ঢাকা শহরে যতগুলো দেশের দূতাবাস আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত দূতাবাস হচ্ছে ভারতীয় দূতাবাস এবং বর্তমানে সবচেয়ে বেশি তিড়িং বিড়িং করতে দেখা যাচ্ছে দিনেশ ত্রিবেদীকে। আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ঐ ত্রিবেদীর প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য কার্যকলাপ নিয়ে।
এই ব্যক্তির কার্যকলাপ বুঝতে হলে প্রথমেই আমাদের জানা প্রয়োজন, সে কী অর্জনের জন্য একজন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েও দূতের দায়িত্ব পালন করতে ঢাকা এসেছে। বিষয়টি শুরু থেকেই সাধারণ ছিল না। বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে পেশাদার কূটনীতিকদের বাদ দিয়ে এভাবে একজন পুরোদস্তুর প্রবীণ রাজনীতিবিদকে ঢাকায় পাঠানো বিরল ঘটনা। দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি করা একজন ব্যক্তি এবং বর্তমানে বিজেপির নেতা। সে পশ্চিম বাংলার মানুষ, সুন্দর বাংলা বলতে পারে, বাংলাদেশের রাজনীতি ও বাঙালির মনস্তত্ত্ব বুঝতে তার আলাদা কোনো দোভাষীর প্রয়োজন হয় না।
আরও মজার বিষয় হচ্ছে, লোকটি বাংলাদেশে এসে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ২২ মে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাথে বৈঠক করে এসেছে। সেখানে কী আলোচনা হয়েছে তাও গোপন রাখা হয়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের সামরিক সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দুই দেশের সামরিক যোগাযোগ নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে। একজন নতুন দূত ঢাকা আসার আগেই যখন সেনাপ্রধানের সাথে বসে বাংলাদেশের সীমান্ত আর সামরিক বিষয় বুঝে আসে, তখন তাকে শুধুমাত্র দাওয়াত খাওয়া আর ফুলের তোড়া দেওয়া রাষ্ট্রদূত ভাবার কোনো কারণ নেই।
এরপর ভারত সরকার দিনেশ ত্রিবেদীকে আরেকটি অস্বাভাবিক সম্মান দিল। তাকে আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই মর্যাদা পদটির জন্য সাধারণভাবে দেওয়া হয়নি, ব্যক্তি দিনেশ ত্রিবেদীর জন্য বিশেষভাবে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দিল্লিও জানে কাকে কোথায় পাঠিয়েছে এবং তার রাজনৈতিক ওজন কতটুকু রাখতে চায়।
প্রথম কথা হলো সে দেখতে চানক্যের মতো, তবে তার কার্যকলাপ কৈটল্যের মতো। যেহেতু সে পশ্চিম বাংলার এবং সুন্দর বাংলা বলতে পারে, লেখাটির মূল প্রশ্ন এখানেই, এই বিশেষ সময়ে বাংলাদেশে একজন সাধারণ পেশাদার কূটনীতিক না পাঠিয়ে এমন একজন বাংলা জানা ঝানু রাজনীতিবিদকে কেন পাঠানো হলো?
ঢাকায় এসেই লোকটি বসে থাকেনি। রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র দেওয়ার পরই ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে গিয়ে হাজির হয়েছে। দীর্ঘদিন সীমিত থাকা পর্যটক ভিসা আবার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলেছে। এরপর থেকে জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক কথাটি তার মুখে বারবার শোনা যাচ্ছে।
এই জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক কথাটির অর্থ শুধু সাধারণ মানুষ ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করবে, ভ্রমণ করবে, এতটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ত্রিবেদীর চলাফেরা দেখলে দেখা যায়, তার যোগাযোগ একই সাথে সরকার, রাজনীতি, সংসদ, স্থানীয় সরকার, ব্যবসা, সীমান্ত এবং সামরিক বিষয় পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।
কৈটল্য, চানক্য সদৃশ্য হলেও ত্রিবেদীর পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব না। কারণ সে আমলে চানক্য এবং কৈটল্যরা গরুর গোস্ত খেত আর এখন দিনেশ ত্রিবেদীদের রাজনৈতিক শিবিরে গরুকে কেন্দ্র করে কী ধরনের রাজনীতি চলে, তা সবার জানা। খাদ্যাভ্যাস আর ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার সাথে বাস্তব রাষ্ট্র পরিচালনার বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক কতখানি, সেটাও প্রশ্নের বিষয়।
বর্তমান ভারতের ভেতরের ধর্মীয় মেরুকরণ, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ, নারী নিরাপত্তা, দারিদ্র্য, স্যানিটেশন এবং সামাজিক বৈষম্য নিয়ে তাদের নিজেদেরই অসংখ্য সমস্যা রয়েছে। অথচ প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহে ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে বহু বছর ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় বিতর্ক রয়েছে। হায়দারাবাদ, গোয়া ও সিকিমের ইতিহাসও উপমহাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রের বিস্তার ও একীভূতকরণের আলোচনায় বারবার ফিরে আসে।
২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে গেছে। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করে যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন চলেছে, সেই পরিস্থিতিও আগের মতো নেই। ঠিক এই সময়েই দিল্লি পুরোনো পেশাদার কূটনীতিকের বদলে একজন রাজনৈতিক লোককে ঢাকায় পাঠাল।
এখানে ত্রিবেদীর পরবর্তী কার্যকলাপ আরও বেশি লক্ষণীয়।
১০ আগস্ট সে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দেখা করেছে। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথেও বৈঠক করেছে। এর আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করেছে। তারপর তারেক রহমানের সাথে দেখা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা ছেড়ে দিল্লি গেছে। পরদিন ১১ আগস্ট সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর সাথে একান্ত বৈঠক করেছে। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়ে মোদীর দিকনির্দেশনা চেয়েছে।
বিষয়টা আরেকবার পড়ুন।
প্রথমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তারপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি।
পরদিন নরেন্দ্র মোদীর সাথে একান্ত বৈঠক।
তারপর আবার বাংলাদেশ।
একে যদি কেউ শুধু চা খাওয়া কূটনীতি মনে করতে চান, সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তাদের অন্তত দেখা উচিত লোকটি কার সাথে দেখা করছে, কত দ্রুত করছে এবং ঢাকায় কথা বলে কত দ্রুত দিল্লিতে গিয়ে প্রতিবেদন ও পরবর্তী নির্দেশনা নিচ্ছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, দিল্লি এখন শুধু আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে বসে নেই, সেটা ত্রিবেদীর চলাফেরাতেই পরিষ্কার।
১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে গিয়ে হাজির হয়েছে। বিএনপির নেতা কর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছাও জানিয়েছে। এখানেও শুধু চা বিস্কুট খেয়ে চলে আসেনি। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সাথে ভাগ করেছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে কথা হয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, একজন বিদেশি রাষ্ট্রের দূতের আগ্রহ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যন্ত কেন পৌঁছায়?
এর পরদিনই আবার জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের সাথে দেখা করে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তার কথা হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে দুই দেশের সংসদ সদস্যরা নিয়মিত যোগাযোগ করবে, মতবিনিময় করবে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক আরও বাড়বে।
এখন হিসাব করেনঃ সামরিক বাহিনীর বিষয় আছে, সীমান্ত আছে, প্রধানমন্ত্রী আছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটি আছে, স্থানীয় সরকার আছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আছে, জাতীয় সংসদ আছে, স্পিকার আছে, ডেপুটি স্পিকার আছে, ব্যবসায়ী আছে, ভিসা আছে, আর সবকিছুর মাথার উপরে আছে জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্কের বুলি।
তিড়িং বিড়িং আর কাকে বলে?
এখানেই শেষ না। আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে ত্রিবেদী বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে শিল্পকারখানা স্থাপনের কথা বলেছে। তার ভাষায় এতে দুই দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা, সরবরাহ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে। একই আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য আরও সহজ করা এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় এসেছে।
অর্থাৎ লোকটির আগ্রহ শুধু দূতাবাসের চার দেয়ালের মধ্যে নেই। রাজনীতি থেকে নির্বাচন, সংসদ থেকে ব্যবসা, সীমান্ত থেকে সামরিক বিষয়, ভিসা থেকে জনগণের যোগাযোগ, সবখানেই তার উপস্থিতি।
এতদবিষয়ে আমাদের একটি বিষয় বুঝতে হবে। কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে আজকের দুনিয়ায় সৈন্য পাঠিয়ে প্রথম দিনেই সীমান্ত পার হতে হয় না। আগে সম্পর্ক তৈরি করা হয়, যোগাযোগ বাড়ানো হয়, রাজনীতিবিদদের সাথে সম্পর্ক হয়, আমলাদের সাথে সম্পর্ক হয়, ব্যবসার সম্পর্ক হয়, প্রশিক্ষণের সম্পর্ক হয়, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক হয়, গণমাধ্যমের প্রভাব বাড়ে। এরপর রাষ্ট্রের ভেতরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে বিদেশি রাষ্ট্রটির স্বার্থ রক্ষা করার জন্য নিজের দেশের লোকই যথেষ্ট হয়ে যায়।
এই কারণেই সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিদেশি প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারা যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে যোগাযোগ হচ্ছে, কী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং ফিরে এসে কোন দায়িত্বে বসছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই তার হিসাব থাকা উচিত।
সমাজে যৌনতা ছড়ানো হচ্ছে মাছ ধরার আগে চাড়া ফেলার মতো, যাতে মাছ কাছে আসে, তখন কাটাসহ টোপ ফেলা হয় মাছ ধরার জন্য। ঠিক তেমনিভাবে সমাজে যৌনতাকে স্বাভাবিক করে দেওয়ার পর ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে কাজে লাগানো অনেক সহজ হয়। সুন্দরী নারী দিয়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে পরে তাকে চাপের মধ্যে ব্যবহার করা পৃথিবীর গোয়েন্দা কার্যক্রমে নতুন কোনো বিষয় নয়।
তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমাদের সতর্কতা শুধু একটি দেশের বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ভারত হোক বা অন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্র, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশি যোগাযোগে শক্ত রাষ্ট্রীয় নজরদারি থাকা দরকার।
ভারতীয় টিভি চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাংস্কৃতিক প্রভাবের বিষয়টিও আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। একটি জাতির চরিত্র শুধু সেনাবাহিনী দিয়ে নষ্ট করা লাগে না, তার চিন্তা, রুচি, পরিবার, লজ্জাবোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ বদলে দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে একই ফল পাওয়া যায়। এই জায়গায় বাংলাদেশের নিজের সংস্কৃতি ও নৈতিকতার সুরক্ষা রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
বর্তমান সময়ে তিনটি কাজ আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক হচ্ছে বিদেশি গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতি তৈরি করা।
দুই হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা, যৌন উত্তেজক অনুষ্ঠান এবং উদ্দেশ্যমূলক নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
তিন হচ্ছে বিদেশি প্রশিক্ষণের নামে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কোথায় পাঠানো হচ্ছে, কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে এবং সে কার সাথে যোগাযোগ করছে তার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় হিসাব রাখা।
এর সাথে এখন আরেকটি বিষয় যোগ করা প্রয়োজন।
দিনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনৈতিক ওজনসম্পন্ন একজন বিদেশি দূত বাংলাদেশের কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান কতবার পরিদর্শন করছে, কার সাথে কতবার একান্ত বৈঠক করছে, কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে এবং পরবর্তী সময়ে কোথায় গিয়ে সেই আলোচনা করছে, তার পূর্ণ নথি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কাছে থাকা উচিত।
কারণ ঘটনাগুলো এখন আর বিচ্ছিন্ন না। বাংলাদেশে আসার আগেই ভারতের সেনাপ্রধানের সাথে বাংলাদেশ নিয়ে বৈঠক। ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথে ভিসা ও জনগণের যোগাযোগ। তারপর সরকার। তারপর স্বরাষ্ট্র। তারপর বিএনপি। তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তারপর সংসদীয় বন্ধুত্ব।তারপর সীমান্ত এলাকায় যৌথ শিল্প। তারপর তারেক রহমানের সাথে দেখা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দিল্লি। পরদিন মোদীর সাথে একান্ত বৈঠক। এগুলো সবই তার প্রকাশ্য তিড়িং বিড়িং। অপ্রকাশ্য অংশ কতটুকু, সেটা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ভারতের সাথে আমাদের প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক থাকবে, ব্যবসা থাকবে, যাতায়াত থাকবে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কও থাকবে। কিন্তু সম্পর্ক আর প্রভাব বিস্তার এক জিনিস নয়। বন্ধুত্ব আর অন্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোর গভীরে প্রবেশও এক জিনিস নয়।
সুতরাং প্রশ্নটা দিনেশ ত্রিবেদীকে পছন্দ বা অপছন্দের নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, দিল্লি কেন এই বিশেষ সময়ে এই বিশেষ লোকটিকেই ঢাকায় পাঠিয়েছে? তার আগ্রহ কেন একই সাথে সামরিক সহযোগিতা, সীমান্ত, সরকার, বিএনপি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংসদ, ব্যবসা এবং জনগণের যোগাযোগ পর্যন্ত বিস্তৃত? আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তার এই অতিরিক্ত তিড়িং বিড়িং কতটা হিসাব করে দেখছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থেই প্রয়োজন।

0 ফেইসবুক: