2.06.2018

ভেবেছিলাম হালাল প্রেম করার জন্য সুন্নাহ অনুযায়ী ছেলেমেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেব

ভেবেছিলাম হালাল প্রেম করার জন্য সুন্নাহ অনুযায়ী ছেলেমেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেব


ভেবেছিলাম রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নাহ অনুযায়ী ছেলেমেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেব। সংসার করার জন্য নয়, প্রেম করার জন্য। ওরা আমাদের সাথে থাকবে, লেখাপড়া করবে, পড়ায় একে অপরকে সহযোগিতা করবে, পার্কে যাবে, বাদাম খাবে, হাত ধরে হাঁটবে।  সচরাচর প্রেম করার সময় মানুষ যা করে তাই করবে কিন্তু বৈধ উপায়ে। তারপর যখন লেখাপড়া শেষ হবে তখন ওরা চাইলে পুরোদস্তুর সংসার করার জন্য নীড় ছেড়ে উড়াল দিতে পারে।

কিন্তু কথাটা যত জনের সাথেই আলাপ করেছি, অধিকাংশেরই প্রতিক্রিয়া দেখে অবাক হয়েছি যেন এএক অভিনব ভাবনা! অনেকেই হাসে, কেউ কেউ লেখাপড়ার প্রয়োজনীতার প্রতি লক্ষ্য রাখার উপদেশ দেয়, কেউ কেউ বাস্তবতার প্রতি নির্দেশ করে বলে, ‘বিয়ে করলে খাওয়াবে কি?’ সব মিলিয়ে কেন যেন মনে হয় সন্তানের চরিত্রের চেয়ে সন্তানের লেখাপড়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তার আখিরাতের চেয়ে তার দুনিয়া অনেক বেশি জরুরী।

আমি একজন মেয়ে হয়েও বারো বছর শিক্ষকতা করেছি, স্কুল এবং ইউনিভার্সিটি মিলিয়ে; চার বছর ছাত্রছাত্রী পড়িয়েছি ক্যানাডায়, বাসায় এবং প্রতিষ্ঠানে। আজীবন পড়াশোনা করেছি কো-এজুকেশনে, ইন্টারের দুই বছর ব্যাতীত। আমি হলফ করে বলতে পারি-দেশে হোক বা বিদেশে, কো-এজুকেশন হোক কিংবা সমলিঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, হোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিংবা এর বাইরে - বজ্রকঠিন দৃঢ়তা ব্যাতীত সেই সময়টা নিজেকে ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব যখন যৌবনের সমস্ত হরমোন আপনাকে আহ্বান করছে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি। অসংখ্য ছেলেমেয়ে দেখেছি যাদের লেখাপড়া হয়েছে, কিন্তু জীবনটা হয়ে গিয়েছে এলোমেলো। আপনি আপনার মালিকের নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করবেন অথচ এর মাশুল আপনাকে দিতে হবেনা এমনটা কি করে হয়? উনার করুণার ছায়া কেবল তখনই আপনাকে পরিবেষ্টিত করে রাখবে যখন উনার বিধিনিষেধকে আপনি কাঁচকলা দেখাবেন না, কিন্তু অল্প বয়সে এত কিছু মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার মত বুদ্ধি বিবেচনা কয়টা ছেলেমেয়ের থাকে? আপনি আপনার সন্তানকে প্রলোভনের মাঝে সাঁতার কাটতে দেবেন আর মনে মনে নিশ্চিত বোধ করবেন সে ওপারে নিরাপদে ভেসে উঠবে, সেটা কি কল্পনাবিলাস নয়? এর অর্থ এই নয় যে আপনি তার ওপর আস্থা রাখবেন না, কিন্তু আপনার বিশ্বাসটা যেন তার ওপর বোঝা হয়ে না যায় সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। মহান আল্লাহ পাক কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা দেন না (সুরা বাক্কারা শরীফ ২৮৬), তাই তিনি প্রত্যেকের জন্য সঙ্গী নির্ধারণ করে রেখেছেন (সুরা ইয়াসিন শরীফ ৩৬) যেন প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের কাছে থেকে বন্ধুত্ব এবং প্রশান্তি লাভ করা যায় (সুরা রূম শরীফ ২১)। কিন্তু আপনি যদি তৃষ্ণার্তকে পানির উপস্থিতিতে পানি পান করতে বারণ করেন, তাহলে গুড লাক, পরিণতি কি হবে আমার বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই।

খাওয়াবে কি? বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, আপনার পরিবারকে কি আপনি খাওয়ান? যদি তাই মনে করে থাকেন তবে আপনার ঈমানে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। কারণ আপনি মহান আল্লাহ পাককে চ্যালেঞ্জ করেছেন যিনি বলেছেন উনার সকল সৃষ্টির রিজিকদাতা তিনি (সুরা যারিয়াত ৫৮)। মনে আছে সুলাইমান আলাইহিস সালামের কথা? তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিকুলকে একবেলা খাওয়ানোর আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু শুধু পিঁপড়েরাই সমস্ত খাবার সাবাড় করে দিয়েছিল। চাইনিজদের মত হিসেব করা বোকামী, যারা হিসেব কষে নির্ধারণ করে তাদের বর্তমান আয়ে তারা ঠিক দেড়টা সন্তান লালন করতে পারে! অথচ আমাদের জীবনের ফ্যাক্টরগুলো কোনটিই স্থির কিংবা নিশ্চিত নয়; এগুলো পরিবর্তিত হয়, হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাহলে আমরা কিসের ওপর ভিত্তি করে ধরে নিচ্ছি আমার সন্তান চরিত্র খুইয়ে হলেও কোনক্রমে লেখাপড়া শেষ করে, চাকরী পেয়ে তারপর বিয়ে করলে তার আর কোন চিন্তা নেই?! আমার এক বান্ধবী বলতেন তিনি এবং তাঁর মা তাঁর মামাদের আনা অসংখ্য বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বিদেশে বিয়ে করবেন না বলে। তারপর দেশী পাত্রের সাথেই তাঁর বিয়ে হোল। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর জীবনের প্রয়োজনে সেই দেশী পাত্র বিদেশী হতে বাধ্য হোল। ভাগ্যের ওপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তা নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়াটাও বোকামী। কিন্তু এখানে আমার কাছে মূলত দৃষ্টিভঙ্গিটাই সমস্যা বলে মনে হয়। ছেলে যদি বিয়ের পরেও বাবামায়ের দায়িত্বে থাকে, মেয়ে থাকে তার নিজের বাবামায়ের দায়িত্বে, কিংবা অবস্থাপন্ন হলে উভয় পরিবার মিলেমিশে দুজনের দেখাশোনা করে তাহলে উভয়ের সন্তানদের চরিত্র সংরক্ষিত হয়। কিন্তু আমরা নিজেরএবং পরেরহিসেব থেকে উত্তীর্ণ হতে পারিনা। ভাবতে পারিনা ছেলের বৌ মানেই ঘরে একজন বাড়তি কাজের লোক নয়, কিংবা মেয়ের জামাই মানেই মেয়েটাকে হাতপাসমেত তার ঘাড়ের ওপর তুলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। শিক্ষিত ছেলের বৌ আমার নাতিনাতনীদের জন্য একজন উত্তম মা হবে, শিক্ষিত মেয়েজামাই আমার মেয়েকে উত্তম দিকনির্দেশনা দিতে পারবে। এটা আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষুদ্রতার ফসল যে এই বিভেদগুলো থেকে উত্তরণ করতে না পারার কারণে আমরা আমাদের সন্তানদের বিয়ে পিছিয়ে দেই দশকের পর দশক, ওদের প্রয়োজনের প্রতি কোনপ্রকার ভ্রূক্ষেপ না করেই।

চাকরী বাকরী খুঁজতে গেলেই একটা শব্দের মুখোমুখি হতে হয়, আপনি মাল্টিটাস্কারকিনা। একই সময়ে নানানপ্রকার কাজ ম্যানেজ করতে পারার দক্ষতাকে বলা হয় মাল্টিটাস্কিং। মাল্টিটাস্কিং ব্যাক্তির যোগ্যতার মাপকাঠি। আমরা আমাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকে এক গ্লাস পানিও ঢেলে খেতে দেইনা, যেন এটাই স্নেহের মাপকাঠি! অথচ এর ফলে আমরা গড়ে তুলছি একটি কুঁড়ে, অকর্মন্য এবং অযোগ্য প্রজন্ম যারা নিজেদের কাজগুলো নিজেরা বুঝে করতে পারেনা, প্রতিকুল পরিস্থিতি সামাল দিতে অক্ষম, বিপদ এলে মুষড়ে পড়ে। অথচ আপনার সন্তানরা যত বেশি যোগ্যতা ধারণ করবে তা তাদের চলার পথকে তত বেশি সাবলীল করবে। সফল বাবামায়েদের যোগ্যতার প্রমাণ আত্মনির্ভরশীল সন্তান গড়ে তোলায় যারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, যেকোন পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষ, যেকোন কাজে দক্ষতা অর্জন করতে সচেষ্ট, দায়িত্বশীল এবং সামাজিক। এই ধরণের ছেলেমেয়েদের জন্য মাল্টিটাস্কিং কোন ব্যাপারই নয়। আপনি অযোগ্য সন্তান গড়ে তুললে তাকে সময়মত বিয়ে দিতে ভয় পাবেন এটাই স্বাভাবিক, তার বিয়ে করার প্রয়োজন সৃষ্টি হলেও বিয়ে করার মত ম্যাচুরিটি সৃষ্টি হয়নি এটা বোধগম্য। কিন্তু যোগ্য সন্তানদের বাবামায়েরা যদি লেখাপড়ার দোহাই দিয়ে সন্তানকে আল্লাহর বিধিবিধান অনুযায়ী চলতে সহযোগিতা না করেন, সেটা দুঃখজনক। আমার সন্তানের লেখাপড়ার দৌড় নির্ভর করবে তার চেষ্টা এবং নিষ্ঠার ওপর, তার স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নকে ছুঁতে চাওয়ার আকাঙ্খা তাকে অবশ্যই সেই বন্দরে পৌঁছে দেবে। কিন্তু সে সময় যদি তার পাশে থাকে এমন একজন সঙ্গী যে তাকে সাহস জোগাবে, তার পথের কাঁটাগুলো তার হয়ে সরিয়ে দেবে, তার অভিজ্ঞতাগুলো তার সাথে শেয়ার করবে তবে এমন সঙ্গীর সাহচর্য তাকে আরো অনেক বড় বড় প্রতিকুলতায় ধৈর্য্য এবং স্থৈর্য্য জোগাবে। এই অভিজ্ঞতাই তাকে গড়ে দেবে মাল্টিটাস্কিংয়ের শক্ত ভিত। যে কোনদিন পানিতে নামেনি সে সাগরে সাঁতার কাটবে কোন সাহসে? আপনি কি সবসময় আপনার সন্তানের ডাঙ্গায় অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন? মহান আল্লাহ পাক প্রত্যেক বাবামাকে তিনটি দায়িত্ব দিয়েছেনঃ- সন্তানের উত্তম নাম রাখা, সন্তানকে মহান আল্লাহ পাক উনার বিধিনিষেধ শিক্ষা দেয়া, সন্তানকে উপযুক্ত বয়সে বিয়ে দেয়া। সন্তানদের ভালো না খাওয়ালে, ভালো পোশাক না পরালে, তাদের অতিরিক্ত স্নেহ দিয়ে স্বার্থপর এবং অকর্মন্য করে না তুললে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোতে না পড়ালে কিংবা তাদের বাড়ি গাড়ি করে না দিলে আল্লাহ আমাদের দায়ী করবেন না। কিন্তু সন্তানদের উনার প্রনীত নিয়মাবলী শিক্ষা না দিলে তিনি আমাদের দায়ী করবেন, কারণ এই নিয়মাবলী কেবল তার নিজের নিরাপত্তার জন্য দেয়া হয়নি বরং তার মহান আল্লাহ পাক উনার সমুদয় সৃষ্টিকুলের নিরাপত্তার স্বার্থে দেয়া হয়েছে। সময়মত বিয়ে না দেয়ার কারণে আমার সন্তান যখন বিপথগামী হয় সে একা পথভ্রষ্ট হয়না, আরো একটি ছেলে নয় মেয়েকে সে বিপথগামীতায় সঙ্গী করে, উভয়ের পরিবারকে কষ্ট এবং সামাজিক লজ্জার সাগরে নিমজ্জিত করে, তার উদাহরণ তার ভাইবোনসহ সমাজের আরো অনেককে প্রভাবিত করে এবং এই সম্পূর্ন ব্যাপারটির দায়দায়িত্ব বর্তায় আমার ঘাড়ে। এই দায়দায়িত্ব আপনি নিতে পারবেন কিনা জানিনা, আমি পারবনা। তাই এসব চিন্তা করলে অল্প বয়সে ছেলেমেয়ে বিয়ে দেয়া নিয়ে আমার আর হাসি আসেনা।

কিন্তু আমরা বাস করি এমন এক সমাজে যেখানে পার্থিব মোহগুলো আমাদের মনের ওপর পরবর্তী জীবনের আকাঙ্খার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে এবং আমরা আমাদের প্রতিবেশী বন্ধুদের প্রাইভেসী দিতে দিতে তাদের সাথে হাই হেলোর অতিরিক্ত আর কোন সম্পর্ক রাখিনি। ফলে তাদের এই মনোভাব পরিবর্তন করার সুযোগ, অধিকার কিংবা যোগ্যতা কিছুই আমাদের অবশিষ্ট নেই। সুতরাং, আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে রাখার পূর্ণ সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের জন্য উপযুক্ত পাত্র কিংবা পাত্রী পাওয়ার আশা করতে পারিনা।

যে সমাজে বিয়ে কঠিন হয়ে যায় সে সমাজে পাপ সহজ হয়ে যায়। ইসলামে সঙ্গী নির্বাচন বাবা মা এবং সন্তানের যৌথ প্রযোজনার বিষয়। লক্ষ্য করুন, আমি ইসলামের কথা বলছি, বাংলাদেশী সংস্কৃতির কথা নয়। ক্যানাডায় ছেলেমেয়েদের দেখে মায়া লাগত। এরা সবাই যে পাপে নিমজ্জিত হতে আগ্রহী ছিল তেমন কিন্তু নয়। এদের অনেকেই চিন্তাচেতনায় শুদ্ধচারী। কিন্তু তাদের বাবামায়েরা সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের কোন পরিচ্ছন্ন গাইডলাইন দিয়ে দেয়না কিংবা সহযোগিতা করেনা। তখন তাদের একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সঙ্গী নির্বাচন করা যা অনেকসময় তাদের অনিচ্ছাসত্ত্বেও সীমারেখা পার করে যায়। তাদের বাবামা তাদের নির্বাচিত পাত্র কিংবা পাত্রী দেখে কেবল সঙ্গীর ব্যাপারে মন্তব্য দিয়েই খালাস, বিয়ের ব্যাপারে সহযোগিতা করতে আগ্রহ দেখান না। ফলে সন্তানরা তাদের কথাকে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন কিংবা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু স্বল্পজ্ঞান এবং অল্প অভিজ্ঞতার আলোকে নির্বাচিত প্রেম প্রায়ই বাস্তবতার ভিত্তিমূলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকেনা। ফলে অনেকসময় তারা মানসিক, শারীরিক বা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় - অনেকসময় সারা জীবনেও এই ক্ষতি আর পুষিয়ে ওঠা যায়না। মালয়েশিয়ায় এসে দেখলাম বাবামা প্রথম দুটি দায়িত্ব নিলেও তৃতীয় দায়িত্বটি তুলে দিয়েছেন সন্তানদের ঘাড়ে। সুতরাং, তারা নিজেরাই সঙ্গী নির্বাচন করে। বাবামায়ের সহযোগিতা পেলে এই নির্বাচন হয়ত বাস্তবতার মজবুত ভিত্তির ওপর প্রোথিত হত। কিন্তু স্বল্প বুদ্ধি এবং অধিকতর অল্প অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে অল্প বয়সে বিয়ে করলেও এখানে বিবাহবিচ্ছেদের মাত্রা ভয়াবহ। উভয় দেশেই সিঙ্গল প্যারেন্টদের পরিমাণ এবং স্ট্রাগল হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করে। ভালোমন্দ না বুঝে, পরিণতি চিন্তা না করে কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য। ক্ষেপবেন না, ‘হুজুগে বাঙ্গালীবাগধারাটা এমনি এমনি আসেনি। আমরা কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি, কি পাব, কি হারাব একটু দম নিয়ে ভাবার সময় কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছে। এখন হয়ত আমাকে বোকা ভেবে হাসছেন, পরে আবার নিজে বোকা প্রমাণিত না হোন যেন সেদিকে একটু খেয়াল কর

লেখকঃ রেহনুমা বিনতে আনিস।

1.24.2018

মুসলমানদের প্রতিবাদ যখন নাস্তিক করে দেয়...

মুসলমানদের প্রতিবাদ যখন নাস্তিক করে দেয়...

আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর দুর্গাপূজার ছুতোয় রাজপথ বন্ধ করে দেয়া নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে, এখন সরস্বতী পূজাতেও তা বাকি নেই। পাবলিক ভার্সিটি তো দূরে, সেদিন দেখলাম রাজপথের পাশের প্রাইভেট ভার্সিটির হিন্দু শিক্ষার্থীরাও রাজপথ বন্ধ করে উচ্চশব্দে অশ্লীল গান ছেড়ে সরস্বতীর প্রচার করছে।

এর প্রতিবাদ মুসলমানদের করা উচিত ছিল, কিন্তু না। প্রতিবাদ করল নাস্তিক্যবাদী বাংলা ট্রিবিউনএর সাংবাদিক আনিস আলমগীর। যেভাবে সে বললোঃ

//তোমার মাটির মা বিদ্যা দিতে পারে এটা আমার তখনও বিশ্বাসে ছিল না এখনও নেই। তাই বলে তোমার মতো আমাকে মা মা করতে হবে কেন! একটা প্রায় ৯০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের দেশে তুমি মাটির পুতুলের কাছে বিদ্যা চাওয়ার জন্য একদিন স্কুল কলেজ বন্ধ রাখবা- মুসলমান ছেলে মেয়েদের দিয়ে প্রতিমা সাজাবা- এই আবদারতো আমরা দিনের পর দিন মেনে আসছি। কারও অনুভুতিতে লাগেনা? পৃথিবীর কয়টি দেশে সংখ্যালঘুর এই আবদার মানা হয়।//

এভাবে তো কোন মুসলমান সেলেব্রেটিকে বলতে শোনা গেল না। যারা নিজেদেরকে ইসলামিস্ট দাবি করে, হাজার হাজার লাইক কামায়, আরিফ আজাদ, সদালাপ, হ্যান ত্যান তাদের কেউই আনিস আলমগীরের কড়া কথার ধারেকাছে দিয়েও যায়নি। ঢাকা শহরে পূজা উপলক্ষে যেসব তোরণ তৈরী করা হয়, তার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময়ে দেবীমূর্তির পায়ের তলা দিয়ে যেতে হয়। হিন্দুর পূজায় স্কুল ছুটি দেয়ার প্রতিবাদ তো মুসলমানের করার কথা ছিল, অথচ তা করেছে নাস্তিক্যবাদী পত্রিকার সাংবাদিক।

কারণ মুসলমান হিসেবে যে অধিকার, তা নিয়ে মুসলমানরা মোটেই সচেতন নয়। বিপরীতে নাস্তিকেরা-সেক্যুলাররা নিজেদের অধিকার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। যে কারণে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাসে দেখা যায়, যারা পাকিস্তান চেয়েছিল তারা ধার্মিক মুসলমান ছিল না, বরং অনেকটাই সুশীল শ্রেণীর যুবক ছিল। মুসলমান পরিবারের সন্তান এসব যুবকেরা ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল, এই যে তারা পড়াশুনা করে, বিএ-এমএ পাস করে যোগ্যতা অর্জন করল, এই যোগ্যতা নিজেদের একটা ভূখণ্ড না হলে কাজে লাগানো যাবে না। হিন্দুরা সবকিছু দখল করে নিলে তারা চাকরি-ব্যবসা কিছুই করতে পারবে না।

বিপরীতে আবুল কালাম আজাদ, দারুল উলুম দেওবন্দ, যারা কিনা ধার্মিক মুসলমান বলে যারা নিজেদের দাবি করত, তারা ছিল সমস্তপ্রকার মার খেয়ে হলেও হিন্দুদের সাথে একতরফা ভালো সম্পর্ক রাখার পক্ষপাতী। এরাই কিন্তু আসামকে ভারতের সাথে যুক্ত করেছিল, পরবর্তীতে এদের কারণে সিলেটও ভারতের সাথে যুক্ত হওয়ার উপক্রম হয়। তখন যদি আসামের মুসলমান এলাকাগুলো সিলেটের ন্যায় বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হতো, তাহলে আজকে আসামের মুসলমানদের উদ্ধাস্তু হওয়ার হুমকিতে পড়তে হতো না।

পাকিস্তান হওয়ার জন্য যে প্রয়োজনীয় প্রতিবাদ, তা নাস্তিকেরা করেছিল বলেই পাকিস্তান হওয়ার পরও তা কিন্তু মুসলমানদের কল্যাণে কাজে আসেনি। পাকিস্তান ছিল আমলা আর বুর্জোয়া শ্রেণীর লোকদের হাতিয়ার, আর পাঞ্জাবী ও বিহারী আমলা-বুর্জোয়াদের কারণেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। প্রতিটি আন্দোলনের ক্ষেত্রেই প্রতিবাদী ও কড়াভাষী লোকদের দরকার হয়, কিন্তু মুসলমানরা অতি দয়াবশত, হিন্দুপ্রেমবশত কখনোই তা হতে পারে না। যে কারণে তাদের আন্দোলনের সম্মুখে সবসময় নাস্তিক ও হিন্দুরা জায়গা করে নেয়, কারণ তারা তো মুসলমানদের মতো অছাম্প্রদায়িকনয়। অছাম্প্রদায়িক ব্যক্তি কখনোই নেতা হতে পারে না, নেতৃত্ব সবসময়ই প্রকৃতির নিয়মে সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির হাতেই ঘুরেফিরে ন্যস্ত হয়।

12.17.2017

আকায়েদের পাইপ বোমা বনাম সিআইএ-র চুরুট বোমা কিংবা সেলফোন বোমা

আকায়েদের পাইপ বোমা বনাম সিআইএ-র চুরুট বোমা কিংবা সেলফোন বোমা


আকায়েদকে নিয়ে প্রকাশিত বেশকিছু খবরে দেখলাম, তাকে নিয়ে আমেরিকার বাঙালি কমিউনিটি তো বটেই এমনকি বাংলাদেশে তার শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশীরাও একেবারে লজ্জায় খোলসের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। অথচ আকায়েদ কাউকে খুন করা তো দূরে, তার সাথে বহনকৃত পাইপ বোমার বিস্ফোরণে সে নিজেও মারা যায়নি। এখন প্রশ্ন হলো, যেই বোমার বিস্ফোরণে বহনকারী নিজেই মারা যায় না, সেই বোমা নিয়ে আত্মঘাতীহামলা সে করতে যাবে কোন যুক্তিতে?

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে deadliest warrior নামে একটি সিরিজ প্রচারিত হতো। সিরিজের প্রতিটি পর্বে দুটি আলাদা সেনাদল থেকে প্রতিনিধি আনা হতো, তাদের সঙ্গে থাকতো তাদের নিজ নিজ ব্যবহৃত অস্ত্র, বোমা প্রভৃতি। অনুষ্ঠান সেসব অস্ত্রের পারস্পরিক শক্তি তুলনা করা হতো এবং শেষে বিজয়ী ঘোষণা করা হতো।

একটি পর্বে আনা হয় ইসরায়েলি কমান্ডো সদস্যদের, অনুষ্ঠানে সেমটেক্সবোমার ব্যবহার তারা তুলে ধরে। সেমটেক্স হচ্ছে একটি প্লাস্টিক বিস্ফোরক, অনেকটা আটার খামিরের মতো। ইসরায়েলি কমান্ডোরা যেই ফিলিস্তিনি নেতাকে হত্যা করতে চায়, তার নিকট তারা যে কোনভাবে একটি মোবাইল ফোন প্রেরণ করে। মোবাইল ফোনের ভেতরে থাকে বড়ির মতো একটি ছোট সেমটেক্সের টুকরা। যখনই টার্গেটকৃত ব্যক্তি সেই ফোনটি কানে দিয়ে কথা বলতে থাকে, তখনই সেমটেক্সের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় আর কানে ফোন দেয়া সেই ব্যক্তিটির মৃত্যু ঘটে।

আরেকটি পর্বে দেখানো হয় আমেরিকার সিআইএ এজেন্টদের দ্বারা কিউবার কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত চুরুট বোমা। কিউবার সংস্কৃতির অঙ্গ এই চুরুট বা সিগার। ফিদেল কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার অনেক ছবিতে চুরুট টানার দৃশ্য রয়েছে। সিআইএ-র এজেন্টরা এই চুরুটের মাঝখানে সামান্য এক টুকরা সি-ফোর (সেমটেক্সের মতো আরেকটি প্লাস্টিক বিস্ফোরক) দিয়ে টার্গেট ব্যক্তিটির কাছে পাঠাতো। চুরুটটি ফুঁকতে ফুঁকতে যখনই তামাকের আগুন চুরুটের মাঝখানে থাকা সি-ফোরের টুকরায় স্পর্শ করতো, তখনই বিস্ফোরণে টার্গেটের চোয়াল উড়ে যেত।

প্রশ্ন হতে পারে, এই সেলফোন কিংবা চুরুট কিভাবে নেতাদের হাতে পৌঁছে দেয় এসব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো? এর উত্তর হলো, নেতাদের আশেপাশের মানুষদের মধ্যেই কিন্তু মিশে থাকে শত্রুপক্ষের এজেন্ট। ধরা যাক, কোন ফিলিস্তিনি নেতার এক বন্ধু, যে তলে তলে ইসরাইলের এজেন্ট, ফোনে কথা বলার ভান করতে করতে নেতাটির উদ্দেশ্যে নিজের ফোনটি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, নে দোস্ত অমুকের সাথে কথা বল। সে কানে দেয়ার সাথে সাথেই ফোনটির বিস্ফোরণ ঘটল।

এখন প্রশ্ন হলো, এই আকায়েদ তো থাকে আমেরিকায়, তার আশেপাশের লোকজন ইহুদী-খ্রিস্টান। এটি কি হতে পারে না যে, তার কোন বিধর্মী বন্ধু্ই তাকে ঐ পাইপসদৃশ বস্তুটি দিয়েছিল, সে নিজেও জানত না বস্তুটি কি? এটি হওয়ার সম্ভবনাই কিন্তু বেশি, কারণ এর আগে নাফিসনামক যেই ছেলেটিকে স্টিং অপারেশনে ফাঁসানো হয়েছিল, তাকেও কিন্তু নকল বিস্ফোরকসরবরাহ করে ফাঁদে ফেলেছিল এই সিআইএ এজেন্টরাই।

সুতরাং মুসলমানরা, বিধর্মীরা কিছু বললেই সেটা সাথে সাথে মেনে না নিয়ে প্রশ্ন করতে শিখুন। সবচেয়ে ভালো হয় নিজের সমাজের দিকে তাকিয়ে বিচার করলে। আমাদের সমাজের মুসলমানরা নিতান্তই গোবেচারা, প্রতিবেশী কিংবা এলাকার হিন্দুরা ইসলাম নিয়ে যাচ্ছেতাই অবমাননা করলে, কিংবা এদেশের হিন্দুরা স্পেনের মুসলমানদের মতো বাংলার মুসলমানদের হত্যার ঘোষণা দিলেও মুসলমানরা টু শব্দটাও করে না। রাজস্থানে সম্প্রতি আফরাজুলের হত্যাকারী শম্ভুলালের হত্যাকাণ্ডের ভিডিও করেছিল কে জানেন, তার নাবালক ভাতিজা। বিপরীতে আপনার মুসলমান ঘরের বাচ্চা, যাকে আপনি ছোটকাল থেকেই অছাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন, সে তো রক্ত দেখলেই ফিট হয়ে যাবে!

সুতরাং এই হিন্দু-খ্রিস্টানরা কিছু বললেই নিজেদের সমাজের লোকদের সন্ত্রাসী ভাবা থেকে বিরত হউন। সন্ত্রাস তো দূরে, বর্তমানে মুসলমানদের মতো ভীরু জাতি দুনিয়ার বুকে আর একটিও নেই যদি মুসলমান হযরত ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মতো ঈমান আর সাহস ধারণ করতো তবে মার না খেয়ে অর্ধেক পৃথিবী শাসন করতো।