Who is Rajib Khaja ? – About Me

Rajib Khaja is an International Muslim Journalist, researcher, and spiritual guide associated with the Sunni Islamic tradition. He was born into a Muslim family in SylhetBangladesh and has been residing in Türkiye since 2018. His work spans journalism, religious writing, and spiritual instruction, with a focus on preserving authentic Islamic beliefs and practices in the modern context.

He is known for his writings on Islamic creed (ʿaqīdah), spirituality (taṣawwuf), Qur’anic understanding, and socio-religious issues affecting contemporary Muslim communities. His approach emphasizes intellectual clarity, ethical responsibility, and strict adherence to the foundational sources of Islam - the Qur’an and the Sunnah - within the framework of Ahl al-Sunnah wa al-Jama‘ah.

Rajib Khaja is the founder Imam & Murshid of Tariqah al-Raj, a modern spiritual path that does not claim a classical Sufi silsilah but presents itself as a Shari‘ah-compliant methodology for spiritual development. Tariqah al-Raj emphasizes inner purification, disciplined remembrance (dhikr), moral self-correction, and conscious submission to Allah Ta‘ala, without contradicting established Islamic principles.

His writings often address misunderstandings surrounding Islamic spirituality, sectarian polemics, and the misuse of religious concepts. He advocates for reasoned dialogue, textual integrity, and methodological fairness in theological discussions, while rejecting extremism, distortion of creed, and unfounded innovations.

Mission, Vision, and Intellectual Position

The mission of Rajib Khaja’s work is to contribute to the moral and spiritual revival of Muslim individuals and communities through knowledge, ethical awareness, and disciplined spiritual practice. He seeks to present Islam as a complete way of life grounded in revelation, reason, and responsibility.

His vision includes promoting authentic Sunni Islamic understanding, countering misinformation about Islam and spirituality, and encouraging Muslims to engage with faith through knowledge rather than blind imitation or emotional extremism. He also supports the idea of community development based on Islamic ethics, education, and social responsibility.

Rajib Khaja’s work is intentionally positioned outside political movements and sectarian conflicts. His focus remains on education, spiritual refinement, and intellectual clarity, with the aim of guiding individuals toward a balanced and principled Islamic life.

আমার সম্পর্কে বলার মতো তেমন কিছুই নাইগ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তানতুরস্কে আছি ২০১৮ সাল থেকেএকজন কুরআন সুন্নাহর অনুসারী ছুন্নী মুসলিমআক্বিদায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআহফিকহি বিষয়ে হানাফি মাজহাবের অনুসারী ইবাদতের ক্ষেত্রে, তবে ভিন্ন কিছু ইখতেলাফি বিষয়ে হাম্বলি মাজহাবের অনুসরণ করি

একজন ছুন্নী মুসলিম হিসেবে প্রত্যেক মানুষ হুব্বে ইলাহী ও হুব্বে রছুল (ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) ওয়ালা পিউর মুসলিম হবে এটাই থাকে সর্বচ্চো চেষ্টাপৃথিবীর সমস্থ মুসলিমদের জন্যে প্রান কাঁদে সব সময়নির্যাতিত মুসলিমদের জন্যে কলম, জবান, তৌফিক অনুসারে আর্থিক খেদমতে নিয়োজিত থাকি সব সময়জমিনে ইসলামিক খিলাফত কায়েম হবে এটাই সর্বচ্চো চাওয়াচাই, সমাজ হবে রছুলে আরাবি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন, নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুরপাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের নিজ হাতে গড়া মুবারক শহর মদিনা শরীফের মতো

মিশন ও ভিশন!!!

একটি ইসলামিক গ্রাম (ক্বারিয়াতুল ইসলামিয়াহ) বানানোর স্বপ্ন, এবং অন্যতম নেক ইচ্ছা বুকে লালন করছি দ্বীন ইছলাম বুঝার পর থেকেইএমন একটি গ্রাম, যেখানে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ শিশু সবাই নিশ্চিন্তে দ্বীন ইছলাম পালন করতে পারেযেখানে সম্পূর্ণ কুরআন সুন্নহর আদলে জীবনযাপন করবে মানুষহোক তা ১০/২০/৫০/১০০ পরিবারের একটি ছোট্ট গ্রাম

যেখানে বোনেরা পর্দা করতে কখনো বাঁধার সম্মুখীন হবেনা, হবে পর্দানশীলযেখানের পুরুষেরা কখনো নন মাহ্রামের দিকে তাকাবেনা ইচ্ছেকৃতভাবে, যদিও কেউ বোরকা না পরে কখনো ঘরের বাহীরে কাজে থাকে

প্রত্যেকের জন্যে থাকবে ফ্রি একটি বাড়ি, নিদৃষ্ট কিছু দ্বীনি শর্তে চিরস্থায়ী মালিকানা দিয়ে দেওয়া হবেযেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে রোদ বৃষ্টি ঝড়ে নিশ্চিন্তে ইবাদতময় ইসলামিক জীবনযাপন করতে পারবেযেহেতু অধিক সন্তান জন্ম দেওয়া সুন্নাহ ও হুজুরপাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের অন্যতম চাওয়া, তাই যদি কারো একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে তার জন্য সেই অনুসারে বড় ঘরের ব্যবস্থা থাকবে

প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য থাকবে হালাল রুযীর ব্যবস্থা, যে রুযীর জন্য আজকে মানুষ মহান আল্লাহ তায়ালা হতে উদাসীন গাফেল থাকেযে রূজির জন্যে মানুষ আখিরাত ধ্বংস করে, সেই রুযী থেকে পেরেশানি মুক্ত একটি গ্রাম সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা লালন করি

থাকবে দ্বীনি শিক্ষার বিশাল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ফ্রিতেসৃষ্টি করা হবে পূর্বের সালাফদের মতো খানকাহ ভিত্তিক ইল্ম শিক্ষার পরিবেশপ্রত্যেক নারী পুরুষের জন্য নুন্যতম বিশুদ্ধ করে তাজউইদের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করার মতো জ্ঞান অর্জন করা থাকবে বাধ্যতামূলকবয়স্কদের জন্য শিখতে হবে নুন্যতম ১০ টা সূরা অর্থ সহ, যা সাধারণত নামাযের মধ্যে তিলাওয়াত করা হয়শিখতে হবে ৫ ওয়াক্ত নামাযের সুন্নাহ অনুসারে দোয়া দুরুদ, তাসবিহ তাহ্লিলএর সাথে সবাইকে শিখানো হবে সকল নামাযের সুন্নাহ অনুসারে আদায়ের তরীকা

আর লোভ লালসাহীন, নিবেদিতপ্রান দুনিয়া বিমুখ নারীদের জন্যে নারী, পুরুষদের জন্যে পুরুষ আলীম/আলিমা দ্বারা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবেআর প্রত্যেক বাচ্চা(ছেলে/মেয়ে)র জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে কুরআনের হাফেজ হওয়াবড় হয়ে সে যাই হোক, শুরুটা তার কুরআনের হাফেজি দিয়ে হবেতারপর সে ক্বারি হবেযারা চায় মুফাসসির হবে, মুহাদ্দিস হবেযারা চায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, লীম, ব্যবসায়ী, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি... সেই অনুসারে তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে, তবে তা কুরআন ও ইসলামিক শিক্ষা অর্জনের পরে, যে পরিমাণ ইসলামিক জ্ঞান অর্জন ফরজ ততটুকু নারী পুরুষ সবার জন্যে থাকবে বাধ্যতামূলক

সেখানে প্রত্যেকের জন্য ইসলামিক পোশাক পরিধান হবে বাধ্যতামূলকনগ্নতা, উগ্রতা সেখানে এমনভাবে বিলিন করে দেওয়া হবে যেমন বিলীন হয়ে গেছে জমিন থেকে ডাইনোসরসুন্নতের অনুসরণের থাকবে ইসলামিক পোশাকনারীদের পর্দা করতে যে পোশাক সহজ হবে সেই পোশাকই সে পরবে, পর্দা করা ফরজে বিশ্বাসী আমি বোরকা পরা ফরজে নয়, তবে বোরকা পরাই যুগের অনুসারে উত্তম বলে মনে করিনারিরা এমন পোশাক পরবেন, যে পোশাক পরা দেখলে উম্মাহাতুল মুমিনিন য়ালাইহিন্নাস সালাম ও মহিলা ছ্বহাবীদের কথা মনে হবেপুরুষরা এমন পোশাক পরবেন যে পোশাকে দেখার সাথে মানুষের রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার কথা স্বরন হবেদূর থেকে আসতে দেখলে মানুষ যেনো এটাই ফিল করে গোলামে রছুল আসতেছেন

চিকিৎসা থাকবে ধনী গরীব নির্বিশেষেএকটি হাসপাতাল থাকবে, যেখানেঃ চোখ, নাক, কান, গলা, হাড়, ব্রেইন, নারী ও শিশু বিষয়ে একজন করে বিজ্ঞ হাকিম থাকবেন যিনি টাকা নয় ইবাদত মনে করেই চিকিৎসার কাজ করবেনযেখানে থাকবে মহিলাদের ১০০% পর্দার ব্যবস্থানারীদের জন্যে নারী, পুরুষদের জন্যে পুরুষ ডাক্তারগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে গরবীদের জন্য থাকবে ফ্রি চিকিৎসা, আর ধনীদের জন্যেও থাকবে মূল দামে ঔষধ এর বিশেষ সুবিধা

যেসব বিষয়কে ঘৃণা করি

প্রথমতো জিনাকে খুবই ঘৃণা করি, ইছলাম আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছেনকারণ জিনার শাস্তির ব্যপারে আল্লাহ পাক এতোই কাঠিন্যতা প্রকাশ করেছেন যা শিরকে লিপ্ত কারো ব্যপারেও আমি দেখিনাইএছাড়াও ঘৃণা করি শিরক, বিদআত (মনগড়া ফতোয়ার ছাড়া), কুফর, তাগুত, আর সমাজে অশ্লীলতার ধারক বাহকদের

ধর্মীয় বিভিন্ন দলের ব্যপারে যেরূপ আক্বিদাহ রাখি?

ঘৃণা করি ধর্ম ব্যবসায়ী পীরদের, যারা সুন্নতি লেবাস লাগিয়ে দ্বীন ইছলামকে পারসোনাল প্রোপার্টি বানিয়ে ফেলেছে, উদাহরণস্বরূপ রাজারবাগের পির দিল্লুর রহমানবাংলাদেশের কোন পিরই দ্বীন ইছলাম কায়েমের পথে নাই, তারা দ্বীনকে দরবার আর হাদিয়ায় সীমাবদ্ধ করে রেখেছে বলে তাদের পছন্দও করিনাআর অসংখ্য কুফুরি আক্বিদাহ রাখা দেওবন্দি কওমি বর্তমান ও পূর্ববর্তী অনেক কথিত উলামাদের ও ঘৃণা করিতবে এদের চেয়েও বেশি ঘৃণার পাত্র সলাফি লা মাজহাবি দাবীদার আহলে হাদিসদেরইহুদীদের দ্বারা পরিচালিত এই গোত্র ইসলামের ক্যান্সার, এটা বুঝতে হলে যেভাবে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে দ্বীন ইছলামকে, যার ধ্বংস্তুপে আজ আমরা আছি দাঁড়িয়ে!!! লিখাটা পড়তে হবে

তাছাড়া বেশুমার ঘৃণা আছে ধর্মব্যবসায়ী ওয়াজিদের প্রতি যারা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে, ঘন্টার চুক্তিতে ওয়াজ করে বেড়ায়, আর ভাবে সে ইসলামের দাওয়াতি কাজ করছেএছাড়াও ঘৃণা বেশুমার জ্বিহাদ বিমুখ পির ও তাসাউফ বিমুখ শায়খ নামক জাহিলদের প্রতিএরা উভয়েই মূলত ইহুদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, বুঝতে চাইলে এই লিখাটা পড়ুনঃ (মুসলিমদের মূল যে দুটি জিনিস আজ ইহুদি নাসারা ও মুশরিকদের দখলে)

তবে, আহলে কুরআন, কাদিয়ানি, শিয়া (যারা কেবল কুফুরি আক্বিদাহ রাখে, কুরআন সুন্নাহ ও খোলাফায়ে রাশেদিনের ব্যপারে), নাসবি, খারেজী, মুতাজিলা, ইয়াজিদি, হেযবুত তওহীদ নামক দলগুলিকে কাফের বলেই মনে করি

যে বিষয়গুলি নিয়ে মুসলিম সমাজ আজ টুকরো টুকরো সেইসব বিষয়ে কেমন আক্বিদাহ রাখি?

মিলাদ ক্বিয়ামঃ এই বিষয়ে আমার আক্বিদাহ হলো, এটা মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট একটিঅত্যন্ত পছন্দের আমল বলেই মনে করি, যা সুন্নতে সাহাবা হিসেবে আমি জানিআর যে করবে সে নেকি পাবে, যে করবেনা তার কিছুই হবেনাহুব্বে রছুল (ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) বাড়ানোর অন্যতম একটি মাধ্যম মনে করি মিলাদ ক্বিয়ামের বিষয়কেএছাড়াও, কেউ বসে পড়ুক, বা কেউ দাঁড়িয়ে এতে আমার কোন সমস্যা নাইআমি দাঁড়িয়ে ক্বিয়াম করি, যে করেনা তার ব্যপারে কোন মন্তব্য নাই। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশা-আল্লাহ)

ঈদে মিলাদুন্নবীঃ কারো জন্মদিন পালন করা আমার নিকট মহান আল্লাহ তায়ালার সুন্নত ও সুন্নতে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামযেরূপ আল্লাহ পাক করেছেন (জন্মদিনে উনারই এক নবীর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত করে), যেরূপ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম করেছেন (সোমবারে রোজা রেখে), সেরূপে আমিও করে থাকি, কিন্তু কোন বিজাতীয় বিদআতি তরীকায় করিনা, তবে করা বাধ্যতামূলক মনে করিনা, কেউ না করলে সে মুসলিম থাকবেনা এরূপ আক্বিদাও রাখিনা। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশা-আল্লাহ)

রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে কি মানুষ মনে করিঃ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম মানুষ ছিলেন না, এধরণের আক্বিদাহ রাখা কুফুররছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম অবশ্যই বাশার বা মানুষতবে তিনি সাধারণ মানুষ ননসর্বশ্রেষ্ঠ মানুষসৃষ্টিতে তিনি একক অদ্বিতীয় মানুষ, যার কোন মিসাল নাই বলেই আক্বিদাহ রাখি, যারা মানুষ মনে করেনা তারা আমার নিকট পথভ্রষ্ট গুমরাহ, কারণ আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট মাখলুকে মানুষই সর্বশ্রেষ্ট, অতএব মানুষ ব্যতীত অন্য কিছু মনে করার প্রশ্নই আসেনা। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশা-আল্লাহ)

রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে মাটি না নূর মনে করিঃ শুধু রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকেই না, বরং কোন মানুষই মাটির নন আদম য়ালাইহিছ ছালাম ব্যতীত, যারা তা মনে করে তার মুলত কুরআন বিরোধী জাহিলআদম য়ালাইহিছ ছালাম মাটি থেকে সরাসরি, আম্মাজান হাওয়া য়ালাইহাছ ছালাম আদম য়ালাইহিছ ছালামের বাম পাঁজরের হাড় থেকে, আর সমস্ত মানুষ শুক্র থেকে ইসা আলাহিস সালাম ছাড়াআর মহান আল্লাহ তায়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের রুহ, অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও পুরো দেহ-মুবারককে মানুষ হওয়ার পরও বিশেষ নূর দ্বারা নূরান্বিত করেছেনএমনকি উনার আশ-পাশকেও আল্লাহ তায়ালা বিশেষ নূর দ্বারা নূরান্বিত করেছেনএই নূরের হাকীকত আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেনহাদীছ শরীফে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে অস্থি-মজ্জা থেকে শুরু করে সব কিছুকে নূরান্বিত করার দু'য়া করেছেনএই নূরের হাকীকত বা বাস্তবতা আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেনএকটি মশহুর লক্বব হচ্ছে জিন্নুরাঈন যা সাইয়্যিদূনা হযরত উসমান ইবনে আফফান জিন্নুরাঈন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়া য়ালাইহিছ ছালামের নামের সাথে চলে আসছেমূর্খরা কি জানে এর মানে কি? তাদের অনেকেই তো তা তাদের বই পুস্তকে লিখে থাকেএর মানে হলো তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের দুই নূরের টুকরাকে শাদি করেছিলেন

এছাড়াও মহান আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বাকে নূর বিশ্বাস করাও একটি বাতিল আক্বিদাহ, কিছু ভন্ড ছুন্নী আছে আমাদের দেশে যারা এরূপ আক্বিদাহ রাখেমহান আল্লাহ তায়ালা উনার সত্ত্বার হাকীকত বা বাস্তবতা আমরা কেউ জানি না, তাই মহান আল্লাহ তায়ালাকে নূর বিশ্বাস করা যাবে নাআবার মহান আল্লাহ তায়ালাকে নূর বিশ্বাস করা এবং রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালার নূরের অংশ বিশ্বাস করা বাতিল ও কুফুরী আক্বিদাহ যা এদেশের কতিপয় গুমরাহ ছুন্নী রাখে প্রথমতঃ মহান আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বাকে নূর বিশ্বাস করা বাতিল আবার সেই সত্ত্বার অংশ আছে বিশ্বাস করা শিরকতবে মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সৃষ্ট নূর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল তাই উনাকে নূরে মুজাসসাম বলা হয় এরূপ বিশ্বাস করা কুফুর বা শিরক নয় বলেই মনে করি। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশা-আল্লাহ)

ইলমে গায়েবঃ আমি আমার জ্ঞান অনুসারে মহান আল্লাহ তায়ালাকে আলীমুল গায়েব (যিনি সকল বিষয়ে অবগত)আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে ইলমুল গায়েব (যা আল্লাহ প্রদত্ব নিদৃষ্ট) এর অধিকারী বলেই মানিরছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের মহান আল্লাহ তায়ালার মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ বা সত্ত্বাগত গায়েবের ইলম ছিলো, এধরণের আক্বিদাহ রাখা শিরক বলেই মনে করিস্বয়ংসম্পূর্ণ বা সত্ত্বাগত গায়েবের ইলম একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার জন্যই নির্ধারিতকোন মাখলুকের এই গূন থাকা অসম্ভবকারণ এটা মহান আল্লাহ তায়ালারই জন্যে খাসমাখলুকের পক্ষে লাইভ সব বিষয়ে জেনে দুনিয়ায় জীবনযাপন করা কস্মিনকালে সম্ভব নাআর নবী রছুল য়ালাইহিমুস সালামদের পক্ষে তো অসম্ভবই, কারণ এতে নবুওয়্যাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রতি মুহূর্তে বাঁধা হতো, কারা ঈমান আনবে কারা ঈমান আনবেনা এটা জানার পরেও তাদের নিকট দাওয়াত দেওয়ার কোন মানেই থাকতনাতাছাড়া অসংখ্য প্রমান মওজুদ যে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম অনেক বিষয়ে নিজেই প্রমান দিয়েছেনযেমন ইহুদী মহিলার বিষাক্ত খাবার, গুইসাপ সাদৃশ দব খাওয়ার প্রস্তাব, ইংশা-আল্লাহ সম্পর্কে নাযিল হওয়া আয়াতের ঘটনাতাছাড়া রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের অসীম গায়েবের ইলম ছিলো অথবা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ইলমে গায়েব অপরিবর্তনীয়, এর কোন লয়-ক্ষয় নেই, এধরণের আক্বিদাহ রাখাও শিরককোন সৃষ্টির ইলমে গায়েব অসীম বা লয়-ক্ষয় থেকে মুক্ত হতে পারে নাএধরণের ইলমে গায়েব একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার জন্যই সুনির্দিষ্ট

তবে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ইলমে গায়েব সম্পূর্ণটাই মহান আল্লাহ প্রদত্ত বলে মনে করিরছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের এই ইলমে গায়েব অসীম নয় সসীমএটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বাধীন ও নয়এটি লয়-ক্ষয় থেকে মুক্তও নয়একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার ইলম এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারীকোন মাখলুকের ইলম এমন হতে পারে না, তবে মহান আল্লাহ তায়ালা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে যে গায়েবের ইলম দিয়েছেন, সেটা কিরূপ, আর কি পরিমাণ দিয়েছেন, তা মহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেনতবে অন্যান্য নবী রছুল য়ালাইহিমুস সালাম উনাদের চেয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে সবার চেয়ে বেশি ইলমে গায়েব দান করা হয়েছে বলেই আক্বিদাহ রাখি

শিরক হওয়া বা না হওয়া কতটুকু ইলমে গায়েব দেয়া হয়েছে এর উপর নির্ভর করে নাযতক্ষণ না একে মহান আল্লাহ তায়ালার ইলমের সাথে তুলনা করা হচ্ছেকারও ইলমকে যদি মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে তুলনা করা হয় তাহলে তা অবশ্যই শিরক বলে গন্য হবে বলে মনে করিযদি ধরে নেয়াও হয়, কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সেই পরিমাণ ইলম মহান আল্লাহ তায়ালা কাউকে দিয়েছেন, তাহলে এই কথাতেও কোন শিরক হবেনা বলেই মনে করিকারণ, সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মাত্র ৭ দিবসআর দুনিয়া থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে এটার ইলম কিয়ামতের পরের জীবনের ইলমের সম্মুখে সাহারার বিশাল বালুরাশির মধ্যে থাকা একটি ধূলিকণার অনুরূপরছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ইলমে গায়েবের বিশালতা লওহ ও কলম থেকেও বিশাল এধরণের কথার মধ্যেও শিরকী কিছু নেই বলেই মনে করিকারণ, এখানে মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেয়া ইলম স্বীকার করা হয়েছেএবং এই ইলম স্বয়ংসম্পূর্ণ বা নিজস্ব নয়মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত বিশেষ নেয়ামতএতে শিরকের কিছু নেই বলে মনে করি

হাজির ও নাজিরঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুসলমানদের রুহ ইন্তেকালের পর পুরোপুরি নি:শেষ হয়ে গিয়েছে, এধরণের আক্বিদাহ রাখা কুফুরআর আম্বিয়ায়ে কেরাম, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুসলমানদের রুহ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বাধীনতায় যে কোন জায়গায় চলাফেরা করতে পারে, এধরণের আক্বিদাহ রাখাও শিরক বলে মনে করি 

তবে মহান আল্লাহ তায়ালা দেয়া অনুমতি, মহান আল্লাহ তায়ালার দেয়া ক্ষমতায় ও মহান আল্লাহ তায়ালার দেয়া স্বাধীনতায় আম্বিয়ায়ে কেরাম, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুসলমানদের রুহ তাদের কবরসহ যে কোন জায়গায় হাজির হতে পারেনএই ধরণের আক্বিদাহ রাখা শিরক নয় বলেই মনে করিকারণ হাদীছ শরীফ থেকে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়দের আমল তাদের সামনে পেশ করা হয়ে থাকেবিশেষভাবে হায়াতুন্নবী রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কাছে উম্মতের আমলসমূহ পেশ করা হয়বরজখের আমল পেশ হওয়ার এই আক্বিদাহ সঠিক ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিতএধরণের বিশ্বাস রাখা শিরক নয় বলেই মুমিন মাত্রই মনে করবে

উম্মতের কোন প্রয়োজনে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের কোথাও হাজীর হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনাযে নবী দুনিয়া থেকে স্বশরীরে সিদরাত আল মুন্তাহা যেতে পারেন, যেখানে হযরত জিব্রাইল য়ালাইহিছ ছালামের মতো ফেরেশতায়ে আযম ও গেলে পুড়ে যাবেনযে নবী দুনিয়া থেকে হাত বাড়িয়ে জান্নাতের আঙ্গুর গাছের ঝুটা চোখ দিয়ে দেখার, হাত দিয়ে ধরার ক্ষমতা রাখেন উনার জন্য রওজা শরীফ থেকে কাউকে কিছু দিতে হলে আসতে হবে বলে আমি মনে করিনাউনি চাইলেই যার কোলে ইচ্ছা যেকোন কিছু দিয়ে দিতে পারেন, দুনিয়ায় থাকতেই এই এখতিয়ার মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে দিয়ে দিয়েছেনআর হাদিস শরীফে বলাই আছে আপনার দুনিয়ার জীবন থেকে আখেরাতের জীবন উত্তম, সম্মানের, মর্যাদার

অন্যদিকে মহান আল্লাহ তায়ালার ব্যপারে, তিনি সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সত্ত্বাগতভাবে হাজির বা উপস্থিত আছেন মনে করা জঘন্য কুফুরী আক্বিদাহমহান রব্বুল আলামীন সৃষ্টিজগতের মাঝে সত্ত্বাগতভাবে হুলুল বা অনুপ্রবেশ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্রসমস্ত সৃষ্টি মহান আল্লাহ তায়ালার নিয়ন্ত্রণ ও কুদরতের অধীন, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা সত্ত্বাগতভাবে সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান ননমহান আল্লাহ তায়ালাকে সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সত্ত্বাগতভাবে বিদ্যমান মনে করা কুফুরীতাছাড়া উনি যেরূপ লাইভ সবকিছু দেখেন সেরূপ দেখা কোন অবস্তায় যায়েজ নয় অন্য কোন জিন ইনসানের জন্যযেমন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত এটা মহান আল্লাহ পাঁকের দৃষ্টির বাহীরে নয়, কিন্তু এটা খোদ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের জন্যেও হারাম। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইনশা-আল্লাহ)

মাযার ও আউলিয়াঃ যে সমস্ত আউলিয়ায়ে কেরাম দুনিয়ার জমিন থেকে অফাৎ লাভের পরে মুসলিম মিল্লাতের নিকট আউলিয়া হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন, উনাদের মাযার শরীফ জিয়ারত করে ফায়েজ লাভ করা, উনাদের উসিলায় মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করা, দোয়ার আর্জি রাখা যায়েজ বলেই মনে করিতবে আউলিয়াদের মাজারে সেজদা দেওয়া, মাজার শরীফে নারী পুরুষ মিলে আধ্যাত্মিক গান বাজনা, মাজারে বসে সিদ্ধ পুরুষ হতে গাঁজা খাওয়া, মাজারে নিয়ত করে মোম বাতি জালানো সহ সকল বাতিল কাজকে হারাম বলেই মনে করি

এছাড়াও আরো অনেক আক্বিদাহ বিদ্যমান যা এইখানে লিখার দরকার আছে বলে মনে করিনা, যারা বুঝার তারা বুঝেই ফেলবেন উপরোক্ত আক্বিদাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখলে