Saturday, February 21, 2026

বাগ্ব-ই-ফাদাক বিষয়ে মরদুদ-কাজ্জাব শিয়াদের মিথ্যাচারের জবাব

যেকোন শিয়ার সাথে ছুন্নীদের তর্ক হলেই যে বিষয়গুলো সম্মুখে তারা নিয়ে আসে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বাগ্ব-ই-ফাদাক, তাদের বক্তব্য হচ্ছে ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু কেন ছাইয়্যিদাতু নিছায়ীল যান্নাহ হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালাম-কে ফাদাক বাগান দেননি? মরদুদ শিয়ারা বারবার এই প্রশ্নটি করে, তো এর কি কোন সুষ্ট জবাব নাই?

দুনিয়া কোথায় থেকে কোথায় পৌঁছে গেল, আর এই মরদুদ শিয়ারা এখনো বাগ্ব-এ-ফাদাক নিয়ে জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের এই জিহাদ দেখে মনে হচ্ছে ফাদাক যেনো কোনো বাগান নয় বরং কেউ তাদের জান্নাত ছিনিয়ে নিয়েছে।

যাইহোক, ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু ফাদাকের সেই অংশটুকু যা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের প্রাপ্য ছিল, তা দিয়েছেন; কিন্তু যা ওনার প্রাপ্য ছিল না, তা দেননি। শিয়াদের পক্ষ থেকে এই মিথ্যা কথা বলা হয় যে ফাদাক দখল করে নেওয়া হয়েছে, কিছুই দেওয়া হয়নি। অথচ এইসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। অবশ্যই দেওয়া হয়েছে, তবে শুধু ওনার প্রাপ্য অংশটুকুই দেওয়া হয়েছে।

দেখুন, ফাদাককে ‘মালে ফয়’ বলা হয়; এটি একদম ঠিক সেই জমি, যা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের অধিকারে এসেছিল। এখন এর বন্টন মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল-ক্বুরআনে বলে দিয়েছেন; অর্থাৎ, ফাদাকের মধ্যে অনেকগুলো অংশ বা ভাগ ছিল, শিয়ারা এটাকে একা ছাইয়্যিদাতু নিছায়ীল যান্নাহ হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের একার মাল বানিয়ে খোদার উপর খোদাগিরি করে কি মুর্তাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়না?

রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের একটি অংশ ছিল, এরপর উনার নিকটাত্মীয়দের, এতিমদের, অভাবী (মিছকিন) এবং মুসাফিরদেরও অংশ ছিল। এই সমস্ত অংশ স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা নিজে করেছেন এবং ছুরাহ হাশরে ঠিক এইভাবে এসেছেঃ (وَمَا أَفَاءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْهُمْ فَمَآ أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُۥ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ مَّآ أَفَاءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْ أَهْلِ ٱلْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ كَىْ لَا يَكُونَ دُولَةًۢ بَيْنَ ٱلْأَغْنِيَآءِ مِنكُمْ ۚ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمْ عَنْهُ فَٱنتَهُوا ۚ وَٱتَّقُوا ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ) (এ ঘটনার ফলে) মহান আল্লাহ তা’য়ালা যেসব ধন সম্পদ তাদের কাছ থেকে নিয়ে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে দিয়েছেন (তা ছিলো উনার একান্ত অনুগ্রহ), তোমরা তো এ (গুলো পাওয়া)-র জন্যে ঘোড়ায় কিংবা উটেঁ আরোহণ (করে কোনো অভিযান পরিচালনা) করোনি, (আসলে) মহান আল্লাহ তা’য়ালা যার ওপর চান তার ওপরই উনার রছুল য়ালাইহিমুছ ছালামদের কর্তৃত্ব প্রদান করে থাকেন; আর মহান আল্লাহ তায়ালা সর্ববিষয়ের ওপরই শক্তিমান। (ধন সম্পদের) যা কিছু (সেই) জনগণের মানুষদের কাছ থেকে নিয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে দিয়েছেন, তা হচ্ছে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার জন্যে, রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের জন্যে, (উনার) আত্মীয় স্বজন, ইয়াতীম মিছকীন ও মুছাফিরদের জন্যে, (তোমাদের সম্পদ তোমরা এমনভাবে বন্টন করবে) যেন তা (কেবল) তোমাদের বিত্তশালী লোকদের মাঝেই আবর্তিত না হয়রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তোমাদের যা কিছুর (অনুমতি) দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা কিছু থেকে তিনি নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো, তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ভয় করো; অবশ্যই মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি কঠোর শাস্তিদাতা (ছুরাহ হাশর ৫৯/৬-৭)

এখন কোন সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারীরা বলুন, ফাদাক কি শুধু একজন কন্যার হতে পারে?

না, বাকি আত্মীয়রা কোথায় গেল? এতিম, মিছকিন, মুছাফির তাদের সবার অংশ কি ছিনিয়ে নিতেন? আর সবটুকু ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামকে দিয়ে দিতেন? এটা কীভাবে সম্ভব? এই শিয়ারা কেবল ধোকা দেয় যে এই পুরো ফাদাক ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের জন্য ছিল; নাউজুবিল্লাহ তারা ক্বুরআনকে অস্বীকার করে এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নির্ধারিত অংশগুলোকে অস্বীকার করে।

আচ্ছা, এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, যদি আল ক্বুরআনে সব অংশ লেখাই থাকে, তবে ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালাম কেন দরবারে-খিলাফত এ গিয়ে তা দাবি করেছিলেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে যে; প্রথমত, তখন রাজকীয় কোনো দরবার ছিল না। কেবল মসজিদে নববী শরীফই ছিল খলিফার ভবন, সেটিই ছিল হেডকোয়ার্টার এবং সেটিই ছিল খলিফায়ে রাশেদের বসার স্থান।

শিয়ারা যদি এটাকে দরবার মনে করে, তবে সেটা কেবল দরবারে নববী ছিল। ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের দাবি ছিল এই যে, ফাদাকের মধ্যে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের নিজের জন্য যে অংশটুকু ছিল, তাতে যদি কোনো উত্তরাধিকার থাকে তবে যেন উনাকে তা দিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তিনি নিজের জন্য কোনো উত্তরাধিকারের বিষয়ে জানতে গিয়েছিলেন। তখন ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু যিনি উনার পিতার সমতুল্য ছিলেন এবং উনার পিতার শ্বশুরও ছিলেন, তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন।

তিনি অনেক মায়া-মুহব্বতের সাথে বুঝিয়ে বললেন যে, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের বাণী হলোঃ নবীদের কোনো উত্তরাধিকার হয় না। তাঁদের কোনো সম্পদ যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে তা ছ্বদকা হিসেবে গণ্য হয়। এর সাথে ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু এটাও বললেন, আপনার নিজের যে অংশটুকু আছে, যা রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম নিজে আপনাকে দিতেন, তা আপনি সব সময় পেতে থাকবেন।

এবং ওনার সেই নিজস্ব অংশটুকু তিনি সব সময় পেতে থাকলেন, এমনকি ওনার পরেও ওনার পরিবারের সদস্যরা তা পেতে থাকলেন। বরং আপনি যদিঃ (حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيُّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ دَعَاهُ إِذْ جَاءَهُ حَاجِبُهُ يَرْفَا فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ يَسْتَأْذِنُونَ فَقَالَ نَعَمْ، فَأَدْخِلْهُمْ‏.‏ فَلَبِثَ قَلِيلاً، ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عَبَّاسٍ وَعَلِيٍّ يَسْتَأْذِنَانِ قَالَ نَعَمْ‏.‏ فَلَمَّا دَخَلاَ قَالَ عَبَّاسٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا، وَهُمَا يَخْتَصِمَانِ فِي الَّذِي أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَنِي النَّضِيرِ، فَاسْتَبَّ عَلِيٌّ وَعَبَّاسٌ، فَقَالَ الرَّهْطُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، اقْضِ بَيْنَهُمَا وَأَرِحْ أَحَدَهُمَا مِنَ الآخَرِ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ اتَّئِدُوا، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏ يُرِيدُ بِذَلِكَ نَفْسَهُ‏.‏ قَالُوا قَدْ قَالَ ذَلِكَ‏.‏ فَأَقْبَلَ عُمَرُ عَلَى عَبَّاسٍ وَعَلِيٍّ فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ ذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي أُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الأَمْرِ، إِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْفَىْءِ بِشَىْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ فَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ ‏{‏وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏قَدِيرٌ‏}‏ فَكَانَتْ هَذِهِ خَالِصَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ وَاللَّهِ مَا احْتَازَهَا دُونَكُمْ، وَلاَ اسْتَأْثَرَهَا عَلَيْكُمْ، لَقَدْ أَعْطَاكُمُوهَا وَقَسَمَهَا فِيكُمْ، حَتَّى بَقِيَ هَذَا الْمَالُ مِنْهَا، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَتِهِمْ مِنْ هَذَا الْمَالِ، ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ، فَعَمِلَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيَاتَهُ، ثُمَّ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فَأَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏ فَقَبَضَهُ أَبُو بَكْرٍ، فَعَمِلَ فِيهِ بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ‏.‏ فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ وَقَالَ تَذْكُرَانِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ عَمِلَ فِيهِ كَمَا تَقُولاَنِ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُ فِيهِ لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ‏.‏ فَقَبَضْتُهُ سَنَتَيْنِ مِنْ إِمَارَتِي أَعْمَلُ فِيهِ بِمَا عَمِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي فِيهِ صَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ، ثُمَّ جِئْتُمَانِي كِلاَكُمَا وَكَلِمَتُكُمَا وَاحِدَةٌ وَأَمْرُكُمَا جَمِيعٌ، فَجِئْتَنِي ـ يَعْنِي عَبَّاسًا ـ فَقُلْتُ لَكُمَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏ فَلَمَّا بَدَا لِي أَنْ أَدْفَعَهُ إِلَيْكُمَا قُلْتُ إِنْ شِئْتُمَا دَفَعْتُهُ إِلَيْكُمَا عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ وَمِيثَاقَهُ لَتَعْمَلاَنِ فِيهِ بِمَا عَمِلَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ، وَمَا عَمِلْتُ فِيهِ مُذْ وَلِيتُ، وَإِلاَّ فَلاَ تُكَلِّمَانِي، فَقُلْتُمَا ادْفَعْهُ إِلَيْنَا بِذَلِكَ‏.‏ فَدَفَعْتُهُ إِلَيْكُمَا، أَفَتَلْتَمِسَانِ مِنِّي قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ فَوَاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ لاَ أَقْضِي فِيهِ بِقَضَاءٍ غَيْرِ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهُ، فَادْفَعَا إِلَىَّ فَأَنَا أَكْفِيكُمَاهُ‏.‏ قَالَ فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيثَ، عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ صَدَقَ مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ، أَنَا سَمِعْتُ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عُثْمَانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ يَسْأَلْنَهُ ثُمُنَهُنَّ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، فَكُنْتُ أَنَا أَرُدُّهُنَّ، فَقُلْتُ لَهُنَّ أَلاَ تَتَّقِينَ اللَّهَ، أَلَمْ تَعْلَمْنَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ ‏"‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ـ يُرِيدُ بِذَلِكَ نَفْسَهُ ـ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْمَالِ ‏"‏‏.‏ فَانْتَهَى أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَا أَخْبَرَتْهُنَّ‏.‏ قَالَ فَكَانَتْ هَذِهِ الصَّدَقَةُ بِيَدِ عَلِيٍّ، مَنَعَهَا عَلِيٌّ عَبَّاسًا فَغَلَبَهُ عَلَيْهَا، ثُمَّ كَانَ بِيَدِ حَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، ثُمَّ بِيَدِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، ثُمَّ بِيَدِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ وَحَسَنِ بْنِ حَسَنٍ، كِلاَهُمَا كَانَا يَتَدَاوَلاَنِهَا، ثُمَّ بِيَدِ زَيْدِ بْنِ حَسَنٍ، وَهْىَ صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَقًّا) ছ্বহিহ বুখারির ৪০৩৩ এবং ৪০৩৪ নম্বর হাদিছ শরীফ আমরা দেখি, তবে দেখতে পাবো যে, ছ্বহিহ বুখারির মালিক ইবন আউস রদ্বিআল্লাহু আনহুর বর্ণনায় আছেঃ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ছ্বদাকাহ/ফাই সম্পদ প্রথমে মাওলা হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালামের হাতে ছিল; এরপর হাছান ইবন য়া’লী য়ালাইহিছ ছালামের, এরপর হুছাইন ইবন য়া’লী য়ালাইহিছ ছালামের, এরপর য়া’লী ইবন হুছাইন ও হাছান ইবন হাছান, পরে যায়দ ইবন হাছান য়ালাইহিমুছ ছালামদের কাছে ছিলো, এভাবে পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে এর ব্যবস্থাপনা ছিল

ছ্বহিহ বুখারিতে ৪০৩৫ ও ৪০৩৬ এ (حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ ـ عَلَيْهَا السَّلاَمُ ـ وَالْعَبَّاسَ أَتَيَا أَبَا بَكْرٍ يَلْتَمِسَانِ مِيرَاثَهُمَا، أَرْضَهُ مِنْ فَدَكٍ، وَسَهْمَهُ مِنْ خَيْبَرَ‏.‏ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ، إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ فِي هَذَا الْمَالِ ‏"‏‏.‏ وَاللَّهِ لَقَرَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ أَصِلَ مِنْ قَرَابَتِي‏.) ফাদাক ও খায়বারের অংশকে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ‘ছ্বদাকাহ’ সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এবং একই প্রসঙ্গে সেই ছ্বদাকাহ সম্পদের ব্যবস্থাপনা মাওলা হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালাম ও পরে উনার সন্তানদের হাতে ছিল বলে বর্ণিত রয়েছে।

এই শিয়ারা সবসময় প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং ধোঁকাবাজি করে; তারা মিথ্যা বলে এবং অপবাদ দেয়। সংক্ষেপে জেনে নিন যে, ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু ক্বুরআন এবং ছুন্নাহ অনুযায়ী য়া’মল করেছেন। রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম নিজে উনার কন্যাকে যা দিয়েছিলেন, হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহুও তা দিয়েছেন; আর রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যা দেননি, হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহুও তা দেননি।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 ফেইসবুক: