়ে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জাগাতে হবে।
  • বাংলাদেশে কৃষি নির্ভর দেশ, কিন্তু নেদারল্যান্ড কৃষি নির্ভর নয়।। দুইদেশ ব-দ্বীপ হলেও ভৌগলিক ক্ষেত্রে অনেক কিছুই মিলে না। তাই নেদারল্যান্ডের বুদ্ধিতে নতুন করে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ না করে, দেশীয় বাস্তবসম্মত জ্ঞানের আলোকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
  • পরিবেশের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কোন স্থাপনা করা যাবে না।
  • বাংলাদেশের মত ছোট দেশে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মত ঝুকিপূর্ণ কাজ ব্ন্ধ করতে হবে।
  • দেশজুড়ে এখনও কৃষির জন্য ক্ষতিকর লক্ষ লক্ষ ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ আছে। সেগুলো চিহ্নিত করে কেটে ফেলা।
  • ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের উপর আলাদা জোর দেয়া। এতে অতিরিক্ত লোকবলকে চাকুরী দিতে হবে। ইনোভেটিভ ডাস্টবিন সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতে হবে। রিসাইকেলিং এর মাধ্যমে আবর্জনাকে সম্পদে রুপান্তর করতে হবে।
১১) চিকিৎসা খাতঃ

  • চিকিৎসাখাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে হবে। বিভাগগুলোতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে, গবেষনা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির চিকিৎসা, স্বল্পমূল্য এবং চিকিৎসক-নার্সের ভালো ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছুটতে হবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসক-নার্সদের কাস্টমার সার্ভিস ট্রেনিং দিতে হবে।
  • মায়েদের অহেতুক সিজার (সি-সেকশন) অপারেশন হ্রাস করতে হবে। হাসপাতালে যেকোন ধরনের বানিজ্য বন্ধ করতে কঠোর নজরদারী করতে হবে।
  • শুধু অ্যালোপ্যাথি নয়, হোমিও, আয়ুর্বেদ, দেশীয় ভেষজ চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যেও গবেষণা বাড়াতে বরাদ্দ দিতে হবে।
  • গর্ভপাত নিষিদ্ধ, এই আইন বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। ব্যাঙের ছাতার মত দেশজুড়ে গজিয়ে ওঠা কথিত মেটারনিটি ক্লিনিকগুলোতে নজরদারী বাড়াতে হবে, কেউ অবৈধ গর্ভপাত করলে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
  • বিদেশ থেকে আসা ফ্রি ওধুষ/টিকা/ক্যাপসুল শিশুদের দেয়া বন্ধ করতে হবে। কেউ অনুদান দিতে চাইলে নগদ অর্থ দিবে, সেই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে তৈরী ঔষধ জনগণের কাছে পৌছাতে হবে।
১২) সামরিক বাহিনীঃ

  • সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র আমদানি করতে হবে। দেশে অস্ত্র কারখানা তৈরী করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
  • আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে সামরিক অফিসারদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে অ্যানালিস্ট ট্রেনিং দিতে হবে। গোয়েন্দা বাহিনীর কার্যক্রম বৃদ্ধি, ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে । সামরিক অফিসারদের মাঝে গবেষণা বাড়তে হবে । এতে বহিঃবিশ্বে প্রভাব বাড়বে।
  • খেলাধূলা নামক সময় অপচয়কারী বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। তরুণ সমাজকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
১৩) বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্কঃ

  • বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, কোনরূপ বিরুপ সম্পর্ক করা যাবে না। বিশ্বের কোন দেশে মুসলমানরা আক্রান্ত হলে সবাই এক হয়ে ঐ দেশের মুসলমানদের সাহায্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।
  • কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক করতে গেলে দেশের স্বার্থ সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, নিজ দলের রাজনৈতিক স্বার্থ নয়। এমন ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া যাবে না, যাতে দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে নিজ দেশের স্বার্থ আদায় করতে হবে।
  • বিদেশে গিয়ে নিজ দেশের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্পর্কে বিচার দেয়ার সংষ্কৃতি বন্ধ করতে হবে। শত্রুকে হাসতে দেয়া যাবে না। দেশের স্বার্থে সবাই এক, এই নীতিতে অটল থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যতই দ্বন্দ্ব থাক, দেশের স্বার্থে সবাই এক হতে হবে।
  • প্রবাসীদের অর্থ ও পরিবারের নিরাপত্তা দিতে হবে। বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের একজন নাগরিকও যদি বিপদে পড়ে তবে রাষ্ট্রের শীর্ষমহল থেকে তার সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।
  • তুরষ্কের সাথে হালাল পর্যটন শিল্পবিস্তারে যে চূক্তি হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
১৪) মিডিয়া ও আইটিঃ

  • গণমাধ্যমকে প্রকৃত অর্থেই জনগণের মাধ্যম বানাতে হবে। জনগণ যা চায় গণমাধ্যম সেটা প্রচার করে কি না, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যারা নিজেদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে গণমানুষের চাওয়া হিসেবে প্রচার করবে, সেসব মিডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • বাংলাদেশের বিভিন্ন ভার্সিটির সাংবাদিকতা ও মিডিয়া স্ট্যাডি বিভাগসমূহকে বিদেশী সম্রাজ্যবাদীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংযোগ থেকে রক্ষা করতে হবে।
  • পর্নগ্রাফী নিষিদ্ধ এবং এইজরেস্ট্রিকডেট সকল পেইজ-সাইট বন্ধ করতে হবে।
  • প্রত্যেক উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌছাতে হবে। এবং সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট জনগণের ঘরে ঘরে পৌছাতে হবে।
১৫) সংখ্যালঘুঃ

  • গৃহহীন বাঙালীদের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পুনর্বাসন করতে হবে। উপজাতি গোষ্ঠীগুলোকে এক এলাকায় জড়ো না করে পুরো দেশে কর্মসংস্থান দিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। উপজাতিদের বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ দিতে হবে। উপজাতিরা শুধু একস্থানে তাদের ভাষা ও সংষ্কৃতির উপর আটকে থাকলে তাদের ব্যবহার করে শত্রু রাষ্ট্র বাংলাদেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাবে। রাষ্ট্রবিরোধী কোন সংগঠন বা গোষ্ঠীকে কোনরূপ প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
  • সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ছুটি শুধুমাত্র সংখ্যালঘুরাই ভোগ করবে, সংখ্যাগুরুরা নয়।
  • সাম্প্রদায়িকতা এড়ানোর জন্য সংখ্যালঘুরা নিজেদের ভূমি/যায়গায় ধর্মীয় রীতি/অনুষ্ঠান পালন করবে, সংখ্যাগুরুদের যায়গায় নয়।
  • দেশে গোলযোগ তৈরীকারী অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করতে হবে।

১৬) মানবাধিকারঃ

  • শিশুদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। স্কুলগুলোতে বেত ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হল/সিট ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। র‌্যাগিংনিষিদ্ধ করতে হবে।
  • প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের বৃদ্ধা পিতামাতাকে লালন/পালন বাধ্যতামূলক করতে হবে। সন্তানহীন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের লালন পালনের জন্য সরকারী উদ্যোগে বৃদ্ধনিবাস করতে হবে।
  • আত্মহত্যা রোধে ধর্মীয় চেতনা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • বস্তিবাসী ও হকারদের উচ্ছেদ নয়, বরং তাদের স্থায়ী পুনবার্সন করতে হবে।
  • বিধবা বা ডিভোর্সী নারীদের বিয়ে নিয়ে সামাজিক কু-ধারনা পরিবর্তন করতে হবে। সরকারী উদ্যোগে প্রয়োজনে তাদের দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে ।
  • সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সমস্যা হ্রাস করতে পশ্চিমা নারীবাদী ধারণা নিষিদ্ধ করে, ধর্মীয় নীতির ভিত্তিতে নারী-পুরুষের মাঝে সহমর্মিতা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • নারী নির্যাতন বন্ধ করতে নারীদের জন্য আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শপিং কমপ্লেক্স, যানবাহন, হাসপাতাল, তৈরী করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠানে নারীরা কাজ করবে, ফলে অনেক নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থান হবে।
  • সিনেমা, বিজ্ঞাপন, মডেলিং, পোস্টার যে কোন স্থানে নারীকে পণ্য বানানোর মাধ্যমে অবমাননা নিষিদ্ধ করতে হবে। কেউ করলে তাকে কঠোর শাস্তির ব্যবহার করতে হবে ।
  • ফ্ল্যামিলি প্ল্যানিং নামক শিশু হত্যা নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • বিদেশে পুরুষ শ্রমিক যেতে পারবে, তবে নারী শ্রমিক রফতানি নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • কারাগারগুলোতে আরও সুযোগ সুবিধা তৈরী করা। অমানবিকতা বন্ধ করতে হবে। কারাগার শুদ্ধ হওয়ার স্থান, সেখানে গিয়ে যেন মানুষ উল্টা আরো অপরাধপ্রবণ না হয়ে উঠে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মীয় পরিবেশ ও মনোচিকিৎসার মাধ্যমে অপরাধীকে ভালো করতে হবে। থানার হাজতগুলোতেও অমানবিকতা বন্ধ করতে হবে। রিমান্ডে নির্যাতন নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • পতিতাবৃত্তি সর্বাধিক অমানবিক কাজ। সংবিধানে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধএই আইন দেশজুড়ে জারি করতে হবে। পতিতাদের বিয়ে ও পুনর্বাসানের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • হিজড়াদের আলাদা কর্মের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজে বিশৃঙ্খলা/চাঁদাবাজি করতে দেয়া যাবে না।
  • ভিক্ষুকদেরও পুনর্বাসন করতে হবে। যদি বৃদ্ধ-বৃদ্ধা হয় তবে সরকারী বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে হবে। যদি শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়, সরকারের তরফ থেকে তৈরী প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
  • পথশিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষা এবং তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। এদেরকে মাদক, মিশনারী ও বিদেশী মদদপুষ্ট এনজিওদের খপ্পর থেকে রক্ষা করতে হবে। মা-বাবাহীন সন্তানদের নিঃসন্তান ভালো দম্পত্তিদের মাঝে তাদের বণ্টন করে দিতে হবে।
আমি হলফ করে বলতে পারি উপরে যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে তা যদি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়, তাহলে দেশ প্রকৃতঅর্থে সোনার বাংলা হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ!!!