একজন মুছলিমকে যে শাকির হতে হবে, এই বিষয় খোদ
অধিকাংশ য়া’লীম উলামাও জানেনা, এখন
যারা ঠিকাদার হয়ে বসে আছে তারা নিজে যদি না জানে, না মানে
তাহলে তাদের আণ্ডারে থাকা গোলামেরা কীভাবে জানবে? খুবই
আফসোসের বিষয়, আজকাল মানুষ নামাজী হচ্ছে, রোজাদার হচ্ছে, জাকাতি-হাজি হচ্ছে, কিন্তু শাকির হচ্ছেনা, অথচ তাকে যে শাকির হতে
হবে সেটা সে নিজেও জানেনা, জানার সুযোগ থাকলেও অনেকে
জাহিলিয়াতের কারনে মানতে চায়না। আল-ক্বুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ পড়েই ভাবে আমি কত
বার আলহামদুলিল্লাহ্ পড়ি, আমি তো অকৃতজ্ঞ বান্দা হতেই
পারিনা। এই হলো অবস্থা, মুল্লারা যেরূপ বুঝাইছে, আর নফছ যেরূপে নিজের সুবিধামতো বুঝেছে, এর
বাহীরে আর কোন বুঝ আছে, বা থাকতে পারে এটা তারা মানতেও
রাজি না।
তারা যেসকল ভাড়াটিয়া মুল্লাদের
অনুসরণ করে তাদের মতোই তারা কপিপেষ্ট, তাদের যখন বলা হয় যে একজন মুছলিম
হিসেবে যদি পূর্নতা লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাকে শাকির হতে
হবে, নাহলে যতই নামাজ রোজা করো না কেন কোন কাজে আসবেনা,
তারা তখন বলবে এটা আবার কি জিনিস আমরা তো কোন ওয়াজির মুখে এইসব
শুনলাম না, ভাবখানা এমন যে ওয়াজিদের বয়ানের বাহীরে দ্বীন
নাই, নাউজুবিল্লাহ। আসলে যাদের মূল উদ্দেশ্যে দুনিয়া
হাছিল, যারা নফছের পূজায় লিপ্ত, তারা
আল-ক্বুরআন শরীফের কথা শুনলেও বলবে এইসব তো আগে কখনো শুনলাম না, এটা হওয়ার গুরুত্ব কি পূর্বের ইমাম মুস্তাহিদগণ বুঝেন নাই? উনারা কি আল-ক্বুরআন শরীফ কম বুঝতেন?
আসলে তারা যদি আল-ক্বুরআন শরীফ
নিয়ে গবেষণা করতো, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ম্যাসেজ বুঝতো, বুঝার
চেষ্টা করতো তাহলে জীবনেও এরূপ বকবক করতোনা। এরূপ মন্তব্য যারা করে তারা
আজিমুশ্বান পবিত্র কিতাব আল ক্বুরআন শরীফকে অল্পকিছু মানুষের ঈলমের অন্তর্ভুক্ত
করে ফেলতে চায়, যা স্পষ্ট আল-ক্বুরআন শরীফের আয়াত বিরোধী
আক্বিদাহ। মহান আল্লাহ তায়ালা তো বলেই দিয়েছেনঃ (اَفَلَا
یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ اَمۡ عَلٰی قُلُوۡبٍ اَقۡفَالُهَا) তারা কি
(পবিত্র কিতাব) আল-ক্বুরআন শরীফ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-ফিকির করে না? নাকি তাদের
ক্বলবসমূহে তালা লাগানো আছে? (ছুরাহ আল-কিতাল ৪৭:২৪ ও ছুরাহ
আন-নিছা ৪:৮২) মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ (كِتٰبٌ
اَنۡزَلۡنٰهُ اِلَیۡكَ مُبٰرَكٌ لِّیَدَّبَّرُوۡۤا اٰیٰتِهٖ وَ لِیَتَذَكَّرَ
اُولُوا الۡاَلۡبَابِ) (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) এটি
একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর
আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং (কেবল) উলুল আলবাবেরাই (এর থেকে) নছীহত
গ্রহণ করে। (ছুরাহ আছ-ছ্বদ ৩৮:২৯ আল-মুওমিনুন ২৩:৬৮) পবিত্র ক্বুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্যই হলোঃ “আয়াতসমূহ নিয়ে
তাফাক্কুর-তাদাব্বুর করা, হিদায়াত গ্রহণ করা” কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা উনিই বলেছেনঃ (كَذٰلِكَ
یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُوۡنَ) এভাবেই মহান
আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য (উনার) আয়াতসমূহ খুলে খুলে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা
তাফাক্কুর করো। (ছুরাহ আল-বাক্বারাহ ২:২১৯)
এখন ঐসকল মানুষের নিকট যদি প্রশ্ন
করা হয়, মহান আল্লাহ তায়ালা সকল মানুষকে আল-ক্বুরআন শরীফের আয়াত শরীফ নিয়ে
চিন্তা-ফিকির, তাফাক্কুর-তাদ্বাব্বুরের হুকুম দিচ্ছেন,
এটাও বলতেছেন যে চিন্তা-ফিকির যে করোনা, ক্বলবে কি তালা মারা? তাহলে তারা কি এটা বলবে
এটা তো কেবল ইমাম মুস্তাহিদ উনাদের কাজ ছিলো, তারা যা করার
করে চিন্তা ফিকিরের চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দিয়েছেন। এরূপ বললে ইমান থাকবে?
যাইহোক, মহান আল্লাহ
তায়ালা আল ক্বুরআন শরীফের আয়াত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার বিষয়টার নিছবত রেখেছেন
জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকদের সাথে, তাই জাহিলদেরকে
আল-ক্বুরআন শরীফের তাফাক্কুরি-তাদ্বাব্বুরি রূপ দেখানো অসম্ভব।
এবার আসো আমরা একটু ডিপ-লেবেলে
গিয়ে দেখি পবিত্র আল ক্বুরআন শরীফ আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে কার কথা বলছেন, আর সেই শত্রুই
বা আমাদের কি কি ক্ষতি করবে তার কোন কিছু পাওয়া যায় কি না।
কালামুল্লাহ শরীফে মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের
নির্দেশ দিচ্ছেন এইভাবেঃ (یٰۤاَیُّهَا
الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا ادۡخُلُوۡا فِی السِّلۡمِ کَآفَّۃً ۪ وَ لَا تَتَّبِعُوۡا
خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ) হে মুমিনগণ, তোমরা (সম্মানিত দ্বীন) ইছলামে
পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের
(সবচেয়ে বড়) প্রকাশ্য শত্রু। (ছুরাহ আল-বাক্বারাহ ২:২০৮,
আল-আন’য়াম ৬:১৪২)
মহান আল্লাহ পাক আমাদের পরিচয়
করিয়ে দিলেন, শত্রু হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য শত্রু হলো আযাযিল, তথা ইবলিশ শয়তান, এখন আমরা দেখবো সেই ইবলিশ
আমাদের কি ক্ষতির কথা বলছে, মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (قَالَ
فَبِمَاۤ اَغۡوَیۡتَنِیۡ لَاَقۡعُدَنَّ لَهُمۡ صِرَاطَکَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ثُمَّ
لَاٰتِیَنَّهُمۡ مِّنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مِنۡ خَلۡفِهِمۡ وَ عَنۡ
اَیۡمَانِهِمۡ وَ عَنۡ شَمَآئِلِهِمۡ ؕ وَ لَا تَجِدُ اَکۡثَرَهُمۡ شٰکِرِیۡنَ) ইবলিশ (মহান
আল্লাহ তায়ালা উনাকে চ্যালেঞ্জ করে) বললো, যেহেতু আপনি এ (আদম য়া’লাইহিছ ছালাম উনার) জন্যেই, আমাকে গোমরাহীতে
নিমজ্জিত করলেন, (তাই) আমি এদের (সবাইকে গুমরাহ করার)
জন্যে অবশ্যই আপনার (প্রদর্শিত প্রত্যেক) সরল পথের (বাকে বাকে ওঁৎ পেতে) বসে থাকবো
অতঃপর (তাদের পথভ্রষ্ট করার জন্যে) অবশ্যই আমি তাদের কাছে আসবো, (আর আক্রমণ করবো) তাদের সম্মুখ দিক থেকে, তাদের
পেছনের দিক থেকে তাদের ডান দিক থেকে, তাদের বাম দিক থেকে
(এর ফলে) আপনি এদের অধিকাংশকেই শাকিরদের (অন্তর্ভুক্ত) পাবেন না। (ছুরাহ আল-আ’য়রফ ৭:১৬-১৭) অতএব এটা স্পষ্ট হয়ে গেলো যে,
ইবলিশ শয়তান সকল বনী আদমকে চতুর্মুখী আক্রমণ করবে ফলে মানুষ আর
শাকিরিনদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেনা।
উক্ত আয়াতে আমরা কি পেলাম? ইবলিশ মহান
আল্লাহ তায়ালা উনার সাথে চ্যালেঞ্জ করেছে আমাদের বিষয়েঃ
১) সে আমাদের গুমরাহ করবে।
২) এর জন্যে সে ছিরাতুল
মুস্তাক্বিমের প্রত্যেক বাঁকে বাঁকে ওঁত পেতে বসে থাকবে।
৩) চতুর্মুখি আক্রমণ করবে, সামনে-পিছে,
ডানে-বামে, যেনো ছিরাতুল মুস্তাক্বিমের
উপর চলতে না পারি।
৪) ফলে আমরা আর শাকির হতে পারবনা।
অর্থাৎ সে আমাদের ছিরাতুল
মুস্তাক্বিম থেকে পথভ্রষ্ট করার জন্যে চতুর্মুখি আক্রমণ করবে যাতে আমরা শাকির না
হই, আর প্রত্যেক দিন আমরা দৈনিক ৫ ওয়াক্ত ফরজ আর আনলিমিটেড নফলে কতবারই না
বলছিঃ (اِهۡدِ نَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ) (হে
পরওয়ারদিগার) অতএব আপনি আমাদেরকে ছিরাতুল মুছতাক্বীমের উপর ইস্তিকামত রাখুন। (صِرَاطَ
الَّذِیۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡهِمۡ) সেইসব লোকদের পথে, যাদেরকে আপনি (আপনার পক্ষ থেকে)
নিয়ামত আতা করেছেন। (ছুরাহ আল-ফাতিহা ১:৬-৭)
এখন নিয়ামত কি শাকির ব্যতীত কেউ
পাবে? নাকি শাকির বান্দা ব্যতীত কেউ নিয়ামত বুঝবে?
এখন প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যে “শাকিরীন কারা?”
- এর উত্তর একবাক্যে দেওয়া যাবেনা, বরং
ক্বুরআন শরীফ, হাদিছ শরীফ, এবং
তাছাউফের আলোকে গভীরভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, তাই নিচে ৩
স্তরে ব্যাখ্যা করছিঃ
আল-ক্বুরআন শরীফের দৃষ্টিকোণ থেকে
(شَاكِرِين) “শাকিরীন”
কারা?
☞ মূল শব্দ বিশ্লেষণঃ (شَاكِرِين) শব্দটি (شَاكِر) এর বহু-বচন।
☞ মূল ধাতুঃ (ش-ك-ر) শা-কা-রা।
☞ অর্থঃ কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীরা - কিন্তু কেবল মুখে নয়, বরং
সর্বাবস্থায় আচার-আচরণ, য়া’মল
ও নফছ এবং ক্বলব দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই ‘শুকর’।
আল-ক্বুরআন শরীফে ৩টি বিশেষ গুণ
তাদের মাঝে উল্লেখ আছেঃ
১) তারা জিকিরকারী।
দলিলঃ (فَاذۡكُرُوۡنِیۡۤ
اَذۡكُرۡكُمۡ وَ اشۡكُرُوۡا لِیۡ وَ لَا تَكۡفُرُوۡنِ) (ছুরাহ আল-বাক্বারাহ ২:১৫২)
ব্যাখ্যাঃ জিকির ও শুকর একসাথে এসেছে
- জিকিরহীন ব্যক্তি শাকির হতে পারে না।
২) তারা য়া'মল ও ইখলাছের
মাধ্যমে শুকর আদায় করে।
দলিলঃ (اِعۡمَلُوۡۤا
اٰلَ دَاوٗدَ شُكۡرًا) (ছুরাহ আছ-ছাবা ৩৪:১৩)
য়া'মল’ দিয়েই শুকর আদায় করতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র
আলহামদুলিল্লাহ বললেই শাকির হওয়া যায় না।
৩) তারা য়া’মলে গ্বফিল
হবেনা।
দলিলঃ (وَ
قَلِیۡلٌ مِّنۡ عِبَادِیَ الشَّكُوۡرُ) (ছুরাহ আছ-ছাবা ৩৪:১৩)
অধিকাংশ মানুষ গ্বফিল, কেননা মহান
আল্লাহ তায়ালা উনার বান্দাদের মধ্যে কেবল সামান্যই সত্যিকারের শাকির।
এছাড়াও মহান আল্লাহ তায়ালা শাকির
হতে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ
মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত মূছা
য়ালাইহিছ ছালাম উনাকে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ (وَ كُنۡ مِّنَ
الشّٰكِرِیۡنَ) (হে মূছা য়ালাইহিছ ছালাম) আর আপনি শাকিরিনদের অন্তর্ভুক্ত হোন। (ছুরাহ
আল-আ’য়রফ ৭:১৪৪)
মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহীম
য়ালাইহিছ ছালাম উনার ব্যাপারে সার্টিফিকেট দিচ্ছেনঃ (شَاكِرًا
لِّاَنۡعُمِهٖ) (ইব্রাহীম য়ালাইহিছ ছালাম) তিনি ছিলেন (মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার)
নিয়ামতের প্রতি শাকির (বান্দা)। (ছুরাহ আন-নাহ্ল ১৬:১২১)
মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের
নিয়ামত দিয়েছেন, দিয়ে প্রশ্ন করতেছেনঃ (فَهَلۡ
اَنۡتُمۡ شٰكِرُوۡنَ) তবে কি তোমরা শাকির হবে না? (ছুরাহ আল-আম্বিয়া ২১:৮০)
এর উত্তর ও মহান আল্লাহ তায়ালা
দিচ্ছেন যা আমাদের আদি পিতা-মাতা য়ালাইহিমাছ ছালাম উনারাই বলেছেনঃ (لَنَكُوۡنَنَّ
مِنَ الشّٰكِرِیۡنَ) (বাবা আদম য়ালাইহিছ ছালাম ও আম্মাজান হাওয়া য়ালাইহাছ ছালাম উনারা
মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন) আমরা অবশ্যই শাকিরদের অন্তর্ভুক্ত
হব। (ছুরাহ আল-আ’য়রাফ ৭:১৮৯)
অন্য আয়াতে এই বিষয়ে মহান আল্লাহ
তায়ালা কিছু মানুষের মিথ্যা ওয়াদাও তুলে ধরেছেন যারা বিপদে পড়লে শাকির হওয়ার ওয়াদা
করে, বিপদ কেটে গেলে নাফরমান হয়ে যায়, যেমনঃ (لَنَكُوۡنَنَّ
مِنَ الشّٰكِرِیۡنَ) আমরা অবশ্যই শাকিরদের অন্তর্ভুক্ত হব। (ছুরাহ আল-আন’য়াম ৬:৬৩,
ইউনুছ য়ালাইহিছ ছালাম ১০:২২)
শুধু কি তাই? অহংকারী বড়লোক,
নফছের পূজারীরা যখন গরীব শাকিরদের দেখে কটাক্ষ করবে তখন মহান
আল্লাহ তায়ালা বলবেনঃ (اَلَیۡسَ اللّٰهُ بِاَعۡلَمَ
بِالشّٰكِرِیۡنَ) মহান আল্লাহ তায়ালা কি উনার শাকির বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ণ অবগত
না? (ছুরাহ আল-আন’য়াম ৬:৫৩) অর্থাৎ তিনি কাফিরদের
জবাব দিচ্ছেন, উনার বান্দাদের মধ্যে শাকির কারা সেটা তিনি
ভালো করেই জানেন।
মহান আল্লাহ তায়ালা আরো কঠিন ভাষায় হুমকি দিচ্ছেনঃ (اِنَّا
هَدَیۡنٰهُ السَّبِیۡلَ اِمَّا شَاكِرًا وَّ اِمَّا كَفُوۡرًا) নিশ্চয়ই আমি
মানুষকে হিদায়েতের পথ প্রদর্শন করেছি, (এখন তার নিজ ইচ্ছায়) হয় সে
শাকির হবে, নয়তো কাফুর (নিয়ামত অস্বীকারকারী কাফের) হবে। (ছুরা আল-ইনছান/দাহর ৭৬:৩) এটা
সবচেয়ে ভালো বুঝেছিলান ছোলায়মান য়ালাইহিছ ছালাম, যা আল-ক্বুরআনে এইভাবে বর্নিত
হয়েছেঃ (فَلَمَّا رَاٰهُ مُسۡتَقِرًّا عِنۡدَهٗ قَالَ هٰذَا
مِنۡ فَضۡلِ رَبِّیۡ ۟ۖ لِیَبۡلُوَنِیۡۤ ءَاَشۡكُرُ اَمۡ اَكۡفُرُ ؕ وَ مَنۡ
شَكَرَ فَاِنَّمَا یَشۡكُرُ لِنَفۡسِهٖ ۚ وَ مَنۡ كَفَرَ فَاِنَّ رَبِّیۡ غَنِیٌّ
كَرِیۡمٌ) অতঃপর যখন তিনি (ছোলায়মান য়ালাইহিছ ছালাম)
সিংহাসনটিকে উনার সামনে স্থিররূপে স্থাপিত দেখলেন, তখন তিনি বললেন, ‘এটি আমার রব
তা'য়ালা উনার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি শাকির হই নাকি কাফুর
হই’। আর যে ব্যক্তি শাকির হয়, সে তো কেবল তার নিজের কল্যাণের জন্যেই শাকির হয়; আর
কেউ কাফুর হলে, (তাতে উনার কোনো ক্ষতি নেই)। নিশ্চয়ই আমার রব তা'য়ালা অভাবমুক্ত, পরম
অনুগ্রহশীল। (ছুরাহ আন-নামল ২৭:৪০)
আরো কঠিনভাবে মহান আল্লাহ তায়ালা
বলেনঃ (فَاذۡكُرُوۡنِیۡۤ اَذۡكُرۡكُمۡ وَ اشۡكُرُوۡا لِیۡ
وَ لَا تَكۡفُرُوۡنِ) অতএব (নিয়ামত লাভ করার ফলে) তোমরা আমার জিকির করো, আমিও তোমাদের
জিকির করবো, আমার শাকির বান্দা হও, আমার প্রতি কুফরি করো না। (ছুরাহ আল-বাক্বারাহ ২:১৫২)
এই যে হুমকিটা সেটা কি জন্যে
জানেন? সেই নিয়ামতটা কি? তা এর আগের আয়াতেই আছে, (كَمَاۤ
اَرۡسَلۡنَا فِیۡكُمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡكُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡكُمۡ اٰیٰتِنَا وَ
یُزَكِّیۡكُمۡ وَ یُعَلِّمُكُمُ الۡكِتٰبَ وَ الۡحِكۡمَۃَ وَ یُعَلِّمُكُمۡ مَّا
لَمۡ تَكُوۡنُوۡا تَعۡلَمُوۡنَ) (সঠিক পথের সন্ধান দেওয়ার জন্যে) যেভাবে আমি
তোমাদের মধ্যে থেকেই একজনকে রছূল বানিয়ে পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের উপর আমার আয়াত শরীফ
সমূহ তিলাওয়াত করবেন, আর তোমাদের নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করে দেবেন, এবং পবিত্র কিতাব
(আল ক্বুরআনের জাহেরি বাতেনি) ঈলম শিক্ষা দেবেন আর (বাতেনী য়ী’লম বোঝার) হিকমত বা প্রজ্ঞার
দীক্ষা সহ এমন বিষয়েরও দীক্ষা দিবেন, যা এর আগে তোমরা জানতেই না। (ছুরাহ আল-বাক্বারাহ
শরীফঃ ২:১৫১) একিই
বিষয়ের আলাপই করছেন, তবে এইখানে স্পষ্ট করেই বলেছেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম মুমিনদের জন্যে কি, যেমনঃ (لَقَدۡ مَنَّ
اللّٰهُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ بَعَثَ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡ اَنۡفُسِهِمۡ
یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیۡهِمۡ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَ
الۡحِكۡمَۃَ ۚ وَ اِنۡ كَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ)
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা মু’মিনদের উপর বড় অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদেরই
মধ্যে থেকে তাদেরই একজনকে রছূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের উপর মহান আল্লাহ
তা’য়ালা উনার আয়াত শরীফ সমূহ তিলাওয়াত করেন। আর তাদের
নফছ ও ক্বলবের তাজকিয়া করেন, এবং পবিত্র কিতাব (আল ক্বুরআনের জাহেরি বাতেনি) ঈলম
শিক্ষা দেন আর (সেই অনুসারে চলার কৌশল) হিকমতেরও দীক্ষা দেন। অথচ এ
লোকগুলোই (রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসার) আগ
(পর্যন্ত) সুস্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলো। (ছুরাহ
আলে ইমরান ৩:১৬৪) এই
আয়াত প্রমাণ করে, রছূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম হলেন
মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আর
নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া করা ক্বুরআন শরীফ-এরই নির্দেশ। এই
নির্দেশ কেবল হাক্বিকি ঈবাদতকারিই মানতে পারবে, লোক দেখানো আ’বিদ, নামাজী, মুল্লা,
ওয়াজি, মুফতির পক্ষে সম্ভব না, যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (وَاشْكُرُوا
لِلَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ) তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা
উনার শুকরিয়া আদায় করো, যদি তোমরা উনারই ঈবাদত করে থাকো। (ছুরাহ
আল-বাক্বারাহ শরীফঃ ২:১৭২)
এইখানে একটা গভীর তাফাক্কুরের
(চিন্তাভাবনার) বিষয় হলো যে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লাম উনাকে প্রেরণ, উনার আগমনকে আমাদের উপর বিশাল অনুগ্রহ করা হয়েছে মর্মে বলা
হচ্ছে, এখন এই যে আমরা নিয়ামত লাভ করলাম, আমরা তো আজকাল উনার আগমনের দিবসকে পালন
করে শাকির না হয়ে উল্টো বিদআত বলে ফতওয়া মেরে কাফুর হয়ে যাচ্ছি এর কোন খবর ও নাই,
এটা ভালো করে বুঝতে হলে এই আয়াত শরীফটা বুঝতে হবেঃ (وَ
لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اَنۡ اَخۡرِجۡ قَوۡمَكَ مِنَ الظُّلُمٰتِ
اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ وَ ذَكِّرۡهُمۡ بِاَیّٰىمِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ
لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوۡرٍ) অবশ্যই আমি হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম উনাকে
আমার নিদর্শনসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছিলাম, (উনাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম), আপনি আপনার জাতিকে
(জাহেলিয়াতের) অন্ধকার থেকে (হেদায়েতের) নূরের দিকে নিয়ে আসুন এবং আপনি তাদেরকে
মহান আল্লাহ তা'য়ালা উনার বিশেষ-বিশেষ দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিন; (কেননা, যারা)
একান্ত ধৈর্যশীল ও বাস্তবেই শাকির, নিঃসন্দেহে তাদের জন্য এর মধ্যে অনেক নিদর্শন
রয়েছে। (ছুরাহ ইব্রাহিম য়ালাইহিছ ছালাম ১৪:৫)
একেবারে পানির মত স্পষ্ট বিষয়, যেকোন নবীর জন্মদিন, তাদের অফাত দিবস, তাদের বড় বড়
কারনামা, পাবলিকেলি নবী হওয়ার এনাউন্সমেন্ট, উনাদের থেকে প্রকাশিত কোন বিশাল
মুজেজা, আসমানি আযাব-গজব, রহমত নাযিলের দিন, রাত সব এর অন্তর্ভুক্ত, এগুলো কেবল
যারা বাস্তবেই শাকির তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব, যারা বুঝবেনা তারা জাহিলের মতো,
অজ্ঞতা প্রকাশ করবে বিদয়াত এর ফতওয়া মেরে, আর শাকিরেরা, রগ্বায়ীব শরীফ, ঈদে
মিলাদুন্নবী, মিরাজ শরীফ, বরাত শরীফ, ক্বদর শরীফ, বদ্বর শরীফ, উহুদ শরীফ, ফতেহ মক্কা শরীফ, হুদাইবিয়াহ শরীফ, ক্রুসেড,
সহ সকল দিবস পালন করবে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার স্বরনে জিকির, নবীদের স্বরনে মিলাদ,
ক্বুরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ নছীহত করে। আর যারা ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে দৃঢ়পদ থেকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার
দ্বীনের উপর কায়ীম থাকবে, তাদের ব্যাপারে এও বলছেনঃ (وَ
سَیَجۡزِی اللّٰهُ الشّٰكِرِیۡنَ) আর মহান আল্লাহ তায়ালা শীঘ্রই শাকির বান্দাদের প্রতিদান দেবেন।
(ছুরাহ আলে ইমরান য়ালাইহিছ ছালাম ৩:১৪৪-১৪৫) এমনকি মহান আল্লাহ তা’য়ালা নিজেই নিজেকে শাকির বলেছেনঃ (مَا
یَفۡعَلُ اللّٰهُ بِعَذَابِكُمۡ اِنۡ شَكَرۡتُمۡ وَ اٰمَنۡتُمۡ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ
شَاكِرًا عَلِیۡمًا) যদি তোমরা শাকির হও এবং ঈমান আনো তাহলে তোমাদেরকে আযাব দিয়ে মহান
আল্লাহ তায়ালা কী করবেন?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা তো নিজেই শাকির,
সর্বজ্ঞ। (ছুরাহ আন-নিছা ৪:১৪৭)
তাছাড়া মহান আল্লাহ তায়ালা
শাকিরদের সব সময় কাফেরদের বিপরীতে নিয়ে এসেছেন, কেননা নিয়ামতের দাতার ইঙ্কার কুফর,
যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (وَ اِذۡ
تَاَذَّنَ رَبُّكُمۡ لَئِنۡ شَكَرۡتُمۡ لَاَزِیۡدَنَّكُمۡ وَ لَئِنۡ كَفَرۡتُمۡ
اِنَّ عَذَابِیۡ لَشَدِیۡدٌ) (স্মরণ করো,) যখন তোমাদের রব তায়ালা ঘোষণা দিলেন,
যদি তোমরা শাকির হও তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য (আমার নিয়ামত) আরো বাড়িয়ে দেবো,
আর যদি তোমরা কাফের হও (তাহলে জেনে রেখো), আমার আযাব বড়ই কঠিন!। (ছুরাহ ইব্রাহিম
য়ালাইহিছ ছালাম, ১৪:৭) অর্থাৎ নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়কারী হিসেবে নিজেকে পাক্কা
শাকির বানালে নিয়ামত আরও বাড়ীয়ে দেওয়া হবে, আর যদি উল্টা পথে হাটো, ইনকার করে
মুনকির হও তাহলে সেটা কুফর হবে, আর যারা নিয়ামতের বিপরীতে শাকির না হয়ে ইনকার করে
কাফের হয় তাদের জন্যে তাদের রব তা’য়ালা উনার আযাব বড় ভয়ানক। মহান আল্লাহ তা’য়ালা তো খোদ রছুলে পাক
ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার দিকে মুখাতিব হয়ে বলেনঃ (بَلِ
اللّٰهَ فَاعۡبُدۡ وَ كُنۡ مِّنَ الشّٰكِرِیۡنَ) কাজেই মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার ঈবাদাত করুন এবং শাকির
বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হোন। (ছুরাহ আজ-জুমার ৩৯:৬৬) আর আগের আয়াত শরীফগুলিতে তিনি শিরক থেকে
বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়ে উক্ত কথাটাই বলেন।
উক্ত আয়াত শরিফ-এর তাফছির হিসেবে হাদিছ শরীফে
যা পাওয়া যায় তা হলোঃ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম এত বেশি
ক্বিয়ামুল লাইল আদায় করতেন যে উনার পা মুবারক ফুলে যেতো লম্বা সময় দাঁড়ানোর
ফলে, একদিন আম্মাজান আঈশা য়ালাইহাছ ছালাম জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার তো সামনে-পিছে কোন গুনাহ নাই! তাও কেন এমন করেন?” তিনি বললেনঃ (يَا عَائِشَةُ
أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا) হে আঈশা,
“আমি কি আমার রব তায়ালা উনার নিকট নিজেকে শাকির বান্দা হিসেবে
প্রমাণ করবনা? (বুখারি শরীফ ৪৮৩৭, মুছলিম শরীফ ২৮১৯-২৮২০, তিরমিজি শরীফ ৪১২,
ইবনে মাজাহ শরীফ ১৪২০, মিশকাতুল মাছাবিহ
শরীফ ১২২০)
রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি
ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম মিম্বরে বসে ইরশাদ করেনঃ (مَنْ لَمْ
يَشْكُرِ الْقَلِيلَ لَمْ يَشْكُرِ الْكَثِيرَ، وَمَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ
لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَ، وَالتَّحَدُّثُ بِنِعْمَةِ اللَّهِ شُكْرٌ وَتَرْكُهَا
كُفْرٌ، وَالْجَمَاعَةُ رَحْمَةٌ وَالْفُرْقَةُ عَذَابٌ) যে ব্যক্তি ছোটো জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞ নয়, সে বড়
জিনিসের জন্যও কৃতজ্ঞ হবে না। যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয় সে মহান আল্লাহ
তা’আলা উনার প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়। আর মহান আল্লাহ তা’আলা উনার নিয়ামতের জিকির করা হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং
সেগুলিকে উপেক্ষা করা হলো অকৃতজ্ঞতা। আর জামা‘আতবদ্ধভাবে বসবাস রহমত স্বরূপ এবং বিচ্ছিন্নভাবে
বসবাস করা আযাব স্বরূপ। (মুছনাদে আহমদ শরীফ ১৭৯৮২)
ব্যাখ্যাঃ যিনি সর্বাধিক কৃতজ্ঞ, তিনিই
সর্বোচ্চ জিকিরকারী। কৃতজ্ঞতা মানে শুধু শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ
বলা নয়, বরং নফছ, রূহ, ক্বলব, য়া’মল,
সময়, মাল, জ্ঞান
সবকিছু দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ঈবাদতে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া।
তাসাউফ ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ
থেকে শাকিরীন কারা?
☞ মাক্বামে নফছেঃ যে নিজের নফছের তাঁবেদারি পরিত্যাগ করে
মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দেয়া অল্পতেও সন্তুষ্ট, সে নফছের মাক্বামে শাকির।
☞ মাক্বামে ক্বলবেঃ যার ক্বলব মহান আল্লাহ তায়ালা উনার জিকিরে জীবন্ত, এবং প্রত্যেক
নিয়ামতের মধ্যে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার এ
ইহছান দেখে – সে ক্বলবের
মাক্বামে শাকির।
☞ মাক্বামে রূহেঃ যে নূরের মাধ্যমে নিয়ামতকে চিনে নেয় এবং
কেবল মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকেই নিয়ামতের উৎস হিসেবে স্বীকার করে, সে-ই শাকিরে য়া’লা হয়।
শুকর অর্থ এই নয় যে তুমি শুধু
মুখে মুখে আলহামদুলিল্লাহ বললে তা যথেষ্ট, বরং শুকর মানে তোমার প্রত্যেক
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহ পাক উনার হুকুমের আনুগত্যে নিযুক্ত থাকবে।
সারাংশঃ শাকিরীন কারা?
শাকিরীন সেইসব বান্দাঃ
√ যারা জিকিরে
প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ জাকির।
√ যাদের আচরণ ও য়া’মলে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ পায়।
√ যাদের নফছ কন্ট্রোলে, ক্বলব জীবিত,
এবং রূহ নূরে পরিপূর্ণ।
√ যারা প্রতিটি নিয়ামতের
মাঝে নিয়ামতদাতাকেই দেখে।
√ এবং যাদের সমস্ত প্রশংসা, ঈবাদাত, ছেযদাহ - সবই কেবল মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার
জন্য।