12.08.2017

উগ্রপন্থী হিন্দুরা(বিজেপি নেতা কাটিয়া) এবার দিল্লি জামে মসজিদ’কে 'যমুনা দেবীর মন্দির' বলে দাবি করছে

উগ্রপন্থী হিন্দুরা(বিজেপি নেতা কাটিয়া) এবার দিল্লি জামে মসজিদ’কে 'যমুনা দেবীর মন্দির' বলে দাবি করছে


উগ্রপন্থী ইসলাম বিদ্বেষী বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়া এবার দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদকে 'যমুনা দেবীর মন্দির' বলে দাবি করেছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে সে এই মন্তব্য করে বলে, মোঘল সম্রাটরা নাকি প্রায় ছয় হাজার হিন্দু স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। সেই সূত্রে বর্তমান দিল্লির জামে মসজিদ মূলত যমুনা দেবীর মন্দির আর তাজমহল ছিলো তেজো মহালয়া। কমপক্ষে সাড়ে ছয় হাজার এমন হিন্দু স্থাপনা রয়েছে জানিয়ে সে বলে, যদি রাম মন্দির নিয়ে নিষ্পত্তি না হয় তাহলে সবগুলো দাবি করা হবে। সে বলে, অযোধ্যায় কেবল হিন্দুদের দাবি থাকতে পারে, আর কারো নয়। অযোধ্যায় পুজো হচ্ছে, তা হতে থাকবে। ওই ভূমি রামের এবং রামেরই তা থাকবে। বিনয় কাটিয়ার আরও বলে, ‘আমরা কেবল তিন স্থানের দাবি জানিয়েছি। রামের জন্মস্থান, কৃষ্ণের জন্মস্থান এবং বিশ্বনাথ মন্দির। অন্যথায় জামে মসজিদও যমুনা মন্দির ছিল এবং তাজমহলও তেজোমহালয়া মন্দির ছিল। আমরা বিতর্ক বাড়াতে চাই না যদি মন্দির নির্মাণ হয় তাহলে বিতর্ক শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে, উগ্রপন্থী ইসলাম বিদ্বেষী বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার ওই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম ফেডারেশনের সভাপতি ইমাম সাজিদ রশিদি। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে এসব লোক দেশে বিদ্বেষের রাজনীতি এবং সন্ত্রাস ছড়াতে চায়। তারা দেশকে হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু এই দেশ হিন্দু রাষ্ট্র হতে পারে না, কারণ এটি বহু সংস্কৃতির দেশ। অন্যদিকে, বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির ইস্যুতে অন্ধ্র প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক টি রাজা বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় যদি হিন্দুদের পক্ষে না যায় তাহলেও ২০১৯ সালে রাম মন্দির নির্মাণ শুরু করে দেয়া হবে। ২০১৯ সালের পরে কাশী ও মথুরাতেও মন্দির নির্মাণ শুরু করা হবে বলেও সে ঘোষণা দেয়।

মন্তব্যঃ আসলে এগুলো মুসলমানদের প্রাপ্য নাহলে মুসলমান এইসব হিন্দুদের ভাই বলা ছেড়ে দিতো বন্ধু ভাবা ছেড়ে দিতো কারন কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদের সব চেয়ে বড় শত্রু। আর শত্রু কখনোই বন্ধু হতে পারে না।

যেমন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেনঃ “নিশ্চয়ই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদীঅতঃপর মুশরিক(হিন্ধুরা)।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফঃ পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২) অর্থাৎ খাছভাবে ইহুদী ও মুশরিকরা(হিন্ধুরা) মুসলমানদের সবথেকে বড় শত্রু আর আমভাবে সমস্ত কাফিররাই মুসলমানদের শত্রু। তাহলে যারা মুসলমান উনাদের শত্রু তারা কি করে মুসলমান উনাদের বন্ধু হতে পারেকস্মিনকালেও তারা বন্ধু হতে পারে না।

এই ব্যপারে আরো কতিপয় আয়াত শরীফ পেশ করা হলো পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ থেকে নিচে।

১) খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন পরিষ্কার বলতেছেন কালামুল্লাহ শরিফে যে “নিশ্চয়ই কাফিররা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু” । (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৯৮) এতএব তুমি তাদেরকে বন্ধু ভাবার মানেই হলো খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার সাথে শত্রুতা করা।

২) এখানে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল ইজ্জত বলছেন “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুকে ভক্তি বা শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে গ্রহণ করোনা।” (পবিত্র সূরা মুমতাহিনা শরীফঃ আয়াত শরীফ ১) তাহলে কিভাবে ঐ কাফেরগনের জন্যে এতো দরদ তুমার অন্তরে কেনো এতো বিনম্র শ্রদ্ধা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার হুকুমকে অমান্য করে?

৩) দেখেন আপনি যদি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার হুকুম মানেন যদি মনে করেন পবিত্র কিতাব আল কুরআন উল কারিম উনার হুকুম মানা অবশ্যই ফরজ তাহলে দেখুন কি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আপনাকেঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৫১) তাহলে দেখা যাচ্ছে তাদের বন্ধুর চেয়ে বেশি আপন মনে করে আপনিও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার থেকে খারিজ হয়ে তাদের মতো ইহুদি নাসারা মুশ্রিক হয়ে গেছেন।

৪) কোনো মুমিন মুসলমান যেনো ভিন্ন ধর্মের কোনো ব্যক্তিকে মনে প্রানে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে যদি করে থাকে তাহলে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত এবং খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা উনার সাথে সম্পর্ক চ্ছেদ হয়ে যাবে আর এ ব্যপারে পবিত্র কুরআন উল কারিমে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ইরশাদ মোবারক করেন যে “মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ব্যতীত কাফেরদিগকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার কোন সম্পর্ক থাকবে না ”(পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফঃ আয়াত শরিফ ২৮)

৫) কুফরি কোন বিষয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করার অর্থ হলো খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার বক্তব্যের বিরূদ্ধে তাদের নিজের মনগড়া বক্তব্য মেনে নেয়া৷ আর তাদের বিশ্বাসহীনতা সম্পর্কে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন “তুমি কি তাদেরকে দেখনিযারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছেযারা মান্য করে মূর্তি ও শয়তানকে এবং কাফেরদেরকে বলে যেএরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে। কিন্তু এরা হলো সেই সমস্ত লোকযাদের উপর লা`নত করেছেন স্বয়ং খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি নিজে। বস্তুতঃ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি যার উপর লা`নত করেন আপনি তার জন্যে কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবেন না। (পবিত্র সূরা আন নিসা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৫১-৫২)

৬) যে ইহুদি খ্রিষ্টান কাফের মুশরিকদেরকে আপনি হৃদয়ের অন্তস্থলে অতি যতনে প্রেমিকের মতো রেখেছেন তাদের ব্যপারে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি স্পষ্ট বলতেছেন যে “হে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে নাযে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিনযে পথ খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি প্রদর্শন করেনতাই হলো সরল পথ। আর উম্মত যদি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেঐ জ্ঞান(আল কোরআন উল কারিম) লাভের পরযা আপনার কাছে পৌঁছেছেতবে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার কবল থেকে তাদের উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী হিসেবে কেউ থাকবেনা” (পবিত্র সূরা আল বাক্বারাহ শরীফঃ আয়াত শরিফ ১২০) তাহলে আপনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ অমান্য করে কি হওয়ার চেষ্টায় আছেন?

৭) কাফিরদের মমতা-ভালবাসা পাওয়ার চেষ্টা করার অর্থ হলো পবিত্র দ্বীন ইসলামকে ত্যাগ করে তাদের সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কযুক্ত করা৷ “খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি এরকম কাজ করতে নিষেধ করেছেনখালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেনঃ ”যারা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার উপর ও পরকালে বিশ্বাস করেহে নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি তাদেরকে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার ও উনার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন নাযদিও তারা তাদের পিতাপুত্রভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। (পবিত্র সূরা আল মুজাদালাহ শরীফঃ আয়াত শরিফ ২২)

এখন দেখা গেলো পবিত্র আয়াত শরিফ অনুসারে তাদের সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ হারাম কেউ করলে নির্ঘাত ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবেযদিও এগুলো পবিত আল কোরআন উল কারিম উনার সম্মানিত আয়াত শরীফ কিন্তু আপনি এগুলো এই বাংলার ওয়াজিদের মুখে শুনতে পাবেন না কারন এরা সবাই কাফেরদের ভয় পায় নয় দালালি করে যদিও প্রকৃত মুসলিম মহান খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করতে পারেনা।

আর শুধু বন্ধুত্ব নয় পবিত্র হাদিস শরীফ দ্বারা এদের সাথে কুনো কাজের মিল রাখাও হারাম মানা না মানা আপনার ব্যপারঃ হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছেঃ “হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে এবং তিনি রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দাদা থেকে বর্ণনা করেন যেনবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেনঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়যে বিজাতীয়দের(সমস্থ বিধর্মী তথা হিন্ধুবৌদ্ধইহুদিখ্রিস্টান) সাথে সাদৃশ্য রাখে।” (পবিত্র মিশকাত শরীফ)

আর কাফের মুশ্রিকের সাথে বন্ধুত্ব তো অনেক দূর “ফাসিক ও বিদয়াতীদের পর্যন্ত সম্মান করা হারাম” এই মর্মে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেনঃ “যখন কোন ফাসিক (ফরজ-ওয়াজিব ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা তরক্বকারী)-এর প্রশংসা করা হয় তখন খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আরশ প্রকম্পিত হয়।” নাঊজুবিল্লাহ !

এমনকি “যেকোন বিদয়াতী লোককে সম্মান করলোসে যেন ইসলাম ধ্বংসে সহযোগিতা করলো।” নাঊজুবিল্লাহ ! (বায়হাক্বী শরীফমিশকাত শরীফ)

তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে কাফিরফাসিক ফুজ্জারদেরকে সম্মান করা যাবে না বন্ধুত্ব করা যাবেনা কিন্তু তাদের সাথে কথা বলা যাবে চলাফেরা করা যাবে যতটুকু প্রয়জন ঠিক ততটুকু আর কথা বলতে হবে এই খিয়ালে যে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তাদেরকে হেদায়াত করুন।

উপরের আয়াত শরীফ পড়ার পরেও যারা নিজের জিদের অহংকারের বশবর্তী হয়ে পবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও সুন্নাহমোবারক উনাদের আয়াত শরীফ সমূহ দেখেও পরোয়া করে না তাদের ব্যপারে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিঃ সূরা আল জাসিয়া শরীফঃ উঁনার ৭-১১ আয়াত শরীফে মহান খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এরশাদ মোবারক করেনঃ প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ। সে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উঁনার আয়াত শরীফ সমূহ শুনেঅতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরেযেনো সে আয়াত শরীফ শুনেনি। অতএবতাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যখন সে আমার কোন আয়াত শরীফ অবগত হয়তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে(ইবাদতের মাধ্যমে)তা তাদের কোন কাজে আসবে নাতারা খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উঁনার পরিবর্তে যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে(ইবলিশের অনুসারিদের) তারাও নয়। তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি। এই কালামুল্লাহ শরীফ সৎপথ প্রদর্শন করেনআর যারা তাদের পালনকর্তার আয়াত শরীফ সমূহ অস্বীকার করেতাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

এবং যারা কিতাবের অর্ধেক মানে এবং নিজের বিপক্ষে যাওয়ার কারনে বাকি অর্ধেক মানেনা তাদের ব্যপারে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সুরা বাক্বারা শরীফ উনার ৮৫ নাম্বার আয়াত শরিফে ইরশাদ মোবারক করেনঃ তবে কি তোমরা কিতাবের কিয়দাংশ বিশ্বাস করো এবং কিয়দাংশ অবিশ্বাস করোযারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি আমাদের বোঝার তৌফিক দিন আমীন
ভারতে উগ্রপন্থী হিন্দুরা নিরীহ মুসলিম যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করলেও মুসলমানদের চেতনাদন্ড খাড়া হচ্ছেনা

ভারতে উগ্রপন্থী হিন্দুরা নিরীহ মুসলিম যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করলেও মুসলমানদের চেতনাদন্ড খাড়া হচ্ছেনা


২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি দেখে শেষ করতে পারিনি। এরকম বিভৎসতা দেখতে প্রচণ্ড মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। 'রামদা' দিয়ে মোহম্মদ আফরাজুল খানকে ক্রমাগত কুপিয়ে যাচ্ছে গুজরাটি উগ্রপন্থী হিন্দু রাজপুত শম্ভুলাল। 

হত্যার পুরো দৃশ্যটি ভিডিও করেছে হত্যাকারীর ঘনিষ্ঠ কেউ, চমৎকার বিকৃত মানসিক সাহস এদের। ভিডিওটিতে মোহম্মদ আফরাজুল খান চিৎকার করে বলছেন,“বাবু ছোড় দো, জান বখশ দো, বাবু জান বখশ দো বাবু জান বখশ দো" খুনি উগ্রপন্থী হিন্দু শম্ভুলালের দয়ার উদ্রেক হয়নি। তার সুস্থ সবল শরীরে ততক্ষনে রামদায়ের আঘাত গোশত ভেদ করে হাড়ে চলে গেছে। আস্তে আস্তে তার প্রানবন্ত দেহ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লো। তারপর ঠান্ডা মাথায় শম্ভুলাল ব্যাগ থেকে পেট্রোলের বোতল এনে শহিদ আফরাজুলের শরীরে ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিল। পুড়ে মরলো একটি দেহ আর তার সাথে পুড়লো মানবতা। ক্যামেরার সামনে এরকম পরিকল্পিত ঠান্ডা মাথায় খুন কেবল আইএসআইএসের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। খুনির বয়ান থেকে জানা যায় আফরাজুলের অপরাধ সে একজন হিন্দু মেয়েকে ভালবাসেছিল সেই মেয়েটির চরম ভালোবাসার আহব্বানে। হিন্দুত্ববাদীরা যার নাম দিয়েছে লাভ জিহাদ। এই নৃশংস হত্যাকান্ডটি ঘটেছে ভারতের গুজরাটে।





এই সেই ঘাতক উগ্রপন্থী হিন্দু সন্ত্রাসি খুনি
শুধু কি তাই? এই খুনের পর শম্ভুলালের দম্ভোক্তিঃ- লাভ জিহাদীও ইসি তারাহ আনজাম হোগা তুম লোগোকা, হর ভারতীয় তুমহে নেহী ছোড়েঙ্গে।

ভারতে এই মুসলিম হত্যার উৎসব শুরু হয়েছ আখলাককে হত্যার মধ্য দিয়ে। আখলাক তার রক্ত-গোশতের গন্ধ দিয়ে এক অদ্ভুত নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলেন গেরুয়া হিন্দু উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীদের। তাই শুধু একটা আখলাক এর নিথর দেহ হিন্দুত্ববাদের রক্তের স্রোতকে আটকাতে পারেনি। তার জন্য আখলাকের দেহের উপর থরে থরে সাজাতে হয়েছে পেহলু খান, জাফর, জুনাইদ এর লাশ। সর্বশেষ মোহাম্মদ আফরাজুল খান। ২ বছরে গুনে গুনে ২৯ লাশ! গোটা ভারত জুড়ে ক্রমেই বেড়ে চলেছে হিন্দুত্ববাদীদের মুসলিম হত্যার উৎসব। কেউ কি জানে এই নৃশংসতার শেষ কোথায়?

12.07.2017

এমন কোন কাটমিস্ত্রী এবং এমন কোন শিশু কি এই যামানাতে নাই?

এমন কোন কাটমিস্ত্রী এবং এমন কোন শিশু কি এই যামানাতে নাই?


১৯৬৯ সালে এক অস্ট্রেলীয় ইহুদী নাগরিক পবিত্র আল আকসা শরীফ মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন বেশ বড় আকার ধারণ করেছিলো। যার ফলে পবিত্র এই মসজিদের পূর্বপাশটা পুরোপুরি পুড়ে যায়। ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডামায়ার ওইদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন- ওই দিন সারা রাত আমার ঘুম হয় নি। আমার কেবলই মনে হচ্ছিলো আজকে ইসরাইলের শেষ দিন। এখনি আরবরা চতুর্দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়বে। কিন্তু যখন সকাল হল এবং আমার কোন আশংকাই বাস্তব হলো না তখন আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে, এখন থেকে ইসরাইল নিরাপদ। আরবরা এখন ঘুমন্ত জাতি। আমরা তাদের এই ঘুম আর ভাঙতে দেব না

গত ১৪ই জুলাই ঘটনা শুরু হওয়ার পর লাগাতার ৬ দিন পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে পবিত্র আযান, পবিত্র নামায সব বন্ধ ছিল। প্রথম ৩ দিন কোন ফিলিস্তিনিকেই পবিত্র মসজিদুল আকসা শরিফে ঢুকতে দেয়া হয় নি। সেখানে ইসরাইলী সেনা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদলের প্রতিনিয়ত আনাগোনা ছিল। তারা সেখানে তিন দিন ধরে কী করেছে তা কেউ জানে না। আল-আকসার ওয়াকফ সম্পত্তি এবং কুদসের মুসলমানদের সব ডেমোগ্রাফিক ডকুমেন্ট সেখানে রক্ষিত থাকে। সেগুলো এখনও সংরক্ষিত আছে কি না সে ব্যাপারে চরম দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

৬৯ সালের ঘটনাটির পর এটিই হচ্ছে পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় হামলা। কাতার, তুরস্ক, জর্ডান, বাংলদেশ ছাড়া মুসলিম নামধারী আর কোন মুনাফিক রাষ্ট্র এই ঘটনার নিন্দা জানায় নি। যারা সন্ত্রাসের দোহায় দিয়ে একটি মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাদের মুখ দিয়ে পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের জন্য একটি বাক্যও বের হয় নি।
.
যারা পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের ব্যাপারে নির্লিপ্ত আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, তারা পবিত্র আল হারামাইনের ব্যাপারেও নির্লিপ্ত থাকবে শিউর।

পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের ঘটনার পরে ফিলিস্তিনের টিভি চ্যানাল আল- আকসার একজন সাংবাদিক ৩০ জন সৌদি আলেমের সাথে যোগাযোগ করে চলমান ঘটনা সম্পর্কে কিছু বলার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করেন। তাদের মধ্যে একজনও সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয় নি। তারা মহান আল্লাহ পাক উনার চেয়ে তাদের শাসকদেরকে বেশী ভয় করে নাউযুবিল্লাহ। তাদের আনুগত্য করাকে বেশী প্রাধান্য দেয় নাউযুবিল্লাহ। এরাই আবার কথায় কথায় শিরক আর কুফুরের ফতোয়া মারে নাউযুবিল্লাহ!!!


গতকাল ইসরাইলী পত্রিকা মাআরিফলিখেছে- ইসরাইল হচ্ছে সৌদি আরবের গোপন প্রেমিকা। এখন আর গোপন অভিসার নয়, প্রকাশ্যেই মৈত্রী করতে চায়। ওইদিন ইউটিউবে একটি ভিডিও শুনছিলাম। ফিলিস্তিনের আল খলীল শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক ইহুদী ফিলিস্তিনিদেরকে চরমভাবে গালি দিচ্ছে আর বলছে- তোদের মাথা থেকে ফিলিস্তিনের ভুত এখনও নামে নি? দেখ, মিসর, জর্ডান। সৌদি আরব সব আমাদের পক্ষে এখন। জাহান্নামে যাক তোদের ফিলিস্তিন।

একটি ঘটনা বলে শেষ করছিঃ- ১০৯৯ সালের পরের কোন এক সময়। তখন কুদস খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের দখলে। বাগদাদ শহরে একজন কাঠমিস্ত্রি থাকতো। লোকটি একদিন খুব সুন্দর একটি মিম্বার বানালেন। চারিদিক থেকে লোকেরা দলে দলে এসে মুগ্ধ হয়ে মিম্বারটি দেখছে। ক্রেতারা বেশ চড়া মুল্য দিয়ে হলেও মিম্বারটি কিনতে চায়। কিন্তু বুড়োর এক কথা- তিনি এটি বিক্রি করবেন না। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো- তা হলে আপনি এতো কষ্ট করে এটি বানালেন কেন? তখন মিস্ত্রি উত্তর দিলেন- এটি বানিয়েছি পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে লাগানোর জন্য। লোকেরা তার কথা শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফ এখনও খ্রিষ্টানদের দখলে আর এই বুড়ো বাগদাদে বসে তার জন্য মিম্বার বানাচ্ছে। কেউ কেউ তাকে পাগলও ঠাওরাল। তখন বৃদ্ধ কাঠমিস্ত্রি বললেন- এটিই তো আমার পেশা। আমি তো আর যোদ্ধা নই। তার উপর আবার বৃদ্ধ। তো আমার যা সাধ্যে আছে তা-ই পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফের জন্য ব্যায় করছি। আমার কাজ মিম্বারটি বানানো। সেটি পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে বসানোর লোক মহান আল্লাহ পাক তিনি ঠিক করে দেবেন। ওইদিন একজন শিশুও উনার বাবার হাত ধরে ওই কাঠমিস্ত্রির মিম্বারটি দেখতে গিয়েছিলেন। ঠিক একদিন সেই শিশুটির হাতে পবিত্র আল কুদস শরীফ বিজয় হয়, এবং তিনি মিম্বারটি সংগ্রহ করে নিজ হাতে তা পবিত্র মসজিদুল আকসা শরীফে লাগিয়ে দেন। শিশুটির ছিলেন সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহি !!!