কেউ যদি উলামায়ে-ছু নাও হয়ে থাকে
তাহলেও তার মধ্যে যতক্ষন না পবিত্র আল ক্বুরআনে বর্নিত ৫টি গূন পাওয়া যাবে, ততক্ষণ
পর্যন্ত সে হাক্বিকি য়া’লীমই হতে পারবেনা। মুল্লা,
মুন্সী, খতীব, ওয়াজি, মুফতি, মুহাদ্দিছ হতেই পারে, কিন্তু য়া’লীম নয়। সমাজে সাধারণত
য়া’লীম বলে তাকেই মনে করা হয়, যে মাদ্রাসায় লিখাপড়া করেছে, করেঃ মসজিদের ইমাম,
খতীব কিংবা মুফতি মুহাদ্দিছ হয়েছে, কিন্তু একজন সাধারণ লেবেলের য়া’লীমের সঙ্গা
হচ্ছেঃ যিনি ঈলম অর্জন করেছেন, বুঝেছেন এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন। তবে ক্বুরআন
ও ছুন্নাহ-এর আলোকে একজন প্রকৃত, হাক্বিকি য়া’লীম শুধু ‘ধর্মের জ্ঞানে জ্ঞানী’ নন;
বরং তিনি হলেন নবী রছুলদের ওয়ারিশ, যাদের উপর অর্পিত হয়েছে তা’য়লীম, তালক্বীন,
তিলাওয়াত, তাজকিয়া, শিক্ষা ও দীক্ষা-র ভার।
পবিত্র আল-ক্বুরআনের চারটি আয়াত
শরীফে মহান আল্লাহ তা’য়ালা রছূলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম
উনার উপর যে দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন সেগুলো হলোঃ
১. মানুষের উপর আয়াত তিলাওয়াত করা।
২. নফছের ও ক্বলবের তাজকিয়া করা।
৩. কিতাবের জাহির বাতিন ঈলম
শিক্ষা দেওয়া।
৪. সাথে হিকমতের দীক্ষাও দেওয়া।
৫. এছাড়া এমন সব মা’য়রিফাতের
দীক্ষাও দেওয়া যা মানুষ জানেনা।
এই চারটি গূন যার মধ্যে রয়েছে সেই
য়া’লীম, কেবল উনাদের মাধ্যমেই মানুষ হেদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারবে। অন্য কেউ
মানুষকে হেদায়েত তো দূরের বিষয় উল্টো গুমরাহ করে দিবে যদি এগুলোর অধিকারী না হয়ে
দ্বীনের ঠিকাদার সাজে।
য়া’লীমের কাজ শুধু ফতোয়া দেওয়া নয়,
শুধু পাঠ্যপুস্তকের ঈলম শেখানোও নয়, বরং তার প্রকৃত দায়িত্ব হলোঃ মানুষের অন্তরকে
নূরানী আয়াত শরীফ দ্বারা জিন্দা করা, তাদের নফছ ও ক্বলবকে পরিশুদ্ধ করা, ক্বুরআন
শরীফ ও হাদীছ শরীফের জাহেরি ও বাতেনি ঈলম শেখানো, এবং বাস্তব জীবনে হিকমতের আলোকে
পথচলার দীক্ষা সহ মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার মা’য়রিফাতের দীক্ষাও দেওয়া।
একজন প্রকৃত য়া’লিম হলেন সেই
ব্যক্তি, যিনি শুধু মুখে নয় বরং অন্তর দিয়ে ঈলম ধারণ করেন, এবং মানুষের অন্তরে নূর
সৃষ্টি করেন। মানুষকে বেদ্বীন থেকে দ্বীনদার বানান। নবীর
রেখে যাওয়া দ্বীনের উপর উনার উম্মতরা যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেই চেষ্টায় রত
থাকেন।
যে নিজেকে ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া
ওয়াল মুরছালিন বলে সমাজে জাহির করতে চায়, সে প্রথমেই জেনে নিবে রছুলে পাক
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ওয়ারিশ হতে হলে নবীজি নিজের
পরিচয় কীভাবে দিচ্ছেন ওয়ারিশ দাবীদারদের ব্যপারেঃ জাবের বিন আবদুল্লাহ
রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ (إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي
مُعَنِّتًا وَلَا مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا)
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে কঠোরতা আরোপকারী কিংবা দ্বীনের কঠিন বিধান
জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে নয়; বরং সহজভাবে তা’য়লীম প্রদানকারী এক মু’য়াল্লিম
হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (মুছলিম শরীফ ১৪৭৮)
হইছে? খুশি? এতো গেলো খোদ রছুলে
পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মুখে নিজেকে মু’য়াল্লীম
রূপে য়া’লীমের পরিচয়, এবার দেখি পবিত্র আল ক্বুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি কি
বলেনঃ ক্বুরআনের মধ্যে বর্নিত ঐসকল গূন যতক্ষণ কারো মধ্যে পাওয়া যাবে না, ততক্ষন
তাকে য়া’লীম বলা যাবে না, না তাদের থেকে দ্বীন শিখে ইছলামিক জীবন পরিচালনার অনুমতি
কেউ পাবে বাস্তবে। কেননা ইছলামী ইতিহাসের এক বিশিষ্ট তাবেঈ, অত্যন্ত
সম্মানিত মুহাদ্দিছ, য়া’লিম, ফকিহ ও বিখ্যাত স্বপ্ন বিশারদ ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ছিরীন
রাহমতুল্লাহ উনার উক্তি ইমাম মুছলিম উনার মুছলিম শরীফের মুকাদ্দিমায় উল্লেখ করেন। যেখানে
ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ছিরীন রাহমতুল্লাহ বলেনঃ (قَالَ
إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ) নিশ্চয়ই এই ঈলম (জ্ঞান) হল
দ্বীন, সুতরাং তোমরা কিভাবে ও কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো, তা
দেখে-শুনে গ্রহণ করো। (মুছলিম শরীফ)
অতএব দ্বীনের শিক্ষা ও দীক্ষা
কেবল প্রকৃত য়া’লীমের থেকেই গ্রহণ করা যায়েজ। এবং
অবশ্যই যাচাই বাঁচাই করে তারপর। এবার দেখি পবিত্র আল ক্বুরআন
একজন মু’য়াল্লীমের কি কি কোয়ালিটি বর্ননা করেন।
যখন আরব-আজম জাহেলিয়াত, অনাচার আর
যুলুমে ডুবে ছিলো তখন মহান আল্লাহ তায়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়া ছাল্লামকে সেখানে কেবল নবী কিংবা রছুল হিসেবে নয়, বরং মু’য়াল্লীম
হিসেবেই প্রেরণ করেন যাতে সঠিক দ্বীন, হক্ব ও হাক্বিকত মানুষ বুঝে, মেনে, জীবন
পরিচালনা করে। তবে এই পাঠানোর পেছনে নবী ইব্রাহীম ও ইছমাঈল য়ালাইহিমাছ
ছালাম উনাদের দোয়াই ছিলো মূল সুত্রপাত। উনারা আর্জি রাখেন মহান
আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট এইভাবেঃ (رَبَّنَا وَ
ابۡعَثۡ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِكَ وَ
یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُزَكِّیۡهِمۡ ؕ اِنَّكَ اَنۡتَ
الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ) হে আমাদের রব! আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদেরই
একজনকে রছুল বানিয়ে পাঠিয়ে দিন, যিনি তাদের উপর আপনার আয়াত শরীফ
সমূহ তিলাওয়াত করবেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের জাহেরি
বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেবেন আর (সেই অনুসারে চলার কৌশল) হিকমতের দীক্ষাও দিবেন, এবং
তাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহা
পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (ছুরা বাক্বরহ ২/১২৯)
উনারা উনাদের বংশ থেকে একজন রছুল
প্রেরণের আর্জি পেশ করেন, যার বৈশিষ্ট্য হবে, তিনিঃ
প্রথমতোঃ মানুষের উপর ক্বলামুল্লাহ
শরীফের আয়াত শরীফ তিলাওয়াতের ক্ষমতা রাখবেন।
দ্বিতীয়তঃ ক্বলামুল্লাহ শরীফের
সকল জাহির বাতিন ঈলম মানুষকে শিক্ষা দিবেন।
তৃতীয়তঃ হিকমতের দীক্ষা দিবেন।
চতুর্থতঃ তাদের নফছের তাজকিয়া করে
দিবেন।
মহান আল্লাহ তায়ালা উনাদের দোয়া
কবুল করলেন, করে তিনি জবাবে বললেনঃ (ہُوَ الَّذِیۡ
بَعَثَ فِی الۡاُمِّیّٖنَ رَسُوۡلًا مِّنۡہُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَ
یُزَکِّیۡہِمۡ وَ یُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ ٭ وَ اِنۡ کَانُوۡا مِنۡ
قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ) তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি জাহিল
আরবদের মধ্যে থেকে তাদেরই একজনকে রছুল বানিয়ে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের
উপর মহান আল্লাহ তা’য়ালা
উনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করেন। আর তাদের
নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের জাহেরি বাতেনি) ঈলম
শিক্ষা দেন, ও
(বাতেনী য়ী’লম
বোঝার) হিকমত বা প্রজ্ঞার দীক্ষাও দেন। অথচ এ
লোকগুলোই (রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসার) আগে
(পর্যন্ত) সুস্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো। (সূরাহ
জুমুয়াহ শরীফ ৬২/২) মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি একিই
বিষয়ে আরো স্পষ্ট করেই বলেনঃ (كَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا فِیۡكُمۡ
رَسُوۡلًا مِّنۡكُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡكُمۡ اٰیٰتِنَا وَ یُزَكِّیۡكُمۡ وَ
یُعَلِّمُكُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُعَلِّمُكُمۡ مَّا لَمۡ تَكُوۡنُوۡا
تَعۡلَمُوۡنَ) (সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্যে) যেভাবে
আমি তোমাদের মধ্যে থেকেই একজনকে রছূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের উপর আমার আয়াত
শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করবেন, আর তোমাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করে
দেবেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের
জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেবেন আর
(বাতেনী য়ী’লম বোঝার)
হিকমত বা প্রজ্ঞার দীক্ষা সহ এমন বিষয়েরও দীক্ষা দিবেন, যা এর আগে তোমরা জানতেই না। (ছুরা বাকারা
শরীফঃ ২/১৫১)
মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তো দোয়া
কবুল করলেন, কিন্তু তিনি একটি সুক্ষ পরিবর্তন করলেন। ইব্রাহীম
য়ালাইহিছ ছালাম তাজকিয়াতুন্ন নফছ ও ক্বলবকে সবার শেষে চেয়েছেন উনার দোয়ায়, কিন্তু
মহান আল্লাহ তায়ালা সেটাকে দুই নাম্বারে নিয়ে এসেছেন। এনে বলতেছেনঃ
(لَقَدۡ مَنَّ اللّٰهُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ
بَعَثَ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡ اَنۡفُسِهِمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِهٖ وَ
یُزَكِّیۡهِمۡ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ ۚ وَ اِنۡ كَانُوۡا مِنۡ
قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা মু’মিনদের উপর
বড় অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদেরই মধ্যে থেকে তাদেরই একজনকে রছূল হিসেবে প্রেরণ
করেছেন, যিনি তাদের উপর মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার
আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করেন। আর তাদের নফছ
ও ক্বলবের তাজকিয়া করেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের
জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেন আর (সেই অনুসারে চলার কৌশল) হিকমতেরও দীক্ষা
দেন। অথচ এ লোকগুলোই (রছুলে পাক
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসার) আগ (পর্যন্ত) সুস্পষ্ট
গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো। (ছুরা আলে ইমরান ৩/১৬৪)
অতএব স্পষ্ট ক্লিয়ার কথাবার্তা,
রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম শুধু আমাদের জন্যে নয় বরং
পুরো কায়েনাতের জন্যেই মু’য়াল্লীম। আর উনাকে যেসকল গূন দিয়ে
প্রেরণ করা হয়েছে সেগুলোর পূর্ন হিসাব দেওয়া অসম্ভব, তবে সর্বনিম্ন গূন ক্বুরআন
হাদিছে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা, ইব্রাহীম ও ইছমাঈল য়ালাইহিমাছ ছালাম, ও খোদ রছুলে
পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম থেকে যা যা পেলাম তা হলোঃ
ইব্রাহীম ও ইছমাঈল য়ালাইহিমাছ
ছালামের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে দেনঃ
১. মানুষের উপর আয়াত তিলাওয়াত
করার ক্ষমতা।
২. নফছের ও ক্বলবের তাজকিয়া করার
ক্ষমতা।
৩. কিতাবের জাহির বাতিন ঈলম
শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা।
৪. সাথে হিকমতের দীক্ষা দেওয়ার
ক্ষমতা।
৫. এছাড়া এমন সব মা’য়রিফাতের
দীক্ষাও দেওয়া যা মানুষ জানেনা তার ক্ষমতাও।
আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেন, মু’য়াল্লীম হিসেবে তিনিঃ (إِنَّ
اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْنِي مُعَنِّتًا وَلَا مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِي
مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে কঠোরতা
আরোপকারী কিংবা দ্বীনের কঠিন বিধান জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে নয়; বরং
সহজভাবে তা’য়লীম প্রদানকারী এক মু’য়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করেছেন। (মুছলিম
শরীফ ১৪৭৮)
তিনি উক্ত হাদিছে পাকে ৪ টি
জিনিসের কথা বলেছেন, দুইটা মু’য়াল্লীম হিসেবে উনার মধ্যে নাই, আর মু’য়াল্লীম
হিসেবে দুইটা উনার মধ্যে আছে, বা আল্লাহ পাক দিয়ে পাঠিয়েছেন।
যা নাই সেগুলো হলোঃ
· مُعَنِّتًا -
শাব্দিক অর্থঃ কষ্টদাতা, কষ্ট সৃষ্টি করে এমন ব্যক্তি, কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা নেয় বা
ভার চাপায়, যেকোন কিছুতে বাধ্য করে এমন কঠোর শাসক।
· مُتَعَنِّتًا - শাব্দিক অর্থঃ জেদ করে দ্বীনে কষ্টকর বিষয় চাপানো
ব্যক্তি, অহংকারপূর্ণভাবে দ্বীনের কঠোরতা আরোপকারী, “হ্যাঁ আমি বলেছি, তাই মানো” এমন
আচরণকারী ব্যক্তি, যুক্তিহীন এবং গোঁয়ার।
যা আছে সেগুলো হলোঃ
· مُعَلِّمًا -
শাব্দিক অর্থঃ ঈলম শিক্ষাদানকারী, যিনি মানুষকে ঈলম শিক্ষা দেন, গাইড বা
দীক্ষাদানকারী মুর্শিদ,
· مُيَسِّرًا -
শাব্দিক অর্থঃ সহজকারী, সহজ পথ দেখানো ব্যক্তি, যিনি জটিলতাকে সরিয়ে সহজতা আনার
চেষ্টা করেন, যিনি সহজে বুঝিয়ে দেন জটিল করেন না।
এখন বুঝে নাও তোমরা যে য়া’লীম য়া’লীম
জিকির করো যার তার বিষয়ে, তারা কি আদৌ য়া’লীম?
এবার আসি টেলিভিশন, ফেইসবুক,
ইউটিউব আর ওয়াজের মাহফিলে যাদের মিঠা মিঠা কথায় তাদের য়া’লীম মনে করে তৃপ্তির
ঢেকুর তুলছি তারা কি ক্বুরআন ছুন্নাহ-এর মাপকাটিতে আসলেই য়া’লীম? আমাদের অনুসরনীয়
যুগের মুছলিমরা কিন্তু ক্বুরআন হাদীছের বুলি আওড়ানো যে কাউকেই “য়া’লীম” হিসেবে
মেনে নিতেন না। কারণ, যারা সাধারণ মানুষ, দ্বীন সম্পর্কে অভিজ্ঞ না, তাদের
সামনে যদি কোন একজন ইহুদী বা নাছারাও ক্বুরআন হাদিছ অধ্যায়ন করে ইছলামিক লেবাস পরে
দ্বীনি কথা বলে, তাহলে তোমরা কিন্তু বুঝতেই পারবেনা যে এই লোকটা তো মুছলিমই না, য়া’লীম
তো অনেক দূরের বিষয়। জহুরী ব্যতীত আম-পাবলিক যেভাবে কোনটা রত্ন আর কোনটা সস্তা
পাথর, তা নির্নয় করতে পারেনা, অনুরূপ একজন প্রকৃত য়া’লীম ব্যতীত কোন একজন যদি
নিজেকে য়া’লীম দাবি করে তাহলে আম পাবলিকও তাকে বুঝতে বা চিনতে পারবেনা।
ঠিক এই কারনেই তাবেঈ, তবে-তাবেঈন
রমতুল্লাহী য়ালাইহিমদের যুগ থেকেই, যখন থেকে মুছলমানদের মাঝে “উলামায়ে ছু” তথা (মন্দ
য়া’লিম) ও আ’য়িম্মায়ে দ্বোয়াল্লিন (পথভ্রষ্ট ইমাম) ঢুকে গেছে, আমাদের ঐ
স্বর্ণযুগের য়া’লিম-উলামারা তখন মুছলিম মিল্লাতকে বার বার সতর্ক করে গেছেন যে, ইছলাম
শেখার জন্য যাকে তাকে “মুর্শিদ” বা য়া’লীম হিসেবে গ্রহণ করবেনা, যার তার কথা বা
ওয়াজ শোনা বা তার লিখিত কিতাব অধ্যায়ন করবেনা। দ্বীনের
ব্যপারে “প্রকৃত আলেম তথা আহলে জিকর” ছাড়া অপরিচিত, অজ্ঞ লোকদেরকে য়া’লিম মনে করে
তাদের কথা বিশ্বাস করবে না। যদি করো তাহলে তুমি তোমার
দ্বীন তোমার ঈমান ও আমলকেই ধ্বংস করবে।
অপরিচিত লোকদের কথা (ওয়াজ, নসিহত)
শোনা খুবই মারাত্মক একটা বিষয়। কারণ ‘আহলুল বিদ’য়াহ’ (বিদ’য়াতী
য়া’লীম) ও ‘আহলুল হাওয়া’ (নফসের পূজারী) য়া’লীমদের খুব সাধারণ সস্থা একটা কৌশল
হচ্ছেঃ তারা শুরুতেই তাদের “আকীদাহ” লুকিয়ে রাখবে, প্রথমেই
মানুষের কাছে নিজের ‘আকীদাহ্ ও মানহাজ’ (মানহাজ (منهج)
আ’য়রবী শব্দ যার অর্থ পদ্ধতি, পথ বা মতবাদ। সম্মানিত দ্বীন ইছলামে আকীদাহ পোষণ ও
আমল পালন করার পদ্ধতিগত কৌশলকে মানহাজ বলা হয়।) প্রকাশ
না করে কিছুদিন মেঘ যেদিকে, ছাতা সেদিকে হয়ে থাকবে, ভাইরাল ইস্যুতে পাবলিক
সেন্টিমেন্ট যেদিকে সেও সেদিকে আওয়াজ তুলবে ওয়াজ-নসিহত করবে, এইভাবে
মিষ্টি মধুর ওয়াজ করে যখন শ্রোতাদের (মূলত অন্ধভক্তদের) মন জয় করে সংখ্যা বাড়িয়ে
লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে যাবে, তখন নিজেদের ‘দ্বলালাহ’ (ভ্রষ্টতা) ও ‘শুবুহাত’ (বিভ্রান্তি/doubt)
মানুষের মাঝে প্রচার করা শুরু করবে। আর এভাবেই তারা তাদের
অন্ধভক্তদের ব্রেইন ওয়াশ করে থাকে। আর তাদের সাথে বোনাস
হিসেবে থাকবে আযাযিল ও তার গোয়েন্দা তোমার নফছের মধ্যে থাকা ক্বরিন জীন, এরাই
তোমার মনে উঠাই দিবে যে “তিনি তো হক্ব কথাই বলেন”, “তিনি তো ক্বুরআন ও হাদীছের
রেফারেন্স দিয়েই কথা বলেন” উনাকে ফলো না করে আমি আর কাকে ফলো করবো? এরূপ অনেক ভুল
যায়গায় সঠিক চিন্তা করাবে নফসে থাকা ক্বরিন শয়তান, কিন্তু দ্বীনি ঈলম ও হিকমতের কমতি
থাকার দরুন তার গুমরাহিতে পরিপূর্ন কথায় অনেক দ্বীনদার নিষ্ঠাবান মুছলিমও শেষ
পর্যন্ত গ্রহণ করে ফেলে, ফলে খুব সহজেই নিজের দ্বীনকে ধ্বংস মুখে ঠেলে দেয়।
(নাউযুবিল্লাহ)! এর প্রামান তো খোদ হাদিছ শরিফেই মিলে, যেমনঃ (قَالَ
عَلِيٌّ رضى الله عنه سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ "
يَأْتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ حُدَثَاءُ الأَسْنَانِ، سُفَهَاءُ
الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ، يَمْرُقُونَ مِنَ
الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ
حَنَاجِرَهُمْ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ قَتْلَهُمْ
أَجْرٌ لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) মাওলা হযরত য়া’লী
কাররমাল্লাহু ওয়াঝাহাহু য়ালাইহিছ
ছালাম থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন, আমি
রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, শেষ যামানায়
একদল লোকের আবির্ভাব হবে, “যারা হবে অল্পবয়সী এবং বুদ্ধিতে অপরিণত” তারা
সৃষ্টিকুলের সর্বোত্তম কথা বলবে (অর্থাৎ তাদের কথা শুনতে ভালো লাগবে, হক্ব কথার
মতোই হবে), কিন্তু
তারা ইছলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে
যাবে, যেমনকরে
ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। আর তাদের
ঈমান তাদের গলার নিচেও নামবে না (অর্থাৎ ক্বলব পর্যন্ত
পৌঁছবে না)। সুতরাং তাদের যেখানে পাবে, হত্যা করবে; কেননা তাদের
হত্যা করা কিয়ামতের দিনে হত্যাকারীর জন্য সওয়াবের কারণ হবে। (বুখারী
শরীফ ৫০৫৭) এইখানে কোন অমুছলিম কাফেরের কথা বলা হচ্ছেনা, বরং
খারেজীদের কথা বলা হচ্ছে।
এছাড়াও আবু ছাঈদ
খুদরী রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেনঃ আমরা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি
ওয়া ছাল্লামের নিকটে উপস্থিত ছিলাম। তিনি
গণীমতের কিছু মাল বণ্টন করছিলেন। তখন বনু
তামীম গোত্রের ‘যুল
খুওয়াইছারা’ নামক
এক ব্যক্তি এসে বলল,
হে নবী! আপনি ইনছাফ করুন’। তখন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি ইনছাফ না করি, তাহ’লে কে ইনছাফ
করবে? আমি
যদি ইনছাফ না করি, তাহ’লে তো তুমি
ধ্বংসপ্রাপ্ত ও নিষ্ফল হবে। ছাইয়্যিদুনা
হজরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর
গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেন, ‘ওকে যেতে
দাও। (অন্য বর্ণনায় তিনি বললেন) ‘না, আমি মহান
আল্লাহ তা’য়লার নিকট পানাহ চাই, তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে
লোকেরা বলবে, আমি
আমার সাথীদের হত্যা করি। (তোমরা না জানলেও আমি জানি) তার এমন
কিছু সঙ্গী-সাথী রয়েছে,
যাদের নামাযের তুলনায় তোমাদের নিজের নামায এবং তাদের রোজার তুলনায় তোমাদের
নিজেদের রোজাকে তুচ্ছ মনে হবে তোমাদের নিকট। অথচ এরা ক্বুরআন
পাঠ করে ঠিকই, কিন্তু
ক্বুরআন তাদের কণ্ঠনালীর নিম্নদেশে প্রবেশ করে না। এরা
দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অন্য
বর্ণনায় এসেছে, লোকটি
চলে যাওয়ার পর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, ঐ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন কিছু লোক আসবে যারা ক্বুরআন পড়বে
ঠিকই, কিন্তু
ক্বুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইছলাম
থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন শিকারের দেহ ভেদ করে তীর বের হয়ে যায়। তাদের
আলামত হবে - তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি থাকবে, যার
এক হাত (অথবা স্তন) নারীর স্তনের মতো, অথবা একখণ্ড
গোশতের মতো, যা নড়বড়ে হবে। তারা
মানুষের মধ্যে বিভাজনের সময়ে বেরিয়ে আসবে।” আবু
ছাঈদ রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেন, “আমি
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি এই কথা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম থেকে শুনেছি, এবং আমি
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ
ছালাম তাদের হত্যা করেছেন, আমি তখন উনার
সঙ্গে ছিলাম। এরপর সেই ব্যক্তিকে
(যার আলামত রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উল্লেখ করেছিলেন) আনা হয় এবং রছুলে
পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যেমন
বর্ণনা করেছিলেন ঠিক তেমনই পাওয়া যায়।” এরপর
এই আয়াত নাজিল হয়ঃ (وَ مِنۡهُمۡ مَّنۡ یَّلۡمِزُكَ
فِی الصَّدَقٰتِ ۚ فَاِنۡ اُعۡطُوۡا مِنۡهَا رَضُوۡا وَ اِنۡ لَّمۡ یُعۡطَوۡا
مِنۡهَاۤ اِذَا هُمۡ یَسۡخَطُوۡنَ) তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা ছ্বদাকাহ
বণ্টনের ব্যাপারে আপনাকে দোষারোপ করে। অতঃপর যদি তাদেরকে তা থেকে
কিছু দেওয়া হয়, তারা সন্তুষ্ট হয়; আর যদি তা থেকে তাদেরকে না দেওয়া হয়, তখনই তারা
অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে। (ছুরাহ আত-তাওবাহ, আয়াত ৯/৫৮) এই ব্যক্তিই
ছিল প্রথম ‘খারেজী’ যে নবী করীম
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের বণ্টনের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে এবং
নিজ নফছের রায়কে প্রাধান্য দেয় অর্থাৎ নিজ নফছের
আনুগত্য করে। (বুখারী শরীফঃ ৩৬১০, ৬৯৩৩, ৭৪৩২, মুছলিম শরীফ
১০৬৩, ১০৬৪; মিশকাত ৫৮৯৪)
অতএব এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে এইযে
উলামায়ে ‘ছু’দের কথিত প্যান্ট শার্ট পরা যুবক স্কলার সম্প্রদায় রয়েছে যারা শুনতে মনোমুগ্ধকর,
ভালো, হক্ব কথা বলছে ঠিকিই কিন্তু তা তাদের নিজেদের ক্বলবেই
ঢুকছেনা, সেখানে (یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ)
এঁর মিছদ্বাক হিসেবে তাদেরকে চিন্তা করাই হাস্যকর।
এজন্যেই আহলে জিকিরেরা অপরিচিত কারো
এবং কেউ খাটি আহলে ছুন্নাত নাকি ভেজাল আহলে ছুন্নাত, বা আহলে বিদআতের লোক কিনা, আলেম
নাকি কুচক্রী? এই বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই না করে তার কাছ থেকে দ্বীন-ইছলাম
সম্পর্কে জ্ঞান নিতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আর মহান
আল্লাহ তা’য়ালা তিনি তো বলেই দিছেনঃ (فَسۡـَٔلُوۡۤا
اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ) দ্বীনের কোন বিষয়ে তোমরা যদি
না জানো তাহলে যারা আমার আহলে যিকর তাদের থেকে জেনে নাও। (আল ক্বুরআন
২১/৭, ১৬/৪৩)
হাদিছ শরীফে এইসব য়ালিমদের
মাক্বাম কত নিকৃষ্ট তাও দেখুনঃ (عَنْ أَبِي
ذَرٍّ الغِفَارِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ
اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لَغَيْرُ الدَّجَّالِ
أَخْوَفُنِي عَلَى أُمَّتِي» قَالَهَا ثَلَاثًا، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ! مَا
هَذَا الَّذِي غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُكَ عَلَى أُمَّتِكَ؟ قَالَ: «أَئِمَّةٌ
مُضِلُّونَ».) আবু
জ্বর গিফারি রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত তিনি বলেন, আমি একবার রছুলুল্লাহ
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম এর সাথে হাঁটছিলাম। তিনি
বললেনঃ “দাজ্জালের চেয়েও আমি আমার উম্মতের জন্য বেশি ভয় করি অন্য কিছু।” একথা
তিনি তিনবার বললেন। আমি বললামঃ “ইয়া রছুলাল্লাহ! সেই কোন বিষয়টি দাজ্জালের
চেয়েও আপনার বেশি ভয়?” তিনি বললেনঃ “পথভ্রষ্ট ইমামগণ।” (মুসনাদে
আহমাদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৪৫, হাদিস নং ২১৩৩৪, ২১৩৩৫, ২১৬২১, আল-মু‘জামুল কাবীর
লিত-তাবরানী ৭৬৫৩, মাজমাউয যাওয়ায়িদ খন্ড ৫, পৃষ্টা ২৩৯)
অন্য আরেক বর্ননায় আছেঃ (إِنَّمَا
أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ. قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللهِ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى
الْحَقِّ ظَاهِرِينَ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ يَخْذُلُهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ
اللهِ) আমি আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয় করি পথভ্রষ্ট ইমামদের। তিনি
আরো বলেন, আমার উম্মতের একটি দল সবসময়ই হক্বের উপর দৃঢ় থাকবে। যারা
তাদের পরিত্যাগ করবে, তাদের কারণে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ
তায়ালা উনার হুকুম (কেয়ামত) এসে পৌঁছে। (তিরমিযি শরীফ ২২২৯)
কয়েকটি হাদিছের সম্মিলিত খোলাছাও
পেশ করছি, বুঝুন কাদের পূজারী হচ্ছেন। হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান
রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মানুষ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কাছে এসে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতেন, আর আমি
অকল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম এই ভয়ে, যেনো তা আমাকে গ্রাস না করে বসে, আমি
আর্জি পেশ করলাম ইয়া রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম,
নিঃসন্দেহে, আমাদের একটি খারাপ সময় ছিল (অর্থাৎ আইয়্যামে জাহেলিয়াতের দিনগুলি)
এবং মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য একটি ভাল সময় (অর্থাৎ ইছলামী যুগ) নিয়ে
এসেছেন যার মধ্য (বর্তমানে) আমরা অবস্থান করছি। তবে কি
এর পরেও আবার খারাপ সময় আসবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম
বললেনঃ “হ্যাঁ।” আমি আর্জি পেশ করলাম এই খারাপ সময়ের পর আবার কি
কল্যাণের সময় আসবে? তিনি বললেন হ্যাঁ তবে তা হবে ভালো-মন্দের মিশ্রণ, আমি আর্জি
পেশ করলাম, “এর মানে কী? তিনি বললেন আমার পরে এমন সব ইমাম ও লোক আসবে যারা আমার
আনিত হেদায়াতের পথ অনুসরণ করবে না এবং আমার ছুন্নাহ ও মানবে না। তবুও তুমি তাদের
কিছু কাজ গ্রহণ করবে এবং কিছু কাজ প্রত্যাক্ষ্যান করবে। আমি আবার আরজ করলামঃ “এরপর
কি আবার খারাপ সময় আসবে?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম
বললেনঃ আমার পরে এমন সব আয়িম্ম্যা তথা ইমামদের উদ্ভব হবে, যারা আমার নির্দেশিত
হেদায়েতের পথে পরিচালিত হবে না এবং আমার ছুন্নত ও তারা অনুসরণ করবে না। (বরং)
তাদের মধ্যে এমন সব লোকের উদ্ভব হবে, যাদের ক্বলব হবে মানব দেহে শয়তানের ক্বলব। তারা
জাহান্নামের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষকে আহ্বান করবে, যে তাদের আহবানে সাড়া
দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।” আমি আরজ করলামঃ “ইয়া রছুলাল্লাহ
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! তাদের পরিচয় আমাদের জন্য বর্ণনা
করুন।” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম
বললেনঃ “তারা আমাদেরই বংশজাত হবে এবং আমাদের মতোই আরবি ভাষায় কথা বলবে।” আরেকবার
আমি আরজ করলামঃ “ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম!
যদি আমি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, তখন আমি কী করব?” তিনি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “তুমি মুছলিমদের জামা’য়াতের সাথে থাকবে এবং তাদের
ইমামের আনুগত্য করবে; আমীরের কথা শুনবে ও মানবে যদিও তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয়
এবং তোমার সম্পদও কেড়ে নেওয়া হয়, তবুও আমীরের কথা শুনবে ও মানবে।” আমি
আরজ করলামঃ “যদি মুছলিমদের কোনো জামা’য়াত ও ইমাম না থাকে, তখন কী হবে?” তিনি
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেনঃ “তাহলে তুমি সকল ফেরকা থেকে
দূরে থাকবে, এমনকি যদি তোমাকে একটি গাছের শিকড় কামড়ে ধরে সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ
করতে হয়, তবুও সেই অবস্থায় থাকবে। (বুখারী
শরীফ ৭০৮৪, মুছলিম শরীফ ১৮৪৭ সহ অনেক কিতাবে বর্নিত হয়েছে।)
খোদ ছালাফি ইমাম ইবনে তাইমিয়া-ই বলেছে
যে, “দুনিয়াকে সবচেয়ে বেশি ধ্বংস করেছে আধা বক্তা, আধা ফকীহ, আধা ডাক্তার এবং
আধা ভাষাবিদ। এদের একজন (আধা বক্তা) দ্বীনকে ধ্বংস করে, অপরজন (আধা
ফকীহ) দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করে। আধা ডাক্তার মানুষের
শরীরকে নিঃশেষ করে। আর আধা ভাষাবিদ ভাষাকে বিনষ্ট করে।” (মাজমাউল
ফাতাওয়া খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-১১৮)
সুতরাং আফসোস মুছলিম নামধারী
উলামায়ে ‘ছূ’ দের জন্য, তারা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঈলম হাছিল করবে। তারা
তাদের ঈলম দ্বারা তাদের সমসাময়িক সরকার, রাজা-বাদশাহ, ক্ষমতাসীনদের সাথে ব্যবসা
করবে। তাদের ব্যবসা হবে নিছক দুনিয়ায় লাভবান হওয়ার জন্যে। ইমামতি
করবে টাকার জন্যে, পেট চালানোর জন্যে, ফলশ্রুতিতে মিম্বর আর ওয়াজ মাহফিলে, অনলাইনে
এরা হক্ব কথা বলতেই পারবেনা, যেরূপ ওহাবীরা আজ সৌদির রাজতন্ত্রের গোলাম হয়ে আছে,
সৌদি পূজায় লিপ্ত রয়েছে, সৌদির হাজারো দ্বীন বিরোধী কাজের বিপরীতেও এদের মুখ
খোলেনা, উল্টো তাদের নাপাক নাচিজ ওহাবী ছালাফি আকিদাহ প্রচারে লিপ্ত রয়েছে, আহলুছ ছুন্নার
আক্বিদাকে পরিত্যাগ করে। আর একারণেই এরা দুনিয়ার বিনিময়ে
যাহান্নাম খরিদ করেছে। এদের ব্যপারে মহান আল্লাহ তা’য়ালা
তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন আল ক্বুরআনের বহু যায়গায়, যেমনঃ (لَوۡ
لَا یَنۡهٰهُمُ الرَّبّٰنِیُّوۡنَ وَ الۡاَحۡبَارُ عَنۡ قَوۡلِهِمُ الۡاِثۡمَ وَ
اَکۡلِهِمُ السُّحۡتَ ؕ لَبِئۡسَ مَا کَانُوۡا یَصۡنَعُوۡنَ) আল্লাহওয়ালা এবং য়া’লিম
(দাবীদার)গণ তাদেরকে পাপের বাক্য হতে এবং হারাম মাল ভক্ষণ করা হতে কেন নিষেধ
করছেনা? তাদের এ অভ্যাস (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট খুবই) নিন্দনীয়। (ছুরাহ আল-মায়েদা
৫/৬৩) মালেক ইবন দীনার রহমতুল্লাহী য়ালাইহি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা এক জায়গায়
ফেরেশতা য়ালাইহিমুছ ছালামদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, অমুক বস্তি ধ্বংস করে দাও। ফেরেশতা
য়ালাইহিমুছ ছালামগন বললেন, এ বস্তিতে আপনার অমুক আবিদ অলীও রয়েছেন। নির্দেশ
এল, তাকেও আযাবের স্বাদ আস্বাদন করাও, আমার অবাধ্যতা ও পাপাচার দেখেও তার চেহারা
কখনও ক্রোধে বিবর্ণ হয়নি। (কুরতুবী, বাহরে মুহীত)
নফসের পূজারী উলামায়ে ছু অনেক সময়
হক্ব কথা বলেনা, এর পেছনে দুনিয়া কাজ করে। অনেকে
আবার সরাসরি সাধারণ আম মানুষের মতো এইসব কাজেও জড়িত, আর অনেকে পজিশন নষ্ট হবে এই
ভয়ে, এটাও বলতে ছাড়েন নাই মহান আল্লাহ তা’য়ালা, সাথে এদের শাস্তির কথাও স্বরন
করীয়ে দিয়েছেন এইভাবেঃ (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا
اِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ الۡاَحۡبَارِ وَ الرُّهۡبَانِ لَیَاۡکُلُوۡنَ اَمۡوَالَ
النَّاسِ بِالۡبَاطِلِ وَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ؕ وَ الَّذِیۡنَ
یَکۡنِزُوۡنَ الذَّهَبَ وَ الۡفِضَّۃَ وَ لَا یُنۡفِقُوۡنَهَا فِیۡ سَبِیۡلِ
اللّٰهِ ۙ فَبَشِّرۡهُمۡ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ) হে মু’মিনগণ! অধিকাংশ আহবার
(য়া’লীম) এবং রুহবান (পির-দরবেশ)-দের মধ্যে অনেকেই তো আম জনতার ধন-সম্পদ
অন্যায়ভাবে খায় এবং মানুষকে (তারা) মহান আল্লাহ তা’য়ালার (হাক্বিকি) পথ থেকে
(দূরে) সরিয়ে রাখে, আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা মহান আল্লাহ তা’য়ালার
পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদেরকে (কঠিন) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। (আত্ব
তাওবা ৯/৩৪) এর পরেও তারা কিন্তু থেমে নেই, তারা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার কালামকে
ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াজ মাহফিলে, অথচ মহান আল্লাহ তা’য়ালা স্পষ্ট
কিন্তু বলেই দিয়েছেন যেঃ (وَ لَا تَشۡتَرُوۡا بِاٰیٰتِیۡ ثَمَنًا
قَلِیۡلًا ۫ وَّ اِیَّایَ فَاتَّقُوۡنِ) আমার আয়াতের বিনিময়ে
(মানুষের থেকে) সামান্য মূল্যও গ্রহণ করিও না। আর
তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর। (আল বাক্বারা
২/৪১) এর পরেও কি ধর্ম ব্যবসা কমেছে? টাকার বিনিময়ে আজকাল যেখানে সেখানে
যেমন খুশী তেমন ফতওয়া মিলে। কিতাবের
বিকৃতি, আয়াতের
মনগড়া ব্যখ্যা তারা করেই যাচ্ছে, আর তাই মহান আল্লাহ তা’য়ালাও অগ্রিম
বলে দিয়েছেনঃ (فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ
یَکۡتُبُوۡنَ الۡکِتٰبَ بِاَیۡدِیۡهِمۡ ٭ ثُمَّ یَقُوۡلُوۡنَ هٰذَا مِنۡ عِنۡدِ
اللّٰهِ لِیَشۡتَرُوۡا بِهٖ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ فَوَیۡلٌ لَّهُمۡ مِّمَّا
کَتَبَتۡ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ وَیۡلٌ لَّهُمۡ مِّمَّا یَکۡسِبُوۡنَ) সুতরাং
দুর্ভোগ তাদের জন্য,
যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং সামান্য কিছু মূল্য পাওয়ার জন্য বলে, ‘ইহা তো মহান
আল্লাহ তা’য়ালা উনার নিকট থেকে প্রাপ্ত। অতএব
তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্যে তো তাদের শাস্তি (অবধারিত) এবং তারা যা উপার্জন
করে থাকে, তার
জন্যও তাদের ধ্বংস বিদ্যমান রয়েছে। (আল বাকারা ২/৭৯)
এর কারন ও মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলতেছেনঃ (إِنَّ
ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ
ثَمَنًۭا قَلِيلًۭا ۙ أُو۟لَـٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا
ٱلنَّارًۭا ۖ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَلَا
يُزَكِّيهِمْ ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ ١٧٥ أُو۟لَـٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ
ٱشْتَرَوُا۟ ٱلضَّلَـٰلَةَ بِٱلْهُدَىٰ وَٱلْعَذَابَ بِٱلْمَغْفِرَةِ ۚ فَمَآ
أَصْبَرَهُمْ عَلَى ٱلنَّارِ ١٧٦ ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ نَزَّلَ ٱلْكِتَٰبَ
بِٱلْحَقِّ ۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخْتَلَفُوا۟ فِى ٱلْكِتَٰبِ لَفِى شِقَاقٍۢ
بَعِيدٍۢ) মহান আল্লাহ তা’য়ালা যা আল ক্বুরআনে নাযিল করেছেন তা যারা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে
সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা শুধু নার তাদের পেটে পুরে। আর মহান
আল্লাহ তা’য়ালা কিয়ামতের দিনে তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের (নফছকে)
পরিশুদ্ধ করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক
আযাব। এই (উলামায়ে ‘ছু’রা) এমন লোক, যারা হেদায়েতের
বিনিময়ে গোমরাহী এবং ক্ষমার বিনিময়ে শাস্তি ক্রয় করেছে, আগুন সহ্য
করতে তারা কতই না ধৈর্যশীল! (তাদের প্রতি যে শাস্তির হুকুম দেয়া হয়েছে) এটা এজন্য
যে, মহান
আল্লাহ তা’য়ালাই
ক্বলামুল্লাহ শরীফকে হক্ব বিষয় সহ নাযিল করেছেন, তাই যারাই
কিতাব সম্বন্ধে মতভেদ করেছে তারাই চরম ইখতিলাফে পড়ে আছে। (আল
বাক্বরা ২/১৭৪-১৭৬)
এতো গেলো মহান আল্লাহ তা’য়ালা
উনার হুকুম, জমিনে যে ১ লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বর, নবী, রছুল, মুরছিল এসেছিলেন উনারা
কি কারো থেকে কোন বিনিময় গ্রহণ করেছিলেন না উনাদের কোন ছ্বহাবী? অথচ ধর্ম
ব্যবসায়ীরা নিজেদের ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া ওয়াল মুরছালিন দাবি করেও ঠিকিই একেক
মাহফিলে, বিশাল বিশাল মসজিদের খতীব সেজে বসে আছে মাস শেষে বিশাল অঙ্কের টাকার
জন্যে, অথচ এরূপ কোন য়া’মল কোন মুরছালিনের তো ছিলোনা। খোদ আল ক্বুরআনের
মধ্যেই এর প্রমান বিদ্যমান।
হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান
আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ یٰقَوۡمِ
لَاۤ اَسۡئَلُکُمۡ عَلَیۡهِ مَالًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ) আর
হে আমার কওম, (আমার এই দ্বীনের দাওয়াত) এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন ধন-সম্পদ
চাই না। আমার প্রতিদান শুধু মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে। (হূদ
য়ালাইহিছ ছালাম ১১/২৯)
হযরত হুদ
য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (یٰقَوۡمِ
لَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی الَّذِیۡ
فَطَرَنِیۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ) হে আমার সম্প্রদায়! আমি
(দ্বীনের এই দাওয়াত)-এর পরিবর্তে তোমাদের নিকট কোন মজুরি চাই না। আমার
পারিশ্রমিক তো উনারই নিকট যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। (হূদ
য়ালাইহিছ ছালাম ১১/৫১)
হযরত ছালেহ য়ালাইহিছ
ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ
مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ
الۡعٰلَمِیۡنَ) আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন পারিশ্রমিক
চাইনা (যে, আমি দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি), আমার পারিশ্রমিক তো জগতসমূহের যিনি
প্রতিপালক উনার নিকট রয়েছে। (আশ-শুআ'রা ২৬/১৪৫)
হযরত লূত য়ালাইহিছ ছালামের কথা মহান আল্লাহ
তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ مَاۤ
اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ
الۡعٰلَمِیۡنَ) আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন মজুরী চাইনা
(যে, আমি দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি), আমার প্রতিদান তো জগতসমূহের যিনি প্রতিপালক উনার
নিকট রয়েছে। (আশ-শুআ'রা ২৬/১৬৪)
হযরত শোয়েব য়ালাইহিছ
ছালামের কথা মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল ক্বুরআনের নকল করছেন এইভাবেঃ (وَ
مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ۚ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ
الۡعٰلَمِیۡنَ) আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন মজুরী চাইনা
(যে, আমি দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি), আমার প্রতিদান তো জগতসমূহের যিনি প্রতিপালক উনার
নিকট রয়েছে। (আশ-শুআ'রা ২৬/১৮০)
অনেকে বলতে পারে যে আমাদের যিনি
রছুল উনার ব্যপারে কি কিছু নাই আল ক্বুরআনে? হ্যা উনার ব্যপারেও আছে। মহান
আল্লাহ তা’য়ালা সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন উনাকে আমাদের বলার জন্যে। যেমনঃ (وَ
مَا تَسۡـَٔلُهُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ ؕ اِنۡ هُوَ اِلَّا ذِکۡرٌ
لِّلۡعٰلَمِیۡنَ) আর আপনি তো তাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক দাবি
করছেন না (এই দ্বীনের দাওয়াত এর বদলে), (বরং) এ (ক্বুরআন) তো সৃষ্টিকুলের জন্য
উপদেশ বৈ অন্য কিছু নয়। (ইউছুফ য়ালাইহিছ ছালাম ১২/১০৪)
এছাড়াও মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (قُلۡ مَاۤ
اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُتَکَلِّفِیۡنَ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদের
বলে দিন, আমি এই (দ্বীনের তাবলীগের) জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না। আর আমি
কোন ধোঁকাবাজ (মুয়াল্লীম) নই। (আছ্ব ছ্বয়াদ ৩৮/৮৬) অর্থাত
দ্বীনের তাবলীগের বিপরীতে তারা যে পারিশ্রমিক দাবি করে তা মিথ্যা, এইসব কাজ আমার
সুন্নত নহে। একারণেই মহান আল্লাহ তা’য়ালা বার বার স্বরন করাই দিছেন
যেঃ (اُولٰٓئِکَ
الَّذِیۡنَ هَدَی اللّٰهُ فَبِهُدٰىهُمُ اقۡتَدِهۡ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ
عَلَیۡهِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ هُوَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡعٰلَمِیۡنَ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদের বলে দিন, (দ্বীনের তবলীগ ও দাওয়াতের
জন্যে) আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটা (তো
বরং) সারা কায়েনাতবাসির জন্য উপদেশ বাণী। (আল-আন’য়াম
৬/৯০) উনাকে আরো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পক্ষ থেকে এইভাবে
যেঃ (ذٰلِکَ
الَّذِیۡ یُبَشِّرُ اللّٰهُ عِبَادَهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا
الصّٰلِحٰتِ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ اَجۡرًا اِلَّا الۡمَوَدَّۃَ فِی
الۡقُرۡبٰی ؕ وَ مَنۡ یَّقۡتَرِفۡ حَسَنَۃً نَّزِدۡ لَهٗ فِیۡهَا حُسۡنًا ؕ اِنَّ
اللّٰهَ غَفُوۡرٌ شَکُوۡرٌ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি (আপনার উম্মতদের) বলে দিন যে, নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের
জন্যে আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। তবে আমার
নিকটজন তথা আহলে বাইত শরীফ য়ালাইহিমুছ ছালাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারন করবে। (আশ-শূরা
৪২/২৩)
উল্লিখিত অসংখ্য আয়াতে বজ্রকঠিন
হুশিয়ারী থাকা সত্ত্বেও ইমামতিতে টাকা, মিলাদে টাকা, জানাযায় টাকা, ওয়াজ-নছিহতে
টাকা, ফতোয়ায় টাকা, বিয়ে পড়াতে টাকা, তালাকে টাকা, মাজারে টাকা, পীরের ছ্বহবত
নিতেও টাকা! টাকা ছাড়া শরিয়ত/মা’রিফাতের চাকা একেবারেই স্তব্ধ হয়ে যায়!
প্রায় সকল ফতোয়াবাজ, ওয়াজীনদের
বক্তব্য, বিষয়বস্তু যাই হোক, যদি মুল্লা ভাইরাল হয়ে যায় কোন সুর বা তাল দিয়ে, তাহলে
তার মজুরি/হাদিয়াও বেড়ে যায়। এছাড়াও কথিত মিথ্যা
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবীদার অনেক পীর ও মু’য়াল্লিমও আজকাল ভাড়া খাটে। তারা
জেনে শুনেই উক্ত আয়াত শরীফগুলি গোপন রেখে মজুরী গ্রহণ করে থাকে! হারামকে
অমৃত/ছ্বয়াব মনে করে ভক্ষণ করে থাকে। যদিও তারা জানে যে, তারা
নার গ্রহণ করতেছে এবং কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি তাদের সাথে কথাও
বলবেন না, পাক-পবিত্রও করবেন না।
আবু হুরায়রা রদ্বিআল্লাহু আনহু
বলেন, তিনি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লামকে বলতে
শুনেছেনঃ “কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এমন এক ব্যক্তির ব্যপারে ফয়সালা হবে যে মহান
আল্লাহ তায়ালা উনার রাস্থায় শহীদ হয়েছিল। তারপর যে
ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, সে দ্বীনি ঈলম অর্জন করেছে, তা লোকদের শিক্ষা দিয়েছে আর
ক্বুরআন পাঠ করেছে। তাকেও যখন উপস্থিত করা হবে এবং তাকে দেওয়া সুযোগ সুবিধা
গুলোও তার সামনে তুলে ধরা হবে। সে তা দেখে চিনতে পারবে। তাকে
জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি তোমার নিয়ামতের কি সদ্ব্যাবহার করেছ? সে বলবে আমি ঈলম
অর্জন করেছি, লোকদের তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য ক্বুরআন পাঠ
করেছি। মহান আল্লাহ তায়ালা তখন বলবেন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ, বরং
তুমি এই উদ্দেশ্যেই ঈলম অর্জন করেছিলে যে, লোকেরা তোমাকে আলেম বা জ্ঞানী বলবে, এবং
ক্বুরআন এই জন্যই পাঠ করেছিলে যে, মানুষ তোমাকে ‘ক্বারী’ বলে ডাকবে, আর তা ডাকাও
হয়েছে। অতঃপর তার সম্বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড়
করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুছলিম
শরীফ ৪৭৭১)
অন্যদিকে একশ্রেণীর ধর্ম
ব্যবসায়ী দ্বীনের ঠিকাদার আছে যারা কথিত আল্লামা, মুফতিদের ভাড়া খাটিয়ে ক্বুরআন
হাদিছের কিতাবের, আর আল্লাহ-রছুলের নামে মনগড়া বই পুস্তক রচনা করে একচেটিয়া ধর্ম
ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। নভেল-উপন্যাসের মতই দর দাম কষাকষি
করেই তা কিনতে বাধ্য হতে হয়। ‘মূল্যে’র স্থলে লেখা থাকে
‘হাদিয়া’ অর্থাত বাংলায় ‘মূল্য’ লিখা হারাম, আ’য়রবী ‘হাদিয়া’ লিখা হালাল! আর
আরেকটি বিষয় দেখা যায়, মুছলিম অধ্যুষিত অনেক এলিট এলাকার অধিকাংশ মসজিদ, মাদ্রাসা
গড়ে ওঠে ব্যবসাভিত্তিক এবং আপত্তিকর, সংঘাতপূর্ণ স্থানে; আর মহান আল্লাহ তা’য়ালা
উনার মসজিদের কর্তিত্ব নিয়ে মুছলিম দাবীদারদের মধ্যে চলে মামলা-মোকদ্দমা!
নামাজ পড়াতে/পড়তে ইমাম যা জানে,
মুসল্লীগণও তা জানেন; ইমামের যতটুকু সময় ব্যয় হয়, মুসল্লীদেরও ততটুকু সময় ব্যয়
হয়। মুসল্লীদের উপর নামাজ পড়া যেমন ফরজ, ইমামেরও তাই
(শরিয়ত অনুসারে)। কিন্তু কথিত ইমামেরা আজ তাদের নামাজ বিক্রয় করে নফছের
পূজা করে। যেখানে মুছল্লীদের নামাজের
চাওয়া-পাওয়া থাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে, পক্ষান্তরে ইমামের নামাজের হারাম
চাওয়া পাওয়া থাকে মুছল্লীদের হারাম/হালালে ভরপুর পকেট পর্যন্ত। বেতন
বন্ধ, ইমামতিও বন্ধ! পয়সার বিনিময়ে নামাজ পড়ায়, কিন্তু নিজেরা নামাজ পড়েনা!
অর্থাত মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে তারা বে-নামাজীই সাব্যস্থ হয়!
রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ও উনার ছ্বহাবায়ে কেরাম রদ্বিআল্লাহু আনহুমগণ ধর্ম প্রচারে
নিজেদের শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে নিঃশেষ হয়েছেন। মুছলিম
মিল্লাতের প্রথম ইমাম, খলিফা উনার কথাই যদি ধরি, যার পেছনে নামাজ পড়তেন সকল ছ্বহাবায়ে
কিরাম রদ্বিআল্লাহু আনহুম সেই আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহু উনার নেট সম্পদ
ছিলো ৪০ হাজার রৌপ্য মুদ্রা সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইছলাম কবুলের পূর্বে, অথচ ইছলাম
কবুল করার সাথে সাথেই তা নেমে আসে ৫০০০ রৌপ্য মুদ্রায় অতি অল্প সময়ে। এর
প্রধান কারণ ছিলো তিনি এই অর্থ ব্যয় করেছিলেন, দাসমুক্তি করার জন্য, নও মুছলিম ও
যারা অমুছলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিল তাদের জন্যে, তিনি গোলাম খরিদ করতেন, এবং
একই সময়ে তিনি তাদের মুক্তও করে দিতেন। এতেই
উনার সিংহভাগ অর্থ চলে গিয়েছিলো। শুধু কি তাই? যায়েদ ইবনে
আসলাম রহমতুল্লাহী য়ালাইহি থেকে উনার পিতার সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি উমর
ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছিঃ একবার রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম আমাদেরকে দান করার নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে
সেদিন আমার কাছে মাল ছিল। আমি (মনে মনে) বলিঃ আজকেই সুযোগ, আজ
আমি আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুর চাইতে (দানে) বেশী অগ্রগামী হব, যদিও কোন
দিন আমি দানে উনার চেয়ে অগ্রগামী হতে পারিনি। তাই আমি
আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি
ওয়াছাল্লাম উনার কদম মুবারকে। রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য কি
রেখে এসেছ? উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি বলি, এর সম-পরিমাণ সম্পদ। আর আবু
বকর সিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুও আনলেন উনার বিশাল সম্পদ। রছুলুল্লাহ
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু বকর
সিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহু তুমি তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য কি রেখে এসেছ? তিনি
বলেন, আমি তাদের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা এবং উনার রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া
আলিহি ওয়াছাল্লামকে রেখে এসেছি। উমার ইবনুল খত্তাব রদ্বিআল্লাহু
আনহু বলেনঃ তখন আমি বলিঃ আমি ভবিষ্যতে কোন দিন কোন ব্যাপারে অধিক ফযীলতের অধিকারী
হওয়ার জন্য আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করব না। (তিরমিযি
শরীফ ৩৬৭৫) পক্ষান্তরে আজকের শরিয়ত/মায়’রিফাতের তা’য়লীম দেনে ওয়ালারা ধর্ম-কর্মের
বিনিময়ে অর্থ-সম্পদের পাহাড় ও লাক্সারিয়াছ জীবন যাপন আর ভোগ-বিলাসে মত্ত্ব। পীর, শায়েখ,
বাবা, ইমাম ওয়াএজীনদের প্রতিদান হয় নগদে আর মুছল্লীদের/ভক্তদের ছ্বওয়াব হয়
মৃত্যুর পরের জন্যে। অন্ধ ব্রেইনওয়াস ভক্তদের ধারণা
এমন হালে নিয়ে যাওয়া হয় যে তারা চিন্তা করতে বাধ্য হয় যে আমাদের এইসব মুল্লা, আল্লামা,
শায়েখরা কি খাবেন! অথচ প্রশ্নটি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নির্দেশের উপরে অনধিকার
কুফুরি চর্চা! তারা কি খাবেন কি খাবেন না! তা আল ক্বুরআনের পরতে পরতে বর্ণিত আছে। বর্তমানে
তারা কি খাচ্ছে! এর পরিণতি কি! তাও আয়াতে পাকে স্পষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে; অর্থাত
মদ, শুকরের গোসত, ঘুষ, চুরী-ডকাতীর চেয়েও হারাম ভক্ষণ করছে, নার খাচ্ছে নার, এবং
তা জেনে শুনেই, আর এরাই শরিয়ত/মায়’রিফাতের কথিত আলেম/আল্লামা/বাবা/
শায়েখ/মুরুব্বী!
যদিও আপদে-বিপদে কোন উপায়ান্ত না
থাকলে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ/হারাম ঘোষিত মদ, শুকরের গোশত খাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন
মহান আল্লাহ তা’য়ালা মাজুর লোকদের পবিত্র আল ক্বুরআনে, কিন্তু ধর্ম-কর্মের
বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের সুযোগ কস্মিনকালেও দেননি; বরং নামাজ শেষে মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে
পড়ে, ক্বলবি জিকির চালু করে হালাল রুজির সন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছেঃ (فَإِذَا
قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَٱبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِ
ٱللَّهِ وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ) অতঃপর
যখন নামাজ শেষ হয়ে যাবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার
অনুগ্রহ থেকে (রিজিক/উপার্জন) অনুসন্ধান করো, আর অধিক পরিমানে মহান আল্লাহ তায়ালা
উনার (ক্বলবি) জিকীর করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (ছুরাহ
আল-জুমুয়াহ শরীফ ৬২/১০)।
আর আল ক্বুরআনে
আমাদের স্পষ্ট করেই বলে দেওয়া হয়েছে যে ধর্ম ব্যবসায়ীদের অনুসরণ করা
মানুষের জন্যে সম্পুর্ন নিষিদ্ধ/হারাম, যেমন মহান
আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (اتَّبِعُوۡا مَنۡ لَّا یَسۡـَٔلُکُمۡ
اَجۡرًا وَّ هُمۡ مُّهۡتَدُوۡنَ) (আর)
অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের নিকট থেকে (দ্বীনের তাবলীগের বিষয়ে) কোন পারিশ্রমিক
গ্রহণ করে না, আর এরাই সৎপথপ্রাপ্ত। (ছূরা ইয়াসিন ৩৬/২১)।
এর পরেও যদি কেউ না বোঝে না শোনে, তাকে বোঝানোর শোনানোর কাজ আসলে আমার নয়, স্বয়ং
আল্লাহ পাক উনার। মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে হক্ব বোঝার তৌফিক দিন।