Showing posts with label আহলে বাইত. Show all posts
Showing posts with label আহলে বাইত. Show all posts

Thursday, October 1, 2026

হিদায়েতের হাক্বিকত, হুব্বে রছুল এবং ইমানে হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম

হিদায়েতের হাক্বিকত, হুব্বে রছুল এবং ইমানে হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম

আজ “হিদায়েত” শব্দটি এমনভাবে বুঝতে হবে, যাতে এই শব্দ শুধু মুখের উচ্চারণ, ওয়াজের বাক্য, অথবা সাধারণ অনুবাদের একটি শব্দ হয়ে না থাকে। হিদায়েত হলো মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রবূবিয়্যাতের এমন প্রকাশ, যার ছায়া শুধু মানুষের উপর নয়; পুরো কায়িনাতের উপর বিস্তৃত।

আমরা সাধারণত হিদায়েত বললেই বুঝি, মানুষকে দীন শেখানো, ঈমান শেখানো, নামায শেখানো, হালাল-হারাম শেখানো, জান্নাতের পথ ও জাহান্নামের ভয় দেখানো। এগুলো অবশ্যই হিদায়েতের অংশ। কিন্তু ক্বুরআন শরীফের ভাষায় হিদায়েতের পরিসর আরও বড়। মহান আল্লাহ তা’য়ালা শুধু মানুষকে হিদায়েত দেননি; তিনি প্রত্যেক সৃষ্টিকে তার নিজ নিজ কাজ, স্বভাব, সীমা, গতি, দায়িত্ব ও গন্তব্যের দিকে হিদায়েত দিয়েছেন।

সূর্য তার পথ জানে। চাঁদ তার মানযিল জানে। আগুন তার স্বভাব জানে। পানি তার প্রবাহ জানে। বীজ মাটির অন্ধকার ফুঁড়ে আলো-হাওয়ার দিকে উঠতে জানে। মাছের বাচ্চা জন্মের পর সাঁতার জানে। পাখি বাসা বানাতে জানে। মৌমাছি চাক বানাতে জানে। শিশু জন্মের পর মায়ের দুধের দিকে মুখ নিতে জানে। দেহের রক্ত কোন পথে চলবে, চোখ কীভাবে আলো গ্রহণ করবে, কান কীভাবে শব্দ গ্রহণ করবে, ক্বলব কীভাবে ধুকধুক করবে এসব কোনো মানুষ বসে তাদের শেখায়নি। এটি মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার তাক্বভীনি হিদায়েত।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ۝ الَّذِي خَلَقَ فَسَوَّىٰ ۝ وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَىٰ) অর্থাৎ, আপনি আপনার সর্বোচ্চ রবের নামের তাছবীহ পাঠ করুন। যিনি সৃষ্টি করেছেন, তারপর সুবিন্যস্ত করেছেন। আর যিনি পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন, তারপর হিদায়েত দিয়েছেন। (ছুরাহ আল আ’লা ৮৭:১-৩)

এই আয়াত শরীফে প্রথমে সৃষ্টি, তারপর সুবিন্যাস, তারপর তাক্বদীর, তারপর হিদায়েত। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা’য়ালা শুধু বানান না; বানিয়ে নিয়ম দেন। শুধু অস্তিত্ব দেন না; অস্তিত্বের কাজও দেন। শুধু দেহ দেন না; দেহকে চালানোর ব্যবস্থা দেন। শুধু কায়িনাত সৃষ্টি করেন না; কায়িনাতকে তার নিজস্ব পথে চালান। এটাই রবূবিয়্যাত।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম উনার বক্তব্য নকল করে বলেনঃ (قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَىٰ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ، ثُمَّ هَدَىٰ) অর্থাৎ, হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম বললেন, আমাদের রব তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার সৃষ্টি-রূপ দিয়েছেন, তারপর তাকে হিদায়েত দিয়েছেন। (ছুরাহ ত্বহা ২০:৫০)

এখানে “كُلَّ شَيْءٍ” অর্থাৎ “প্রত্যেক বস্তু” শব্দটি গভীরভাবে বুঝো। শুধু মানুষ নয়। শুধু মুমিন নয়। শুধু নবী-রছুল নয়। বরং প্রত্যেক বস্তু। পুরো কায়িনাত। আসমান, জমিন, সূর্য, চাঁদ, আগুন, পানি, বাতাস, পশু, পাখি, বীজ, গাছ, দেহ, রক্ত, কোষ, অনুভূতি সবকিছু মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার হুকুমে তার নিজ নিজ পথে চলছে।

কিন্তু মানুষের পরীক্ষা আলাদা। কায়িনাতের অনেক সৃষ্টি তাক্বভীনি হিদায়েতের অধীনে বাধ্য। সূর্য নিজের পথ অস্বীকার করে না। চাঁদ নিজের মানযিল ভুলে না। মাছ নিজের সাঁতার ভুলে না। বীজ নিজের অঙ্কুরোদ্গম ভুলে না। কিন্তু মানুষকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। মানুষ চাইলে সিজদায় পড়ে, চাইলে তাকাব্বুর করে। চাইলে ক্বুরআন শরীফের সামনে মাথা নত করে, চাইলে নিজের নফসকে ক্বুরআন শরীফের উপর বসিয়ে দেয়। চাইলে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার দরবারে আদব শেখে, চাইলে বেয়াদবির অন্ধকারে পড়ে।

এই জন্য মানুষের জন্য শুধু ফিতরী হিদায়েত যথেষ্ট নয়। মানুষের জন্য ওহী দরকার, নবী দরকার, কিতাব দরকার, শরীয়ত দরকার, ছুন্নত দরকার, তাজকিয়া দরকার, সোহবতে সালিহ দরকার, মুর্শিদের নছিহত দরকার। কারণ মানুষের আকল আছে, কিন্তু আকল একা হিদায়েতের মালিক নয়। মানুষের চোখ আছে, কিন্তু চোখ ওসীলা। মানুষের কান আছে, কিন্তু কান ওসীলা। মানুষের ক্বলব আছে, কিন্তু ক্বলব যদি নফসের ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, তবে হিদায়েতের নূর গ্রহণ করে না।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (وَاللهُ أَخْرَجَكُم مِّن بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ، لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا، وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ، لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ) অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের পেট থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ এবং ক্বলবসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা শুকর করো। (ছুরাহ আন নাহল ১৬:৭৮)

এখানে একটি তাছাউফী নুকতা আছে। আমরা বলি চোখ দেখে। কিন্তু চোখ নিজে দেখে না; চোখ ওসীলা। আমরা বলি কান শোনে। কিন্তু কান নিজে শোনে না; কান ওসীলা। আমরা বলি নাক ঘ্রাণ নেয়। কিন্তু নাক নিজে স্বাধীন নয়; নাক ওসীলা। আমরা বলি জবান স্বাদ নেয়। কিন্তু জবানও ওসীলা। আমরা বলি হাত স্পর্শ করে। কিন্তু হাতও ওসীলা। এগুলো মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার অতা করা মাধ্যম।

তাহলে তোমার ছোট দেহ যদি এই ওসীলাগুলো ছাড়া সঠিকভাবে কাজ করতে না পারে, তোমার আকলও বেইয়িব ওসীলা ছাড়া হিদায়েত পেতে পারে না। চোখ নষ্ট হলে দেখা ভুল হয়। কান নষ্ট হলে শোনা ভুল হয়। ওসীলা বিকৃত হলে আকলও বিকৃত খবর পায়। তাই আকলকে বেইয়িব ওসীলা দরকার। আর মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পক্ষ থেকে যে ওসীলা আসে, সেটাই বেইয়িব। নবী বেইয়িব। ওহী বেইয়িব। ক্বুরআন শরীফ বেইয়িব। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ছুন্নত বেইয়িব।

এখানেই নবুওয়তের প্রয়োজন। যে মানুষ বলে, আমি শুধু নিজের আকলে চলব, সে নিজের চোখকে সূর্য মনে করছে। আকল সম্মানিত, কিন্তু আকল ওহীর অধীন। আকল আলো গ্রহণ করে, আলো সৃষ্টি করে না। হিদায়েতের মালিক মহান আল্লাহ তা’য়ালা। হিদায়েতের দরজা নবুওয়ত। হিদায়েতের পূর্ণতম নমুনা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى، فَمَن تَبِعَ هُدَايَ، فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ) অর্থাৎ, আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যখন হিদায়েত আসবেন, তখন যে আমার হিদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের উপর কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না। (ছুরাহ আল বাক্বারাহ ২:৩৮)

এখানে শুধু বলা হয়নি, “হাদী আসবে।” বলা হয়েছে, “হিদায়েত আসবে।” হাদী কখনো কথা বলেন, কখনো চুপ থাকেন। ডাক্তার কখনো চিকিৎসা করেন, কখনো করেন না। খতীব কখনো খুতবা দেন, কখনো দেন না। কিন্তু হিদায়েত এমন মাক্বাম, যেখানে তাঁর প্রতিটি হালই পথ দেখায়।

রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম শুধু একজন বক্তা নন। শুধু একজন আইনদাতা নন। শুধু একজন শিক্ষক নন। তিনি মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পক্ষ থেকে হিদায়েতের জীবন্ত নূরানী মাযহার। উনার কথা হিদায়েত, উনার নীরবতা হিদায়েত, উনার হাসি হিদায়েত, উনার রাগ হিদায়েত, উনার ক্ষমা হিদায়েত, উনার যুদ্ধ হিদায়েত, উনার শান্তি হিদায়েত, উনার ঘর হিদায়েত, উনার বাজার হিদায়েত, উনার মসজিদ হিদায়েত, উনার ছুন্নত হিদায়েত।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ) অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আপনি সরল-সঠিক পথের দিকে হিদায়েত করেন। (ছুরাহ আশ শূরা ৪২:৫২)

এখানে তাওহীদের আদব রাখতে হবে। ক্বলবে হিদায়েত সৃষ্টি করা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার কাজ। কিন্তু হিদায়েতের দরজা, হিদায়েতের ঘোষণা, হিদায়েতের পূর্ণ নমুনা, হিদায়েতের তরবিয়ত, হিদায়েতের জীবন্ত ছুন্নত সব রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মাধ্যমে উম্মতের কাছে এসেছে। তাই রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে বাদ দিয়ে হিদায়েত খোঁজা মানে সূর্য বাদ দিয়ে আলো খোঁজা।

এই হিদায়েতের ইতিহাসও ক্বুরআন শরীফে ধাপে ধাপে দেখা যায়। হযরত আদম য়ালাইহিছ ছালাম এলেন, কিন্তু মানুষের ভিতরে নফস, হিংসা, হত্যা, আল্লাহর হুকুম থেকে সরে যাওয়ার প্রথম বড় শিক্ষা প্রকাশ পেল। হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম এলেন, তাওহীদের দিকে ডাকলেন, কিন্তু মানুষ বুতপরস্তিতে পড়ল। হযরত ইবরাহীম য়ালাইহিছ ছালাম এলেন, বুত ভাঙলেন, কিন্তু সূর্য, চাঁদ, নক্ষত্র, প্রকৃতি-এসবকে মাবূদ বানানোর ফিতনা সামনে এল। হযরত মূছা য়ালাইহিছ ছালাম এলেন, তাওহীদের দিকে ডাকলেন, কিন্তু বাছুর পূজার ফিতনা দেখা দিল। হযরত ঈছা য়ালাইহিছ ছালাম এলেন, মানুষকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার দিকে ডাকলেন, কিন্তু উনার পর মানুষ উনাকেই আল্লাহর পুত্র বলে বসলো।

অর্থাৎ গোমরাহি ইতিহাসে রূপ বদলেছে। কখনো বুতপরস্তি, কখনো সূর্যপরস্তি, কখনো জানওয়ারপরস্তি, কখনো মানুষপরস্তি। বাতিলের পোশাক বদলেছে, কিন্তু মূল রোগ একঃ মহান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া অন্যকে ইলাহের আসনে বসানো।

এরপর এলেন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম। উনি এক কালিমায় সব মিথ্যা ইলাহকে নাকচ করে দিলেন। তিনি বলেনঃ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ) অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

যদি এক এক করে অস্বীকার করা হতো, তালিকা শেষ হতো না। সূর্য খোদা নয়, চাঁদ খোদা নয়, বুত খোদা নয়, জানওয়ার খোদা নয়, মানুষ খোদা নয়, ক্ষমতা খোদা নয়, টাকা খোদা নয়, বংশ খোদা নয়, দল খোদা নয়, নফস খোদা নয়, কবর খোদা নয়, প্রকৃতি খোদা নয়। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম এক বাক্যে সব মিথ্যা খোদার জানাজা পড়ে দিলেন।

لَا إِلٰهَ

কোনো ইলাহ নেই।

إِلَّا اللهُ

মহান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া।

কিন্তু এখানে একটি বড় ভুল থেকে বাঁচতে হবে। কেউ যদি বলে, শুধু “لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ” মুখে বললেই ঈমান হয়ে যায়, তাহলে সে ঈমানের দরজাকে অসম্পূর্ণ বুঝেছে। কারণ আরবের বহু মুশরিকও স্বীকার করত, আসমান-জমিনের স্রষ্টা আল্লাহ। ক্বুরআন শরীফ নিজেই এই কথা বলেছে।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ، لَيَقُولُنَّ اللهُ) অর্থাৎ, আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন, আসমানসমূহ ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চাঁদ কে অধীন করেছেন, তারা অবশ্যই বলবে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা। (ছুরাহ আল আনকাবূত ২৯:৬১) মহান আল্লাহ তা’য়ালা আবারো বলেনঃ (وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَهُمْ، لَيَقُولُنَّ اللهُ، فَأَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ) অর্থাৎ, আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তাদের কে সৃষ্টি করেছেন, তারা অবশ্যই বলবে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা। এরপরও তারা কীভাবে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে? (ছুরাহ আয যুখরুফ ৪৩:৮৭)

তাহলে প্রশ্ন হলো, তারা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে সৃষ্টিকর্তা মানত, তবু মুমিন হলো না কেন? কারণ শুধু মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে খালিক বলা যথেষ্ট নয়। তাদের কুফরের মূল দরজা ছিল ইনকারে মুহাম্মাদ। তারা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পাঠানো রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে অস্বীকার করেছে। তাই তাদের তাওহীদের দাবি গ্রহণযোগ্য হয়নি।

সুতরাং ঈমানের কালিমা পূর্ণ হলোঃ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ) অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রছুল।

প্রথম অংশ তাওহীদ। দ্বিতীয় অংশ রিছালত। তাওহীদ ও রিছালতকে আলাদা করলে ঈমান থাকে না। যে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে মানার দাবি করে, কিন্তু মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পাঠানো রছুলকে অস্বীকার করে, সে আসলে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার হুকুমই অস্বীকার করল।

এই জন্য ঈমানের প্রাণ হলো হুব্বে রছুল। শুধু জবানী স্বীকার নয়, শুধু বাহ্যিক আমল নয়, শুধু ইলম নয়; ক্বলবে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মুহব্বত ঈমানের জীবন।

রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ (لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّىٰ أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ، وَوَلَدِهِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ) অর্থাৎ, তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়েও অধিক প্রিয় হই। (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম)

হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার ঘটনা ঈমানের এই দরজাকে আরও স্পষ্ট করে। তিনি বলেছিলেন, ইয়া রছুলাল্লাহ, আপনি আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে প্রিয়, তবে আমার নিজের প্রাণ ছাড়া। তখন নবী করীম ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, না, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয় হই। তখন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তখন নবী করীম ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, এখন, হে উমর।

এখানে গভীরভাবে চিন্তা করো। হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার কী ছিল না? কালিমা ছিল। নামায ছিল। রোজা ছিল। যাকাত ছিল। হজ্জ ছিল। জিহাদ ছিল। ছ্বহাবিয়্যাত ছিল। রছুলের সোহবত ছিল। তারপরও ঈমানের পূর্ণতার জন্য নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি হুব্বে রছুল দরকার হলো। তাহলে যে মানুষ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে ভালোবাসে না, সে ঈমানের দাবি কীভাবে করে? আর যে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে অস্বীকার করে, সে তাওহীদের দাবি করলেও নাজাতের দাবিদার কীভাবে হয়?

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي، يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ، وَاللهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ) অর্থাৎ, আপনি বলুন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে ভালোবাসো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো; মহান আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর মহান আল্লাহ তা’য়ালা অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (ছুরাহ আলে ইমরান ৩:৩১)

এই আয়াতের মূল দলিলী পয়েন্টঃ মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে ভালোবাসার দাবি সত্য হতে হলে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার অনুসরণ জরুরি। শুধু “আমি মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনাকে ভালোবাসি” বলা যথেষ্ট নয়; সেই মহব্বতের ছিদক্ব প্রমাণ হয় فَاتَّبِعُونِي দ্বারা, অর্থাৎ “আমার অনুসরণ করো।”

সুতরাং ঈমানের মর্ম হলো তাওহীদ, তাছ্বদীক্বে রিছালত, তাকিবে রছুল, আনুগত্যে রছুল, আদবে রছুল। এগুলো আলাদা করলে ঈমান শুকিয়ে যায়।

এখন হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার প্রসঙ্গ এই ঈমানের আলোচনার ভিতরেই বুঝতে হবে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কারঃ আমরা হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার ঈমানে বিশ্বাসী। কারণ ঈমানের প্রাণ হুব্বে রছুল, তাছ্ব্বদীক্বে রছুল, ইমদাদে রছুল, রক্ষায় রছুল, আদবে রছুল। আর হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার জীবন এই সবকিছুর সাক্ষী।

প্রশ্ন হলো, কেউ কি দেখাতে পারবে যে হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে অস্বীকার করেছেন? তিনি কি কখনো বলেছেন, মুহাম্মাদ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম রছুল নন? তিনি কি কখনো বলেছেন, উনার দাওয়াত মিথ্যা? তিনি কি কখনো বলেছেন, উনার উপর ওহী আসে না? তিনি কি কখনো নবীজিকে কুরাইশের হাতে তুলে দিয়েছেন? তিনি কি কখনো কুরাইশের শিরকের পাশে দাঁড়িয়ে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন?

সবকিছুর উত্তর, এক বাক্যে হচ্ছেঃ না।

বরং তিনি রক্ষা করেছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন, নিজের গোত্রের চাপ সহ্য করেছেন, বয়কট সহ্য করেছেন, কুরাইশের আগ্রাসনের সামনে ঢাল হয়েছেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার দাওয়াতের বাহ্যিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় মাধ্যম হয়েছেন।

তাহলে প্রশ্ন হলোঃ যিনি অস্বীকার করেননি, তিনি মুনকির কীভাবে হলেন?

মুনকির মানে যে ইনকার করে। যে তাছ্বদীক্ব করেন, রক্ষা করেন, মুহব্বত করেন, সাহায্য করেন, নিজের সামাজিক অবস্থানকে রছুলের জন্য ঢাল বানান, তিনি কি মুনকির হতে পারেন? কেউ যদি বলে, তিনি অমুকের সামনে প্রকাশ্যে কালিমা পড়েননি, সেটি আরেক আলোচনা। কিন্তু “অমুকের সামনে কালিমা পড়েননি” আর “রছুলকে অস্বীকার করেছেন” এ দুই জিনিস এক নয়।

আমাদের কাছে আসল প্রশ্ন হলোঃ ইনকারে মুহাম্মাদ (ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) কোথায়?

যদি ইনকার না থাকে, যদি হুব্বে রছুল পাওয়া যায়, যদি ইমদাদে রছুল পাওয়া যায়, যদি তাছ্বদীক্বে রছুলের জীবনব্যাপী সাক্ষ্য থাকে, তাহলে উনাকে মুশরিক বানানোর এতো তাড়াহুড়া কেনো?

মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ، وَلَٰكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ) অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়েত দিতে পারেন না; বরং মহান আল্লাহ তা’য়ালা যাকে চান হিদায়েত দেন। (ছুরাহ আল ক্বাছাছ ২৮:৫৬)

আমাদের তাহক্বীক্বে এই আয়াত হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার বিষয়ে নাযিল হয়েছে-এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আলোচনার খাতিরে যদি কেউ ধরে নেয়, আয়াতটি সেই প্রসঙ্গে, তাহলেও আয়াতের শব্দ লুকানো যাবে না।

مَنْ أَحْبَبْتَ

অর্থাৎ, যাকে আপনি ভালোবাসেন।

তাহলে সেই ব্যাখ্যা ধরলেও হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম কে? মহবূবে রছুল। আর রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ (الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ) অর্থাৎ, মানুষ যার সঙ্গে মুহব্বত রাখে, তার সঙ্গেই থাকবে। (ছ্বহীহ আল বুখারী, ছ্বহীহ মুছলিম)

এখন প্রশ্ন করো, হুব্বে রছুল ছাড়া ঈমান পূর্ণ নয়। যার প্রতি রছুলের মুহব্বত, যার ঘরে রছুলের আশ্রয়, যার বাহুতে রছুলের নিরাপত্তা, যিনি নবীজির জন্য কুরাইশের চাপ সহ্য করেছেন, তাকে জাহান্নামে পাঠানোর তাড়া কার?

এটি ছুন্নীয়তের আদব নয়। এটি রছুলের মহবূবের প্রতি ইনসাফ নয়। এটি হুব্বে রছুলের ভাষা নয়। আহলে বাইতের ঘরের প্রতি মুহব্বত ও আদব ছুন্নীয়তের ক্বলবের অংশ। কিন্তু এই মুহব্বত কখনো ছ্বহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের অসম্মানের দরজা নয়। ছুন্নীয়তের ভারসাম্য হলোঃ রছুলের আহলে বাইতের মুহব্বত, ছ্বহাবায়ে কিরামের আদব, ক্বুরআন-ছুন্নাহর আনুগত্য, তাজকিয়ার মর্ম, এবং তাওহীদের নিরাপদ আক্বীদা।

হযরত হামযাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার ঘটনা এই আলোচনায় একটি শক্তিশালী নুকতা খুলে দেন। তিনি যখন আবু জাহলের মাথায় ধনুক দিয়ে আঘাত করলেন, কারণ সে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার শানে বেয়াদবি করেছিল, তখন নবী করীম ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম সাহায্য গ্রহণ এবং “চাচা” সম্বোধনের সঙ্গে কালিমার শর্ত যুক্ত করেছিলেন এই মর্ম আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার কাছে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম নিজে অভিযোগ নিয়ে গেছেন, উনাকে চাচা বলেছেন, উনার সাহায্য চেয়েছেন। তাহলে যদি সাহায্য গ্রহণের শর্ত কালিমা হয়, চাচা সম্বোধনের শর্ত কালিমা হয়, তবে হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার কালিমার নিছবত প্রমাণিত। অভিযোগ যদি থাকে, তা এতটুকুঃ তিনি অমুকের সামনে সাক্ষ্য বানিয়ে কালিমা পড়েননি। কিন্তু এটি বলা যাবে নাঃ তিনি রছুলকে অস্বীকার করেছেন।

কারণ জীবনব্যাপী রছুলের পাশে থাকা নিজেই সাক্ষ্য। রছুলকে রক্ষা করা সাক্ষ্য। রছুলের দাওয়াতকে আশ্রয় দেওয়া সাক্ষ্য। রছুলের বিরুদ্ধে কুরাইশের চাপ অস্বীকার করা সাক্ষ্য। রছুলের প্রতি মুহব্বত সাক্ষ্য। যে রছুলকে অস্বীকার করে, সে রছুলের জন্য জীবনব্যাপী ঢাল হয় না।

এখন আবার মূল হিদায়েতের ফ্লোতে ফিরে আসো। হিদায়েতের ইতিহাসে হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার কিশতি একটি বিশাল রূপক। কিশতির ভিতরে নাজাত। কিশতির বাইরে হালাকত। কিশতির ভিতরে হক্ব। কিশতির বাইরে বাতিল। কিশতির ভিতরে নবীর আনুগত্য। কিশতির বাইরে নিজের বুদ্ধির পাহাড়।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার বক্তব্য নকল করে বলেনঃ (يَا بُنَيَّ ارْكَب مَّعَنَا، وَلَا تَكُن مَّعَ الْكَافِرِينَ) অর্থাৎ, হে আমার পুত্র, আমাদের সঙ্গে আরোহণ করো এবং কাফিরদের সঙ্গে থেকো না। (ছুরাহ হূদ য়ালাইহিছ ছালাম ১১:৪২) মহান আল্লাহ তা’য়ালা হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার পুত্রের বক্তব্য নকল করে বলেনঃ (سَآوِي إِلَىٰ جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ) অর্থাৎ, আমি এমন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে। (ছুরাহ হূদ য়ালাইহিছ ছালাম ১১:৪৩) মহান আল্লাহ তা’য়ালা হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার বক্তব্য নকল করে বলেনঃ (لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللهِ إِلَّا مَن رَّحِمَ) অর্থাৎ, আজ মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার হুকুম থেকে রক্ষাকারী কেউ নেই, তবে যার উপর তিনি রহম করেন। (ছুরাহ হূদ য়ালাইহিছ ছালাম ১১:৪৩)

এই ঘটনা শুধু ইতিহাস নয়। এটি কিয়ামত পর্যন্ত হিদায়েতের নছিহত। হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার রক্তের সম্পর্ক পুত্রকে বাঁচাতে পারেনি। নবীর ঘরের বাহ্যিক সম্পর্ক তাকে বাঁচাতে পারেনি। পাহাড়ের শক্তি তাকে বাঁচাতে পারেনি। নিজের বুদ্ধি তাকে বাঁচাতে পারেনি। নাজাত ছিল কিশতিতে, তিনি কিশতি ছেড়ে পাহাড় ধরেছিলেন।

যে নাজাতের জায়গা ছেড়ে নিজের বুদ্ধির পাহাড় ধরে, সে ডুবে যায়। যে নবীর কিশতি ছেড়ে নিজের অহংকারে ওঠে, সে ডুবে যায়। যে ক্বুরআন-ছুন্নত ছেড়ে নিজস্ব ব্যাখ্যার পাহাড়ে ওঠে, সে ডুবে যায়। যে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার দরবারের আদব ছেড়ে শুকনা তর্কের পাহাড় ধরে, সে ডুবে যায়।

নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার কিশতির মর্ম হলো, নাজাত মহান আল্লাহ তা’য়ালা যেখানে রেখেছেন, সেখানে যেতে হবে। কিশতি ছাড়া পাহাড় কাজ দেয় না। নবীর আদেশ ছাড়া বুদ্ধি কাজ দেয় না। রছুলের দরবার ছাড়া শুকনা তাওহীদ কাজ দেয় না। ক্বুরআন-ছুন্নত ছাড়া তাছাউফ কাজ দেয় না। আহলে বাইতের আদব ছাড়া নবীপ্রেম পূর্ণ হয় না। ছ্বহাবায়ে কিরামের সম্মান ছাড়া ছুন্নীয়তের ভারসাম্য থাকে না।

আহলে বাইতের মুহব্বত ছুন্নীয়তের ক্বলবের নূর। এটি কোনো দলীয় স্লোগান নয়, কোনো বিদ্বেষের দরজা নয়। রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ঘরের প্রতি মুহব্বত রাখা ঈমানের আদব। তবে একই সঙ্গে ছ্বহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্মান রাখা ছুন্নীয়তের অপরিহার্য ভারসাম্য। যে আহলে বাইতের নামে ছ্বহাবায়ে কিরাম উনাদের অপমান করে, সে ছুন্নীয়তের পথে নেই। আর যে ছ্বহাবায়ে কিরামের নামে আহলে বাইতের মুহব্বত কমায়, তার নবীপ্রেমও পরীক্ষা করা দরকার।

হিদায়েতের আরেকটি বড় দরজা হলো তরবিয়ত। হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উলুল আযম রছুল। তারপরও উনার পুত্র গোমরাহ হলেন। এখানে বুঝতে হবে, রক্তের সম্পর্ক নাজাতের নিশ্চয়তা নয়। নবীর ঘরের বাহ্যিক সম্পর্কও যদি কিশতিতে না ওঠে, নাজাত দেয় না। আবার ঘরের তরবিয়তের প্রভাবও অস্বীকার করা যায় না। মা-বাবার কোলে, ঘরের ভাষায়, ঘরের নামাযে, ঘরের দরূদে, ঘরের ক্বুরআনে, ঘরের আদবে, ঘরের হালাল-হারামে, সন্তানের ক্বলব রঙ নেয়।

সন্তানকে শুধু জন্ম দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। নাম রাখলেই দায়িত্ব শেষ নয়। মাদরাসায় পাঠালেই দায়িত্ব শেষ নয়। ঘরে দীন না থাকলে সন্তানের ভিতরে দীন শক্ত হয় না। ঘরে দরূদ না থাকলে সন্তানের ক্বলবে ইশক জাগে না। ঘরে আহলে বাইতের আদব না থাকলে সন্তানের নবীপ্রেম অসম্পূর্ণ থাকে। ঘরে ছ্বহাবায়ে কিরামের সম্মান না থাকলে সন্তানের ছুন্নীয়ত বিকৃত হয়। ঘরে ক্বুরআন না থাকলে সন্তানের ফিতরত দুনিয়ায় ডুবে যায়।

যে ঘরে মা-বাবা নামাযে গাফিল, সন্তান নামাযকে কীভাবে বড় করবে? যে ঘরে গীবত খাবারের মতো চলে, সন্তান জবান কীভাবে পাক করবে? যে ঘরে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার দরূদ নেই, সন্তান নবীপ্রেম কোথা থেকে শিখবে?

তরবিয়ত হিদায়েতের ঘরোয়া দরজা। ঘর হলো প্রথম মাদরাসা। মায়ের কোলে প্রথম তাছাউফ। বাবার আখলাকে প্রথম ফিক্বহ। ঘরের নামাযে প্রথম ছুন্নত। ঘরের দরূদে প্রথম ইশক। ঘরের আহলে বাইতের মুহব্বত ও ছ্বহাবায়ে কিরামের আদবে প্রথম ছুন্নীয়ত।

তাহলে সার কথা কী?

হিদায়েত শুধু তথ্য নয়। হিদায়েত হলো মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রবূবিয়্যাতের নূর, যা কায়িনাতকে তার পথে চালায় এবং মানুষকে ওহী, নবী, কিতাব, শরীয়ত, ছুন্নত ও তাজকিয়ার মাধ্যমে সিরাতুল মুস্তাক্বীমে ডাকে। হিদায়েত হলো কালিমার ভিতরে প্রবেশ করা। হিদায়েত হলো সব মিথ্যা ইলাহ ভাঙা। হিদায়েত হলো ইনকারে মুহাম্মাদ থেকে বাঁচা। হিদায়েত হলো হুব্বে রছুলকে প্রাণের চেয়েও বেশি করা। হিদায়েত হলো ক্বুরআন, ছুন্নত, আহলে বাইতের আদব, ছ্বহাবায়ে কিরামের সম্মান, মুর্শিদের তাজকিয়া, সব মিলিয়ে ছিরাত্বুল মুস্তাক্বীমে দাঁড়ানো।

পুরো কায়িনাত হিদায়েত মানছে। তুমি কি মানছ?

সূর্য নিজের পথে আছে, তুমি কি ছিরাত্বুল মুস্তাক্বীমে আছ? চাঁদ নিজের মানযিল মানে, তুমি কি নামাযের সময় মানো? মাছ তার সাঁতার জানে, তুমি কি নিজের বন্দেগি জানো? বীজ মাটির অন্ধকার ফুঁড়ে আলোতে ওঠে, তোমার ক্বলব কি নফসের অন্ধকার ফুঁড়ে রবের দিকে উঠছে? নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার কিশতি নাজাত ছিল, তুমি কি নবীর কিশতিতে উঠেছ? হযরত নূহ য়ালাইহিছ ছালাম উনার পুত্র পাহাড় ধরেছিলেন, তুমি কি নিজের বুদ্ধির পাহাড় ধরে বসে আছ? কালিমা সব মিথ্যা খোদা ভাঙে, তোমার নফসের খোদা ভেঙেছে কি? হুব্বে রছুল ঈমানের প্রাণ, তোমার ক্বলবে সে প্রাণ আছে কি?

যদি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তোমার কাছে তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় না হন, তবে ঈমানের পূর্ণতা চাও। যদি তোমার জবানে কালিমা আছে, কিন্তু ক্বলবে হুব্বে রছুল নেই, তবে ক্বলবের চিকিৎসা করো। যদি আহলে বাইতের নাম শুনে মুহব্বত না জাগে, তবে নিজের নবীপ্রেম পরীক্ষা করো। যদি ছ্বহাবায়ে কিরামের সম্মান না থাকে, তবে নিজের ছুন্নীয়ত পরীক্ষা করো। যদি হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার মতো রছুলের রক্ষককে অবহেলায় মুশরিক বলার সাহস হয়, তবে নিজের আদব পরীক্ষা করো।

আমাদের কথা পরিষ্কার।

ঈমান হুব্বে রছুল ছাড়া পূর্ণ নয়। ইনকারে মুহাম্মাদ ছাড়া কাউকে মুনকির বানানোর তাড়াহুড়া ইনসাফ নয়। যে রছুলকে অস্বীকার করেনি, বরং রক্ষা করেছে, মুহব্বত করেছে, পাশে দাঁড়িয়েছে, তাকে মুনকির বলা সহজ কথা নয়। হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার ঈমান আমরা মানি, কারণ উনার জীবন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার মুহব্বত, তাছ্বদীক্ব, রক্ষা ও সাহায্যের সাক্ষ্য।

হে মহান আল্লাহ তা’য়ালা, আপনি পুরো কায়িনাতকে তার পথ দেখিয়েছেন। আমাদের ক্বলবকেও আপনার সিরাতুল মুস্তাক্বীমে চালিয়ে দিন। আমাদের চোখকে হক্ব দেখার চোখ দিন। কানকে হক্ব শুনার কান দিন। ক্বলবকে হিদায়েত কবুলের ক্বলব দিন। আকলকে ওহীর অধীন করুন। নফসকে কালিমার অধীন করুন।

হে মহান আল্লাহ তা’য়ালা, আমাদেরকে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনাকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি মুহব্বত করার তাওফীক দিন। উনার ছুন্নতের আনুগত্য দিন। উনার আহলে বাইতের মুহব্বত দিন। উনার ছ্বহাবায়ে কিরামের আদব দিন। উনার রক্ষকদের সম্মান করার ইনসাফ দিন। হযরত আবি তালিব য়ালাইহিছ ছালাম উনার শান বুঝার ক্বলব দিন।

হে মহান আল্লাহ তা’য়ালা, আমাদের ঘরকে হিদায়েতের ঘর বানান। আমাদের সন্তানদের দীনী তরবিয়ত দিন। আমাদের জবানকে কালিমায় জীবিত রাখুন। আমাদের ক্বলবকে দরূদে ভিজিয়ে দিন। আমাদের নফসের পাহাড় ডুবিয়ে দিন, আর আমাদেরকে নাজাতের কিশতিতে উঠিয়ে দিন।

শেষ নিঃশ্বাসে আমাদের জবানে জারি করুনঃ

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ

وَصَلَّى اللهُ تَعَالَىٰ عَلَىٰ خَيْرِ خَلْقِهِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ، بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ۔

آمِيْنَ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ۔

Saturday, February 21, 2026

বাগ্ব-ই-ফাদাক বিষয়ে মরদুদ-কাজ্জাব শিয়াদের মিথ্যাচারের জবাব

বাগ্ব-ই-ফাদাক বিষয়ে মরদুদ-কাজ্জাব শিয়াদের মিথ্যাচারের জবাব

যেকোন শিয়ার সাথে ছুন্নীদের তর্ক হলেই যে বিষয়গুলো তারা সম্মুখে নিয়ে আসে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বাগ্ব-ই-ফাদাক, তাদের বক্তব্য হচ্ছে ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু কেন ছাইয়্যিদাতু নিছায়ীল যান্নাহ হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালাম-কে ফাদাক বাগান দেননি? মরদুদ শিয়ারা বারবার এই প্রশ্নটি করে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অভিযোগের ভিত্তি নেই বলেই তারা বারবার ফ্রেম বদলায়ঃ কখনো বলে এটি “মালে ফয়”, কখনো বলে “হিবা/দান”, আবার কখনো বলে “মিরাশ”।

তো এর কি কোন সুষ্ট জবাব নাই?

দুনিয়া কোথায় থেকে কোথায় পৌঁছে গেল, আর এই মরদুদ শিয়ারা এখনো বাগ্ব-ই-ফাদাক নিয়ে জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের এই জিহাদ দেখে মনে হচ্ছে ফাদাক যেনো কোনো বাগান নয় বরং হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু তাদের জান্নাত ছিনিয়ে নিয়েছেন।

যাইহোক, হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু ফাদাকের সেই অংশটুকু যা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের প্রাপ্য ছিল, তা দিয়েছেন; কিন্তু যা ওনার প্রাপ্য ছিল না, তা দেননি। শিয়াদের পক্ষ থেকে এই মিথ্যা কথা বলা হয় যে ফাদাক দখল করে নেওয়া হয়েছে, কিছুই দেওয়া হয়নি। অথচ এইসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। অবশ্যই দেওয়া হয়েছে, তবে শুধু ওনার প্রাপ্য অংশটুকুই দেওয়া হয়েছে।

আমি এই মরদুদ শিয়াদের সকল পথ বন্ধ করে দিচ্ছি দলিল ভিত্তিক। এরা পালানো ছাড়া কোন পথ পাবেনা।

১) ফাদাক যদি “মালে ফয়” হয় (তাহলে আল-ক্বুরআনের অকাট্য ফয়সালা)

দেখুন, ফাদাককে ‘মালে ফয়’ বলা হয়; এটি একদম ঠিক সেই জমি, যা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের অধিকারে এসেছিল। এখন এর বন্টন কীভাবে হবে তা স্বয়ং মহান আল্লাহ তা’য়ালা আল-ক্বুরআনে বলে দিয়েছেন; অর্থাৎ, ফাদাকের মধ্যে অনেকগুলো অংশ বা ভাগ ছিল, অথচ শিয়ারা এটাকে একা ছাইয়্যিদাতু নিছায়ীল যান্নাহ হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের একার মাল বানিয়ে খোদার উপর খোদাগিরি করে কি মুর্তাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়না?

ফাদাকে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের একটি অংশ ছিল, এরপর উনার নিকটাত্মীয়দের, এতিমদের, অভাবী (মিছকিন) এবং মুসাফিরদেরও অংশ ছিল। এই সমস্ত অংশ স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা নিজে করেছেন এবং ছুরাহ হাশরে ঠিক এইভাবে এসেছেঃ (وَمَا أَفَاءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْهُمْ فَمَآ أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَـٰكِنَّ ٱللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُۥ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ ۚ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ مَّآ أَفَاءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْ أَهْلِ ٱلْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَـٰمَىٰ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ كَىْ لَا يَكُونَ دُولَةًۢ بَيْنَ ٱلْأَغْنِيَآءِ مِنكُمْ ۚ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمْ عَنْهُ فَٱنتَهُوا ۚ وَٱتَّقُوا ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ) (এ ঘটনার ফলে) মহান আল্লাহ তা’য়ালা যেসব ধন সম্পদ তাদের কাছ থেকে নিয়ে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে দিয়েছেন (তা ছিলো উনার একান্ত অনুগ্রহ), তোমরা তো এ (গুলো পাওয়া)-র জন্যে ঘোড়ায় কিংবা উটেঁ আরোহণ (করে কোনো অভিযান পরিচালনা) করোনি, (আসলে) মহান আল্লাহ তা’য়ালা যার ওপর চান তার ওপরই উনার রছুল য়ালাইহিমুছ ছালামদের কর্তৃত্ব প্রদান করে থাকেন; আর মহান আল্লাহ তায়ালা সর্ববিষয়ের ওপরই শক্তিমান। (ধন সম্পদের) যা কিছু (সেই) জনগণের মানুষদের কাছ থেকে নিয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে দিয়েছেন, তা হচ্ছে মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার জন্যে, রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের জন্যে, (উনার) আত্মীয় স্বজন, ইয়াতীম মিছকীন ও মুছাফিরদের জন্যে, (তোমাদের সম্পদ তোমরা এমনভাবে বন্টন করবে) যেন তা (কেবল) তোমাদের বিত্তশালী লোকদের মাঝেই আবর্তিত না হয়। রছুল ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম তোমাদের যা কিছুর (অনুমতি) দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা কিছু থেকে তিনি নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো, তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ভয় করো; অবশ্যই মহান আল্লাহ তা’য়ালা তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। (ছুরাহ হাশর ৫৯/৬-৭)

যুক্তিঃ শিয়ারা একদিকে বলে এটি “ফয়”, আবার দাবি করে এর পুরোটা নাকি একজনের একক মালিকানা। কিন্তু “ফয়” মানে তো কুরআনের বিধানে নির্ধারিত একাধিক খাতের হক। তাহলে পুরোটা একা একজনকে দিয়ে দেওয়া কি কুরআনের অবমাননা নয়? আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহু কি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বণ্টন নীতি লঙ্ঘন করে একক কাউকে মালিক বানাতে পারতেন? কখনোই না।

এখন কোন সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারীরা বলুন, ফাদাক কি শুধু একজন কন্যার হতে পারে?

তাহলে বাকি আত্মীয়রা কোথায় গেল? এতিম, মিছকিন, মুছাফির তাদের সবার অংশ কি ছিনিয়ে নিতেন? আর সবটুকু ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামকে দিয়ে দিতেন? এটা কীভাবে সম্ভব? এই শিয়ারা কেবল ধোকা দেয় যে এই পুরো ফাদাক ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের জন্য ছিল; নাউজুবিল্লাহ তারা ক্বুরআনকে অস্বীকার করে এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নির্ধারিত অংশগুলোকে অস্বীকার করে।

আচ্ছা, এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, যদি আল ক্বুরআনে সব অংশ লেখাই থাকে, তবে ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালাম কেন দরবারে-খিলাফত এ গিয়ে তা দাবি করেছিলেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে যে; প্রথমত, তখন রাজকীয় কোনো দরবার ছিল না। কেবল মসজিদে নববী শরীফই ছিল খলিফার ভবন, সেটিই ছিল হেডকোয়ার্টার এবং সেটিই ছিল খলিফায়ে রাশেদের বসার স্থান।

শিয়ারা যদি এটাকে দরবার মনে করে, তবে সেটা কেবল দরবারে নববী ছিল। ছাইয়্যিদা হযরত ফাতিমা তুজ্জজাহরা য়ালাইহাছ ছালামের দাবি ছিল এই যে, ফাদাকের মধ্যে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের নিজের জন্য যে অংশটুকু ছিল, তাতে যদি কোনো উত্তরাধিকার থাকে তবে যেন উনাকে তা দিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তিনি নিজের জন্য কোনো উত্তরাধিকারের বিষয়ে জানতে গিয়েছিলেন। তখন ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু যিনি উনার পিতার সমতুল্য ছিলেন এবং উনার পিতার শ্বশুরও ছিলেন, তিনি বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন।

তিনি অনেক মায়া-মুহব্বতের সাথে বুঝিয়ে বললেন যে, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের বাণী হলোঃ নবীদের কোনো উত্তরাধিকার হয় না। তাঁদের কোনো সম্পদ যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে তা ছ্বদকা হিসেবে গণ্য হয়। এর সাথে ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু এটাও বললেন, আপনার নিজের যে অংশটুকু আছে, যা রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম নিজে আপনাকে দিতেন, তা আপনি সব সময় পেতে থাকবেন।

 

এবং ওনার সেই নিজস্ব অংশটুকু তিনি সব সময় পেতে থাকলেন, এমনকি ওনার পরেও ওনার পরিবারের সদস্যরা তা পেতে থাকলেন। বরং আপনি যদিঃ (حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيُّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ دَعَاهُ إِذْ جَاءَهُ حَاجِبُهُ يَرْفَا فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ يَسْتَأْذِنُونَ فَقَالَ نَعَمْ، فَأَدْخِلْهُمْ‏.‏ فَلَبِثَ قَلِيلاً، ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عَبَّاسٍ وَعَلِيٍّ يَسْتَأْذِنَانِ قَالَ نَعَمْ‏.‏ فَلَمَّا دَخَلاَ قَالَ عَبَّاسٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا، وَهُمَا يَخْتَصِمَانِ فِي الَّذِي أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَنِي النَّضِيرِ، فَاسْتَبَّ عَلِيٌّ وَعَبَّاسٌ، فَقَالَ الرَّهْطُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، اقْضِ بَيْنَهُمَا وَأَرِحْ أَحَدَهُمَا مِنَ الآخَرِ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ اتَّئِدُوا، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏ يُرِيدُ بِذَلِكَ نَفْسَهُ‏.‏ قَالُوا قَدْ قَالَ ذَلِكَ‏.‏ فَأَقْبَلَ عُمَرُ عَلَى عَبَّاسٍ وَعَلِيٍّ فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ ذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي أُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الأَمْرِ، إِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْفَىْءِ بِشَىْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ فَقَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ ‏{‏وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏قَدِيرٌ‏}‏ فَكَانَتْ هَذِهِ خَالِصَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ وَاللَّهِ مَا احْتَازَهَا دُونَكُمْ، وَلاَ اسْتَأْثَرَهَا عَلَيْكُمْ، لَقَدْ أَعْطَاكُمُوهَا وَقَسَمَهَا فِيكُمْ، حَتَّى بَقِيَ هَذَا الْمَالُ مِنْهَا، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَتِهِمْ مِنْ هَذَا الْمَالِ، ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ، فَعَمِلَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيَاتَهُ، ثُمَّ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فَأَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏ فَقَبَضَهُ أَبُو بَكْرٍ، فَعَمِلَ فِيهِ بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ‏.‏ فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ وَقَالَ تَذْكُرَانِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ عَمِلَ فِيهِ كَمَا تَقُولاَنِ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُ فِيهِ لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ‏.‏ فَقَبَضْتُهُ سَنَتَيْنِ مِنْ إِمَارَتِي أَعْمَلُ فِيهِ بِمَا عَمِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ، وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي فِيهِ صَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ، ثُمَّ جِئْتُمَانِي كِلاَكُمَا وَكَلِمَتُكُمَا وَاحِدَةٌ وَأَمْرُكُمَا جَمِيعٌ، فَجِئْتَنِي ـ يَعْنِي عَبَّاسًا ـ فَقُلْتُ لَكُمَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏ فَلَمَّا بَدَا لِي أَنْ أَدْفَعَهُ إِلَيْكُمَا قُلْتُ إِنْ شِئْتُمَا دَفَعْتُهُ إِلَيْكُمَا عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ وَمِيثَاقَهُ لَتَعْمَلاَنِ فِيهِ بِمَا عَمِلَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ، وَمَا عَمِلْتُ فِيهِ مُذْ وَلِيتُ، وَإِلاَّ فَلاَ تُكَلِّمَانِي، فَقُلْتُمَا ادْفَعْهُ إِلَيْنَا بِذَلِكَ‏.‏ فَدَفَعْتُهُ إِلَيْكُمَا، أَفَتَلْتَمِسَانِ مِنِّي قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ فَوَاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ لاَ أَقْضِي فِيهِ بِقَضَاءٍ غَيْرِ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهُ، فَادْفَعَا إِلَىَّ فَأَنَا أَكْفِيكُمَاهُ‏.‏ قَالَ فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيثَ، عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ صَدَقَ مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ، أَنَا سَمِعْتُ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عُثْمَانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ يَسْأَلْنَهُ ثُمُنَهُنَّ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، فَكُنْتُ أَنَا أَرُدُّهُنَّ، فَقُلْتُ لَهُنَّ أَلاَ تَتَّقِينَ اللَّهَ، أَلَمْ تَعْلَمْنَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ ‏"‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ـ يُرِيدُ بِذَلِكَ نَفْسَهُ ـ إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْمَالِ ‏"‏‏.‏ فَانْتَهَى أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَا أَخْبَرَتْهُنَّ‏.‏ قَالَ فَكَانَتْ هَذِهِ الصَّدَقَةُ بِيَدِ عَلِيٍّ، مَنَعَهَا عَلِيٌّ عَبَّاسًا فَغَلَبَهُ عَلَيْهَا، ثُمَّ كَانَ بِيَدِ حَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، ثُمَّ بِيَدِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، ثُمَّ بِيَدِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ وَحَسَنِ بْنِ حَسَنٍ، كِلاَهُمَا كَانَا يَتَدَاوَلاَنِهَا، ثُمَّ بِيَدِ زَيْدِ بْنِ حَسَنٍ، وَهْىَ صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَقًّا) ছ্বহিহ বুখারির ৪০৩৩ এবং ৪০৩৪ নম্বর হাদিছ শরীফ আমরা দেখি, তবে দেখতে পাবো যে, ছ্বহিহ বুখারির মালিক ইবন আউস রদ্বিআল্লাহু আনহুর বর্ণনায় আছেঃ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ছ্বদাকাহ/ফাই সম্পদ প্রথমে মাওলা হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালামের হাতে ছিল; এরপর হাছান ইবন য়া’লী য়ালাইহিছ ছালামের, এরপর হুছাইন ইবন য়া’লী য়ালাইহিছ ছালামের, এরপর য়া’লী ইবন হুছাইন ও হাছান ইবন হাছান, পরে যায়দ ইবন হাছান য়ালাইহিমুছ ছালামদের কাছে ছিলো, এভাবে পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে এর ব্যবস্থাপনা ছিল।

ছ্বহিহ বুখারিতে ৪০৩৫ ও ৪০৩৬ এ (حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ ـ عَلَيْهَا السَّلاَمُ ـ وَالْعَبَّاسَ أَتَيَا أَبَا بَكْرٍ يَلْتَمِسَانِ مِيرَاثَهُمَا، أَرْضَهُ مِنْ فَدَكٍ، وَسَهْمَهُ مِنْ خَيْبَرَ‏.‏ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ، إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ فِي هَذَا الْمَالِ ‏"‏‏.‏ وَاللَّهِ لَقَرَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ أَصِلَ مِنْ قَرَابَتِي‏‏) ফাদাক ও খায়বারের অংশকে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের ‘ছ্বদাকাহ’ সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এবং একই প্রসঙ্গে সেই ছ্বদাকাহ সম্পদের ব্যবস্থাপনা মাওলা হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালাম ও পরে উনার সন্তানদের হাতে ছিল বলে বর্ণিত রয়েছে।

২) ফাদাক যদি “মিরাশ” হয় (ফারায়েজের লজিক্যাল চ্যালেঞ্জ)

শিয়ারা যখন দেখে “ফয়” হিসেবে দাবি করলে ছুরাহ হাশরের ৫৯/৬-৭ কাছে হেরে যাচ্ছে, তখন তারা বলে এটি ছিল “মিরাশ”। এখানে তাদের জন্য কুরআনের ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) নিজেই এক অকাট্য বাধাঃ

আহলিয়া বা স্ত্রীদের অংশ কোথায়?

কুরআন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পদে উনার স্ত্রীদের (উম্মাহাতুল মু’মিনিনদের) সুনির্দিষ্ট অংশ থাকে। যদি এটি “মিরাশ” হতো, তবে হযরত আয়েশা, হাফসা, উম্মে হাবিবা য়ালাইহিন্নাছ ছালাম সহ সকল স্ত্রীগণ অংশ পেতেন, নবীজির বাকি ৩ কন্যাও অংশ পেতেন। অর্থাৎ ক্বুরআনের মিরাশের বিধান অনুযায়ী স্ত্রীদের অংশ থাকবেই; সন্তানদের অংশও নির্ধারিত; সুতরাং উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালামসহ বাকি স্ত্রীগণের ‘স্ত্রী হিসেবে’ নির্দিষ্ট অংশ থাকার কথা ওঠে (স্ত্রীদের মোট অংশঃ সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ, সন্তান না থাকলে এক-চতুর্থাংশ, বিবরণ ছুরাহ আন-নিছা ৪:১১–১২) অর্থাৎ “মিরাশ” ফ্রেমে ফাতেমাতুজ্জ জাহরা য়ালাইহাছ ছালামের অংশ মানলে, উনার সৎ মায়েদের অংশ অস্বীকার করা অসম্ভব।

স্বার্থহীনতার প্রমাণঃ বাকিদেরটা বাদ দিলাম, খলীফা হযরত আবু বকর ও উমর রদ্বিআল্লাহু আনহুমা ও হযরত আবু ছুফিয়ান রদ্বিআল্লাহু আনহুর মতো লোকেরা কি এতোই দুশমনিতে লিপ্ত ছিলেন যে নিজের মেয়েদের বঞ্চিত করে নবী নন্দিনী, ফাতেমাতুজ্জ জাহরা য়ালাইহাছ ছালামকে বঞ্চিত করতে তৎপর ছিলেন? হযরত উছমান রদ্বিআল্লাহু আনহু ছিলেন ২ মেয়ের জামাই, তিনিও স্কিপ করে গেলেন? এটা কীভাবে সম্ভব? মক্কার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ৪ ব্যক্তি নিজেদের বিধবা মেয়ের/স্ত্রীর মিরাশের অংশ ছেড়ে দিবেন কেবল ফাতেমাতুজ্জ জাহরা য়ালাইহাছ ছালামকে বঞ্চিত করতে? না না না, এটা বদ্ধ উন্মাদ ও মানতে পারবেনা। বরং উনারা রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের সেই অকাট্য ছুন্নাহর ওপর অটল ছিলেন যে, “নবীদের কোনো উত্তরাধিকার হয় না, যা থাকে তা সদকা”। উনারা ছুন্নাহর খাতিরে নিজ পরিবারকেও বঞ্চিত করেছেন।

তাছাড়া যদি এটা মিরাশই হতো, তাহলে মাওলা হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালাম যখন পরবর্তীতে খলিফা হলেন, তিনি কেন ফাদাককে মিরাস হিসেবে বণ্টন করলেন না? তিনি কেন হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুর প্রবর্তিত নিয়মেই তা পরিচালনা করলেন? এটিই প্রমাণ করে হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুর ফয়সালাই ছিল হক।

এই শিয়ারা সবসময় প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং ধোঁকাবাজি করে; তারা মিথ্যা বলে এবং অপবাদ দেয়। সংক্ষেপে জেনে নিন যে, ছাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহু ক্বুরআন এবং ছুন্নাহ অনুযায়ী আমল করেছেন। রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম নিজে উনার কন্যাকে যা দিয়েছিলেন, হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহুও তা দিয়েছেন; আর রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যা দেননি, হযরত ছিদ্দিক-ই-আকবর রদ্বিআল্লাহু আনহুও তা দেননি।

৩) হাদিস অস্বীকারকারীদের প্রতি চূড়ান্ত 'ইলযামী' চ্যালেঞ্জ (The Masterstroke)

অনেক শিয়া যখন তর্কে কোণঠাসা হয়, তখন বলে “আমরা তোমাদের হাদিছ বা ছিহাহ ছিত্তাহ মানি না।” তাদের জন্য আমার সেই অকাট্য চ্যালেঞ্জঃ

চ্যালেঞ্জঃ তোমরা যদি ছুন্নিদের সংরক্ষিত হাদিস এবং ইতিহাসকে দলিল হিসেবে অস্বীকার করো, তবে কেবল কুরআন মাজিদ থেকে প্রমাণ করো যে “য়া’লী” বা “ফাতিমা” য়ালাইহিমাছ ছালাম নামে পৃথিবীতে কেউ ছিলেন!

পুরো কুরআনে নাম ধরে কেবল ছ্বহাবী হযরত জায়েদ রদ্বিআল্লাহু আনহুর কথা আছে। মাওলা হযরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালাম, ফাতিমা য়ালাইহাছ ছালাম, হাছান বা হোছেইন য়ালাইহিছ ছালাম সহ বাকি কারো নামই কুরআনে সরাসরি বর্নিত নেই।

লজিকঃ যেই হাদিস ও ইতিহাসের সূত্রে তোমরা যরত য়া’লী য়ালাইহিছ ছালাম কে চিনলে, সেই একই নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে “নবীগণ কোনো আর্থিক উত্তরাধিকার রেখে যান না”। তথ্যসূত্র থেকে শুধু নিজের পছন্দের অংশটুকু নেবেন আর বাকিটা অস্বীকার করবে? এটা মুনাফেকি ছাড়া আর কিছু নয়। হাদিছ না মানলে য়া’লী, ফাতিমা য়ালাইহিমাছ ছালাম উনাদের অস্তিত্বই তোদের কাছে প্রমাণহীন হয়ে পড়বে।

৪) ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও ব্যবস্থাপনা-ধারা

ছ্বহিহ বুখারির (৪০৩৩-৪০৩৬) বর্ণনা অনুযায়ী, এই বাগানের ব্যবস্থাপনা পরবর্তীতে মাওলা য়া’লী য়ালাইহিছ ছালাম, এরপর ইমাম হাছান য়ালাইহিছ ছালাম, এরপর ইমাম হোছেইন য়ালাইহিছ ছালাম এবং ক্রমান্বয়ে উনাদের বংশধরদের হাতেই ছিল।

যুক্তিঃ যদি এটি “ছিনিয়ে নেওয়া” হতো, তাহলে উনাদের হাতে এর ব্যবস্থাপনা আসত না। আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহু কেবল রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের বাণীর কারণে মালিকানা স্থানান্তর করেননি, কিন্তু এর উপকারভোগী হিসেবে আহলে বাইত শরীফকেই বহাল রেখেছিলেন।

কিছু ব্রেইনলেস শিয়া এই দাবিও করে যে, “ফাদাক রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার জীবদ্দশায় হযরত ফাতেমাতুজ্জ জাহরা য়ালাইহাছ ছালামকে হেবা/গিফট করে দিয়েছিলেন; তাই এটা মিরাশ না” এই দাবির তো উছূল অনুযায়ী জবাব একেবারে সোজা, কারণ এই দাবি ৩ জায়গায় ভেঙে পড়ে।

প্রথমত, “হেবা” একটা আলাদা শরঈ ফ্রেম। যে ব্যক্তি “হেবা” দাবি করবে, তাকে হেবার দলিল দেখাতে হবে, কেবল আবেগ বা গালাগালি দিয়ে “হেবা হয়ে গেছে” প্রমাণ হয় না। হেবা প্রমাণ করতে ন্যূনতমভাবে ইজাব-কবুল (offer-acceptance) এবং মালিকানা হস্তান্তরের বাস্তবতা (কবজা/transfer) সাব্যস্ত করতে হয়, এটাই হেবার মূল কাঠামো।

দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিকভাবে (ছ্বহিহ বুখারির ৬৭২৫, ৬৭২৬ নং হাদিছের বর্ণনায়) দেখা যায়, হযরত ফাতেমাতুজ্জ জাহরা য়ালাইহাছ ছালাম ও হযরত আব্বাছ রদ্বিআল্লাহু আনহু আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুর কাছে “রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম-এর সম্পদ থেকে অংশ/মিরাশ” চাইতে গিয়েছিলেন, বিশেষ করে ফাদাকের জমি এবং খায়বারের অংশ। যদি ফাদাক আগে থেকেই “হিবা হয়ে ব্যক্তিগত মালিকানা” হয়ে যেত, তাহলে দাবি “মিরাশ/শেয়ার” হিসেবে আসত না; বরং “এটা আমার নিজস্ব সম্পত্তি ফেরত দিন” এই ভাষায় আসত। বুখারির এই বর্ণনাই “হেবা” দাবির উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন ফেলে, কারণ ফ্রেমটাই তখন “মিরাশ/শেয়ার” হিসেবে এসেছে।

উপসংহারঃ হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহু ছিলেন কুরআন ও ছুন্নাহর এক অতন্দ্র প্রহরী। শিয়াদের “দখল/ছিনিয়ে নেওয়া” বয়ান কেবল একটি রাজনৈতিক মিথ্যাচার, যা কুরআন এবং যুক্তির সামনে এক মুহূর্তও টেকে না। তারা মূলত ফ্রেম বদলে বদলে ধোঁকা দিতে চায়, কিন্তু কুরআনের প্রতিটি ফ্রেমেই আবু বকর ছিদ্দিক রদ্বিআল্লাহু আনহুর সত্যতা প্রমাণিত।

Friday, January 3, 2025

ইয়াজিদ লা'য়নতুল্লাহ সহ নিরীহ মানুষ হত্যাকারী যে কারো ব্যপারে ফাতওয়া কি?

ইয়াজিদ লা'য়নতুল্লাহ সহ নিরীহ মানুষ হত্যাকারী যে কারো ব্যপারে ফাতওয়া কি?

মানুষ হত্যা করা খুবই জঘন্য ও ভয়ানক কাজ, আর মানুষের মধ্যে যদি কেউ মুমিন হয় তাহলে তো কথাই নেই। অনেকে ইয়াজিদ লা’য়নাতুল্লাহকে কাফের বলতে চায়না, অনেকে এড়িয়ে যায়, অনেকে আবার বলে আমার মাজহাবের ইমাম তো কাফের ফাতওয়া দেন নাই আমিও আমার ইমামের অনুসরণ করি। প্রথমতো কোন ইমাম এই মর্মে ফাতওয়া জারিই করেন নি যে ইয়াজিদ লানতুল্লাহকে কাফের বলা যাবেনা, বরং কেউ যদি মনে করে কাফের তাহলে সে কাফের বলুক।

ইমাম হুসেইন য়ালাইহিছ ছালামের হত্যার সাথে জড়িতদের, নির্দেশদাতাকে যদি কেউ অপরাধি না মনে করে, লা’য়নাতুল্লাহ না মনে করে, কুফরে লিপ্ত না মনে করে তাহলে তাকে হেদায়েতের দায়িত্ব আমার নয়। একজন সাধারণ আউলিয়ার প্রতি বিদ্বেষ রাখনে ওয়ালার ব্যপারে হাদিছে কুদছিতে যা বলা হয়েছে তা হলোঃ (إِنَّ اللَّهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ،) “মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন, “যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর/বন্ধুর সঙ্গে দুশমনি করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। (বুখারি শরীফ ৬৫০২) এই হলো অবস্থা, একেবারে সর্বনিম্ন আউলিয়ার মর্যাদা হলো যে কোন ঈমানদার মুছলিম ও যদি উনার অলি হওয়ার ব্যাপারে কনফার্ম হয়ে যায় আর জেনেও বিদ্বেষ পোষণ করে আর এর উপর মৃত্যু ও হয় তাহলে উক্ত হাদিছ শরীফ অনুসারে সে ফেরাউনের কায়িম মাক্বাম হয়ে যাচ্ছে, ভাবা যায় মহান আল্লাহ পাক যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন সে কি ঈমান নিয়ে মারা যাবে? এখন ইয়াজিদ প্রেমিরা কি নাওয়াছায়ে রছুল, আওলাদে রছুল, আহলে বাইত, ছ্বাহাবী, লখতে যিগরে মাওলা হযরত আলী য়ালাইহিছ ছালাম ও ফাতেমা য়ালাইহাছ ছালামকে অলিদের কাতারে মনে করেনা?

অথচ হাদিছ শরীফ স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, (قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ"‏ مَنْ أَحَبَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي) আবূ হুরায়রা রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হাছান ও হুছাইনকে মুহব্বত করে, সে (মূলত) আমাকেই মুহব্বত করে আর যে ব্যাক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করে। (ইবনে মাজাহ শরীফ ১৪৩) জানার বিষয় হলো হুসেইন য়ালাইহিছ ছালাম বিদ্বেষী ইয়াজিদ লানতুল্লাহ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম কে ঘৃণা করার পরেও কীভাবে মুছলমান থাকে?

রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম আরো বলেছেনঃ (هَذَانِ ابْنَاىَ وَابْنَا ابْنَتِي اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُمَا فَأَحِبَّهُمَا وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُمَا) উসামাহ্ ইবনু যাইদ রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেন, এক রাতে আমি আমার কোন এক দরকারে রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লামের কাছে গেলাম। অতএব রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম এমন অবস্থায় বাইরে এলেন যে, একটা কিছু উনার পিঠে জড়ানো ছিল যা আমি অবগত ছিলাম না। আমি আমার দরকার সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কি? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উম্মুক্ত করলে দেখা গেল উনার দুই কোলে হাসান ও হুসাইন য়ালাইহিমাছ ছালাম। তিনি বললেনঃ এরা দু’জন আমার আওলাদ এবং আমার কন্যার ছেলে। হে মহান আল্লাহ তায়ালা! আমি এদের দু’জনকে মুহব্বত করি, সুতরাং আপনিও তাদেরকে মুহব্বত করুন, এবং যে ব্যক্তি এদেরকে মুহব্বত করবে, আপনি তাদেরকেও মুহব্বত করবেন। (তিরমিযি শরীফ ৩৭৬৯) উক্ত হাদিছ শরীফ অনুসারে একজন সূফী সারা জীবন আমল করেও সে আল্লাহ তায়ালা উনার মুহব্বত হাছিল করতে পারবে কিনা জানা নাই, তবে কেউ হাক্বিকি মুহব্বত করে আশিকে হুসেইন হলে সে যে আল্লাহ পাক উনাকে তার প্রতি মুহব্বত করনে ওয়ালা পাবে এটার গ্যারান্টি মিলছে। জাহিল ব্যতীত সবাই এই সিম্পল জিনিষ বোঝবে।

ইয়াজিদ লা’য়নাতুল্লার শাসনামল ছিলো সম্মানিত দ্বীন ইছলামের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। তার শাসনামলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে। সম্মানিত দ্বীন ইছলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে তার অনেক কাজ সাংঘর্ষিক বলে বিবেচিত হয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়। নীচে তার শাসনামলের কয়েকটি প্রধান ঘটনার তথ্য দেওয়া হলোঃ

১. ইমাম হুসেইন য়ালাইহিছ ছালামের শাহাদাতঃ কারবালার ঘটনায় ইয়াজিদের শাসনের সরাসরি প্রভাব ছিল। ইমাম হুসেইন য়ালাইহিছ ছালাম, ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্য অস্বীকার করেন, কারণ ইয়াজিদের চরিত্র এবং তার শাসন ব্যবস্থাকে তিনি ইসলামি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করতেন। এই কারণেই মূলত ইমাম হুসেইন য়ালাইহিছ ছালামের এবং সকল আহলে বাইত শরীফ য়ালাইহিমুছ ছালাম কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হন। ইয়াজিদ বাহিনীর প্রধানেরা সরাসরি ইমাম হুসেইন য়ালাইহিছ ছালামের হত্যার সাথে জড়িত এবং এইসব হত্যাকারীদের ইয়াজিদ লা’য়নাতুল্লার হুব্বে হুসেইন প্রকাশে শাস্তি দেয়নি তাই এই হত্যাকাণ্ডের দায় সে এড়াতে পারে না। একজন শাসক এর হুকুম হলো মূল যেকোন হত্যার ব্যপারে, জল্লাদ হত্যাকারী হয়না, হত্যাকারী হয় কাজির হুকুম।

২. মদিনা শরীফে আক্রমণ, “হাররার যুদ্ধঃ” ৬৩ হিজরিতে ইয়াজিদের সেনাবাহিনী মদিনা শরীফে আক্রমণ চালায়, যা “হাররা” নামে পরিচিত। এই আক্রমণে ইয়াজিদের সেনারা মদিনা শরীফের অধিবাসীদের নির্বিচারে হত্যা করে এবং শহর লুটপাট করে, যুবতী মেয়েদের ধর্ষণ করে, এই পরিমাণে যে পরে সেইসব যুবতিদের অনেকেই জারজ সন্তান জন্ম দেন যাদের কোন পিতৃ পরিচয় ছিলোনা। মদিনা শরীফের পবিত্রতা লঙ্ঘিত হয়, এবং রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লামের পরিবারের অনেক সদস্য এবং ছ্বহাবাগণের বংশধরদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়।

অথচ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়াছাল্লাম মদিনা শরীফের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং এই শহরের পবিত্রতা রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন, একে বাইতুল্লাহ শরীফের মতো হারাম শরীফ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাই, মদিনা শরীফে এই আক্রমণ ইয়াজিদের শাসনের একটি কালো অধ্যায়। যারা ইয়াজিদ লা’য়নাতুল্লাকে মুহব্বত করে তাদের জিজ্ঞাসা করি যদি আজ কোন মুছলিম শাসক মদিনা শরীফে হামলা করে লুটপাট করে, যুবতী পর্দাশিল মা বোনদেরকে ধর্ষণ করে তাহলে কি তাকে মুছলিম মেনে নেবে?

৩. কাবা শরীফ ধ্বংসের চেষ্টাঃ ৬৪ হিজরিতে মক্কায় ইয়াজিদের সেনাপতি ইবনে নামির নেতৃত্বে কাবা শরীফের উপর আক্রমণ চালানো হয়। সেনারা মক্কা শরীফে পাথর নিক্ষেপ করার জন্য আগুনে গরম করা পাথর ব্যবহার করে, যা কাবা শরীফের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে বড় একটি কলঙ্ক হিসেবে দেখা হয়।

৪. মদ্যপান ও অনৈতিক জীবনযাপনঃ ইতিহাসে ইয়াজিদের চরিত্র সম্পর্কে বিভিন্ন দলিল পাওয়া যায়। অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, ইয়াজিদ মদ্যপান করতো, গান-বাজনা এবং অসচ্চরিত্র কাজে লিপ্ত ছিল। ইমাম সিফফিন, তাবারি এবং ইবনে কাসির রহমতুল্লাহী য়ালাইহিমগনের মতো ইতিহাসবিদরা তার এধরনের অনৈতিক জীবনযাপন সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।

এবার দেখি হত্যার ব্যপারে মহান আল্লাহ পাক তিনি কি বলেন?

সরকার বা শাসনব্যবস্থায় কর্তৃত্ব পেলেই কি নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা যাবে? মোটেও না মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (فَهَلۡ عَسَیۡتُمۡ اِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ اَنۡ تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ تُقَطِّعُوۡۤا اَرۡحَامَكُمۡ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ فَاَصَمَّهُمۡ وَ اَعۡمٰۤی اَبۡصَارَهُمۡ) তোমাদের কাছ থেকে এর চাইতে বেশী কি প্রত্যাশা করা যাবে যে, তোমরা (একবার) যদি (জমিনে) শাসন ক্ষমতায় বসতে পারো তাহলে (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং যাবতীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে ফেলবে। (মূলত) এরাই হচ্ছে সে সব মানুষ, যাদের ওপর মহান আল্লাহ তা’য়ালা লানত দিয়েছেন, (এছাড়াও, তিনি তাদের) বোবাও করে দিয়েছেন (তাই তারা সত্য কথা বলতে পারে না) এবং তাদের তিনি অন্ধও করে দিয়েছেন (তাই তারা সত্য কি তা দেখতেও পায় না)। (আল কুরআন ৪৭/২২-২৩)

নিরপরাধ মানুষকে হত্যাকারী, গণহত্যার হুকুমদাতা খুনীদের গডফাদারদের সেই যেই হোক, কেবল দুনিয়াতেই নয়, বরং তাদের আখেরাত ও বরবাদ হয়ে যায়, যেমনঃ মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (وَّ یَقۡتُلُوۡنَ الَّذِیۡنَ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡقِسۡطِ مِنَ النَّاسِ ۙ فَبَشِّرۡهُمۡ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُهُمۡ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ ۫ وَ مَا لَهُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ) আর মানুষের মধ্য থেকে যারা ন্যায়-পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে (যারা) হত্যা করে, (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। এরাই হচ্ছে তারা যাদের সমস্ত (নেক) আমল দুনিয়া ও আখেরাতে বরবাদ হয়ে যাবে এবং (সেদিন) তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবেনা। (আল কুরআন ৩/২১-২২)

মহান আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেনঃ (وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا وَغَضِبَ اللهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيْمًا) আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মু’মিনকে হত্যা করে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, তার মধ্যে সে সারাজীবন থাকবে এবং মহান আল্লাহ্ তা‘য়ালা সেই লোকের প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে লানত প্রদান করবেন। এছাড়াও তিনি তার জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছেন মর্মন্ধুত শাস্তি। (আন নিছা ৪/৯৩)

(مَنۡ قَتَلَ نَفۡسًۢا بِغَیۡرِ نَفۡسٍ اَوۡ فَسَادٍ فِی الۡاَرۡضِ فَكَاَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِیۡعًا ؕ وَ مَنۡ اَحۡیَاهَا فَكَاَنَّمَاۤ اَحۡیَا النَّاسَ جَمِیۡعًا) যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে হত্যার বিনিময়ে অথবা ভূপৃষ্ঠে ফাসাদ সৃষ্টির কারণ ছাড়া অন্যায়ভাবে হত্যা করলো সে যেন সকল মানুষকেই হত্যা করলো। আর যে ব্যক্তি কাউকে অবৈধ হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা করলো সে যেন সকল মানুষকেই রক্ষা করলো’’। (আল মা’য়িদাহ শরীফ ৫/৩২)

আর এই ধরণের হত্যাকান্ডকে হাদীসের পরিভাষায় সর্ববৃহৎ গুনাহ্ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন আনাস বিন মালিক রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ: الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ، وَقَوْلُ الزُّوْرِ، أَوْ قَالَ: وَشَهَادَةُ الزُّوْرِ) সর্ববৃহৎ কবীরা গুনাহ্ হচ্ছে চারটি, মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা উনার সাথে কাউকে শরীক করা, কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে হত্যা করা, (মুমিন) মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষী দেয়া’’। (বুখারী শরীফ ৬৮৭১; মুসলিম শরীফ ৮৮)

তাছাড়া এখন দলিল হিসেবে যা যুক্ত করবো হাদিছ শরীফ থেকে সেই হাদিছ শরীফগুলোতে হত্যাকান্ডের ভয়াবহতা ও ভয়ঙ্করতা আরো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ তা’য়ালার নিকট ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীর ক্ষমার আশা খুবই ক্ষীণ। কেননা রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ (سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، يَخْطُبُ - وَكَانَ قَلِيلَ الْحَدِيثِ - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَمِعْتُهُ يَخْطُبُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَغْفِرَهُ إِلاَّ الرَّجُلُ يَقْتُلُ الْمُؤْمِنَ مُتَعَمِّدًا أَوِ الرَّجُلُ يَمُوتُ كَافِرًا) প্রতিটি গুনাহ্ আশা করা যায় যে, মহান আল্লাহ্ তা‘আলা তা ক্ষমা করে দিবেন। তবে দু’টি গুনাহ্ যা আল্লাহ্ তা‘আলা ক্ষমা করবেন না। আর তা হচ্ছে, কোন মানুষ কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে অথবা ইচ্ছাকৃত কেউ কোন মু’মিনকে হত্যা করলে। (নাসাঈ শরীফ ৩৯৮৪; মুছনাদে আহমাদ ১৬৯০৭; হাকিম ৪/৩৫১)

এতো গেলো অন্যকে হত্যার ব্যাপারে, অথচ আপন সন্তান ও যদি কোন মহিলার গর্ভ ধারণের চার মাস পর দরিদ্রতার ভয়ে তার গর্ভপাত করানোরই হুকুম নাই, কেননা কাউকে অবৈধভাবে হত্যা করার শামিল। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ (قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ؟ قَالَ: أَنْ تَدْعُوَ لِلهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَّطْعَمَ مَعَكَ، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: أَنْ تُزَانِيَ بِحَلِيْلَةِ جَارِكَ) জনৈক ব্যক্তি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! কোন পাপটি মহান আল্লাহ্ তা’য়ালার নিকট মহাপাপ বলে বিবেচিত? রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ তা’য়ালার সাথে কাউকে শরীক করা; অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বললোঃ অতঃপর কি? তিনি বললেনঃ নিজ সন্তানকে (গর্ভে থাকা অবস্থায়) হত্যা করা ভবিষ্যতে তোমার সঙ্গে খাবে বলে। (বুখারী শরীফ ৪৪৭৭, ৪৭৬১, ৬০০১, ৬৮১১, ৬৮৬১, ৭৫২০, ৭৫৩২; মুসলিম শরীফ ৮৬) এই হাদিছ শরীফের মূল হুকুম কালামুল্লাহ শরীফে পাওয়া যায়, যেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বলেনঃ (وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَكُمۡ خَشۡیَۃَ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُهُمۡ وَ اِیَّاكُمۡ ؕ اِنَّ قَتۡلَهُمۡ كَانَ خِطۡاً كَبِیۡرًا) দরিদ্রতার ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে (ভ্রুনেই) হত্যা করো না। (ভুলে যেওনা) তোমাদের ও তাদের রিযিকদাতা (কেবল) আমিই, (একারণে দরিদ্রতার ভয়ে) তাদের হত্যা করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। (ছুরাহ আল ইসরা ১৭/৩১ ও আল আন’আম ৬/১৫১) এখন আপন পিতামাতা ভ্রুনেই যেখানে সন্তানকে হত্যার অধিকার পাচ্ছেনা, সেখানে জলজ্যান্ত নিরপরাধ মানুষকে হত্যার কোন সুযোগই নাই, না এর আছে কোন ক্ষমার সুযোগ।

এই ব্যপারে হাদিছ শরীফে এসেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ ‏ "‏ يَجِيءُ الْمَقْتُولُ بِالْقَاتِلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاصِيَتُهُ وَرَأْسُهُ بِيَدِهِ وَأَوْدَاجُهُ تَشْخُبُ دَمًا يَقُولُ يَا رَبِّ هَذَا قَتَلَنِي حَتَّى يُدْنِيَهُ مِنَ الْعَرْشِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَذَكَرُوا لاِبْنِ عَبَّاسٍ التَّوْبَةَ فَتَلاَ هَذِهِ الآيَةََ‏:‏ ‏(‏وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَبَّمُ‏)‏ قَالَ وَمَا نُسِخَتْ هَذِهِ الآيَةُ وَلاَ بُدِّلَتْ وَأَنَّى لَهُ التَّوْبَةُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ) হত্যাকৃত ব্যক্তি হত্যাকারীকে সঙ্গে নিয়ে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তা‘য়ালার সামনে উপস্থিত হবে। হত্যাকৃত ব্যক্তির মাথা তার হাতেই থাকবে। শিরাগুলো থেকে তখন রক্ত পড়বে। সে মহান আল্লাহ তা‘আলাকে উদ্দেশ্য করে বলবেঃ হে আমার প্রভু! এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। এমনকি সে হত্যাকারীকে আরশের অতি নিকটেই নিয়ে যাবে। শ্রোতারা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু আনহুকে উক্ত হত্যাকারীর তাওবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উপরোক্ত সূরাহ নিসা’র আয়াত শরীফটি তিলাওয়াত করে বললেনঃ উক্ত আয়াত রহিত হয়নি। পরিবর্তনও হয়নি। অতএব তার তাওবা কোন কাজেই আসবে না। (তিরমিযী শরীফ ৩০২৯; ইব্নু মাজাহ্ শরীফ ২৬৭০; নাসায়ী শরীফ ৪৮৬৬)

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ"‏ لَنْ يَزَالَ الْمُؤْمِنُ فِي فُسْحَةٍ مِنْ دِينِهِ، مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا) মু’মিন ব্যক্তি সর্বদা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে যতক্ষণ না সে কোন অবৈধ রক্তপাত করবে। (বুখারী শরীফ ৬৮৬২)

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ وَرْطَاتِ الأُمُورِ الَّتِي لاَ مَخْرَجَ لِمَنْ أَوْقَعَ نَفْسَهُ فِيهَا، سَفْكَ الدَّمِ الْحَرَامِ بِغَيْرِ حِلِّهِ) এমন ঝামেলা যা থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই তা হচ্ছে অবৈধভাবে কারোর রক্তপাত করা (অর্থাৎ কাউকে হত্যা করা বিনা অপরাধে)। (বুখারী শরীফ ৬৮৬৩)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্ঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ) কিয়ামতের দিন মানবাধিকার সম্পর্কিত সর্বপ্রথম হিসেব হবে রক্তের। (বুখারী শরীফ ৬৫৩৩, ৬৮৬৪; মুসলিম শরীফ ১৬৭৮; ইব্নু মাজাহ্ শরীফ ২৬৬৪, ২৬৬৬, নাসাঈ শরীফ ৩৯৯৪)

আবূ সা’ঈদ খুদরী রদ্বিআল্লাহু আনহু ও আবূ হুরায়রাহ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উনারা বলেনঃ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، وَأَبَا، هُرَيْرَةَ يَذْكُرَانِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ ‏ "‏ لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ وَأَهْلَ الأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لأَكَبَّهُمُ اللَّهُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏. ‏وَأَبُو الْحَكَمِ الْبَجَلِيُّ هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي نُعْمٍ الْكُوفِيُّ) যদি আসমান ও জমিনের সকলে (মাখলুক) মিলেও কোন মু’মিন হত্যায় অংশ গ্রহণ করে তবুও মহান আল্লাহ তা‘আলা তাদের সকলকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (তিরমিযী শরীফ ১৩৯৮)

মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَكُمۡ) আর তোমরা একে অন্যকে হত্যা করো না। (কুরআন ৪/২৯) আর জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবূ বাক্রাহ রদ্বিআল্লাহু আনহুমাদের থেকে বর্ণিত উনারা বলেন, বিদায় হাজ্জের সময় রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম আমাকে বললেনঃ (عَنْ جَرِيرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ ‏"‏ اسْتَنْصِتِ النَّاسَ ‏"‏ فَقَالَ ‏"‏ لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ) তুমি লোকদেরকে চুপ করিয়ে দাও, তারপর তিনি বললেনঃ ‘আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কাটাকাটি করে কাফির (এর মত) হয়ে যেও না। (বুখারী শরীফ ১২১, ১৭৩৯, ৪৪০৫, ৬১৬৬, ৬৭৮৫, ৬৮৬৮, ৬৮৬৯, ৭০৮০; মুসলিম শরীফ ৬৫, ৬৬, ১৬৭৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ"‏ لَزَوَالُ الدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ قَتْلِ رَجُلٍ مُسْلِمٍ‏) মহান আল্লাহ তা‘য়ালার নিকট একজন মুসলিমকে হত্যা করার চেয়ে পুরো দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিকতর সহজ’’। (তিরমিযী শরীফ ১৩৯৫; নাসাঈ শরীফ ৩৯৮৭; ইব্নু মাজাহ শরীফ ২৬৬৮)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ (عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ قَالَ ‏ "‏ مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ، وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا) যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ কোন কাফিরকে হত্যা করলো সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়। (বুখারী শরীফ ৩১৬৬, ৬৯১৪; ইব্নু মাজাহ্ শরীফ ২৬৮৬)

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে কাবা ঘর তাওয়াফ করতে দেখলাম এবং তিনি বলছিলেনঃ (حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صَلَّى ٱللّٰهُ عَلَيْهِ وَ اٰلِهِ وَسَلَّمَ ـ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ وَيَقُولُ ‏ "‏ مَا أَطْيَبَكِ وَأَطْيَبَ رِيحَكِ مَا أَعْظَمَكِ وَأَعْظَمَ حُرْمَتَكِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَحُرْمَةُ الْمُؤْمِنِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ حُرْمَةً مِنْكِ مَالِهِ وَدَمِهِ وَأَنْ نَظُنَّ بِهِ إِلاَّ خَيْرًا) কত উত্তম আপনি হে কাবা! আকর্ষণীয় আপনার খুশবু, কত উচ্চ মর্যাদা আপনার (হে কাবা)! কত মহান সম্মানের অধিকারী আপনি। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ!, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট মুমিন ব্যক্তির জান-মাল ও ইজ্জতের মর্যাদা আপনার চেয়ে অনেক বেশী। আমরা মুমিন ব্যক্তি সম্পর্কে সুধারণাই পোষণ করি। (তিরমিযী ২০৩২, ইব্নু হিববান ৫৭৬৩, ইবনে মাজাহ শরীফ ৩৯৩২)

অতএব ইয়াজিদ ও তার বাহিনীর যারা এই হত্যাযজ্ঞে জড়িত, যারা মনেপ্রাণে এই হত্যাগুলিকে সমর্থন করে, যায়েজ মনে করে, তারা সবাই মুর্তাদ, এদের বিয়ে বাতিল, স্ত্রীর/স্বামীর সাথে মিলিত হলে জিনা হবে, সন্তান জন্মালে তা হবে জারজ, কেননা তারা কুফুরি করেছে। হাদিছ শরীফে এসেছেনঃ “আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্ঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিছে, “রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকি এবং তাকে হত্যা করা কুফরি। (বুখারী শরীফ ৪৮, মুসলিম শরীফ ৬৪) আর আয়াতে পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছেঃ (وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا وَغَضِبَ اللهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيْمًا) আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মু’মিনকে হত্যা করে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, তার মধ্যে সে সারাজীবন থাকবে এবং মহান আল্লাহ্ তা‘য়ালা সেই লোকের প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে লানত প্রদান করবেন। এছাড়াও তিনি তার জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছেন মর্মন্ধুত শাস্তি’’। (আন নিছা ৪/৯৩) উক্ত আয়াত শরীফে ৪ শাস্তি হত্যাকারীর ব্যপারে মহান আল্লাহ পাক উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্রথমেই যাহান্নামের বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন, এরপর বলেছেন, হত্যাকারী সেই জাহান্নামে সারাজীবন থাকবে, এরপর বলেছেন গজবনাক হবেন এবং ভয়ানক আযাবের ব্যবস্থাও করে রেখেছেন।

প্রত্যেক জামানার স্বৈরাচারীরা মনে করে যে হত্যা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, তাওবা করলেই মাফ পেয়ে যাবে অথচ আমরা দেখেছি যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু আনহুর মুখনিঃসৃত হাদিছ শরীফে তিনি বলেছেন হত্যাকারীর তাওবা কবুল হয়না, তাহলে বোঝা গেলো যে ইহা কবিরা গুনাহের চেয়েও অনেক উপরের বিষয়। তাছাড়া আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদাহ হলেন কবিরা গুনাহ দ্বারা ইনছান কাফের হয়না, আর কবিরাহ গুনাহ ইনছানকে সারাজীবন জাহান্নামে রাখার মতো কারণের অন্তর্ভুক্ত ও নয়। তাহলে উক্ত আয়াত শরীফের জাহির তো জানলাম, বাতিনের ব্যপারে ইমামগণের মত কি?

মহান আল্লাহ পাক তিনি তো স্পষ্ট করেই আল কুরআনে বলে দিয়েছেন, হত্যা, গণহত্যাকারী চিরস্থায়ী যাহান্নামী, এর মানে কি? এর মানে হলো যে ব্যক্তি, গোত্র মিলে কোন মুছলিমকে হত্যা করবে তার ক্বলব থেকে কলিমা শরীফ সরাই দেওয়া হবে, অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে সে কাফের হয়ে মরবে, কারণ যত বড় গুনাহগার হোক, জররা পরিমাণ ঈমান তার মধ্যে থাকলে সে জাহান্নামে চিরজীবন থাকবেনা, একারণেই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু বলেছেন হত্যা, গণহত্যাকারীর তাওবা কবুল হবেনা কারণ তাওবা কবুল হলে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী থাকবেনা, একারণেই প্রথমদিকেই হাদিছ শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে যে মুছলিমকে হত্যা করা কুফরি তথা হত্যাকারীর মৃত্যুও হবে কুফরের উপর, এতে সে যত বড় আবিদই হোক না বাহ্যিক দৃষ্টিতে।

উক্ত ফাতওয়ার আলোকে মুছলিমরা কি করবেন এইসব হত্যাকারীদের ব্যপারে? মুহব্বত নাকি ফাতওয়া মেনে ঈমানের হেফাজত?

وَاللهُ أعْلَمُ بِالصَّوَابِ

مُحَمَّد رَجِيبْ خَوَاجَهْ

شَيْخُنَا وَ مُرْشِدِنَا إِمَامُ الطّٰرِيْقَةِ الْرَاج

٢/٠٧/١٤٤٦