4.29.2020

মুত্তাকি, পরহেজগার ও মুমিন মুসলমানদের জন্য মুনাফিক ও অমুসলিমদের দেয়া ইফতার খাওয়া নিষিদ্ধ!

মুত্তাকি, পরহেজগার ও মুমিন মুসলমানদের জন্য মুনাফিক ও অমুসলিমদের দেয়া ইফতার খাওয়া নিষিদ্ধ!


মুসলমানদের সাবধান হওয়া উচিৎ, পবিত্র এই রমাদ্বান শরীফে কার থেকে, কার টাকায়, কার উপার্জিত খাদ্য দ্বারা আপনি ইফতার, সাহরী করছেন এটা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরী, নতুবা সারা মাসের সিয়াম তো নষ্ট হবে সাথে ঈমান ও চলে যাবে কুরআন হাদিসের ম্যাসেজের বিপরিত আক্বিদাহ পোষণ করে।

প্রথমতো, মুসলমানদের দ্বীনি সম্পর্ক কেবল মুসলমানদের সাথেই হতে হবে। শত্রুর থেকে ইফতার গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কোন সুযোগ নাই। কারনা মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফে এরশাদ করেনঃ [لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُواْ] (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি মানুষের মধ্যে শত্রু হিসেবে প্রথমেই পাবেন ইহুদীদের অতঃপর মুশরিকদের। যাদের আল্লাহ পাক শত্রু বলে ঘোষনা দিয়েছেন তাদের আপনি দ্বীনি ভাই মনে করলে কুফুরি হবে।

এছাড়াও অনেকে বলতে পারেন যে আমার অনেক ফ্রেন্ড আছে অমুসলিম, তারা দাওয়াত দিলে আমি না করবো কিভাবে? দেখুন আপনার সাথে কোন অমুসলিমের যতো গভির সম্পর্ক ই থাকুক না কেনো, যে মুশরিক হলে আপনার কোরবানির গোশতের দাওয়াত পাবলিকেলি খাবেন, ইহুদী হলে উটের গোশত পাবলিকেলি খাবেনা, উভয়ের জন্য এই দুটি জিনিস হারাম অথচ আপনার জন্য তা হালাল ই নয় বরং সুন্নত।

তাছাড়া, ঈমানদার এর জন্য বন্ধু ও শত্রু নির্ণয়ের পদ্ধতি আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা আমাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। যেমন, হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছেঃ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছেন, যে মানব সন্তান মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য তথা উনাকে পাওয়ার উনাকে খুশি রাজি করার উদ্যেশ্যে কাউকে ভালোবাসে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য কাউকে ঘৃণা করে, এবং যে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বন্ধুত্ব নষ্ট করে অথবা উনার জন্য শত্রুতা ঘোষণা করে, সে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে নিরাপত্তা পাবে৷ এটা ছাড়া কেউ প্রকৃত ঈমানের স্বাদ পাবে না, যদিও তার নামাজ রোজার পরিমাণ অনেক হয়৷ মানুষ দুনিয়াবী বিষয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা তাদেরকে কোন উপকারই করতে পারবে না। (ইবনে রজব আল হাম্বালী, জামি আল উলূমওয়াল হাকিম, পৃঃ৩০)।


এতএব কেউ যদি মনে করে যে অমুসলিম তথা মুশরিক হিন্দু ও ইহুদীদের টাকায় আয়োজিত ইফতার করা যায়েজ তাহলে সে মহান আল্লাহ পাক ও রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অবিশ্বাস করলো, কারণঃ

হাদিস শরীফে এসেছেঃ রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের উদ্যেশ্যে এরশাদ করেন, কেউ যদি রমজান মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে ঐ ইফতার করানোটা তার গুনাহ মাফের ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে একটি রোজার সওয়াব পাবে অথচ রোজা পালনকারীর নেকী মোটেই কমানো হবে না। সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমরা বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের এমন আর্থিক সংগতি নেই, যা দিয়ে আমরা কাউকে ইফতার করাতে পারি? তিনি (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মহান আল্লাহ পাক তাকেও এই সওয়াব দেবেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজা পালনকারীকে এক ঢোক দুধ অথবা একটা শুকনো খেজুর কিংবা এক চুমুক পানি দিয়েও ইফতার করাবে আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে পরিতৃপ্তিসহকারে খাওয়াবে মহান আল্লাহ পাক তাকে আমার হাউজে কাওছার থেকে এমনভাবে পানি পান করাবেন যার ফলে সে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। (বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, মেশকাত শরীফ ১৭৪ পৃষ্ঠা)।

হাদীস শরীফে আরো এসেছে, হযরত সালমান ফারসি (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হালাল খাদ্য কিংবা পানি দ্বারা কোনো মুসলমানকে রমাদ্বান শরীফে ইফতার করালো, ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ মাহে রমাদ্বান শরীফের এই-সময়ে তাঁর জন্য ইস্তিগফার করেন। আর হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম শবে ক্বদর শরীফে তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করেন। (তাবরানী আল মুজামুল কবীর, ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদীস শরীফ নং ৬১৬২)।

হাদীস শরীফ থেকে শিক্ষাঃ মুসলমানদের কেবল মুসলমানেরা ইফতার করাবে, একারণেই ওয়াদা করা হয়েছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও হাউজে কাওছার এর পানি এমনভাবে পান করাবেন যার ফলে সে জান্নাতে না পৌঁছানো পর্যন্ত আর তৃষ্ণার্ত হবে না। কারণ কোন অমুসলিম না যাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, না হাউজে কাওসারের পানি পাবে, না জান্নাতে যাবে। এছাড়াও ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম তো করবেন-ই সাথে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম শবে ক্বদর শরীফের রাতে তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করবেন। অতএব কেউ এই হাদিস শরীফ বিশ্বাস করলে তার জন্য কোন অমুসলিম এর ইফতার গ্রহণ করা হালাল হবেনা কোন অবস্থায়। কারণ কোন অমুসলিম এর পক্ষে কোন মুসলমানকে ইফতার করিয়ে উপরোক্ত বিষয়গুলির অধিকারী হওয়ার কোন সুযোগ নাই যতক্ষন না সে ঈমান আনবে। অথচ যারা অমুসলিমদের থেকে ইফতার গ্রহণ করছে তারা উপরোক্ত হাদীস শরীফগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বৈ অন্য কিছু নয়।

যেহেতু নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কেউ কাউকে ইফতার করালে সে ঐ সকল জিনিস লাভ করবে সেহেতু তা ১০০% সঠিক। এখন যেহেতু তারা চিরস্থায়ী যাহান্নামি সেহেতু তারা মুসলমানদের ইফতার করালে ইফতার কবুল হলে তারা সেইসব বিষয়ের হক্বদার হবে, কিন্তু তাদের পক্ষে হক্বদার হওয়া কোন কালেই সম্ভব নয়। যেমন, আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে এরশাদ করেনঃ [وَعَدَ الله الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا هِيَ حَسْبُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ] মহান আল্লাহ পাক ওয়াদা করেছেন, মুনাফিক নারী-পুরুষ এবং (অমুসলিম) কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের; তারা তাতে পড়ে থাকবে সারাজীবন। সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর মহান আল্লাহ পাক তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী আজাব।(সুরা আত তাওবা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৬৮)।

কেবল অমুসলিম কাফের থেকেই নয়, বরং মুসলিমদের মধ্যে থাকা মুনাফিক হতেও ইফতার গ্রহণ করা যাবেনা, যা এই আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। কারণ এরা চিরস্থায়ী যাহান্নামী।

তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট, যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে রিজিক হালাল হওয়া। হারাম রিজিক, হারাম খাদ্য খুবই সাংঘাতিক বিষয়। হারাম খাদ্য শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ঢুকে যায়। পুরো শরীরে প্রভাব বিস্তার করে। যার কারণে হারাম কিছু খেলে তার দোয়া মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল হয় না। তার কোনো ইবাদত মহান আল্লাহ পাক কবুল করেন না।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ লম্বা পথ সফর করেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এরপর সে না ঘুমিয়ে রাতে (নফল) নামাজ পড়ে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ডেকে ডেকে দোয়া করেন হে আল্লাহ! আপনি আমার গোনাহ মাফ করে দিন। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়চোপড় হারাম। তার সবকিছুই হারাম। সুতরাং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে, না ঘুমিয়ে সে যত মনোযোগ সহকারেই দোয়া করুক না কেন, মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে তা কবুল হবে না।(মেশকাত শরীফঃ ২৭৬০)।

দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কাপড়চোপড়, খাওয়াদাওয়া, ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু হালাল হতে হবে। তাছাড়া যত দোয়াই করুক না কেন, তা কবুল হবে না। অন্যত্র রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ১০ টাকা দিয়ে কাপড় কেনে, তার একটি টাকা হারাম হলেও যতদিন সে তা ব্যবহার করবে, ততদিন আল্লাহ পাক তার নামাজ কবুল করবেন না।(মেশকাত শরীফঃ ২৭৮৯)।

একটু ভেবে দেখেছেন ১০ টাকার এক টাকা হারাম হলে যদি নামাজ কবুল না হয়, তাহলে সব টাকা হারাম হলে কী হবে! নামাজ কবুল হবে কীভাবে? দোয়া কীভাবে কবুল হবে? রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র আরও মারাত্মক কথা বলেছেন, ‘যে শরীর হারাম খাদ্য দ্বারা লালন পালন করা হয়েছে, সে শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।(মেশকাত শরীফঃ ২৭৮৭)।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘একটি যুগ আসবে যখন মানুষ উপার্জন করতে এ কথা চিন্তা করবে না যে, আমি হালাল পন্থায় উপার্জন করছি, নাকি হারাম পন্থায়।(বোখারি শরীফঃ ১৯৪১)।

উপার্জনের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। হারাম থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাগ্যে যতটুকু আছে, তা আসবেই। রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো প্রাণী তার রিজিক শেষ করার আগ পর্যন্ত মারা যাবে না। সাবধান! সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে সৎপথ অবলম্বন করো। তকদিরে লেখা রিজিক আসতে বিলম্ব হলেও অসৎ পথে উপার্জন করো না। মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করেই কেবল উনার কাছ থেকে পাওয়া সম্ভব।(মেশকাত শরীফঃ ৫৩০০)।

এতএব আপনি কিভাবে বুঝবেন একজন অমুসলিম ও মুনাফিক-এর অর্জিত সম্পদে সে হারাম মাল মিশ্রিত করেনাই? কেনো এই রিস্ক নিতে যাবেন সারাদিন কষ্ট করে রোজা রেখে একজন অমুসলিম অথবা মুনাফিকের ইফতার একবেলা খেয়ে? অথচ এই ব্যপারে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট সতর্ক করে বলেন, ‘কোনটা হারাম আর কোনটা হালাল, তা পরিষ্কার। হালাল ও হারামের মাঝে কিছু সন্দেহযুক্ত জিনিস আছে, যা অনেকেই বুঝতে পারে না। যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত জিনিস থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার ইজ্জত-সম্মান ও দ্বীন হেফাজত করতে পারবে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত জিনিস উপার্জনে লিপ্ত হলো, সে হারামের মাঝে লিপ্ত হলো।(মুসলিম শরীফঃ ২৯৯৬)।

অতএব জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই কাফি, কেউ মুমিন হলে, মুত্তাকি হলে, পরহেজগার হলে সে ভুলেও কোন অমুসলিম কাফের কিংবা মুনাফিকের দেয়া ইফতার কস্মিনকালেও গ্রহণ করবেনা। কারণ মুমিন কখনো তাঁর ঈমানকে বাজী ধরেনা সন্দেহযুক্ত বিষয়ে বরং নিজ দায়িত্বে এড়িয়ে যায়।

4.04.2020

বর্তমানে ১০০% শরীয়ত মেনে সম্মানিত পবিত্র হজ্জ পালন করা কি সম্ভব?

বর্তমানে ১০০% শরীয়ত মেনে সম্মানিত পবিত্র হজ্জ পালন করা কি সম্ভব?


বাতিল ফিরকার অনুসারী ও মূর্খ ভন্ড পিরদের মুরিদদের মূর্খতার জবাব। মূলত এরা কুরআন শরীফ হাদিস শরীফ অধ্যায়ন করেনা এবং তাকওয়া-ও নাই এদের মধ্যে, এরা আদতে জানেইনা মহান আল্লাহ পাক কি বলেছেন পবিত্র হজ্জ এর ব্যপারে।

যারা পবিত্র হজ্জ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম কি তা না জেনে হজ্জ ফরজ হজ্জ ফরজ বলে লাফালাফি করছো তাঁরা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকেই অস্বীকার করছো।

মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ [الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُواْ مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللّهُ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُوْلِي الأَلْبَابِ]
অর্থাৎ: পবিত্র হজ্জ্বের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি মাস আছে।[১] এসব মাসে যে লোক পবিত্র হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার জন্য স্ত্রী সহবাস জায়েজ নয়।[২] জায়েজ নয় কোনো ফাসেকি কাজ করা[৩] এবং ঝাগড়া-বিবাদ করাও পবিত্র হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়।[৪] আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, মহান আল্লাহ পাক তিনি তো তা জানেন।[৫] আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও।[৬] নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার ভয় (তাকওয়া)। আর আমার ভয়(তাকওয়া অবলম্বন) করতে থাকো, হে জ্ঞানী লোকেরা! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।[৭]

আয়াত শরীফের ব্যখা নিচে বর্ণনা করা হলোঃ

[১] যারা পবিত্র হজ্ব অথবা উমরা করার নিয়্যতে এহ্‌রাম বাঁধেন, তাদের উপর এর সকল অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সম্পন্ন করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। এ দু'টির মধ্যে উমরার জন্য কোন সময় নির্ধারিত নেই। বছরের যে কোন সময় তা আদায় করা যায়। কিন্তু পবিত্র হজ্বের মাস এবং এর অনুষ্ঠানাদি আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। কাজেই এ আয়াত শরীফের শুরুতেই বলে দেয়া হয়েছে যে, পবিত্র হজ্বের ব্যাপারটি উমরার মত নয়। এর জন্য কয়েকটি মাস রয়েছে, সেগুলো প্রসিদ্ধ ও সুবিদিত। আর তা হচ্ছে শাওয়াল, যিল্‌ক্বদ ও জিলহজ্ব। পবিত্র হজ্বের মাস শাওয়াল হতে আরম্ভ হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এর পূর্বে পবিত্র হজ্বের এহ্‌রাম বাঁধা জায়েয নয়।

[২] (رفث) , ‘রাফাসএকটি ব্যাপক শব্দ, যাতে স্ত্রী সহবাস ও তার আনুষাঙ্গিক কর্ম, স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা, এমনকি খোলাখুলিভাবে সহবাস সংক্রান্ত আলাপ আলোচনাও এর অন্তর্ভুক্ত। এহ্‌রাম অবস্থায় এ সবই হারাম। হাদীছ শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ এমনভাবে পবিত্র হজ্জ সম্পাদন করবে যে, তাতে রাফাস’, ‘ফুসূকজিদালতথা অশ্লীলতা, পাপ ও ঝগড়া ছিল না, সে তার হজ্জ থেকে সে দিনের ন্যায় ফিরে আসল যেদিন তাকে তার মা জন্ম দিয়েছিলেন। " [বুখারী শরীফঃ ১৫২১, মুসলিম শরীফ ১৩৫০]

[৩] (فسوق) ফুসুকএর শাব্দিক অর্থ বের হওয়া। আল কুরআনের পরীভাষায় নির্দেশ লংঘন বা নাফরমানী করাকে ফুসুকবলা হয়। সাধারণ অর্থে যাবতীয় পাপকেই ফুসুক বলে। তাই অনেকে এস্থলে সাধারণ অর্থই নিয়েছেন। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ফুসুকশব্দের অর্থ করেছেন - সে সকল কাজ-কর্ম যা এহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ। স্থান অনুসারে এ ব্যাখ্যাই যুক্তিযুক্ত। কারণ সাধারণ পাপ এহ্‌রামের অবস্থাতেই শুধু নয়; বরং সবসময়ই নিষিদ্ধ। যে সমস্ত বিষয় প্রকৃতপক্ষে নাজায়েয ও নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এহরামের জন্য নিষেধ ও নাজায়েয, তা হচ্ছে ছয়টিঃ
(১) স্ত্রী সহবাস ও এর আনুষাঙ্গিক যাবতীয় আচরণ; এমনকি খোলাখুলিভাবে সহবাস সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা।
(২) স্থলভাগের জীব-জন্তু শিকার করা বা শিকারীকে বলে দেয়া।
(৩) নখ বা চুল কাটা।
(৪) সুগন্ধি দ্রব্যের ব্যবহার। এ চারটি বিষয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যই এহ্‌রাম অবস্থায় হারাম বা নিষিদ্ধ। অবশিষ্ট দুটি বিষয় পুরুষের সাথে সম্পৃক্ত।
(৫) সেলাই করা কাপড় পোষাকের মত করে পরিধান করা।
(৬) মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত করা। আলোচ্য ছয়টি বিষয়ের মধ্যে স্ত্রী সহবাস যদিও ফুসুকশব্দের অন্তর্ভুক্ত, তথাপি একে 'রাফাস' শব্দের দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে এজন্যে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, এহ্‌রাম অবস্থায় এ কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এর কোন ক্ষতিপূরণ বা বদলা দেয়ার ব্যবস্থা নেই। কোন কোন অবস্থায় এটা এত মারাত্মক যে, এতে পবিত্র হজ্জই বাতিল হয়ে যায়। অবশ্য অন্যান্য কাজগুলোর কাফ্‌ফারা বা ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আরাফাতে অবস্থান শেষ হওয়ার পূর্বে স্ত্রী সহবাস করলে পবিত্র হজ্ব ফাসেদ হয়ে যাবে। গাভী বা উট দ্বারা এর কাফ্‌ফারা দিয়েও পরের বছর পুনরায় হজ্ব করতেই হবে। এজন্যেই (فَلَا رَفَثَ) শব্দ ব্যবহার করে একে স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

[৪] (جدال) শব্দের অর্থ একে অপরকে পরাস্ত করার চেষ্টা করা। এ জন্যেই বড় রকমের বিবাদকে (جدال) বলা হয়। এ শব্দটিও অতি ব্যাপক। কেউ কেউ এস্থলে ফুসুকজিদালশব্দদ্বয়কে সাধারণ অর্থে ব্যবহার করে এ অর্থ নিয়েছেন যে, ‘ফুসুকজিদালসর্বক্ষেত্রেই পাপ ও নিষিদ্ধ, কিন্তু এহরামের অবস্থায় এর পাপ গুরুতর। পবিত্র দিনসমূহে এবং পবিত্র স্থানে, যেখানে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদাতের জন্য আগমন করা হয়েছে এবং লাব্বাইকা লাব্বাইকা' বলা হচ্ছে, এহরামের পোষাক তাদেরকে সবসময় এ কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, তোমরা এখন ইবাদাতে ব্যস্ত, এমতাবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদি অত্যন্ত অন্যায় ও চরমতম নাফরমানীর কাজ। [মারিফুল কুরআন]

[৫] ইহরামকালে নিষিদ্ধ বিষয়াদি বর্ণনা করার পর উল্লেখিত বাক্যে হিদায়াত করা হচ্ছে যে, পবিত্র হজ্জের পবিত্র সময় ও স্থানগুলোতে শুধু নিষিদ্ধ কাজ থেকেই বিরত থাকা যথেষ্ট নয়, বরং সুবর্ণ সুযোগ মনে করে আল্লাহ্‌র যিক্‌র ও ইবাদাত এবং সৎকাজে সদা আত্মনিয়োগ কর। তুমি যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ্ তা'আলা তা জানেন। আর এতে তোমাদেরকে অতি উত্তম প্রতিদানও দেয়া হবে।

[৬] এ আয়াতে ঐ সমস্ত ব্যক্তির সংশোধনী পেশ করা হয়েছে যারা পবিত্র হজ্জ ও উমরাহ করার জন্য নিঃস্ব অবস্থায় বেরিয়ে পড়ে। অথচ দাবী করে যে, আমরা আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করছি। পক্ষান্তরে পথে ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত হয়। নিজেও কষ্ট করে এবং অন্যকেও পেরেশান করে। তাদেরই উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, পবিত্র হজ্জের উদ্দেশ্যে সফর করার আগে প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নেয়া বাঞ্ছনীয়, এটা তাওয়াক্কুলের অন্তরায় নয়। বরং মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করার প্রকৃত অর্থই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত আসবাব পত্র নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সংগ্রহ ও জমা করে নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করা। রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাওয়াক্কুলের এই ব্যাখ্যাই বর্ণিত হয়েছে।

[৭] অর্থাৎ আমার শাস্তি, আমার পাকড়াও, আমার লাঞ্ছনা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখ। কেননা, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে চলে না, আমার নিষেধ থেকে দূরে থাকে না তাদের উপর আমার আযাব অবধারিত।

পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: আয়াত শরীফ ১৯৭।

এখন দেখা গেলো হজ্জে গিয়ে অশ্লীল অশালীন কাজ ও ফাসেকী কাজ করা যাবেনা বরং সম্পূর্ণ হারাম এখন কি মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মানবে নাকি গোমরাহ দেরকে অনুসরন করবেন? যারা অশ্লীল অশালীন কাজ ও ফাসেকী কাজ করতে বাধ্য করবে?

মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই হজ্ব ফরয করেছেন। এবং বেপর্দা হওয়া হারাম করেছেন। পর্দাকে ফরয করেছেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছবি তোলাকে হারাম করেছেন। অথচ পার সেকেন্ড কাবা শরীফের ভেতর প্রায় ২০০০০ হাজারের মত ছবি তোলা হয় নারিপুরুষ উভয়ের।

ছবি তোলা হারাম ও কতো বড় গুনাহ তার দলিলঃ

১) মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০১।
২) বুখারী শরীফ, কিতাবুললিবাছ, বাবুত তাছাবীর, ২য় জিঃ ৮৮০ পৃষ্ঠা।
৩) মিশকাত শরীফ পৃঃ ৩৮৫।
৪) মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০২।
৫) বুখারী শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ৮৮১।
৬) মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০০।
৭) তিরমিযি শরীফ ১ম জিঃ পৃঃ ২০৭।
৮) আবু দাউদ শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২১৯।
৯) মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২য় জিঃ পৃঃ৪৬।
১০) মুসনদে আহমদ ২য় জিঃ পৃঃ২১৭।
১১) মুছান্নেফ ইবনে আবী শায়বা ৮ম জিঃ পৃঃ২৯৬।
১২) তাহাবী ২য় জিঃ পৃঃ ৩৬৩।

জাহিল ও মুনাফিকরা ছবি ও বেপর্দা হয়ে হারাম পন্থায় ফাসেকি কাজ দিয়ে হজ্জ ব্যবস্থা প্রতিকূল করে তুলেছে। পুরুষ মহিলা একসাথে তাওয়াফ করছে। অথচ উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেনঃ كان الركبان يمرون بنا و نحن محرمات مع الرسول فإذا حاذونا سدلت إحدانا جلبابها على وجهها من رأسها فإذا جاوزنا كشفناه.

বাংলা অর্থঃ আমরা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এহরাম অবস্থায় ছিলাম, উষ্ট্রারোহী পুরুষরা আমাদের পার্শ্বদিয়ে অতিক্রম কালে আমাদের মুখামুখি হলে আমরা মাথার উপর থেকে চাদর টেনে চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিতাম। তারা আমাদেরকে অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখমন্ডল খুলে দিতাম। (আহমাদ শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)

এখন আমরা কি এক ফরয পালন করতে গিয়ে বেপর্দা হবো নারী পুরুষদের ভেদাভেদ ভুলে যাবো একসাথে ধাক্কাধাক্কি ঘষাঘষি করে তাওয়াফ করবো? যেখানে পুরুষ আর মহিলাদের জন্যে ১৪ জন ব্যতীত দেখা সম্পূর্ণ হারাম এবং আরো হাজারো আদেশ মুবারক অমান্য করবো?

দলিল পবিত্র আল কুরআন থেকেঃ

- পবিত্র সুরা নূর শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ৩০, ৩১।
- সূরা আহযাব শরিফঃ আয়াত শরিফঃ ৩২, ৩৩, ৫৩, ৫৯।

দলিল পবিত্র হাদিস শরীফ, তাফসীর, ফতওয়া থেকেঃ

- সহীহ বুখারী শরীফঃ হাদীস শরীফ ৩২৪, ৪৭৫৭, ১৮৩৮, ৪৮৫০।
- আবু দাউদ শরীফ ২/৪৫৭।
- মুসতাদরাকে হাকীম ২/১০৪।
- তিরমিযী শরীফ।
- আহমাদ শরীফ।
- ইবনে মাজাহ শরীফ।
- তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮০৪।
- আহকামুল কুরআন।
- জাসসাস ৩/৩৬৯।
- ফাতহুল বারী ২/৫০৫, ৮/৩৪৭।
- উমদাতুল কারী ৪/৩০৫
- মাআরিফুস সুনান ৬/৯৮
- তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/২৬৮
- মাজমুআতুল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২২/১০৯, ১১৪।
- আহসানুল ফতোয়া খণ্ড ৫ পৃষ্টা ১৯৯।
- এয়ালাউস সুনান খণ্ড ১৭ পৃষ্টাঃ ৮২১।
- আহকামুল কোরআন খণ্ড ৩ পৃষ্টাঃ ৪২২।
- আহসানুল ফতোয়া ৮/৪০।
- এমদাদুল ফতোয়া ৪/২০০।
- তাফসীরে কুরতবী ১৪/২৪৩।
- তাফসীরে তবারী ১০/৩৩১।
- তাফসীরে তবারী ১০/৩৩২।
- আহকামুল কোরআন ৩/৪১০।
- তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮২৪।
- আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৭২।
- তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৫৬।
- জামেউল বয়ান।
- তাফসীরে রূহুল মাআনী ২২/৮৮।

তাহলে আমরা কিছু অংশ মানবো আর কিছু অংশ মানবো না? মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সম্মানিত পবিত্র হজ্জে গিয়ে হারাম, ফাহেশা ও ফাসেকী কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তাহলে আমরা কি মহান আল্লাহ পাক উনার অনেকগুলি আদেশ অমান্য করে পবিত্র হজ্জ আদায় করে মনে করবো যে আমরা ফরজ হজ্জ আদায় করে ফেলেছি?
উটের মূত্র নিয়ে মূর্খ নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশরিক ব্যতীত কোন জ্ঞানীকে অপপ্রচার চালাতে আমি দেখিনি।

উটের মূত্র নিয়ে মূর্খ নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশরিক ব্যতীত কোন জ্ঞানীকে অপপ্রচার চালাতে আমি দেখিনি।



ইহুদীদের চেয়ে বড় শত্রু (৫/৮২) ও জ্ঞানি শত্রু ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি খুজে পাওয়া যাবেনা। সেই শত্রুরা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর কতো নমুনার ফাউল অপবাদ দিলো কিন্তু কোন যামানার কোন জ্ঞানি ইহুদীর এই জিনিসটা মাথায় আসলোনা যে ইসলামের নবী হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উটের মুত্র খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ধরি। আসলে তারা দুষমন হলেও নাস্তিক ও মুশ্রিকদের মতো মূর্খ নয় বলেই এই কাজ করেনি কোনোদিন কারণ তারা ইসলাম না মানলেও মুসলিম থেকে বেশী জানে।

বাংলাভাষী কিছু মূর্খ নাস্তিক ও ভারতীয় গোমূত্র পানকারী মুশরিক অনেকদিন ধরেই দাবি করে আসছে এই বলে যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলামের সর্বশেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এইটা একটা চরম পর্যায়ের মিথ্যা অপপ্রচার। রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজেরা যেমন কখনো উটের মূত্র পান করেননি, তেমনি রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য আদেশ, উপদেশ কিংবা নির্দেশ বা পরামর্শও দেননি।

তাহলে ঘটনা কী? ঘটনা হচ্ছে দু-একটি হাদিস শরীফ অনুযায়ী অমুসলিম এক গোত্রের একদল লোক মুসলিম সেজে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর কাছে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দয়া-পরবশ হয়ে তাদেরকে আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে বিরূপ আবহাওয়াজনিত বা অন্য কোনো কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে কিছু উট ও একজন রাখাল-সহ তাদেরকে অন্য কোনো স্থানে চলে যেতে বলেন যেখানে আবহাওয়া তাদের জন্য উপযুক্ত এবং তাদের অসুস্থতা থেকে সুস্থতা পেতে উটের দুধ ও মূত্র পান করার জন্য পরামর্শ দেন। এরপর তারা চলে যায় এবং পথিমধ্যে উটের দুধ ও মূত্র পান করার কারনে সুস্থ হয়ে উঠে এবং রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাঠানো রাখাল বালককে নির্মমভাবে হত্যা করে উনার দেওয়া উট নিয়ে পালিয়ে যায়। সংক্ষেপে হাদিসটা এরকম। যাদের প্রয়োজন তারা মিলিয়ে দেখতে পারেন এই লিঙ্কে গিয়ে [https://www.hadithbd.com/print.php?hid=51329]।

পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ

ঘটনা (ক)

১) হযরত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদেরকে অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে সুস্থ হওয়ার ঔষদ হিসেবে একত্রে উটের দুধ ও মূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা কিন্তু মুসলিম ভানকারী মুনাফেক ছিল, যা পরে প্রমাণ হয়েছে।
২) উটের দুধ ও মূত্র পান করার পর তারা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর তারা রাখাল বালককে নির্মমভাবে হত্যা করে উট নিয়ে পালিয়ে যায়।
৩) একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু লোককে (যারা আসলে মুনাফেক ছিল) রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের দুধ ও মূত্র পান করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও বলেননি যে মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করতে হবে। এরকম কোনো কথা হাদিস শরীফে লিখা থাকলে আহলে সুন্নত তথা আমার মতো সুন্নী মুসলিম লোক লজ্জার তোয়াক্কা না করে উটের মূত্র পান করতামই। কিন্তু মুসলিমরা কোথাও কখনোই উটের মূত্র পান করে না। এই সাধারণ বোধটুকুও মূর্খ পুটুকামি নাস্তিক ও গোমূত্র পানকারী মুশ্রিকদের নেই!

উপসংহারঃ হাদিস শরীফ অনুযায়ী আসলে ভণ্ড-মুনাফেকদের উচিত উটের মূত্র পান করা! কেননা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদেরকে উটের মূত্র পান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা আসলে ভণ্ড বা মুনাফেক ছিল।

ঘটনা (খ)

২) রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি মুসলমানদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র পান করতে বলেছেন! নাউযুবিল্লাহ! এই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র! মুসলমানরা কতটা পশ্চাৎপদ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেখেছেন!

জবাবঃ প্রথমত, হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদেরকে ঔষধ হিসেবে উটের মূত্র পান করতে বলেননি! এমনকি বলা যায় যে, মুসলিমরা উটের মূত্রকে পবিত্র কিছু হিসেবেও বিশ্বাস করে না। বরঞ্চ মুসলিমদের কাছে মল-মূত্র হচ্ছে অপবিত্র জিনিস।

দ্বিতীয়ত, এ বিষয়ে পাশাপাশি দুটি হাদিস শরীফ আছে যার মধ্যে প্রথম হাদিসকে এড়িয়ে গিয়ে বারবার দ্বিতীয় হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়া হয় (এখানে শুধু প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্ধৃত করা হচ্ছে):

Volume 7, Book 71, Number 589 (Narrated Hazrat Anas Rwadiallahu Ta’la Anhu): Some people were sick and they said, “O Allah’s Rwasool Swallallahu Alaihi wa Sallam! Give us shelter and food. So when they became healthy they said, “The weather of Medina is not suitable for us.” So he sent them to Al-Harra with some she-camels of his and said, “Drink of their milk” But when they became healthy.

Volume 7, Book 71, Number 590 (Narrated Hazrat Anas Rwadiallahu Ta’la Anhu): The climate of Medina Shareef did not suit for some people, so the Allah’s Rwasool Swallallahu Alaihi wa Sallam! Ordered them to follow his shepherd, i.e. his camels, and drink their milk and urine (as a medicine). So they followed the shepherd that is the camels and drank their milk and urine till their bodies became healthy.

লক্ষণীয় যে দুটি হাদিসের বর্ণনাকারী একই ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রথম হাদিসে শুধু উটের দুধের কথা লিখা আছে, অথচ ঠিক তার পরের হাদিসেই আবার উটের দুধের সাথে মূত্র যোগ করা হয়েছে। আরো লক্ষণীয় যে দ্বিতীয় হাদিসের ব্র্যাকেটে অনুবাদের সময় “As a Medicine” যোগ করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, দুটি হাদিস অনুযায়ীই তারা সুস্থ হয়ে উঠেছিল। ফলে এই হাদিসের প্রথম অংশে বিশ্বাস করলে দ্বিতীয় অংশেও বিশ্বাস করতে হবে। উটের দুধ ও মূত্র পান করে কেউ যদি সুস্থ হয় তাহলে এটি নিয়ে হাসি-তামাসা করাটাই তো বোকামী! চতুর্থত, হাদিস দুটিতে বিশেষ একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেটি সেই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি সার্বজনীন কোন উপদেশ বাণী নয়। সম্মানিত আল কোরআনে যেমন মধুর ব্যাপারে সার্বজনীন একটি বাণী আছে, “In honey there is a healing,” হাদিসে “In camel’s urine there is a healing” বলে কোন বাণী নেই বা মুসলিমদেরকে উটের মূত্র পান করার জন্য এই ঘটনা ব্যতীত অন্য কোন সময়ে দেওয়া হয়েছে এরূপ উপদেশও এমন নজীর নাই। অতএব যারা গো-মূত্র পান করে মাতাল হয়ে উপহাস-বিদ্রুপ করছে তারা নিজেদেরকেই বোকা বানাচ্ছে!

বিদ্রঃ যে হাদিস শরীফ এর থেকে কেটেকুটে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা হয় সেই হাদিস শরীফখানা হলোঃ হযরত ক্বাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্নিত যে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদেরকে বলেছেন, “উকল এবং উরাইনাহ গোত্রের কতিপয় লোক (যারা মুসলিম ছিলোনা) মাদীনা শরীফে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ (এর নাটক) করল।

এর পর তারা রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, হে মহান আল্লাহ পাক-এর নবী! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা দুগ্ধ পান করে বেঁচে থাকি, আমরা কৃষক নই। তারা মাদিনা শরীফের আবহাওয়া নিজেদের জন্য অনুকূল বলে মনে করল না (কারণ তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো)। তাই রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে একজন রাখাল সহ কতগুলো উট নিয়ে মাদিনা শরীফের বাইরে চলে যেতে এবং (সুস্থতার জন্য) ওইগুলোর দুধ ও প্রস্রাব (একত্রে) পান করার নির্দেশ দিলেন।

তারা যাত্রা করে হাররা এর নিকট পৌঁছলে (সুস্থ হয়ে যাওয়ার ফলে) ইসলাম ত্যাগ করে আবার কাফির হয়ে গেল এবং রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিজের আয়ত্বে নিয়ে চলে গেলো।

রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি তাদের খোঁজে তাদের পিছে লোক পাঠালেন। তাদেরকে আনা হলে, তিনি তাদের প্রতি কঠিন দণ্ডাদেশ প্রদান করলেন।

সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ লৌহ শলাকা দিয়ে তাদের চোখ তুলে দিলেন এবং তাদের হাত কেটে দিলেন। এরপর হাররার এক প্রান্তে তাদেরকে ফেলে রাখা হল। শেষ পর্যন্ত তাদের এ অবস্থায়ই মৃত্যু হল।

ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমাদের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, এ ঘটনার পর নাবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই লোকজনকে সদাকাহ প্রদান করার জন্য উৎসাহ দিতেন এবং মুসলা থেকে বিরত রাখতেন।

মূল হাদিস, সহিহুল বুখারীঃ আধুনিক প্রকাশনী ৩৮৭২, ইসলামিক ফাঊন্ডেশন ৩৮৭৫, তাওহীদ পাবলিকেশন ৪১৯২।

মোরালঃ এই ঘটনা থেকে আমরা যা পেলাম তা হলো, উটের মূত্র পানের নির্দেশ রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের উপর নয়। এবং ওই সকল লোকের অসুস্থতার কারনে চিকিৎসা হিসেবে তাদের উপযোগী তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা হিসেবেই নির্দেশ দিয়েছেন যার আমল কোন সম্মানিত একজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনাদের হায়াতে জিন্দেগীতে আজিবন খুজলে পাওয়া যাবেনা। তবে নাস্তিক ও মুশরিকদের চটি বইগুলোতে থাকতে পারে কারণ সেগুলি বানোয়াট কাহিনীর জন্য অস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

লিখার সূত্রঃ ফেসবুকের একটি পোষ্টে এক ছুপা নাস্তিকদের সাথে কিছু মুসলমানের তর্ক হয় এই বিষয়ে।