1.14.2020

উত্তম চরিত্রবান ধার্মিক সন্তান লাভের জন্য ইসলামিক নিয়মে স্ত্রী সহবাস ও তাঁর দোয়া

উত্তম চরিত্রবান ধার্মিক সন্তান লাভের জন্য ইসলামিক নিয়মে স্ত্রী সহবাস ও তাঁর দোয়া


মহান আল্লাহ পাক বিবাহের মাধ্যমে নারী-পুরুষের যৌন আকাংখা ও বংশ বৃদ্ধিকে কল্যাণের কাজে পরিণত করেছেন। বিবাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর যাবতীয় বৈধ কার্যক্রম হয়ে ওঠে কল্যাণ ও ছাওয়াবের কাজ। শারীরিক মিলনের তৃপ্তি পাওয়া ও বংশবৃদ্ধির একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস। এর রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি ও দোয়া। পাঠকের জন্য তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো-

সহবাস শুরু করার পূর্বে এই দোয়া পড়তে হবেঃ [بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا] উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।
বঙ্গানুবাদঃ- আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নামে শুরু করছি, হে মহান আল্লাহ! পাক আমাদেরকে আপনি দয়াকরে নাপাক ইবলিশ শয়তান থেকে দূরে রাখবেন এবং আমাদেরকে আপনি যা হাদিয়া করবেন (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবেন) তা থেকেও ইবলিশ শয়তানকে দূরে রাখবেন।

>> কিতাব সূত্রঃ সহীহ বুখারীঃ হাদিস শরীফ নং ৪৭৮৭।

সাদ ইবনে হাফ্স রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন স্ত্রী-সহবাস করে, তখন যেন সে বলে, ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাকতানা অর্থাৎ - আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নামে শুরু করছি, হে মহান আল্লাহ! পাক আমাদেরকে আপনি দয়াকরে নাপাক ইবলিশ শয়তান থেকে দূরে রাখবেন এবং আমাদেরকে আপনি যা হাদিয়া করবেন (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবেন) তা থেকেও ইবলিশ শয়তানকে দূরে রাখবেন। এরপরে যদি তাদের দুজনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা বাচ্চা পয়দা হয়, তাকে শয়তান কখনো ক্ষতি করতে পারবে না।

>> কিতাব সূত্রঃ আবু দাউদ শরীফঃ হাদিস শরীফ নং ৩৪৫।

মুহাম্মাদ ইবনে হাতেম আওস ইবনে আওস আছ-ছাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করাবে (অর্থাৎ জুমুআর নামাযের পূর্বে স্ত্রী সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা সুগন্ধিযুক্ত দ্রব্যাদি দ্বারা ভালরূপে গোসল করবে, অতঃপর সকাল-সকাল মসজিদে গিয়ে ইমামের নিকটবর্তী স্থানে বসে খুতবা শুনবে এবং যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্ম হতে বিরত থাকবে, তার মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সম্মানিত সুন্নত হিসাবে পরিগণিত হবেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এক বছরের সমান দিনের রোযা এবং রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জ্বুদের নামায আদায়ের ছওয়াবের সমতুল্য হবেন।

উত্তম বাচ্চা পাওয়ার আশা করলে যখন বীর্যপাত হবে তখন বীর্য যাওয়ার প্রাক্বালে স্বরন করে নিচের দোয়াটি পাঠ করবেন, তাহলে ইবলিশ আপনার সহবাসে শরীক হবেনা।

আরবিঃ [اللّهُمَّ لآ تَجْعَلْ لِلشَّيْطَانِ فِيْمَا رَزَقْتَنِيْ نَصِيْبًا]
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা লা তাজআল-লিশ্শাইতানি ফিমা রাযাকতানী নাসীবান।
অর্থঃ হে মহান আল্লাহ পাক, যে সন্তান আপনি আমাদেরকে দান করবেন তার মধ্যে শয়তানের কোন অংশ দয়াকরে রাখবেন না।

সহবাস করার কিছু নিয়ম কানুনঃ-

>> স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে।
>> সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা। যা মহান আল্লাহ পাক উনার রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত।
>> সন্তানের জন্য রাত্রী দ্বি-প্রহরে সহবাস করা সর্বোত্তম।
>> সহবাসের প্রথমে দোয়া পড়া।
>> সহবাস করার সময় নিজের স্ত্রীর রূপ দর্শন, শৃঙ্গার অ শরীর স্পর্শন ও সহবাসের সুফলের প্রতি মনো নিবেশ করা।
>> স্ত্রীর লজ্জাস্থানের দিকে চেয়ে সহবাস না করা, ইহাতে চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়।
>> অন্য কোনো সুন্দরি স্ত্রী লোকের বা অন্য সুন্দরী বালিকার রুপের কল্পনা না করা।
>> সহবাসের সময় কথা কম বলা।
>> প্রত্যেকবার সহবাস করার পরে গোসল করা। সম্ভব না হলে নাপাক অংগ ধৌত করে অজু করে নেওয়া।

সহবাসে নিষিদ্ধতাঃ-

>> পুরোপুরি অন্ধকার ঘরে, ক্ষুদ্র বা নোংরা জায়গায় স্ত্রী সহবাস না করা। করলে চিরতরে স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে।
>> ফলবান গাছের নিচে সহবাস না করা।
>> সন্তান লাভের উদ্যেশ্যে রবিবারে (শনিবার মাগরিবের আযানের পর থেকে রবিবার মাগরিবের আযানের আগ পর্যন্ত) সহবাস না করা। ঐ দিনের সহবাসের বাচ্চা যালিম অথবা হত্যাকারী হয়।
>> সন্তান লাভের উদ্যেশ্যে বুধবারে (মঙ্গলবার মাগরিবের আযানের পর থেকে বুধবার মাগরিবের আযানের আগ পর্যন্ত) সহবাস না করা। ঐ দিনের সহবাসের বাচ্চা যালিম অথবা হত্যাকারী হয়।
>> সন্তান লাভের উদ্যেশ্যে চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে সহবাস না করা।
>> বিদেশ বা সফরে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস না করা।
>> সন্তান লাভের উদ্যেশ্যে জোহরের নামাজের পরে সহবাস না করা।
>> নাপাক শরীরে বা স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস না করা।
>> পূর্ব-পশ্চিম দিকে শুয়ে সহবাস না করা।
>> রোগ্ন অবস্থায় সহবাস না করা। তাতে রোগ আরো বেড়ে যায় এবং শরীরের ক্ষতি হয়।
>> শরীরে জ্বর ও বেশি গরমে স্ত্রী সহবাস পাগল করে দেয়। তখন সহবাস না করা।
>> বৃদ্ধা ও বারবনিতার সঙ্গে সহবাস না করা। তাতে আয়ু কমে যায়।।
>> হায়েজের অবস্থায় স্ত্রী সহবাস না করা। করলে স্বামী স্ত্রী দুই জনেই রোগ হতে পারে।
>> নিকৃষ্ট স্ত্রীর সাথে সহবাস না করা। করলে নিকৃষ্ট সন্তান জম্ম লাভ করে।
>> ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস না করা। করলে কঠিন রোগ হয়।
>> ভীষণ ক্ষুধার সময় স্ত্রী সহবাস না করা। করিলে লিঙ্গ শিথিল হয়ে যায়।

>> সহবাস সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদীস <<

>> সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ৩০৯৪। ইবনে সালাম রহমতুল্লাহি আলাইহি আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর কাছে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনা শরীফের আগমনের খবর পৌঁছল, তখন তিনি উনার কাছে আসলেন। এরপর তিনি বলেছেন, আমি আপনাকে এমন তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই যার উত্তর নাবী আলাইহিমুস সালাতু ওয়া সালাম ছাড়া আর কেও অবগত নন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন কি? আর সর্বপ্রথম খাবার কি, যা জান্নাতবাসী খাবে? আর কি কারণে সন্তান তার পিতার সাদৃশ্য লাভ করে? আর কিসের কারণে (কোন কোন সময়) তার মামাদের সাদৃশ্য হয়? তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এইমাত্র জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। রাবি বলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তিনি তো ফিরিস্তাগণের মধ্যে ইহূদীদের শত্রু। রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন হল আগুন যা মানুষকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে তাড়িয়ে নিয়ে একত্রিত করবে। আর প্রথম খাবার যা জান্নাতবাসীরা খাবেন তা হল মাছের কলিজার অতিরিক্ত অংশ। আর সন্তান সাদৃশ্য হওয়ার রহস্য এই যে পুরুষ যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন যদি পুরুষের বীর্যে পূর্বে স্খলিত হয় তখন সন্তান তার সাদৃশ্যতা লাভ করে। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-নিঃসন্দেহে আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এরপর তিনি বললেন, ইয়া রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ইহূদীরা অপবাদ ও কুৎসা রটনাকারী সম্প্রদায়। আপনি তাদেরকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার পূর্বে তারা যদি আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয় জেনে ফেলে, তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা রটনা করবে। তারপর ইয়াহূদিরা এলো এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ঘরে প্রবেশ করল। তখন রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম কেমন লোক? তারা বলল, তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যাক্তি এবং সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যাক্তির পুত্র। তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যাক্তি এবং সর্বোত্তম ব্যাক্তির পুত্র। তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলাম গ্রহন করেন, এতে তোমাদের অভিমত কি হবে? তারা বলল, এর থেকে আল্লাহ পাক তাঁকে রক্ষা করুন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক-এর রসূল। তখন তারা বলতে লাগল, সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তি এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তির সন্তান এবং তারা তাঁর গীবত ও কুৎসা রটনায় লিপ্ত হয়ে গেল।

>> সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ৪১৭১। ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহি নাফি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন তখন কুরআন শরীফের তিলাওয়াত হতে অবসর না হয়ে কোন কথা বলতেন না। একদা আমি সূরা বাকারা শরীফ পাঠ করা অবস্থায় উনাকে পেলাম। পড়তে পড়তে তিনি এক স্থানে পৌঁছলেন। তখন তিনি বললেন, আপনি কি জানেন, কি উপলক্ষ্যে এ আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছেন? আমি বললাম, না। তিনি তখন বললেন, অমুক অমুক ব্যাপারে আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছেন। তারপর আবার তিনি তিলাওয়াত করতে থাকেন। আবদুস সামাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস শরীফ বর্ণনা করেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস শরীফ বর্ণনা করেন আইয়ুব রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি নাফি রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, নাফি রহমতুল্লাহি আলাইহি ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। (২/২২৩)। রাবী বলেন, স্ত্রীলোকের কেবলা সম্মুখ দিয়ে নয় পশ্চাৎ দিক দিয়েও সহবাস করতে পারে। মুহম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি নাফি রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, নাফি রহমতুল্লাহি আলাইহি ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

>> সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ৪১৭২। আবূ নুআইম রহমতুল্লাহি আলাইহি জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইহুদীরা বলতো যে, যদি কেউ স্ত্রীর পেছন দিক থেকে সহবাস করে তাহলে সন্তান টেরা চোখের হয়। তখন (তাদের এ ধারণা রদ করে) আয়াত শরীফ নাজিল হয় মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে।

বিঃদ্রঃ পেছন দিক থেকে বলতে আবার কেউ যেন পায়খানার রাস্তা না মনে করে।

>> সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ৪৩২৪। হাসান ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি মুহম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে এমনিভাবে পড়তে শুনেছেন, (১১:৫) জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে। "মুহম্মদ ইবনে আব্বাস বলেন, আমি উনাকে এর মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, কিছু লোক খোলা আকাশের দিকে উন্মুক্ত হওয়ার ভয়ে পেশাব-পায়খানা অথবা স্ত্রী সহবাস করতে লজ্জাবোধ করতে লাগল। তারপর তাদের সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।

>> সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ৪৩২৫। ইবরাহীম ইবনে মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি মুহম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আববাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পাঠ করলেন। আমি বললাম, হে আবূল আব্বাস, এর দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে? তিনি বললেন, কিছু লোক পেশাব-পায়খানা (করার) সময় অথবা স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় (লজ্জাস্থান ব্যতীতও উলঙ্গ হতে) লজ্জাবোধ করত, তখন এই আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হয়।

>> সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ৪১৩৯। আবূ রাবী আতাকী ও আবূ কামিল জাহদারী ও ফোযায়েল ইবনে হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহিম আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সুলায়মান (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ষাটজন সহধর্মিনা ছিলেন। একদা তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি অদ্য রজনীতে সকল স্ত্রীর কাছেই গমন করবো। অর্থাৎ সহবাস করবো। অতএব, প্রত্যেকেই গর্ভবতী হবে এবং প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করবে যারা (ভবিষ্যতে) মহান আল্লাহ পাক উনার পথে অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ করবে। কিন্তু পরিশেষে একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউই গর্ভবতী হননি। এরপর তিনি অর্দ্ব মানবাকৃতির (অপূর্ণাঙ্গ) একটি সন্তান প্রসব করলেন। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তিনি তখন ইন-শা-আল্লাহ বলতেন, তবে নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করতেন, যারা প্রত্যেকেই অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে যুদ্ধ করতেন।

শিক্ষাঃ [সহবাসের সময় বাচ্চার নিয়ত থাকলে আমরা যেনো প্রথমে ইন-শা-আল্লাহ বলে তারপর কেমন বাচ্চা চাই তাঁর নিয়ত করি]

>> আবু দাউদ শরীফঃ হাদীস শরীফ নং ২২৯। হাফ্স ইবনে উমার আবদুল্লাহ্ ইবনে সালামা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং অপর দুই ব্যক্তি একজন আমার স্বগোত্রীয় এবং অপরজন সম্ভবতঃ বানূ আসাদ গোত্রের, আমরা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম-এর নিকট যাই। আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উক্ত ব্যক্তিদ্বয়কে কোন কাজে পাঠিয়ে দেয়ার সময় বলেন, তোমরা উভয়েই সক্ষম ব্যক্তি। কাজেই তোমরা তোমাদের দ্বীনকে নিরোগ করে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য সচেষ্ট হও। অতঃপর তিনি (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম) ইস্তেঞ্জায় যান এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে পানি চেয়ে নিয়ে (হাত মুবারক) ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শুরু করেন। সমবেত লোকেরা তা অপছন্দ করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইস্তেঞ্জা হতে বের হয়ে আমাদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং আমাদের সাথে গোশতও-খেতেন। স্ত্রী-সহবাস জনিত অপবিত্রতা ছাড়া অন্য কোন অপবিত্রতা তাকে কুরআন শরীফ মুখ দিয়ে তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখতে পারত না। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, নাসাঈ শরীফ)।

হজরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বলেন, যে ব্যক্তি সহবাসের ইচ্ছা করে, তার নিয়্যাত যেন এমন হয় যে, আমি ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবো। আমার মন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াবে না আর জন্ম নেবে নেককার ও সৎ সন্তান। এই নিয়্যাতে সহবাস করলে তাতে সওয়াব তো হবেই সঙ্গে সঙ্গে নেক উদ্দেশ্যও পূরণ হয়।

পরিশেষেঃ একটি মুস্তাহাব আমল হচ্ছে, যেকোন সোমবারে দুটি ভালো খেজুর হালাল টাকায় কিনে অজু সহকারে ১২৬৩ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করে তাতে দম দেবেন এক বৈঠকে। আর যেদিন সহবাস করবেন ঐদিন ২/৩ ঘণ্টা পূর্বে তা উভয়ে ভক্ষন করবেন অজু সহকারে।

1.12.2020

সংক্ষেপে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাওয়ানেহ উমরি মুবারক

সংক্ষেপে হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাওয়ানেহ উমরি মুবারক


খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন মুসলিম ইতিহাসে এক মহান সেনাপতি। যিনি রণক্ষেত্রে নিজের শক্তি ও মেধার দ্বারা সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামের ঝান্ডাকে বুলন্দ করেছিলেন।

মূল নাম খালিদ, উপনাম আবু সুলায়মান ও আবুল ওয়ালীদ। লক্বব সাইফুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার তরবারী)। মূতার যুদ্ধে অসমান্য অবদানের জন্য তিনি সাইফুল্লাহউপাধিতে ভূষিত হন। খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর জন্ম তারিখ সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এতটুকু জানা যায় যে, নবুয়তের ১৫ অথবা ১৬ বছর পূর্বে উনার জন্ম হয়।

উনার পিতা ওয়ালিদ ইবনে মুগীরা। মাতা লুবাবা আস-সুগরা। যিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত ময়মুনা বিনতুল হারিছ আলাইহাস সালাম-এর বোন (আছহাবে রাসূল ২/৬৩ পৃঃ)। এ দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খালু লাগেন। তিনি মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। উনার বংশ তালিকা হচ্ছে-খালিদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখযুম আল-কুরাশী আল-মাখযুমী (আল-ইছাবাহ ফী তাময়ীযিছ ছাহাবা, ২/৯৮ পৃঃ)।

ইসায়ী ৬৩৮ সালে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর নেতৃত্বে এডেসা, দিয়ারবাকির, মালাতিয়া, আরারাত এবং জাজিরার উত্তরের বাইজেন্টাইন অঞ্চল জয় করার পর মুসলমানদের মধ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হয়ে উঠেন জাতীয় শ্রেষ্ট বীর। এরপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মারাশ অধিকার করেন। এর কিছুদিন পর খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জানতে পারেন খ্যাতনামা কবি আশআস খালিদের প্রশংসা করে কবিতা রচনা করেছেন। আরবে তখন কবি ও কবিতার খুবই কদর, যারা কবিতা পছন্দ করতেন তারা একটি ভালো কবিতার জন্যে সম্পদের দিকে তাকাতেন না। অনুরূপ হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খুশি হয়ে কবিকে ১০০০০ দিরহাম উপহার হিসেবে দিয়ে দেন। এটা খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম অপছন্দ করলেন। তাই তিনি তদন্তের প্রয়োজন অনুভব করেন।

খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর দান করার অর্থের উৎস বের করতে তদন্তের দায়িত্ব দেন আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে। আবু উবাইদার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর জন্য এ কাজটি করা কঠিন ছিলো। কারন আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অত্যন্ত পছন্দ করতেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে। নিজের ছোট ভাইয়ের মতো আদর, স্নেহ আর ভালোবাসা ছিলো খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর প্রতি। তাই তিনি বিলাল ইবনে রাবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে এই দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পেয়ে বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে চেলসিস থেকে এমেসায় ডেকে আনেন এবং জানতে চান এ অর্থ তিনি কোথা থেকে পেলেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন তিনি নিজের অর্থ থেকে এই উপহার দিয়েছেন। এরপর আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালামের নির্দেশ খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে শুনিয়ে দেন, এটি ছিলো যদি খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উপহার দেন তবে তা ক্ষমতার অপব্যবহার। আর যদি তিনি নিজের অর্থ থেকে প্রদান করেন তবে তা অপচয়। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং খলিফা হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালামের নির্দেশে উনাকে সেনাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। খলীফার উক্ত অব্যাহতির আদেশ খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অবনত মস্তকে মেনে নেন।

খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ইসলাম গ্রহনের কাহিনী অত্যন্ত চমৎকার। তখনো খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন কাফির সৈনিক। একদিন আক্বায়ে নামদার, সরকারে দো-আলম রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করলেন হে মহান আল্লাহ পাকঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সালামা ইবনু হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং দুর্বল মুসলমানদেরকে কাফিরদের হাত থেকে মুক্তি দান করুন। এ দোয়ার পরে ৭ম হিজরিতে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুল করেন।

মূতার যুদ্ধে তিনজন সেনাপতিকে হারিয়ে মুসলিম বাহিনী যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় তখন তারা খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে সিপাহসালার মনোনীত করেন। অতঃপর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অসীম বীরত্ব ও অপূর্ব দক্ষতা প্রদর্শন করে বিজয় পতাকা উড্ডীন করেন। নূরে মুজাসসাম সাইয়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই তেজস্বীতা ও বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ উনাকে সাইফুল্লাহ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার তরবারী উপাধিতে ভূষিত করেন (যার হক্বিকত অর্থ তিনি কখনো শহীদ হবেন না বরং গাজীয়ে দ্বীন হয়ে থাকবেন ইতিহাসে)।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়া থেকে পর্দা(বিছাল শরীফ) গ্রহণের পরে বড় বড় কিছু গোত্র প্রথম খলিফা সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম উনার, বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কিছু সংখ্যক মুসলমান তাদের পূর্বের ধর্মে ফিরে যায়। কিছু লোক ভণ্ড নব্যুয়তের দাবী করে বসে, অনেকে ইসলামি কোষাগারে যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এরকম  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়। যা খলিফা সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম শক্ত হাতে দমন করেন। ইসলাম ত্যাগী তথা রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের কিছু শক্তিক্ষয় করলেও তাদের ভিতরের যে সকল লোক শুধু মুখে বা ক্ষমতা দখলের জন্য সুযোগ সন্ধান করছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং তারা সমূলে উৎপাটিত হয়। এতে করে মুসলমানদেরই অনেক উপকার হয়। তারপরই শুরু হয় ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধের দামামা।

একদিকে ইসলাম ত্যাগকারী ও যাকাত অস্বীকারকারী, অপর দিকে ভন্ডনবীদের উৎপাত মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এই ফেৎনাবাজদের শিরদাড়া গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইস্পাত কঠিন শপথ নিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম তাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের অনুরোধে তিনি তা করেননি বরং মদীনা শরীফেই রয়ে গেলেন। তিনি গোটা সেনাবাহিনীকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১টি ভাগের দায়িত্ব দিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে। মদীনা শরীফ থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বিদায় দেওয়ার সময় উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আপনার সম্পর্কে আমি রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘খালিদ মহান আল্লাহ পাকের একটি উন্মুক্ত তরবারী-যা মহান আল্লাহ পাক কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কোষমুক্ত করেছেন। তারপর তিনি বলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মহান আল্লাহ পাকের কতইনা উত্তম বান্দা(রিজালুন হাওলার রাসূল কিতাবের ২৯৩ পৃঃ)। তিনি উনার বাহিনী নিয়ে মদীনা শরীফ ত্যাগ করেন। সর্বপ্রথম তিনি ভন্ডনবী তুলায়হা লানতুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তুমুল যুদ্ধ চলছে। প্রতিটি সংঘর্ষে তুলায়হা পরাজয় বরণ করছে। এমন সময় তুলায়হা একদিন তার আপনজনদের জিজ্ঞাসা করল আমাদের এত বিপুল সৈন্য থাকতেও আমাদের এমন শোচনীয় পরাজয় কেন? তার সঙ্গীরা তাকে বলল, আমাদের প্রত্যেকেই চায় তাঁর সাথী আগে মারা যাক আর তারা প্রত্যেকেই চায় যে সে তাঁর সঙ্গীর আগে মৃত্যুবরণ করুক (হায়াতুছ ছাহাবা ৩/৬৯৩ পৃঃ)। অতঃপর খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তুলায়হার সঙ্গী-সাথীদের হত্যা করেন এবং ৩০ জনকে বন্দী করেন।

তারপর তিনি মুসায়লামাতুল কাযযাব লানতুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। মুসায়লামা কাজ্জাবটা হযরত ওয়াহশী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর হাতে নিহত হয়ে চির বিদায় নেয় (আসহাবে রাসূলের জীবনকথা ২/৬৭ পৃঃ)। তারীখুল খুলাফাগ্রন্থকার বলেন, ভন্ড নবীদের ফিৎনা নির্মূল করার পর হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যাকাতদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী মুনাফিক ও মুরতাদদের দিকে ধাবিত হন এবং তাদের উপর কঠিনতর আঘাত হানেন। তাদের কিছু মারা যায় এবং কিছু ধৃত হয়। আর অবশিষ্টরা তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে(তারীখুল খুলাফা, ৭২ পৃঃ)।

যাকাতদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী মুনাফিক সর্দার মালিক বিন নুয়ায়রাহর হত্যাকে নিয়ে এই মহৎ সাহাবী হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ব্যপারে এমন কিছু নিন্দা ও অপবাদের কথা সমাজে প্রচারিত আছে যেগুলি কাফের শিয়া'র কয়েকটি দলের বদ হিংসা বিদ্বেষের থেকে সৃষ্টি হয়, যা হযরত খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে তাও সেই সময়ে যখন কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং মুসলিম মিল্লাত সুরক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন তিনি দ্বীন ইসলামের উপর প্রতিষ্টিত থাকা খলিফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সময়ের মুসলিম রাষ্ট্রে, অথচ মালিক ইবনে নুওয়ায়রাহ সম্মানিত দ্বীন ইসলামের খুটি ও তৃতীয় স্তম্ভ পবিত্র যাকাত দিতে অস্বীকৃতিই কেবল জানায় নি বরং পবিত্র যাকাতের উটকে আটকে দেয় এবং সে তার গোত্রের লোকদের তা পরিশোধে বাধাও দেয়, যার ফলে আল্লাহ পাকের তরবারি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাকে হত্যা করতে উনার সেনাবাহিনী পরিচালিত করেন।

কেবল সেনাপতি আর সেনাবাহিনী পরিচালনা নয়, তিনি সিরিয়ার রাহা, হিরাত, আমদ এবং লারতার অঞ্চলসমূহের শাসনকর্তা ছিলেন অনেক দিন। (আছহাবে রাসূলের জীবনকথা, ২/৭২ পৃঃ)। তিনি খলীফা প্রদত্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে দ্রুত সিরিয়ায় গমন করেন। এবং দ্রুত গতিতে বলবেক, এডেসা, আলেপ্পো, কিন্নিসিরিন প্রভৃতি স্থান দখন করে সমগ্র সিরিয়া অঞ্চলে মুসলিম শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আর এভাবে তিনি একজন সুদক্ষ সেনানায়ক থেকে একজন সুযোগ্য রাষ্ট্রীয় শাসকে পরিণত হন।

সেখানে কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ইসলাম গ্রহণের পর হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মাত্র ১৪ বছর জীবিত ছিলেন। এ অল্প সময়েই তিনি মোট ১২৫ মতান্তরে ৩০০ টি ছোট-বড় যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তবে খুশীর বিষয় হল তিনি কোন যুদ্ধেই পরাজিত হননি রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেওয়া সাইফুল্লাহ উপাধির বদৌলতে। (ইবনুল আছীর, তারীখে কামিল, ৪১৮ পৃঃ)।

ইসলাম গ্রহণের পর থেকে প্রায় মৃত্যু অবধি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যুদ্ধের ময়দানে অবস্থান করেছেন। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সান্নিধ্যে থাকার খুবই কম সুযোগ পেয়েছেন। যেমন তিনি বলেন, জিহাদের ব্যস্ততা আমাকে কুরআন শরীফের বিরাট একটি অংশ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছেন (আল-ইছাবা, ৪১৫ পৃঃ)। তারপরেও তিনি এ শিক্ষা থেকে একেবারে বঞ্চিত থেকেছেন তা নয়। বরং তিনি রাসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে যতটুকু সময় কাঁটাতে পেরেছেন তার সদ্ব্যবহার করেছেন। তিনি মোট ১৮ মতান্তরে ১৭টি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে মুত্তাফাক্বুন আলাইহ হাদীছ শরীফ ২টি এবং বুখারী শরীফে এককভাবে একটি হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। তিনি ফৎওয়া বিভাগে সাধারণত বসতেন না তাই উনার ফৎওয়ার সংখ্যা দুটির বেশি পাওয়া যায় না।

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৬৩৯ ঈসায়ী মোতাবেক হিজরী ২১ মতান্তরে ২২ সালে কিছুদিন অসুস্থ হন এবং ৬০ বছর বয়সে মদীনা শরীফে বিছাল শরীফ লাভ করেন। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর দুনিয়া ত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম আফসোস করে বলেছিলেন, ‘নারীরা খালিদের মত সন্তান প্রসবে অক্ষম হয়ে গেছে।এমন কি উনার মৃত্যুতে খলীফার মতো কঠিন পর্বত সময় ব্যক্তিত্ব মুবারক পর্যন্ত নিজে কেঁদেছিলেন (রিজালুন হাওলার রাসূল, ৩০৫ পৃঃ)।

পরিশেষেঃ হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বীরের আসনে সমাসীন, উনাকে মুজাহিদে আযম বলা হয়ে থাকে। সামরিক ক্ষেত্রে এবং রণাঙ্গনে উনার যে অবদান তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

12.04.2019

মন্দিরে নামাজ পড়া যায়েজ নামক উদ্ভট ফতোয়ার পোস্টমর্টেম

মন্দিরে নামাজ পড়া যায়েজ নামক উদ্ভট ফতোয়ার পোস্টমর্টেম


বর্তমানে আমরা যে যামানায় বসবাস করছি তা আখেরী যামানার চেয়ে কোন অংশে কম বলে মনে হচ্ছেনা। তবে আমরা যে কোন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি তা সবচেয়ে ভালো জানেন মহান আল্লাহ পাক। দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ২৬ নভেম্বর ২০১৯ তারিখেঃ আপনি যা জানতে চেয়েছেন শিরোনামে প্রশ্নোত্তর আকারে এসেছে। তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রশ্নঃ মন্দিরে নামাজ পড়লে কি আদায় হবে?

উত্তরঃ আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য সমগ্র জায়গাকেই নামাজের উপযোগী বানিয়ে দিয়েছেন। তাই জলে-স্থলে, পাহাড়ে ও মহাশূন্যের যেকোনো পবিত্র জায়গায়ই নামাজ পড়লে তা আদায় হবে। অতএব, কোনো কারণে মন্দির বা বিধর্মীদের উপাসনালয়েও নামাজ পড়লে তা আদায় হয়ে যাবে। যদিও প্রয়োজন ছাড়া সেখানে নামাজের জন্য যাওয়া অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে সমগ্র জমিনকেই আমাদের জন্য উপাসনালয় ও পবিত্রতার বস্তু (তায়াম্মুমের জন্য) হিসেবে বানানো হয়েছে।অর্থাৎ যেকোনো পবিত্র জায়গায়ই নামাজ শুদ্ধ হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৫)। তবে মূর্তি, ছবি বা উপাস্য বাতি ইত্যাদি সামনে নিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি। কেননা এতে সেগুলো উপাসনাসদৃশ হয়ে যায়। তবে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। (লিঙ্ক এখানে)

কালের কন্ঠের ফতোয়াদানকারী মৌলুভী-যে কোন পর্যায়ের জাহিল সেটা বুঝতেছিনা তবে যেটা মনে হয় সে মূর্খতার কারনে এ ফতোয়া দেয়নি বরং মুসলমানরা সুযোগ পেলে যেন মন্দিরে গিয়ে নামায পড়ে তার পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করেছে। মন্দির হচ্ছে শিরকের আড্ডা হিন্দুদের পুজার স্থান। এখানে রয়েছে তাদের বিভিন্ন তথাকথিত কাল্পনিক দেব দেবীর মূর্তি। সেই সাথে বিভিন্ন নাপাকী বিষয়বস্তুতে ভরপুর থাকে মন্দিরগুলি। এখানে কি করে নামায পড়া যায়? মহান আল্লাহ পাক উনার দুনিয়ায় কি নামায পড়ার জায়গার অভাব রয়েছে?

জেনে রাখা প্রয়োজন যে, ফতেহ মক্কা তথা পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর যখন হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাবা শরীফ আসলেন তখন তিনি সব মূর্তি ধ্বংস না করে নামাজ আদায়তো দূরের কথা সেখানে প্রবেশই করেননি।

হাদিস শরীফে এসেছেঃ [عن جابر ان النبى صلى الله عليه وسلم امر عمربن الخطاب زمن الفتح وهو بالبطحاء ان يأتى الكعبة فيمحو ك صورة فيها فلم يد خلها النبى صلى الله عليه وسلم حتى محيت كل صورة فيها]
অর্থঃ হযরত জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম উনাকে হুকুম করলেন, তিনি যেন পাথর দিয়ে ক্বাবা ঘরের সমস্ত মূর্তি বা চিত্রগুলি ধ্বংস করে দেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র ক্বাবা ঘরের মুর্তি বা চিত্রগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত ক্বাবা ঘরে প্রবেশ করলেন না। (আবু দাউদ শরীফ ২য় খন্ড ২১৯ পৃষ্ঠা)

এ হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হলো, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছবি, মূর্তি ধ্বংস না করা পর্যন্ত পবিত্র ক্বাবা ঘরেই প্রবেশ করেননি। আর কালেরকন্ঠের মৌলুভী মন্দিরে নামাজের আয়োজন করছে। নাউযুবিল্লাহ!!!

এবার আসুন দেখি, ছবি ও মূর্তি যুক্ত স্থানে নামাজের ব্যাপারে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের কি অবস্থান ছিলোঃ [عن عيسى بن حميد قال سال عقبة الحسن قال ان فى مسجدنا ساحة فيها تصاوير قال انحروها]
অর্থঃ হযরত ঈসা বিন হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত ওকবাতুল হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমাদের মসজিদে প্রাণীর ছবিযুক্ত একখানা কাপড় রয়েছে। তখন হযরত ঈসা বিন হুমাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তুমি (মসজিদ থেকে) ওটা সরিয়ে ফেল। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৪৬)

আরো বলা হয়েছেঃ [عن ابى عثمان قال حدثتنى لبابة عن امها وكانت تخدم عثمان بن عفان ان عثمان ابن عفان كان يصلى الى تابوت فيه تماثيل فامربه فحك]
অর্থঃ হযরত আবু উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, লোবাবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতা হতে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, উনার মাতা হযরত ওসমান যুন্নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম উনার খেদমতে ছিলেন, আর হযরত ওসমান যুন্নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম প্রাণীর ছবিযুক্ত একটি সিন্দুকের দিকে নামায পড়ছিলেন। অতঃপর হযরত ওসমান যুন্নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম-এর নির্দেশে ওটা নিঃচিহ্ন করে ফেলা হলো। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৪৬)

হাদীস শরীফে আরো বলা হয়েছেঃ [ﻋﻦ ﻣﻘﺴﻢ ﺭﺣﻤﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﻋﺒﺎﺱ ﻳﺼﻠﻲ ﻓﻲ ﺑﻴﺖ ﻓﻴﻪ ﺗﻤﺎﺛﻴﻞ]
অর্থঃ হযরত মুকসিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন, যে ঘরে প্রানীর ছবি থাকে সে ঘরে নামাজ পড়বে না। (মুছান্নাফে আবী শায়বা-আল বাব আছ ছলাতু ফিল বাইতি ফীহি তামাছিল - ১ম খন্ড- ৩৯৮ পৃষ্ঠা)

মন্দিরতো দূরের কথা মসজিদে বা নিজ গৃহেও যদি ছবি বা মূর্তি থাকতো হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা সেটা ধ্বংস করে ফেলে পুনরায় নামায আদায় করতেন।

এবার আসুন দেখা যাক, বির্ধমীদের উপাসানালয়ে প্রবেশ বিষয়ে কোন বর্ণনা আছে কিনা?

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ [وَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِنَّا لَا نَدْخُلُ كَنَائِسَكُمْ مِنْ أَجْلِ التَّمَاثِيلِ الَّتِي فِيهَا الصُّوَرُ]
অর্থঃ হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম বর্ণনা করেন, আমরা তোমাদের গির্জায় এ কারনে প্রবেশ করি না কারন তাতে মূর্তি রয়েছে। (বুখারী শরীফ- কিতাবুস সালাত- ১১৮ পৃষ্ঠা)।

আমিরুল মুমিনিন হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম উনাকে সিরিয়াতে এক খৃষ্টান নেতা দাওয়াত করলে তিনি এ কথা বলেন। (ফতহুল বারী ১/৬৩৩)

মূর্তি থাকার কারনে আমিরুল মুমিনিন হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম খ্রিষ্টানদের গির্জায় প্রবেশ করার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। গির্জায় কেবল কল্পিত দুটি মূর্তি থাকে, সেই তুলনায় মন্দিরে কত বেশি কল্পিত মূর্তি, ছবি, নাপাকী রয়েছে তা সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন।

এখানেই শেষ না, লামাযহাবীদে মুরুব্বী মুহম্মদ সালেহ মুনজিদ তার ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেঃ [إذا تيسر وجود غير الكنائس ليُصلى فيها لم تجز الصلاة في الكنائس ونحوها ، لأنها معبد للكافرين يعبدون فيه غير الله ، ولما فيها من التماثيل والصور]
অর্থঃ গীর্জা ব্যাতিত অন্য স্থানে প্রার্থনা করা সম্ভব হলে গীর্জা ইত্যাদিতে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া যাবে না। কারণ এটি কাফেরদের মন্দির, যারা আল্লাহ পাক উনার বদলে অন্যের উপাসনা করে। এবং এর মধ্যে মূর্তি ও ছবি রয়েছে। (ফাতাওয়া ইসলামী সুওয়াল জাওয়াবঃ প্রশ্ন ২১৮৯)

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে ওলীতে গলিতে, প্রতি মহল্লা, শহরে বন্দরে, গ্রামে অসংখ্য অগনিত মসজিদ ও মুসলমানদের গৃহ থাকার পরও কেন মন্দিরে গিয়ে নামায পড়াকে বৈধ বানাতে হবে?

তবে কি তারা ভবিষ্যতে মন্দিরে হিন্দুদের পুজার সাথে সাথে মুসলমানদের নামাযের আয়োজন করতে চাইছে?