এইসব বাহিরে প্রকাশ করবনা ভেবেছিলাম,
নাহলে ভণ্ড পিরেরা এইসব দিয়ে তাদের ব্যবসা চাঙ্গা করবে। কিন্তু
জাহিল ছালাফিদের ফতওয়াবাজিতে প্রকাশ না করে উপায় নাই। বাংগালী
ছানোবর দিল ওয়ালা মুফাচ্ছির ও অনুবাদক দিয়ে তুমি না বুঝবে কুরআন না বুঝবে তার
ম্যসেজ।
মহান আল্লাজী উনার কালামের প্রত্যেকটা শব্দ কত বরকতময় পবিত্র আর বিশাল ব্যখার ভাণ্ডার তা বলে বোঝানো যাবেনা। আজকে আমরা একটি শব্দ মুবারক (ذُرِّیَّت) জুররিইয়াত শব্দ নিয়ে আলোচনা করবো। অলি আউলিয়ার বিরোধিতাকারি মরদুদ শয়তানেরা বলে বেড়ায় যে পিরেরা তাদের মুরিদ-দের নিয়ে নাকি যান্নাতে যেতে পারবেনা, এই যে বিরোধিতা তারা পির শব্দের মানে হিসেবে অলি আউলিয়া ও মুর্শিদ হিসেবেই মনে করে বলে। কিন্তু এই মনে করার মধ্যে রয়েছে প্রচুর শয়তানী।
হ্যাঁ পির বলতে আমাদের সম্মুখে যা আছে তা কখনোই যান্নাতে নিতে পারবেনা, কিন্তু যদি পির বলতে মুর্শিদের আলাপ করা হয়, তাহলে তা ১০০% কুরআন বিরোধী, কেননা পির আর মুর্শিদের মধ্যে রয়েছে আকাশ পাতাল তফাৎ, কারণ যে কেউ নিজে নিজে পির সাজতে পারে, কিন্তু মুর্শিদের ব্যপারটা সম্পুর্ন আল্লাজীর হাতে, মুর্শিদ কেবল আল্লাহ তা’য়ালাই বানাতে পারেন, কেউ কাউকে খিলাফত দিয়ে দিলেই সে মুর্শিদ হয়ে যাবে এইসব ভ্রান্ত ধারণা, মুর্শিদ হলেন মিন যানিব আল্লাহ তা’য়ালা।
যাইহোক মুর্শিদের ব্যখ্যার বিষয় এইখানে নয়, এইখানে বিষয় হলো একজন মুর্শিদুম্মিন যানিব আল্লাহ তা’য়ালা কি উনার মুরিদ-দের যান্নাতে নিতে সক্ষম? যদিও তার য়া’মলে কমতি থাকে?
নিঃসন্দেহে কামিয়াব হয়েছে মুমিনেরাই, (এরা হচ্ছেন তারা) যারা নিজেদের নামাযে বিনয়াবনত থাকেন, যারা অর্থহীন বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, যারা (রীতিমতো) জাকাত প্রদান করে, যারা তাদের লজ্জাস্তানসমূহের হেফাজত করেন, তবে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী, কিংবা (পুরুষদের বেলায়) নিজেদের অধিকারভুক্ত (দাসী)-দের ওপর (এ বিধান প্রযোজ্য) নয়, (তাদের সাথে ছ্বহবতে খাছে) কখনো তারা তিরস্কৃত হবে না, অতঃপর এ (বিধিবদ্ধ উপায়) ছাড়া কেউ যদি অন্য কোনো (পন্থায় ছ্বহবতে খাছে যেতে) চায়, তাহলে তারা হবে সীমালঙ্ঘনকারী, আর যারা তাদের (কাছে রক্ষিত) আমানত ও (অন্যদের দেয়া) প্রতিশ্রুতিসমূহের হেফাজত করে, এবং যারা নিজেদের নামাযসমূহের ব্যাপারে (সমধিক) যত্নবান হয়; এ লোকগুলোই (হচ্ছে মূলত যমীনে আমার যথার্থ) উত্তরাধিকারী, যারা হবে জান্নাতুল ফেরদাউসের উত্তরাধিকারী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। (ছুরাহ আল-মুমিনুন ২৩:১-১১) এই হলো জান্নাতের ওয়ারিশদের নমুনা, কারা যাবে, কি করলে যাবে।
কথা হচ্ছে, ঐখানে যে জিনিসগুলো বলা হয়েছে, তা ১০০% কেবল হাক্বিকি তাছাউফী ছূফী, মুর্শিদুম্ম মিন যানিব আল্লাহ তা’য়ালাই একজন মুরিদের নফছের তাজকিয়া দিয়ে করিয়ে থাকেন। এবার লক্ষ্য করুন, আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার নিকট মুমিন ব্যক্তির আল, জুররিইয়াতের যারা ছ্বলেহ ব্যক্তিগণ রয়েছেন তাদের জন্যে যান্নাতের আর্জি পেশ করছেন আল কুরআনে এইভাবেঃ (رَبَّنَا وَ اَدۡخِلۡهُمۡ جَنّٰتِ عَدۡنِۣ الَّتِیۡ وَعَدۡتَّهُمۡ وَ مَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِهِمۡ وَ اَزۡوَاجِهِمۡ وَ ذُرِّیّٰتِهِمۡ ؕ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ) হে আমাদের রব্ব! আপনি তাদের যান্নাতে প্রবেশ করান; সেই চিরস্থায়ী যান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন। আর তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নি এবং উত্তরসূরীদের মধ্যে যারা ছ্বলেহ বান্দা তাদেরকেও। (ছুরাহ আল-গ্বফির ৪০:৮) কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তাদের দোয়া তো কবুল করলেন সাথে বোনাস হিসেবে দিয়ে দিলেন যে যদিও ছ্বলেহ না হয় তার পরেও মুমিনের অনুসারী হলে, য়া’মলে কম থাকলেও তার আশেপাশেই স্থান পাবে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ اتَّبَعَتۡهُمۡ ذُرِّیَّتُهُمۡ بِاِیۡمَانٍ اَلۡحَقۡنَا بِهِمۡ ذُرِّیَّتَهُمۡ وَ مَاۤ اَلَتۡنٰهُمۡ مِّنۡ عَمَلِهِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ كُلُّ امۡرِیًٴۢ بِمَا كَسَبَ رَهِیۡنٌ) যে ব্যক্তিগণ মুমিন হয়েছেন এবং তাদের উত্তরসূরীগণও ইমানের ব্যপারে তাদের ইত্তেবা করেছেন, আমি তাদের (রুহানি ও জিসমানী) উত্তরসূরীগণকে তাদের সঙ্গে (যান্নাতে) একত্র করে দেব (যদিও উত্তরসূরীদের আমল কম হয়ে থাকে)। এতে মু’মিনগণের নিজের আমল বিন্দুমাত্রও কমিয়ে দেওয়া হবে না। প্রতিটি ব্যক্তি তার নিজ অর্জনের দায়ে আবদ্ধ। (ছুরাহ আত-তূর, আয়াত ৫২:২১)
অর্থাৎ যারা হাক্বিকি মুমিন হবেন, এবং তাদের আক্বিদাহ, বিশ্বাসে অনুসারী যারা হবেন, মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের রুহানি ও জিসমানী উত্তরসূরীগণকে যান্নাতে তাদের সাথে মিলিত করে দেবেন যদিও তাদের আমল ঐ মাকাম লাভের পরিমাণ নাও হয়। ইবনে আব্বাছ রদ্বিআল্লাহু আনহু বলেন, “মহান আল্লাহ তা’য়ালা হাক্বিকি মুমিনদের উত্তরসূরীগণকে তাদের সম্মানিত পিতৃপুরুষদের মর্তবায় পৌঁছিয়ে দেবেন, যদিও তারা কর্মের দিক দিয়ে সেই মর্তবার যোগ্য না হয়, যাতে সম্মানিত মুরব্বীদের চক্ষুশীতল হয়।
ইবনে আব্বাছ রদ্বিআল্লাহু আনহু আরো বলেছেন, যান্নাতী ব্যাক্তি যান্নাতে প্ৰবেশ করে তার পিতামাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে যে, তারা কোথায় আছে? জওয়াবে বলা হবে যে, তারা তোমার মর্তবা পর্যন্ত পৌছতে পারেনি। তাই তারা যান্নাতে আলাদা জায়গায় আছে। এই ব্যক্তি আরয করবেন, হে আমার রব! দুনিয়াতে নিজের জন্যে ও তাদের সবার জন্যে আমল করেছিলাম। তখন মহান আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে আদেশ হবে, তাদেরকেও যান্নাতের এই স্তরে একসাথে রাখা হোক।
এসব বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, আখেরাতে ছ্বলেহিনদের অন্তর্ভুক্ত পিতৃপুরুষ দ্বারা তাদের উত্তরসূরীরা উপকৃত হবে এবং য়া’মলে তাদের মর্তবা কম হওয়া সত্বেও তাদেরকে পিতৃপুরুষদের মর্তবায় পৌঁছিয়ে দেয়া হবে। অপরদিকে ছ্বলেহিন সন্তান-সন্ততি দ্বারা তাদের পিতা-মাতার উপকৃত হওয়াও হাদীছ শরীফে প্রমাণিত আছে। রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ (إِنَّ الرَّجُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهُ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ أَنَّى هَذَا فَيُقَالُ بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ) মহান আল্লাহ তা’য়ালা কোন কোন নেকবান্দার মর্তবা তার য়া’মলের তুলনায় অনেক উচ্চ করে দেবেন। সে প্রশ্ন করবে, হে রব! আমাকে এই মর্তবা কিরূপে দেয়া হল? আমার আমল তো এই পর্যায়ের ছিল না। উত্তর হবে, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দো’আ করেছে। এটা তারই ফল। (ইবনে মাজাহ শরীফ ৩৩৬০, মুসনাদে আহমাদঃ ২:৫০৯)
এখন চিন্তা ফিকিরের বিষয়, কোন পিতা বা পুত্র, মাতা বা কন্যা যান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করলেন, তিনি নিচু দরজার যান্নাতে থাকা মা-বাবা, ভাই-বোন, নাতি-নশাকে টেনে নিয়ে নিজের আশেপাশে স্থান দিয়ে দিচ্ছেন, আর যে মুর্শিদ? যে মিন যানিব আল্লাহ? যে ২৪ ঘন্টা, সারা জীবন মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার হুজুরে হাজির থেকে যান্নাতে গেলেন, দুনিয়াতে যার আশেপাশে মুরিদেরা অনুরূপে ছিলেন, তাদের নিতে পারবেন না? সাধারণ মুমিনের মর্যাদা কি মুর্শিদুম্ম মিন যানিব আল্লাহ তা’য়ালা থেকে বেশী হয়ে গেলো? জ্ঞানীদের জন্যে ইশারাই কাফি। তাই য়া’মলের চেয়ে অনুসরণ ও নিছবত এবং হুবুহু আক্বিদাহ পোষণের চেষ্টা করো।

0 ফেইসবুক: