4.14.2019

৫০০ ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের উপস্থিতিতে শবে বরাত!!!

৫০০ ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের উপস্থিতিতে শবে বরাত!!!


গুগল আর বাংলা বই পড়ে হওয়া কথিত মুফতেরা কি ৫০০ ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের উপস্থিতিতে শবে বরাতের বর্ননার ব্যপারে অবগত???

হিজরি ২য় শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবিদ ইমাম ওয়াকেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৩০-২০৭ হিজরী) মুসলমানদের বিজয় গাথা ইতিহাস নিয়ে ফুতুহুশ শাম নামের ঐতিহাসিক অদ্বিতীয় একখানা কিতাব লিখেন যা বাংলায় মরনজয়ী ছাহাবা নামে ২ খণ্ডে বের করা হয়েছে।

ইমাম ওয়াকেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বইয়ের সকল তথ্য যারা জিহাদ করেছেন, যারা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের সন্তান ছিলেন, যাদের পিতা জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যারা দেখেছেন তাদের সকলের কাছে গিয়ে এমনকি সরাসরি জিহাদ যে স্থানে হয়েছিল সে ময়দানে গিয়ে স্বচক্ষে দেখে এই পুস্তক রচনা করেছেন।

এই বই মুসলিম মিল্লাতের জন্য অসীম গুরত্বপূর্ণ একটি কিতাব। সারা বিশ্বে এই মহামূল্যবান কিতাবখানা একনামে সমাদৃত। আজ ১২০০-১৩০০ বছর পরেও এই কিতাবের প্রয়োজনীয়তা এতটুকুও কমেনি। ইতিহাসবিদদের নিকট এই বই এক অমূল্য রত্নভান্ডার।

এই কিতাবের বাংলায় অনুবাদকৃত কিতাবের ২৫৪ পৃষ্টায় ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন শবে বরাতের ফযিলত বর্ননা করেছেন বলে পাওয়া যায়ঃ

হুযুরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়া থেকে পর্দা করার ৩ বছরের মাথায় ৬৩৬ খৃষ্টানদের রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ইয়ারমুকের জিহাদ পরিচালিত হয়। এই জিহাদের প্রাক্কালে খৃষ্টানদের আবুল কুদস আশ্রম বিজয় করতে সিপাহসালার হযরত আবু উবাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার (যিনি ছিলেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাতো ভাই হযরত জাফর বিন আবু তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর ছেলে) নেতৃত্বে ৫০০ শত জনের একটি দল প্রেরণ করেন যাতে বদরী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনও ছিলেন। ঐ বীর ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগনদের মধ্যে কয়েকজন বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম হচ্ছেন হযরত আবু জর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন আবু আওফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, আমের বিন রবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন উনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন ছালাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উকবা বিন আবদুল্লাহ আল সুলামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, ওয়ায়িলা বিন আল আসকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, সাহল বিন সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আবদুল্লাহ বিন বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, শৈব বিন ইয়াজিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ।

হযরত আবদুল্লাহ বিন জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যেদিন উনার বীর সাথীবর্গকে নিয়ে আবুল কুদস আশ্রম বিজয় করতে বের হন, সেদিন ছিল ১৫ই শাবান এর রাত। আকাশে তখন পুর্নিমার চাঁদ।

হযরত অয়ায়িলা বিল আল আসকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন আমাকে আবদুল্লাহ বিন জাফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেনকি চমৎকার এ রাতের চাঁদ! আমি তখন বললাম ওহে মহান আল্লাহর রাসুল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই এর ছেলে। এটা শাবানের ১৫তম দিবসের রাত। এটা একটা বড় বরকতময় রাত। এ রাতে মানুষের জীবিকা ও মৃত্যুর ফায়সালা হয় এবং গুনাহ ক্ষমা করা হয়। তাই আমি এ রাত মহান আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে চাই(মরনজয়ী ছাহাবা, পৃ ২৫৩-২৫৪, মীর পাবলিকেশন্স, বায়তুল মোকাররম, প্রথম প্রকাশ ২০০৪)।

১৪০০ বছর পুর্বে যে শবে বরাতের কথা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন বর্ননা করেছেন এবং পালন করেছেন আজ সেই শবে বরাতের বিরুদ্ধে কতিপয় জাহেল বিদয়াত এর ফতোয়া দেয়! নাউযুবিল্লাহ। এরাই আবার জমিনে ইসলামী শাসন পেতে চায়। যেমন ইসলামী হুকুমাত ভ্রান্ত আক্বিদা পোষণকারিদের জন্য আল্লাহ পাক মজুত রেখেছেন।

কত বড় নিকৃষ্ট মুনাফিক হলে শবে বরাতকে বিদয়াত বলে তা মুসলমানদের ফিকির করা উচিত। মুসলমানকে ভাবতে হবে যে, সে কি কতিপয় মুনাফিক, জাহেল, বকলম, দাজ্জালে কাযাব তাদের কথা শুনবে নাকি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনাদের অনুসরণ করে শবে বরাত পালন করবে?
পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিস শরীফগুলোর তাহকিক এবং গুমরাহদের গুমরাহি পরিত্যাগের আহ্বান!!!

পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিস শরীফগুলোর তাহকিক এবং গুমরাহদের গুমরাহি পরিত্যাগের আহ্বান!!!


পবিত্র শবে বরাত প্রসঙ্গে অসংখ্য সহীহ হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে। এত ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনার ফলে লামাযহাবীদের গুরুরাও হাদীস শরীফ গুলোকে সহীহ বলতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও কিছু কুয়োর ব্যাঙ সালাফী, হাদীস শরীফ সর্ম্পকে অজ্ঞ হওয়ার করনে সহিহ হাদিস সমূহের বিরোধিতা করে। আসুন তাদের একটা বিরোধিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া যাক। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছেঃ [عن حضرت ابى موسى الاشعرى رضى الله تعالى عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله تعالى ليطلع فى ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه الا لمشرك او مشاحن رواه ابن ماجه ورواه احمد. عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله تعالى عنه وفى رواية الا اثنين مشاحن وقاتل نفس]
অর্থঃ হযরত আবু মুসা আশয়ারি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, অর্ধ শাবানের রাত্রি তথা শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নাযিল হোন (অর্থাৎ উনার রহমতে খাস কে নাযিল করেন) এবং উনার সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন তবে মুশরিক এবং বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করেন না। কিঞ্চিৎ ভিন্ন বর্ণনাও আছে হযরত ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে, তিনি এটাকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। আর উনার অপর এক রেওওয়ায়েত রয়েছে, দুব্যক্তি ব্যতীত। যথা- বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তি এবং মানুষ হত্যাকারী ব্যতীত সকলকেই ক্ষমা করা হয়।

দলিলঃ (ইবনে মাজাহ শরীফ পৃষ্ঠা ১০১: হাদীস শরীফ ১৩৯০, বায়হাক্বি শুয়াইবুল ঈমান ৩/৩৮২: হাদিস শরীফ ৩৮৩৫, মিসবাহুল জুজাহ ১/৪৪২: হাদি-স ৪৮৭, মিশকাতুল মাছাবিহ ১১৫ পৃষ্ঠা: হাদিস ১৩০৬, আত তাগরিব ওয়াত তারহিব ৪/২৪০, কানযুল উম্মাল ১২/৩১৫: হাদিস ৩৫১৮২, মাযমাউয যাওয়াইদ ৮/৬৫: হাদিস ১২৯৬০, জামেউস সগিরঃ হাদিস ২৭০০, ফাযায়েলে ওয়াক্ত লি বায়হাক্বি ১/১৩২: হাদিস ২৯, জামিউল মাসানিদ ওয়াল সুনান লি ইবনে কাছির : হাদীস ১৩০৭৬)

উক্ত হাদিস শরীফের সনদ নিম্নরূপঃ

১) হযরত আবু মুসা আশয়ারি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু- তিনি ছিলেন বিখ্যাত ফক্বিহ সাহাবি।
২) হযরত দ্বাহাক বিন আব্দুর রহমান ইবনে আয়যব রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইবনে হাজার আসকালানি রহমতুল্লাহি বলেন, তিনি ছিলেন তৃতীয় তবকার ছেকাহ রাবি। এছাড়া তিনি একজন তাবেঈ ও ছিলেন। (তাহযিবুত তাহযিব ৪/৩৯২, মিযানুল ইতিদাল ২/৩২৪)
৩) হযরত দ্বাহাক বিন আয়মন রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ- ইবনে হাজার আসকালানি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি অপরিচিত। (তাহযিবুত তাহযিব ৪/৪৮৯)
৪) হযরত ওলিদ বিন মসলিম আল কুরাইশি রহমতুল্লাহি আলাইহি- হযরত ইবনে সাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সর্ম্পেকে বলেন, তিনি হচ্ছেন নির্ভরযোগ্য এবং অধিক হাদিস শরিফ বর্ণনাকারী। (তাহযিবুত তাহযিব ১১/১৩৪)
৫) হযরত রাশেদ ইবনু সায়িদ রহমতুল্লাহি আলাইহি- উনার সর্ম্পেকে ইবনে হাজার আসকালানি রহমতুল্লাহি বলেন, তিনি ছিলেন দশম তবকার ছিকাহ রাবি।” (তাহযিবুত তাহযিব ৩/১৯৬)

সালাফিরা উক্ত সনদের তৃতীয় বর্ণনাকারী হযরত দ্বাহাক বিন আয়মান রহমতুল্লাহি আলইহি উনার কারনে এই হাদিস শরিফকে অস্বীকার করতে চায়। এখানে ফিকিরের বিষয় হচ্ছে উক্ত রাবি ইবনে হাজার আসকালানি রহমতুল্লাহি উনার কাছে অপরিচিত হলে কি তিনি আদতেই অপরিচিত? এটা কি হাস্যকর নয়?

অথচ সিয়া সিত্তার ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে তিনি অপরিচিত ছিলেন না। ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলাদত ২০৯ হিজরিতে আর রাবি ইবনে হাজার আসকালানি রহমতুল্লাহি উনার বিলাদত শরীফ ৮৫২ হিজরিতে। সূতরাং (৮৫২-২০৯)= ৬৪৩ বছর আগের ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে উক্ত রাবির খবর ইবনে হাজার আসকালানি রহমতুল্লাহি থেকে ভালো জানার কথা। সূতরাং উক্ত রাবিকে ঢালাও ভাবে মাজহুল বা অপরিচিত বলা যে সহিহ শুদ্ধ মত না এইটা পাগলেও বুঝবে বিদ্বেষী ছাড়া।

উক্ত হাদীস শরীফ সর্ম্পেকে লামাযহাবীদের ইমাম মোবারকপুরি উল্লেখ করেছে, “ইমাম মুনযির রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উক্ত হাদিস শরিফ খানা ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবু মুসা আশয়ারি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন। উক্ত হাদিস শরিফের সনদটির মধ্যে কোন অসুবিধা নেই।” (তুহফাতুল আহওয়াজি ৩/৪৪১)

তাছাড়া উক্ত হাদিস শরিফ কমপক্ষে ১০ টা সনদে বর্ণিত হয়েছে। যা হাদিস শরিফকে শাহেদ হাদিস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আহলে হাদিস লামাযহাবিদের অন্যতম পুঁজনীয় গুরু, নাসির উদ্দীন আলবানি উক্ত হাদিস শরিফ সর্ম্পেকে বলেছে, হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক বর্ণিত হযরত আবু মুসা আশয়ারি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে বর্ণিত হাদিস শরিফ খানা সহিহ লি গাইরিহি। (দলীলঃ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩ খন্ডঃ হাদীস শরীফ নং ২৭৬৮)

এবার আসুন সহিহ লিগাইরিহি কাকে বলে জেনে নিইঃ-

ছহিহ লিগাইরিহিঃ এটা হাসান লিযাতিহি হাদিছ শরিফরে অনুরূপ। যখন কোন ছহিহ হাদিছ শরিফ-এর রাবির মধ্যে স্বরণ শক্তি কিছুটা কম থাকে, তখন সেই অভাব বা ত্রুটিটুকু অন্যান্য উপায়ে এবং অধিক রিওয়ায়েত দ্বারা পুরণ হয়ে যায়। মোট কথা, উহার সমর্থনে বহু রিওয়ায়েত বর্ণিত থাকায় তাহার ত্রুটি ক্ষতিপুরন হয়ে যায়। এরূপ হাদিছ শরিফকে ছহিহ লিগাইরিহি। (তাদরিবুর রাবি, মিজানুল আখবার)

লামাযহাবিদের গুরুরাই উক্ত হাদিস শরিফকে সহিহ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে সনদে কোন অসুবিধা নেই তাহলে এখন কুয়ার ব্যং লামাযহাবিরা কোন সাহসে এই হাদিস শরিফের বিরোধিতা করে ?

শবে বরাত অস্বীকারকারী লামাযহাবিদের জন্য অরেকটা চমকঃ

সালাফিদের গুরু নাছিরউদ্দীন আলবানি তার একটা কিতাব সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীবকিতাবের ৩য় খন্ড ৫৩ ও ৫৪ পৃষ্ঠায় শবে বরাত শরীফ সর্ম্পকে ৫ টা হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছে। উক্ত কিতাবের ২৭৬৭ নম্বর হাদীস শরীফে হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীস শরীফকে হাসান সহীহবলেছে।

২৭৬৮ নম্বর হাদীস শরীফ হযরত আবু আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফকে সহীহ লি গাইরিহীবলেছে। ২৭৬৯ নম্বর হাদীস শরীফ হযরত আবু বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু অ।নহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফকে সহীহ লি গাইরিহীবলেছে। এবং মন্তব্য হিসাবে বলেছে এই সনদে কোন সমস্য নেই। এরপর ২৭৭০ নম্বর হাদীস শরীফে হযরত কাছীর ইবনে মুররা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস শরীফকে সহীহ লি গাইরিহীবলেছে। হযরত মাকহুল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত ২৭৭১ নম্বর হাদীস শরীফকে সহীহ লি গাইরিহীবলেছে।

এবার জনতার আদালতে প্রশ্ন, সালাফী গুরু আলবানী যেখানে শবে বরাতের হাদীস শরীফকে সহীহ হিসাবে আখ্যায়িত করেছে সেখানে তার তথাকথিত অনুসারী কুয়ার ব্যাং সালাফীরা কেন আজ শবে বরাতের বিরোধীতায় মশগুল?

(রিয়াদ থেকে প্রকাশিত আলবানীর কিতাবের স্ক্যান কপি দেয়া হলো। হাদীস নম্বর এবং তার মন্তব্য লাল বক্স দ্বারা চিহ্নত করা হলো)
এখন কথা হচ্ছে সালাফীরা যদি শবে বরাতের বিরোধীতা করে তবে সবার আগে আলবানীর বিরোধীতা করে আসতে হবে। কিন্তু তা কি তারা করতে পারবে ???

মিশকাত শরীফ”-এর ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছেঃ [عن حضرت على رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا فيقول الا من مستغفر فاغفرله الا من مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا الا كذا حتى يطلع الفجر. رواه ابن ماجه]
অর্থঃ হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন অর্ধ শাবান তথা শবে বরাতের আগমন ঘটে তখন ওই রাতে তোমরা ইবাদত-বন্দেগী করে জাগ্রত থাকবে এবং দিবাভাগে রোযা রাখবে। কেননা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ওই শবে বরাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথেই নিকটবর্তী আকাশে নাযিল হন (অর্থাৎ উনার রহমতে খাস কে নাযিল করেন) এবং বলতে থাকেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি অপরিমিত রিযিক দিয়ে দিব এবং কোন বিপদে বিপন্ন ব্যক্তি আছ কি? যাকে আমি বিপদ থেকে মুক্ত করে দিব। সাবধান! সাবধান! এভাবেই মহান আল্লাহ পাক ফজর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।” (দলীলঃ ইবনে মাজাহ ১/১৪৪: হাদীস ১৩৮৮, ইবনে হিব্বান: হাদীস ১৩৮৮, বায়হাকী শুয়াবুল ঈমনি ৫/৪৫৪: হাদীস ৩৮২২, মিশকাতুল মাসাবীহ ২/২৪৫ : হাদীস ১২৩৩, দায়লামী শরীফ ১/২৫৯: হাদীস ১০০৭, তারগীভ ওয়াত তারহীব ২/৭৫: হাদীস ১৫৫, বায়হাক্বী ফযায়েলে ওয়াক্ত ১/১২২ : হাদীস ২৪, জামেউস সগীল লি সুয়ুতী : হাদীষ ১৬৬৫, মিসবাহুল জুজাহ : হাদীস ৪৯১, কানযুল উম্মাল ১২/৩১৪ : ৩৫১৭৭, উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ১১/৮২, মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়াহ ৩/৩০০, মিরকাত ৩য় খ-, ১৯৫-১৯৬, মিরয়াতুল মানাজিহ ৩য় খ- ২৯৩-২৯৪-২৯৫, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত ৪/২১২)

উক্ত হাদীস শরীফের রাবীগন হচ্ছেনঃ
১) খলীফাতুল মুসলিমিন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু। জলীলুল ক্বদর সাহাবী এবং আহলে বাইতের মূল। ইলমের শহরের দরজা।
২) হযরত মুয়াবিয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি বিশ্বস্ত রাবীদের অর্ন্তভুক্ত ছিলেন, এবং নির্ভরযোগ্য ছিলেন। (তাহযীবুত তাহযীব ২/১৯৬)
৩) হযরত ইব্রাহিম বিন মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। (মিযানুল এতেদাল)
৪) ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বড় ফক্বীহ ও ইরাকের কাজী বলে উল্লেখ করেছেন। (মিযানুল এতেদাল ৪/৫০৩) সিয়া সিত্তার অন্যতম ইমাম হযরত আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি মদীনা শরীফের মুফতী ছিলেন। (তাহযীবুত যাহযীব ১২/২৭, মিযানুল এতেদাল ৪/৪৬১)
৫) আব্দুর রাজ্জাক ইবনু হাম্মাম ইবনে নাফে রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে হাদীস শরীফের বড় নির্ভরযোগ্য রাবী বলেছেন। (তাজকিরাতুল হুফফাজ ১/৩৬৪)
৬) হযরত হাসান বিল আলী আল খালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি- হযরত খতীব বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং হাফিজে হাদীস ছিলেন। (তারীখে বাগদাদ ৭/৪২৫) হযরত ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং হাফিজে হাদীস ছিলেন। (তাহজীবুত তাহজীব ২/৩০২)

উক্ত হাদীস শরীফে সালাফীদের আপত্তি হচ্ছে চতুর্থ রাবী হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নিয়ে। হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কিন্তু য্যথাক্রমে কাজী, ফক্বীহ এবং মুফতী ছিলেন। সালাফীদের আপত্তির প্রেক্ষিতে বিষয়গুলো পর্যালোচনা না করলেই নয়। মুসলমান শাষন আমলে একজন ক্বাজী হওয়ার যোগ্যতা সে বিষয়ে না বললেই না। একজন ক্বাজীর প্রধান বৈশিষ্ঠই হচ্ছে সর্বোচ্চ তাক্বওয়া। সেই সাথে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা কিয়াস সর্ম্পকে অগাধ জ্ঞান। যিনি কাজী তিনি অবশ্যই আদীল বা চরম ন্যায়পরায়ন হবেন। শুধু তাই না একজন কাজীর কুরআন শরীফের ৬৬৬৬ টি আয়াত শরীফের আদেশ সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, নিষেধ সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, ওয়াদা সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, ভীতি সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, ঘটনা সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, উপদেশ মূলক ১০০০ আয়াত শরীফ, হালাল সূচক ২৫০ টা আয়াত শরীফ, হারাম বিষয়ে ২৫০ টা আয়াত শরীফ, তাজবীহ সংক্রান্ত ১০০ টি আয়াত শরীফ, বিবিধ বিষয়ে ৬৬ টি আয়াত শরীফ এর প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা হুকুম সর্ম্পকে পূর্ণরূপে অবহিত থাকতে হবে। এবং কয়েক হাজার হাদীস শরীফের হাফিজ হবেন। এবং প্রতিটা বিষয়ে অত্যান্ত সত্যবাদী হবেন। যেহেতু তিনি বিচারক সেহেতু উনার যোগ্যতার মাপকাঠি সহজেই অনুমেয়। (দলীলঃ সমূহ ফিক্বহের কিতাব) সহজেই বোঝা যাচ্ছে একজন কাজী মাতরূক বা পরিত্যজ্য ব্যাক্তি হতে পারেন না। তাহলে ৭০ হাজার হাদীসের হাফিজ ( মিযানুল এতেদাল ৪/৪৬১) এবং একজন ক্বাজী হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি যে রাবী হিসাবে সিকাহ সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রইলো না।

হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শুধু ক্বাজীই ছিলেন না তিনি ছিলেন ফক্বীহ। (মিযানুল এতেদাল ৪/৫০৩) একজন ফক্বীহর যোগ্যতা সর্ম্পকে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বক্তব্যটাই যথেষ্ঠঃ [انما الفقيه الزاهد فى الد نيا الراغب فى الا خرة البصير بذنبه المدائم على عبادة ربه الورع الكف عن اعراض المسلمين العفيف عن اموالهم النا صح لجماعتهم]
অর্থঃ নিশ্চয়ই ফক্বীহ (হাক্বীক্বী আলিম) ঐ ব্যক্তি যিনি দুনিয়া থেকে বিরাগ, আখিরাতের দিকে ঝুকে রয়েছেন, গুণাহ থেকে সতর্ক, সর্বদা ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল, পরহিযগার, মুসলমানদের মান-সম্ভ্রম নষ্ট করেন না, তাদের সম্পদের প্রতি লোভ করেন না এবং অধীনস্থ লোকদেরকে নছীহত করেন। (তাফসীরে কবীর)

সূতরাং ফক্বীহ হিসাবে হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি কেমন ব্যাক্তিত্ব ছিলেন নতুন করে বলার অবকাশই রাখে না।

এছাড়ও হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সর্ম্পকে বিখ্যাত ইমাম হযরত আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি মদীনা শরীফের মুফতী ছিলেন। (তাহযীবুত যাহযীব ১২/২৭, মিযানুল এতেদাল ৪/৪৬১)

আর একজন মুফতী বা ফতোয়া দানকারীর বৈশিষ্ঠ সর্ম্পকে হাফিজে হাদীস হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ফতোয়াদানকারী বা মুফতীকে অবশ্যই ইলমে লাদুন্নী বা খোদায়ী প্রদত্ত জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। (আল ইতকান ফি উলুমিল কুরআন)

সূতরাং সহজেই বলা যায় হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বিশেষ গুনাবলীর অধিকারী ছিলেন। আর মদীনা শরীফের একজন মুফতীর কি পরিমান যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন সেটা আক্বল সম্পন্ন ব্যাক্তি মাত্রই বুঝতে পারার কথা।

তাই রাবী হিসাবে উনাকে মাতরূক বলার আগে অবশ্যই হুশিয়ার হতে হবে। হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মোটেও মাতরূক ছিলেন না। তিনি একজন যোগ্য হাদীস বিশারদ ও সেইসাথে ক্বাজী, ফক্বীহ ও মুফতী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!!!

এছাড়াও ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিতাবে একটা হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছেন। হাদীস শরীফখানা হলোঃ [عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ينزل ربنا تبارك وتعالى في كل ليلة إلى سماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر فيقول من يدعوني فأستجيب له ومن يسألني فأعطيه ومن يستغفرني فأغفرله. (أخرجه البخاري ومسلم)]
অর্থঃ আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের রব তাআলা প্রতি রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন (অর্থাৎ উনার খাস রহমত সেখান আসেন) ও বলতে থাকেন, কে আছ আমার কাছে দুআ করবে আমি কবুল করব। কে আছ আমার কাছে চাইবে আমি দান করব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারী শরীফঃ হাদীস ১০৯৪, মুসলিম শরীফঃ হাদীস ১৮০৮)

সূতরাং বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের হাদীস শরীফ দ্বারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত শবে বরাতের হাদীস শরীফখানাও সমর্থন পেলো। অতএব বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের হাদীস শরীফ দ্বারা শবে বরাতের হাদীস শরীফ শক্তিশালী হলো।

এ ছাড়া মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ৭/৪১২ এ উল্লেখ আছে, “এ হাদীস শরীফের সমর্থনে শাহেদ হাদীস বিদ্যমান। ফলে হাদীস শরীফটির মৌলিকত্ব স্বীকৃত।

ইবনে মাজাহ শরীফ বিশ্লেষনে অনেক ইমাম অনেক মতামত ও চুচেরা বিশ্লেষন করেছেন। কিন্তু কেউই উক্ত হাদীস শরীফ এর ব্যাপারে জাল বা মওজু বলার মতো ধৃষ্টতা দেখান নাই। সূতারাং অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমান হলো শবে বরাত সম্পর্কে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফ খানা সহীহ। এবার যে কয়টা কুয়ার ব্যাং সালাফী আছে বিরোধী তাদের সকল আপত্তির উপশম হবে আশাকরি।

4.13.2019

 নিজের খুনের হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বানানোর গুড় রহস্য কি?

নিজের খুনের হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বানানোর গুড় রহস্য কি?


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (বর্তমান ধর্মপ্রতিমন্ত্রী) জড়িত ছিলো।

১৩-০৫-২০১০ এ প্রথম আলো নিউজ প্রকাশ করেঃ শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা, আওয়ামীলীগের নেতারা এর সঙ্গে জড়িতঃ মুফতি হান্নান।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানও জড়িত ছিলেনআদালতের বারান্দায় সাংবাদিকদের দেখে মুফতি হান্নান এসব বক্তব্য দেন

আজ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারাধীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসংক্রান্ত রাষ্ট্রদ্রোহসহ তিনটি মামলায় হাজির করতে নিয়ে আসে পুলিশ ও র্যাব

মুফতি হান্নান বলেন, ‘বোমা পুঁতে রাখার সঙ্গে আমার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল নাবোমা পোঁতার বিষয়ে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মাহাবুব আলী খান সবই জানেএর সঙ্গে কোটালীপাড়ার আরও অনেক নেতা জড়িত ছিল বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানানএই দুই নেতাকে তাঁর মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদেরও দাবি জানান মুফতি হান্নান

মুফতি হান্নানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারা গোপালগঞ্জে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা পুঁতে হত্যা প্রচেষ্টা মামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের তিনটি মামলায় হাজিরা দিতে তাঁকে আজ আদালতে আনা হয়

গোপালগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গোলাম মোর্শেদের আদালতে বর্তমানে এ তিনটি মামলা বিচারাধীনমামলার কার্যক্রম ২০০১ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ নয় বছর পর আজই প্রথম এই মামলাগুলোতে মুফতি হান্নানকে গোপালগঞ্জ আদালতে আনা হয়এত দিন তাঁকে আদালতে হাজির না করায় মামলার কার্যক্রম শুধু তারিখ ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল

পিপি আবদুল হালিম বলেন, প্রধান আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছেএখন মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগোবে বলে মনে হয়আর তাহলে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো এ বছরই শেষ হবে বলে মনে হয়

অন্যদিকে, আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন

শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে এবং মামলায় কিছু সুবিধা পেতে সে এ ধরনের অভিযোগ এনেছেএ ছাড়া এ সংক্রান্ত একটি অস্ত্র মামলায় মুফতি হান্নানের যাবজ্জীবন কারদণ্ড হয়েছেওই মামলায় আমি সরকারি কৌঁসুলির সহকারী ছিলাম

মাহবুব আলী খান বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ভারতে একটি ফুলবল টিম নিয়ে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলাম

২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটালীপাড়ার জনসভাস্থলে ৭৬ কেজি ওজনের শক্তিশালী দুটি দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা পুঁতে রাখে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও অনুসারীরা২০ জুলাই ও ২৩ জুলাই সেই বোমা দুটি উদ্ধার হয়এ ছাড়া গোপালগঞ্জ শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে আবিষ্কার হয় মুফতি হান্নানের সাবান ফ্যাক্টরির আড়ালে বোমা তৈরির কারখানাবিশালাকৃতির বোমাগুলো এখানেই তৈরি করা হয়

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১৩-০৫-২০১০
আর্কাইভঃ http://archive.is/73vt6