Monday, November 2, 2026

আওলিয়ায়ে কিরামের মাজারে গিয়ে দোয়া করা শিরক, নাকি দোয়া ক্ববুলিয়াতের অন্যতম মাধ্যম?

আল-ক্বুরআন, ছহীহ হাদিছ ও মুহাদ্দিছগণের শরহের আলোকে একটি দালিলিক জবাবঃ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নৈকট্যপ্রাপ্ত মাহবুব বান্দাগণের মাজারে গিয়ে উনাদের উছিলা ও বরকতের আশায় মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করাকে যারা নির্বিচারে শিরক বলে থাকেন, তাঁদের নিকট আমার কয়েকটি প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্নগুলো কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করার জন্য নয়; বরং আল-ক্বুরআন শরীফ, হাদিছ শরীফ এবং মুহাদ্দিছগণের বক্তব্যের আলোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের হাক্বিকত পরিষ্কার করার জন্য।

প্রথমেই আমার আক্বিদাহ পরিষ্কার করে দিচ্ছি। দোয়া ক্ববুল করার স্বাধীন মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। কোনো গ্বইরুল্লাহ কখনোই স্বাধীনভাবে দোয়া ক্ববুল করার ক্ষমতার অধিকারী নন। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বিশেষ মাহবুব বান্দাগণের নৈকট্য, উসিলা ও বরকতের মাধ্যমে উনার নিকট দোয়া করা, আর সেই দোয়ার ক্ববুলিয়াতের বিশেষ আশা রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

কোনো য়ামলকে শিরক বলার আগে জানতে হবে, সেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কাউকে ইলাহ মনে করা হচ্ছে কি না, অথবা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার একচ্ছত্র ইখতিয়ারের মধ্যে অন্য কাউকে স্বাধীন ক্ষমতার অধিকারী সাব্যস্ত করা হচ্ছে কি না।

আমি এখানে আলোচনা করছি সেই ব্যক্তিকে নিয়ে, যিনি একজন নেককার অলীর ক্ববর শরীফের পাশে দাঁড়িয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা উনারই নিকট দোয়া করছেন।

এখন দেখা যাক, এই আমলের পক্ষে আমাদের নিকট কী কী দলিল রয়েছে।

১. একটি মোরগ কখনো রহমতের ফেরেশতা দেখে ডাকলে দোয়ার নির্দেশ কেন?

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিআল্লাহু তায়ালা য়ানহু থেকে বর্ণিত, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেছেন (إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ، فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا) অর্থাৎ, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট উনার ফযল ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করবে। কেননা মোরগটি একজন (রহমতের) ফেরেশতাকে দেখেছে। (সূত্রঃ ছহীহ বুখারী, হাদিছ ৩৩০৩। ছহীহ মুসলিম, হাদিছ ২৭২৯।)

এখানে চিন্তা করার মতো বিষয় রয়েছে।

একটি সাধারণ মোরগ একজন ফেরেশতাকে দেখেছে। সেই ফেরেশতাকে আমরা দেখিনি, তাঁর উপস্থিতি নিজেরা উপলব্ধিও করিনি। অথচ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ওই উপলক্ষে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করতে।

কেন?

মোরগ কি দোয়া ক্ববুল করে? না।

ফেরেশতা কি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পরিবর্তে স্বাধীনভাবে দোয়া ক্ববুল করেন? না।

তাহলে ফেরেশতার উপস্থিতির সঙ্গে দোয়ার এই বিশেষ সম্পর্ক কেন?

এর ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিছগণ এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যারা মুহাদ্দিছদের তাদের আকাবির হিসেবেই মানে, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. ইমাম নববী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার বিস্ময়কর ইস্তিনবাত

ইমাম নববী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার শরহু ছহীহ মুসলিম কিতাবে উপরোক্ত হাদিছের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন, (قَالَ الْقَاضِي: سَبَبُهُ رَجَاءُ تَأْمِينِ الْمَلَائِكَةِ عَلَى الدُّعَاءِ، وَاسْتِغْفَارِهِمْ، وَشَهَادَتِهِمْ بِالتَّضَرُّعِ وَالْإِخْلَاصِ) অর্থাৎ, ক্বাদ্বী ইয়াদ্ব রহমতুল্লাহি য়ালাইহি বলেছেন, এর কারণ হলো ফেরেশতাগণ দোয়াকারীর দোয়ার সঙ্গে আমীন বলবেন, তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং তাঁর বিনয়, আন্তরিকতা ও ইখলাছের সাক্ষ্য দেবেন, এমন আশা করা।

এরপর ইমাম নববী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি লিখেছেন (وَفِيهِ اسْتِحْبَابُ الدُّعَاءِ عِنْدَ حُضُورِ الصَّالِحِينَ، وَالتَّبَرُّكِ بِهِمْ) অর্থাৎ, এই হাদিছের মধ্যে নেককার বান্দাগণের উপস্থিতিতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা এবং তাঁদের মাধ্যমে বরকত লাভ করার মুস্তাহাব হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। (সূত্রঃ শরহু ছহীহ মুসলিম, কিতাবুয যিকর ওয়াদ দুয়া, মোরগের ডাক শুনে দোয়ার ইস্তিহবাবের অধ্যায়, ১৭তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭, প্রচলিত সংস্করণ।)

এখন আমি প্রশ্ন রাখছি?

ইমাম নববী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি কি কেবল মোরগের ডাকের সময় দোয়া করার কথা বলেছেন?

না।

তিনি এই হাদিছ থেকে নেককার বান্দাগণের উপস্থিতিতে দোয়া করার এবং তাঁদের মাধ্যমে তাবাররুক করার ইস্তিহবাবও নির্ণয় করেছেন। অর্থাৎ, একটি মোরগের ফেরেশতা দেখার ঘটনার মধ্য থেকে নেককার ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দোয়া করার ফযীলত নির্ণীত হচ্ছে। এটি আমার নিজের তৈরি কোনো ব্যাখ্যা নয়। এটি ইমাম নববী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার হাদিছের শরহে বিদ্যমান।

এখন আমাদের মুখালিফ খারেজিরা বলতেই পারেন জীবিত নেককার ব্যক্তিদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ থেকে ইন্তিকালকারী আওলিয়ায়ে কিরামের ক্ববরের বিধানে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত দলিল প্রয়োজন। তাহলে সেই দলিলও আমাদের নিকট মওজুদ আছে।

৩. নেককার বান্দাদের উপস্থিতিতে রহমত নাযিল হওয়ার ব্যাখ্যা

ইমাম শামছুল হক্ব আযীমাবাদী (আহলে হাদীছ আন্দোলনের একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং আক্বীদাহ ও য়ামলের ক্ষেত্রে ছুন্নাহর অনুসরণে জোর দিতেন) তিনি উনার আওনুল মা'বূদ শরহু ছুনানি আবী দাঊদ কিতাবে মোরগের ডাকসংক্রান্ত হাদিছের ব্যাখ্যায় বলেন, (قِيلَ فِي الْحَدِيثِ دَلَالَةٌ عَلَى نُزُولِ الرَّحْمَةِ عِنْدَ حُضُورِ أَهْلِ الصَّلَاحِ فَيُسْتَحَبُّ الدُّعَاءُ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ) অর্থাৎ, বলা হয়েছে, এই হাদিছের মধ্যে এমন নির্দেশনা রয়েছে যে, নেককার বান্দাগণের উপস্থিতিতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রহমত নাযিল হয়। ফলে এমন সময় মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা মুস্তাহাব। (সূত্রঃ আওনুল মা'বূদ, ১৪তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬, ছুনান আবূ দাঊদ ৫১০২-এর শরহ।)

এটি একটি ব্যাখ্যামূলক মত হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। কিন্তু এর তাৎপর্য উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ এখানে নেককার বান্দাগণের উপস্থিতি, রহমত নাযিল হওয়া এবং দোয়ার ইস্তিহবাবকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এবার আল-ক্বুরআন শরীফের আয়াতটি দেখুন।

৪. মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রহমত মুহছিনগণের নিকটবর্তী

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, (وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا ۚ إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ) অর্থাৎ, আর তোমরা উনাকে ভয় ও আশা সহকারে ডাকো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রহমত মুহছিনগণের নিকটবর্তী। (সূত্রঃ ছূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ৫৬।)

এই আয়াতে দুটি বিষয় রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করার নির্দেশ এবং মুহছিনগণের সঙ্গে উনার রহমতের বিশেষ নৈকট্যের ঘোষণা। আমি এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। এই আয়াতের অর্থ এই নয় যে, মহান আল্লাহ তায়ালা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে রহমত নিয়ে অবস্থান করেন, বরং আয়াতটি মুহছিনগণের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে।

এখন ইমাম নববী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার বক্তব্য এবং আওনুল মা'বূদের ব্যাখ্যার সঙ্গে আয়াতটি মিলিয়ে দেখুন।

নেককার বান্দাদের উপস্থিতিতে দোয়া করা মুস্তাহাব হওয়ার কথা পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের উপস্থিতিতে রহমত নাযিল হওয়ার ব্যাখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে। আর মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই মুহছিনগণের নিকটে উনার রহমত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং নেককার বান্দাদের নৈকট্যকে দোয়ার ফযীলতের একটি উপলক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট দালিলিক ভিত্তি রয়েছে।

৫. ইন্তিকালের পর কি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মাহবুব বান্দাগণের সব কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যায়?

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় আমাদের মুখালিফ খারেজিদের থেকে, যে নেককার বান্দা পার্থিব জীবনে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নৈকট্যপ্রাপ্ত ছিলেন, ইন্তিকালের পরও কি উনার পক্ষে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা সম্ভব?

আল-ক্বুরআন শরীফে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, (وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ) অর্থাৎ, যারা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পথে নিহত হয়েছেন, তাঁদের মৃত বলো না। বরং তাঁরা জীবিত। তবে তোমরা উনাদের সেই জীবনের অবস্থা নিজেদের সাধারণ অনুভূতি ও উপলব্ধির মাধ্যমে বুঝতে পারো না। (সূত্রঃ ছূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ১৫৪।) অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন, (بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ) অর্থাৎ, বরং তাঁরা নিজেদের রবের নিকট জীবিত এবং উনার পক্ষ থেকে রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছেন। (সূত্রঃ ছূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৬৯।)

এখানে অনেকে বলে এটা তো কেবল শহীদগণের বিশেষ বারযাখী হায়াতের কথা বলা হয়েছে। হাস্যকর বিষয়, যে অলি দৈনিক নিজের নফছ কে হত্যা করলেন তিনি কি একজন ফাসেক শহীদের সমপরিমাণ মর্যাদা লাভ করবেন না?

এদিকে ছহীহ মুছলিম শরীফে হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম উনার ক্ববর শরীফে ইবাদত করার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। (مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى وَهُوَ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ) অর্থাৎ, আমি হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম উনার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, তখন তিনি উনার ক্ববরের মধ্যে নামাজ আদায় করছিলেন। (সূত্রঃ ছহীহ মুসলিম, হাদিছ ২৩৭৫।) উক্ত হাদীছে বারযাখী জীবনে নবীগণের ইবাদতের বাস্তবতা প্রমাণিত হয়।

ইন্তিকালকারী মুমিনদের পক্ষ থেকে জীবিতদের জন্য দোয়া

হযরত আনাছ ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা য়ানহু থেকে বর্ণিত: (إِنَّ أَعْمَالَكُمْ تُعْرَضُ عَلَى أَقَارِبِكُمْ وَعَشَائِرِكُمْ مِنَ الْأَمْوَاتِ، فَإِنْ كَانَ خَيْرًا اسْتَبْشَرُوا بِهِ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ ذَلِكَ، قَالُوا: اللَّهُمَّ لَا تُمِتْهُمْ حَتَّى تَهْدِيَهُمْ كَمَا هَدَيْتَنَا) নিশ্চয় তোমাদের আমলসমূহ তোমাদের ইন্তিকালকারী আত্মীয়স্বজনের সামনে পেশ করা হয়। যদি তা ভালো হয়, তাঁরা আনন্দিত হন। আর তা অন্যরূপ হলে তাঁরা বলেন, হে মহান আল্লাহ তায়ালা! আপনি তাদের মৃত্যুবরণ করাবেন না, যতক্ষণ না তাদের হিদায়াত দান করেন, যেমন আমাদের হিদায়াত দান করেছেন। (সূত্র: মুছনাদে আহমদ, ১২৬৮৩।)

এখানে মৃত মুমিনগণের কাছে তাঁদের জীবিত আত্মীয়স্বজনের আমল পেশ করা এবং তাঁদের হিদায়াতের জন্য দোয়া করার বর্ণনা রয়েছে। মাদখালিদের শায়েখ আলবানী একে ছহীহও বলেছে। সুতরাং বারযাখে জীবিতদের জন্য দোয়া করার বিষয়টি ইছলামী বর্ণনাসমূহে একেবারেই অনুপস্থিত নয়।

আমার প্রশ্ন অত্যন্ত নির্দিষ্ট।

আমি দাবি করছি না যে, প্রত্যেক অলী প্রত্যেক আগন্তুকের জন্য দোয়া করেন। বা এটা আমার প্রতিষ্টা করার বিষয় ও না, আমি কেবল সাব্যস্থ করতে চাইছি, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রদত্ত সামর্থ্যে একজন বারযাখী অলী জীবিত কোনো মানুষের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করতে পারেন কি না। এই সামর্থ্যকে সর্বাত্মকভাবে অস্বীকার করার কোনো সুস্পষ্ট ছহীহ নছ্‌ছ আমার জানা নেই।

৬. মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মাহবুব অলীর দোয়া ক্ববুলের ওয়াদা

ছহীহ বুখারী শরীফের ৬৫০২ নম্বর হাদিছে ক্বুদছীতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, (وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ) অর্থাৎ, আমার বান্দা নফল ইবাদতসমূহের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এভাবে সে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসি।

এরপর মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, (وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ) অর্থাৎ, আর সে আমার নিকট কোন কিছুর আবদার করলে অবশ্যই আমি তাকে তা দেই। (সূত্রঃ ছহীহ বুখারী, হাদিছ ৬৫০২।) এই হাদিছের আলোকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মাহবুব অলীর দোয়ার কবুলিয়াতের বিশেষ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেই মাহবুব বান্দা বারযাখে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করতে সক্ষম হলে, তাঁর দোয়া মহান আল্লাহ তায়ালা ক্ববুল করতে পারেন না, এমন দাবি কীভাবে করা যায়? উল্লিখিত হাদিছের বাক্যে কেবল পার্থিব জীবনের জন্য এই প্রতিশ্রুতি নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কোনো স্পষ্ট শব্দ নেই। আর মুছনাদে আহমদ, ১২৬৮৩ হাদিছে তো বারযাখের মুমিনদের সরাসরি হেদায়েতের আবদার ও প্রমাণিত।

এই হাদিছ এর সরাসরি বক্তব্য হলো মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মাহবুব বান্দার বিশেষ মর্যাদা ও উনাদের প্রার্থনার প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার অনুগ্রহ।

এই দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে আমি বারযাখী আওলিয়ায়ে কিরামের দোয়ার সামর্থ্য এবং তার ক্ববুলিয়াতের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করার কোনো যৌক্তিক কারণ বা দলিল আমাদের মুখালিফ খারেজিদের থেকে পাইনি।

৭. ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি য়ালাইহি নিজে মাজারে গিয়ে কী করতেন?

এখন এমন একটি দলিল পেশ করছি, যেখানে সরাসরি একজন ইন্তিকালকারী নেককার বুযুর্গের ক্ববরের পাশে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করার ঘটনা রয়েছে।

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছ ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার আছ-ছিক্বাত কিতাবে হযরত য়ালী ইবনে মূছা আর-রিদ্বা রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার ক্ববর যিয়ারত সম্পর্কে লিখেছেন, (قَدْ زُرْتُهُ مِرَارًا كَثِيرَةً) অর্থাৎ, আমি উনার ক্ববর বহুবার যিয়ারত করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, (وَدَعَوْتُ اللَّهَ إِزَالَتَهَا عَنِّي إِلَّا اسْتُجِيبَ لِي) অর্থাৎ, আমি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট আমার বিপদ দূর করার দোয়া করতাম এবং আমার সেই দোয়া ক্ববুল হতো। এরপর লিখেছেন, (وَهَذَا شَيْءٌ جَرَّبْتُهُ مِرَارًا فَوَجَدْتُهُ كَذَلِكَ) অর্থাৎ, এটি এমন একটি বিষয়, যা আমি বহুবার নিজের অভিজ্ঞতায় পরীক্ষা করে দেখেছি এবং প্রতিবারই সেইরূপ পেয়েছি। (সূত্রঃ আছ-ছিক্বাত, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৫৭।)

এখন আমি প্রশ্ন রাখছি।

ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি য়ালাইহি কি কেবল ক্ববর যিয়ারতের কথা বলেছেন?

না।

তিনি নিজের বিপদ দূর হওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করেছেন এবং সেই দোয়ার ক্ববুলিয়াতের অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেছেন। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো وَدَعَوْتُ اللَّهَ। অর্থাৎ, আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করেছি।

তিনি ক্ববরবাসীকে স্বাধীনভাবে বিপদ দূর করার ক্ষমতাসম্পন্ন ইলাহ সাব্যস্ত করেননি। বরং মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করেছেন। এখন যারা এই ধরনের আমলকে নিঃশর্তভাবে শিরক বলেন, তাঁদের নিকট আমার প্রশ্ন, ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার এই আমলের বিচার আপনারা কীভাবে করবেন?

ইমামের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা স্বতন্ত্র মারফূ হাদিছ নয়। কিন্তু এটি একটি বাস্তব ঐতিহাসিক সাক্ষ্য, যা প্রমাণ করে যে, একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছ নিজে একজন নেককার বুযুর্গের ক্ববরের পাশে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করেছেন।

৮. ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার বক্তব্য

ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার সিয়ারু আ'লামিন নুবালা কিতাবে হযরত মা'রূফ কারখী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার ক্ববর সম্পর্কে ইবরাহীম আল-হারবীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, (قَبْرُ مَعْرُوفٍ التِّرْيَاقُ الْمُجَرَّبُ) অর্থাৎ, হযরত মা'রূফ কারখী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার ক্ববর একটি পরীক্ষিত প্রতিষেধকস্বরূপ। এর ব্যাখ্যায় এসেছে, (يُرِيدُ إِجَابَةَ دُعَاءِ الْمُضْطَرِّ عِنْدَهُ؛ لِأَنَّ الْبِقَاعَ الْمُبَارَكَةَ يُسْتَجَابُ عِنْدَهَا الدُّعَاءُ) অর্থাৎ, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, উনার ক্ববরের পাশে বিপদগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করলে সেই দোয়া ক্ববুল হওয়া। কেননা বরকতময় স্থানসমূহে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট করা দোয়া ক্ববুল হয়। (সূত্রঃ সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪৩ ও ৩৪৪।)

ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি একই আলোচনায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দোয়া যেকোনো স্থানেও ক্ববুল হতে পারে।

এখানে বক্তব্যটি ভারসাম্যপূর্ণভাবে বুঝতে হবে। কোনো ক্ববর নিজে দোয়া ক্ববুলের মালিক নয়। কোনো মাজার স্বাধীনভাবে বিপদ দূর করার ক্ষমতাও রাখে না। কিন্তু বরকতময় স্থানে আল্লাহর নিকট দোয়ার ক্ববুলিয়াতের বিশেষ আশা রাখার ধারণা ইসলামী বিদ্বৎঐতিহ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এটি ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে উপস্থিত।

৯. উছিলার বিষয়ে আল-ক্বুরআন শরীফের নির্দেশ

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ) অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং উনার নৈকট্য অর্জনের জন্য উছিলা অনুসন্ধান করো। (সূত্রঃ ছূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩৫।)

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নৈকট্য অর্জনের জন্য উসিলা অনুসন্ধানের নির্দেশ রয়েছে। আয়াতের সরাসরি শব্দে আওলিয়ায়ে কিরামের মাজারের উল্লেখ নেই। তাই মাজারে গিয়ে দোয়ার বিশেষ ফযীলত এই আয়াত নির্ধারণ করে না। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বৈধ মাধ্যম অনুসন্ধানের সাধারণ নীতিটি এতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

আর ছহীহ বুখারী ১০১০ নম্বর হাদিছে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা য়ানহু কর্তৃক হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা য়ানহু উনার মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য জিবিত কারো উসিলা গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে। আর মৃতদের বিষয়ে ইমাম ইবনে হিব্বান এবং ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহিমা উনাদের পূর্বোক্ত দলিল তো মওজুদ আছে।

১০. তাহলে মাজারে গিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা শিরক কেন হবে?

এখন আমি মূল প্রশ্নে ফিরে আসছি।

একজন মুমিন মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নেককার বান্দার ক্ববর শরীফে গেলেন। তিনি সেখানে ক্ববরবাসীকে ইলাহ মনে করলেন না। স্বাধীন ক্ষমতার অধিকারী মনে করলেন না। মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পরিবর্তে কাউকে দোয়া ক্ববুলের মালিকও মনে করলেন না।

তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সেই মাহবুব বান্দার মর্যাদা ও বরকতের আশা নিয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট প্রার্থনা করলেন।

এখন তাঁর এই কাজটিকে শিরক বলার ভিত্তি কোথায়? ক্ববরের পাশে দাঁড়ানো কি শিরক? মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা কি শিরক? নেককার বান্দার মর্যাদা ও বরকতের আশা রাখা কি শিরক? নাকি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মাহবুব বান্দাকে এমন স্বাধীন ঐশী ক্ষমতার অধিকারী মনে করা শিরক, যা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা উনার জন্য নির্দিষ্ট?

এই বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য। আমি এটিও পরিষ্কার করছি যে, ক্ববরকে ছ্বলাতের নির্ধারিত ইবাদতস্থান বানানো, ক্ববরের উদ্দেশ্যে সিজদা করা অথবা ক্ববরবাসীকে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সমকক্ষ ক্ষমতার অধিকারী মনে করা আমাদের আলোচ্য আমল নয়। আমাদের নিকট এইসব যায়েজ ও নয়।

এখানে আলোচনা হচ্ছে মাজার যিয়ারত করে সেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা এবং নেককার বান্দার মর্যাদা ও বরকতের কারণে সেই দোয়ার বিশেষ ক্ববুলিয়াতের আশা রাখা।

মিসরের দারুল ইফতা ৬৫৩৩ নম্বর ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, আওলিয়া ও নেককার বান্দাগণের ক্ববর যিয়ারত করে তাঁদের ক্ববরের পাশে আল্লাহর নিকট দোয়া করা শরীয়তসম্মতভাবে জায়েয এবং সেখানে দোয়ার ক্ববুলিয়াতের বিশেষ আশা রাখা যায়।

সুতরাং ক্ববরের পাশে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করার এই আমলকে নির্বিচারে শিরক সাব্যস্ত করা কোনো সুবিচারপূর্ণ দালিলিক অবস্থান নয়।

আমার চূড়ান্ত বক্তব্য

আমি আবারও পরিষ্কার করতে চাই, এখানে আমার দাবি এই নয় যে, প্রত্যেক মাজারে প্রত্যেক দোয়া অবশ্যই ক্ববুল হবে। অথবা প্রত্যেক অলী প্রত্যেক আগন্তুকের জন্য অবশ্যই দোয়া করবেন।

আমার বক্তব্য হলো, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মাহবুব বান্দাগণের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। নেককার বান্দাগণের উপস্থিতিতে দোয়া ও তাবাররুক মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাখ্যা মুহাদ্দিছগণের শরহে রয়েছে। তাঁদের ইন্তিকালের পরও বারযাখী জীবনের বাস্তবতা রয়েছে। আর উনাদের ক্ববরের পাশে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়ার ক্ববুলিয়াতের পক্ষে প্রাচীন মুহাদ্দিছগণের আমল ও বক্তব্য রয়েছে।

একটি মোরগ ফেরেশতা দেখার কারণে সেই উপলক্ষে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করার নির্দেশ পাওয়া যায়। ইমাম নববী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি সেই হাদিছ থেকে নেককার বান্দাদের উপস্থিতিতে দোয়ার ইস্তিহবাব নির্ণয় করেন। আওনুল মা'বূদে নেককারদের উপস্থিতিতে রহমত নাযিল হওয়ার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

অপরদিকে মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই মুহছিনগণের প্রতি উনার রহমতের বিশেষ নৈকট্য ঘোষণা করেছেন। ছহীহ বুখারী ৬৫০২ নম্বর হাদিছে উনার মাহবুব বান্দার দোয়া ক্ববুলের বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এখন এই দলিলসমূহের সঙ্গে ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার বাস্তব আমল এবং ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার বক্তব্য যুক্ত করলে একটি সুসংহত ইস্তিদলাল প্রতিষ্ঠিত হয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নেককার মাহবুব বান্দাগণের মাজারে গিয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা শিরক নয়। বরং তাঁদের বরকত ও মর্যাদার কারণে সেখানে দোয়ার ক্ববুলিয়াতের বিশেষ আশা রাখা যায়, এমন একটি প্রাচীন আলিমি অবস্থানের পক্ষে উল্লেখযোগ্য দলিল রয়েছে।

এখানে মাজারকে উপাস্য বানানো হচ্ছে না। আওলিয়ায়ে কিরামকেও মহান আল্লাহ তায়ালা উনার অংশীদার সাব্যস্ত করা হচ্ছে না। বরং সব প্রার্থনা, সব আশা এবং সব ক্ববুলিয়াতের চূড়ান্ত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকেই মানা হচ্ছে।

আর যে বিষয়ে প্রাচীন মুহাদ্দিছ ও ইমামগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মতের অস্তিত্ব রয়েছে, সেই বিষয়কে অবলম্বন করে কোনো মুমিনকে নির্বিচারে মুশরিক আখ্যা দিয়ে নিজেকে ছালাফি বা আহলে হাদিছ বলাই হাস্যকর।

মতভেদ থাকলে দলিল দিয়ে আলোচনা করুন। ইস্তিদলালে দুর্বলতা মনে হলে তার জবাব দিন। কিন্তু শরীয়তসম্মত দোয়া ও শিরককে এক করে ফেলবেন না।

মহান আল্লাহ তায়ালা উনার মাহবুব বান্দাগণের মর্যাদা স্বীকার করা, তাঁদের প্রতি আদব রক্ষা করা এবং তাঁদের বরকতের আশায় একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট দোয়া করা আর মহান আল্লাহ তায়ালা উনার ইবাদতে কাউকে শরীক করা এক বিষয় নয়।

শিরক নির্ধারণের জন্য শিরকের হাক্বিকত প্রমাণ করতে হবে। শুধু কোনো নেককার বান্দার মাজারের পাশে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করার কারণে কাউকে মুশরিক প্রমাণ করা যায় না।

মূল কিতাবের সূত্র

ছহীহ বুখারীঃ হাদিছ ৩৩০৩, ৬৫০২ ও ১০১০।

ছহীহ মুসলিমঃ হাদিছ ২৭২৯ ও ২৩৭৫।

ইমাম নববী, আল-মিনহাজ শরহু ছহীহ মুসলিমঃ ১৭তম খণ্ড, মোরগের ডাক শুনে দোয়ার ইস্তিহবাবের অধ্যায়।

শামছুল হক্ব আযীমাবাদী, আওনুল মা'বূদঃ ১৪তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬, ছুনান আবূ দাঊদ ৫১০২-এর শরহ।

ইমাম ইবনে হিব্বান, আছ-ছিক্বাতঃ ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৫৭, হযরত য়ালী ইবনে মূছা আর-রিদ্বা উনার জীবনী।

ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালাঃ ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪৩ ও ৩৪৪, হযরত মা'রূফ কারখী উনার জীবনী।

মুছনাদে আহমদঃ হাদিছ ১২৬৮৩, ছনদের মূল্যায়নে মতভেদ রয়েছে।

দারুল ইফতা আল-মিছরিয়্যাহঃ ফতোয়া ৬৫৩৩, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫, الدعاء عند قبور الصالحين وبيان فضله।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 ফেইসবুক: