Rajib Khaja is
an International Muslim Journalist, researcher, and spiritual guide associated
with the Sunni Islamic tradition. He was born into a Muslim family in
He is known for
his writings on Islamic creed (ʿaqīdah), spirituality (taṣawwuf), Qur’anic
understanding, and socio-religious issues affecting contemporary Muslim
communities. His approach emphasizes intellectual clarity, ethical
responsibility, and strict adherence to the foundational sources of Islam - the
Qur’an and the Sunnah - within the framework of Ahl al-Sunnah wa al-Jama‘ah.
Rajib Khaja is
the founder Imam & Murshid of Tariqah al-Raj, a
modern spiritual path that does not claim a classical Sufi silsilah but
presents itself as a Shari‘ah-compliant methodology for spiritual development.
Tariqah al-Raj emphasizes inner purification, disciplined remembrance (dhikr),
moral self-correction, and conscious submission to Allah Ta‘ala, without
contradicting established Islamic principles.
His writings
often address misunderstandings surrounding Islamic spirituality, sectarian
polemics, and the misuse of religious concepts. He advocates for reasoned
dialogue, textual integrity, and methodological fairness in theological
discussions, while rejecting extremism, distortion of creed, and unfounded
innovations.
The mission of
Rajib Khaja’s work is to contribute to the moral and spiritual revival of
Muslim individuals and communities through knowledge, ethical awareness, and
disciplined spiritual practice. He seeks to present Islam as a complete way of
life grounded in revelation, reason, and responsibility.
His vision
includes promoting authentic Sunni Islamic understanding, countering
misinformation about Islam and spirituality, and encouraging Muslims to engage
with faith through knowledge rather than blind imitation or emotional
extremism. He also supports the idea of community development based on Islamic
ethics, education, and social responsibility.
Rajib Khaja’s
work is intentionally positioned outside political movements and sectarian
conflicts. His focus remains on education, spiritual refinement, and intellectual
clarity, with the aim of guiding individuals toward a balanced and principled
Islamic life.
আমার সম্পর্কে বলার মতো তেমন কিছুই নাই। গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুছলিম পরিবারের সন্তান। তুরস্কে আছি ২০১৮ সাল থেকে। একজন ক্বুরআন শরীফ ছুন্নাহ শরীফের অনুসারী ছুন্নী মুছলিম। আক্বিদায় আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামায়া'হ। ফিক্বহি বিষয়ে হানাফি মাজহাবের অনুসারী ঈবাদতের ক্ষেত্রে, তবে ভিন্ন কিছু ইখতেলাফি বিষয়ে হাম্বলি মাজহাবের অনুসরণ করি।
একজন ছুন্নী মুছলিম হিসেবে প্রত্যেক মানুষ হুব্বে ইলাহী ও হুব্বে রছুল (ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) ওয়ালা পিউর মুছলিম হবে এটাই থাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা। পৃথিবীর সমস্ত মুছলিমদের জন্যে প্রাণ কাঁদে সব সময়। নির্যাতিত মুছলিমদের জন্যে কলম, জবান, তাওফিক অনুসারে আর্থিক খেদমতে নিয়োজিত থাকি সব সময়। জমিনে ইছলামিক খিলাফত কায়েম হবে এটাই সর্বোচ্চ চাওয়া। চাই, সমাজ হবে রছুলে য়া'রাবি ছাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরছালিন, নূরে মুজাছছাম হাবিবুল্লাহ হুজুরপাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার নিজ হাত মুবারকে গড়া মুবারক শহর মদিনা শরীফের মতো।
মিশন ও ভিশন!!!
একটি ইছলামিক গ্রাম (ক্বারিয়াতুল ইছলামিয়াহ) বানানোর স্বপ্ন, এবং অন্যতম নেক ইচ্ছা বুকে লালন করছি দ্বীন ইছলাম বুঝার পর থেকেই। এমন একটি গ্রাম, যেখানে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ শিশু সবাই নিশ্চিন্তে দ্বীন ইছলাম পালন করতে পারে। যেখানে সম্পূর্ণ ক্বুরআন শরীফ ও ছুন্নাহ শরীফের আদলে জীবনযাপন করবে মানুষ। হোক তা ১০/২০/৫০/১০০ পরিবারের একটি ছোট্ট গ্রাম।
যেখানে বোনেরা পর্দা করতে কখনো বাঁধার সম্মুখীন
হবেনা, হবে পর্দানশীল। যেখানের পুরুষেরা কখনো
নন মাহরামের দিকে তাকাবেনা ইচ্ছেকৃতভাবে, যদিও কেউ বোরকা
না পড়ে কখনো ঘরের বাহিরে কাজে থাকে।
প্রত্যেকের জন্যে থাকবে ফ্রি একটি বাড়ি, নির্দিষ্ট কিছু দ্বীনি শর্তে চিরস্থায়ী মালিকানা দিয়ে দেওয়া হবে। যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে রোদ বৃষ্টি ঝড়ে
নিশ্চিন্তে ঈবাদতময় ইছলামিক জীবনযাপন করতে পারবে। যেহেতু অধিক সন্তান জন্ম দেওয়া ছুন্নাহ ও
হুজুরপাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার অন্যতম চাওয়া, তাই যদি কারো একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে তার জন্য সেই অনুসারে বড় ঘরের ব্যবস্থা
থাকবে।
প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য থাকবে হালাল রুজির ব্যবস্থা, যে রুজির জন্য আজকে মানুষ মহান আল্লাহ তা’য়ালা হতে উদাসীন গ্বাফিল থাকে। যে রুজির জন্যে মানুষ আখিরাত ধ্বংস করে, সেই রুজি থেকে পেরেশানি মুক্ত একটি গ্রাম সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা লালন করি।
থাকবে দ্বীনি শিক্ষার বিশাল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ
ফ্রিতে। সৃষ্টি করা হবে পূর্বের ছ্বলাফদের মতো খানকাহ ভিত্তির ঈলম শিক্ষার পরিবেশ। প্রত্যেক নারী পুরুষের জন্য নুন্যতম বিশুদ্ধ
করে তাজউইদের সাথে ক্বুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার মতো জ্ঞান অর্জন করা থাকবে বাধ্যতামূলক। বয়স্কদের জন্য শিখতে হবে নুন্যতম ১০ টা ছুরাহ অর্থ সহ,
যা সাধারণত নামাজের মধ্যে তিলাওয়াত করা হয়। শিখতে হবে ৫ ওয়াক্ত নামাজের ছুন্নাহ মুবারক অনুসারে দু'য়া দুরুদ শরীফ, তাছবীহ তাহলিল। এর সাথে সবাইকে শিখানো হবে সকল নামাজের ছুন্নাহ মুবারক অনুসারে আদায়ের ত্বরীক্বাহ।
আর লোভ লালসাহীন, নিবেদিতপ্রাণ দুনিয়া বিমুখ নারীদের জন্যে নারী, পুরুষদের জন্যে পুরুষ য়া’লীম/য়া'লীমা দ্বারা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। আর প্রত্যেক বাচ্চা(ছেলে/মেয়ে)র জন্য বাধ্যতামূলক ক্বুরআন শরীফের হাফেজ হওয়া। বড় হয়ে সে যাই হোক, শুরুটা তার আল ক্বুরআনের হাফেজি দিয়ে হবে। তারপর সে ক্বারী হবে। যারা চায় মুফাছছির হবে, মুহাদ্দিছ হবে। যারা চায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, য়া’লীম, ব্যবসায়ী, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি... সেই অনুসারে তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে, তবে তা ক্বুরআন শরীফ ও ইছলামিক শিক্ষা অর্জনের পরে, যে পরিমাণ ইছলামিক জ্ঞান অর্জন ফরজ ততটুকু নারী পুরুষ সবার জন্যে থাকবে বাধ্যতামূলক।
সেখানে প্রত্যেকের জন্য ইছলামিক পোশাক পরিধান হবে বাধ্যতামূলক। নগ্নতা, উগ্রতা সেখানে এমনভাবে বিলীন করে দেওয়া হবে যেমন বিলীন হয়ে গেছে জমিন থেকে ডাইনোসর। ছুন্নাহ মুবারক উনার অনুসরণে থাকবে ইছলামিক পোশাক। নারীদের পর্দা করতে যে পোশাক সহজ হবে সেই পোশাকই সে পড়বে, পর্দা করা ফরজে বিশ্বাসী আমি বোরকা পড়া ফরজে নয়, তবে বোরকা পড়াই যুগের অনুসারে উত্তম বলে মনে করি। নারীরা এমন পোশাক পড়বেন, যে পোশাক পড়া দেখলে উম্মাহাতুল মুও’মিনীন য়ালাইহিন্নাছ ছালাম ও মহিলা ছ্বহাবী রদ্বীয়াল্লাহু য়া'নহুমা উনাদের কথা মনে হবে। পুরুষরা এমন পোশাক পড়বেন যে পোশাকে দেখার সাথে মানুষের রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার কথা স্বরন হবে। দূর থেকে আসতে দেখলে মানুষ যেনো এটাই ফিল করে গোলামে রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আসতেছেন।
চিকিৎসা থাকবে ধনী গরীব নির্বিশেষে। একটি হাসপাতাল থাকবে, যেখানেঃ চোখ, নাক, কান, গলা,
হাড়, ব্রেইন, নারী ও শিশু
বিষয়ে একজন করে বিজ্ঞ হাকিম থাকবেন যিনি টাকা নয় ঈবাদত মনে করেই চিকিৎসার কাজ
করবেন। যেখানে থাকবে মহিলাদের
১০০% পর্দার ব্যবস্থা। নারীদের জন্যে নারী, পুরুষদের জন্যে পুরুষ ডাক্তার। গ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে গরীবদের জন্য থাকবে
ফ্রি চিকিৎসা, আর ধনীদের জন্যেও থাকবে মূল দামে ঔষধ এর বিশেষ
সুবিধা।
যেসব বিষয়কে ঘৃণা করি।
প্রথমতো জিনাকে খুবই ঘৃণা করি, ইছলাম আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছেন। কারণ জিনার শাস্তির ব্যাপারে আল্লাহ পাক এতোই
কাঠিন্যতা প্রকাশ করেছেন যা শিরকে লিপ্ত কারো ব্যাপারেও আমি দেখিনাই। এছাড়াও ঘৃণা করি শিরক, বিদ’য়াত (মনগড়া ফতোয়া ছাড়া), কুফর, তাগুত,
আর সমাজে অশ্লীলতার ধারক বাহকদের।
ধর্মীয় বিভিন্ন দলের ব্যাপারে যেরূপ আক্বিদাহ
রাখি?
ঘৃণা করি ধর্ম ব্যবসায়ী পীরদের, যারা ছুন্নাতি লেবাছ লাগিয়ে দ্বীন ইছলামকে পারসোনাল প্রোপার্টি বানিয়ে ফেলেছে, উদাহরণস্বরূপ রাজারবাগের পির দিল্লুর রহমান। বাংলাদেশের কোন পীরই দ্বীন ইছলাম কায়েমের পথে
নাই, তারা দ্বীনকে দরবার আর হাদিয়ায় সীমাবদ্ধ করে রেখেছে বলে তাদের পছন্দও করিনা। আর অসংখ্য কুফুরি আক্বিদাহ রাখা দেওবন্দি কওমি
বর্তমান ও পূর্ববর্তী অনেক কথিত উ'লামাদের ও ঘৃণা করি। তবে এদের চেয়েও বেশি ঘৃণার পাত্র ছালাফি লা
মাজহাবি দাবীদার আহলে হাদিছদের। ইহুদীদের দ্বারা পরিচালিত এই গোত্র ইছলামের ক্যান্সার, এটা বুঝতে হলে যেভাবে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে দ্বীন ইছলামকে,
যার ধ্বংস্তুপে আজ আমরা আছি
দাঁড়িয়ে!!! লিখাটা পড়তে হবে।
তাছাড়া বেশুমার ঘৃণা আছে ধর্মব্যবসায়ী ওয়াজিদের
প্রতি যারা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে, ঘন্টার চুক্তিতে
ওয়াজ করে বেড়ায়, আর ভাবে সে ইছলামের দাওয়াতি কাজ করছে। এছাড়াও ঘৃণা বেশুমার জিহাদ বিমুখ পীর ও তাছ্বাউফ বিমুখ শাইখ নামক জাহিলদের প্রতি। এরা উভয়েই মূলত ইহুদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, বুঝতে চাইলে এই লিখাটা পড়ুনঃ (মুছলিমদের মূল যে দুটি জিনিস আজ ইহুদি
নাছারা ও মুশরিকদের দখলে)।
তবে, আহলে ক্বুরআন, কাদিয়ানি, শিয়া (যারা কেবল কুফুরি আক্বিদাহ রাখে, ক্বুরআন শরীফ, ছুন্নাহ মুবারক ও খোলাফায়ে রাশেদিনের ব্যাপারে), নাছ্বেবি, খারেজী, মুতাজিলা, ইয়াজিদি, হেযবুত তাওহীদ নামক দলগুলিকে কাফের বলেই মনে করি।
যে বিষয়গুলি নিয়ে মুছলিম সমাজ আজ টুকরো টুকরো
সেইসব বিষয়ে কেমন আক্বিদাহ রাখি?
ঈদে মিলাদুন্নবী (ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম)ঃ কারো জন্মদিন পালন করা আমার নিকট মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার ছুন্নাত মুবারক ও ছুন্নাতে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম। যেরূপ আল্লাহ পাক করেছেন (জন্মদিনে উনারই এক নবী য়ালাইহিছ ছালাম উনার উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত করে), যেরূপ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম করেছেন (সোমবার শরীফে রোজা রেখে), সেরূপে আমিও করে থাকি, কিন্তু কোন বিজাতীয় বিদয়া'তি ত্বরীক্বায় করিনা, তবে করা বাধ্যতামূলক মনে করিনা, কেউ না করলে সে মুছলিম থাকবেনা এরূপ আক্বিদাও রাখিনা। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশাআল্লাহ)
রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া
ছাল্লাম উনাকে কি মানুষ মনে করিঃ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম মানুষ ছিলেন না, এধরণের আক্বিদাহ
রাখা কুফুর। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু
য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম অবশ্যই বাশার বা মানুষ। তবে তিনি সাধারণ মানুষ নন। সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। সৃষ্টিতে তিনি একক অদ্বিতীয় মানুষ, যার কোন মিছাল নাই বলেই আক্বিদাহ রাখি, যারা মানুষ মনে
করেনা তারা আমার নিকট পথভ্রষ্ট গুমরাহ, কারণ আল্লাহ তা’য়ালার সৃষ্ট মাখলুকে মানুষই সর্বশ্রেষ্ট, অতএব মানুষ ব্যতীত অন্য কিছু মনে করার প্রশ্নই আসেনা। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশাআল্লাহ)
রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে মাটি না নূর মনে করিঃ শুধু রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকেই না, বরং কোন মানুষই মাটির নন আদম য়ালাইহিছ ছালাম ব্যতীত, যারা তা মনে করে তা্রা মূলত ক্বুরআন শরীফ বিরোধী জাহিল। আদম য়ালাইহিছ ছালাম মাটি থেকে সরাসরি, আম্মাজান হাওয়া য়ালাইহাছ ছালাম আদম য়ালাইহিছ ছালাম উনার বাম পাঁজরের হাড় থেকে, আর সমস্ত মানুষ শুক্র থেকে ইছা য়ালাইহিছ ছালাম ছাড়া। আর মহান আল্লাহ তায়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার রূহ, অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও পুরো দেহ-মুবারককে মানুষ হওয়ার পরও বিশেষ নূর দ্বারা নূরান্বিত করেছেন। এমনকি উনার আশ-পাশকেও আল্লাহ তায়ালা বিশেষ নূর দ্বারা নূরান্বিত করেছেন। এই নূরের হাক্বীক্বত আল্লাহ তায়ালা উনিই ভালো জানেন। হাদীছ শরীফে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে অস্থি-মজ্জা থেকে শুরু করে সব কিছুকে নূরান্বিত করার দু'য়া করেছেন। এই নূরের হাক্বীক্বত বা বাস্তবতা আল্লাহ তায়ালা উনিই ভালো জানেন। একটি মশহুর লক্বব হচ্ছে জিন্নুরাঈন যা ছাইয়্যিদূনা হযরত উছমান ইবনে আফফান জিন্নুরাঈন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়া য়ালাইহিছ ছালাম উনার নামের সাথে চলে আসছে। মূর্খরা কি জানে এর মানে কি? তাদের অনেকেই তো তা তাদের বই পুস্তকে লিখে থাকে। এর মানে হলো তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার দুই নূরের টুকরাকে শাদি করেছিলেন।
এছাড়াও মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার সত্ত্বাকে নূর বিশ্বাস করাও একটি বাতিল আক্বিদাহ, কিছু ভন্ড ছুন্নী আছে আমাদের দেশে যারা এরূপ আক্বিদাহ রাখে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার সত্ত্বার হাক্বীক্বত বা বাস্তবতা আমরা কেউ জানি না, তাই মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে নূর বিশ্বাস করা যাবে না। আবার মহান আল্লাহ তা’য়ালাকে নূর বিশ্বাস করা এবং রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে স্বয়ং মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নূরের অংশ বিশ্বাস করা বাতিল ও কুফুরী আক্বিদাহ যা এদেশের কতিপয় গুমরাহ ছুন্নী রাখে। প্রথমতঃ মহান আল্লাহ তা’য়ালার সত্ত্বাকে নূর বিশ্বাস করা বাতিল আবার সেই সত্ত্বার অংশ আছে বিশ্বাস করা শিরক। তবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পক্ষ থেকে সৃষ্ট নূর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মধ্যে বিদ্যমান ছিল তাই উনাকে নূরে মুজাছছাম বলা হয় এরূপ বিশ্বাস করা কুফুর বা শিরক নয় বলেই মনে করি। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশাআল্লাহ)
ঈলমে গ্বইবঃ আমি আমার জ্ঞান অনুসারে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে য়া’লীমুল গ্বইব (যিনি সকল বিষয়ে অবগত)। আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে ঈলমে গ্বইব (যা আল্লাহ প্রদত্ব নিদৃষ্ট) এর অধিকারী বলেই মানি। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ বা সত্ত্বাগত গ্বইবের ঈলম ছিলো, এধরণের আক্বিদাহ রাখা শিরক বলেই মনে করি। স্বয়ংসম্পূর্ণ বা সত্ত্বাগত গ্বইবের ঈলম একমাত্র মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার জন্যই নির্ধারিত। কোন মাখলুকের এই গুন থাকা অসম্ভব। কারণ এটা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনারই জন্যে খাছ। মাখলুকের পক্ষে লাইভ সব বিষয়ে জেনে দুনিয়ায় জীবনযাপন করা কস্মিনকালে সম্ভব না। আর নবী রছুল য়ালাইহিমুছ ছালাম উনাদের পক্ষে তো অসম্ভবই, কারণ এতে নবুওয়্যাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রতি মুহূর্তে বাঁধা হতো, কারা ঈমান আনবে কারা ঈমান আনবেনা এটা জানার পরেও তাদের নিকট দাওয়াত দেওয়ার কোন মানেই থাকতনা। তাছাড়া অসংখ্য প্রমান মওজুদ যে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম অনেক বিষয়ে নিজেই প্রমান দিয়েছেন। যেমন ইহুদী মহিলার বিষাক্ত খাবার, গুইসাপ সাদৃশ দব খাওয়ার প্রস্তাব, ইনশাআল্লাহ সম্পর্কে নাযিল হওয়া আয়াত শরীফের ঘটনা। তাছাড়া রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার অসীম গ্বইবের ঈলম ছিলো অথবা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ঈলমে গ্বইবের অপরিবর্তনীয়, এর কোন লয়-ক্ষয় নেই, এধরণের আক্বিদাহ রাখাও শিরক। কোন সৃষ্টির ঈলমে গ্বইবের বা লয়-ক্ষয় থেকে মুক্ত হতে পারে না। এধরণের ঈলমে গ্বইব একমাত্র মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার জন্যই সুনির্দিষ্ট।
তবে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ঈলমে গ্বইব সম্পূর্ণটাই মহান আল্লাহ প্রদত্ত বলে মনে করি। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার এই ঈলমে গ্বইব অসীম নয় সসীম। এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বাধীন ও নয়। এটি লয়-ক্ষয় থেকে মুক্তও নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার ঈলম এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কোন মাখলুকের ঈলম এমন হতে পারে না, তবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে যে গ্বইবের ঈলম দিয়েছেন, সেটা কিরূপ, আর কি পরিমাণ দিয়েছেন, তা মহান আল্লাহ তায়ালা উনিই ভালো জানেন। তবে অন্যান্য নবী রছুল য়ালাইহিমুছ ছালামগণ উনাদের চেয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে সবার চেয়ে বেশি ঈলমে গ্বইব দান করা হয়েছে বলেই আক্বিদাহ রাখি।
শিরক হওয়া বা না হওয়া কতটুকু ঈলমে গ্বইব দেয়া হয়েছে এর উপর নির্ভর করে না। যতক্ষণ না একে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার ঈলমের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। কারও ঈলমকে যদি মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার সাথে তুলনা করা হয় তাহলে তা অবশ্যই শিরক বলে গন্য হবে বলে মনে করি। যদি ধরে নেয়াও হয়, ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সেই পরিমাণ ঈলম মহান আল্লাহ তায়ালা কাউকে দিয়েছেন, তাহলে এই কথাতেও কোন শিরক হবেনা বলেই মনে করি। কারণ, সৃষ্টির শুরু থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত মাত্র ৭ দিবস। আর দুনিয়া থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা হবে এটার ঈলম ক্বিয়ামত পরের জীবনের ঈলমের সম্মুখে সাহারার বিশাল বালুরাশির মধ্যে থাকা একটি ধূলিকণার অনুরূপ। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ঈলমে গ্বইবের বিশালতা লাওহ ও কলম থেকেও বিশাল এধরণের কথার মধ্যেও শিরকী কিছু নেই বলেই মনে করি। কারণ, এখানে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পক্ষ থেকে দেয়া ঈলম স্বীকার করা হয়েছে। এবং এই ঈলম স্বয়ংসম্পূর্ণ বা নিজস্ব নয়। মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত বিশেষ নিয়ামত। এতে শিরকের কিছু নেই বলে মনে করি।
হাজির ও নাজ্বির আম্বিয়ায়ে কিরাম য়ালাইহিমুছ ছালামগণ, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুছলমানদের রূহ ইন্তেকালের পর পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে, এধরণের আক্বিদাহ রাখা কুফুর। আর আম্বিয়ায়ে কিরাম য়ালাইহিমুছ ছালামগণ, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুছলমানদের রূহ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বাধীনতায় যে কোন জায়গায় চলাফেরা করতে পারে, এধরণের আক্বিদাহ রাখাও শিরক বলে মনে করি।
তবে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার দেয়া অনুমতি, মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার দেয়া ক্ষমতায় ও মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার দেয়া স্বাধীনতায় আম্বিয়ায়ে কিরাম য়ালাইহিমুছ ছালামগণ,, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুছলমানদের রূহ তাদের কবরসহ যে কোন জায়গায় হাজির হতে পারেন। এই ধরণের আক্বিদাহ রাখা শিরক নয় বলেই মনে করি। কারণ হাদীছ শরীফ থেকে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়দের য়া'মল তাদের সামনে পেশ করা হয়ে থাকে। বিশেষভাবে হায়াতুন্নবী রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার কাছে উম্মতের য়া'মলসমূহ পেশ করা হয়। বারজাখের য়া'মল পেশ হওয়ার এই আক্বিদাহ সঠিক ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। এধরণের বিশ্বাস রাখা শিরক নয় বলেই মুুও'মিন মাত্রই মনে করবে।
উম্মতের কোন প্রয়োজনে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার কোথাও হাজীর হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। যে নবী ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম দুনিয়া থেকে স্বশরীরে ছিদরাত আল মুন্তাহা যেতে পারেন, যেখানে হযরত জিব্রাইল য়ালাইহিছ ছালাম উনার মতো ফেরেশতায়ে য়া'যমও গেলে পুড়ে যাবেন। যে নবী ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম দুনিয়া থেকে হাত বাড়িয়ে জান্নাতের আঙ্গুর গাছের ঝুটা চোখ দিয়ে দেখার, হাত দিয়ে ধরার ক্ষমতা রাখেন উনার জন্য রওজা শরীফ থেকে কাউকে কিছু দিতে হলে আসতে হবে বলে আমি মনে করিনা। উনি চাইলেই যার কোলে ইচ্ছা যেকোন কিছু দিয়ে দিতে পারেন, দুনিয়ায় থাকতেই এই ইখতিয়ার মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে দিয়ে দিয়েছেন। আর হাদিছ শরীফে বলাই আছে আপনার দুনিয়ার জীবন থেকে আখেরাতের জীবন উত্তম, সম্মানের, মর্যাদার।
অন্যদিকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ব্যাপারে, তিনি সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সত্ত্বাগতভাবে হাজ্বির বা উপস্থিত আছেন মনে করা জঘন্য
কুফুরী আক্বিদাহ। মহান রব্বুল য়া'লামীন
সৃষ্টিজগতের মাঝে সত্ত্বাগতভাবে হুলুল বা অনুপ্রবেশ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। সমস্ত সৃষ্টি মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নিয়ন্ত্রণ ক্বুদরতের অধীন, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা সত্ত্বাগতভাবে সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান নন। মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে সমস্ত সৃষ্টির মাঝে
সত্ত্বাগতভাবে বিদ্যমান মনে করা কুফুরী। তাছাড়া উনি যেরূপ লাইভ সবকিছু দেখেন সেরূপ দেখা কোন অবস্থায় যায়েজ নয় অন্য কোন
জিন ইনছানের জন্য। যেমন একজন পুরুষ তার
স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত এটা মহান আল্লাহ পাকের দৃষ্টির বাহিরে নয়, কিন্তু এটা খোদ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার জন্যেও হারাম। (দলিল সম্মত লিখার
লিঙ্ক এড করে দেব ইনশাআল্লাহ)
মাজার ও আউলিয়াঃ যে সমস্ত আউলিয়ায়ে কিরাম
দুনিয়ার জমিন থেকে ওফাৎ লাভের পরে মুছলিম মিল্লাতের নিকট আউলিয়া হিসেবে স্বীকৃত
হয়েছেন,
উনাদের মাজার শরীফ জিয়ারত করে ফায়েজ লাভ করা, উনাদের উছিলায় মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নিকট দু'য়া করা, দু'য়ার আর্জি রাখা যায়েজ বলেই মনে করি। তবে আউলিয়াদের মাজারে ছেযদাহ দেওয়া, মাজার শরীফে নারী পুরুষ মিলে আধ্যাত্মিক গান বাজনা, মাজারে বসে সিদ্ধ পুরুষ হতে গাঁজা খাওয়া, মাজারে নিয়ত করে
মোম বাতি জালানো সহ সকল বাতিল কাজকে হারাম বলেই মনে করি।
এছাড়াও আরো অনেক আক্বিদাহ বিদ্যমান যা এইখানে লিখার দরকার আছে বলে মনে করিনা, যারা বুঝার তারা বুঝেই ফেলবেন উপরোক্ত আক্বিদাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখলে।