3.28.2018

মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত বিষয়ক রিট নিয়ে ৭১ টিভিতে টকশো বনাম কিছু সাম্প্রদায়িক কথা

মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত বিষয়ক রিট নিয়ে ৭১ টিভিতে টকশো বনাম কিছু সাম্প্রদায়িক কথা


সবাই বলছে, মাদ্রাসা ছাত্ররা পিছিয়ে আছে। এবং বলতেছে মাদ্রাসা ছাত্রদের এগিয়ে নিতেই নাকি জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া।

কিন্তু, এটর্নী জেনারেল নিজেই বলছে, শুনানির সময় হাইকোর্টে অসংখ্য মাদ্রাসার ছাত্র উপস্থিত ছিলো। এবং টকশো আলোচকরা বলছে, সংবিধান আর আইনের মাঝে গ্যাপ আছে। সেই গ্যাপ দিয়ে তারা রিট করার সুযোগ নিয়েছে। এ কথা শুনে এর্টনী জেনারেল বলেছে, সে বিষয়টি আগে জানতো না, এখন জানায় সে সরকারের গোচরে আনবে।

পাঠক ! ভালভাবে খেয়াল করুন। তারাই বলছে, মাদ্রাসা ছাত্ররা পিছিয়ে আছে, আবার নিজেই বলছে, শুনানির সময় অসংখ্য মাদ্রাসা ছাত্র কোর্টে উপস্থিত ছিলো। এখানে আমার কথা হলো- যে মাদ্রাসা ছাত্ররা তাদের অধিকার নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দারস্থ হতে পারে তাদের কি আপনি পিছিয়ে পড়া বলবেন? অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থায়ও তো অনেক অসঙ্গতি আছে। কোথায়, সে সব ছাত্ররা তো কোর্টের দারস্থ হয় না। কিন্তু মাদ্রাসা ছাত্ররা সংবিধান ও আইন নিয়ে হাইকোর্টের দারস্থ হওয়ার পরও আপনি বলতে পারেন না, তারা জ্ঞান-গরিমায় পিছিয়ে আছে। এমনকি সরকারিভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনজীবি (এটর্নী জেনারেল) যে আইন ধরতে পারেনি, সেটা মাদ্রাসা ছাত্ররা ধরে দিয়েছে এবং সেই সর্বোচ্চ আইনজীবি মাদ্রাসা ছাত্রদের থেকে আইন শিখে এখন সরকারের উপরের মহলকে জানাবে বলে জানাচ্ছে।

এরপর তো আপনি বলতে পারেন না, মাদ্রাসা ছাত্ররা পিছিয়ে আছে ? বরং বলতে পারেন, মাদ্রাসা ছাত্ররা (ধর্মীয় চেতনায়) যতটুকু এগিয়ে আছে এবং তাদের থেকে জ্ঞান-গরিমায় এগিয়ে না যেতে পারে, সেটার লাগাম টেনে ধরতেই ঢুকানো হচ্ছে শিরিকে পূর্ণ, নাস্তিকতা ও হিন্দুত্ববাদ সমৃদ্ধ কথিত জাতীয় সঙ্গীত, যেন তারা ধর্মীয় চেতনাহীন প্রতিক্রিয়াশূণ্য হয়ে পড়ে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করতে পারে

তাদের ভাষায় মাদ্রাসার ছাত্ররা এখনো পাক্কা মুসলমান, তারা এখনো কাফের হয় নাই বিধায় পিছিয়ে আছে, রবি ঠগ এর দেবী বন্দনা জাতীয় সংগীত গাইলেই মাদ্রাসার ছাত্ররা এগিয়ে যাবে, ছি শালার গণ্ডমূর্খ এইগুলারে আল্লাপাক হেদায়েত দিবেন না ধ্বংস করে দেবেন তা এখন দেখার বিশয় যদিও এরা মুনাফিকের জাত।

আর যেহেতু বর্তমান সরকার এর অধিকাংশ আমলা হিন্দু ঘেষা। তাই তারা চাচ্ছে মাদরাসাগুলোতে রবি ঠগের সংগীত চর্চা করতে দিয়ে শুক্ষভাবে মুসলমানদের ইমান আমল নষ্ট করা যদি যায়। তবে তারা জেনে রাখুক তাদের দিন শেষ হয়ে আসছে, তারা অচিরেই ধংশ হয়ে যাবে, বিলিন হয়ে যাবে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে কথিত পতিতালয়ের মালিকের নাপাক সন্তানের দেবী বন্ধনা ও বাংলাদেশ বিরোধী কবিতাখানি এদেশে তো আজ নতুন করে জাতীয় সংগীত হয় নাই, হয়েছে তো দেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথেই। তাহলে এতো বছর পর হঠাৎ কেন জোর করে ৯৮% মুসলমানদের দ্বীনি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় পাঠ করানো হবে? এখানে কারা কারা ইন্ধন যোগাচ্ছে তাদেরকে আগে চিহ্নিত করা দরকার। তারাই আসল চক্রান্তকারী। এদের সময় সুযোগ হলে তাদের বানানো আইন দিয়ে শুলে চড়াতে হবে।

সবশেষে বুঝলাম, নাস্তিকরা যখন পথে-ঘাটে সন্ত্রাসীপনায় আর মিডিয়ায় গালাগালিতে ব্যস্ত, তখন মাদ্রাসা ছাত্ররা আইন মেনে হাইকোর্টে আইনী লড়াইয়ে নেমেছে, এটা ধর্মবিদ্বেষীরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। আমি তো বলবো- মাদ্রাসা ছাত্রদের কাছে নাস্তিক্যবাদীদের কৌশলগত পরাজয় ঘটেছে, তাই তাদের এত জ্বালা।
দেবীর জন্য লিখা রবী ঠগের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে কুরআনের কোথায় নিষেদ আছে?

দেবীর জন্য লিখা রবী ঠগের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে কুরআনের কোথায় নিষেদ আছে?


বাতিলের বিরুদ্ধে আমাদের কলম চলে খোঁদার বলে, যাদের বিপক্ষে, যেসব বিষয়ের বিপক্ষে আমাদের কলম একবার উঠেছে তারা সবাই নির্মূল হয়েগেছে, আমরা চাইনি আমাদের কলম বিচারপতি দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের বিরুদ্ধেও উঠুক কিন্তু আফসোস কিছুই করার নাই। এইতো গত বছর আমাদের কলম বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি মালউন এস কে সিনহার বিপক্ষে উঠেছিলো আজকে তাকে কুত্তাও চাটেনা।

যাইহোক মূল কথায় ফিরে আসি, মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করে সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট উত্থাপিত হয়নিমর্মে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

আদালত রিটকারী আইনজীবী মুহম্মদ তৈমুর আলম খন্দকারকে উদ্দেশ করে বলে, ‘আপনি দেখান পবিত্র কোরআনের কোথায় আছে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না? পবিত্র কোরআনের কোথাও নেই যে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না।

অদালত আরো বলে, আগে তো মাদ্রাসার সিলেবাসে অঙ্ক, ইংরেজি, বিজ্ঞান বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। যুগের চাহিদা অনুযায়ী সে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইসলাম ধর্ম ডে বাই ডে (দিন দিন) উন্নত হচ্ছে। প্রক্ষান্তরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার জন্যই এ রিট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে আদালত।

আদালত বলেছে, ‘স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত গাইবে আর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গাইবে না, এটা তো হতে পারে না। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে গেলে যখন বিদেশিরা জাতীয় সংগীতের বিষয়ে জানতে চাইবে তখন শিক্ষার্থীরা কী জবাব দেবে?’

আদালত রিটকারী আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেছে, ‘ব্রিটিশ আমলে আমরা ইংরেজি না শিখে পিছিয়ে পড়েছিলাম। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিতে এ ধরনের রিট করা হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে কুড়িগ্রামের সুখদেব ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম মিয়া ও ঢাকার কদমতলা মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক এ রিট দায়ের করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুহম্মদ তৈমুর আলম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে শতাধিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক হলেও কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসায় এই চর্চা নেই। সম্প্রতি সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করে আদেশ জারি করে।

খবর সূত্রঃ https://bit.ly/2ITZVK1

বিচারপতির ভাবে বোঝা যাচ্ছে সে অর্থ সহ কোরআনের হাফেজ!! কোরআনের কোথায় আছে বা নাই সেইটা সে জানার মতো জ্ঞান কি তার আছে??

প্রথমে সেই বিচারপতির জানা প্রয়োজন যেঃ পবিত্র দ্বীন ইসলামে গান বাজনা সম্পূর্ণ হারাম কেউ যায়েজ মনে করলেই মুরতাদ হয়েযাবে। তাই বিচারপতির নিকট প্রশ্ন হলো দেবীর উদ্যেশ্যে রবি ঠাকুরের লিখা গান যায়েজ করতে কুরআন কে মধ্যিখানে এনে কি নিজের ঈমান বলবৎ রাখতে পেরেছো?

সংক্ষেপে বোঝার জন্যঃ গান সম্পর্কে বলতে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা লোকমান শরীফের ৬ নং আয়াত শরীফে গান বা সঙ্গীতকে হারাম ঘোষণা করে বলেছেনঃ [وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ]

বাংলা অনুবাদঃ একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তা থেকে পথভ্রাষ্ট করার উদ্দেশে অবান্তর শব্দমালা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং সেগুলি দ্বারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।

এই আয়াত শরীফে বলা হয়েছে, যে লোক লাহওয়াল হাদীছঅবলম্বন করে, সে দোজখের কঠিন শাস্তি প্রাপ্ত হবে, কাজেই তা হারাম।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে লাহওয়াল হাদীছমূলত কি?

উক্ত আয়াত শরীফে বর্ণিত লাহওয়াল হাদীছএর ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহিতে বলা হয়েছেঃ লাহওয়াল হাদীছ’-এর অর্থ সঙ্গীত।

দেখে নিতে পারেনঃ পবিত্র তাফসীর ইবনে কাসির রহমতুল্লাহি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় সংস্করণ, অষ্টম খন্ড, ৬৫৮ পৃষ্টা (https://bit.ly/2DZXthv)

বিচারপতির আসনে বসে দস্তগির মিয়া আর আতাউর মিয়া নিজেদের খুব ক্ষমতাবান মনে করছো? তোমরা ক্ষমতাবানরা যারা নিজেদের মুসলমান বলে মনে করে তারা কি নিচের আয়াত শরীফ সম্পর্কে অবগত?

মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ [وَالَّذِينَ سَعَوْا فِي آيَاتِنَا مُعَاجِزِينَ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مِنْ رِجْزٍ أَلِيمٌ] যারা এই জমিনে প্রধান্য পাওয়ার জন্য আমার আয়াত কে ব্যর্থ করার চেষ্টা করে তাদের জন্য আখেরাতে ভয়ংকর যন্ত্রনাদায়ক মর্মন্তুদ সাস্তি রয়েছে।

পবিত্র সূরাহ সাবাহ্ শরীফঃ আয়াত শরীফ ৫।

তুমি আজকেঃ রাষ্ট্রপতি? প্রধানমন্ত্রী? মন্ত্রী, এমপি? বিরোধী দলিও নেত্রী? এসপি, ডিসি, পুলিশ? র্‍্যাব? বিডিআর? আর্মি? এসবি? ডিবি? ইউএনও, টিওনও, চেয়ারম্যান?

একবার চিন্তা করো তোমার অবস্থানে থাকা ১০০ বছরে আগের মানুষটি আজ কোথায়?

১ সেকেন্ডের ভরসা নাই তোমার, আমার তাও ক্ষমতা দেখাও মহান আল্লাহ পাক আর উনার কুরআন শরীফ, হাদিস শরীফের বিরুদ্ধে?

তবে জেনে রেখো মহান আল্লাহ পাক বলছেনঃ [وَالَّذِينَ يَسْعَوْنَ فِي آيَاتِنَا مُعَاجِزِينَ أُولَٰئِكَ فِي الْعَذَابِ مُحْضَرُونَ] আর যারা আমার আয়াত শরীফ সমূহকে নানা কৌশলে ব্যর্থ করে দিতে চেয়েছে, তারা হামেশাই কঠিন আযাবে পড়ে থাকবে।

শুধু কি তাই? তিনি আরো বলেছেনঃ

আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।সেখানে তারা আর্ত চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, বের করুন আমাদেরকে, আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (আল্লাহ পাক বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব আস্বাদন কর। জালেমদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।

পবিত্র সূরাহ সূরা ফাতির শরীফ, আয়াত শরীফ ৩৬,৩৭।

পরিশেষে, স্কুল কলেজে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে কোন সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে রবি ঠাকুরের শিরকি জাতীয় সঙ্গীতে। সময় হয়েছে দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করার জন্য মামলা দায়ের করার। এরপর বিচারপতিরা কি রায় দেয় তা দেখলেই তাদের দেয়া রায়ের উদ্দেশ্যও ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

কেউ সম্ভব হলে এই লিখাটা প্রিন্ট করে সেই দুই বিচারপতিকে দিয়ে দিও। আর বলে দিও আপনারা সামান্য বাংলাদেশের বিচারপতি যারা ক্ষনিকের ক্ষমতাবলে এদেশের আইন কে বদলাতে পারেন কিন্তু যারা হক্বিকতে খোঁদার সৈনিক তারা সমস্থ কায়েনাতের নিয়ন্ত্রকারির ছায়াতলে থাকেন যাদের দ্বারা আপনাদের বাতাস মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
একে ধরিয়ে দিন, এই সেই কুলাঙ্গার ধর্ষক “বাবুল”

একে ধরিয়ে দিন, এই সেই কুলাঙ্গার ধর্ষক “বাবুল”


কিশোরী বিউটি আক্তার বখাটে আর কুলাঙ্গারদের উৎপাতে স্কুল ছেড়ে একটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিল। কিন্তু তবুও বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা কাজে যাওয়া-আসার পথে তাকে ফের উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, এই বিউটি আক্তারকে হয়রানির অভিযোগ করায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে একমাস আটকে রেখে তাকে ধর্ষণকরে বাবুল। এই ঘটনায় মামলা করায় ফের বিউটিকে তুলে নিয়ে যায় সে। এবার ধর্ষণের পর খুন করে বিউটির লাশ হাওরে ফেলে দেওয়া হয়। হবিগঞ্জ জেলার নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিউটি আক্তার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের সায়েদ আলীর মেয়ে। আর মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়া একই গ্রামের মলাই মিয়ার ছেলে। বাবুলের মা কলমচান ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার মূল আসামি বাবুল মিয়াকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ভিকটিমের স্বজন, স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, কাজে যাওয়া-আসার পথে প্রায় প্রতিদিন বিউটিকে উত্ত্যক্ত করতো বখাটে বাবুল মিয়া। এ নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে বিউটির বাবা-মা বাবুলের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বিচার চান। এতে বাবুল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে গত ২১ জানুয়ারি বিউটিকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল ও তার সহযোগীরা। এরপর অজ্ঞাত স্থানে একমাস আটকে রেখে বিউটিকে ধর্ষণ করে বাবুল। পরে গত ২১ ফেব্রুয়ারি কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে বাবুল পালিয়ে যায়। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ইউপি সদস্য কলমচানকে আসামি করে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গত ৪ মার্চ আদালত শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে এ মামলার আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৬ মার্চ সায়েদ আলী বিউটিকে তার নানার বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেন। মামলা করায় ওই দিন রাতেই আবার বিউটিকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল। এরপর বিউটিকে ধর্ষণের পর খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। পরদিন ১৭ মার্চ সকালে হাওরে বিউটির লাশ পাওয়া যায়। এর পরদিন সায়েদ আলী শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বাবুলসহ দুজনের নাম উল্লেখ এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগে ফের মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, থানায় মামলা দায়েরের পর তারা বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে ঈসমাইল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। কিন্তু গাঢাকা দেওয়ায় বাবুলকে তারা গ্রেফতার করতে পারেনি।

সায়েদ আলীর অভিযোগ, ‘বাবুলের যন্ত্রণায় আমার মেয়ে স্কুলে যেতে পারতো না। পরে সে অলিপুরে এক কোম্পানিতে চাকরি নেয়। কিন্তু কাজে যাওয়া-আসার পথে তাকে ফের উত্ত্যক্ত করা শুরু করে বাবুল। এ নিয়ে বিচার চাওয়ায় আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে একমাস আটকে রেখে সে ধর্ষণ করে। পরে মামলা করায় আবার তুলে নেয় এবং ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসাইন মো. আদিল জজ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সায়েদ আলী একজন দিনমুজর। কিছুদিন আগে সায়েদ আলী তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৭ মার্চ হাওরে তার মেয়ের লাশ পাওয়া যায়।তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। এ ঘটনার পর পুলিশ আমার একজন মহিলা ইউপি সদস্যকে আটক করেছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও মূল অপরাধীদের গ্রেফতারে আমরাও পুলিশকে সহযোগিতা করবো।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিউটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামি বাবুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সে যেখানেই থাকুক, তাকে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।

আসলেই কি তাকে গ্রেফতার করা হবে? সে কি ফাঁসিতে ঝুলবে? বিচারের বানী কি আবারো নিভৃতে কেঁদে উঠবে?