12.04.2019

মন্দিরে নামাজ পড়া যায়েজ নামক উদ্ভট ফতোয়ার পোস্টমর্টেম

মন্দিরে নামাজ পড়া যায়েজ নামক উদ্ভট ফতোয়ার পোস্টমর্টেম


বর্তমানে আমরা যে যামানায় বসবাস করছি তা আখেরী যামানার চেয়ে কোন অংশে কম বলে মনে হচ্ছেনা। তবে আমরা যে কোন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি তা সবচেয়ে ভালো জানেন মহান আল্লাহ পাক। দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ২৬ নভেম্বর ২০১৯ তারিখেঃ আপনি যা জানতে চেয়েছেন শিরোনামে প্রশ্নোত্তর আকারে এসেছে। তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রশ্নঃ মন্দিরে নামাজ পড়লে কি আদায় হবে?

উত্তরঃ আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য সমগ্র জায়গাকেই নামাজের উপযোগী বানিয়ে দিয়েছেন। তাই জলে-স্থলে, পাহাড়ে ও মহাশূন্যের যেকোনো পবিত্র জায়গায়ই নামাজ পড়লে তা আদায় হবে। অতএব, কোনো কারণে মন্দির বা বিধর্মীদের উপাসনালয়েও নামাজ পড়লে তা আদায় হয়ে যাবে। যদিও প্রয়োজন ছাড়া সেখানে নামাজের জন্য যাওয়া অনুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে সমগ্র জমিনকেই আমাদের জন্য উপাসনালয় ও পবিত্রতার বস্তু (তায়াম্মুমের জন্য) হিসেবে বানানো হয়েছে।অর্থাৎ যেকোনো পবিত্র জায়গায়ই নামাজ শুদ্ধ হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৫)। তবে মূর্তি, ছবি বা উপাস্য বাতি ইত্যাদি সামনে নিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি। কেননা এতে সেগুলো উপাসনাসদৃশ হয়ে যায়। তবে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। (লিঙ্ক এখানে)

কালের কন্ঠের ফতোয়াদানকারী মৌলুভী-যে কোন পর্যায়ের জাহিল সেটা বুঝতেছিনা তবে যেটা মনে হয় সে মূর্খতার কারনে এ ফতোয়া দেয়নি বরং মুসলমানরা সুযোগ পেলে যেন মন্দিরে গিয়ে নামায পড়ে তার পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করেছে। মন্দির হচ্ছে শিরকের আড্ডা হিন্দুদের পুজার স্থান। এখানে রয়েছে তাদের বিভিন্ন তথাকথিত কাল্পনিক দেব দেবীর মূর্তি। সেই সাথে বিভিন্ন নাপাকী বিষয়বস্তুতে ভরপুর থাকে মন্দিরগুলি। এখানে কি করে নামায পড়া যায়? মহান আল্লাহ পাক উনার দুনিয়ায় কি নামায পড়ার জায়গার অভাব রয়েছে?

জেনে রাখা প্রয়োজন যে, ফতেহ মক্কা তথা পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর যখন হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাবা শরীফ আসলেন তখন তিনি সব মূর্তি ধ্বংস না করে নামাজ আদায়তো দূরের কথা সেখানে প্রবেশই করেননি।

হাদিস শরীফে এসেছেঃ [عن جابر ان النبى صلى الله عليه وسلم امر عمربن الخطاب زمن الفتح وهو بالبطحاء ان يأتى الكعبة فيمحو ك صورة فيها فلم يد خلها النبى صلى الله عليه وسلم حتى محيت كل صورة فيها]
অর্থঃ হযরত জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা শরীফ বিজয়ের সময় হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম উনাকে হুকুম করলেন, তিনি যেন পাথর দিয়ে ক্বাবা ঘরের সমস্ত মূর্তি বা চিত্রগুলি ধ্বংস করে দেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র ক্বাবা ঘরের মুর্তি বা চিত্রগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত ক্বাবা ঘরে প্রবেশ করলেন না। (আবু দাউদ শরীফ ২য় খন্ড ২১৯ পৃষ্ঠা)

এ হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হলো, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছবি, মূর্তি ধ্বংস না করা পর্যন্ত পবিত্র ক্বাবা ঘরেই প্রবেশ করেননি। আর কালেরকন্ঠের মৌলুভী মন্দিরে নামাজের আয়োজন করছে। নাউযুবিল্লাহ!!!

এবার আসুন দেখি, ছবি ও মূর্তি যুক্ত স্থানে নামাজের ব্যাপারে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের কি অবস্থান ছিলোঃ [عن عيسى بن حميد قال سال عقبة الحسن قال ان فى مسجدنا ساحة فيها تصاوير قال انحروها]
অর্থঃ হযরত ঈসা বিন হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত ওকবাতুল হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমাদের মসজিদে প্রাণীর ছবিযুক্ত একখানা কাপড় রয়েছে। তখন হযরত ঈসা বিন হুমাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, তুমি (মসজিদ থেকে) ওটা সরিয়ে ফেল। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৪৬)

আরো বলা হয়েছেঃ [عن ابى عثمان قال حدثتنى لبابة عن امها وكانت تخدم عثمان بن عفان ان عثمان ابن عفان كان يصلى الى تابوت فيه تماثيل فامربه فحك]
অর্থঃ হযরত আবু উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, লোবাবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতা হতে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, উনার মাতা হযরত ওসমান যুন্নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম উনার খেদমতে ছিলেন, আর হযরত ওসমান যুন্নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম প্রাণীর ছবিযুক্ত একটি সিন্দুকের দিকে নামায পড়ছিলেন। অতঃপর হযরত ওসমান যুন্নুরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম-এর নির্দেশে ওটা নিঃচিহ্ন করে ফেলা হলো। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৪৬)

হাদীস শরীফে আরো বলা হয়েছেঃ [ﻋﻦ ﻣﻘﺴﻢ ﺭﺣﻤﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﻋﺒﺎﺱ ﻳﺼﻠﻲ ﻓﻲ ﺑﻴﺖ ﻓﻴﻪ ﺗﻤﺎﺛﻴﻞ]
অর্থঃ হযরত মুকসিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন, যে ঘরে প্রানীর ছবি থাকে সে ঘরে নামাজ পড়বে না। (মুছান্নাফে আবী শায়বা-আল বাব আছ ছলাতু ফিল বাইতি ফীহি তামাছিল - ১ম খন্ড- ৩৯৮ পৃষ্ঠা)

মন্দিরতো দূরের কথা মসজিদে বা নিজ গৃহেও যদি ছবি বা মূর্তি থাকতো হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা সেটা ধ্বংস করে ফেলে পুনরায় নামায আদায় করতেন।

এবার আসুন দেখা যাক, বির্ধমীদের উপাসানালয়ে প্রবেশ বিষয়ে কোন বর্ণনা আছে কিনা?

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছেঃ [وَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِنَّا لَا نَدْخُلُ كَنَائِسَكُمْ مِنْ أَجْلِ التَّمَاثِيلِ الَّتِي فِيهَا الصُّوَرُ]
অর্থঃ হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম বর্ণনা করেন, আমরা তোমাদের গির্জায় এ কারনে প্রবেশ করি না কারন তাতে মূর্তি রয়েছে। (বুখারী শরীফ- কিতাবুস সালাত- ১১৮ পৃষ্ঠা)।

আমিরুল মুমিনিন হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম উনাকে সিরিয়াতে এক খৃষ্টান নেতা দাওয়াত করলে তিনি এ কথা বলেন। (ফতহুল বারী ১/৬৩৩)

মূর্তি থাকার কারনে আমিরুল মুমিনিন হযরত ফারূকে আযম অমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ওয়া আলাইহিস সালাম খ্রিষ্টানদের গির্জায় প্রবেশ করার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। গির্জায় কেবল কল্পিত দুটি মূর্তি থাকে, সেই তুলনায় মন্দিরে কত বেশি কল্পিত মূর্তি, ছবি, নাপাকী রয়েছে তা সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন।

এখানেই শেষ না, লামাযহাবীদে মুরুব্বী মুহম্মদ সালেহ মুনজিদ তার ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেঃ [إذا تيسر وجود غير الكنائس ليُصلى فيها لم تجز الصلاة في الكنائس ونحوها ، لأنها معبد للكافرين يعبدون فيه غير الله ، ولما فيها من التماثيل والصور]
অর্থঃ গীর্জা ব্যাতিত অন্য স্থানে প্রার্থনা করা সম্ভব হলে গীর্জা ইত্যাদিতে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া যাবে না। কারণ এটি কাফেরদের মন্দির, যারা আল্লাহ পাক উনার বদলে অন্যের উপাসনা করে। এবং এর মধ্যে মূর্তি ও ছবি রয়েছে। (ফাতাওয়া ইসলামী সুওয়াল জাওয়াবঃ প্রশ্ন ২১৮৯)

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে ওলীতে গলিতে, প্রতি মহল্লা, শহরে বন্দরে, গ্রামে অসংখ্য অগনিত মসজিদ ও মুসলমানদের গৃহ থাকার পরও কেন মন্দিরে গিয়ে নামায পড়াকে বৈধ বানাতে হবে?

তবে কি তারা ভবিষ্যতে মন্দিরে হিন্দুদের পুজার সাথে সাথে মুসলমানদের নামাযের আয়োজন করতে চাইছে?

5.16.2019

‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ বলা কি অলি আল্লাহ উনাদের বেলায় নতুন কিছু?

‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ বলা কি অলি আল্লাহ উনাদের বেলায় নতুন কিছু?

দেওবন্দি ওহাবী ও কতিপয় সুন্নি নামধারী, বলে থাকে যে কারো নামের আগে পিছে কেউ রাহমাতুল্লিল আলামিন লাগালে সে ভন্ড ও নিজেকে নাকি নবী দাবীকারী হিসেবে সাব্যস্থ হয় নাউযুবিল্লাহ।

এবার তাদের আকাবিরদের থেকেই দলিল দিচ্ছি দেখি কি ফতোয়া মারে তাদের বাপদের বেলায়ঃ

মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গোহী লিখেছে, “ ‘রাহমাতুল্লিল আলামিনহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাস সিফত নয় বরং অন্যান্য আওলিয়া ও আম্বিয়া, ওলামায়ে কেরাম উনাদের ও জগতের রহমত স্বরুপ ছিলেন। যদিও হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। অতএব যদি অপরের প্রতি তাবিল করে বলা হয় তাহলে তা জায়েজ আছে।” (ফতোয়ায়ে রশীদিয়া, খন্ড-২)

এদিকে এই ইবারতটিকে রেযাখানী সম্প্রদায় ও লা মাজহাবী গায়ের মুকাল্লিদ সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রচন্ডভাবে প্রতিবাদ করেছে। বেরেলীদের আবু তাহের আল কাদেরী কে ইমানদার?’ পুস্তকে উক্ত ইবারতটিকে নকল করার পর লিখেছে, “ইহা গাঙ্গোহী সাহেবের চুড়ান্ত বেইমানির পরিচয়।” (পৃষ্ঠা-৩৮)

এবার দেখা যাক রেযাখানী সম্প্রদায় শুধু মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গোহীর মতো সেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেও বেইমানবলে ফতোয়া দেয় কিনা। কারণ সেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্ববিখ্যাত ফারসী কাব্যগ্রন্থ গুলিস্তা ও বোস্তাকিতাবের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এহসানএর বায়ানে নিজের যুগের বাদশাহর প্রশংসায় লিখেছেন, “আপনি কায়েনাতের উপর আল্লাহর অনুগ্রহের ছায়া। আপনি নবীর গুনে গুনান্বিত রাহমাতুল্লিল আলামিন

এখানে সেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যুগের বাদশাহকে রাহমাতুল্লিল আলামিনবলে সম্বোধন করেছেন কিন্তু রেযাখানী বেরেলী সম্প্রদায় ও লা মাজহাবী গায়ের মুকাল্লিদ (বেদীন) সম্প্রদায়ের লোকেরা উনার প্রতি বেইমানীর ফতোয়া জারি করেনি অথচ রশীদ আহমদ গাঙ্গোহী বাদশাহের থেকেও বেশী সম্মানীয় আওলিয়া, আম্বিয়া, ওলামাদেরকে রাহমাতুল্লিল আলামিনবলাতে বেইমানীর ফতোয়া জারি করে দিল।

সুতরাং দেওবন্দী মুলা যারা আজকে রাজারবাগ শরীফের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ ও আক্রোশ বশত ফতোয়া মারছে তারা নিজেদের গুরুর প্রতি আর রেযাখানীরা সেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধে ফতোয়া মারুক। কিন্তু তারা তো এই ব্যপারে টুঁ শব্দ পর্যন্ত করতে পারে নি। কেননা সেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বেইমান বলে ফতোয়া জারি করলে জনগনের কাছে জুতোর বাড়ি খেতে হবে। আর সেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহির বিখ্যাত ফারসী কবিতা বালাগাল উলা বি কামা লিহি, কাসাফাদ্দু জা বি জামালিহি, হাসানাতে জামি ও খিসা লিহি, ছল্লু আলাইহি ওয়া লিহি।পড়াটাকেও বন্ধ করতে হবে। রেযাখানী বেরেলীরা ভেবে দেখুন কি করবেন?

বেরেলীদের নিকট রাহমাতুল্লিল আলামিনকারা?

বেরেলীরা নিজেদের বিভিন্ন আওলিয়ায়ে কেরামগণকে রাহমাতুল্লিল আলামিনবলেছে ভিবিন্ন যায়গায়। যেমন বেরেলী মৌলবী ইকবাল আহমদ কাদেরী লিখেছে,
শাহ সুলাইমান রহমাতুল্লিল আলামিন রহমাতুল্লিল আলামিনকুতুবুল ওয়ারা।
(তুহফাতুল আবরার, পৃষ্ঠা-৩০৬-৩০৭)

এখানে খাজা সুলাইমান তৌনসবী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বেরেলী মৌলবী ইকবাল আহমদ কাদেরী রহমাতুল্লিল আলামিনবলেছে।

অপরদিকে মৌলবী মুহাম্মাদ আলম মুখতার হক লিখেছে, শাহ গিলানী তেরা হক দর ওজুদ, রাহমাতুল্লিল আলামিনআওরদাহ আসত। (তোহফা কাদেরিয়া, পৃষ্ঠা-৪৯)

এখানে শায়খ আব্দুল ক্বাদির জিলানি রহমতুল্লাহি আলাইহিকে রাহমাতুল্লিল আলামিনবলা হয়েছে।

আল্লাহ শরীফনামক খানকার মুহম্মদ হোসেন লিল্লাহীর পুত্র লিখেছে, শাহ সুলাইমান রাহমাতুল্লিল আলামিন অন্য জায়গায় খাজা শাহ সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহির শান বর্ননা করতে গিয়ে লিখেছে, রহমাতুল্লিল আলামিনকুতুবুল ওয়ারা। (হযরত খাজা মুহম্মদ সুলাইমান তৌনসবী আওর উনকে খুলাফা, পৃষ্ঠা-১৪৪, তাযকিরা হযরত খাজা সুলাইমান তৌনসবী, পৃষ্ঠা-২১)

অপরদিকে মাসিক জিয়ায়ে হারাপত্রিকার সম্পাদক খাজা আবিদ নিজামী রাহতুল কুলুবনামক একখানি কিতাব লিখেছে। যার উর্দূ অনুবাদ খাজা হাসান নিজামীর মুরিদ এবং খলিফা মুহম্মদ আরতাযা উল মারুফ মুল্লা ওয়াহাদী (সম্পাদক নিজামুল মাশায়েখ, দিল্লী) সাহেবের নির্দেশে করেছিল। তার মধ্যে আছে, সোহবাতুস স্বালেহীন ও নুর রাহমাতুল্লিল আলামিন’ (পৃষ্ঠা-৮১)

অর্থাৎ স্বালেহীনদের সংস্পর্শে যারা থাকে তারা নুর এবং রাহমাতুল্লিল আলামিন

বেরেলীদের বিখ্যাত আলেম শামস ব্রেলভী হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিকে রাহমাতুল্লিল আলামিনবলেছে । (দেখুন-ফাওয়ায়েদুল ফুয়াদ, পৃষ্ঠা-৫৭)

বেরেলীদের পীর জামাআত আলী শাহ আওলিয়াদের সম্পর্কে লিখেছেন, “এরা মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে মকবুল এবং এরা রাহমাতুল্লিল আলামিন” (সিরাতে আলীরে মিল্লত, পৃষ্ঠা-৬০৯)

বেরেলীদের মৌলবী আশরাফ জালালী তাঁর মাসিক জালালিয়াপত্রিকায় খাজা বাকিবিল্লাহর প্রশংসায় লিখেছে, হাসত জাতে খাজা বাকি রাহমাতুল্লিল আলামিন। (জালালিয়া, সংখ্যা-১২, ডিসেম্বর ২০১১, পৃষ্ঠা-২৬)

এখানে খাজা বাকিবিল্লাহকে রাহমাতুল্লিল আলামিনবলা হয়েছে ।

বেরেলবী মৌলবী গোলাম জাহানিয়া লিখেছেন, “শায়খুল মাশায়েখ সুনতানুল আশেকীন রাহমাতুল্লিল আলামিন। মাহবুবে ইলাহী হযরত খাজা নিজামুল হক ওয়ালেদীন মুহম্মদ বিন আহমদ বুখারী চিসতী রাহমাতুল্লিল আলামিন” (হাফতা আফতাব, পৃষ্ঠা-৭০)

এখানে বেরেলবী মৌলবী খাজা নিজামুল হককে রাহমাতুল্লিল আলামিনবলেছেন ।

সুতরাং এইসব স্থানে বেরেলীরা মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হুজুরে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছাড়া বিভিন্ন আওলিয়ায়ে কেরামদের রহমাতুল্লিল আলামিনবলেছেন ।

এইবার দেওবন্দি ও বেরেলীরা বলুক, উপরিউক্তঁ দেওবন্দি ও বেরেলী আলেমদের উপর কি ফতোয়া জারি করবে? যদি তাদের কলিজায় দম থাকে তাহলে উপরিউক্ত দেওবন্দি ও বেরেলী আলেমদের উপরেও কাফের এর ফতোয়া জারি করে দেখাও, যে ফতোয়া তোরা রাজারবাগ শরীফের সাইয়্যীদুনা মামদুহ হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার উপর মেরেছিস।

5.09.2019

 জান্নাতি মহিলাদের নয়নমণি মা যাহ্‌রা আলাইহাস সালাম উনার জীবনী!!!

জান্নাতি মহিলাদের নয়নমণি মা যাহ্‌রা আলাইহাস সালাম উনার জীবনী!!!


পবিত্র ৩রা রমদ্বান শরীফ মুবারক হো, পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে আন নূরুর রবিয়াহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম মুবারক হো। উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হাদিয়া করা হলো।

মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার প্রেক্ষাপটঃ সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমা তুজ্জ যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নিদর্শনস্বরূপ। একথা সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত অজুদ মুবারক যাহির হওয়ার পূর্বে দুনিয়ার যমীনকে বিশেষভাবে সুসজ্জিত করা হয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে আরবভূমিকে বিশেষভাবে সুসজ্জিত করা হয়েছে। মুহতারামা আম্মাজান আলাইহাস সালামঃ এ বিষয়ে সকল হযরত উলামায়ে কিরাম একমত যে, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি চতুর্থতম। আর হযরত আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সপ্তম।

পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশঃ সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার মুবারক সময় সম্পর্কে বিভিন্ন ইখতিলাফ পাওয়া যায়। তবে সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন মুজাদ্দিদে আযম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। তিনি এ মুবারক বিষয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিনি সরাসরি জিজ্ঞাসা করে জেনে নিয়েছেন এবং উম্মাহকে জানিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যখন সাঁইত্রিশ বছর, সেই বছর পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ উনার ২০ তারিখ ইয়াওমুল জুমুআহ সুবহে ছাদিকের মুবারক সময়ে সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। মুবারক খিদমতে জান্নাতী সম্মানিত মহিলাগণঃ কিতাবে উল্লেখ করা হয়- উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় যখন নিকটবর্তী হলো, তখন খাদেমাগণ উনাদেরকে সংবাদ দেয়া হলো। কিন্তু দেখা গেলো, শেষ মুহূর্তেও কেউ আসতে পারলেন না। কাউকে পাওয়া গেলো না। তখন দেখা গেলো, পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে চারজন সম্মানিতা মহিলা উনারা উপস্থিত হয়েছেন। উনাদের চেহারা মুবারক অত্যন্ত নূরানী ও উজ্জ্বল। ছূরতান উনাদেরকে পরিচিত মনে হচ্ছিল না। বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনাদের পরিচয় মুবারক জিজ্ঞাসা করলেন। উনারা পর্যায়ক্রমে পরিচয় মুবারক দিলেন। প্রথমজন বললেন, তিনি উম্মুল বাশার হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম। দ্বিতীয়জন বললেন, তিনি রব্বাতু কালীমিল্লাহ হযরত আসীয়া আলাইহাস সালাম। তৃতীয়জন বললেন, তিনি উখতু কালীমিল্লাহ হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম। চতুর্থজন বললেন, তিনি উম্মু রুহিল্লাহ হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম।সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতের জন্য জান্নাত হতে সম্মানিতা মহিলাগণ উনাদেরকে পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র দুধ মুবারক পানঃ- সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যে পবিত্র দুধ মুবারক পান করেছেন, সে সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়ঃ [كانت خديجة عليها السلام اذا ولدت ولدا دفعته الى من يرضعه فلما ولدت فاطمة عليها السلام لم يرضعها غيرها]
অর্থঃ- উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলে দুধ মুবারক পান করার জন্য তিনি উনাদেরকে অন্য কারো নিকট অর্পণ করতেন। কিন্তু সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে কারো নিকট সপর্দ করেননি।” (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)

অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের দায়িমী ছোহবত ও নিসবত মুবারকে তিনি অবস্থান করতেন। ক্ষণিকের জন্যও মুবারক ছত্রছায়া হতে তিনি পৃথক হননি। আরবী নিয়মানুযায়ী দুগ্ধজাত সন্তান উনাদের জন্য ধাত্রী মহিলা রাখা হতো। কিন্তু সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন সরাসরি উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি স্বয়ং। এখানে দ্বিতীয় কারো অবস্থান নেই। যা মূলত উনার বেমেছাল বুযূর্গী মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ!

হুলিয়া মুবারকঃ- সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ নকশা মুবারক ছিলেন। উনার পবিত্র জিসিম মুবারকের গঠন মুবারক, বচন মুবারক, চলন মুবারক, জবান ও স্বর মুবারকসহ সার্বিকভাবেই তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুরূপ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ [عن حضرت عائشة عليها السلام قالت ما رايت احدا اشبه سمتا و دلا و هديا برسول الله صلى الله عليه وسلم فى قيامها و قعودها من فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه و سلم]
অর্থঃ উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাল-চলন মুবারক, স্বভাব-চরিত্র মুবারক, কাজ-কর্ম মুবারক এবং মুবারক উঠা-বসাতে সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিনি। (তিরমিযী শরীফ)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ [عن حضرت عائشة عليها السلام قالت ما رايت احدا من الناس كان اشبه بالنيى صلى الله عليه وسلم كلاما و لاحديثا ولاجلسة من فاطمة عليها السلام]
অর্থঃ- উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বচনভঙ্গি মুবারক ও উপবেশন মুবারকে সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে আমি অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দেখিনি। (আল মুজাম আল আওসাত)

মূলকথা হলো, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম। তিনি এমনি ক্বায়িম-মাক্বাম ছিলেন যে, অনেক সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক রাখছেন ভেবে উনার তাযীমার্থে সকলে যখন দাঁড়াতেন, তখন দেখা যেত সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তাশরীফ মুবারক রাখছেন। অর্থাৎ অন্যান্য দিক থেকে তিনি তো ক্বায়িম-মাক্বাম ছিলেনই, এমনকি উনার পবিত্র জিসম মুবারক উনার সুঘ্রাণ মুবারকও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসম মুবারক উনার সুঘ্রাণ মুবারক উনার অনুরূপ ছিলো। সুবহানাল্লাহ!

বরকতময় শৈশবকাল মুবারকঃ- পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সরাসরি তত্ত্বাবধান মুবারকে বরকতময় শৈশবকাল মুবারক অতিবাহিত করেছেন। বলা হয়, উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি এক মুহূর্তের জন্যও উনাকে দূরে বা পৃথক থাকতে দিতেন না। এছাড়া তিনি যেহেতু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম, সেহেতু বরকতময় শৈশবকাল মুবারক হতেই উনার বিশেষ রোব মুবারক প্রকাশ পেত। খাছ ভাব-গাম্ভীর্যতাপূর্ণ শান মুবারকে তিনি দায়িমীভাবে অবস্থান মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

বলাবাহুল্য যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছছুল খাছ মাহবুবা। সঙ্গতকারণেই যাবতীয় ইলম, হিকমত ও নিয়ামত নিয়েই তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তারপরেও মুসলিম শিশুদের যেসব আনুষ্ঠানিকতা শৈশবকালে সম্পন্ন করা হয়, উনার সেসব মুবারক আনুষ্ঠানিকতাসমূহ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্পাদন করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার তাহনীক মুবারক, আক্বীক্বা মুবারক এবং মুবারক নামকরণ সবই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ!

তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা এতই খুশি মুবারক প্রকাশ করেন, যা পূর্বে কখনোই প্রকাশ করেননি। বরকতময় শৈশবকাল মুবারক হতেই উনার ইলমী ব্যাপকতা এমনভাবে ছড়িয়ে যায় যে- উনার কথা মুবারক শুনে সকলেই অত্যধিক আশ্চর্যান্বিত হতেন। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র নাম মুবারকঃ- মাখলুকাত মাঝে সর্বাধিক পরিচিত, উচ্চারিত এবং আলোচিত নাম মুবারক সমূহের মধ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক অন্যতম। উনার নাম মুবারক হচ্ছেন হযরত ফাতিমাআলাইহাস সালাম। লুগাতে এই শব্দের অনেক অর্থ উল্লেখ করা হয়।

প্রথমত, সদ্য দুধ ছাড়ানো শিশুর মা। অর্থাৎ তিনি এমনি মহান ওজুদ মুবারক, যিনি মাখলুকাতকে এমন সব নিয়ামত হাদিয়া করেন যা দ্বারা মাখলুকাত উপকৃত হয়।

দ্বিতীয়ত, পরিত্রাণ দানকারী। অর্থাৎ উনার সাথে নিসবতপ্রাপ্ত সকলেই সুনিশ্চিতভাবে নাজাতপ্রাপ্ত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটাত্মীয় উনাদের মধ্যে কমপক্ষে নয় (৯) জন এই নাম মুবারকে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।কিতাবে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন এক ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আরজ করলেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, এই মহান ওজুদ মুবারক উনার নাম মুবারক হযরত ফাতিমাআলাইহাস সালাম যেন রাখা হয়। কেননা, আমি বিশেষ খুছূছিয়তে উনাকে অনন্যতা হাদিয়া মুবারক করেছি। সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম সালাম উনার অসংখ্য-অগণিত লক্বব মুবারক রয়েছে। তবে কয়েকখানা লক্বব মুবারক বিশেষভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। যেমন- সাইয়্যিদুন নিসা আর রবিয়াহ’, যাহরা, বতুল, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, রদ্বিয়া, মারদিয়্যা ইত্যাদি। বলাবাহুল্য, মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদের মূল নাম মুবারক বারবার উচ্চারণ করা যথার্থ আদব নয়। এজন্যই মুজাদ্দিদে আযম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার মূল নাম মুবারক বারবার উচ্চারণ না করে উনার বিশেষ লক্বব মুবারক যাহরাআলাইহাস সালাম এই লক্বব মুবারক সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচলনের জন্য মুবারক নির্দেশনা প্রদান করেন।

সাইয়্যিদাতুন নিসা লক্বব মুবারকঃ- হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সকলেই সাইয়্যিদাতুন নিসা। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উনাদের সকলকে এই লক্বব মুবারকে ভূষিত করা হয়েছে। তাইতো হযরত মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনব আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুন নিসা আল উলা আলাইহাস সালাম বলে সম্বোধন করতে মুবারক নির্দেশ প্রদান করেছেন। অনুরূপভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম বলে উল্লেখ করেছেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক শান তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ [عن حضرت عائشة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلام قال وهو فى مرضه الذى توفى فيه يا فاطهة عليها السلام الا ترضين ان تكونى سيدة نساء العالـمين وسيده نساء هذه الامة وسيدة نساء الـمؤمنين]
অর্থঃ- উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্বোধন করে ইরশাদ মুবারক করলেন যে, আপনি কি সন্তুষ্ট নন। আপনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন তথা সারা কায়িনাতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি এই উম্মতের মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। আপনি মুমিন মহিলাদের সাইয়্যিদাহ।সুবহানাল্লাহ! (আল মুসতাদারাক)

মূলকথা হচ্ছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কালে মাখলুকাতের সমস্ত মহিলাদের সাইয়্যিদাহ। অর্থাৎ সমস্ত মহিলাদের উপর উনার আধিপত্য। সুবহানাল্লাহ

পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতাঃ- হযরত মুজাদ্দিদে আযম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সর্বপ্রথম সম্পন্ন করেন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা। সেই সময়ে হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেনঃ- উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, বিনতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত উম্মু কুলসুম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। এ সংবাদ শুনার সাথে সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনিও উনার শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে দ্বীন ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

মুবারক খিদমতে বেমেছাল আঞ্জামঃ- আনুষ্ঠানিক নবুওয়াত প্রকাশকালে সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক প্রায় ৩ বছর। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত মুবারক ঘোষণার পর হতেই কাফিররা যুলুম শুরু করে। কাফিরদের যুলুম নির্যাতন চরম পর্যায় পৌঁছে যায়। শারীরিক-মানসিকসহ সর্ব পর্যায়ে তারা তাদের এই নির্যাতন চালিয়ে যায়। আর কঠিন সময়ে সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মুবারক খিদমতের বেমেছাল আঞ্জাম দিয়েছেন। সেই সময়ে উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক যদিও কম, তথাপি তিনি যে খিদমত মুবারক করেছেন, তা সকলকে চমকিয়ে দিতেন। এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ [عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يُصَلِّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ، وَجَمْعُ قُرَيْشٍ فِي مَجَالِسِهِمْ إِذْ قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ أَلاَ تَنْظُرُونَ إِلَى هَذَا الْمُرَائِي أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى جَزُورِ آلِ فُلاَنٍ، فَيَعْمِدُ إِلَى فَرْثِهَا وَدَمِهَا وَسَلاَهَا فَيَجِيءُ بِهِ، ثُمَّ يُمْهِلُهُ حَتَّى إِذَا سَجَدَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ فَانْبَعَثَ أَشْقَاهُمْ، فَلَمَّا سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، وَثَبَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا، فَضَحِكُوا حَتَّى مَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ مِنَ الضَّحِكِ، فَانْطَلَقَ مُنْطَلِقٌ إِلَى فَاطِمَةَ ـ عَلَيْهَا السَّلاَمُ ـ وَهْىَ جُوَيْرِيَةٌ، فَأَقْبَلَتْ تَسْعَى وَثَبَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاجِدًا حَتَّى أَلْقَتْهُ عَنْهُ، وَأَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَسُبُّهُمْ، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ،]
অর্থঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা পবিত্র কাবা শরীফ উনার সামনে পবিত্র নামায আদায় করছিলেন। পাশেই কুরাইশদের তথাকথিত নেতারা একত্রিত হয়েছিল। তখন তাদের একজন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ইশারা করে বললো, তোমরা কি উনাকে দেখছ না? তোমাদের মাঝে এখন কে আছে যে, অমুক গোত্রের উট যবেহ করার স্থানে যেতে রাযী আছে? সেখান হতে উটের গোবর, রক্ত এবং নাড়ী-ভূড়ি নিয়ে এসে অপেক্ষায় থাকবে। যখন তিনি সেজদা মুবারক দিবেন, তখন উটের সেই ময়লাগুলো উনার কাঁধ মুবারকে রেখে আসবে। নাউযুবিল্লাহ! এ কাজের জন্য তাদের সর্বনিকৃষ্ট এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো এবং উটের ময়লাগুলো নিয়ে আসলো। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন সিজদা মুবারক দিলেন, তখন সেই চরম নিকৃষ্ট কাফিরটি উনার পবিত্র কাঁধ মুবারকে উটের সেই নাড়ি- ভূড়িগুলো দিয়ে দিলো। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র কাঁধ মুবারকে এই ময়লাগুলো চাপিয়ে দেয়ায় তিনি উনার সিজদা মুবারক দীর্ঘায়িত করতে লাগলেন। আর এই পরিস্থিতি দেখে সেই কাফিরগুলো হাসাহাসি করতে লাগলো। হাসাহাসি করতে করতে তারা একজনের গায়ের উপর অপরজন পড়ে যেতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ!

এমতাবস্থায় কেউ একজন সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট এই করুণ সংবাদ পৌঁছালো। তখন উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক খুবই কম। তিনি সংবাদ পাওয়া মাত্রই অত্যধিক দ্রুত গতিতে সেখানে উপস্থিত হলেন। তখনও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিজদা মুবারকেই অবস্থান করছিলেন। সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাঁধ মুবারক হতে উটের নাড়ী-ভূড়িগুলো সরিয়ে দিলেন। তিনি কাফিরদের প্রতি অত্যধিক জালালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র নামায শেষ করে দোয়া মুবারক করলেন, আয় আল্লাহ পাক! কুরাইশ কাফিরদেরকে ধ্বংস করুন। (বুখারী শরীফ)

উপরোক্ত ঘটনা দ্বরা সুস্পষ্ট যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। আর এজন্যই উনার লক্বব মুবারক হলো উম্মু আবীহা। একজন মাতা উনার সন্তান উনার যেরূপ সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম দিয়ে থাকেন, তেমনি তিনি খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

শিয়াবে আবী তালিবে মুবারক অবস্থানঃ- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে শিয়াবে আবী তালিব স্মরণীয় একটি অধ্যায়। কাফিররা যখন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার-প্রসার কোনোভাবেই রুখতে পারছিলো না, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করলো। তারা সবাই মিলে চুক্তি করলো যে, মুসলমানগণ উনাদের সাথে কোনো ধরনের লেনদেন করবে না। নাউযুবিল্লাহ!

তারা মুসলমানগণ উনাদের সাথে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখবে না। নাউযুবিল্লাহ! উনাদেরকে বয়কট করবে। নাউযুবিল্লাহ! কাফিরদের এই বয়কট চুক্তির কারণে মুসলমানগণ উনাদেরকে শিয়াবে আবী তালিব গিরিপথে অবরুদ্ধ অবস্থায় তিন বছর থাকতে হয়েছে। এ সময়ে তারা মুসলমানগণ উনাদেরকে সর্বপ্রকার যুলুম-নির্যাতন করেছে। এ সম্পর্কে সীরাতগ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট দিনের পর দিন কোনো খাদ্যদ্রব্য পৌঁছতো না। ফলশ্রুতিতে উনারা গাছের পাতা বা ছাল খেয়ে ক্ষুধা মেটাতেন। এমনকি ক্ষুধার কারণে উনাদের চামড়ার লালাইন শরীফ পানিতে সিদ্ধ করে খেয়েছেন। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, শিয়াবে আবী তালিবের সেই কঠিন সময়ে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল উলা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম তিনি যদিও উনার ছহিব উনার হুজরা শরীফে অবস্থান মুবারক করতেন তথাপি সুযোগ পেলেই মুবারক খিদমতে আঞ্জাম দেয়ার কোশেশ করতেন। বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি উনার ছহিব হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে আবিসিনিয়ায় হিজরত মুবারক করেন। তবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারা দুজন সেখানে অবস্থান মুবারক করেন এবং সর্বক্ষেত্রেই উনারা চরম ধৈর্যশীলতার পরিচয় মুবারক দেন। সেই কঠিন সময়েও উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়িমী খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেন; যা বলার অপেক্ষাই রাখে না।

মুহতারাম আম্মাজান উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশঃ- শিয়াবে আবী তালিবের অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটলে আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশের দশম বছর পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুহতারামা আম্মাজান উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সেই সময় সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক প্রায় ১৩ বছর।বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর হতে উম্মুল মুমিনীন হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম তিনি তাশরীফ মুবারক আনার পূর্ব পর্যন্ত মাঝখানে একটি সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন কোনো উম্মুল মুমিনীন আলাইহাস সালাম ছিলেন না। আর সেই সময়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সার্বিক খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিয়েছেন সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারা; যা বলাই বাহুল্য।

মুবারক খিদমতের অনন্য দৃষ্টান্তঃ- উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার কিছুদিন পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তায়েফে তাশরীফ মুবারক রাখলেন। তিনি তাদেরকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াত মুবারক প্রদান করলেন। তায়েফবাসীরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণতো করলোই না, বরং তারা শিশু ও গোলামদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জুলূম করার জন্য নিয়োজিত করলো। তারা উনার পবিত্র জিসম মুবারক লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারতে লাগলো। নাউযুবিল্লাহ! পাথরের আঘাতে পবিত্র জিসিম মুবারক হতে পবিত্র নুরুন নাজাত মুবারক প্রকাশ পেতে লাগলো। (মাদারেজুন নুবওওয়াত) অন্য বর্ণনায় রয়েছে- তায়েফের মুবারক ছফরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়েদ বিন হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে খাদিম হিসেবে সাথে নিয়েছিলেন। সেখানকার কাফিররা যখন উনাকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে লাগলো, পাথরের আঘাতে পবিত্র জিসিম মুবারক হতে নূরুন নাজাত মুবারক প্রকাশ পেতে লাগলো। দেখা গেলো- নূরুন নাজাত মুবারক প্রবাহিত হওয়ার কারণে পবিত্র ক্বদম মুবারক উনার সাথে পবিত্র নালাইন শরীফ লেগে গেলেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উহুদের যে (পবিত্র দান্দান শরীফ শহীদ হওয়ার) ঘটনা রয়েছে তার চেয়েও বেদনাবিধুর কোনো ঘটনা কি রয়েছে? যা আপনাকে কষ্ট দেয়।তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- তারা আমাকে কঠিন হতে কঠিনতর কষ্ট দিয়েছে। তবে আমি সর্বাধিক কষ্ট পেয়েছি তায়েফের ছফরে।” (বুখারী শরীফ)

এখন কথা হলো- তায়েফের সেই ঘটনা যখন সংঘটিত হয়, তখন কোনো উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হুজরা শরীফ-এ ছিলেন না। তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন তায়েফ হতে ফিরে আসলেন, তখন মুবারক খিদমতে আঞ্জাম দিয়েছেন কে? সেই কঠিন সময়ে পবিত্র হুজরা শরীফ-এ সার্বিক খিদমতে আঞ্জাম দিয়েছেন সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছালিছা হযরত উম্মু কুলছুমা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

উনারা সেই কঠিন সময়ে মুবারক খিদমতে যে আঞ্জাম দিয়েছেন, কায়িনাতবাসী তা কখনোই কল্পনা করতে পারবে না। শারীরিক, মানসিকসহ কোনো ধরনের খিদমত উনারা বাকী রাখেননি। যা বলাই বাহুল্য।

পবিত্র হিজরত মুবারকঃ- সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র মক্কা শরীফ হতে পবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত করা সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়ঃ [لـما استقر صلى الله عليه وسلم بالـمدينة ارسل زيد بن حارثة رضى الله تعالى عنه وابا رافع رضى الله تعالى عنه الى الـمكة ليأتيا بمن تخلف من اهله فقدما بفاطمة عليها السلام وام كلثوم عليها السلام ابنيه صلى الله عليه وسلم وسودة عليها السلام زوجه صلى الله عليه وسلم]
অর্থঃ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র মদীনা শরীফ-এ স্বাভাবিকভাবে অবস্থান মুবারক করতে লাগলেন, তখন হযরত যায়েদ বিন হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবু রাফেরদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের পবিত্র মক্কা শরীফ পাঠান। যেন উনারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হিজরত করিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ নিয়ে আসেন। উনারা বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উম্মু কুলসুম আলাইহাস সালাম ও হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ গমন করেন।” (নূরুল ইয়াক্বীন ফি সীরাতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন) অন্য বর্ণনায় রয়েছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হিজরত মুবারক করার প্রায় ছয় মাস পর অর্থাৎ প্রথম হিজরী সন উনার পবিত্র শাবান শরীফ বা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এ সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ হতে পবিত্র মদীনা শরীফ-এ পবিত্র হিজরত মুবারক করেন।

বদর জিহাদঃ- দ্বিতীয় হিজরী সনে পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ অনুষ্ঠিত হয় বদর জিহাদ। জিহাদের যখন জোর প্রস্তুতি চলছে, তখন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আছ ছানিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এহেন পরিস্থিতিতে উনার ছহিবুল মুকাররম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উনার মুবারক খিদমতে আঞ্জাম দেয়ার জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফ রেখে যান। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত রুকাইয়া আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জামে ব্যাপৃত থাকেন। তথাপি সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার সার্বিক খিদমতে মশগুল ছিলেন সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছালিছা হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। বদর জিহাদের পরের দিন অর্থাৎ ১৮ই রমাদ্বান শরীফ সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করায় হযরত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হুযুনী শান মুবারক জাহির করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বদর জিহাদ হতে ফিরে এসে সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ জিয়ারতে যখন তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন তিনি অঝোর ধারায় নূরুল মুহব্বত তথা চক্ষু মুবারক হতে পানি মুবারক প্রবাহিত করেন। আর সেই মুবারক প্রেক্ষাপটে সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দেন। তিনি নিজ হাত মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মুহব্বত মুবারক মুছে দেন। সাইয়্যিদাতুন নিসা আছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার যুদায়ির কষ্ট লাঘবে তিনি অত্যধিক কোশেশে মশগুল ছিলেন; যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পবিত্র শাদী মুবারকঃ- ঐতিহাসিকগণের ঐকমত্যে দ্বিতীয় হিজরী সনে বদর জিহাদের পর পবিত্র যিলহজ্জ শরীফে সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ে উনার দুনিয়াবী হায়াত মুবারক নিয়ে ইখতিলাফ রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মতে, তখন উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক ছিল প্রায় সাড়ে সতের বছর। কেননা, পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে- আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের তিন বছর পুর্বে তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের পর তের বছর পবিত্র মক্কা শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করেন এবং পবিত্র হিজরত মুবারক উনার প্রায় দেড় বছর। তাহলে তিন, তের এবং দেড় মিলে সাড়ে সতের হয়। সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী মুবারক উনাকে কেন্দ্র করে উনার বিশেষ শান মুবারক প্রকাশ পায়। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ছহিব নির্ধারণ করেছেন এবং পবিত্র শাদী মুবারক সম্পাদন করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ- [عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله امرنى ان ازوج فاطمة عليها السلام من على عليه السلام]
অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পবিত্র শাদী মুবারক দেয়ার জন্য স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে আদেশ মুবারক করেছেন।” (আল মুজামুল কাবীর) অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ- [قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا انس رضى الله تعالى عنه اتدرى ما جاءنى به جبريل عليه السلام من عند صاحب العرش قال ان الله امرنى ان ازوج فاطمة عليها السلام من على عليه السلام]
অর্থঃ- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে লক্ষ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি কি জানেন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হতে কি সংবাদ নিয়ে এসেছেন? সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পবিত্র শাদী মুবারক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে আদেশ মুবারক করেছেন।” (যখায়িরুল উকবা)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ [عن حضرت على عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتانى ملك فقال يا محمد صلى الله عليه وسلم ان الله تعالى يقرا عليك السلام ويقول لك انى قد زوجت فاطمة ابنتك عليها السلام من على بن ابى طالب عليه السلام فى الملا الاعلى فزوجها منه فى الارض]
অর্থঃ- হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আমার নিকট একজন ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি এসে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমি আপনার লখতে জিগার হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উচ্চ মর্যদাসম্পন্ন ফযীলতপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপস্থিতিতে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পবিত্র শাদী মুবারক দিয়েছি। তাই আপনি যমীনেও উনাদের পবিত্র শাদী মুবারক সম্পন্ন করুন।সুবহানাল্লাহ! (তাবারী)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ [عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم فى المسجد اذ قال لعلى عليه السلام هذا جبريل عليه السلام يخبرنى ان الله زوجك فاطمة عليها السلام اشهد على تزويجك اربعين الف ملك]
অর্থঃ- হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ হযরত কারমাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, ইনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম। তিনি আমার নিকট আরজ করছেন যে, মহান আল্লাহ পাক আপনার নিকট হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে শাদী মুবারক দিয়েছেন এবং আপনাদের শাদী মুবারকে চল্লিশ হাজার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সাক্ষী রেখেছেন।” (আর রিয়াজুন নাদারাহ)

পবিত্র নিসবাতুল আযীম ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীঃ- দ্বিতীয় হিজরী সনের যিলহজ্জ মাসে সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র মোহর মুবারকের জন্য হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বদর জিহাদে গণিমতস্বরূপ লাভ করা একটি বর্ম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট বিক্রয় করেন। তিনি বর্মখানা পাঁচশত দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেন বটে, তবে সেই বর্মখানা আবার হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেন। যা মূলত সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল আঞ্জামের একখানা উপমা। সুবহানাল্লাহ!

মসজিদে নববী শরীফে পবিত্র শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক হতে অধিক আড়ম্বরপূর্ণ শাদী মুবারক দেখিনি।

হযরত হারেস বিন নুমান আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কয়েকটি হুজরা শরীফ হাদিয়া করেছিলেন। সেই সমস্ত হুজরা শরীফ হতে একখানা হুজরা শরীফ সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার জন্য নির্ধারণ করা হয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার জন্য একখানা হুজরা শরীফ নির্ধারিত হলো। আমরা বুতাহা প্রান্তরের কিনার থেকে নরম মাটি আনলাম। সেগুলো আমরা হুজরা শরীফে বিছিয়ে দিলাম। খেজুর গাছের ছাল ছিঁড়ে আমরা দুটি বালিশ মুবারক তৈরি করলাম। পবিত্র শাদী মুবারক মজলিসে খেজুর মুবারক ছিটিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তাছাড়া মুবারক ওয়ালীমার জন্য খেজুর, রুটি, পনির এবং এক প্রকার বিশেষ শুরবার ইন্তিজাম করা হয়েছিলো। মুবারক ওয়ালীমা মজলিসে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনেকেই তাশরীফ মুবারক রেখেছিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই পবিত্র মজলিসে অংশগ্রহণকারীগণ উনাদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া-মুনাজাত মুবারক করেন। উপরে বর্ণিত প্রতিটি বিষয়ই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আলোচনা করা হয়েছে।

সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও সেই পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের জিসিম মুবারকে একখানা পাত্র মুবারক হতে পানি ছিটিয়ে দেন। উনাদের জন্য এবং উনাদের আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য অনেক দোয়া মুবারক করেন। উনাদেরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নছীহত মুবারক করেন। বলাবাহুল্য যে, উপরোক্ত আলোচনা হতে প্রমাণিত হয় যে, শাদী মুবারক অনুষ্ঠানে খেজুর ছিটানো, দোয়া করা, ওয়ালীমার ব্যবস্থা করা এবং বর-কনের গায়ে পানি ছিটিয়ে দোয়া করা খাছ সুন্নত মুবারক। মুজাদ্দিদে আযম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সেই সুন্নত মুবারকসমূহ পুনরায় জারি করেছেন। উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত শাদী মুবারক অনুষ্ঠানে দোয়া মুবারক করেন এবং খেজুর ছিটানোর ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া সুন্নত মুবারক পালনার্থে বর-কনের গায়ে পানি ছিটিয়ে দেয়ার জন্য মুবারক নির্দেশনা প্রদান করেন।

মোহর মুবারকঃ- সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী মুবারকে প্রদত্ত মোহর মুবারক ছিলো পাঁচশত দিরহাম। যা মোহরে যাহরায়ী আলাইহাস সালাম নামে অভিহিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এরূপ মোহর মুবারক প্রদান করেছিলেন।পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেঃ [عن ابى سلمة رحمة الله عليه قال سألت عائشة عليها السلام كم كان صداق النبى صلى الله عليه وسلم قالت كان صداقه فى ازواجه اثنتى عشرة ونشا هل تدرى ما النش هو نصف اوقية وذلك خمس مئة درهم]
অর্থঃ- হযরত আবু সালামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে আমি আরজ করলাম যে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিরূপ মোহর প্রদান করতেন? উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য বারো উকিয়া এবং এক নশমোহর মুবারক হিসেবে পরিশোধ করতেন। আপনি কি নশসম্পর্কে জানেন? ‘নশহলো অর্ধ উকিয়া। অর্থাৎ মোহর মুবারক হলো সাড়ে বারো উকিয়া। যা পাঁচশত দিরহামের সমান।” (ইবনে মাজাহ শরীফ)

অর্থাৎ সুন্নতী মোহর মুবারক হলোঃ- পাঁচশত দিরহাম। রৌপ্যের হিসাব অনুযায়ী পাঁচশত দিরহাম সমান একশত সোয়া একত্রিশ তোলা (ভরি) রৌপ্য। আর এ পরিমাণই মোহরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম অর্থাৎ মোহরে যাহরায়ী শরীফ হিসেবে স্বীকৃত।বলাবাহুল্য যে, মোহরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম ধরাধামে পুনরায় জারি করেছেন মুজাদ্দিদে আযম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। তিনি উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পাদিত সমস্ত শাদী মুবারকে এ মুবারক নির্ধারণ করেন। মোহরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম শর্ত ব্যতীত তিনি কোনো শাদীতে মুবারক পৃষ্ঠাপোষকতা প্রদান করেন না। সুবহানাল্লাহ!

উহুদ যুদ্ধের প্রান্তরেঃ- পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে উহুদ ঘোরতর জিহাদের ইতিহাস। তৃতীয় হিজরী সনের শাওওয়াল মাসে কুরাইশরা বদর জিহাদের প্রতিশোধ নিতে উহুদ প্রান্তরে উপস্থিত হয়েছে। তাদেরকে সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক হাজার লোক নিয়ে রওয়ানা দিলেও পথিমধ্যে তিনশত মুনাফিক সরে পড়ে। অবশেষে সাতশত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে উহুদ প্রান্তরে তাশরীফ মুবারক রাখেন। এ জিহাদে কাফিররা বহুমূখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়া হয়। উহুদ জিহাদে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কাফিররা আঘাত করে। উনার একখানা দান্দান মুবারক শহীদ হন। পূত-পবিত্র জিসম মুবারক হতে অনেক নূরুন নাজাত মুবারক জাহির হন। আর সেই কঠিন সময়ে সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যে খিদমত মুবারক করেছেন, তা সত্যিই বেমেছাল। পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ [عَنْ حضرت سَهْل بْن سَعْدٍ، وَهْوَ يُسْأَلُ عَنْ جُرْحِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مَنْ كَانَ يَغْسِلُ جُرْحَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ كَانَ يَسْكُبُ الْمَاءَ وَبِمَا دُووِيَ . قَالَ كَانَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَمُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَغْسِلُهُ وَعَلِيٌّ عَلَيْه السَّلاَمُ يَسْكُبُ الْمَاءَ بِالْمِجَنِّ، فَلَمَّا رَأَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَمُ أَنَّ الْمَاءَ لاَ يَزِيدُ الدَّمَ إِلاَّ كَثْرَةً أَخَذَتْ قِطْعَةً مِنْ حَصِيرٍ، فَأَحْرَقَتْهَا وَأَلْصَقَتْهَا فَاسْتَمْسَكَ الدَّمُ، وَكُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ يَوْمَئِذٍ، وَجُرِحَ وَجْهُهُ، وَكُسِرَتِ الْبَيْضَةُ عَلَى رَأْسِهِ‏.]
অর্থঃ হযরত সাহল ইবনে সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। উনাকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! সেদিন যিনি জখম মুবারক ধুয়েছিলেন, যিনি পানি ঢেলে ছিলেন, উনাদেরকে আমি ভালোভাবেই চিনি। এবং কি দিয়ে উনার চিকিৎসা মুবারক করা হয়েছিলো, সে সম্পর্কে আমি ভালোভাবে অবগত আছি। তিনি বলেন, সেদিন সাইয়্যিদাতুন নিসা আন নূরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি জখম মুবারক ধুয়ে দিচ্ছিলেন এবং হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ঢালে করে পানি এনে ঢালছিলেন। অতঃপর হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি দেখলেন যে, নূরুন নাজাত মুবারক জাহির হওয়া বন্ধ হচ্ছে না। তখন তিনি এক খ- চাটাই নিয়ে তা আগুনে জালিয়ে তার ছাই জখম মুবারকে লাগিয়ে দিলেন। ফলশ্রুতিতে নূরুন নাজাত মুবারক জাহির হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সেদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডান দিকের একখানা দান্দান মুবারক শহীদ হয়েছিলেন। চেহারা মুবারকে আঘাত লেগেছিল। শিরস্ত্রাণ মুবারক ভেঙ্গে মাথা মুবারকে বিদ্ধ হয়েছিল। (বুখারী শরীফ)

পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশঃ- হিজরী ১১ সনে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পরে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মাত্র ছয় মাস যমীনে অবস্থান মুবারক করেন। অতঃপর উক্ত ১১ হিজরী সনের ৩রা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ (সোমবার) দিনে বাদ আছর তিনি উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার জানাযা নামায পড়ান সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহূ ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন যামানার ইমাম ও উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উছিলায় আমাদেরকে বেশি করে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে জানার তাওফীক দান করেন। (আমিন)।